দিশেহারা (৩৮)
সানা_শেখ
মায়ের কথায় বিষাদে ভরে গেছে সোহার মন। শ্রবণের কথা আর আচরণে ভয়ে বুক কাঁপছে। সমুদ্রের ন্যায় গভীর আঁখিপল্লব থেকে ঝর্নার মতো ঝরঝর করে গড়িয়ে পড়ছে পানি। শ্রবণের রাগে লাল হওয়া মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে।
শ্রবণ ধমক দিয়ে বলে,
“এই, কাঁদছিস কেন? কিছু বলেছি তোকে?”
সোহা কিছু না বলে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকে। শ্রবণ এগিয়ে এসে দাঁড়ায় সোহার একদম কাছে, শরীর ঘেঁষে। সোহার হাত থেকে ফোন নিয়ে পাশে রেখে সোহার মুখ আগলে ধরে বলে,
“কী হয়েছে? তোকে বলেছি কিছু?”
সোহা ফোঁপাতে ফোঁপাতে বলে,
“আ… আমি বুঝতে পা… পারিনি আম্মু এমন কিছু বলবে। আ… আমি সত্যিই বু… বুঝতে পারিনি।”
শ্রবণ সোহার গাল মুছিয়ে দিতে দিতে বলে,
“আমি ঠিকই বুঝতে পেরেছিলাম ওই ডাইনি এমন কিছুই বলবে। ন’ষ্টা মহিলা, নিজে গেছে বারো লাঙের কাছে এখন মেয়েকে চৌদ্দ লাঙের কাছে পাঠাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আমার সন্তানকে মে’রে যাবি নাকি ওই নষ্টের কথায় আরেক লাঙের কাছে?”
সোহা দ্রুত দু’দিকে মাথা নাড়িয়ে বলে,
“না, কোনোদিনও যাব না। কেন মা’রবো বাবুকে? ও-তো আমরো সন্তান।”
“ওই নষ্ট মহিলার সঙ্গে আরও কোনোদিন কথা বলতে চাইবি?”
সোহা দু’দিকে মাথা নেড়ে না বলে।
শ্রবণ সোহাকে জড়িয়ে ধরে বলে,
“কান্না বন্ধ করে গিয়ে নাস্তা করে নে। আমি যাচ্ছি ওই বাড়িতে। আজকে ওই নষ্টকে হাতের কাছে পাই শুধু, যদি কু’র’বা’নী না দিয়েছি তাহলে আমার নামও শ্রবণ চৌধুরী না।”
সোহা শ্রবণের কোমর জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলে,
“যেও না।”
“মায়া লাগছে নাকি ওই নষ্টের জন্য?”
“গতকাল তো তুমিও বাবুকে মা’র’তে চাইছিলে।”
“আমার সন্তান আমি যা খুশি করতে চাইবো, মা’রব, কা’টব, আদর করব, বুকের ভেতর পুরে রাখব, ও কেন মা’রতে বলবে? আমি গতকালই নিজের সিদ্ধান্ত চেঞ্জ করেছি। তা-ছাড়া আমি আমার সিদ্ধান্ত চেঞ্জ করি আর না করি ও বলার কে? সন্তান আমাদের তাই সিদ্ধান্তও আমাদের হবে, ওই শ’য়’তা’নের বাচ্চা কেন এসব বলবে? ও কেন আমার বউকে আমার কাছ থেকে নিয়ে আরেক জনের কাছে বিয়ে দিতে চাইবে?”
সোহা চুপ করে থাকে। শ্রবণ ওকে ছেড়ে বাইকের চাবি হাতে নেয়, রুম থেকে বের হওয়ার আগে সোহার দিকে তাকিয়ে বলে,
“কান্নাকাটি বন্ধ করে গিয়ে নাস্তা কর, আবার অসুস্থ হলে তোর খবর আছে।”
সোহা মাথা নাড়ায়। শ্রবণ রুম থেকে বেরিয়ে যায়। সোহা শ্রবণের যাওয়ার পথে তাকিয়ে ফোঁপাতে ফোঁপাতে বলে,
“তোমরা কেউ কখনো আমাকে বুঝতে চাও না, সবাই নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দাও আমার উপর। কেউ কোনোদিন জিজ্ঞেস করো না আমি কি চাই, আমার মতামত কি। এত বছরের জীবনে নিজের চাওয়াতে কিছুই পেলাম না। যত যা পেয়েছি হয় সবকিছু জোর করে চাপিয়ে দেওয়া নয়তো অপ্রত্যাশিতভাবে পাওয়া।”
চোখ মুছতে মুছতে শ্রবণের ফোন হাতে নেয় সোহা। ফোনের লক খুলে দাদার ফোনে কল করে আবার। শ্রবণ ওর ফোনের লক আগেই বলেছিল সোহাকে।
কল রিসিভ হতেই সোহা হেঁচকি তুলতে তুলতে বলে,
“হ্যালো।”
“কী হয়েছে, দাদু ভাই? কাঁদছো কেন?”
“তোমার ছোটো ছেলের বউ কই?”
“কেন? কী হয়েছে? এভাবে কথা বলছো কেন?”
“বাঁচতে চাইলে তাকে বাড়ি থেকে পালাতে বলো। শ্রবণ চৌধুরী যাচ্ছে ওই বাড়িতে তাকে জীবন্ত কবর দেওয়ার জন্য।”
“কী হয়েছে? কী করেছে অনিমা?”
“তোমার নাতি গেলেই জানতে পারবে, তোমার ছোটো ছেলের বউকে বলো বাড়ি থেকে পালানোর জন্য। রাখছি।”
কল কেটে দেয় দেয়।
সামাদ চৌধুরী কিছু বুঝতে না পেরে ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকেন। কিছু মুহূর্ত অতিবাহিত হতেই অনিমা চৌধুরীর নাম ধরে ডাকেন।
অনিমা চৌধুরী পার্স হাতে সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসেন। ওনাকে এভাবে আসতে দেখে সামাদ চৌধুরী বলেন,
“বাপের ভয়ে দেখছি একেবারে তৈরি হয়েই বেরিয়ে এসেছ। এসেছো যখন ভালোই হয়েছে, এখন দ্রুত পালাও বাড়ি থেকে, তোমার বাপ শ্রবণ চৌধুরী আসছে তোমাকে জ্যান্ত কবর দেওয়ার জন্য।”
অনিমা চৌধুরী কিছু না বলে বেরিয়ে যান বাড়ি থেকে। সামাদ চৌধুরী ওনার যাওয়ার পথে তাকিয়ে রইলেন।
শ্রবণের বাইক চৌধুরী বাড়ির গেটের সামনে এসে দাঁড়ায়। লাগাতার বাইকের হর্ন শুনে গার্ড গেটের ফাঁক দিয়ে শ্রবণকে দেখে দ্রুত গেট খুলে দেয়। শ্রবণের বাইক গর্জন তুলে বাড়ির সিঁড়ির গোড়ায় এসে দাঁড়ায়।
বাইক থেকে নেমে বড়ো বড়ো কদমে ধুপধাপ পা ফেলে ভেতরের দিকে আগায়।
ড্রয়িং রুমে এসেই বাজখাঁই গলায় অনিমা চৌধুরীর নাম ধরে ডাকতে ডাকতে বলে,
“এই ন’ষ্টা ডাইনি, শ’য়’তা’নের তিন নাম্বার বাচ্চা, কোন চিপায় লুকিয়েছিস? বের হ, আজকে তোর খবর আছে।”
সামাদ চৌধুরী, শাহীন রেজা চৌধুরী আর স্পর্শ সোফায় বসে ছিল। শ্রবণের গর্জন শুনে তিন জনেই সোফা ছেড়ে উঠে এগিয়ে আসে। শ্রবণের এমন আচরণের কারণ বুঝতে পারছে না স্পর্শ আর শাহীন রেজা চৌধুরী। হঠাৎ এত ক্ষেপেছে কেন? কী হয়েছে?
পরনে ট্রাউজার আর টিশার্ট, চুলগুলো এলোমেলো। এই বেসে শ্রবণ কোনোদিন এই বাড়িতে আসে না। ওর চুলগুলো সবসময় পরিপাটি থাকে, বাইরে বের হলেও ড্রেস চেঞ্জ করেই বের হয়। বোঝাই যাচ্ছে রাগের মাথায় যেভাবে ছিল সেভাবেই বেরিয়ে এসেছে ফ্ল্যাট থেকে।
শ্রবণ তিন জনের দিকে তাকিয়ে বলে,
“অনিমা কই? কোন গর্তে লুকিয়েছে?”
শাহীন রেজা চৌধুরী বলেন,
“কী হয়েছে? অনিমা কী করেছে আবার?”
“ওই ডাইনি সোহাকে কল করে বলছে সোহা কেন আমার বাচ্চা পেটে নিয়েছে। বাচ্চা যেন নষ্ট করে ফেলে। আমার কাছ থেকে যেন সোহা চলে আসে, ওকে আবার বিয়ে দেবে অন্য ছেলের কাছে। ন’ষ্টার বাচ্চা ন’ষ্টাকে আজকে শুধু হাতের কাছে পাই, কু’র’বা’নী দিয়ে চামড়া ছিলে গরম তেলে ভেজে কু/ত্তা/কে খাওয়াব। নিজে বারো ভাতারের নিচে শুয়েছে এখন মেয়ের বাচ্চা নষ্ট করার বুদ্ধি দিয়ে ওকেও শোয়াতে চাইছে? কু/ত্তা/র বাচ্চাকে আজকে হাতের কাছে পাই শুধু একবার।”
কথাগুলো বলেই সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যায় শ্রবণ। শ্রবণের কথা শুনে তিন জনেই শকড। শাহীন রেজা চৌধুরী নিজেকে সামলে গলার স্বর বাড়িয়ে বলেন,
“অনিমা তো নেই, কিছুক্ষণ আগেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছে।”
শ্রবণ পেছন ফিরে বলে,
“বেরিয়ে গেছে! কোথায় গেছে ডাইনিটা?”
“জানিনা তো, বলে যায়নি, তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে গেছে।”
“কখন গেছে?”
“সোহার সঙ্গে কথা বলার কিছুক্ষণ পরেই।”
“মিথ্যে বলছেন না তো?”
“বাবা আর স্পর্শকে জিজ্ঞেস করো।”
স্পর্শ বলে,
“সত্যি সত্যিই বেরিয়ে গেছে।”
শামীম রেজা চৌধুরী রুমেই ছিলেন। শুক্রবার হওয়ায় সবাই আজ বাড়িতেই আছেন। শ্রবণের তর্জন গর্জন শুনে রুম থেকে বেরিয়ে এসেছেন। সিঁড়ি বেয়ে নামতে নামতে বলেন,
“কী হয়েছে?”
সামাদ চৌধুরী খুলে বলেন অনিমা চৌধুরী কি কি বলেছেন সোহাকে। শামীম রেজা চৌধুরী বলেন,
“অনিমা এসব কেন বলবে?”
শ্রবণ দাদার দিকে তাকিয়ে বলে,
“এর পর আর কোনোদিন ওই ডাইনি যদি সোহার সঙ্গে কথা বলতে চায় খবরদার কল করবে না। ওই নষ্টকে আজ সামনে পেলে সত্যি সত্যিই জ’বা’ই করতাম। পালিয়ে গিয়ে বেঁচে গেল।”
শাহীন রেজা চৌধুরী অনিমা চৌধুরীর উপর রেগে বোম হয়ে গেছেন। রাগে ওনার শরীর রিরি করছে। হাতের কাছে পেলে কানশা বরাবর একটা দিয়ে যমের দুয়ারে পাঠিয়ে দিতেন।
শ্রবণ দরজার দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলে,
“বান্দির বাচ্চার বদ নজরে আমার বউ-বাচ্চার কিছু হলে ওকে ধরে একেবারে কিমা বানিয়ে ফেলব।”
কেউ আর কিছু বলার সুযোগই পায় না, শ্রবণ বেরিয়ে যায় বাড়ি থেকে।
তনিমা চৌধুরী শ্রবণের গর্জন শুনতে পেয়ে আর সামনে আসেননি। বলা তো যায় না রাগের মাথায় যদি ওনার মাথায় বারি দিয়ে ওনার ভবলীলা সাঙ্গ করে দেয়? এই ছেলেকে দিতে তো বিশ্বাস নেই। এখন অবশ্য নিজের পেটের ছেলেকে দিয়েও বিশ্বাস পান না, যেভাবে তাকায় ওনার দিকে, বাবা গো।
স্পর্শ দাদার দিকে তাকিয়ে বলে,
“এই মহিলারা কি পরিবর্তন হবে না কোনোদিন? এদের লজ্জা শরম বলতে কি কিছুই নেই? মানুষ এত নির্লজ্জ্ব হয়? দুই বোনের গায়ে মানুষের চামড়া না গন্ডারের চামড়া লাগানো। নির্লজ্জ্ব বেহারা প্রাণী দু’জন।”
শামীম রেজা চৌধুরী এই প্রথম ছোটো ছেলেকে ধমক দিয়ে বলেন,
“স্পর্শ, ওরা তোমার মা আর খালামনি হয়।”
“সো হোয়াট? মা খালা হয় বলে ওদের সাত খু’ন মাফ করে দেব? অন্যায় দেখেও চুপ করে থাকব? না আছে চরিত্রের ঠিক আর না দেখতে পারে অন্যের ভালো। শুনুন মিস্টার শামীম রেজা চৌধুরী, ওই দু’জনের মতো আপনিও সমান দোষে দোষী। আপনাদের সঙ্গে এক ছাদের নিচে থাকতেও আমার রুচিতে বাধে। ভাইয়া বলেছিল বলে বাড়িতে ফিরে এসেছি নয়তো কস্মিনকালেও আসতাম না। আপনাদের চেহারা দেখার চেয়ে গুয়ের দিকে তাকিয়ে থাকা অনেক ভালো।”
কথাগুলো বলেই ধুপধাপ পা ফেলে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যায়। মেজাজ গরম হয়ে যায় তিনজনের চেহারা দেখলে। এখনো এরা সমান তালে শ্রবণকে দোষ দিয়ে যায়।
চারজন হা করে স্পর্শের যাওয়ার পথে তাকিয়ে রইল। স্পর্শ এভাবে কথা বলতে পারে এটা বোধহয় সকলের অকল্পনীয় ছিল।
তনিমা চৌধুরী তো প্রায় কেঁদেই দিয়েছেন ছেলের কথা শুনে। ওনার পেটের সন্তান হয়ে এভাবে বলে গেল? শ্রবণের কথা সহ্য করে নিলেও স্পর্শের কথা সহ্য করতে পারেন না। আহারে, ওনার পেটের সন্তান হয়ে কীভাবে কথা বলে।
শ্রবণ ফ্ল্যাটে ফিরে আসে। সোহা মাত্রই নাস্তা সেরে রুমে এসেছে। শ্রবণকে ফিরে আসতে দেখে ওর দিকে তাকিয়ে থাকে। এত দ্রুত ফিরে আসলো? অনিমা চৌধুরীকে বোধহয় পায়নি বাড়িতে গিয়ে।
ভয়ে ভয়ে মিনমিন করে বলে,
“নাস্তা করবে চলো।”
“তুই করেছিস?”
কর্কশ গলায় বলেই চুপ হয়ে যায়। গলার স্বর কিছুটা নরম করে আবার বলে,
“তুই নাস্তা করেছিস?”
“হ্যাঁ।”
“ঔষুধ খেয়েছিস?”
“খাব এখন।”
শ্রবণ ওয়াশরুমের দিকে এগিয়ে বলে,
“ঔষুধ খা।”
সোহা ঔষুধ খেয়ে নেয়। শ্রবণ হাতমুখ ধুয়ে বেরিয়ে আসে। মেজাজ যে কি গরম হয়ে আছে শ্রবণ বোঝাতে পারবে না কাউকে। আজকে অনিমা চৌধুরীকে হাতের কাছে পেলে সত্যি সত্যিই জ’বা’ই করতো।
চুলগুলো ব্রাশ করে রুম থেকে বের হয়। ওর পেছন পেছন সোহা-ও বের হয়।
শ্রবণ ডাইনিং টেবিলের কাছে এগিয়ে এসে চেয়ার টেনে বসে। সোহা নাস্তা বেড়ে শ্রবণের সামনে দেয়। গ্লাসে পানি ঢেলে দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে পাশেই।
শ্রবণ খেতে খেতে সোহার মুখের দিকে তাকায়। সোহা দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। শ্রবণ ক্ষুব্ধ গলায় বলে,
“আজকে থেকে তোর আর বাবুর কিছু হলে সব দোষ তো ডাইনি মায়ের। তোদের কোনো ক্ষতি হলে তোর ডাইনি মায়ের ভবলীলা সাঙ্গ করে দেব।”
সোহা চুপ করে থাকে। চুপ করে থাকা ছাড়া কোনো উপায়ও নেই। কিছু বললেই শ্রবণের মেজাজ আরও গরম হবে।
শ্রবণ খাওয়া শেষ করে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। পা বাড়ায় রান্নাঘরের দিকে। মাজেদা আন্টি দুপুরের খাবার রান্না করছেন। শ্রবণকে দেখে বলেন,
“কফি বানাতে বলে কোথায় চলে গিয়েছিলে?”
শ্রবণ গম্ভীর স্বরে বলে,
“ওই বাড়িতে গিয়েছিলাম।”
“কফি বানিয়ে দেব?”
“দিন।”
“আচ্ছা একটু অপেক্ষা করো।”
“আন্টি।”
মাজেদা আন্টি পেছন ফিরে তাকান। শ্রবণ বলে,
“সোহা প্রেগন্যান্ট। বাবু আর সোহা যেন সুস্থ থাকে তেমন খাবার রান্না করবেন।”
চলবে…………..
Share On:
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দিশেহারা পর্ব ২৪
-
দিশেহারা পর্ব ৮
-
দিশেহারা পর্ব ৩৯
-
দিশেহারা পর্ব ১৬
-
দিশেহারা পর্ব ৩৬
-
তোমার সঙ্গে এক জনম পর্ব ১
-
তোমার সঙ্গে এক জনম পর্ব ২
-
দিশেহারা পর্ব ৩১
-
দিশেহারা পর্ব ২১
-
দিশেহারা পর্ব ৪২