দিশেহারা (০২)
সানা_শেখ
শ্রবণ পার্কিং এ থাকা নিজের বাইকের কাছে এসে দাঁড়ায়। ফোন পকেটে ভরার আগে হাসানের ফোনে একটা মেসেজ পাঠায়। হাসান শ্রবণের সবচেয়ে ক্লোজ ফ্রেন্ড। কোথায় যাচ্ছে না জানালে কলের ওপর কল করতেই থাকবে।
ফোন পকেটে ভরে হেলমেট পরে নেয়। বাইক স্টার্ট দিয়ে ভার্সিটির গেট পেরিয়ে বেরিয়ে যায়। চৌধুরী বাড়িতে বিকেলে যাওয়ার কথা থাকলেও এখনই যাবে। ওই লিলিপুট কে দেখে নেবে। ওর নামে নালিশ দেওয়া? জন্মের শিক্ষা দিয়ে আসবে আজ। নেক্সট টাইম ওর নামও উচ্চারণ করবে না আর।
কলিং বেল বেজে ওঠে। সোফায় বসে টিভি দেখতে থাকা সোহা ঘাড় ঘুরিয়ে দরজার দিকে তাকায়। আশে পাশে নজর বুলিয়ে কাউকে আসতে না দেখে নিজেই সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। মেড কোথায় গেছে? কলিং বেলের শব্দ শুনেও আসছে না কেন?
এগিয়ে এসে দরজা খুলে সামনে অগ্নি মূর্তি রূপ ধারণ করে দাঁড়িয়ে থাকা শ্রবণ কে দেখতে পায়। এই অসময়ে শ্রবণ কে বাড়িতে দেখেই সোহার গলা শুকিয়ে গেছে। শ্রবণ যেভাবে ওর দিকে তাকিয়ে আছে দেখে মনে হচ্ছে এখনই লবণ পানি ছাড়া কাঁচা চিবিয়ে খেয়ে ফেলবে।
শ্রবণ সোহা কে ধরার জন্য হাত বাড়াতেই সোহা এক দৌঁড়ে শ্রবণের নাগালের বাইরে চলে যায়। কোনো জায়গায় না থেমে সোজা সিঁড়ি বেয়ে দৌঁড়ে উপরে উঠে গেছে।
শ্রবণ রেগে গালী দেয় কয়েক টা। ধুপধাপ পা ফেলে ভেতরে প্রবেশ করে। বড় বড় কদমে আগায় সিঁড়ির দিকে। ধরতে পারলে খবর আছে আজ।
শ্রবণ উপরে আসতে আসতে সোহা রুমে ঢুকে দরজা লক করে দিয়েছে ভেতর থেকে।
হাত দিয়ে দরজায় জোরে জোরে আঘাত করে রেগে বলে,
“সোহার বাচ্চা দরজা খোল বলছি নয়তো দরজা ভেঙে ফেলবো।”
সোহা কথা বলে না ভেতর থেকে। দরজার দিকে তাকিয়ে থরথর করে কাঁপছে। বাড়িতে এখন দাদা, বড় আম্মু আর মেড ছাড়া কেউ নেই। শ্রবণ একবার ওকে ধরতে পারলে জানে মে’রে ফেলবে। এই পাগলের খপ্পরে দ্বিতীয় বার আর পড়তে চায় না সোহা।
“দরজা খুলবি নাকি ভাঙবো আমি?”
সোহা তবুও কিছু বলে না দরজাও খোলে না।
শ্রবণ ঘুরে দাঁড়ায়। তখনই মিসেস তনিমা চৌধুরী রুম থেকে বেরিয়ে আসেন। বড় ছেলে কে দেখে খুশি হয়ে বলেন,
“কেমন আছো শ্রবণ?”
প্রত্যেক বারের মতো এবারেও শ্রবণ ওনার দিকে তাকায়ও না মুখে কিছু বলেও না। সোজা দাদার রুমের দিকে আগায়। এই সোহা চৌধুরী কে তো পরে দেখে নেবে। রুমে ঢুকে বসে থাকলেই ওর হাত থেকে বাঁচতে পারবে নাকি? একে পানিশমেন্ট না দেওয়া পর্যন্ত ওর শান্তি লাগবে না একটুও। এই বাড়ির মানুষ গুলো কে দেখলেই ওর শরীর জ্বলে ওঠে।
দাদার রুমে এসে দেখে ওর দাদা সামাদ চৌধুরী চোখে পাওয়ারের চশমা পরে বই পড়ছেন। বিভিন্ন বই পড়া সামাদ চৌধুরীর নেশা। এখনো অবসর সময়ে বেশির ভাগ বই পড়েই অতিবাহিত করেন।
“দাদা ভাই।”
সামাদ চৌধুরী চোখ তুলে নাতির দিকে তাকান। এই অসময়ে শ্রবণ কে দেখে বেশ অবাকই হয়েছেন। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর বই বন্ধ করে রেখে হাসি মুখে বলেন,
“এসে পড়েছো, আসো বসো।”
শ্রবণ দাদার পাশে বসতে বসতে গম্ভীর স্বরে বলে,
“কিসের জন্য আসতে বলেছিলে?”
“যার জন্য আসতে বলেছি সেই আলোচনা তো সন্ধ্যার পর হবে সবাই বাড়িতে ফিরলে।”
শ্রবণ কপাল ভ্রু কুঁচকে বলে,
“কিসের আলোচনা?”
“সেটা সন্ধ্যার পরেই জানতে পারবে।”
“এখন বললে সমস্যা কোথায়?”
“আমি তো পুরোপুরি জানি না তোমার আম্মু আর চাচ্চু জানে। ওরা আসুক তারপর জানা যাবে।”
“দাদা ভাই তোমাকে এক কথা আর কত বার বলব? ওই লোক কে আমার আব্বু বলবে না, আমি ঘৃণা করি ওই লোক আর এই বাড়ির সবাই কে।”
“তাহলে আমাকে ঘৃণা করো না কেন?”
“কারণ আমি তোমাকে ভালোবাসি।”
“তোমার ভাই বোন দের ভালোবাসো না কেন?”
“বাদ দাও এসব কথা।”
“সোহার সাথে ভার্সিটিতে অমন করেছো কেন?”
“বাড়িতে এসেই আমার নামে নালিশ করেছে তাইনা?”
“কাঁদছিল মেয়েটা, আমি জিজ্ঞেস করায় বললো র্যাগিং এর শিকার হয়েছিল। তুমি নিজের ছোট বোন কে এসব কীভাবে করতে বলতে পারো শ্রবণ? আমি বাক্য হারা হয়ে গিয়েছিলাম, তোমার কাছ থেকে এমন কিছু আমি আশা করিনি কোনো দিন। তুমি নিজের বোন কে এসব থেকে প্রোটেক্ট করবে তানা করে উল্টো এসব করেছ!”
“কাকে তুমি বার বার আমার বোন বানাচ্ছ? ও আমার বোন?”
“আপন বোন না হলেও চাচাতো বোন তো।”
“এই দুনিয়ায় আমি আর আমার তুমি আছো, বুঝতে পেরেছ? অন্য কাউকে আমার আপন জন বানাবে না।”
“রেগে যাচ্ছো কেন?”
“আমার রাগ বাড়াচ্ছ কেন?”
“সকালে খেয়েছ?”
“হ্যাঁ।”
“রাতে ঠিকঠাক মতো ঘুম হয়েছে?”
“হ্যাঁ।”
“বিয়ে করবে না?”
“হ্যাঁ।”
হ্যাঁ বলেই বড় বড় চোখ করে দাদার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। ওর দাদা মুচকি মুচকি হাসছেন।
নাতির কুঁচকে যাওয়া কপাল ভ্রুর দিকে তাঁকিয়ে হেসে বলেন,
“তাহলে পাত্রী দেওয়া শুরু করি, কী বলো?”
“এই বা/ল ছালের বিয়ে কে করবে? একশ বছর বেঁচে থাকলেও বিয়ে করবো না আমি। যদি এমন হয় যে বিয়ে না করলে আমি আজকেই ম’রে যাব তবুও বিয়ে করবো না আমি।”
“বিয়েতে এত অনিহা কেন?”
শ্রবণ একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে দাদার মুখের দিকে। দাদা কে কষ্ট দিতে চায় না তাই ঠোঁটের ভেতরে জমে থাকা কথা গুলো ভেতরেই রেখে দিল। নাহলে মুখ দিয়ে খাস বাংলা বেরিয়ে আসছিল।
হাজার বলে কোয়েও শ্রবণ কে দুপুরের খাবার খাওয়াতে পারেন না সামাদ চৌধুরী, তনিমা চৌধুরী কয়েক বার বললেও শ্রবণ না শোনার মতো করে থেকেছে। এই মহিলা কে ওর একদম সহ্য হয় না।
অনেক ডাকাডাকির পর খাবার খেতে রুম থেকে বেরিয়েছে সোহা। যতক্ষণ নিচে ছিল ততক্ষণ বড় আম্মুর সাথে সাথে থেকেছে।
দরজা লক করতে ভুলে গিয়েছিল সোহা, যেই ভুলের খেসারত ওকে এখন দিতে হবে। যার ভয়ে তটস্থ হয়ে ছিল এতক্ষণ; সে এখন সটান দাঁড়িয়ে আছে ওর সামনে চোয়াল শক্ত করে।
রুমের ভেতরে শ্রবণ কে দেখে জানের পানি শুকিয়ে গেছে সোহার। শোয়া থেকে লাফিয়ে উঠে বিছানা থেকে নেমে দাঁড়ায়।
শ্রবণ দাঁতে দাঁত চেপে চিবিয়ে চিবিয়ে বলে,
“আমার নামে নালিশ দেওয়া? তোর সাহসের তারিফ করতেই হয়।”
সোহা ভয়ে পেছাতে পেছাতে কাঁদো কাঁদো গলায় বলে,
“বিশ্বাস করো ভাইয়া, আমি তোমার নামে কোনো নালিশ দেইনি।”
ঝড়ের বেগে সোহার কাছে এসে দাঁড়ায় শ্রবণ। খপ করে গলা চেপে ধরে বলে,
“কে তোর ভাই? আর তুই না বললে দাদা ভাই জানলো কীভাবে? ভূত এসে বলে গিয়েছিল? আমাকে কল করে জিজ্ঞেস করলো কেন?”
এত শক্ত করে গলা চেপে ধরেছে যে সোহার চোখ জোড়া উল্টে গেছে। ফর্সা চেহারা লাল বর্ণ ধারণ করেছে।। প্রাণ বাঁচানোর তাগাদায় শ্রবণের হাত থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফট শুরু করেছে।
কিছুক্ষণ পর শ্রবণ নিজেই ছেড়ে দেয় সোহার গলা। ছাড়া পেয়ে কাশতে কাশতে দূরে সরে যাওয়ার চেষ্টা করে। চোখ জোড়া ঘোলা হয়ে গেছে। ঝাপসা হয়ে গেছে চারো পাশ।
দেওয়াল ভেবে ওয়াশরুমের দরজায় হাত দিয়ে ভর করতেই ঠাস করে ভেতরে পড়ে যায়। দরজা লক করা ছিল না তাই সোহা হাত দিয়ে ভর করতেই খুলে গেছে।
সোহার মুখ দিয়ে শব্দ বেরিয়ে আসে। তীব্র ব্যথায় কেঁদে ওঠে মেয়েটা। দরজার দিকে তাকিয়ে দেখে শ্রবণ ভেতরের দিকে এগিয়ে আসছে। সোহা দুই হাতে ভর করে পেছাতে শুরু করে আবার।
শ্রবণ ভেতরে এসে সোহার চুল মুঠো করে ধরে দাঁতে দাঁত পিষে বলে,
“আমার নামে আরো কারো কাছে নালিশ করবি?”
“না, না কাউকে কিচ্ছু বলবো না কখনো। ছেড়ে দাও আমাকে।”
শ্রবণ সামনের দিকে তাকিয়ে লাল একটা বালতি ভর্তি পানি দেখতে পায়। নির্দয়ের মতন সোহার চুল ধরে টেনে বালতির কাছে নিয়ে আসে। গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে কাদঁছে সোহা। টেনে তুলে বালতির মধ্যে মাথা চেপে ধরে বলে,
“এবার চিৎকার কর।”
গলা কা’টা মুরগীর মতো তড়পাতে শুরু করে সোহা। এভাবে আর একটু সময় থাকলে বেচারি মরেই যাবে। কি এমন ভুল করেছে যে এভাবে শাস্তি দিচ্ছে? সোহা মিথ্যে তো বলেনি কিছু। ওর সাথে যা হয়েছে তাইতো বলেছে শুধু। এই একটা কথার জন্য এভাবে মা’র’বে শাস্তি দেবে?
দম ফুরিয়ে যাবে যাবে এমন সময় মাথা টেনে তোলে বালতি থেকে। প্রায় হাত পা ছেড়ে দিয়েছে মেয়েটা। শ্রবণ দাঁতে দাঁত পিষে আবার বলে,
“বাকি জীবন আর আমার নামে নালিশ করবি কারো কাছে?”
দুর্বল চোখ জোড়া দিয়ে কোনো রকম তাকানোর চেষ্টা করে ক্ষীণ স্বরে বলে,
“না।”
“যদি এমন দুঃসাহস আবার দেখাস একদম জানে মে’রে ফেলব।”
সোহা কে ওয়াশরুমেই ফেলে রেখে রুম থেকে বেরিয়ে যায়।
যেভাবে ফেলে রেখে গেছে সেভাবেই পড়ে রইলো সোহা। নড়া চড়া করতেও শক্তি পাচ্ছে না এখন। অনেক পানি খেয়ে ফেলেছে, পেট ফুলে গেছে অনেক। দুই চোখ বেয়ে শ্রাবণ ধারা গড়িয়ে পড়ছে। সামান্য একটা কথাকে ধরে কেউ এভাবে মা’রে? জীবনে ফুলের টোকা পড়েনি গায়ে, আর আজকে?
এত দিন বাড়ির সবাই বলেছে শ্রবণের সমস্যা আছে, সোহা বিশ্বাস করেনি। একজন সুস্থ সবল মানুষ, বুদ্ধিমান, চতুর, ধূর্ত এমন একজনের মানুষের কী সমস্যা থাকবে? কিন্তু আজকে সোহা বিশ্বাস করছে শ্রবণের সত্যি সত্যিই সমস্যা আছে। সামান্য একটা কথায় এভাবে কারো ইগো হার্ট হয়? এত ইগো কেনো এই ছেলের? আরেকটু হলে তো জানেই মে রে ফেলছিল।
সন্ধ্যার পর বাড়ির সবাই উপস্থিত হয় ড্রয়িং রুমে। শ্রবণের দাদা, বাবা, মা, কাকা, কাকি, ছোট ভাই আর চাচাতো ভাই। সোহা দুপুরের পর আর রুম থেকে বের হয়নি। সোহার মা মিসেস ছোঁয়া চৌধুরী কয়েক বার ডেকেছিলেন মেয়ে কে সোহা তবুও বের হয়নি রুম থেকে।
ঘুমোচ্ছে ভেবে আর ডাকেননি, এখন বড়দের মধ্যে কথা হবে তাই আর ডাকেনি কেউ।
শ্রবণ দাদার পাশে বসে ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে টাইপিং করতে ব্যস্ত। আশে-পাশে, সামনে কারো দিকেই চোখ তুলে তাকাচ্ছে না। ওর ভাব সাব দেখে মনে হচ্ছে আশে পাশে কেউ নেই।
শ্রবণের বাবা মিস্টার শামীম রেজা চৌধুরী বড় ছেলের দিকে তাঁকিয়ে বলেন,
“শ্রবণ।”
শ্রবণ তাকায় না, কিছু বলেও না।
“তোমার পছন্দের কোনো মেয়ে থাকলে বলো।”
শ্রবণ ঘাড় কাত করে বাবার দিকে তাকায়। ঠোঁটে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটিয়ে বলে,
“হঠাৎ আমার পছন্দ নিয়ে ভাবছেন কেন?”
“তোমাকে বিয়ে করাতে চাই।”
বির বির করে বিশ্রী ভাষা উচ্চারণ করে শ্রবণ।
ওর ঠোঁট নাড়ানো দেখেই বুঝতে পেরে গেছেন কী বলেছে শ্রবণ।
পুনরায় ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে বলে,
“আমার বিয়ে নিয়ে কাউকে ভাবতে হবে না। যার যার টা সে ভাবুক। পারলে আপনিও আরো কয়েক টা বিয়ে করে নিন, তাও আমার বিয়ে নিয়ে ভাববেন না।”
ছেলের এমন কথায় বিব্রত বোধ করেন শামীম রেজা চৌধুরী। এই ছেলে কে আর কিছু বলতে চান না তিনি।
“তুমি যখন বিয়ে করতে চাইছো না তখন আর আমাদের কী করার। আগামী সপ্তাহে স্পর্শের সাথে সোহার বিয়ে হবে। তু……”
বাকি কথা শেষ করতে না দিয়ে বসা থেকে উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বিরক্তির সুরে বলে,
“এই চ্যাডের প্যাঁচাল শোনানোর জন্য আমাকে এখানে ডাকা হয়েছে? এই বা/ল ছালের কথা শোনার অত সময় নেই আমার।”
ধুপধাপ পা ফেলে সকলের মধ্যে থেকে বেরিয়ে যায় বাইরের দিকে। মেজাজ টাই খারাপ করে দিল। ভেবেছিল কি না কি গুরুত্বপুর্ণ কথা বলবে। সারা দিন শুধু শুধু পড়ে রইলো এখানে।
একটা লাভ হয়েছে, ওই মেয়ে কে জন্মের শিক্ষা দিতে পেরেছে। এই একটা কারণেই মেজাজ ঠান্ডা ছিল সারা বিকেল।
বাইক নিয়ে সোজা আসে টিএসসির মোড়ে। ওর বন্ধুরা সবাই বসে আছে এখানেই। ফ্ল্যাটে ফিরবে রাতের খাবার খেয়ে।
সকলের সাথে টুকটাক কথা বলার পর একটা সিগারেট ধরায়। ওর চোখ মুখ দেখেই বুঝতে পারছে রেগে আছে। কি হয়েছে জিজ্ঞেস করছে না কেউ। মাথা ঠাণ্ডা হোক তারপর জিজ্ঞেস করবে।
বেশ অনেক টা সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে। পর পর দুটো সিগারেট শেষ করেছে শ্রবণ।
হাসান নিজের হাতে থাকা গিটার টা শ্রবণের হাতে দিয়ে বলে,
“ভাই একটা গান ধর তো, কয়েক দিন হয়ে গেছে তোর গান শুনিনা।”
“ভাললাগছে না, সরা এই বা/লের গিটার।”
“ভাই একটা গান ধর মেজাজ ঠিক হয়ে যাবে।”
“তুই গা।”
“সবাই জানে তোর কন্ঠে জাদু আছে, তোর গান শুনলেই মন ভালো হয়ে যায়।”
শ্রবণ হাসানের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে।
“আমার মুখের দিকে তাকিয়ে কী দেখছিস? শুরু কর।”
শ্রবণ আর কিছু না বলে গিটারে টুং ট্যাং শব্দ তুলে গান গাইতে শুরু করে।
“আমি মাটির একখান ঘর বানাবো
খেঁজুর পাতার ছাওনি দিবো
বাঁশের খুটির বেড়া দিয়ে
মহা কালের ঘুম ঘুমাবো…।
আরে… সাদা কাপড় পইড়া আমি
গান গাইবো আকাশ ছুমি,
ওপারেতে ঠোল পিটিয়ে
আমার বিয়ের দাওয়াত দিবো…।
আমি মাটির একখান ঘর বানাবো
খেঁজুর পাতার ছাওনি দিবো
বাঁশের খুটির বেড়া দিয়ে
মহা কালের ঘুম ঘুমাবো….।”
চলবে……..
নেক্সট পার্ট আগে আগে পড়তে সানা শেখ পেজ টি ফলো দিয়ে রাখবেন সবাই ধন্যবাদ।
Share On:
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
তোমার সঙ্গে এক জনম পর্ব ৫
-
দিশেহারা পর্ব ১৫
-
দিশেহারা পর্ব ৩৮
-
দিশেহারা পর্ব ৪০
-
দিশেহারা পর্ব ৪২
-
দিশেহারা পর্ব ১
-
দিশেহারা পর্ব ৪১
-
দিশেহারা পর্ব ২২
-
দিশেহারা পর্ব ১৮
-
দিশেহারা গল্পের লিংক