তোমার_হাসিতে
ফারহানাকবীরমানাল
২৫.
মায়ের দৃষ্টি শান্ত। তাকানোর ভেতরে সরল সরল ব্যাপার আছে৷ জটিলতা তেমন নেই। বাবুইও এমন। বাবুইয়ের ভালো নাম শামসুন্নাহার। এই নামের আগে-পরে আরও দুটো নাম ছিল। মোসম্মৎ শামসুন্নাহার দিলরুবা। স্কুলে ভর্তির সময়ে হেডটিচার আগে পরের নাম দুটো কে’টে দিলেন। নাক-মুখ কুঁচকে বললেন, “খাতা কলমে এত বড় নাম লেখার জায়গা হবে না। তাছাড়া ‘মোসম্মৎ’ সাধারণত বিবাহিত নারীর সম্মানসূচক উপাধি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই মেয়ের এখনও বিয়ে হয়নি। বিয়ের আগেই বিবাহিত তকমা নিয়ে ঘুরবে– এই কথা ভালো দেখায় না। শুধু শামসুন্নাহার থাকুক।”
ফুফা হেড স্যারের কথা মেনে নিলেন। অবিবাহিত মেয়ের গায়ে বিবাহিত তকমা থাকবে এই কথা ভাবতেই নাকি তার গা গোলাতো। বিস্তার ধরাধরি করে তিনি মেয়ের জন্ম-নিবন্ধের নাম বদলে ফেললেন। নাম বদলানোর এই ঘটনা ঘটেছিল সম্পূর্ণ গোপনে। ফুফু এসবের কিছু জানত না। বাকিরাও কেউ কিছু জানত না। যেদিন জানাজানি হলো সেদিন ফুফার মা প্রায় হার্টফেল করে বসলেন। তক্ষুনি অ্যাম্বুলেন্স ডেকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো। ইসিজি করা হলো। রিপোর্টে হার্টফেলের কোন লক্ষন নেই। ব্লাড প্রেশার ফল করেছে। ভদ্রমহিলা রিপোর্ট স্বাভাবিক দেখে আরও ভেঙে পড়লেন। হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, “হায় আল্লাহ! এ কেমন ছেলে জন্ম দিয়েছি আমি? আমি এত খুঁজে, এত বইপত্র ঘেঁটে নাতির একটা নাম রাখলাম। ছেলের সে নাম পছন্দ হলো না। হ্যাঁ রে মুরুক্ষ! মোসম্মৎ শামসুন্নাহার দিলরুবা নামের অর্থ জানিস? দিনের সূর্যের মতো উজ্জ্বল, হৃদয় জয় করা এক নারী। এমন সুন্দর নাম। ছেলে আমার এই নাম রাখল না।”
ভদ্রমহিলা শুধু কেঁদে কেটে ক্ষান্ত হলেন না। ফুফার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিলেন। ঘরে খাওয়া দাওয়া পর্যন্ত ছেড়ে দিয়েছিলেন। তার রাগ ভাঙাতে ফুফার অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। দাদির নাম না থাকলেও বাবুই দাদির দেওয়ার নামের মান রেখেছে। সে খুব শান্ত স্বভাবের। অল্পভাষী। এই বাড়িতে আসার পর একদিনই আমার সাথে কথা হয়েছে। মাথা নিচু করে লজ্জিত ভঙ্গিতে বলেছে– সাজ্জাদ ভাই, ভালো আছেন? এতটুকুই। আর কোন কথা না। এতসব ঝামেলা হয়েছে, সেখানেও তার কোন ভূমিকা নেই। তবে মানুষ ভালোই। ওর মধ্যে সরল সরল ব্যাপার আছে। জটিলতা তেমন নেই। সাত পাঁচ কোন ঝামেলায় থাকে না। সারাক্ষণ ঘরের ভেতরে বসে নিজের জগৎ নিয়ে ব্যস্ত। পড়াশোনা, ছবি আঁকা, হাতের কাজকর্ম সবকিছুতে ভীষণ পারদর্শী। রাঁধতে পারে ভালো। এ বাড়িতে এলে মাঝেমধ্যেই তাকে মায়ের সাথে রান্নাঘরে দেখা যায়। হাতে হাতে কাজ করে, কখনো সখনো মাকে বসিয়ে রেখে নিজেই রান্নার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয়। এমন মেয়েকে ছেলে বউ হিসাবে পেতে চাওয়া মায়ের ক্ষেত্রে শতভাগের চেয়েও অনেক বেশি ঠিক। তারপর আবার ফুফু নিজে থেকে প্রস্তাব দিচ্ছে। মায়ের ব্যাপারটা আমি বুঝতে পারছি। তবে নিজের জবাব খুঁজতে সময় লাগছে। কেন লাগছে সে কথা জানি না। জানতেও ইচ্ছে করছে না।
মা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো। নরম গলায় বলল, “এক্ষুনি বলতে হবে না। একটু সময় নিয়ে ভেবেচিন্তে তারপর না হয় বললি। তোর উপর আমার বিশ্বাস আছে।”
মায়ের কথার জবাব দিলাম না, অস্পষ্টভাবে হাসলাম। মা উঠে চলে গেল। যাওয়ার সময় দরজা ভেজিয়ে দিয়ে গেল। ক্লান্ত লাগছে। ঘুমে চোখ বুঁজে যাচ্ছে। বাতি নিভিয়ে শুয়ে পড়লাম। রাত বাড়িয়ে লাভ নেই।
ঘুম ভাঙল বাদশার ফোন কলে। কল রিসিভ করতে ওপাশ থেকে তার হন্তদন্ত গলা শোনা গেল।
“তোর সাথে খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা আছে। যতদ্রুত সম্ভব কলেজের পুকুর পাড়ে চলে আয়।”
“কেন? কিছু হয়েছে?”
“সে অনেক কথা। ফোনে বলা যাবে না। তুই একটুও দেরি করিস না। সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। জলদি আয়।”
“আসছি।”
বাদশার ব্যস্ততার কারণ পরিষ্কার হলো না। এত সকালে কলেজের পুকুর পাড়ে ওর কী কাজ? নতুন করে কোন ঝামেলায় জড়ালো নাকি?
সূর্য ওঠার আগে আমি বিছানা ছেড়ে উঠলাম। তখনো অন্ধকার কাটেনি। পুবের আকাশ লাল হতে শুরু করেছে। বেশ কিছুদিন বাদে আজ হঠাৎই খুব কুয়াশা পড়েছে৷ ঘন কুয়াশা চারদিকে। সদর দরজা খুলে বের হতেই দেখি তিমু দাঁড়িয়ে। এক মনে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। যেন খুব গভীর কোন চিন্তায় ডুবে আছে৷ তিমু আমাকে দেখে খানিকটা সরে গেল।
“এখানে কী করছিস তিমু? সাতসকালে বাইরে ঘুরলে ঠান্ডা লেগে যাবে।”
তিমু আমার কথার জবাব দিলো না। গায়ের চাদরটা একটু শক্ত করে পেঁচিয়ে নিলো। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ওর সাথে গল্প করার মতো সময় নেই। কাজেই দ্রুত পায়ে হাঁটতে শুরু করলাম। তিমু আমাকে ডাকলো না, আমিও পেছনে ঘুরলাম না। যেতে যেতে মনে হলো– তিমুকে খুব দুঃখিত দেখাচ্ছিল। চোখ-মুখ ফোলা ফোলা। যেন অনেকক্ষণ কেঁদেছে। ওর কী কিছু হয়েছে? কী হবে? যাইহোক, বাড়ি ফিরে জিজ্ঞেস করে নেব। আপাতত বাদশার কাছে যেতে হবে।
বাদশা আমায় দেখেই রেগে গেল। কর্কশ গলায় বলল, “এতক্ষণ সময় লাগে তোর?”
“হেঁটে এসেছি। কাকভোরে কেউ আমার জন্য রিকশা ভ্যান সাজিয়ে বসে নেই।”
“কচ্ছপের মতো করে হেঁটেছিস নিশ্চয়ই?”
“কী সমস্যা তোর? রেগে যাচ্ছিস কেন?”
“রাগব না তো কী খুশি হব? খুশি হওয়ার মতো কাজ করেছিস নাকি?”
“রাগ দেখানোর মতো কিছু করেছি বলেও মনে পড়ছে না।”
“আলবত করেছিস! তুই খুব ভালো করে জানিস বিনাকারণে রেগে যাওয়ার স্বভাব আমার নেই।”
“জানি। তবে রাগের কারণ বুঝতে পারছি না।”
“ব্যাখ্যা দিতে হবে?”
“দিলে ভালোই হয়। সৃজনশীল প্রশ্নের ঘ এর উত্তরের মতো ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করবি। বুঝতে সুবিধা হবে।”
“আমি কিন্তু মজা করছি না।”
“আমিও না।”
“জায়েদার কথা মনে আছে? তানহার ব্যাপারে খোঁজ খবর নিতে গিয়ে তুই ওকে এই বিপদের মধ্যে ঠেলে দিয়েছিস। দিয়েছিস তো দিয়েছিস। তারপর থেকে ব্যাপারটা নিয়ে তোর কোন হেলদোল নেই। কাজ হয়ে গেছে এখন যেন গা ঝেড়ে বেঁচে গিয়েছিস।”
তাৎক্ষণিকভাবে ওর কথার কোন জবাব খুঁজে পেলাম না। বাদশা ভুল কিছু বলেনি। জায়েদার ব্যাপারটা আমি এড়িয়ে যাচ্ছি। খুব সন্তপর্ণে এড়িয়ে যাচ্ছি। অথচ মেয়েটা আমার জন্যই এই বিপদের মধ্যে পড়েছে। আমার কথাতেই ডাইরি চু’রি করেছিল। হঠাৎই ভীষণ রকমের কুৎসিত লাগতে আরম্ভ করল। এই পৃথিবীতে আত্মগ্লানির চেয়ে বড় কোন শাস্তি নেই। হতেও পারে না।
বাদশা বলল, “কী হলো? কথা বলছিস না যে। থম মে’রে গেলি কেন?”
সত্যিকার অর্থে নিভে গিয়েছি। তাই বলার মতো কিছু খুঁজে পেলাম না। চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলাম। বাদশা আমায় গায়ে ধাক্কা দিলো। নরম গলায় বলল, “পুলিশের উপর ভরসা করলে এই কে’স সলভ হবে না। যা করার আমাদেরই করতে হবে। আমার বন্ধু কারো সাথে অন্যায় করুক তা আমি চাই না। আমি কেন? পৃথিবীর কোন বন্ধুই এমনটা চাইতে পারে না।”
“কী করব আমরা?”
“তানহার বাবার ব্যাপারে খোঁজ খবর করতে হবে। রইস উদ্দিন লোকটার সাথে দেখা করা দরকার। আমার মনে হয় সে কিছু না কিছু বলতে পারবে। কোন ক্লু, কোন হিন্টস। আমার কথা বুঝতে পারছিস?”
“বুঝতে পারছি।”
“রইস উদ্দিনকে কোথায় পাওয়া যাবে? মানে তোর কোন ধারণা আছে?”
“ধারণা নেই। তবে আমার মন বলছে সেখানে হিসাব রাখার কাজ করেছিলাম, বলতে চাইছি প্রথমবার যেখানে দেখা হয়েছিল সেখানে খুঁজে দেখব। থাকলেও থাকতে পারে।”
“তাহলে আর দেরি করব না। এক্ষুনি চল। বাইক নিয়ে এসেছি।”
ধারনা মিললো না। গোটা জায়গা তন্নতন্ন করে খুঁজেও রইস উদ্দিনের দেখা পেলাম না। স্কুলের ওখানে গেলাম। পুলিশ পুরো জায়গা সীল করে দিয়েছে। বাইরের লোক ঢোকা নিষেধ।
“থানায় গিয়ে দেখবি? দারোগা সাহেব কিছু জানলেও জানতে পারে।”
“যাওয়া যায়।”
বাদশা বাইক স্টার্ট দিলো। কুয়াশা কে’টে রোদ উঠেছে। চারপাশে সূর্যের আলো ঝলমল করছে। প্রতিদিন এভাবেই রোদ ওঠে। এরপর সন্ধ্যা নামে। তারপর আবার সেই আলো রাতের আঁধারে মিশে যায়। এভাবেই ফিরে গেছে কত আলো। কত আলো মিশে গেছে নিষক তিমিরে।
দারোগা সাহেব আমাদের দেখে হাসলেন। কোমল গলায় বললেন, “থানার কপাট খুলতে না খুলতেই হাজির হয়েছ। তা আজ হঠাৎ থানায়। কী মনে করে?”
“রইস উদ্দিনের ব্যাপারে খোঁজ খবর করতে এসেছি। কোথায় আছে জানেন কিছু?”
“তা হঠাৎ তার খোঁজ করছ কেন? কী দরকার?”
“দরকার কিছু নেই। আমাদের অনেক সাহায্য করেছিল। সেখানে ধন্যবাদ দেওয়ার সুযোগ হয়নি। তাই দেখা করতে চাইছি।”
“আজ দুপুরের পর থানায় আসবে। কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করার আছে। বলল অসুস্থ। আসতে দেরি হতে পারে।”
“অসুস্থ? কী হয়েছে?”
“উত্তেজিত হওয়ার মতো কিছু হয়নি। সামান্য সর্দি-জ্বর। ওষুধপত্র খাচ্ছে। দুশ্চিন্তা করো না।”
“বাড়ির ঠিকানা জানেন? মানে কোথায় থাকে কিছু বলতে পারেন?”
দারোগা সাহেব সাদা কাগজে একটা জায়গার নাম লিখলেন। কাগজটা আমার হাতে দিয়ে বললেন, “দেখা করে এসো। জীবনে এমন কিছু অগুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকে, যা সময়ের সাথে সাথে করা খুব গুরুত্বপূর্ণ।”
মুচকি হেঁসে তাকে ধন্যবাদ জানালাম। বাদশা বলল, “চল। দেরি করা ঠিক হবে না।”
রইস উদ্দিন ঝাঁ-ঝাঁ রোদের মধ্যে বসে হাত পায়ে সরিষার তেল মালিশ করছিল। আমাদের দেখে ভীষণ অবাক মুখে উঠে দাঁড়াল। উজ্জ্বল গলায় বলল, “তোমরা এখানে?”
আমি গিয়ে তার কাছে দাঁড়ালাম। স্বাভাবিক স্বরে বললাম, “কেমন আছেন?”
“ভালো ছিলাম না। শরীরের ভেতরে ভালো লাগে না। তবে এখন ভালো আছি। তোমাদের দেখে ভালো লাগছে।”
“সকালে খাওয়া দাওয়া করেছেন?”
“না, খাওয়া হয়নি। ঘরে পান্তা আছে। মরিচ পুড়িয়ে খেয়ে নেব। আমার ঠিকানা কোথায় পেলে?”
“দারোগা সাহেব দিয়েছেন। থানায় গিয়েছিলাম আমরা।”
রইস উদ্দিনের চোখের কোটর পানিতে ভরে উঠল। কোন রকমে কান্না থামিয়ে বলল, “সকালের খাওয়া হলো?”
“না, আমরা এখনও খাইনি।”
“সেকি কথা! দেরি করে খাবার খেলে পিত্তি পড়ে যাবে। এই আশপাশে তো তেমন কোন দোকানও নেই। তোমরা দুজনে আমার এখানেই খাও। পান্তা যা আছে তিন জনের হয়ে যাবে।”
বাদশা আমার মুখের দিয়ে তাকিয়ে মাথা দোলালো। আমি বললাম, “আপনার শরীর ভালো নেই। এত কষ্ট করতে হবে না।”
“কষ্ট কোথায়? তোমাদের সাথে বসে আমিও দু’গাল ভাত খেতে পারব। মানুষেরা একা একা খেতে পারে না। একা খেতে তাদের খুব কষ্ট হয়। একমাত্র পশুরাই একা একা খেতে পারে।”
রইস উদ্দিন চুলায় কাছে চলে গেল। আমরা দু’জনে রোয়াকে বসে রইলাম।
খাবারের আয়োজন ভালো। পান্তা ভাত, ডালের বড়া, আলু ভর্তা, পেঁয়াজ-রসূন দিয়ে আর কী একটা ভর্তা মতো করেছে। ভালো লাগছে খেতে। কয়েক গ্রাস মুখে দিয়ে বললাম, “আপনি খুব ভালো রাঁধেন।”
রইস উদ্দিন লজ্জিত ভঙ্গিতে হাসল। বাদশা বলল, “আমার আপনার সাথে কিছু কথা বলার ছিল।”
“আমার সাথে কথা বলবে? হ্যাঁ বলো। কী কথা?”
“জায়েদা, বয়স আর কত! বারো তেরো বছর হবে। এমন কাউকে দেখেছেন কখনো? তানহার বাবা মেয়েটাকে কোথাও লুকিয়ে রেখেছে। এমনও হতে পারে যে মে’রে ফেলেছে। আপনি কিছু জানেন?”
রইস উদ্দিন মাথা দোলালো। যার অর্থ হ্যাঁ হতে পারে, আবার না-ও হতে পারে। অনেক ভেবেও সে জায়েদার ব্যাপারে কিছু বলতে পারল না। শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়ে ঘরে ফিরলাম।
বাড়ি ফিরে দেখি তানহার মা এবং নানি এসেছে। দু’জনে সোফার উপরে বসে ফিসফিস করছে। দাদি তাদের সামনে মোড়া পেতে বসেছেন। দাদির মুখ গোমড়া, যেন তিনি খুব বিরক্ত হচ্ছেন।
তানহার নানি তার বিরক্তি বুঝতে পারল। দাঁত চিবিয়ে বলল, “কী হলো? কথা বলছেন না যে?”
দাদি বললেন, “আমি আর কী কথা বলব? আপনারা যা বলতে এসেছেন বলেন। তারপর বেরিয়ে যান।”
“এর আগেও এই বাড়িতে এসেছি। তখন তো খুব যত্ন-আত্তি করেছেন। আর আজকে মুখের উপরে বেরিয়ে যাওয়ার কথা বলে দিলেন। সত্যিই সময় মানুষকে অনেক নতুন জিনিস দেখায়।”
“ঠিক বলেছেন। সময় মানুষকে নতুন জিনিস দেখায় সত্যি। আপনাদের ব্যাপারেও তো কত নতুন জিনিস দেখলাম।”
“তা দেখেছেন ভালো। সামনে আরও দেখবেন। এখন কাজের কথা বলি।”
“কী কথা বলবেন?”
“তানহার বিয়ে প্রস্তাব নিয়ে এসেছি। আমার জামাই জে’লে। ঘরে অতো বড় মেয়ে রাখা ঠিক না। গার্জিয়ান নেই। আজকালকার দিন। বুঝতেই তো পারছেন!”
“মেয়েকে ঘরে রাখবেন নাকি বাইরে রাখবেন সে কথা জেনে আমরা কী করব? আমরা আর এইসবের ভেতরে নেই। আমার ছেলের সাথে আপনাদের মেয়ের বিয়ে দেব না।”
“আপনার ওই কাপুরুষ মার্কা ছেলের সাথে আমরা আমাদের মেয়ের বিয়ে দিতেও চাই না।”
“এ কথার মানে কী? মাত্রই তো বললেন মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন।”
“মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব এনেছি আপনার ছেলের সাথে বিয়ে দেওয়ার জন্য না।”
“তাহলে?”
“আপনার এই নাতি। আপনার বড় ছেলের ছেলে। সাজ্জাদ। এই ছেলেটা খুব ভালো। শুনেছি এই বয়সে সৎপথে রোজগার করে মাকে সোনার গহনা গড়িয়ে দিয়েছে। আজ-কাল এমন ছেলে পাওয়াই যায় না।”
দাদি আকাশ থেকে পড়লেন। আমিও পড়লাম। উনারা এসব কী বলছে? তানহার সাথে আমার বিয়ে দিতে চাইছে? কেন?
ফুফু উনাদের কথা শুনে ভীষণ রেগে গেল। তীক্ষ্ণ এবং তীব্র গলায় ঝগড়াঝাটি শুরু করল। আমি এসব ঝামেলার ভেতরে রইলাম না। ঘরে এসে দরজা ভেজিয়ে দিলাম।
তিমু আমার খাটের বসে পা দোলাচ্ছে। সে আমাকে দেখে হাসল। অন্যরকম গলায় বলল, “ছেলে হিসাবে তোমার ডিমান্ড তো আকাশ সমান। সবাই তোমার ভেতরে এমন কী পেল?”
ওর কথার জবাব দিলাম না। বিরক্ত মুখে তাকিয়ে রইলাম।
চলবে
Share On:
TAGS: তোমার হাসিতে, ফারহানা কবীর মানাল
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
তোমার হাসিতে পর্ব ৬
-
তোমার হাসিতে পর্ব ১১
-
তোমার হাসিতে পর্ব ২৩
-
তোমার হাসিতে পর্ব ১২
-
তখনও সন্ধ্যা নামেনি পর্ব ২
-
তোমার হাসিতে পর্ব ১৭
-
তখনও সন্ধ্যা নামেনি পর্ব ১
-
তোমার হাসিতে পর্ব ২১
-
তোমার হাসিতে পর্ব ৫
-
তখনও সন্ধ্যা নামেনি গল্পের লিংক