তোমার_হাসিতে(১৪)
ফারহানাকবীরমানাল
বুকের ভেতরটা কেমন ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। শ্বাস ঢুকছে না। দারোগা সাহেব সামনে হাঁটছেন। তার পেছনে দু’জন কনস্টেবল। কারও মুখে কথা নেই। থানার সামনে গাড়ি দাঁড়ানো। লম্বা শ্বাস টেনে হাঁটতে শুরু করলাম। বাদশা ছেলেটা সাদাসিধে। অহেতুক কথা বলার অভ্যাস নেই। কখনো কারো সাথে সামান্য মনমালিন্য পর্যন্ত হয় না।
গাড়ির দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লাম। পা আর এগোচ্ছে না। দারোগা সাহেব ভ্রু কুঁচকে আমার দিকে তাকালেন। বিরক্ত গলায় বললেন, “দ্রুত এসো৷ সময় নষ্ট করো না।”
গাড়ির দরজা খুলে গেল। শীতের সকালে রোদের তীব্রতা নেই। ঠান্ডা পরিবেশ। বাতাসের ঝাপটায় শরীরে কাঁপুনি ধরে যায়।
নদীর পাড় পর্যন্ত পৌঁছাতে খুব বেশি সময় লাগল না। গাড়ি বেশ দ্রুত চলেছে৷ কনস্টেবল দু’জন আগে আগে চলে গেল। দারোগা সাহেব নাকে রুমাল গুঁজে লা’শের কাছে গেলেন। আমিও তার পেছনে গেলাম।
অল্প বয়সী এক ছেলের লা’শ মাটিয়ে শুইয়ে রাখা হয়েছে। পরনে কালো হুডি। চেহারা বিকৃত হয়নি।
দারোগা সাহেব বললেন, “বাদশা?”
মাথা দুলিয়ে না বললাম। বাদশার সাথে এই ছেলের চেহারায় কোন মিল নেই। তবে তার পরনের হুডিটা আমার পরিচিত। বাদশার হুডি। গতবছর হঠাৎই একদিন সে আমার কাছে এলো। উত্তেজিত গলায় বলল, “আমার একট কাজ করে দিতে পারবি?”
আমি তখন বিছানায় শুয়ে বাদাম চিবচ্ছি। সে আমার হাত থেকে বাদামের ঠোঙা কেঁড়ে নিলো। বিরক্ত সুরে বলল, “আমার কথা শুনেছিস?”
“শুনেছি। দাঁত আর জিহ্বার কাজ চলছে। কান খোলা। বলতে থাক।”
“একটা সোয়েটার কিনব। আমার সাথে যেতে হবে।”
“সে গেলাম। কোথা থেকে কিনবি?”
“অনলাইন থেকে কিনব।”
“অনলাইনে কিনলে আমাকে যেতে হবে কেন?”
“উফফ! বড় ভাইয়ের ব্যবসা। তার কাছে গিয়ে অর্ডার করব।”
সেই মুহূর্তে তার সাথে যেতে হলো। গিয়ে কী মুশকিল! ছেলের কোন ডিজাইন পছন্দ হয় না। শেষ পর্যন্ত নিজে কিসব আঁকিবুঁকি করে দিয়ে বলল– এই রকম করে বানিয়ে দিবেন।
বড় ভাই হাসলেন। হাসতে হাসতে বললেন, “বাদশার হাত খুব ভালো। ভালো ডিজাইন। আমারও পছন্দ হয়েছে। অর্ডার করব একটা?”
বাদশা গম্ভীর গলায় না বলল। বড় ভাই বললেন, “আচ্ছা করব না।”
হঠাৎই ভীষণ রকমের খারাপ লাগছে। মনের মধ্যে খচখচ করছে। হুডি চিনতে আমার কোন ভুল হয়নি। কিন্তু বাদশার হুডি এই ছেলের কাছে এলো কীভাবে? চু’রি করেছে নাকি অন্য কোন ব্যাপার? কিছুই বুঝতে পারলাম না। দারোগা সাহেবের দিকে মুখ ঘুরিয়ে বললাম, “ছেলেটা কে?”
দারোগা সাহেব বললেন, “এখনও কোন পরিচয় পাওয়া যায়নি। খোঁজ চলবে। পেলে ভালো, না পেলে বেওয়ারিশ লা’শ হিসাবে পড়ে থাকবে।”
“খোঁজ শুরু করবেন না?”
“বেশি হলে সংবাদমাধ্যমে যাবে। এর বাইরের কাজকর্মগুলো সবাইকে বলা হয় না।”
“আচ্ছা। তাহলে আমি এখন যাই।”
দারোগা সাহেব ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেললেন।
দেরি করে কাজে এলাম সেজন্য তেমন কোন কথা শুনতে হলো না। রঘু বলল, “এত দেরি হলো?”
“একটা কাজে আটকে গিয়েছিলাম। অনেক দুঃখিত।”
“সমস্যা নেই। এতক্ষণ আমি তোমার হয়ে কাজ করে দিয়েছি। ট্রিট দিয়ে দিও।”
“জ্বি নিশ্চয়ই।”
“কাল বললে না কোন একটা হোটেলে ভাত খেয়েছ। আজ আমায় সাথে নিয়ে চলো। ভালো-মন্দ খেয়ে আসব।”
“ঠিক আছে।”
কাজ করতে বসলাম। দুপুর পর্যন্ত কারো সাথে কোন কথা হলো না৷ দুপুরে খাওয়ার ব্রেক পড়তে রঘু এলো। পান খাওয়া লালচে দাঁত বের করে বলল, “হবে নাকি?”
“জ্বি চলুন।”
রইস উদ্দিন রঘুকে দেখে খানিকটা বিব্রত হলো। বিরস মুখে বলল, “এই লোকটা?
“আমার সাথে এসেছে। আপনার রান্নার প্রশংসা শুনেই এলো। আজকের মেনুতে কী কী আছে?”
“কিছু নেই।”
“কিছু নেই বলতে?”
“রান্না হয়নি। শরীর ভালো নেই।”
রইস উদ্দিন কাশতে শুরু করল। রঘু বলল, “তাহলে আর কী করার! চলো যাই।”
বেরিয়ে এলাম। রাস্তা পর্যন্ত আসতে হঠাৎই অদ্ভুত ব্যাপার মাথায় খেললো। রইস উদ্দিনের জুলপির কাছে কয়েকটা চুল সাদা ছিল। আজ সেটা চোখে পড়েনি৷ মনের কৌতূহল মেটাতে আবারও তার কাছে গেলাম। রইস উদ্দিন খুকখুক কাশি উপেক্ষা করে শক্ত গলায় বলল, “কি হয়েছে? সাহেব এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন?”
“তেমন কিছু না। এমনি।”
“জুলপির সাদা চুলগুলোর দেখতে এসেছেন? ওগুলো নেই৷ কলপ করে ফেলেছি।”
বিব্রত মুখে এদিক ওদিক তাকাতে লাগলাম। কী বলব বুঝতে পারলাম না। রইস উদ্দিন বলল, “ভাত নেই। চিঁড়ে মুড়ি আছে। খাবেন সাহেব? নারকেল গুড় দিয়ে মাখিয়ে দেব।”
“না, কষ্ট করতে হবে না। আপনি বিশ্রাম করুন।”
রইস উদ্দিন মাথা দোলাতে দোলাতে পানের বাটা হাতে নিলো। ভালো মন্দ কিছু বলল না।
রঘু আমার চেয়ারে বসে পা দোলাচ্ছে। হাতে বিরিয়ানির প্যাকেট। আমাকে দেখেই হাসল। আন্তরিক গলায় বলল, “বাজারে গিয়েছিলাম। তোমার জন্য নিয়ে এলাম।”
“আপনি এত কষ্ট করলেন কেন?”
“তেমন কিছু না। এমনিতেই নিয়ে এলাম। সমস্যার কিছু নেই। নতুন মেহমান। একদিনের যত্ন করতে আর কী।”
টাকা কথার কীভাবে তুলব বুঝতে পারলাম না। রঘু নিজেই বলল, “টাকাপয়সা নিয়ে চিন্তা করো না। বড় স্যার দিয়ে দিবে বলেছে।”
আমি তার দিকে তাকিয়ে হাসলাম। খিদে পেয়েছে। প্রচন্ড খিদেয় মানুষের মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দেয়। আমার বেলায়ও তেমনই হলো। হাত-মুখ ধুয়ে খেতে বসে গেলাম। বিরিয়ানির স্বাদ ভালো। খাওয়া শেষে মিষ্টি পান খেলাম।
শীতের বেলায় রোদের মধ্যে বসে পান চিবানো মজাই অন্যরকম। ঘন্টা খানেক স্বাভাবিক ভাবে কাটল। তারপর হঠাৎই মাথা ঝিমঝিম করতে শুরু করল। কখন ঘুমিয়ে গেলাম হুঁশ করতে পারলাম না।
চোখ খুলল বন্ধ ঘরে। বরফ শীতল মেঝেতে হাত-পা ছড়িয়ে পড়ে আছি। হুড়মুড়িয়ে উঠে বসলাম। অন্ধকার ঘর। পকেট হাতড়ে দেখলাম মোবাইল, টাকাপয়সা সব ঠিক আছে। তাহলে? তাহলে আমাকে এখানে কে নিয়ে এলো?
ফোনের ফ্লাশ লাইট জ্বালিয়ে এদিক ওদিক দেখতেই একটা খাম চোখে পড়ল। হলুদ রঙের খাম। খাম খুলতেই চমকে উঠলাম। বেশ কয়েকটা চিরকুট। গোটা গোটা অক্ষরে বাংলা ভাষায় অনেক কিছু লেখা। না পড়লেও হাতের লেখা চিনলাম। বাদশা লিখেছে। সবকিছু কেমন গুলিয়ে গেল। কোন কিছুর কূলকিনারা পেলাম না।
তবে এখন এসব ভাবার সময় নেই। আমাকে এই জায়গা থেকে বের হতে হবে। বেরোনোর রাস্তা খুঁজে পেতে তেমন কোন সমস্যা হলো না। দরজা ভেজানো ছিল। হেঁচকা টানে খুলে গেল।
জায়গাটা আমার পরিচিত না। পরিত্যক্ত স্কুল হতে পারে। রাতের আঁধারে খুব বেশি বোঝা গেল না। ফোনে লোকেশন দেখা যাচ্ছিল বিধায় বাড়িতে ফিরতে পারলাম।
বাড়ি ফিরে গা ধুয়ে ফেললাম। বেশ সময় নিয়ে সাবান ঘষে ঘসে গা ধুলাম। বাথরুম থেকে বের হতেই তিমু এলো। আমি ওর দিকে তাকিয়ে খুব সহজ গলায় বললাম, “তোর সাথে কিছু কথা আছে।”
তিমু শান্ত ভঙ্গিতে খাটের উপর বসল। নিচু গলায় বলল, “কী কথা?”
ওকে সবটা খুলে বললাম। চিরকুটগুলো ওর হাতে দিয়ে বললাম, “এগুলো পেয়েছি।”
তিমু চিরকুট পড়তে আরম্ভ করল।
প্রথম চিরকুট–
মাইশার চোখে নদীর মতো কান্না জমেছে।
হারানো এক গহনার জন্য তার জীবনের চৌকাঠে ভাঙন ধরেছে। স্বামী সংসার সবকিছু হারিয়ে পথে বসার রাস্তায় হাঁটছে সে। মেয়েটা এতিম। তিন কূলে কেউ নেই। কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। পড়াশোনাও খুব একটা শেখেনি। জীবনের অনিশ্চয়তা সম্পূর্ণরূপে ঘিরে ধরছে তাকে। কোথাও কোন রাস্তা নেই।
নাইমা, এক তরুণী ছাত্রী। এগিয়ে এসে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়।
সে জানে না– এই অনুসন্ধান শুধু একটা হার নয়,
এই যাত্রা তাকে ছুঁয়ে দেবে জীবনের গভীরতম প্রশ্নে–
কে অ’প’রা’ধী? কে নির্দোষ?
ভালোবাসা কী কখনো প্রমাণ চায়? নাকি শুধু প্রমাণ করে?
সবকিছুর পরেও কী সম্পর্ক টিকে থাকতে পারে?
মাইশা জীবন গল্পের শেষ পাতা কী তার জানা হবে? নাকি সে-ও অন্যের জীবন স্রোতে ভাসতে গিয়ে নিজের জীবন হারাবে?
দ্বিতীয় চিরকুট–
পরপর চার মেয়ের জন্মের পর তারা ছেলে আশা ছেড়ে দিয়েছিল। শেষে বয়সে তার মা অনুরোধ করে বসলেন– বংশের প্রদীপের মুখ দেখবেন। রাত দিন দোয়া কালাম পড়ে ছেলে বউয়ের জন্য দোয়া করতে লাগলেন। যেন এটাই তার জীবনের শেষ ইচ্ছে। সপ্তাহে পাঁচদিন রোজা রাখতে শুরু করলেন, নিয়মিত তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তেন। জিকির-আজগার, দোয়া কালাম কিছুই বাদ গেল না। ম’রার আগে ছেলের পুত্রসন্তান দেখে যাবেন। যেতেই হবে। দরকার হলে শহরের পাঠিয়ে চিকিৎসা নিতে বলবেন।
আমেনা বিবির বয়স কম না। পঞ্চাশের কাছাকাছি। এই বয়সে সন্তান প্রায় অসম্ভব। শাশুড়ির কথায় তিনি চুপ করে তাকিয়ে থাকেন। কী বলবেন বুঝতে উঠতে পারেন না। গাঁয়ে গঞ্জে ছেলে সন্তানের জন্য দ্বিতীয় বিয়ে কোন ব্যাপার না। ভাত মাছের মত স্বাভাবিক। এই বয়সে ঘরে সতিন তোলার সাহস তার নেই। তিনি ভয়ে কুঁকড়ে থাকেন।
শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তার কথা শুনল। সেদিন ভরদুপুরে আমেনা বিবি হঠাৎই মাথা ঘুরে পড়ে গেলেন। সুস্থ মানুষ। খানিকক্ষণ আগেও রাজ্যের কাজ করেছেন। হানিফ সাহেব চিন্তিত মুখে কবিরাজের বাড়িতে ছুটলেন। গাঁয়ের লোকে তাকে মনাই ডাক্তার নামে চেনে। মনোয়ার নাম ছোট করে মনাই। সকলে তাই বলে ডাকে।
মনাই ডাক্তার সবে গামছা কাঁধে পুকুরে নামছিলেন। হাতে মোড়ক খোলা নতুন সাবান। আয়েশ করে গা ঘষবেন বলে শহরে থেকে কিনে এনেছেন। হানিফ সাহেবের হালহকিকত দেখে তিনিও আর দেরি করলেন না। তড়িঘড়ি পুকুরে নামলেন। ঝুপুত ঝুপুত করে দুটো ডুব দিয়ে কোমরে লুঙ্গি পেঁচিয়ে হাঁটা ধরলেন। কোন দিকে খেয়াল দিতে পারলেন না। চিকিৎসার ঝোলা নিলেন এ-ই বেশি। নতুন মোড়ক খোলা সাবানখানা পুকুর পাড়ে পড়ে রইল। নতুন সাবান৷ গায়ে দাঁড় কাকের অভাব নেই। মুখে বাঁধিয়ে নিয়ে গেলে আঠারো টাকা শেষ। অভাবের সংসারে আঠারো টাকা সোনার চেয়ে কম কিছু নয়। মনাই ডাক্তার সারাটা পথ সাবানের চিন্তায় অস্থির হয়ে রইলেন। খানিক বাদে বাদে বিড়বিড়িয়ে বললেন, “মরনের কাক না আসলে হয়। মরনের কাক না আসলে হয়।”
আমেনা বিবির জ্ঞান ফিরেছে। বিছানায় শুয়ে চোখ পিটপিট করছেন৷ মনাই ডাক্তার সালাম দিয়ে ঘরের ভেতরে ঢুকলেন। আমেনা বিবি লম্বা ঘোমটা টেনে পাশ ফিরলেন। মনাই ডাক্তার বললেন, “মায়ের লক্ষণ কেমন? বমি-টমি পায় নাকি?”
তিনি মাথা দোলালেন। ডাক্তার সাহেব সময় নিয়ে সব কথা শুনলেন। বেরিয়ে যাওয়ার সময় হানিফ সাহেবের কাঁধে হাত রেখে চওড়া হাসলেন। ফিসফিসিয়ে বললেন, “শেষ বয়সে ছক্কা মেরে দিয়েছ। তোমার বিবির কাছে গোপন কথা জিজ্ঞেস করো। সংসারে নতুন মেহমান আসতে চলেছে।”
হানিফ সাহেব সেই সময়ে মিষ্টি কিনতে বাজারে ছুটতে হলো। ফাতেমা বানু দুই কেজি রসগোল্লা মানত করেছেন। বউয়ের খবর শুনলেই গাঁয়ের বাচ্চাগুলোকে মিষ্টিমুখ করাবেন। মানত পালনে দেরি করতে নেই। হানিফ সাহেব বেরিয়ে যাওয়ার পরপরই তিনি আমেনা বিবির মাথার কাছে গিয়ে বসলেন। অসম্ভব কোমল গলায় বললেন, “ছোটাছুটি, কাজকাম একটু করবা না বউ মা। একটু রয়ে সয়ে চলবা। তোমার বয়স হইছে। হুটোপুটি করলে বাচ্চার ক্ষতি হইবো।”
আমেনা বিবি ভীষণ অবাক। যেন কোন কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছেন না। এই বয়সে মা হওয়া যায়? কত বয়স তার? বড় মেয়ের বয়স পঁচিশ পেরিয়ে গেছে। বিয়েও দিয়েছেন। ক’দিন বাদে নাতিপুতি হবে৷ তিনি আর ভাবতে পারলেন না। ফট করে শাশুড়ির হাত চেপে ধরলেন। মিনমিনে গলায় বললেন, “এই বয়সে বাচ্চাকাচ্চা হলে লোকে কী বলবে মা?”
“লোকের কথা তোমায় কে শুনতে বলছে বাপু? তুমি ঘরে মরে পড়ে থাকলে লোকে তোমায় দেখতে আসবে? নাকি মুখে তুলে খাইয়ে দেবে? একটা ছেলে লাগে। ক’ব’রে মাটি দেওয়ার জন্য হলেও একটা ছেলে লাগে। আল্লাহ তোমাদের দিকে মুখ তুলে চেয়েছে, তার কাছে শুকরিয়া আদায় করো।”
ফাতেমা বানু ধরেই নিয়েছিলেন ছেলে হবে। তিনি সেভাবেই বউয়ের যত্ন-আত্তি শুরু করলেন। কাজের ধারে ঘেঁষতে দিতেন না৷ নিয়ম করে ডিম দুধ খাওয়াতে শুরু করলেন। কাঁচা বাদাম ভিজিয়ে খাওয়াতেন। সে কী যত্ন! আপন মা-ও এমন করে যত্ন করে কি-না সন্দেহ। বড় দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছিল। মায়ের কাজকর্ম করতে মাঝেমধ্যেই তাদের ডাক পড়ত। ছোট দু’জনের তো কোন কথাই নেই। ভাতের মাড় গলানো থেকে শুরু করে উঠান ঝাঁট দেওয়া সব কাজ করতে হতো। ফাতেমা বানু হুকুম সুরে তাদের দিয়ে কাজ আদায় করে নিতেন। নিজেও করতেন। আমেনা বিবি সারাদিন শুয়ে বসে থাকেন। যেন তিনি কোন সাধারণ মানুষ নয়। রানী মহারানীদের কেউ একজন। যারা মাটিতে পা ফেলে না, পানি গড়িয়ে খায় না। মুখ ফুটে বলার আগে সবকিছু হাজির হয়ে যায়। আমেনা বিবিও তেমন আদরে ছিলেন।
মাগরিবের নামাজের পর ফাতেমা বিবি তার ঘরে আসতেন। আমেনা বিবির পায়ে সরিষার তেল মালিশ করে দিতেন। চুলে নারকেলের তেল লাগিয়ে দিতেন। দোয়া কালাম পড়ে মাথায় ফু দিয়ে দিতেন। আমেনা বিবি গোটা সময়টাতে পাথরের মূর্তির মত হয়ে যেত। শাশুড়ি পায়ে হাত দিয়ে তেল মালিশ করে দিচ্ছে। এমন দৃশ্য কোন জন্মে কেউ দেখেছে কি-না সন্দেহ! এই সময়টাতে তার মনের ভয়টা আরও কামড় দিয়ে বসত। তিনি বেশ ভালোই বুঝতেন এসব আদর যত্ন তার জন্য নয়। তার অনাগত সন্তানের জন্য। যে কি-না ছেলে হবে। তাকে ছেলে হতেই হবে। কিন্তু যদি না হয়? কী হবে? এই ক’দিন আগে তাদের গাঁয়ে একটা তা’লা’ক হলো। মজিদের বউয়ের ছেলে হয়নি। এই কারণেই তা’লা’ক হয়ে গেল। কথাটা ভাবতেই আমেনা বিবি কেঁপে উঠতেন। তার গলা শুঁকিয়ে যেত। বুক ধড়ফড় করত। কেমন কেমন লাগত যেন। নিঃশ্বাস নিতে পারতেন না।
শেষ পর্যন্ত তার ভয়ই সত্যি হলো। বর্ষায় তোড়ে তখন ঘর ভাঙার দশা। চারদিকে পানি। হু হু করে পানি বাড়ছে। অবস্থা খারাপ। দুই গ্রাম পরে নদীর বাঁধ ভেঙে গেছে। সেই পানি এই পর্যন্ত চলে এসেছে। ঘর থেকে বের হওয়া যায় না। এমন সময়ে বর্ষার জন্ম হয়। ফাতেমা বানু আতুড়ঘরে বসে ছিলেন। খানিকক্ষণ বাদে বাদে জিজ্ঞেস করছিলেন– নাতি হলো? নাতি হয়েছে?
সেদিন নাতি হয়নি। বর্ষার জন্ম হয়ে ছিল৷ বাইরে ঝড় পরিবেশের চেয়ে ঘরের পরিবেশ বেশি থমথমে। ফাতেমা বানু খানিকক্ষণ গম্ভীর ভঙ্গিতে বসে রইলেন। তার চোখ-মুখ শান্ত। ঝড়ের আগে পরিবেশ যেমন শান্ত থাকে তেমনই শান্ত। ঘন্টা খানেক ওভাবেই বসে রইলেন।
দুই মেয়ের বিয়ে দেওয়ার পরে সন্তান জন্ম দেওয়া মহিলাকে নিয়ে কথার শেষ থাকে না। অজপাড়া গাঁয়ে হলে তো কোন কথাই নেই। আমেনা বিবি নিয়ে চর্চার শেষ রইল না। মহিলারা দল বেঁধে তাকে দেখতে আসে। পান তামাক খায়। টকটকে লাল পিক ফেলতে ফেলতে বলে, “ছেলের আশায় পাঁচ পাঁচটা মেয়ে। বুড়ো বয়সে এসেও তো দান মারতে পারলে না গো। সেই মেয়েই তো হলো। তা মেয়ের কী নাম রেখেছ?”
আমেনা বিবি কথা বলতে পারেন না। চুপ করে থাকেন। বৃষ্টির বাদলার ঠান্ডা বাতাস তার শরীরের হিম ধরিয়ে দেয়।
তৃতীয় চিরকুট–
আচ্ছা! ছোট গল্প কেমন হয়? কখনো এক লাইনের ছোট একটা নিঃশ্বাস, কখনো কয়েক প্যারার গভীর নীরবতা। এগুলোও ঠিক তেমন। এখানে বড় কোনো চমক নেই। রু’দ্ধ’শ্বা’স নিস্তব্ধতা নেই। শুধু চুপচাপ মনে বসে থাকতে চাওয়ার আকুলতা আছে। হারিয়ে যাওয়া কথা আছে। না বলা ভালোবাসা আছে।
রাত জেগে থাকা নিঃসঙ্গ মানুষ, দিনের আলোয় লুকানো ক্লান্ত আছে।
একেকটা গল্প খুব দ্রুত শেষ হবে তবে তার রেশ থেকে যাবে অনেকক্ষণ। মনের কোণে ছোট্ট একটা জায়গায়। জায়গাটা ভালোবাসা! প্রশান্তির!
চতুর্থ চিরকুট–
আমার বিয়ে হয়েছিল বড় ঘরে। শ্বশুর বেশ ধনী মানুষ। স্বামী আর্কিটেক্ট। সুশ্রী রূপ থাকায় সুবিধা যা হওয়ার এতটুকুই। বিয়ে পর্যন্ত। বাসররাতে আহামরি তেমন কিছু হয়নি। স্বামী সাহেব খুব সহজ গলায় বললেন, “এসব শাড়ি গহনা পরে থাকতে অসুবিধা হলে চেঞ্জ করে ফেলো। বাথরুম ওদিকে।”
ব্যাগ থেকে কাপড় বের করে নিয়ে বাথরুমে ঢুকলাম। আমার আগের কাপড়গুলোর মধ্যে তুলনামূলক একটু ভালো দেখে দু’টো থ্রি-পিস সাথে নিয়ে এসেছিলাম। তার থেকে একটা পরলাম। মুখহাত ধুয়ে বাইরে এসে দেখি ফাহিম খাটে বসে ল্যাপটপে কাজ করছেন। আমাকে দেখে সহজ গলায় বললেন, “বিয়েতে খুব ঝামেলা। সারাদিন অনেক ধকল গেছে। শুয়ে পড়ো। আমার কিছু কাজ আছে। কাজ শেষ করে ঘুমাব।”
কথাগুলো বলে তিনি বেলকনিতে চলে গেলেন। কি করব বুঝতে পারছিলাম না। চুপচাপ খাটের ওপর বসলাম। ওভাবেই রাত কেটে গেল। ফাহিম ঘরে আসলেন না। সকালে বললেন, “কাল রাতে কাজ করতে করতে চোখ লেগে গেছিল।”
তার কথায় কৈফিয়ত দেওয়ার ব্যাপার ছিল না। না ছিল কোন আবেগ অনুভূতি। যেন তার বলতে ইচ্ছে করেছে তাই বলেছেন। সেদিন দুুপুরে খাওয়ার পরই ফাহিম বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। শাশুড়ি মা বলেছিলেন– অফিসের কাজে বাইরে গেছে। খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসবে।
ফাহিম চলে যাবার পর আমার সাথে কোন ধরনের যোগাযোগ করেননি। কানাঘুঁষায় শুনেছি বিয়েতে তার মত ছিল না। বাপের জোরাজুরিতে বিয়ে করতে রাজি হয়েছে। এসব শুনে কষ্ট পেলেও প্রকাশ করিনি। তার মতো সুদর্শন যুবক আমার মতো একটা সাধারণ মেয়েকে কেন পছন্দ করবে! কি আছে আমার? কিছুই নেই! বাবা-মায়ের পরিচয় জানি না। এতিমখানায় বড় হয়েছি। সেভাবে পড়াশোনা করা হয়নি। কোন রকমে দাখিল পরীক্ষা দিয়েছিলাম। পাশ করতে পারিনি। এমন একটা মেয়েকে কেউ কেন পছন্দ করবে?
বউভাত উপলক্ষে আজ সকাল থেকে বাড়িতে বেশ অনেক লোক এসেছে। তাদের কেউ নিয়ে গেছে কি-না তা-ও ঠিক বুঝতে পারছি না। অনুষ্ঠানের সময় হারটা আমায় গলায় ছিল। খেতে বসার আগে চাচি শাশুড়ি বললেন, “এসব জিনিসপত্র পরে খেতে অসুবিধা হবে। তুমি বরং ফ্রেশ হয়ে নাও। ভালোমতো খেতে পারবে।”
সত্যিই মোটা জামদানী শাড়ি আর গহনার ভারে অস্বস্তি লাগছিল। তাই ঘরে গিয়ে কাপড় বদলে নিলাম। হারটা খুব সাবধানে আলমারিতে তুলে রাখলাম। খাওয়া-দাওয়ার পর্ব শেষে সবাই যার যার মতো করে বাড়ি চলে গেল। কোলাহল স্তিমিত হয়ে আসতেই শাশুড়ি মা আমায় ডেকে নিয়ে হার ফেরত চাইলেন। ফেরত দিতে গিয়ে দেখি হার নেই। সারা আলমারি, ঘর তন্নতন্ন করে খুঁজেও কোথাও হারের দেখা পেলাম না। শাশুড়ি মা তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন। বাড়ি মাথায় তুলে বললেন– এমন অলক্ষী মেয়েকে তিনি ঘরের বউ করে রাখবেন না। আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে বাড়ির কেউ তার কথার কোন প্রতিবাদ করল না। ফাহিমও কিছু বললেন না। চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলেন।
এতটুকু লেখার পর সে থামল। মোমবাতি নিভিয়ে ডাইরি বন্ধ করল। কোমল ভঙ্গিতে চোখের পানি মুছে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। অস্পষ্ট গলায় বলল, “এরপর কি হবে? তালাক হবার পর কোথায় যাব? এতিমখানায় ফেরত গেলে ওরা কি আমায় থাকতে দেবে? হারখানা খুঁজে পেলে হয়তো নিজের সম্মান বিসর্জন দিয়ে এ বাড়িতে পড়ে থাকা যেত। কিন্তু কোথাও খুঁজে পেলাম না।”
রাত প্রায় শেষ। আবছা আলো ফুটতে শুরু করেছে। অন্ধকার মিলিয়ে যাচ্ছে। সে উঠে দাঁড়াল। ফাল্গুন মাস প্রায় শেষের দিকে। গরমের ভাপ পড়ে গেছে। বেলকনিতে প্রচুর বাতাস। শীতল কোমল দক্ষিণা বাতাস। বাতাসের ঝাপটা গায়ে লাগতেই শরীর জুড়িয়ে যায়। সে চোখ বন্ধ করে নিজের অন্ধকার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করতে লাগল।
পৃথিবীর বুকে নতুন দিনের সূচনা হচ্ছে। অথচ তার জীবন ডুবে গেছে নিষক কালো আঁধারে। অনিশ্চয়তার জাল থেকে আদো কি কখনো মুক্তি মিলবে? মাইশার জীবন কি কখনো সুখের হবে?
পঞ্চম চিরকুট–
নাইমা আজ-কাল ঘুমুতে পারছে না। মাঝরাতে ঘর্মাক্ত শরীর নিয়ে জেগে উঠছে। তার শরীর ঘেমে যাবার মূল কারণ তীব্র ভয়। জেগে ওঠার পর কয়েক মিনিট তার বুক ধড়ফড় করে। নিঃশ্বাস ঘন হয়ে যায়। তারপরই আবার সব ঠিক। এ ঘটনা একদম নতুন। কয়েকদিন আগে আরম্ভ হয়েছে। সেদিন পড়ার ফাঁকে হুট করে সুমনা তার ভাবীর গহনা হারিয়ে যাবার কথাটা তুলল। বলল– ফাহিম ভাইয়ের বউটার পরিস্থিতি বেশি ভালো না। সারাটা দিন কাঁদে। বড় কাকি বলেছে অমন বউ ঘরে রাখবে না। ভাইয়ের সাথে তা’লা’ক করিয়ে দেবে।
নাইমা অংক কষা বাদ দিয়ে তার কথা শুনেছে। বিস্মিত গলায় বলেছে, ‘তোর ভাই কিছু বলেনি। বউকে তালাক দিতে রাজি হয়ে গেছে?’
সুমনা তার কথার জবাবে একটা ছোট্ট নিঃশ্বাস ফেলে বলেছে, ‘ফাহিম ভাই বরাবরই তার মায়ের কথা শুনে চলে। মা নেওটা ছেলে যাকে বলে আরকি! তবে সে এ ব্যাপারে কোন কথা বলছে না। ভাবী কিছু জিজ্ঞেস করলেও জবাব দিচ্ছে না।’
এতটুকু শুনে তার শান্তি হয়নি। সে সুমনাকে নানান প্রশ্ন করেছে। জবাব দিতে সুমনার গলার স্বর ভারী হয়ে এসেছে। কন্ঠে মলিনতার স্পর্শ লাগিয়ে বলেছে, ‘কিছুই বলতে পারছি না। ভাবীর তিন কূলে কেউ নেই। এতিমখানায় মানুষ হয়েছে। খুব বেশি পড়াশোনাও জানে না। বড় কাকি বাড়িতে পুলিশ ঢুকতে দিবে না। হার খোঁজার ব্যাপারেও মাথা ব্যাথা নেই। শুধু ভাসবীকে তাড়িয়ে দিতে চাইছে। ভাবীর কি হবে জানি না। বোধহয় ভাইয়ের সাথে সংসার করতে পারবে না। তবে ওই হারটা খুঁজে পেলে হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে।’
নাইমা ব্যাপারটা এড়িয়ে যেতে পারেনি। আগ বাড়িয়ে হার খোঁজার দায়িত্ব মাথায় তুলে নিয়েছে। মাইশা জীবনের প্রবাহ দেখতে সে ভীষণ আগ্রহী। কি হবে শেষ পর্যন্ত? নাইমা কী হার খুঁজে দিতে পারবে? কে ছিল দোষী? শেষ পর্যন্ত মাইশার সংসার হয়েছিল? ফাহিম কী কখনো তাকে ভালোবেসেছে? নাকি সবকিছুই বাতাসে সাথে মিশে হারিয়ে গিয়েছে?
ষষ্ঠ চিরকুট–
এই গোলকধাঁধা থেকে বের হওয়া অসম্ভব। তুমি পারবে না। কেউই পারবে না। অন্ধকারে ডুবে থাকবে সবকিছু।
তিমু ক্লান্তির নিঃশ্বাস ফেলে আমার দিকে তাকালো। হতাশ গলায় বলল, “চিরকুটে এসব কী লেখা?”
আমি দুহাতে নিজের মাথার চুল খামছে ধরলাম। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম, “গল্পের ফ্ল্যাপ মনে হচ্ছে।”
“কিন্তু এসব কেন?”
“বুঝতে পারছি না।”
“বাদশা ভাই গল্পের ফ্ল্যাপ পাঠাবে কেন? তা-ও এইভাবে। আর তুমি ওইখানে পৌঁছালে কী করে?”
“কিছু মনে করতে পারছি না। কিছু বুঝতেও পারছি না।”
তিমু খুব ভালো করে চিরকুটগুলো পড়ল। তীক্ষ্ণ গলায় বলল, “এই চিরকুটগুলোর মধ্যে একটা মিল আছে।”
“কী মিল আছে?”
সে তিনটে চিরকুট আলাদা করল। টেবিলের উপর থেকে পেন্সিল এনে কয়েকটা লাইন মার্ক করে বলল, “এই দেখো। এগুলো একটা গল্পের।”
“কিন্তু এতে কী বোঝায়?”
“কিছু তো বোঝায়। কিছু না বোঝালে এইভাবে এই চিরকুট পাওয়ার কোন মানে নেই। কেউ ইচ্ছে করে তোমাকে এই চিরকুটগুলো দিয়েছে। নিজের পরিচয় লুকাতে অচেতন করেছে বা অচেতন হওয়ার সুযোগ নিয়েছে।”
“লা’শের গায়ে বাদশার হুডি, তার হাতে লেখা চিরকুট। এসবের মানে কী হতে পারে?”
তিমু নক কামড়ে ধরলো। খানিকক্ষণ চিন্তা করে বলল, “হতে পারে বাদশা ভাই বিপদে আছে। সে তোমার সাহায্য চাইছে। কিন্তু সামনে আসতে পারছে না।”
“কিছু বুঝতে পারছি না। খড়ের গাদায় সুচ খোঁজার মত মনে হচ্ছে।”
“যা-ই মনে হোক না কেন। সুচ খুঁজতে হবে।”
আমি তিমুর দিকে তাকালাম। মেয়েটার চোখ জ্বলছে। উত্তেজনায় অল্প অল্প কাঁপছে।
চলবে
(দশ থেকে বিশ মিনিট কাজ করেই দু’টো ইবুক অথবা আশি টাকা রোজগার করতে চান? তাহলে কমেন্ট বক্সে দেওয়া লিংকে ক্লিক করে পোস্ট পড়ে নিন। অথবা নিচের পোস্ট দেখে নিতে পারেন)
Share On:
TAGS: তোমার হাসিতে, ফারহানা কবীর মানাল
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
তখনও সন্ধ্যা নামেনি পর্ব ১
-
তোমার হাসিতে পর্ব ৫
-
তোমার হাসিতে পর্ব ৭
-
তোমার হাসিতে পর্ব ৯
-
তোমার হাসিতে পর্ব ১০
-
তখনও সন্ধ্যা নামেনি পর্ব ৩
-
তোমার হাসিতে পর্ব ১৩
-
তখনও সন্ধ্যা নামেনি গল্পের লিংক
-
তোমার হাসিতে পর্ব ২
-
তোমার হাসিতে গল্পের লিংক