Golpo romantic golpo তোমাতেই আসক্ত তোমাতেই আসক্ত সিজন ২

তোমাতেই আসক্ত ২ পর্ব ৫


তোমাতেই_আসক্ত ২

পর্ব:৫

তানিশা সুলতানা

ডাক্তারের চেম্বারে বসে আছে আদ্রিতা। লম্বা মতোন ফর্সা একটা ছেলে ডাক্তারের চেয়ারে বসে আছে। গায়ে সাদা রংয়ের শার্ট। চোখে চশমা পড়েছে, আর হাতে ইনজেকশন।
এটাই কিছু মুহুর্ত আগে পুশ করা হয়েছে আদ্রিতার হাতের কবজিতে।
ইতিমধ্যেই পায়ে ব্যান্ডেজ করা হয়ে গিয়েছে। খুব বেশি আঘাতপ্রাপ্ত হয় নি। ওই একটু মোচকে গিয়েছে। দুই তিন দিন বেড রেস্ট এ থাকলেই ঠিক হয়ে যাবে। তবুও আবরারের কথায় ব্যান্ডেজ করা হয়েছে।
এই বিচ্ছু স্থির থাকবে না। বেড রেস্ট তো দূরের কথা। হাঁটাচলা করতে থাকবে। তারপর আবার ঝামেলা। রিক্স নিতে একদম ইচ্ছুক না আবরার তাসনিন। যার ফলে আদ্রিতার সুন্দর পা খানা সাদা ব্যান্ডেজে মোড়ানো।
এটার জন্যও প্রচন্ড বিরক্ত মেয়েটা। বিরবির করে অনবরত বকে চলেছে ওই গম্ভীর মুখো হাতিকে। এখন আবার ডাক্তারকে বকা দিতে ইচ্ছে করছে।

“অটো পাশ করে ডাক্তার হয়েছেন?

আদ্রিতা গালে হাত দিয়ে ডাক্তারের মুখ পানে তাকিয়ে বলে।
নেইম প্লেটে লেখা “আমান ইশতিয়াক”
অটোপাশ ডাক্তারের আবার এতো বড় নাম?
আদ্রিতা মুখ বাঁকায়।

“অটো পাশ মানে?

” অটোপাশ মানে টাকাপয়সা দিয়ে টিচারদের হাত পা ধরে পাশ করা।
ইসস নামের কি বাহার আমান ইশতিয়াক। আপনার নাম হওয়া উচিত ছিলো কুমড়ো পটাশ।
ব্যাথা পেয়েছি পায়ে। ইনজেকশন দিয়েছেন হাতে৷
এবার ঔষধ পায়ের রাস্তা চিনবে কি করে?
যদি রাস্তা না চিনতে পারে হাতেই ঘাপটি মেরে বসে থাকে তাহলে ব্যাথা সারবে কিভাবে?
শটকার্ট এ বোঝান আমায়।

আমানের মাথা ঘোরাচ্ছে। সে কিছু মুহুর্ত তাকিয়ে থাকে আদ্রিতার মুখ পানে। দেখতে কি সুন্দর পরির মতো। অথচ কথা বলার স্পিড এতো বেশি কেনো?
“জবাব দিচ্ছেন না কেনো?

আমান আমতাআমতা করে কিছু বলতে যায় তবে আদ্রিতা শোনে না। মুখ বাঁকিয়ে বলে ওঠে
“পরবর্তীতে আপনার চেম্বারে আমি আর আসবো না। সবাইকে জানিয়ে দিবো আপনি পাগল ডাক্তার।
ডাক্তারির আ ও বোঝেন না।

বলেই উঠে পড়ে। হাঁটতে যেতেই পায়ে প্রচন্ড ব্যাথা পেয়ে পূণরায় বসে পড়ে। চোখ মুখ কুঁচকে ফেলেছে।
তখুনি আবরার আসে। হাতে তার ঔষধ এর প্যাকেট। মূলত এটা আনতেই গিয়েছিলো।
আমান বলে ওঠে
” দোস্ত এটা কে রে?
আমায় পাগল বলেছে।

আবরার জবাব দেয় না। শুধু আমানের মুখ পানে তাকায় একবার।
“ভাইয়া জানেন আমার হাতে ইনজেকশন দিয়েছে উনি।
পায়ে ব্যাথা হাতে কেনো ইনজেকশন দিবে? এটা কি পাগলের মতোন কাজ না?

বলতে বলতে গাল ফোলায় আদ্রিতা।
আবরার গম্ভীর স্বরে শুধায়
” হাতে টাচ করেছে?

আমান বলে
“একদম টাচ করি নি।

আদ্রিতা বলে
” গ্লাভস পড়ে টাচ করেছে। একটু ছোঁয়া লেগেছে।

আবরার আর কিছু শোনার প্রয়োজন বোধ করে না।
আদ্রিতাকে পাজা করে কোলে তুলে নিয়ে হনহনিয়ে বেরিয়ে যায় চেম্বার থেকে।
আমান স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে।
“এই পাগল যেনো আর আমার চেম্বারে না আসে”


আদ্রিতার বড্ড মন খারাপ।
সঙ্গী হীনতায় ভুগছে। দুই দিন হয়ে গেলো কক্ষ থেকে বের হতে পারছে না। মুক্ত পাখির মতো ডানা ঝাপ্টে উড়তে পারছে না। এক কোণায় বসে থেকে কতক্ষণই বা বাঁচা যায়?
অহনার কক্ষে গিয়েছিলো কিছু মুহুর্ত আগে। পাশাপাশি কক্ষ হওয়ার ফলে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ঠিক যেতে পেরেছিলো।
কিন্তু গিয়ে কি হলো? অহনা বইয়ের ভাজে মুখ গুঁজেছে তো গুঁজেছেই। একবারও আদ্রিতার পানে মুখ তুলে তাকিয়ে দেখলো না।
অসহায় মেয়েটা বিরক্ত হয়ে পূণরায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে বেরিয়ে যায়। অহনার পাশের কক্ষটাই আবরার তাসনিন এর।
কক্ষের বাইরে সুন্দর একটা নেইম-প্লেট এ খোদাই করে লেখা “ডু নট ডিস্টার্ব”
সেসব এর ধার ধারার সময় নেই আদ্রিতার। তাই সে হালকা ধাক্কা দিয়ে দরজা খানা একটুখানি খুলে ফেলে। তারপর পর্দা একটু সরিয়ে নিজের মাথা খানা ঢুকিয়ে দেয়।
মুহুর্তেই তার চোখ দুটো বড় বড় হয়ে যায়। কেনোনা আবরার তাসনিন শুধুমাত্র আন্ডারওয়্যার পড়ে আছে। এতো বড় শরীরের শুধুমাত্র কালো রংয়ের ছোট্ট আন্ডারওয়্যার। প্যান্ট হাতে। যেটাতে এক পা গলিয়েছে।
আদ্রিতা শুকনো ঢোক গিলে কয়েকবার পলক ঝাপটায়।
তারপরই দেখতে পায় প্যান্ট পড়া শেষ। এখন চেইন আটকাচ্ছে।
মানে কি ভাই?
এতো দ্রুত পড়া হয়ে গেলো?

“আদ্রিতা কাম হেয়ার

লাট সাহেব এর কন্ঠস্বর। সে ডাকলো?
কিন্তু আদ্রিতাকে দেখলো কি করে?
সে তো পেছন ফিরে তাকায় নি। তাহলে?

” সময় নেই আমার হাতে। জলদি এসো

বড়ই বিরক্ত স্বরে বলে আবরার। আদ্রিতা তাড়াহুড়ো করে ঢুকে পড়ে ভেতরে।।পাশে হালকা ব্যাথা পেলেও সেটা পাত্তা দেয় না।
আবরার ড্রয়ার খুলে দলিলের মতো একটা কাগজ এবং কলম বের করে। সেটা টেবিলের ওপর রেখে বলে

“এখানে সাইন করো।

আদ্রিতা কপালল ভাজ ফেলে কাগজ খানা পড়ার চেষ্টা করে। বড় বড় অক্ষরে লেখা ” কাবিন নামা” লেখাটুকুই পড়তে পারে। বাকিটা চোখে ধরে না। তাই প্রশ্ন করে
“এটা কিসের কাগজ?

” দ্যাটস নান অফ ইউওর বিজনেস
জলদি করো। যেতে হবে আমায়।

গম্ভীর স্বরে বলা কথা খানা শুনেই কলিজা কেঁপে উঠলো আদ্রিতার। পরবর্তীতে কিছু প্রশ্ন করার সাহস হয় না।
তাড়াহুড়ো করে সাইন করে দেয়।
আবরার বোধহয় একটু হাসলে? গম্ভীর মুখ খানা কেমন চকচক করে উঠলো। ঠোঁট দুটোও একটু প্রসারিত হলো।

“তোমার দেহখানা আমার আমানত।
যত্নে রাখবে।
আর অতি দ্রুত বড় হয়ে আমার কাছে চলে যেও।
তোমায় একটু ছুঁয়ে দেওয়ার জন্য আমার হৃদয় ব্যাকুল হয়ে আছে।

ব্যাসস ড্রেসিং টেবিলের ওপর থাকা ছোট্ট এক খানা ব্যাগ এবং ফোনটা হাতে নিয়ে বড় বড় পা ফেলে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়।
পেছনে রেখে যায় অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা আদ্রিতাকে।


ড্রয়িং রুমে বসে বিজনেস নিয়ে আলোচনা করছে হাফিজুর রহমান এবং আব্দুল রহমান।
বর্ষা এবং আতিয়া কিচেনে।
আবরার বড় বড় পা ফেলে বাবা এবং দাদুর সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। স্পষ্ট ভাষায় বলে

“সন্ধ্যা সাতটায় আমায় ফ্লাইট। সুইজারল্যান্ড চলে যাচ্ছি। বাইক রেস এ নিজেকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান দেখবো এটাই আমার ড্রিম।
আর ড্রিম সাকসেস করতে হলে বাংলাদেশ ছাড়তেই হতো।

হাফিজুর মোটেও অবাক হলো না। কেনোনা তিনি আগেই আন্দাজ করেছিলো। তবে আব্দুল রহমান চমকেছে। কিন্তু সেটা প্রকাশ করে না। বরং গম্ভীর স্বরে বলে
” আমি চাই তুমি বিজনেস এ মন দাও।

“তোমার কথা শুনতে বাধ্য নই আমি। মাই লাইফ মাই রুলস

” এটাই তোমার শেষ কথা?

“ইয়েসস

” তাহলে আর কোনোদিনও ফিরে এসো না।।

আবরার জবাব না দিয়েই বড় বড় পা ফেলে চলে যায়। হাফিজুর আতিয়া বেগমকে ডেকে ওঠেন
“বউ মা তোমার ছেলে চলে যাচ্ছে তাকে আটকাও।

আতিয়ার হাত থেকে ভাতের হাড়ি পড়ে যায়। সে দৌড়ে এসে দেখেন আবরার নেই। ততক্ষণে সে বাড়ির বাইরে চলে গিয়েছে।
আতিয়া যেতে নিলে আব্দুল রহমান বলে
” আতিয়া তুমি বাড়ির বাইরে পা রাখলে
এই বাড়ির দরজা তোমার জন্য বন্ধ হয়ে যাবে।

চলবে

গল্প নিয়ে রিভিউ আলোচনা করতে জয়েন হয়ে যাও ~তোমাতেইআসক্ত//অন্তরালেআগুন ( তানিশা সুলতানা) গ্রুপে

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply