তোমাতেই_আসক্ত ২
পর্ব:৩
তানিশা সুলতানা
আবরারের শরীরের সর্বক্ষণ ক্ষত চিহ্ন থাকবে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো কারণে ব্যাথা পেয়ে বাসায় ফিরবে। তবে কাউকে দেখাবে না, ঔষধও লাগাবে না। মাঝেমধ্যে আতিয়া বেগম চুপিচুপি একটুখানি ঔষধ লাগিয়ে দিতে গেলে গম্ভীর স্বরে বলবে “নো নীড”
ব্যাসস আর কোনো শব্দ নেই তার মুখে।
এটা নিয়েও আতিয়া বেগম এর দুঃখের শেষ নেই। আদ্রিতা কেমন তোতা পাখির মতো সর্বক্ষণ বকবক করতে থাকে, খিল খিল করে হাসে, দুষ্টুমি করে। তবে তার ছেলে মেয়ে ব্যতিক্রম। দুইজনের একজনও তেমন হাসতে জানে না। গোমড়ামুখো।
মটরশুঁটির বিচ ছাড়াতে ছাড়াতে বর্ষাকে কথাগুলো বলছিলো আতিয়া বেগম। তখনই গটগট পায়ে ভেতরে ঢোকে আবরার। বরাবরের মতোই বাংলার পাঁচের মতো করে আছে মুখ খানা। কপালে ঠোঁটে রক্তের দাগ। ডান পায়ের গোড়ালিতেও রক্ত।
পেছনে সিয়াম। সে আতিয়াকে দেখেই এক গাল হাসে। দুই হাত বাড়িয়ে তার পানে এগোতে এগোতে কবিতা আওড়ায়
“ওহে আমার সুইট মাম্মি
তোমায় আমি দিবো হাম্মি
ভালোবাসি কতোটা যে
বুঝি না আমি কেমনে বোঝাই তোমাকে
অতি দ্রুত এনে দাও বউ
আমি ডাকবো ওগো সোনা কথা কও
সিয়ামের কবিতা শুনে আতিয়া এবং বর্ষা হেসে ওঠে। এবং কান টেনে দিয়ে বলে
” এখনই বউ লাগবে?
“হলে মন্দ হয় না।
আবরারের এসব আলাপ চারিতা শোনার সময় নেই। সে তার কক্ষে চলে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। শরীর ব্যাথায় টনটন করছে। ভালো কথাও ভালো লাগছে না।
অহনা সোফায় বসে বই পড়ছিলো। খাওয়া এবং ঘুম বাদে বাকি সময়টা বইয়ের মুখ গুঁজেই থাকা তার স্বভাব। বাইরের দুনিয়া সম্পর্কে ধারণা খুবই কম।
এই মুহুর্তে সিয়াম এর অতিরিক্ত বকবকানিতে বিরক্ত বোধ করে অহনা। বইয়ের ভাজ থেকক চোখ সরিয়ে সিয়াম এর মুখ পানে তাকায়। অতিরিক্ত ফর্সা এবং হেংলা ছেলেটাকে কেনোকালেই তার পছন্দ না। ভাইয়া কেনো এই ছেলের সঙ্গে ফ্রেন্ড শিপ করেছে এটাই ওর মাথায় ধরে না। ফালতু লোক একটা।
” স্টপ দিস ননসেন্স
আই রিড বুকস
সিয়াম ঠোঁট বাঁকিয়ে তাকায় অহনার মুখ পানে।
“অতো পড়ালেখা করে হবে কি?
তোমাকে যার সাথে বিয়ে দেওয়া হবে সেও পড়ালেখা করছে তুমিও করছো। দুজনেরই সময় নষ্ট, টাকাপয়সা নষ্ট।
তার থেকে ভালো তুমি রিলাক্স করো। যার
বাকি কথা শোনে না অহনা। সে বই নিয়ে উঠে চলে যায়।
সিয়াম মুখ বাঁকায়। আতিয়া মেয়েয় হয়ে সাফাই গাইতে বলে ওঠে
” ও আসলে একটু
“জানি আন্টি
ছোট বেলায় মুখে মধু দিতে ভুলে গিয়েছিলেন। ঠিক আছে কোনো ব্যাপার না।
আর মনে মনে বলে
” এর যে জামাই হবে সে একে চুমু খেতে গেলেই মারা যাবে। মুখে যে বিষ।
তিন দিন পরে সুইজারল্যান্ড চলে যাবে আবরার। পাসপোর্ট ভিসা সব রেডি। তবে এখনো বাড়ির কাউকে জানানো হয় নি। আর সে জানাতে চায় ও না। মা কাঁদবে, বাবা যেতে বারণ করবে, দাদু ইমোশনালি ব্ল্যাক মেইল করবে যা একদমই পছন্দ না।
ভেবে রেখেছে কাউকে না জানিয়ে চলে যাবে। গিয়ে নাহয় কল করে জানানো যাবে।
এই মুহূর্তে নিজ কক্ষের বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে আবরার। গায়ের শার্ট খুলে ফেলেছে বহু আগেই। চিকচিক রোদ তার ফর্সা উদর জুড়ে বিচরণ করছে। ফুলো ফুলো মার্সেল, ভাজ কাটা বুক সবটা উন্মুক্ত। দৃষ্টি তার বাগানে অবস্থিত আমগাছে। ছোটখাটো একটা গাছ। অথচ অনেক আম ধরে আছে। বড় বড় সাইজের চকচকে সবুজ রংয়ের কাঁচামিঠা আম। কিছু দিন পরেই হলুদ হবে।
সেই গাছের মাথায় একটা রমনি। যে বাঁদরের মতো ঝুলছে এবং আম খাচ্ছে। মাঝেমধ্যে কিছু পাখি এসে বসছে তাদের “হুইসসসসসস” বলে উড়িয়ে দিচ্ছে এবং নিজে খিল খিল করে হাসছে যার ফলে গাছ দুলছে।
আবরার আঁচ করতে পারে যখন তখন ঠাস করে মাটিতে পড়ে যাবে। পিঁচ ঢালা পিলারের সংঘর্ষে ভীষণ ব্যাথাও পাবে। কান্নাকাটি হুলুস্থুল শুরু হয়ে যাবে৷ মোটামুটি দুই দিনের মধ্যে সেই হুলুস্থুল শেষ হবে না।
বিরক্ত আবরার চোখ মুখ কুঁচকে ফেলে। প্যান্টের পকেট থেকে সিগারেট এবং ডেশলাইট বের করে। এক খানা সিগারেট ঠোঁটের ভাজে গুঁজে ডেসলাইট দিয়ে আগুন জ্বালায়। তাতে দীর্ঘ টান দিয়ে গম্ভীর স্বরে বলে ওঠে
“হেই ইডিয়েট
গাছ থেকে নামো।
আদ্রিতা শুনতে পেলো। গালের মধ্যে সব টুকু আম পুরে দিয়ে পেছন ঘুরে তাকায়। উন্মুক্ত আবরার তাসনিন এর প্রশস্ত বুকের পানে চোখ পড়তেই মুখ থেকে আম পড়ে যায়। ধাক্কা খায় ছোট্ট দেহ খানা। আঁখি পল্লব বড় বড় করে শুকনো ঢোক গিলে।
বিরবির করে বলে ওঠে
” ওহহহ মাই গড
এ না দেখছি কাবির সিং
সিয়ামের আগমন ঘটে তখনই। সে এক প্রকার দৌড়ে এসে আবরারের সামনে থাকা রেলিং এ বসে। আদ্রিতার পানে নজর পড়েছে তার।
আসলেই মেয়েটা পরির মতো দেখতে। এই যে গাছে ঝুলছে। মনে হচ্ছে ছোট্ট পরির মগ ডালে বাসা বেঁধেছে।
“হ্যালো কিউটি তোমার নাম কি?
আদ্রিতা মুখ বাঁকিয়ে বলে
“শুনুন বলি
কাবির সিং এর মতো ফুলো ফুলো বডি আর ভাজ ফেলানো বুক বের করে রাখলেই কাবির সিং হওয়া হয় না।
ছেলে মানুষ একটু পর্দা করতে শিখুন।
ছিহহ ছিহহ কি দিন কাল এসে পড়লো।
ছেলেরাও আজকাল লাজ লজ্জা বেটে খেয়ে ফেলেছে।
সিয়াম ভেবলার মতে তাকিয়ে থাকে। আসলে সে বুঝতে পারে নি।
আবরার নিজের হাতের সিগারেট আদ্রিতার পানে ফিক্কা দিয়ে কক্ষের ভেতরে চলে যায়। সিগারেট এর অংশ এসে পড়ে আদ্রিতার ফর্সা হাতে। বড্ড ছ্যাঁকা লাগলো। হাত ছেড়ে দেয় ফলে ঠাসস করে নিচে পড়ে যায়। মুহূর্তেই আকাশ বাতাস এক করে চিৎকার দিয়ে ওঠে।
আবরার ততক্ষণে কক্ষে চলে গিয়েছে। নির্দুশ সিয়াম আসামিদের মতো দুই হাত উঁচু করে বলে ওঠে
” আমি কিছু করি নি।
কিছু জানি না।
আবরার আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। বা হাত ঘাড়ে রেখে এদিক ওদিক ঘাড় নাড়ায়। দাঁড়ি গুলে বড় হয়েছে একটু ক্লিন করা প্রয়োজন।
সিয়াম আবরারের পেছনে দাঁড়িয়ে বলে
“তোর বোন পড়ে গিয়ে ব্যাথা পেয়েছে।
” সী ইজ নট মাই সিস্টার।
সিয়াম খাটের ওপর বসে। স্বভাব সুলত মুখ বাঁকায় এবং বলে
“ওই তো ফুপাতো বোন
তবে যাই বলিস
তোর বোন কিন্তু ভীষণ সুন্দর। আই লাইক
ড্রেসিং টেবিলের ওপরে ছোট একটা চাকু ছিলো। বাকি কথা শেষ হওয়ার আগেই সেই চাকু খানা ছুঁড়ে মারে সিয়ামের দিকে। গলার কাছ ঘেসে চাকু খানা গিয়ে লাগে দেয়ালে।
ভয়ে সিয়াম এর কলিজা লাফিয়ে ওঠে। সে বড় বড় তাকায় আবরারের মুখ পানে। হাত পা থরথর করে কাঁপছে। নারাচরার শক্তিও বোধহয় হারালে
” সী ইজ মাই পার্সোনাল প্রোপার্টি।
ডোন্ড লুক এট হিম।
চলবে
Share On:
TAGS: তানিশা সুলতানা, তোমাতেই আসক্ত সিজন ২
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৩২
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৩৪
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৮
-
অন্তরালে আগুন গল্পের লিংক
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ১ (১ম অংশ+ শেষ অংশ)
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৪১
-
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ গল্পের লিংক
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৪
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ১১
-
অন্তরালে আগুন পর্ব (২৪+২৫)