Golpo romantic golpo তুমি এলে অবেলায়

তুমি এলে অবেলায় পর্ব ৫


তুমিএলেঅবেলায় 🍂 (পর্ব – ৫)

আতিয়া_আদিবা

সকালের সেই মায়াবী রোদ্দুর কখন যে গোধূলির রক্তিম আভায় মিশে গেছে শেহজাদ তা টের পায়নি। নিজের কেবিনে বসে সে যখন একের পর এক ফাইল সই করতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই ফোনের কর্কশ শব্দে তার ধ্যানভঙ্গ হলো।
ফোন রিসিভ করতেই ওপার থেকে লজিস্টিকস ম্যানেজারের আতঙ্কিত কণ্ঠস্বর ভেসে এল,

  • স্যার, চট্টগ্রাম পোর্টের বহির্নোঙরে থাকা ‘এম.ভি. হেরিটেজ’ জাহাজের ক্লিয়ারেন্স আটকে দিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। প্রায় কয়েকশ কোটি টাকার ইলেকট্রনিক্স গুডস আর কাঁচামাল নিয়ে আসা জাহাজটি যদি সময়মতো আনলোড না হয়, তবে প্রতি ঘণ্টার ডেমারেজ চার্জ গুনতে হবে কয়েক হাজার ডলার।

​শেহজাদের চোয়াল শক্ত হয়ে এল। ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনের মাঝে এই ব্যবসায়িক বিপর্যয়, সব মিলিয়ে তার মস্তিস্ক যেন কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে গেল।

এরপর শুরু হল একের পর এক ফোন কল। দেশসেরা আইনজীবীদের সাথে কনফারেন্স কলে কথা বলে আর পোর্টের কর্মকর্তাদের সাথে তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর যখন সে অফিস থেকে বেরুলো, তখন রাত প্রায় দশটা।

ডিসেম্বরের হিমেল হাওয়া তার উত্তপ্ত মস্তিস্ককে শান্ত করার বদলে যেন আরও উসকে দিল।

​গাড়ি যখন ‘দ্য স্কাইলাইন ভিলা’র ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করল, শেহজাদের চোখেমুখে তখন ক্লান্তি আর বিরক্তির এক অদ্ভুত মিশেল। তবুও সে দম্ভ নিয়ে এগোচ্ছিল।

ড্রয়িংরুমে পা রাখতেই আজ সরষে ইলিশ আর গরম ভাতের ঘ্রাণ তার নাকে এসে ধাক্কা দিল। ডাইনিং টেবিলের ওপর সযত্নে রাখা খাবারগুলো যেন তাকে বিদ্রূপ করছে।

সুফিয়া রহমান তখন পায়চারি করতে করতে তসবিহ পড়ছিলেন। ছেলেকে দেখে মৃদু হেসে বললেন,

​- এলি বাবা? হাত-মুখ ধুয়ে খেতে আয়। সামাইরা অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে এইমাত্র ঘরে গেল। আজ ও বড্ড পরিশ্রম করেছে, একদম নিজের হাতে সব রেঁধেছে আমাদের জন্য।

​শেহজাদের ভেতরের পুঞ্জীভূত রাগ যেন এবার ফেটে পড়ার উপক্রম হলো। সে মায়ের কথার কোনো উত্তর না দিয়ে হনহন করে সিঁড়ি বেয়ে উপরে নিজের বেডরুমে চলে গেল।

ঘরের দরজাটা সজোরে ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢুকেই পুনরায় ধড়াম করে লাগিয়ে থমকে দাঁড়াল।

​সামাইরা তখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। চুলগুলো বাঁধছিল আলতো করে। শেহজাদের এমন উগ্র প্রবেশে সে একবারও চমকাল না।
বরং শান্ত চোখে আয়নার প্রতিবিম্বে শেহজাদকে দেখল।

শেহজাদ তার স্যুটের কোটটা খুলে বিছানায় ছুঁড়ে ফেলল। হিংস্র বাঘের মতো সামাইরার দিকে তেড়ে এল। এরপর রুক্ষ গলায় বলল,

​- কী ভেবেছ তুমি নিজেকে? এই যে সারাদিন রান্নাবান্না করে আমার মায়ের মন জয় করছ, সেবা করার নাটক করছ, এসব করে আমাকে বশ করতে পারবে? ভাবছ আমি তোমার এই মধ্যবিত্ত চালের মোহে পড়ে যাব? টিপিকাল বাঙালী ছেলেদের মত গলে যাব?

এক নিশ্বাসে কথাগুলো বলে শেহজাদ থরথর করে কাঁপতে লাগল।

​সামাইরা শান্তভাবে ওর দিকে ঘুরে দাঁড়াল। তার চোখেমুখে কোনো ভয়ের চিহ্ন নেই। কোনো উদ্বেগ নেই। বিপরীতে এক অদ্ভুত স্থৈর্য লক্ষণীয়।
সে কোনো উত্তর দিল না। শেহজাদ আরও একধাপ এগিয়ে এল, তার গলার স্বর এবার আরও তীক্ষ্ণ হল।

​- ক্লিয়ারলি শুনে রাখো সামাইরা, আমি রাইসাকে ভালোবাসি। তিন বছরের সম্পর্ক আমাদের। তোমার এই ঘরোয়া খাবারের ঘ্রাণ আমার জীবন থেকে রাইসাকে মুছে ফেলতে পারবে না। বাবুর্চিদের মাস শেষে আমি বেতন দেই। সো, স্টপ দিস ননসেন্স।

​সামাইরা এবারও কোনো উত্তর দিল না। শেহজাদের কথাগুলো যেন তার কানেই পৌঁছায়নি। সে ধীরপায়ে এগিয়ে গিয়ে বিছানার পাশের বিশাল সত্তর ইঞ্চি স্মার্ট টিভিটার রিমোট হাতে নিল।

শেহজাদকে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করে সে টিভিতে ‘টাইটানিক’ মুভিটা প্লে করে দিল। রুমের হোম থিয়েটার সিস্টেমে টাইটানিকের সেই বিখ্যাত আবহ সঙ্গীত বেজে উঠল। সামাইরা ধীরস্থিরভাবে সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।

​শেহজাদ স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ। পরক্ষণেই অপমানে তার কান দিয়ে ধোঁয়া বেরুতে লাগল। এই মেয়েটা ইচ্ছেকৃত ইগনোর করছে? যার ভয়ে বড় বড় বিজনেস টাইকুনরা পর্যন্ত কথা বলতে দুবার ভাবে তাকেই কিনা মিডল ক্লাস ঘরের এই মেয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে!

  • সামাইরা! আমি তোমার সাথে কথা বলছি! টিভি বন্ধ করো!

শেহজাদ এবার চিৎকার করে উঠল।

​সামাইরা নির্বিকার। জ্যাক আর রোজের প্রথম সাক্ষাতের দৃশ্যটি সে খুব মনযোগ দিয়ে দেখতে লাগল। শেহজাদ আর নিজেকে সামলাতে পারল না। টিভিটা সজোরে বন্ধ করে দিল। ঘরটা মুহূর্তেই নিস্তব্ধ হয়ে গেল।

​সামাইরা এরপরও কোনো রাগ দেখাল না। সে শান্তভাবে সোফা থেকে উঠে দাঁড়াল এবং ঘরের দরজার দিকে হাঁটতে শুরু করল। তার এই বরফ শীতল আচরণ শেহজাদের ভেতরের রাগী পুরুষটাকে যেন একদম উন্মাদ করে দিল।
সে এক লাফে গিয়ে সামাইরার কবজি শক্ত করে চেপে ধরল। হেঁচকা টানে তাকে দেয়ালের সাথে ঠেকিয়ে দিল।

​সামাইরা দেয়ালের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে স্তব্ধ হয়ে রইল। শেহজাদের শক্তিশালী হাত দুটোর বেড়াজালে এখন সে বন্দি। তাদের দুজনের মাঝে এখন মাত্র কয়েক ইঞ্চির দূরত্ব। শেহজাদের তপ্ত নিঃশ্বাস সামাইরার গালে আছড়ে পড়তে লাগল। শেহজাদ রাগে থরথর করে কাঁপছে, তার চোখের মনি ঠিকরে ঝরছে আগুনের ফুলকি।

​- কত বড় সাহস তোমার? আমাকে ইগনোর করছ? তুমি জানো কার সামনে দাঁড়িয়ে আছ? ভুলে যেও না আমি তোমার স্বামী! কোন সাহসে তুমি আমার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে চলে যাচ্ছ?

শেহজাদের কণ্ঠস্বর ফেটে পড়ছে রাগে।

  • স্বামী!
    ​সামাইরা হুট করেই খিলখিল করে হেসে উঠল। সেই হাসিতে মিশে ছিল তীক্ষ্ণ এক টিপ্পনী।
  • স্বামী শব্দটা আপনার মুখে বড্ড বেমানান লাগছে না, মিস্টার রহমান? ভুলে গেছেন বিয়ের রাতের কথা?

​শেহজাদ কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু সামাইরার দৃষ্টি হঠাৎ আটকে গেল শেহজাদের শার্টের কলারে। সেখানে রাইসার চড়া লাল লিপস্টিকের দাগ স্পষ্ট হয়ে আছে। সামাইরা একদৃষ্টিতে সেই দাগটার দিকে তাকিয়ে রইল।

​সামাইরার দৃষ্টি অনুসরণ করে শেহজাদও তাকাল নিজের কলারের দিকে। আয়নার প্রতিফলনে লিপস্টিকের সেই গাঢ় লাল দাগটা দেখে সে যেন বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো সামাইরাকে ছেড়ে দিয়ে পিছিয়ে গেল। তার ভেতরের দম্ভ মুহূর্তেই ঠুনকো হয়ে গেল।

​সামাইরা এবার ধীর পায়ে সামান্য এগিয়ে এল শেহজাদের দিকে। তার কণ্ঠস্বর এখন একদম শান্ত, তবুও প্রতিটি শব্দ তীরের মতো বিঁধছে শেহজাদের বুকে।

  • শুনুন, আপনি আমাকে দায়িত্ব পালন করতে বলেছিলেন না? আমি ঠিক সেটাই করছি। আপনার মাকে আমি নিজের মা হিসেবে মেনে নিয়েছি, তাকে একটু শান্তি দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমার এই রান্নাবান্না, সেবা সবই ওনার জন্য। আপনাকে ইম্প্রেস করার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে বা রুচি আমার নেই, মিস্টার রহমান।

​সামাইরা শেহজাদের একদম কাছে গিয়ে দাঁড়াল। তার চোখে চোখ রেখে ঠান্ডা গলায় বলল,

  • আর এই শার্টটা… এটা কি আমি কাল ফেলে দেব, নাকি ধুয়ে দিতে বলব জানিয়ে দিয়েন।

​শেহজাদ পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে রইল। আর কোনো কথা বলতে পারল না সে।


​ডিসেম্বরের আকাশটা আজ বড্ড অবাধ্য। সকাল থেকেই মেঘের আনাগোনা ছিল বটে, তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে পৌষের সেই চিরাচরিত হিমেল হাওয়াকে উপেক্ষা করে নামল অসময়ের অঝোর বৃষ্টি। নাগরিক জীবনের ধূসর ধুলোবালি ধুয়ে দিয়ে প্রকৃতি যেন আজ এক অচেনা স্নানে মেতেছে। ‘দ্য স্কাইলাইন ভিলা’র প্রতিটি কোণও আজ বৃষ্টির ঝমঝম শব্দে মুখরিত।

​শেহজাদ আজ অফিসে যায়নি। তার দোতলার স্টাডি রুমেই আজ জরুরি মিটিং হচ্ছে। রহমান শিপিং লাইনের প্রধান লিগ্যাল অ্যাডভাইজার মিস্টার আশফাক উল্লাহ বসে আছেন বিশাল মেহগনি টেবিলের ওপাশে। কাস্টমস ভ্যালুয়েশন আর লজিস্টিকস পেপারসের এক স্তূপ ফাইলের মাঝে আজ শেহজাদের মন কিছুতেই বসছে না।

  • মিস্টার রহমান, যদি আমরা কাস্টমস অথরিটিকে নেক্সট উইকের মধ্যে রিট পিটিশনটা শো করতে পারি, তবে পেনাল্টি চার্জ অনেকটাই কমে আসবে।
  • হুঁ।
  • আপনি কি এই ক্লজটা একবার চেক করবেন?

আশফাক সাহেবের গম্ভীর কণ্ঠস্বর যেন শেহজাদের কানে এসে ঠিকমতো পৌঁছাচ্ছে না।
​শেহজাদ ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ছিল। সহসা তার দৃষ্টি হঠাৎ আটকে গেল কেবিনের বিশাল স্বচ্ছ কাঁচের দেয়ালের ওপারে। তার ঘর থেকে দোতলার সেই বিশাল ওপেন টেরাস বা বারান্দাটা স্পষ্ট দেখা যায়। সেখানে এক মানবী মূর্তির বিচরণ শেহজাদের সমস্ত মনোযোগ কেড়ে নিল।

​সামাইরা!

​এই হাড়কাঁপানো ঠান্ডার বৃষ্টিতে মেয়েটা ভিজছে! ভিজছে বললে ভুল হবে, সে যেন বৃষ্টির প্রতিটি কণার সাথে এক আদিম সখ্যতায় মেতে উঠেছে। পরনে হালকা নীল রঙের একটি শাড়ি। যা বৃষ্টির ছোঁয়ায় শরীরের সাথে লেপ্টে আছে। তার স্ফীত বক্ষযুগল আর কোমড়ের ঢেউয়ে দৃষ্টি নিবদ্ধ হল শেহজাদের।

সামাইরা দুই হাত প্রসারিত করে আকাশের দিকে মুখ তুলে দাঁড়িয়ে আছে। মাঝে মাঝে সে মৃদু ছন্দে ঘুরে ঘুরে নাচছে। তার দেহভঙ্গি বলছে সে এই মুহূর্তে পৃথিবীর সব দুঃখ ভুলে এক অদ্ভুত ‘বৃষ্টিবিলাস’ এ মগ্ন।

​শেহজাদ অপলক চেয়ে রইল স্ত্রীর পানে। তার চোখের মনিতে এক বিচিত্র সম্মোহন। আশফাক সাহেবের আইনের ধারাগুলো তখন শেহজাদের কাছে অর্থহীন কোলাহলের ন্যায়।

​হঠাৎ শেহজাদের মনে হলো, সে আর এই চেয়ারে বসে নেই। সে যেন অবলীলায় দেয়াল ডিঙিয়ে ওই বৃষ্টির মাঝে সামাইরার খুব কাছে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
কল্পনায় দেখছে, সে সামাইরার একদম পেছনে গিয়ে ওর কাঁধে নিজের হাত রাখল। সামাইরার কাকভেজা শরীর সামান্য চমকে উঠল। বৃষ্টির স্পর্শে কাঁপতে থাকা শরীরটা আরোও গুটিয়ে নিল নিজের মাঝে। এরপর হঠাৎ শেহজাদের বুকে মিশে গেল।
শেহজাদ অনুভব করল, সামাইরার গায়ে অদ্ভুত রজনীগন্ধার ঘ্রাণ। সে সামাইরার মুখটা নিজের দুই হাতের আঁজলায় তুলে নিল। বৃষ্টির হিমশীতল ফোঁটাগুলো যেন ওদের দুজনের মাঝে সেতুবন্ধন তৈরি করল। সামাইরার তপ্ত নিশ্বাস শেহজাদের চিবুকে আছড়ে পড়তে লাগল। সেই উত্তাপ শেহজাদকে উন্মাদ বানিয়ে দিল।

সে যেন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। বৃষ্টির অঝোর ধারার নিচে সে বারবার সামাইরার ঠোঁটের ওপর নিজের ঠোঁট রাখল। এক গভীর, তৃষ্ণার্ত চুম্বনে সে সামাইরাকে নিজের করে নিল। বৃষ্টির প্রতিটি শব্দ যেন ওদের সেই একান্ত মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে রইল।

  • মিস্টার রহমান? আপনি কি শুনতে পাচ্ছেন?

আশফাক সাহেবের ডাকে শেহজাদ হঠাৎ বাস্তবে ফিরে এল। গলা খাঁকারি দিয়ে বলল।

  • জ্বি, প্লিজ কন্টিনিউ!

​শেহজাদের কপালে সূক্ষ্ম ঘাম বিন্দু জমেছে। সে বুকভরে এক দীর্ঘশ্বাস নিয়ে নিজেকে সামলে নিল। ল্যাপটপের উজ্জ্বল আলোয় তার মুখটা ভীষণ বিবর্ণ দেখাচ্ছে। নিজের ওপর এক তীব্র ঘৃণা আর বিরক্তি জন্ম নিল তার।

​’এসব কী ভাবছি আমি?’ –
শেহজাদ মনে মনে নিজেকে ধিক্কার দিল।

​নারীদেহের ওপর শেহজাদের লোভ কখনই ছিল না। শেহজাদ কেবল রাইসার জেদ মেটাতে সেটুকুই করেছে যতটুকু না করলেই নয়।

কিন্তু সামাইরা? যে মেয়েটাকে সে ঘৃণা করে, যার সাথে তার সম্পর্ক মায়ের মৃত্যুর পরই চিরতরে নিভে যাবে, তাকে নিয়ে কেন এমন অসভ্য চিন্তা তার মস্তিস্কে বিষের মতো ছড়িয়ে পড়ছে?
​সামাইরার সিক্ত শরীর, অবাধ্য নাচ আর বৃষ্টির রোমাঞ্চ কেন শেহজাদকে ভেতর থেকে দুমড়ে মুচড়ে দিচ্ছে? শেহজাদ কলমটা সজোরে টেবিলের ওপর আছড়ে ফেলল।

​- মিস্টার আশফাক, আই নিড এ ব্রেক। আপনি ফাইলগুলো এখানে রেখে যান, আমি বিকেলে চেক করে আপনাকে ফোন দেব।
শেহজাদের কণ্ঠস্বর এখন পাথরের মতো শক্ত।

​লইয়ার সাহেব কিছুটা অবাক হলেন। তবে কোনো প্রশ্ন করলেন না। ঘরটা ফাঁকা হয়ে যেতেই শেহজাদ আবার কাঁচের দেয়ালের দিকে তাকাল। সামাইরা এখনো সেখানে আছে। সে এখন রেলিং ধরে বৃষ্টির দিকে চেয়ে দাঁড়িয়ে। শেহজাদ দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড় করে বলল,

​— ব্লা/ডি মিডল ক্লাস উইমেন!

​শেহজাদ ঝটপট উঠে ঘরের পর্দাগুলো টেনে দিল। সে আর ওই দৃশ্য দেখতে চায় না।

পরের পর্ব জলদি পড়তে ২০০০ লাইক এবং ৪০০ কমেন্ট সম্পন্ন করে দিবেন।

চলবে…

আতিয়া_আদিবা

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply