Golpo ডিফেন্স রিলেটেড ডেসটেনি

ডেসটিনি পর্ব ৫


ডেসটিনি [ ৫ ]

সুহাসিনি_মিমি

“এক মিনিট আগেও ফেসবুকে অ্যাকটিভ থাকা মানুষটা মিনিটের মধ্যেই কীভাবে এমন গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল, মিস প্রিয়ন্তী? এই গতিতে তো এখন দেখছি আপনার কাছ থেকেই ঘুমানোর ট্রেনিং নিতে হবে। সমুদ্রে লাইফ সংকটে দেখলে নিশ্চিন্তে মিনিটেই এভাবে গভীর ঘুমে তলিয়ে যাবো। না, সত্যি সত্যিই এক মিনিটে ঘুমানোর কোর্সটা কমপ্লিট করতে হবে আপনার কাছ থেকে। বলুন,বলুন সিক্রেটটা আমাদের সাথেও শেয়ার করুন। বিনিময়ে যা চাইবেন তাই পাবেন কিন্ত। এই অপারচিউনিটি হাত ছাড়া কইরেন না,মিস ব্লু হাফমুন!”

প্রিয়ন্তী নড়েচড়ে উঠল।মূলত প্রিয়ন্তীর ঘুম আসছিলো না দেখে এতক্ষন শুয়ে শুয়ে ফেইসবুক, ইন্সটায় ঘুরঘুর করে রীলস দেখছিল ও । ওর ভাই ভাবি ডাকতেই তো ফট করে ঘুমের ভান ধরে পড়েছিলো। এক মিনিট আগেও তো ও মেসেঞ্জারে ছিল। তার মানে লোকটাও এতক্ষন অনলাইনে ছিল। নোটিফিকেশনেই দেখে ফেলেছে। এরই মাঝে শব্দটা আবার এল।প্রিয়ন্তী বুঝল, লোকটা ওকে না উঠিয়ে ছাড়বে না।
বিরক্তিতে উঠে বসল ও। ওড়নাটা গায়ে ভালো করে জড়িয়ে নিল গায়ে। বেডের পর্দা সামান্য সরিয়ে উঁকি দিতেই চোখে পড়ল তাজধীর কে।লোকটা ভাবলেশহীন ভাবে দাঁড়িয়ে তখনো। প্রিয়ন্তী নিচু গলায় বলল,

“কি চাই ? কী সমস্যা?”

তাজধীর স্বাভাবিক টোনে বলল,

“চাইতো অনেক কিছুই মিস প্রিয়ন্তী। দিচ্ছেন আর কোথায়?”

অবুঝের মত মাথা ঝাকিয়ে জিজ্ঞেস করল প্রিয়ন্তী,

“মানে?”

“রেস্টুরেন্টে ব্রেক দিয়েছে। ক্ষুধা লাগেনি আপনার? খাবেন না?”

“খাবোনা দেখেই তো শুয়ে ছিলাম, উঠিনি। দেখেননি সেটা?”

“উহু, রং এনসার! ঘুমান নি। বরং ঘুমানোর ভান ধরে ছিলেন!”

প্রিয়ন্তী তেতে উঠল এবার। বলল চড়বড়ে হয়ে,

“ আমি যাব না, আপনি যান!”

“কেন ক্ষুদা পায়নি?”

“আজব! ক্ষুদা পেলে তো আমি নিজেই চলে যেতাম।আপনার অপেক্ষায় থাকতাম নাকি?”

“হয়তো, সেইজন্যই বসে ছিলেন। মুখ ফুটে বলতে পারছেননা। আমার ডাকার অপেক্ষাতেই ছিলেন তাইনা? এইজন্যই বুঝি আপনার ভাই ভাবি ডাকার পরও উঠেননি?”

প্রিয়ন্তীর মন চাচ্ছে নিজের মাথা নিজেই ফাটাতে। নয়তো কখন জানি ও এই লোকটার মাথা না আবার ফাটিয়ে দেয়। নিজের বাড়ন্ত রাগকে খানিকটা প্রশমিত করে নরম গলায় বলল,

“আমি যাবোনা, আপনি প্লিজ যান! প্লিজ?”

তাজধীর ভ্রু কুঁচকাল। জানতে চেয়ে বলল,

“কেন যাবেন না? ব্রেক তো ত্রিশ মিনিটের। হালকা কিছু খেয়ে নিলে ভালো লাগবে।”

“না, ক্ষুধা লাগেনি আমার।”

“এখন না লাগলেও নামলে লাগবে। যেতে যেতে আরো অনেকটা সময় লাগবে। রাতেও তো কিছু খেয়ে আসেন নি। পরে দেখা যাবে শরীর খারাপ করে বিছানায় পরে থাকবেন। আপনার জন্য আমাদের ঘুরার সাধ মাটি হবে তখন!”

তাজধীর খুব সিরিয়াস টোনে বলল কথাগুলো। প্রিয়ন্তী মুখ ঘুরিয়ে নিল। ভাবল এ কোন লোকের পাল্লায় পড়েছে ও? কোথেকে কোথায় চলে গেল এই লোক? দাঁতে দাঁত খিচে বলল প্রিয়ন্তী,

“আপনার এত ভাবতে হবেনা আমাকে নিয়ে। আমার না খেয়ে থেকেও অভ্যাস আছে। সো কিছু হবেনা আমার।”

“আমি না ভাবলে আর কে ভাববে বলুন?বাচ্চার বাবাকেই তো বাচ্চার মাকে নিয়ে ভাবতে হয়। এটাই তো নিয়ম!”

প্রিয়ন্তী অবাক হয়ে তাকাল। ফুস ফুস করে শ্বাস ছাড়ল সাপের মত। ওড়না টা মাথায় চেপে খিটখিটে মেজাজে আওড়াল,

“সরুন। নামতে দিন।”

“নামতে পারবেন তো?”

“না! কোলে করে নামাতে হবে। পারবেন?”

“যদিও কখনো কোনো মেয়েকে কোলে নেয়নি। তবে চাইলে,এন্ড আপনার কোনো আপত্তি না থাকলে নিতে পারি। আপনি তো আর আমার পর কেউ না!”

প্রিয়ন্তী রেগেমেগে গজগজ করতে করতেই একা একা নামলো। তাজধীর সরে দাঁড়ালো। ঠোঁট চেপে ধরে হাসলও অল্প। প্রিয়ন্তী ফোঁস ফোঁস করতে করতে বেরোলো বাইরে। রেস্টুরেন্টে ঢুকেই প্রিয়ন্তীর চোখে পড়ল পাভেল আর মিতালী তে । দু’জনই টেবিলের পাশে দাঁড়িয়ে খাবারের মেনু দেখছিল। প্রিয়ন্তীকে দেখে মিতালী চমকে উঠল। বলল,

“আরে প্রিয়ন্তী কখন উঠলে?আমরা তো ডেকে এলাম, তখন উঠোনি কেন?”

প্রিয়ন্তী কিছু বলার আগেই পেছন থেকে তাজধীর হাঁক ছাড়ল,

“পেটের ভেতরে ইঁদুর দৌড়ালে কি কেউ ঘুমাতে পারে নাকি মিতালী? “

তাজধীরের কণ্ঠ চিনতে এক সেকেন্ডও লাগল না প্রিয়ন্তীর। মিতালী হেসে ফেলল। পাভেল ভ্রু তুলে তাকাল। সবাই হালকা পাতলা কিছু নিল। প্রিয়ন্তী বেশি খেল না। একটু স্যুপ, আর এক কাপ চা খেলো শুধু। খাওয়ার সময়ও ওর চোখ বারবার আশেপাশে তাকাচ্ছিলো। লোকটাকে আর দেখেনি প্রিয়ন্তী। ওকে জোড় ডেকে এনে নিজেই উধাও? খাওয়া শেষে প্রিয়ন্তী কে জিজ্ঞেস করল পাভেল,

“আর কিছু খাবি?”

“একটা ধই হলে ভালো হয়!”

পাভেল ওয়েটার কে ডেকে বলল সেটা আনতে । ছেলেটা কাছে এগিয়ে এসে জানাল,

“সরি স্যার, ওইটা এখন স্টক আউট।”

প্রিয়ন্তীর মুখটা সঙ্গে সঙ্গে ভার হয়ে গেল। কিছু না বলে উঠে দাঁড়িয়ে বাইরে চলে গেল। বাসে উঠে নিজের সিটে গিয়ে বসে পড়ল ওড়নাটা গায়ে জড়িয়ে।
দুই-এক মিনিট পর আবারও একই বেগে শব্দ হলো সেখানে। প্রিয়ন্তী চোখ না খুলেই বুঝল কেউ দাঁড়িয়ে আছে। তবু দেখেও না দেখার ভান করল। লোকটা ডেকে উঠল আকস্মিক,

“মিস ব্লু হাফমুন?”

প্রিয়ন্তী উঠে বসল আবারও। রেগেমেগে পর্দা সরিয়ে উঁকি দিলো। কিছু বলতেই যাবে অমনি ওর মুখের সামনে লোকটা কিছু একটা এনে ধরল। বলল,

“নিন!”

প্রিয়ন্তী অবাক হয়ে তাকাল। বলল,

“এটা আপনি কোথায় পেলেন?”

তাজধীর একেবারে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল,

“পাশের দোকান থেকে ছিনতাই করে এনেছি।”

“কিডন্যাপ, ছিনতাই করা ছাড়া আর কিছু পারেন? আপনার প্রফেশনে তো এসব নেই!”

তাজধীর প্যাকেটটা ওর হাতে দিয়ে বলল,

“তা হলে ধরে নিন—কমান্ডারের ক্ষমতা ব্যবহার করেছি।”

প্রিয়ন্তী আর কিছু বলল না। প্যাকেটটা হাতে নিয়ে মুচকি হেসে ফেলল। বুকের ভেতরে অজানা এক ভালোলাগা সৃষ্টি হলো। লোকটার ওপর বিরক্তি থাকা সত্ত্বেও মনটা ফুরফুরে হয়ে উঠল। মানতে হবে মানুষটা যতটা অসভ্য, তার চেয়ে একটু বেশিই যত্নশীল।


ড্রাইভারের পাশে বসে একটা সিগারেট ধরাল তাজধীর। গাড়ি ছেড়েছে মিনিট দশেক হবে। জানালার বাইরে রাতের অন্ধকার ধীরে ধীরে পিছিয়ে যাচ্ছে। ভেতরে নরম হলুদ আলোয় ফোন স্ক্রল করতে করতে ধোঁয়ার পাণ্ডুলি ছাড়ছে সে।পাশে বাপসা ড্রাইভার খুব মনোযোগে গাড়ি চালাচ্ছে। এবেলায় হঠাৎ ড্রাইভারের ফোন বেজে উঠল। ড্রাইভার কল রিসিভ করতেই তাজধীর লক্ষ্য করল লোকটার কণ্ঠস্বর কেঁপে উঠছে ক্রমান্নয়ে। কপাল বেয়ে টপটপ করে ঘামও ঝরছে এসির নিচে থেকেও। সিগরেট টানতে টানতেই সেটা লক্ষ্য করল তাজধীর। বুঝল কিছু একটা ঠিক নেই। জিজ্ঞেস করল আকস্মিক,

“ইজ এনিথিং রং?”

ড্রাইভার প্রথমে কিছু বলল না। স্টিয়ারিং শক্ত করে চেপে ধরে রইল চুপচাপ। কয়েক সেকেন্ড পরই ভেতরের ভয়টা আর চেপে রাখতে পারল না। অস্ফুট গলায় প্রত্তুত্তর করল,

“জি ভাই…”

“কি হয়েছে?”

“আসলে ভাই আমি তাড়াতাড়ি যাওয়ার জন্য শর্টকাট রাস্তায় ঢুকেছিলাম। এইমাত্র খবর এলো, ওই রাস্তায় নাকি ডাকাতের দল ওত পেতে আছে।”

তাজদীর ভ্রু কুঁচকে তাকাল। ধোঁয়ার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল,

“তা এতে এত ঘাবড়ানোর কী আছে?”

ড্রাইভার যেন প্রশ্নটাই বুঝতে পারল না। বোকা বোকা চোখে তাকিয়ে বলল,

“জি… ভাই?”

তাজধীর আবারও বলল,

“এত ভয় পাওয়ার কী আছে? বি নরমাল!”

“ভাই আমি এই লাইনে আমি নতুন। এরকম অভিজ্ঞতা আমার আগে কখনো হয়নি।”

তাজধীর কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর জ্বলন্ত সিগারেটটা ফেলে পায়ের নিচে পিষল। বলল,

“আপনি সরে বসুন। আমাকে স্টিয়ারিং দিন।”

ড্রাইভার অবিশ্বাসের চোখে তাকাল।কাপা গলায় আওড়াল,

“জি ভাই? আপনি কি ইয়ার্কি করছেন নাকি?”

তাজধীর চুপচাপ নিজের পকেট থেকে একটা কার্ড বের করল। তুলে ধরল লোকটার সামনে। ড্রাইভারের চোখের সামনে ধরতেই লোকটার চোখ দুটো গোল গোল হয়ে গেল বিস্ময়ে। আশ্চর্য হলো। আরেকটু ভালো করে লক্ষ্য করল কার্ডটা। লোকটা বিশ্বাসই করতে পারছে না, তার পাশে বসে আছে স্বয়ং একজন নেভির লেফটেন্যান্ট কমান্ডার। অগত্যা
“স্যা… স্যার… স্যার! বলে মুখে ফেনা তুললো।

“এখন এসব বাদ দিন। সরে গিয়ে বসুন। আর নিশ্চিন্ত থাকুন।”

ড্রাইভার তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়াল। তাড়াহুড়ায় গিয়ে সরে বসল পাশের সিটে। বারবার ঘুরে তাকাচ্ছে তারসঙ্গে বসে থাকা মানবের পানে। তারপর আবার থেমে বলল,

“স্যার… আপনি চালাতে পারবেন তো?”

তাজধীর স্টিয়ারিংয়ে হাত রেখে হালকা হেসে বলল,

“ড্রাইভার সাহেব, আকাশের প্লেন ছাড়া—বাকি সবকিছু চালানোর অভিজ্ঞতাই আছে এই তাজধীর সিদ্দিক আযানের। সো বি রিলেক্স, ওকেয়?”

এই অসময়েও বেচারা ড্রাইভার ঘামতে ঘমাতেও মুখ ফসকে বলে ফেলল,

“তো ওটাও বাকি রেখেছেন কেন স্যার?”

“সময়ের অভাবে! একবার ট্রাইও করেছিলাম। বাট প্রপারলি হ্যান্ডেল করতে পারিনি আরকি। এইবার সেটাও শিখে নিবো ভাবছি! বউকে নিয়ে হেলিকোপটার ট্যুর দেয়ার ছোটোখাটো একটা ইচ্ছে আছে!”

দক্ষ হাতে বাসের স্টেয়ারিং সামলে সামনে ছুটছে তাজধীর। চারপাশে ঘন ঘন অন্ধকার জঙ্গল পেছনে ফেলে এগোচ্ছে সামনে। হেডলাইটের আলোয় মাঝে মাঝে গাছের ডালপালা ছুটে ছুটে পেছনে মিলিয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ করেই অদূরে চোখ পড়ল ওর। রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে এক বোরকা পরা মেয়ে। দু’হাত তুলে বাস থামানোর ইশারা করছে। কেউ দেখলে ভাববে হয়তো এই মাঝ রাস্তায় বিপদে পড়েছে মেয়েটা। সাহায্য করবে নির্ঘাত। ড্রাইভার তাকে ডেকে বলল বাসটা থামাতে। মেয়েটাকে সাহায্য করতে। তাজধীর চুপচাপ শুনলো শুধু। জিভ দিয়ে গালের ভেতরটা ঠেসে একটু কটমট করে বলল মনে মনে,

“টু অবভিয়াস!”

বলেই সে বাসের গতি আরও বাড়াল। বাস সোজা ওই মেয়েটার বরাবর ধেয়ে গেল। আরেকটু হলেই যেন উঠিয়ে দেবে মেয়েটার গায়ের উপর। ঠিক তখনই…
চ্যাঁৎ করে ব্রেক কষে বাসটা ঝাঁকুনি খেয়ে পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে গেল পাশ ঘেঁষে।
পরমুহূর্তেই জঙ্গল থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে বেরিয়ে এল কয়েকজন কালো পোশাকের লোক। কারও হাতে ব ন্দুক, কারও হাতে বড় বড় দা। ঠাস! ঠাস! ঠাস! করে গুলো ছুড়ল একত্রে সকলে। বাসের পেছন দিকের কাচে কয়েকটা গুলি এসে লাগল। কাচ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে ছিটকে পড়ল কিছুটা। কিন্তু বাস থামল না।
তাজধীর দাঁত চেপে ধরে গতি আরও বাড়াল।
ঝড়ের মতো ছুটতে লাগল বাসটা।ওদিকে ভিতরে ঘুম ভেঙে সবাই আঁতকে উঠল ভয়ে। চেঁচিয়ে উঠল আতঙ্কে। বাসের স্টাফ মাইকে বলল,

“সবাই প্লিজ শান্ত থাকবেন! কেউ হাইপার হবেন না! আমাদের বাসে আক্রমণ হয়েছিল, কিন্তু আমরা এখন সেফ আছি!”

এতেও কেউ দমল না। আগের ন্যায় সবাই চেঁচিয়েই যাচ্ছে সমানে।

“আমাদের সঙ্গে আছেন নেভির লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিদ্দিক আযান স্যার। উনিই নিজে গাড়ি চালিয়ে আমাদের নিরাপদে বের করে এনেছেন! আপনারা প্লিজ রিলেক্স থাকুন। আমরা ইতিমধ্যে অনেক দূরে চলে এসেছি। প্লিজ হাইপার হবেন না কেউ। সবাই নিজে নিজে জায়গায় গিয়ে বসুন।”

ভোরের আলো ফুটার সঙ্গে সঙ্গে বাস ঢুকল সিলেটে।
নির্দিষ্ট জায়গায় থামতেই সবাই একে একে নামতে লাগল। পেছনের কাচে গুলির দাগ দেখে কেউ শিউরে উঠছে ভয়ে। কেউ আবার তাজধীরের দিকে তাকিয়ে বলছে,আল্লাহ তোমাকে আমাদের জন্য পাঠিয়েছিলেন বাবা! বুড়ো মানুষরা মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করে দিচ্ছে মন ভরে। ইয়াং ছেলেরা মোবাইল বের করে সেলফিও তুলল তার সঙ্গে।
এই সময় মিতালী প্রিয়ন্তীকে ডাকল,

“এই উঠো! নামবে না প্রিয়ন্তী? এই প্রিয়ন্তী? এই চলে এসেছিতো!”

ঘুমঘুম চোখে ওড়না পেঁচিয়ে প্রিয়ন্তী নামল।
নামতেই দেখল—সবাই গোল হয়ে একজনকে ঘিরে আছে। সেলফি তুলছে কেউ। কেউ আবার দোয়া, বাহবা দিচ্ছে। প্রিয়ন্তীর মাথায় কিছুই ঢুকল না। রাতারাতি লোকটা সবার চোখে হিরো হয়ে গেল কি করে? সে ফিসফিস করে ভাবির দিকে তাকিয়ে বলল,

“ভাবি… সবাই ডাকাত ডাকাত করছে কেন?”

মিতালী চোখ গোল করে বলল,

“আল্লাহ! তুমি কোন দুনিয়ায় ছিলে প্রিয়ন্তী? রাতে তো আমাদের বাসে ডাকাত আক্রমণ করেছিল!”

“কি বলছো? ডাকাত? এমা কখন? আল্লাহ! আমাকে ডাকোনি কেন?”

এই সময় পেছন থেকে ভরাট গলায় ভেসে এল পরিচিত পুরুষালি স্বর,

“এখন বুঝলাম ডাকাতরা আসলে কেন এসেছিলো?ওরা তো আসলে আপনার জন্যই এসেছিল মিস প্রিয়ন্তী। আপনাকে নিজেদের গ্রুপের সর্দার বানাতে চেয়েছিলো বোধহয়। এত সুন্দর একজন বিয়াইন সাহেবাকে চোখের সামনেই আমরা ডাকাতদের হাতে তুলে দিতে পারি বলেন? আহারে বেচারাদের স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল! আর আপনারও ডাকাতদের সর্দার হয়ে উঠা হলোনা আর! আফসোস!”

চলবে…..

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply