ডেনিম_জ্যাকেট — পর্ব ৪৩
অবন্তিকা_তৃপ্তি
সকালের শীতল বাতাস একের পর এক হুড়মুড়িয়ে রিসর্টের কাব্য-কুহুর সেই রুমটায় ঢুকছে। ঘরটার দোর আটকে- বিছানার উপর বড্ড এলোমেলো হয়ে ঘুমিয়ে আছে দু-জোড়া শালিক চরিত্র!
কাব্য-কুহু… দুটো চরিত্র! একটা উপন্যাসে যেমন উত্থাল-পাথাল আসে, আচমকা তীব্র ঝড় এসে উল্টেপাল্টে দেয় সবটা— তেমনি করেই একটাসময়. . এমনি একটা ঝড় ওদের জীবনেও এসেছিল— উল্টেপাল্টে তছনছ করে দিয়ে গিয়েছিল এই দুটো চরিত্রের জীবন।
কিভাবে? বলছি…
কুহু…ছিল একটা চঞ্চল কিশোরী, ভীষণ হাসিখুশি, হাসতে ভালোবাসত, হাসাতেও ভালোবাসত। সে মেয়ে প্রেমে পড়েছিল তারই আপন চাচাতো ভাইয়ের উপর।
সে কে? সে কাব্য, শাহরিয়ার সিদ্দিক কাব্য। সিদ্দিক বংশের বড় ছেলে।
তারপর? তারপর একদিন. . কুহু, ওই চঞ্চল মেয়েটার মন ভীষণ বাজেভাবে ভেঙে গেল। কুহু ভীষণ-ভীষণ কষ্ট পেল; তার কোমল-নরম হৃদয়কে কজন যেন পিষে পিষে মারল ওরই চোখের সামনেই। কুহু বাঁচতে ভুলে গেল, পাশে পেল না একবারের জন্যেও নিজের শখের মানুষটাকে।
কাব্য কোথায় ছিল তাহলে তখন? সে, সে তো পালিয়ে গিয়েছিল এসব থেকে।
কুহুর মুখোমুখি হওয়ার সাহস ছিল না,হয়তো তাই পালিয়ে গিয়েছিল। তারপর. . কুহু মেয়েটা একা হয়ে গেল সম্পূর্ণ, একা একাই যু দ্ধ করে গেল নিজের ভয়ংকর ডিপ্রেশন, সু ইসাইডাল টেনডেন্সি, সা ইকোটিক মেন্টালিটির সাথে। এর মধ্যে… এসবের কোথাও কাব্য ছিল না, কখনোই না।
তবে কাব্য ছিল, কোথাও না কোথাও কাব্য কুহুর আশেপাশেই ছিল সময়টাতে। কাব্য ভেতরে ভেতরে ভীষণ অপরাধবোধে ভুগতো। ওর চোখের সামনেই— ওর এত আদরের বোন এতটা কষ্টে আছে; সেটাও কিনা ওরই জন্য— ব্যাপারটাতে কাব্য পুড়তো ভীষণ কেন যেন। বোন কেন বলছি? কারণ কাব্য কুহুকে তখন বোন ভাবতো. .তেমন চোখে দেখেইনি কখনো— অন্য কিছু আর ভাববে কি।
তারপর? তারপর কাব্যের এই অপরাধবোধ, কুহুর প্রতি এক অজানা টান— দুটো কাব্যকে টেনে নিয়ে এলো সেই কুহুর কাছেই। তখন কুহু প্রায় সামলে নিয়েছে সব। হয়ে গেছে পাথরের মতো শক্ত। কাব্য এলো, কুহু যেন চিনলোই না ওকে। কাব্যকে এড়িয়ে গেল, সামনে এলে একদলা বিতৃষ্ণা ছুড়ে দিল ছেলেটাকে।
সারাজীবন কুহুর ওর প্রতি পাগলামো দেখা কাব্য এসব… এসবে অভ্যস্ত ছিল না। ও কুহুর এই বদলানো দেখে যেন পাগলপ্রায় হয়ে গেল। ও তখনো জানতো—- কুহু ঠিক নেই। কুহু এমন পাথুরে হতেই পারে না, ও বাইরে বাইরে নিজেকে শক্ত দেখাচ্ছে— যেন সবাই বুঝে ও ভালো আছে। কিন্তু ও ভালো নেই, ওর একটা কাঁধ দরকার—যে কাঁধটা ওর একান্ত নিজের।
কাব্য জানতও— কুহু ভালো নেই। কাব্যের এই মনোভাব দৃঢ় হলো কুহুর ডিপ্রেশন, মেডিকেশন, ওর পাগলের মতো কান্না দেখার পর। আসলেই মেয়েটা তখনও গুমরে গুমরে মরছিল; শুধু বাইরে থেকে দেখাচ্ছিল ও ঠিক হয়ে গেছে।
তারপরের কাহিনি অনেকটা এগিয়ে গেল।
কাব্য বড্ড বেচারার ন্যায় একদিন নিজেরই আপন চাচাতো বোনের প্রেমে পড়ে গেল। এই যে প্রেমে পড়ল— কাব্য তো মানতেই চাইল না শুরুতে, সে কি দ্বিধা তার। অবশেষে যখন মানতে বাধ্য হলো— তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। কুহুর হৃদয়ের ভাঙা একটা টুকরো ততক্ষণে দিয়ে বসেছে আরেকটা ছেলেকে— জোরপূর্বক; শুধুমাত্র কাব্যকে পোড়ানোর জন্য।
কাব্য কেন যেন নিতেই পারল না এটা। ছিনিয়ে নিল কুহুকে, বিয়ে করলো ওকে। তারপর?
তারপর বহুদিন পর. . আজকের এই রাত . . এই সুন্দর রাতটা ওদের জীবনে এলো… রাতটা ওদেরকে বদলে দিল আগাগোড়াই। কাব্যের ভালোবাসা করলো আরো মজবুত; কিন্তু কুহুকে?
কুহু মাফ করেনি কাব্যকে এখনো। কাব্যও চেষ্টা করে যাচ্ছে নিজের স্ত্রীর রাগ ভাঙানোর— সফল খুব একটা হয়নি। তার আগেই এসব… এই রাত, রাতের উষ্ণ কিছু মুহূর্ত চলে এলো।
তারপর? তারপর? তারপর?
হঠাৎ আচমকা—- সশব্দে ঘড়ির এলার্ম বেজে উঠলো। এলার্মের ওমন বাজখাই শব্দে কুহুর আরনের ঘুমটা ভেঙে গেলো।ঘুম ভেঙ্গে আরমোড়া ভাঙতেই , কুহু হঠাৎ খেয়াল করল— সামথিং… সামথিং ইজ রং উইদ হার। পরপর খেয়াল হলো—- ওর জামাকাপড় কই? সাথেসাথেই গায়ের ব্ল্যাঙ্কেট সরাতেই খেয়াল করল— ওর গায়ে আসলেই একটা সুতোও নেই তখন।
আচমক নিজের এই করুন অবস্থা দেখে ধড়মড় করে শোয়া থেকে একদম উঠে বসে গেল; দুহাতে ব্ল্যাঙ্কেট খামচে বুকের কাছে ধরে পাশ ফিরে তাকাল— ওর পাশেই কাব্য শুয়ে আছে ভীষণ আরাম করে।
উদোম-খালি গায়ে, পড়নে শুধু ঢিলে ট্রাউজার। উপুড় হয়ে বালিশে মুখ চেপে শুয়ে আছে, ব্ল্যাঙ্কেটটা অবহেলায় কোনরকমে কোমরের কাছে পড়ে আছে। পিঠের ম্যাসাল ফুলে-ফেঁপে উঠেছে, জায়গায় জায়গায় এলোমেলো নখের আঁচড়।
নখের আঁচড়? কুহু সাথেসাথেই নিজের নখ দেখল—ওর নখ তো বড় বেশ।
ওর বুক কাঁপছে ভীষণ। এসব কি আদৌ সত্য?ওরা কি কাল রাত. . কিছু মনে পড়ছে না কুহুর। ও আবার ব্ল্যাঙ্কেটটা সরিয়ে নিজেকে দেখলো। পরপর নিজেকে নগ্ন দেখে বুঝতে আর বাকি রইল না— ঘটনা যা ঘটার, ঘটে গেছে।
ওরা সেই রাতটা কাটিয়ে ফেলেছে— যার ভয়টাই কুহু পাচ্ছিল।
কুহু কাব্যের দিকে তাকালো আবার। কাব্যের পিঠে ভীষন বাজেভাবে নখের আচর লেগেছে— কাল রাতে কি কুহুর শরীরে অসুর ভর করেছিল নাকি? এভাবে কেউ খামচায়?
কুহু মায়া নিয়ে; কেন যেন হাত বাড়িয়ে কাব্যের পিঠটা ছুয়ে দেখলো। মুখ থেকে আপনা-আপনি বের হয়ে এলো———ইস. . কত্তটা লেগেছে।’
বলেই মুখটা ভার করে কুহুর ধীরে ধীরে কাব্যের পিঠের দাগগুলি মালিশ করে দিল। ওর বড্ড মায়া হচ্ছে বেচারা স্বামীর জন্যে।
পরপর হঠাৎ কুহু কাব্যকে ছেড়ে দিয়ে দুহাতে নিজের মুখ চেপে ধরল— এটা হয়ে গেছে. . ওদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী টাইপস ওসব হয়েও গেছে? কাল রাতে আসলে কি হয়েছিল?
যতটুকু আবছা মনে আছে— কাব্যের কাছে ও নিজেই এগিয়ে এসেছিল; আদর চেয়েছিল। তারপর আর কিছু মনে নেই।
কিন্তু মানা যায়— কুহু মাতাল ছিল, হুঁশে ছিল না, আদর চাইতেই পারে আবেগে মাতাল হয়ে। তাই বলে কাব্য… কাব্য ভাই তো হুঁশে ছিলেন। উনি ইচ্ছে করেই… ইচ্ছে করেই এগুলো? যেন পরে সব দোষ কুহুর মাতলামোর উপর চাপানো যায়? হুহ. . শেয়ানা লোক। পুরুষ মানুষ এমনই হয় সবসময়। এসবের দিকেই ওদের ফায়দা তোলার চাহিদা থাকে তুঙ্গে. . মুখে বলে কত বড়বড় বানি। অথচ যেই সুযোগ পেল— ওমনি লুফে নিয়েছে। কেন? লেবু পানি খাওয়ানো যেত না তখন? খাওয়াবেন কেন. . সামনে এত লোভনীয় অফার থাকলে।
পরপর কুহুর নিজেই নিজেকে তিরস্কার করে গেল———‘কুহু… কুহু…মেরি মা. . এটা কী করে ফেললি তুই! কাব্য ভাইয়ের কাছে মাফ চাইলেন না, কিছু না— তারপরও তুই এসব করে ফেললি তার সাথে !’
নিজের উপর রেগে নিজেই নিজের মাথার চুল খামচে ধরলো কুহু। পরপর নিজেকে ধিক্কার দিতে লাগল— ‘এত হ্যাংলা হলি কবে থেকে তুই? নিজে থেকে… ছিঃ! তার কাছে তুই ছোট হয়ে গেলি কুহু। তার কী? সে না চাইলেও সবটা পেয়ে গেল। তুই কী পেলি যখন চেয়েছিলি? সে পালিয়ে গিয়েছিল কুহু— তুই কিছু চাওয়ার আগেই। সবকিছুতেই তার লাভ হলো; তোর কী লাভ হলো? হতাশ আমি তোর উপর কুহু, ভীষণ হতাশ। আমি উনাকে এখন মুখ দেখাবো কি করে?’
কুহু তারপর কাব্যের পিঠের দিকে চেয়ে বড্ড আফসোস নিয়ে বলল——-‘তার উপর এমন ভার খামচেছিস. . যেন শিয়াল তুই। এই শয়তান— তোর উপর কালকে কি ভর করেছিল? প্রুভ রাখলি কেন? তোর প্রমাণ করাই লাগবে যে— কাল রাতে তুই জেচে গেছিলি উনার কাছে? হায়া নেই তোর?’
কুহুর এমন বকবক করে বলা কথাটাতে কাব্য নড়েচড়ে আবার ঘুমিয়ে গেল। কুহু তাই সাথেসাথেই চুপ হয়ে গেল।
যা হবার হয়েই তো গেছে। এখন আর কপাল চাপড়ে কি হবে! উঠে ফ্রেশ হতে হবে—- তাই কুহু কোনোমতে ব্ল্যাঙ্কেট চেপে শরীর মুড়িয়ে ঢেকে ওয়াশরুমে যাওয়ার আগে হঠাৎ লক্ষ করলো—- কাব্যের ফোনে আলো জ্বলছে।
কুহু ভ্রু কুঁচকালো। এত সকালে ফোনের আলো জ্জলছে, ক্যামেরা অন করা কেন। ও ফোনটার দিকে ব্ল্যাঙ্কেট মুড়িয়ে জড়ানো অবস্থাতেই এগিয়ে গেল। ফোনটা চার্জ থেকে খুলে হাতে নিয়ে দেখল— ভিডিও চলছে। ভিডিওর ডিউরেশন: ৯ আওয়ার্স।
কুহুর ভ্রু এবার পুরোপুরি কুঁচকে গেল। নয় ঘণ্টা… মানে— কাব্য ভাই আর ও যখন একসাথে রাত কাটাচ্ছিল তখনকার…! কুহু আটকে উঠল রীতিমতো!
ও তড়িঘড়ি করে ফোনের গ্যালারিতে ঢুকলো। ভিডিও সেভ হয়ে গেছে ততক্ষণে। কুহু ব্ল্যাঙ্কেট একহাতে চেপে ধরে কাঁপতে থাকা হাত দিয়ে ভিডিওটা ওপেন করল।
ভিডিওতে আওয়াজ খুব মিহি— স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না। কিন্তু কুহু-কাব্যকে দেখা যাচ্ছে। কুহুকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে কাব্য বারবার ফোনের দিকে তাকাচ্ছে। কুহু মুখ ফুলিয়ে কিছু বলছে— কাব্য না শুনেই ওর মুখ চেপে থামিয়ে দিয়েছে।
কুহুর মনে পড়ল— ও কি কোনোভাবে ফোনের ভিডিও বন্ধ করতে বলেছিল? হয়তো, মনে নেই ওর।কিন্তু তাও কাব্য ভাই ভিডিও করে গেছেন? এই ভিডিওর মানে কী? কুহু আবারো ভিডিওর দিকে তাকাল।
কাব্য ভাই যখন কুহুর পরনের কাপড় খুলছিলেন— সেসময়ের পুরো ঘটনাটা স্পষ্ট ভিডিওতে ধরা।এমনকি কুহুর পরনের কাপড় খোলার পরের কাজ, কাব্য ভাই ওর নগ্ন শরীরে চুমু খাচ্ছেন— শুরু থেকেই পুরো ভিডিও দেখল কুহু। গতকাল রাতের ওদের রাসলীলার সম্পূর্ণটাই ভীষন স্পষ্ট করে ভিডিও করা হয়েছে।
কুহুর পুরো গা শরীর কাপছে রীতিমত। কাপতে কাপতে ওর হাত থেকে থরথরিয়ে ফোনটা পড়ে গেল মেঝেতে—মেঝেতে ফোনটা পরে গিয়ে ভীষণ শব্দ তুললো।
ফোনের এমনভাবে মেঝেতে ছিটকে পড়ায় কাব্য ধড়ফড়িয়ে ঘুম থেকে উঠে বসে গেল— ‘কি… কি হয়েছে?’
কুহু তখকো মূর্তির মতো তাকিয়ে আছে সামনে; ওর হাত তখনও কাঁপছে ভয়ঙ্করভাবে। একহাতে কোনরকমে ব্লাঙ্কেট চেপে রেখেছে, তাও হাতের বাধনে ঢিলে হয়ে আসছে ব্লাঙ্কেট, যেকোনো কুহূরতেই খুলে পরে যাবে যাবে ভাব।
কাব্য কুহুকে একবার দেখলো, তারপর দেখলো মেঝেতে পড়ে থাকা ফোনের দিকে। পরপর আহাম্মক হয়ে কুহুর দিকে তাকাল— সাদা ব্ল্যাঙ্কেট কোনরকমে গায়ের সঙ্গে চেপে ধরে কুহু সোজা তাকিয়ে থরথর করে কাঁপছে। ও যেন নিজের এই নাইন আওয়ার্স নগ্ন রাসলীলার ভিডিও দেখে আশপাশটাই ভুলে বসেছে। চোখের পলক ফেলাই যেন ভুলে গেছে রীতিমত।
কাব্য বুঝে গেল যা বোঝার। ও দৌড়ে বেড থেকে নামলো, কুহুর সামনে এসে সাথেসাথেই দুহাতে ব্লাঙ্কেট ঠিক করে; ব্লাঙ্কেট সহ কুহুকে চেপে ধরল নিজের সাথে, মাথায় হাত বুলিয়ে দ্রুত বলে গেল———— ‘কুহু… জান, ওটা ভিডিও অন্য কারণে। তুই যা ভাবছিস এসব কিছু না। শান্ত হো; রিল্যাক্স।’
কুহু নিথরের মতো কাব্যের বুকের কাছে পড়ে আছে; দুহাতে ব্ল্যাঙ্কেট বুকের কাছে ধরে রাখা, ওর চোখ তখনো স্থির;যেন মূর্তি হয়ে গেছে একদম।
কাব্য ক্রমাগত কুহুর মাথায় হাত বুলিয়ে একের পর এক বলে যাচ্ছে— ‘কুহু… শান্ত হো; রিল্যাক্স! ওটা তেমন কিছুর জন্য না, জান। ট্রাস্ট মি— আমি ওসব কিছুর জন্য ভিডিও করিনি রিল্যাক্স! আমি বলছি রিল্যাক্স হো। আমি এক্সপ্লেইন করছি সব।’
কুহু তখনও পাথরের মতো মেঝেতে পড়ে থাকা ফোনের দিকে চেয়ে আছে। ও অনেকসময় পর হঠাৎ কেমন পাথরের মতো বলে উঠলো— ‘আ. . -আপ. . আপনি আমার এম. .. .এমএমএস বা. .ব. . বানাচ্ছিলেন, কাব্য ভাই।’
‘হোয়াট?’ — কাব্য হতবম্বের মতো তাকালো মাথা নামিয়ে বুকের উপর পরে থাকা কুহুর দিকে।
পরপর ভীষণ আশ্চর্য হয়ে বলল— ‘তুই আমার ওয়াইফ কুহু; তোর এমএমএস বানিয়ে আমি কী করবো? আমার কী লাভ এতে; উল্টো আমার সম্মান যাবে। তুই একটু রিল্যাক্স হো এখন… ঠান্ডা মাথায় বস… আমি বলছি শোন তো?’
কুহু সাথেসাথেই গায়ের জোরে কাব্যকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল। কাব্য আচমকা এমন ধাক্কায় ছিটকে পড়তে পড়তে নিজেকে সামলাল— তাকাল অবাক হয়ে মাথা তুলে কুহুর দিকে।
কুহু দুহাতে ব্ল্যাঙ্কেট চেপে ধরে নিজেকে আড়াল করে কাব্যের থেকে, যেন কাব্য ওকে ওভাবেই দেখেছে দেখেই ওর ঘেন্না হচ্ছে। কুহু ভাবছিল— কাব্য ওকে ওই চোখে দেখছে— যে চোখে খারাপ ছেলেরা দেখে একটা মেয়েকে।
কাব্য কুহুকে এমন নিজেকে আড়াল করতে দেখে সাথেসাথেই এগিয়ে বলতে গেল— ‘কুহু… এমন করিস না জান! প্লিজ একটাবার আমার কথা তো শোন।’
কুহু শোনে না। ও পাগলের মতো চারপাশে নিজের কাপড় খুঁজতে থাকে। একসময় পেয়েও গেল একপাশে। ওটা নিয়ে কাব্যের দিকে ভয়ে ভয়ে তাকিয়ে সাথেসাথেই বাথরুমে ঢুকে গেল।
কাব্য হতবম্ব হয়ে দেখল পুরোটা। ও দ্রুত মেঝে থেকে ফোন তুলে অন করল। ভিডিও চালু করল— অথচ অন করেও দেখে ভিডিওতে স্পষ্ট সাউন্ড শোনা যাচ্ছে না। কাব্য সাথেসাথেই নিজের কপাল চাপড়াল, ও তো ভুলেই গেছিল— ওর তো ফোনে সমস্যা হচ্ছিল কদিন ধরে, আওয়াজ শোনা যায় না ভিডিওতে, মেবি ফোনের ইন্টারনাল সাউন্ডে সমস্যা; সাউন্ড ক্যাপচার করতে পারে না।
কাব্য সাথেসাথেই ফোনটা সোফার উপর ছুড়ে ফেলে বিছানায় দুহাতে কপালে চেপে বসে পড়ল। এটা… এটা কী করে ফেলল ও! এখন… এখন কুহুকে সামলাবে কী করে ও? কাব্যের এবার ভাবতেই ভয় লাগছে। কুহুর রাগ এবার যে-সে নয়, এটা অন্তত বুঝে গেছে।
কুহুর জায়গায় অন্য মেয়ে থাকবে সবারই একই ভয় হবে— ভিডিওটাই এমন। কোনো মেয়ের কাছেই এমন একটা ভিডিও থাকা মানেই ভয়ংকর ব্যাপার— স্বামী হলেই। দু একটা ক্লোজ পিকচার থাকা, আর সম্পূর্ণ একটা ভিডিও থাকা— দুটো ভিন্ন। কাব্য নিজেও বুঝে সেটা। আর কাব্য কি বলবে। কুহু তো এখনো কাব্যকে পুরোপুরি বিশ্বাস করে উঠতে পারেনি। ঊর্মির কাছে পাচার হওয়া সব কথার হদিস কাব্য কুহুকে প্রমাণ করতে পারেনি এখনো— কীসের ভিত্তিরে বলবে কুহুকে বিশ্বাসের কথা।
কাব্য জানে, ও তেমন কিছু ভেবে ভিডিও করেনি। খোদা… কাব্যের নিজেকেই এবার পাগল পাগল লাগছে। ও পাশ থেকে শার্ট তুলে সেটা তড়িঘড়ি পরে নিল— নাহলে কুহু এটা নিয়েও যদি অন্য কিছু ভাবে। শার্ট পরে অপেক্ষা করতে লাগল কুহুর বাথরুম থেকে বেরোনোর।
কুহু শাওয়ার নিয়ে বেরোল অনেকক্ষণ পর। বেরুতেই কাব্য এগিয়ে গেল সাথেসাথেই— ‘কুহু… ঠান্ডা মাথায় প্লিজ একটাবার কথা তো শোন আমার।’
কুহু হাত বাড়ালো কাব্যের দিকে, অত্যন্ত ঠান্ডা কণ্ঠে বলল— ‘ফোন কোথায় আপনার? দিন এটা।’
কাব্য ভ্রু কুঁচকে তাকালো; ওভাবেই ফোনটা তুলে দিল কুহুর হাতে। কুহু ফোন নিয়েই ভিডিও ডিলিট করে দিল। পরপর কাব্যের যত মেমরি সেভ অপশন ছিল সবগুলো থেকেও একে একে ডিলিট করে দিল।
সেটা করেও যখন শান্তি মিললো না, তখন রাগের মাথায় ফোনটা ছুড়ে ফেলল মেঝেতে। কাব্য আচমক এমন করে ফোন ভেঙ্গে ফেলাতে আঁতকে ইথে হতবম্ব হয়ে তাকাল নিজের ভেঙে গুঁড়িয়ে যাওয়া ফোনটার দিকে। কুহু আবার গিয়ে ওই ভাঙা ফোনটাই তুলে আবার আছাড় মারল—পরপর কয়েকবার। এখন ফোনটার অবস্থা একদমই রফাদফা। কাব্য স্রেফ তাকিয়ে দেখল— বাধা দিতে পারল না কেন যেন।
ইচ্ছামত ফোনের নাশ-বিনাশ করে কুহু হাপাতে হাপাতে এবার সোজা তাকালো কাব্যের দিকে। কাব্যও তাকাল একইসাথে। কুহু উঠে এসে কাব্যের মুখোমুখি হয়ে দাঁড়ালো। চোখে চোখ রেখে ভীষণ ঠান্ডা স্বরে বলল— ‘এবার বলুন… এমএমএসটা কার জন্যে বানাচ্ছিলেন?’
কাব্য ভ্রু কুঁচকাল— ‘কার জন্যে মনে? আমি এমএমএস বানাচ্ছিলাম না। আর আমি আমার ওয়াইফের এসব ভিডিও কেন কাউকে দিব বা বানাব কারোর জন্যে? বি রিয়েল কুহু, প্লিজ।’
কুহু সাথেসাথেই কাব্যের কলার চেপে ধরলো। কাব্যের কথা থেমে গেল, ও চোখ কুচকে তাকাল কুহুর কলার চাপা হাতটার দিকে। কুহু একপ্রকার গর্জে উঠে বলল— ‘ঊর্মি আপুর জন্যে যখন এতই ভালোবাসা উথলে পরে— তো আমাকে বিয়ে কেন করেছিলেন? আর কাল রাতের এসব…’
কাব্য চোখ কুচকে তাকিয়ে থাকে কুহুর দিকে। কুহুর চোখ টলমল করে ওঠে হঠাৎ, ভাঙা গলায় বলে উঠে———- ‘আমাদের এই মুহূর্তটাকেও শেষপর্যন্ত নোংরা করে দিলেন, কা. . কাব্য ভাই?’
কুহুর গলা কাপছিলো ভীষণ। কুহুর টলমলে ভেজা চোখ দেখে কাব্য চোখ থেমে গেল হঠাৎ, ও স্থির চোখে কুহুর দিকে চেয়ে রইল— অবাক হলো না সম্ভবত, শুধু কথা হারিয়ে গেল ওর মুখ থেকে।
কুহু কাব্যের কলার ছেড়ে দিলো, আবার ওর মুখের দিকে চেয়ে রইল। কাব্য শার্ট ঠিক করলো। কুহু নাক টেনে, চোখের জল ফেলে নিজের মতো বলে গেল— ‘কালকে… কালকে আমি… ভেবেছিলাম… ভেবেছিলাম আমি এগিয়ে এসেছি আপনার কাছে! আমি হয়তো আজকের এই রাত নিয়ে আপনাকে কোনো প্রশ্ন করতাম না— ভাবতাম সবটা আমার দোষ। আমি গাধা, নিজেকে সামলাতে পারিনি— তাই এগিয়ে এসেছি। আপনি ফেরেশতা- আমি মেনে নিতাম সেটা।’
কুহু থামল, কাব্যের চোখের দিকে চেয়ে ভাঙার কণ্ঠে চুড়ান্ত বিধ্বস্তের ন্যায় বলে উঠল———-‘কিন্তু এটা… এটা আপনি কী করে ফেললেন কাব্য ভাই? আমাদের… আমাদের এমন একটা মুহূর্ত আপনার কাছে একটা থার্ড ক্লাস ভিডিওর মতো? কিন্তু আমার কাছে না কাব্য ভাই, কখনোই না।’
কাব্য এবার বলতে চেষ্টা করল,দু পা এগিয়ে এসে বোঝানোর চেষ্টা করে বলল— ‘আমি… ভিডিও অন্য কারণে করেছি। তুই যা ভাবছিস তা না।’
কুহু হাসল; কাব্য ও হাসি দেখলো চুপ করে। কুহু কিছুক্ষণ পাগলের মতো হেসে বলল———— ‘হ্যাঁ, আমি তো ভুলেই গেছিলাম— আপনি তো বিবিসি। আজ কুহু এই করছে, কাল কুহু সেই করেছে— তা তো ঘণ্টায় ঘণ্টায় আপডেট দিতে হয় আপনার বেবি ঊর্মি আপুকে— রাইট?’
কাব্য তাকিয়ে রইল কুহুর দিকে, পরপর ভীষণ শান্ত কণ্ঠে বলল— ———-‘তোর-আমার বিয়ে, আজকের এই রাত— এতকিছুর পরেও তোর এটা মনে হয়, ঊর্মি আর আমি. . .!’
কুহু সাথেসাথে গর্জে উঠে বলল— ‘মনে হতো না… এতদিন এমন এসব হতো না। ভাবতাম আপনি সত্যি বলছেন, সত্যিই আমাকে কেয়ার করেন, আমাকে ভালোবাসতে শুরু করেছেন। বিশ্বাস করুন, হয়তো আর কয়েকটা দিন গেলে আমি আপনাকে নিজের অনুভূতি কনফেস করতাম—আপনার নিজের নির্দোষ হবার প্রমাণও দিতে হতো না, আমিই সব ভুলে যেতাম— দিতাম এই সম্পর্ককে একটা সুযোগ। সত্যি দিতাম কাব্য ভাই।’
কাব্য কুহু বলল— ‘আজ আবার… আরও একবার আপনি আমার বিশ্বাস ভেঙে দিয়েছেন কাব্য ভাই। আরও একবার আমাকে আমার সামনে ছোট করে দিয়েছেন আপনি।’
কাব্য এবার অধৈর্য হয়ে বলে——-‘আল্লাহর দোহাই লাগে- আমার কথাটা একবার শোন। বিশ্বাস কর— ভিডিও আমি অন্য কারণে করেছি, তুই যা ভাবছিস ওই নোংরা কারনে নয় কুহু।’
কুহু থামলো; পরপর নিজের এলোমেলো ভেজা চুল পেছনে খামচে ধরে ঠেলে দিয়ে পাগলের ময় আচরণ করে বলল——-‘বিশ্বাস? আচ্ছা? কেন করব আমি আপনকে বিশ্বাস? বলুন কেন করব? কি করেছেন এখন অব্দি আমার বিশ্বাস করার মতো? বলুন,উত্তর দিন।’
কুহু পরপর হাতে গুণে-গুণে বলতে থাকে——‘আমি আপনাকে প্রপোজ করেছিলাম; ঊর্মি আপু জানত। আমি সুইসাইড করেছি সেটা ঊর্মি আপু জানত। আমি আপনার সাথে যা যা কথা বলতাম সবটা জানত ঊর্মি আপু। আমার সম্পর্কে যা শুধু আপনি জানার কথা- ঠিক তাই তাই ঊর্মি আপু জানত। আপনি বিবিসি জানালার মতো সব খবর ঊর্মি অপুকে পাই টু পাই শেয়ার করতেন। অথচ আপনি বলেছিলেন তার সাথে আপনার চার বছর ধরে সম্পর্ক নেই, কিন্তু সাতমাস আগেও আপনার তার সাথে গলায় গলায় মাখোমাখো খাতির ছিলো যে— আপনি আপনার ঘরের মেয়ের কথা জানিয়ে বেড়াতেন তাকে। তারপরে কেন করব আমি আপনাকে বিশ্বাস? শুধু মুখের কটা মিঠা বুলি শুনে? সরি. . আমি কুহু ওই মিঠা বুলির ফাদে পড়া ফেইজ- অনেক আগেই পার করে ফেলেছি কাব্য ভাই। ব্যাড ফর ইউ।’
কাব্য আবার এগিয়ে যেতে লাগল, কুহু সরে গেল দু পা। কাব্য থেমে গেল,দূরে থেকেই কুহুর দিকে চেয়ে বলল— ‘ঊর্মির সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই কুহু। আর এই ভিডিও— এটা মিসআন্ডারস্ট্যান্ডিং মাত্র। আমি করেছিলাম যেন তোকে সকালে প্রুভ দিতে পারি যে আমি তোর ফায়দা তুলিনি। দ্যাটস ইট।’
কুহু মাথা তুলে তাকাল, কাব্যের দিকে চেয়ে থেকে হত্যাত হেসে উঠে বলল— ‘ফায়দা? ওটা তো আপনি তুলেননি… আমি আমার ফায়দা তুলেছি আপনার সামনে নিজেকে নগ্ন করে… আপনার সাথে শুয়ে। যার প্রমাণ এই ভিডিও।’
‘শাট আপ কুহু!’ — কাব্য এবার না চাইতেও ধমকে উঠল প্রচণ্ড জোরে।
‘নো, আই উইল নট। আপনি এমন একটা হাসবেন্ড, সরি পুরুষ— যার কাছে নিজের স্ত্রীর গোপনীয়তা নেই, যার কাছে স্ত্রীর গোপনীয়তা গার্লফ্রেন্ডের কাছে হাঁসির খোরাক মাত্র।’
কুহু থামে; পরপর কাব্যের চোখে চোখ রেখে আবার বলল——-‘আপনার মনে নোংরামি রেখে আমাকে ওভাবে না ছুলেও পারতেন কাব্য ভাই। যদিও আমি এগিয়ে এসেছি, তাও বিষ খাইয়ে মেরে দিতে পারতেন— তবুও এভাবে ছুতেন না। ভালো হত; অন্তত আমার নিজেকে নোংরা লাগত না নিজের কাছেই।’
কাব্য কথাই বলা ভুলে গেল যেন; ———‘আম. .আমার স্পর্শ তোর কাছে ন. . নোংরা লাগছে?’
কাব্য আর বলতে পারলো না। পরপর কয়েকটা ঢোক গিলে চুপ হয়ে গেল। কুহুও এরপর উত্তর দিল না।কাব্য এরপর আর একটা কথাও বলতে পারলো না। ও ভাঙা একটা চূর্ণবিচূর্ণ মন নিয়ে স্রেফ মূর্তির মতো দাড়িয়ে রইলো। কুহু এগিয়ে এসে ফোনের একটা পার্ট মেঝে থেকে তুলে এনে কাব্যের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল————‘আহারে. . আপনার ভিডিও করাটা পুরোটাই বৃথা গেল— মিস্টার শাহরিয়ার সিদ্দিক কাব্য। বড্ড আফসোস— আপনার প্রতি আর আপনার প্রেমিকার প্রতি। আফসোস, আফসোস, আর ধিক্কার!’
কুহু ফোনটা মেঝেতে আবার ফেলে দিয়ে গটগট পায়ে একটা চাদর জড়িয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।
কাব্য ওভাবেই দাঁড়িয়ে রইল— স্থির; মুখে আর একটা কথাও বের করতে পারল না। আজ শাহরিয়ারের হৃদয় আজ ভীষণ— ভীষণ বাজেভাবে ভেঙেছে।
কাব্য একটা ঢোক গিলে পাশ ফিরে নিজেদের বেডের দিকে তাকাল। পরমুহূর্তে রাতের একেকটা সুন্দর, গোপন মুহূর্ত কুহুর সাথে কাটানোর কথা মনে পড়ল ওর। কুহু ওর সাথে ছিল পুরোটা রাত— কাব্যের কাছে এই রাতটার তুলনা অন্য কোনো রাত দিয়ে করা যাবে না কোনোদিন। অথচ কুহু. . কত সহজে এই রাতটাকে নোংরামু বলে চলে গেল। নিজেকেও কাব্যের স্পর্শতে নোংরা বলে গেল।
কত সহজ না? কারোর হৃদয় ভাঙা? কাউকে একদম গোড়া থেকে ভেঙ্গে দেওয়া, গুঁড়িয়ে দেওয়া? কত সহজ।
কেউ তোমাকে সবটা দিয়ে ভালোবাসতো; তারপর তুমি তার ভালবাসাকে নোংরা আখ্যা দিয়ে চলে গেলে নিজের মতো— একবার ভাবলে না – যাকে কথাগুলো বললে তার কেমন লেগেছে এটা শোনার পর। একটাবারও ভাবলে না—- সে এসব শোনার পর ঠিক কতটা টুকরো হয়েছে?
গতকালের কাব্যের ভয়ই ঠিক! কুহু ওর স্পর্শকে নোংরা বলেনি। বরং তার থেকেও বড়কিছু—- ওর মন; ওর চিন্তা-চেতনা, ওর ভালোবাসাকে নোংরা বলে চলে গিয়েছে। কাব্যকে নিজের চোখেই এতটা নিচে নামিয়েছে যে— কাব্য এ জীবনে ওর স্ত্রীর চোখে আর চোখ মেলাতে পারবে না— কখনোই না। আর জীবনে হয়তো— ও ওইভাবে কুহুকে ভালোবাসতে পারবে না। ওর মনে হবে— ওর ভালোবাসটা নোংরা; বিনা দোষেই নোংরা! বারবার মনে হবে— কুহু ওকে ঠিক কোন পর্যায়ে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
এ ব্লাডি এমএমএস ব্ল্যাকমেইলার
আহ! কাব্য হেসে উঠে আপনমনে। কোমরের দুপাশে হাত চেপে সিলিংয়ের দিকে হা করে একটা শ্বাস টানল নিজের মধ্যে। আজ কাব্য হেরে গেছে. . বড্ড, বড্ড করুনভাবেই হেরেছে।
মন থেকে অভিমান মোছা যায়; বিষ কি শুষে নেওয়া যায়? মনে কতটা বিষ রাখতে পারলে— ছোটকাল থেকে চেনা একটা ছেলেকে ব্লাডি ব্ল্যাকমেইলার, এমএমএস পাচার করা হাজব্যান্ড ভাবতে পারে— জানা নেই কাব্যের। কতটা ঘেন্না পুষে রাখলে ঠিক এমনটা ভাবা সম্ভব? ঠিক কতটা? কতটা… কতটা?
কাব্য কোমর গুটিয়ে বসে পড়ল মেঝেতে। ফোনের পার্টগুলো একে একে তুলতে থাকে নিজের মতো। ফোনটা এতদিন ও নিজেও কোনদিন শত রাগেও ভাঙেনি— অনেক জরুরি ফাইল; মডেল আরও জরুরি জিনিস থাকায়। আজ ভেঙ্গে গেল, কেউ ভাঙল।
কাব্য ফোনের স্ক্রিন তুলে দেখে— পুরো স্ক্রাচ এ ভরে গেছে। আর ইউজ করা যাবে না সম্ভবত।
ফোনের স্ক্রাচ এ হাত দিতে গিয়ে হঠাৎ একফোঁটা পানি ফোনের ভাঙা স্ক্রিনে এসে পড়লো। কাব্য হঠাৎ চমকে উঠল; সাথেসাথেই নিজের চোখ কোণ মুছে নিল। জল. .চোখ থেকে পানি পড়েছে কখন? পুরুষরা তো কাঁদে না:এটাই নিয়ম। কাব্য তো কাদেনি—তাহলে পানি এলো কিভাবে, কোত্থেকে? কাব্য সাথেসাথে চোখের কোণ মুছে উঠে দাঁড়ায়। ফুসে উঠে আচমকা রাগের মাথায় গর্জে উঠে ফোনটা হাতে তুলে রীতিমত ছুড়ে ফেলল জানালার বাইরে, সজোরে।
চলবে
সবাই রিঅ্যাক্ট-বড় কমেন্ট করবেন।
একটা ভুল বোঝাবোঝি, সারাজীবনের কান্না। লেখিকা নির্দোষ এখানে। কাব্যের এই কষ্টটা পাওয়ার ছিলো বলেই পেয়েছে হয়তো।
কুহু ওভাররিঅ্যাক্ট করেছে ঠিকই, তবে ওর জায়গায় ও কিছুটা হলেও ঠিক। কুহুকে গা-লি দেওয়ার আগে নিজেকে ওর জায়গায় একবার দাঁড় করাবেন! আমি আজকের পর্ব কুহুকে ক্লিয়ার রাখার ট্রাই করেছি; জানিনা পাঠক কতটুকু ওকে ধরতে পারবেন।
Share On:
TAGS: অবন্তিকা তৃপ্তি, ডেনিম জ্যাকেট
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ১০
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৩২
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ২৪
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৩৩
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৪
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৮
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ২৯
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৩৮
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৩৭
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ১৬