১১.
ডার্কসাইডঅফ_লাভ
দূর্বা_এহসান
অতিরিক্ত নিডস পূরণ করতে না পেরে যখন তরু জ্ঞান হারালো তখন হুস ফিরলো মৃন্ময়ের। তরুর মুখের দিকে তাকালো। চোখ খিঁচে বন্ধ করলো মৃন্ময়। তারপর খুলে তরুর গালে হাত রাখলো।
–আরেকটু, ওঠো ! চোখ খোলো তরু।এমনে ফিল আসে না।
আজিব!জ্ঞান হারানো মানুষ ওর বলাতেই উঠে পরবে?কিছুক্ষণের মধ্যে মৃন্ময় জোরে একটা নিশ্বাস ছেড়ে শরীর ছেড়ে দিলো তরুর উপর।ঘেমে যাওয়া শরীরটা ওভাবেই শক্ত করে জরিয়ে ধরলো তরুকে।নরম বুকে মুখ গুজলো মৃন্ময়।
– সেন্সলেস হওয়ার সময় পেলে না আর!তোমার নিশ্বাসের শব্দ,তোমার ছটফটানি,তোমার চিৎকার না শুনলে হয়?বলো। নেক্সট টাইম ভুল সময়ে সেন্সলেস হওয়ার জন্য পানিশ করবো তোমাকে।উহু আমি না,লিটল মৃন্ময় পানিশ করবে।
– তোর বউ তুই পানিশ কর।আমাকে কেন মাঝ খানে টানছিস?
– শান্তি কে পায়?
আর কোনো কথা হলো না। গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলো মৃন্ময় তরুকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে।সামান্য দুরত্ব টুকু রাখলো না সে মাঝে।
বেলা গড়িয়ে যখন দুপুর।তখন চোখ খুললো তরু। দরজায় কেউ ডাকছে।কোনরকম মৃন্ময়ের নিচ থেকে বেরোলো সে। শরীরে আর একটু শক্তি নেই যে বিছানা থেকে নেমে দাঁড়াবে। কোমরের নীচ পর্যন্ত যেনো একদম অবশ হয়ে গেছে। রেগে তাকালো মৃন্ময়ের দিকে।তাকে অশান্তি তে ফেলে নিজে এখন শান্তিতে ঘুমাচ্ছে।
তরুর ইচ্ছে হলো এক্ষনি কিছু একটা করে দেবে মৃন্ময়ের সাথে। সেই উদ্দেশ্যে নড়তে গিয়েই,
– ও মাগোওওওওওও
ব্যথায় চিৎকার দিয়ে উঠলো।সাথে সাথেই মুখ চেপে ধরলো। মৃন্ময়ের কান অব্দি কিছুতেই পৌঁছতে দেওয়া যাবে না।নাহলে চোখ খুলে তরুকে ড্রেসলেস দেখে না জানি আবার!
তরু শরীরের সব টুকু শক্তি দিয়ে উঠে দাড়ালো।কয়েক কদম এগোতেই ব্যথায় শরীর ঝাঁকি দিলো। বিছানার কোনা থেকে জামাটা তুলে নিলো। কে যে ডাকছে দরজায়!
জামাটা গায়ে দিতেই যাবে ঠিক সেই মুহূর্তে তরু রজনীর কন্ঠস্বর শুনতে পেলো। হাত থেমে গেলো ওর।দরজার দিকে বিরক্ত চোখে তাকালো। এই মেয়ের সামান্য ডাক তাকে বিরক্ত করে দিচ্ছে।
কি যেন ভেবে হাত থেকে জামাটা নামিয়ে রাখলো তরু। বিছানার দিকে তাকালো একবার। মৃন্ময় উবুড় হয়ে শুয়ে আছে, গভীর ঘুমে। বুকের ওঠানামা দেখে বোঝা যাচ্ছে ক্লান্তি এখনও কাটেনি।
ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলো সে। পা ফেলছে খুব সাবধানে, যেন শব্দ না হয়। ড্রেসিং টেবিলের ওপর পড়ে থাকা সাদা শার্টটা তুলে নিলো। শার্টে এখনও মৃন্ময়ের গায়ের গন্ধ লেগে আছে। এক মুহূর্ত থামলো। তারপর খুব ধীরে সুস্থে গায়ে জড়িয়ে নিলো শার্টটা।
উপরের দুটো বোতাম খুলেই রাখলো। আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। ড্রেসিং মিররে নিজেকে দেখলো মন দিয়ে। হাঁটুর নিচ পর্যন্ত নেমে গেছে শার্টটা। সরু পা দুটো খোলা। এলোমেলো চুল কাঁধ ছুঁয়ে আছে। খোলা বোতামের ফাঁক দিয়ে ঘাড়, গলা আর বুকের একটা অংশ চোখে পড়ছে।
সেখানেই চোখ আটকে গেলো। কামড়ের দাগগুলো লুকোনোর কোনো চেষ্টা করেনি সে। উল্টো আরও স্পষ্ট লাগছে। ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে নিজেই একটু অবাক হলো। হালকা ফোলা, লালচে। দেখলেই বোঝা যায় কতটা অযত্নে আদর করা হয়েছে।
তরু নিজের ঠোঁটের কোণে অজান্তেই হালকা একটা হাসি টেনে আনলো। পিছনে তাকালো আবার বিছানার দিকে। মৃন্ময় এখনও নড়েনি।
ধীর পায়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেলো।ঠোঁটের কোণে সেই হাসি টা রেখেই দরজা সামান্য খুললো।
কফি হাতে দাঁড়িয়ে থাকা রজনী দরজা খোলার সাথে সাথেই কোনো দিকে না তাকিয়ে রুমে ঢুকে গেলো। বিছনায় মৃন্ময়কে দেখে সেদিকে গেলো। হঠাৎ ওর চোখ গেলো মৃন্ময়ের পিঠে। যেখানে তরুর নখের আঁচড়।কতগুলো নতুন। রজনী থেমে গেলো।
কিছু একটা চোখে পড়েছে, ঠিক কী বুঝে উঠতে না পেরে রজনী ধীরে ফিরে তাকালো। তখনই খেয়াল হলো। দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তরু। সাদা শার্টটা ওর নিজের নয়, সেটা বুঝতে এক মুহূর্তও লাগলো না। হাঁটুর নিচে নামা শার্ট, খোলা বোতাম, এলোমেলো চুল।
রজনীর চোখ একটু বেশি সময় আটকে থাকলো। ঘাড়ের কাছে, তারপর ঠোঁটে। ও বুঝতে পারলো, কিন্তু কিছু বললো না। কেবল ভ্রু দুটো সামান্য কুঁচকে গেলো, আবার নিজেকে সামলে নিলো।
কফির মগটা টেবিলে নামিয়ে রাখলো ধীরে।
–আমি তো ভাবছিলাম…
কথা শেষ করলো না।তরু তখনও আগের মতোই দাঁড়িয়ে। ঠোঁটের কোণে সেই চাপা হাসি। রজনীর দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বললো,
–ও এখনও ঘুমাচ্ছে।
এগিয়ে এলো তরু।বিছানার কোনায় বসলো।তার পক্ষে ব্যথা নিয়ে দাড়িয়ে থাকা সম্ভব হচ্ছে না।তরুর হাঁটার ভঙ্গি দেখে রজনী চোখ নামিয়ে নিলো।
– বিবাহিত দম্পত্তির রুমে এভাবে হুট করে কেউ ঢোকে?
রজনী তীক্ষ্ণ চোখে তাকালো। ওর মুখের ভাব মূর্তি পাল্টে গেছে।নিজেকে সামলে বললো,
– কাছের মানুষের রুমে কিভাবে ঢুকতে হয়?
কাছের মানুষ! তরু চাইলো শোনা শব্দটাকে এড়িয়ে যেতে।কিন্তু পারলো না।কোথা থেকে যেনো বার বার এসে কানে বাজতে লাগলো।
– কাছের মানুষ?
– হ্যাঁ
–ওহ আচ্ছা। সরি ভুলে গিয়েছিলাম ও যে তোমার ভাই লাগে। ভাই তো কাছের’ই হয়।
হেসে বলল তরু। রজনীর ভ্রু জোড়া কুচকে গেলেও নিজেকে স্বাভাবিক রাখলো।
– আচ্ছা শোনো, গোসলে যাবো আমি এখন।রাতে যা করেছে তোমার ভাই… এই শরীরে এখন আর থাকা যাবে না।
কথাটা বলেই তরু একটু থামলো। তারপর ধীরে রজনীর দিকে তাকালো। সেই তাকানোয় স্পষ্ট কিছু বলা হলো না, তবু সব বোঝানো হয়ে গেলো। চোখের ইশারায়, দরজার দিকটা যেন দেখিয়ে দিলো সে।
রজনী প্রথমে বুঝতে চাইলো না। তারপর বুঝলো। ঠোঁট শক্ত করে চেপে ধরলো। এক মুহূর্ত দেরি করে বললো,
– ঠিক আছে।
আর কিছু যোগ করলো না। মৃন্ময়ের দিকে একবার তাকালো। তারপর হনহনিয়ে বেরিয়ে গেলো।
দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দটা খুব মৃদু ছিল। কিন্তু ঘরের ভেতর সেটা বেশ জোরেই শোনা গেলো।
তরু চোখ বুজে গভীর শ্বাস নিলো। তারপর ধীরে উঠে বাথরুমের দিকে গেলো।তরুর মনে হচ্ছে সে অস্বাভাবিক আচরণ করলো। রজনী তো মৃন্ময়ের নিজের কাজিন। কিন্তু মেয়ে হয়ে সে ভালো ভাবেই বুঝতে পেরেছে রজনীর চোখের ভাষা।
নিজ ঘরে এসে একের পর এক সব কিছু ছুঁড়ে ফেলছে রজনী।তরুর ঠোঁটের সেই হাসি তার কাছে বিষের মত লাগছে।
কারণ সে নিজেও মৃন্ময়কে ভালোবাসে। এই ভালোবাসাটা সে কোনোদিন মুখে বলেনি, এমনকি নিজেকেও ঠিকভাবে স্বীকার করেনি। ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে বড় হওয়া, সব কাজে পাশে থাকা, অভ্যাসের মতো করে জড়িয়ে থাকা মানুষটা কবে যে তার কাছে আলাদা হয়ে গেছে, সেটা সে বুঝতেই পারেনি। শুধু জানে, মৃন্ময়ের জীবনে তার একটা জায়গা ছিল, অন্তত সে তাই ভেবেছিল।
কিন্তু আজ বুঝে গেছে, সেই জায়গাটা তার নয়। এই ভাবনাটাই তাকে আরও রাগিয়ে দিচ্ছে।
নিজের ঘরে এসে তাই আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি। একের পর এক জিনিস ছুঁড়ে ফেলেছে, তাতেও রাগ কমেনি। বুকের ভেতরে জমে থাকা ঈর্ষা, অপমান আর অসম্পূর্ণ ভালোবাসা একসঙ্গে মাথা তুলছে।
চুল মুছতে গিয়ে তরুর নজর গেলো দেয়ালের দিকে। সেখানে ঝুলছে একটা ছবি। মৃন্ময় আর ওর বাবা-মা, তিনজনেরই মুখে হাসি। ছবিটা দেখে তরু একটু থেমে গেলো। মৃন্ময়ের বাবার সঙ্গে কখনো সরাসরি দেখা না হলেও, ওর মায়ের সঙ্গে তরুর বেশ সখ্যতা ছিল। ছেলের বউ হিসেবে নয়, নিজের মেয়ের মতোই আদর করতেন তাকে। গম্ভীর ছেলের বউ হিসেবে মেনে নিয়েছিল তাকে। তরু ছিল ওনার চোখের মণি।
হঠাৎ মনে হলো, এতদিন হয়ে গেল এখানে আসার। অথচ ওনাদের সঙ্গে তো দেখা হলো না। কোনো ফোন, কোনো খোঁজও নেই। তারা কোথায় আছেন? কেনই বা আসছেন না?
প্রশ্নটা ধীরে ধীরে মাথার ভেতর ঘুরতে লাগলো। তরু ছবিটার দিকে আরেকবার তাকিয়ে রইলো। বুকের ভেতর হালকা একটা অস্বস্তি জমে উঠলো, যেটার ঠিক কারণ সে নিজেও বুঝে উঠতে পারলো না।
তরু ধীরে ধীরে মৃন্ময়ের মুখের সামনে এসে দাঁড়ালো। ভেজা চুল থেকে ফোঁটা ফোঁটা পানি পড়ছে। একটা ফোঁটা গড়িয়ে মৃন্ময়ের কপালে পড়লো, আরেকটা গালে।
মৃন্ময় একটু নড়লো। ভ্রু কুঁচকে গেলো। তারপর ধীরে চোখ খুললো। প্রথমে কিছু বুঝতে পারলো না। চোখের সামনে ঝাপসা একটা অবয়ব। পরক্ষণেই তরুকে চিনতে পারলো।
– চুল থেকে পানি পড়ছে কেন?
তরু কিছু বললো না। শুধু ওর দিকে তাকিয়ে রইলো। মুখটা খুব কাছে। মৃন্ময় পুরোপুরি জেগে উঠলো তখন। হাত বাড়িয়ে তরুর কবজি ধরলো হালকা করে।
–আমাকে ছাড়া গোসল করেছিস?
তরুকে ধীরে টেনে নিলো নিজের দিকে।অভ্যাসের মতোই। তরুর ভেজা চুল ওর গলায় এসে লাগলো। ঠান্ডা পানির স্পর্শে মৃন্ময় হালকা শিউরে উঠলো, তবু হাত আলগা করলো না।
তরু মৃন্ময়ের বুকের সঙ্গে লেগে গেলো সে। মৃন্ময় এক হাত দিয়ে ওর পিঠে চাপ দিলো, আরেক হাত গিয়ে চুলে। ভেজা চুলগুলো আঙুলের ফাঁকে নিয়ে বললো,
– আরেকবার গোসলের জন্য প্রস্তুত হও।
তরু প্রথমে বুঝতে পারল না।আরেকবার কেন?পরক্ষণেই বুঝে গেলো।চোখ মুখ কুঁচকে গেলো।আবার! মৃন্ময় বাকা হেসে বলল,
–ইটস্ অনলি ইওর স্নেক, হটি গার্ল।
চলবে….
(নোট: দুইবার লিখেছিলাম ডিলিট হয়ে গেছিল। শেষমেশ পর্ব টাই পাল্টে দিয়েছি।এজন্য দেরি হয়েছে।আজকে থেকে রেগুলার আসবে।জানেন তো কত রিয়েক্ট করতে হবে? মিনিমাম ২.৫k “
Share On:
TAGS: ডার্ক সাইড অফ, দূর্বা এহসান
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ৮
-
প্রিয়া আমার পর্ব ১
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ১০
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ১২
-
প্রিয়া আমার পর্ব ২
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ৬
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ৩
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ৫
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ১২
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ১