জেন্টাল_মনস্টার
লামিয়ারহমানমেঘলা
পর্ব_৪১
[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ কঠোর ভাবে নিষেধ ]
অফিস রুমে বসে আছেন আসরাফ খান। কপালে রাগের ভাজ।
এই মুহুর্তে পারলে তিনি গোটা পৃথিবী ধ্বংস করে দেন৷
এত বড় সত্যি খোলাসা হলে তার এত বছরের ক্যারিয়ার বিজনেস সব যাবে।
কথা গুলো ভাবতে ভাবতে হটাৎ তার ফোনে কারোর কল আসে।
কলার আইডি দেখে তিনি ফোন তুলে নেয়৷
“হ্যালো।”
“হ্যাঁ বস আমি মেনশনের সামনে। বাগানে ছবিতে দেখানো মেয়েটা খেলছে কি করব?”.
” সুট হার৷”
কিলার অবাক হয়ে প্রশ্ন করে,
“এখনি?”
“হ্যাঁ এখনি৷”
“ওকেহ তাহলে আমি সুট করছি।”
“হ্যাঁ এমন কোথাও সুট করাব যেন এক গুলিতেই মরে যায়৷”
“ওকে বস৷”
কথাটা শেষ হতে না হতেই ওপাশ থেকে শব্দ এলো,
“ব্যাং ব্যাং ব্যাং৷”
আসরাফ খান অবাক হলেন। শব্দটা বেশ ফেইড ছিলো।
কেন এমন কেন? হটাৎ তিনি খেয়াল করলেন কলটা কেটে গিয়েছে৷
আসরাফ খান ভ্রু কুঁচকে তাকায়।
ফোনটা হাতে নিয়ে তিনি দেখতে লাগেন।
কিন্তু ওই ফোনে আর কল যাচ্ছে না।
ওদিকে,
গুলি গুলো সরাসরি লোকটার মাথায় বুকে লাগাতে লোকটা পড়ে যায় মাটিতে।
এবং তার ফোনটা ছুটে পড়ে ভেঙে যায়৷
আদ্রিস হটাৎ সুট করায় আদ্রিতা সহ সবাই ভয় পেয়ে গেছে।
আদ্রিতা চোখ খুলে আদ্রিসের চোখে রাগ আর গাতে গান দেখে ফিরে তাকায়৷
কিছুই দেখা যাচ্ছে না।
কারণ কিলার ছিলো দুরে একটা বিল্ডিং এর ছাঁদে।
আদ্রিতা শহ সবাই বেশ অবাক।
রেভেন দ্রুত এগিয়ে আসে,
“বস সবাই ভেতরে চলুন প্লিজ।”
আদ্রিস ফিরে তাকায়। চোখ দু’টো রক্তিম হয়ে আছে,
“ডেডবডি চাই আমার৷”
“ওকে৷”
আদ্রিস কোন কথা বলে, মিরা, প্রিয়া, আদ্রিতাকে নিয়ে ভেতরে চলে যায়।
সায়ের কথা বলার জন্য ভেতরেই গেছিলো।
হটাৎ ওদের ভেতরে আসতে দেখে সায়ের একটু অবাক হয়৷
আদ্রিসের মুখশ্রী দেখে বুঝতে পেরেছে বাহিরে কিছু হয়েছে।
সায়ের, ইসারা করে রেভেন কে।
রেভেন ইসারায় বোঝায় সমস্যা আছে কিছু।
সায়ের চুপচাপ আদ্রিসের কাছে চলে আসে,
“কি হয়েছে?”
আদ্রিস ফিরে তাকায়৷
“প্রিয়া, আদ্রিতাকে নিয়ে রুমে যা।
মিরা আপু তুমিও৷”
ওরা আদ্রিসের কমান্ড শুনে আর সেখানে দাঁড়ালো না চলে গেলো উপরে৷
আদ্রিস এবং সায়ের সোফায় বসে,
“কেউ আদ্রিতাকে সুট করতে চাইছিলো ভাইয়া৷”
সায়ের অবাক হয়ে যায় কথাটা শুনে।
“কি বলিস তারপর?”
“সময় থাকতে আমি তাকে সুট করে দিয়েছি৷ সমানের বিল্ডিং এর ছাঁদে ছিলো। আর একটু হলে…”
থেমে যা আদ্রিস। রেভেন বুঝে আদ্রিস কে। সে আদ্রিসের হাত ধরে বসে,
“কিছু হবেনা ভয় পাস না৷”
“আমি সিওর ওটা ড্যাড এর লোক৷”
সায়েরের চোয়াল শক্ত হয়ে আসে,
“এভাবেত রিক্স আদ্রিস৷”
আদ্রিস তখন নিজের মাথাটা ডিলা ছেড়ে দেয়। মাথা কাত করে সোফায় হেলান দেয়।
সিলিং এর দিকে তাকিয়ে বলে,
“আমি জানি। কিন্তু ড্যাড কেন আদ্রিতাকে এত হেট করে? “
সায়ের কিছু বলবে তার আগেই মিসেস মিহুর কল। সায়ের ফোন তুলে।
“মম, সরি তখন কল কেটে গেছিলো।”
মিসেস মিহু কাঁদছেন। মাকে কাঁদতে শুনে সায়ের ব্যস্ত হয়ে প্রশ্ন করে।
“মম হোয়াট হ্যাপেন্ড?”
“সায়ের৷ আদ্রিতা কোথায়?”
“নিজের রুমে৷”
মিসেস মিহু কান্না মিশ্রিত কন্ঠে উত্তর দিলেন,
“আদ্রিস,
আদ্রিসের কাছে জিজ্ঞেস কর এটাকি সত্যি আদ্রিতার ব্রেসলেট? “
সায়ের ফিরে চায় আদ্রিসের দিকে। আদ্রিসও তাকিয়ে আছে সায়েরের দিকে,
“আদ্রিস, মম জিজ্ঞেস করছে এটাকি সত্যি আদ্রিতার ব্রেসলেট? “
“হ্যাঁ। ওটা আদ্রিতারই৷”
মিসেস মিহু পুনরায় শব্দ করে কেঁদে উঠলেন,
“মম কিছুত বলো৷”
“আদ্রিতা তোর বোন। আদ্রিতা, তোর বোন সানা, সায়ের৷”
মিসেস মিহু আর কিছু বলতে পারলেন না। খুব বেশি কান্না পাচ্ছে তার৷
ওদিকে সায়েরও চুপ। যেন নিস্তব্ধতা ছেয়ে হেলো চারিদিকে।
আদ্রিস, ফোনটা নিয়ে নেয় সায়েরের থেকে,
“মম কি হয়েছে?”
মিসেস মিহু ফুঁপিয়ে উঠলেন,
“আদ্রিস বাবা, তোকে আমি কি বলে শুকরিয়া আদায় করব?”.
” মম কি হয়েছে?”
“আদ্রিতা আমার ছোট মেয়ে৷”
আদ্রিস কিছুক্ষণের জন্য চুপ থাকল।
এরপর সে হেসে ফেলল,
“সত্যি? এটা সত্যি ভাইয়া?”
সায়ের মাথা নাড়ায়,
“কিছুদিন আগেই বুঝেছিলাম বিষয়টা। কিন্তু সিওর ছিলাম না। আদ্রিতার হাতের ব্রেসলেট খানা পুরাতন৷ ওই ডিজাইন শুধু সুভহান বংশেই আছে।
ওই ব্রেসলেট বানানো কারিগর মারা গিয়েছে তাই ওটার কোন সেকেন্ড পিস নেই।
আর এত বছর এটার নকলও হয়নি।
ওটা ছিলো সানার হাতে। কারণ মম সব সময় সানাকে সাজিয়ে রাখত৷”
আদ্রিসের চোখের কোণায় পানি চিকচিক।
সায়ের, আদ্রিসকে জড়িয়ে ধরে,
“আদ্রিস, তুই ওকে বাঁচিয়ে রেখেছিস ভাই৷”
আদ্রিস, শান্ত হয়। নীরবে সায়েরের পিঠে হাত রাখে,
“না ভাই আমি না আল্লাহ বাঁচিয়েছে।”
ওপাশ থেকে মিসেস মিহু ডাকে,
“আমাকে একটু আদ্রিতাকে দে। আমার কলিজা ফেটে যাচ্ছে। একটু কথা বলি৷”
আদ্রিস এবং সায়ের উপরে চলে যায়।
আদ্রিতা তখন কথা বলছে মিরা এবং প্রিয়ার সাথে।
সায়ের এবং আদ্রিসকে দেখে সবাই চুপ হয়ে যায়।
আদ্রিস গিয়ে আদ্রিতাকে জড়িয়ে ধরে। আদ্রিতা কিছু বুঝত পারেনা৷
কিছুক্ষণ পর আদ্রিস সরে আসে। আদ্রিতার কপালে চুমু খায়।
মিরা ভ্রু কুঁচকে বলে,
“আমরাও আছি এখানে সরম কর বেয়াদব।”
আদ্রিস আড় চোখে তাকায়।
সায়ের হেসে ফেলে। সে এগিয়ে গিয়ে আদ্রিতাকে জড়িয়ে ধরে,
“আদ্রিতা, তুমি জানো না তুমি আমাদের কি।”
আদ্রিতা কানফিউস’ড
“কি হয়েছে?”
সায়ের, আদ্রিতার দিকে তাকায়। ওর চোখের কোণায় পানি চলে এসেছে।
সায়ের কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারেনা৷
“আদ্রিতা, তুই জানিস তুই কে?”
“আমি কে?”
“তুই একটা প্রিন্সেস। যে কিনা একটা সাম্রাজ্যের রাজকুমারী আদ্রিতা৷”
আদ্রিতা কিছুই বুঝতে পারছে না আদ্রিসের কথা৷ ওদিকে মিরা আদ্রিসকে থামিয়ে বলে,
“ঘুরিয়ে পেচিয়ে না বলে সোজা বল না কি হয়েছে?”
“আদ্রিতা, তুই সায়ের ভাইয়ার একমাত্র বোন সানা সুভহান আলভি।”
আদ্রিতা কথাটা শোনা মাত্র চুপ হয়ে যায়। সে বুঝতে পারছে কি ধরনের রিয়াকশন দিবে।
ফোনের ওপাশে মিসেস মিহু কথা বলছেন,
“আদ্রিস, আদ্রিতাকে ফোনটা দে বাবা৷”.
আদ্রিস ফোনটা স্পিকারে দিয়ে আদ্রিতার হাতে দেয়।
আদ্রিতা কাঁপা হাতে ফোনটা নিয়ে নেয়।
“সানা,
না না তুই আদ্রিতাই। তুই আমার আদ্রিসের আদ্রিতা। মা আমার। একটা বার মম বলে ডাক না মা। আমার খুব শুনতে ইচ্ছে করছে।”
আদ্রিতার চোখে পানি। কত বছর এত মায়া জড়িয়ে কেউ বলেনি মম বলে ডাক। যাদেরও বড় মা ছোট মা বলে তারাও যে কেউ আদ্রিতাকে সহ্য করতে পারেনা।
আদ্রিতা, আদ্রিসের দিকে তাকায়।
আদ্রিস ইসারা করে বলতে বলে। আদ্রিতা একটা গভীর নিঃশ্বাস নিয়ে বলে,
“ম মম৷”
মিসেস মিহু শব্দ করে কেঁদে দিলেন,
“আরেকটা বার ডাক মা। আরেকটা বার৷”
“মম।”
সবাই এক জায়গায় বসে আছে।
আদ্রিতা জানেনা এত বড় সত্যি জানার পর তার কি ধরনের রিয়াকশন করা উচিত।
সেকি ভীষণ খুশি হবে নাকি। তার ইচ্ছে করবে মাকে জড়িয়ে ধরে কিছুক্ষণ কান্না করতে।
সায়ের কিছু স্ন্যাকস অর্ডার করেছিলো। সেগুলে ডেলিভারি আসার পর। সবাই মিলে মুভি দেখে নেটফ্লিক্সে।
আদ্রিস ততক্ষণে আদ্রিতাকেই দেখছে।
এমন একটা খবর শোনার পরেও আদ্রিতার ভেতর একটা জড়তা কাজ করছে।
আদ্রিস বিষয়টা বুঝে।
সে সায়েরের কানে বলে,
“বেসমেন্টে এ লাসটা আসে একবার দেখে নিও। আর হ্যাঁ ওই ভাঙা ফোনটার তথ্য বার করিও৷ আমি একটু আসতেছি৷”
কথাটা বলে আদ্রিস উঠে হুট করেই আদ্রিতাকে পাজকোলে তুলে নেয়৷
আদ্রিতা অবাক হয়।
আদ্রিস এদিক ওদিক না তাকিয়ে আদ্রিতাকে নিয়ে উপরে চলে যায়।
মিরা তাকিয়ে আছে অবাক হয়ে।
“মেয়েটা সব পেয়েও কেমন চুপচাপ আছে?”
“হ্যা কারণ সবটা মানতে একটু সময় লাগবে তার৷”
” আচ্ছা মিস্টার সুবহান, আন্টি কি আসবে দেশে?”
“না মম এখানে আসাটা রিক্স। আমরাই যাব রাশিয়াতে৷”
মিরার হাসিটা উড়ে গেলো। সায়ের রাশিয়া চলে যাবে। এরপর কি হবে।
সায়ের আড় চোখে তাকায়।
মিরার উদাসীনতা সে বেশ বুঝেছে। তবে সে এখন কিছু বলবে না। বলবে সময় হলে বলবে। শুধু বলবে না তুলে নিয়ে যাবে।
আদ্রিতাকে রুমে এনে আদ্রিস ওর পাশে বসে,
“কিরে কি ভাবছিস তখন থেকে?”
আদ্রিতা মাথা নামিয়ে নেয়৷
“কই কি ভেবেছি?”
আদ্রিস এগিয়ে গিয়ে। আদ্রিতাকে নিজের বুকে টেনে নেয়।
আদ্রিস বালিশে মাথা দিয়ে আদ্রিতাকে নিজের বুকের উপর শুইয়ে দেয়, পায়ের কাছ থেকে কম্ফোর্ট খানা টেনে জড়িয়ে নেয়।
আদ্রিতা চুপচাপ শুয়ে থাকে।
আদ্রিস, আদ্রিতার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।
“জি হয়েছে খুলে বল!”
আদ্রিতা বড্ড শান্ত কন্ঠে জবাব দিলো,
“কিছু না, আজ হটাৎ করেই আমি অনেক কিছু পেয়ে গেছি। ভাবছি এত কিছু আমার সইবেত৷”
আদ্রিস নিচে তাকায় আদ্রিতার দিকে,
“মানে?’
” আমিত শুধু আপনাতে অভ্যস্ত ছিলাম। এখন আমার সব হয়েছে। আমার ভয় সব কিছুর ভেতরে যদি আপনাকে হারিয়ে ফেলি।”
আদ্রিতা কথা গুলো বলতে বলতে আদ্রিসের সার্ট খামচে ধরে। আদ্রিস বোঝে ওর অনুভুতি। আদ্রিস নিচু হয়ে আদ্রিতার কপালে চুমু খায়৷
“আমি বেচে থাকতে তোকে আমার থেকে দুরে সরানো সম্ভব নয় আদ্রিতা। তুই আমার, এটাই সত্য, এটাই চিরন্তন, এটাই ভবিষ্যৎ। “
আদ্রিতা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আদ্রিসকে। আদ্রিস বুঝে তার ছেট্ট পাখিটা আসলে ভয় পাচ্ছে। তাকে হারানোর ভয়।
কোথাও না কোথাও আদ্রিস এটা ভেবে ভীষণ খুশি হয়৷ এই মেয়েটা এখন তাকে হারানোর ভয় পাচ্ছে।
আদ্রিস, আদ্রিতার কপালে চুমু খায়।
“কিছু হবেনা আদ্রিতা। আমিত আছি। কথা দিচ্ছি জীবনের শেষ৷ নিঃশ্বাস থাকা পর্যন্ত আমিই থাকব। তোর শরীরে প্রথম স্পর্শ করা পুরুষ আমি। এবং স্পর্শ করা শেষ পুরুষও আমিই হবো।”
চলবে?
দ্য ক্রিমসন ডিজায়ার বইটি প্রি বুকিং করতে পারো নবকথন প্রকাশনী থেকে।
Share On:
TAGS: জেন্টাল মনস্টার, লামিয়া রহমান মেঘলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৮
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৬
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৫
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৯
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৩
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৯
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ২০
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ২১
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩৫
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১১