জেন্টাল_মনস্টার
লামিয়ারহমানমেঘলা
পর্ব_৩৯
[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ কঠোর ভাবে নিষেধ ]
লিভিং রুমের সেন্টার টেবিল খানা মাটিতে পড়ে টুকরো টুকরো হয়ে গেলো।
কাঁচ ভাঙার বিকট শব্দ সাথে এদিক ওদিক কাচের টুকরো ছিটে যেতে লাগল।
মাধবী বেগম অবাক হয়ে তাকিয়ে আছেন স্বামীর দিকে।
তার পুরো বিবাহিত জীবনে স্বামীকে এতটা রাগতে তিনি কখনো দেখেন নি।
তিনি অবাক নয়নে তাকিয়ে আছেন সামনে।
আসরাফ খান রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বললেন,
“আমি তাকে আমার ছেলের বউ হিসাবে চাইনা। চাইনা। চাইনা৷ এটাই আমার ফাইনাল ডিসিশন মাধবী। আর শুনে রাখো তুমি যদি ছেলের পক্ষ নেও তবে তুমিও আদ্রিসের নান বাড়ি থেকে ঘুরে আসতে পারো।”
কথাটা বলে আসরাফ খান হনহনিয়ে বেরিয়ে গেলেন।
মাধবী বেগম অবাকের চরম সীমায় পৌঁছে গিয়েছেন।
তিনি ভাবতে পারছেন না আসরাফ খান এটা কি রূপ দেখিয়ে দিয়ে গেলো তাকে।
কেনই বা তিনি এতটা বিরক্ত আদ্রিতার উপর।
মাধবী বেগম এখনো সুস্থ হয়নি।
তিনি পড়ে যেতে নিলে সার্ভেন্ট এসে তাকে ধরে বসে।
“ম্যাডাম ঠিক আছেন?”
মাধবী বেগম মাথা নাড়ায়,
“হ্যাঁ। আমাকে একটু রুমে দিয়ে এসো। আর এইটা পরিষ্কার করো৷”
“জি৷”
সার্ভেন্ট মাধবী বেগমকে ধরে রুমে দিয়ে আসলেন।
মাধবী বেগম বেডরুমে এসে বিছনায় বসে রইলে এক পাশে৷
মাথায় হাত দিয়ে ভাবতে থাকলেন৷ তার ছেলেটা ওই মেয়েটার জন্য পাগল যে।
পৃথিবী এদিক থেকে ওদিক হয়ে যাবে আদ্রিতাকে কখনোই আদ্রিসের থেকে আলাদা করা যাবেনা।
সব জেনেও তার স্বামী কেন এসব করছেন বুঝতে পারছে না তিনি।
ঘড়ির কাটায় ১১ টা বেজে ২৫ মিনিট।
হটৎ ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর মাথার নিচে বালিশের থেকে নরম কিছু অনুভব করে আদ্রিস।
চোখ খুলতে মিষ্টি একটা ঘ্রাণ ভেসে এলো নাকে। অজান্তে আদ্রিসের ঠোঁটে ফুটল হাসি।
এই ঘ্রাণের মালিক কে সেটা আদ্রিস ভালো করেই জানে। আদ্রিস এটাও জানে কার উরুতে তার মাথাটা রেখেছে সে।
আদ্রিস মাথা তুলে তাকায়।
আদ্রিতা বেডের সাথে হেলান দিয়ে শুয়ে আছে।
কি মিষ্টি, কি স্নিগ্ধ, কি মায়াবী।
আদ্রিস উঠে বসে বিছনায়।
আদ্রিতার কপালে লেপ্টে থাকা চুল গুলো আলতো হাতে সরিয়ে দেয়৷
আদ্রিতাকে ধিরে বিছনায় শুইয়ে দেয়।
দীর্ঘ সময় এক পাশ কাত হয়ে থাকার কারণে আদ্রিতার ঘাড়ে ব্যাথা শুরু হয়েছিলো।
সে একটু নড়েচড়ে ওঠে।
চোখ খুলে আদ্রিসকে নিজের মুখের একেবারে কাছাকাছি দেখে আদ্রিতা কিছুটা ঘাবড়ে যায়।
“ক কি করছেন?”
আদ্রিস, টুপ করে আদ্রিতার গালে চুমু খায়।
“করতেত বহুত কিছু চাই কিন্তু পারিনা৷ কত অপেক্ষা করাবি আমাকে আদ্রিতা।
মনে রাখিস যত অপেক্ষা করাচ্ছিস। পানিসমেন্টের বোঝা তত ভারি হচ্ছে।
সুদে আসলে সব হাসিল করে নেব। তখন কান্না করলেও ছাড়ব না৷”
আদ্রিতা ভ্যাবলার মত তাকিয়ে আছে। সে কিছুই বুঝেনি আদ্রিসের কথা৷
আদ্রিসের প্রতিত্তরো আদ্রিতা বোকার মত বলে ওঠে,
“কোথায় অপেক্ষা করালাম আপনাকে? আমিত আপনার কাছেই আছি। কি করতে হবে বলুন। এখনি করে দিচ্ছি।”
আদ্রিতা কথাটা শুনে খানিকটা সময় ধরে তাকিয়ে থাকে আদ্রিতার দিকে।
এরপর আদ্রিতার কানের লতিতে একটা কামড় বসিয়ে দেয়।
একটা মৃতু আর্তনাদ করে ওঠে। আদ্রিস কামড় দেওয়া জায়গায় চুমু খেয়ে বলে,
“সময় আসুক সেনোরিটা সব সুধে আসলে কড়ায় গন্ডায় হাসিল করব।”
আদ্রিতা বুঝতে পেরে লজ্জা পেয়ে যায়। আদ্রিস বাঁকা হেঁসে বিছনা ছেড়ে উঠে ওয়াসরুমে চলে যায়।
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে কিচেনের উদ্দেশ্যে হাটছিলো মিরা।
তবে হটাৎ করেই কিছু একটার সাথে ধাক্কা খেয়ে মিরা পড়ে যেতে নিলে মিরার কোমড় জড়িয়ে ধরে কেউ।
মিরা চোখ খুলে তাকায়।
সায়ের দাঁড়িয়ে তার মুখোমুখি, তার কোমড় জড়িয়ে ধরে রেখেছে।
মিরা কিছুটা লজ্জা পায়।
নিজেকে ছাড়াতে যখন যাবে ঠিক তখনি সায়েরের কান্ডে মিরার চোখ বড় বড় হয়ে যায়।
সায়ের শক্ত করে মিরার কোমড় চেপে ওকে একটা কোণায় নিয়ে আসে।
“ক কি করছেন এগুলো?”
সায়ের দু হাতে মিরাকে দেয়ালের সাথে বন্দি বানিয়ে নিয়েছে। মিরা পারলে দেয়ালের ভেতর ঢুকে যায়। কিন সেটা কি আর সম্ভব।
মিরার গাল দুই লাল টমেটোর মত রক্তিম হয়ে আছে।
সায়ের বাম হাতে মিরার গাল স্টাইড করতে করতে বলে।
“তুমি বড্ড উড়ে বেড়াও মিরা৷”
মিরার হৃৎস্পন্দন যেন শুনতে পারছে সায়ের। ধুকপুক ধুকপুক করছে।
সায়ের, মিরার কপালের চুল গুলো সরিয়ে কানের কাছো গুঁজে দেয়।
“কিছুত বলো মিরা৷”
“ক কি বলব?”
“তোতলাচ্ছো কেন ভয় পাচ্ছো আমাকে?”
“ত তা নয়৷”
সায়ের আরেকটু ঝুঁকে যায়। মিরা চোখ খিচে বন্ধ করে নেয়।
সায়ের, মিরার এত কাছে যেতে পারে সময়টাকে মিস করেনা।
মন ভরে উপভোগ করে মিরাকে।
মিরার গাল, ঠোট, নাক, খিঁচে বন্ধ করা চোখ দু’টো সব।
সায়ের প্রেমে পড়েছে। নিজের ৩২ বছর বয়সে এসে সে নতুন করে প্রেমের পড়েছে। ভাবতেই কেমন অবাক লাগে।
সায়েরের পারফিউমের ঘ্রাণ মিরার পর্যন্ত বেশ পৌঁছে যাচ্ছে। একটা নীরব, শান্ত, মিষ্টি সুঘ্রাণ।
মিরার মেজাজ টাকেই শান্ত বানিয়ে দিচ্ছে।
মিরা হটাৎ চোখ খুলে তাকায়।
সায়ের তার দিকেই তাকিয়ে আছে।
“আপনি কোন ব্রান্ডের পারফিউম দেন?”
হটাৎ মিরার অনাকাঙ্ক্ষিত প্রশ্ন শুনে সায়ের হাসবে না কাঁদবে বুঝে উঠতে পারেনা।
“কেন?”
“বলুন না! “
“CELINE”
মিরার চোখ বড় বড় হয়ে যায়। সাথে সাথে চোখের সামনে বড় বড় করে দাম গুলো ভাসতে থাকে।
মিরাকে চুপ থাকতে দেখে সায়ের ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে,
“কি হয়েছে?”
“আপনার এক পার্ফিউমের দামে আমার ১০ খানা ড্রেস হয়ে যায়। সরুন, অপচয় করে বদ লোক৷”
কথাটা বলে মিরা বেরিয়ে গেলো।
সায়ের অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো।
তাকে কি বলে গেলো। কেনই বা বলে গেলো।
“এই মিরা ওয়েট। কি বলেছো তুমি? কেন বলেছো বুঝায় যাও৷”
সায়ের কে ছুটতে দেখলো আদ্রিস পেছন থেকে।
সায়েরকে এমন বাচ্চা আচরণ করতে দেখে আদ্রিস হাসতে শুরু করে।
সে তার গোটা এত সময়ে সায়েরকে এতটা পাগল আচরণ করতে দেখেনি।
ওদিকে আদ্রিসকে হাসতে দেখে আদ্রিতা অবাক।
আদ্রিসকে এমন হাসতেত দেখা যায় না সচরাচর।
ব্রেকফাস্ট টেবিলে সবাই বসে পড়েছে।
মিরা সবাইকে সার্ভ করে দিচ্ছে খাবার৷
একে একে সবাইকে খাবার দিয়ে মিরা নিজেও বসে পড়ে খেতে।
রেভেন খবার মুখে দিয়ে মিরার প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
“ওয়াউ ভা……”
থেমে গেলো রেভেন।
ফের গলা পরিষ্কার করে বলে,
“আপু। কি মজা রান্না করেন আপনি৷”
মিরা মিষ্টি হাসে,
“আমার থেকে আদ্রিতা ভালো পারে। কি আদ্রিতা লাঞ্চ বানাবি ত?”
“হ্যাঁ অবশ্যই৷”
সায়ের, আদ্রিতার দিকে তাকায়।
মেয়েটা কি মায়াবী।
এই মেয়েটা যে কিনা কোন পরিবারের হৃদয় মনী।
তাকে কিনা এত কষ্টে জীবন পার করতে হয়েছে।
সায়ের দীর্ঘশ্বাস ফেলে। সেও মনে প্রাণে যায় আদ্রিতা নামক এই মেয়েটা যেন তার সানা হয়৷
খাবার খাওয়া শেষে আদ্রিস রুমে গিয়েছে ফোন খুঁজতে।
সকাল সকাল কিছু কাজ আছে কিন্তু পকেটে ফোন নেই। আদ্রিস ফোন খুঁজতে খুঁজতে রুমে চলে আসে। এদিক ওদিক সব দিকে কোথাও ফোনটা পাচ্ছে না সে।
“এই আদ্রিতা ফোন দেখেছিস আমার?”
বলতে বলতে আদ্রিস বিছনার উপরে থাকা কম্বলটা উঠিয়ে নিচে ফেলে। তখনি বিড়ালের বাচ্চার মত একটা শব্দ হয়। বিড়ালের বাচ্চার আঘাত পেলে যেমন শব্দ করে তেমন। আদ্রিস হটাৎ করে ভয় পেয়ে যায়। সে হন্তদন্ত হয়ে নিচে নেমে কম্বলটা সরিয়ে দেখে ভেতরে আদ্রিতা। কোমড়ে হাত দিয়ে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। আদ্রিসের চোখ বড় বড় হয়ে যায়।
আদ্রিতা কাঁদো চোখে ভাঙা কন্ঠে বলে,
“এ এভাবে ফেলে দিতে পারলেন?”
আদ্রিস ভেবে পায়না মানুষ কম্বলের নিচে হাওয়া হয়ে যায় কিভাবে। আদ্রিস আদ্রিতাকে জড়িয়ে ধরে। কিন্তু বেড়াল ছানার মুখটা দেখে বড্ড মায়া হয় তার।
“সরি সরি জান।”
“পচা আপনি ব্যাথা পেয়েছি।’
আদ্রিস হেসে ফেলে।
রাশিয়া,
সায়েরের মেনশন থেকে মিসেস মিহু কিছু গার্ড’স সহ আদ্রিসের মেনশনের দিকে রওনা করেছেন।
রাস্তায় বের হবার পর থেকে তার ভেতরে কেমন একটা নাম না জানা অনুভুতি হচ্ছে।
বার বার মনে হচ্ছে কিছু একটা ঘটতে চলেছে৷
নিজরে সকল চিন্তা সাইডে রেখে তিনি বাহিরের দিকে মনোযোগ দিলেন৷
যা হবার হবে।
মিসেস মিহু মাথাটা গাড়ির সাইডে ঠেকালেন,
“বহু দিন তুমি নেই মি.সুবহান। তবে আজ তোমার শূণ্যতা আমায় বড্ড পোড়াচ্ছে।
তুমিত গেলে সাথে আমার মেয়েটাকেও হারিয়ে ফেললাম।
আমার বড্ড কষ্ট হয় সানর জন্য বড্ড কষ্ট হয়৷ “
আসরাফ খান অফিস রুমে বসে আছেন। তার কানে ফোন। তিনি কারোর সাথে কথা বলছেন,
“বস কি কব সবাই বাগান এড়িয়াতে৷”
“যে মেয়েটার ছবি দিয়েই তাকে নিশানা বানা৷”
“বানালাম। সুট করব কি?”
“হ্যাঁ সুট কর। না থাকবে আদ্রিতা। না থাকবে আমার অশান্তি।”
“১,২………….”
চলবে?
[ এই রমজানে, রোজা রাখার পর এমনি মানুষ অসুস্থ হয়ে যায়। সেখানে আমি নিজেই ভীষণ অসুস্থ। ছোট পর্ব জানি তবুও বলব রেসপন্স করিও। এই দুঃখের সময়ে তোমরা পাশে থাকবা নাত কখন থাকবা বলো। দোয়া করিও]
Share On:
TAGS: জেন্টাল মনস্টার, লামিয়া রহমান মেঘলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৮
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩১
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৯
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৪
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩৮
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ২১
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৪
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৭
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৫
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৪