জেন্টাল_মনস্টার
লামিয়ারহমানমেঘলা
পর্ব_৩৪
[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ কঠোর ভাবে নিষেধ ]
বাগানের এক পাশটায় আলাদা করে সাজানো হয়েছে বার্বিকিউ পার্টির জায়গাটা। ঘাসের ওপর কাঠের লম্বা টেবিল বসানো, তার ওপর সাদা-লাল চেক কাপড় বিছানো। পাশে গোল করে রাখা হাই স্টুল আর কিছু খোলা কাঠের চেয়ার,যেন সবাই গল্প করতে করতে বসে খাবে, উঠবে, আবার হাঁটবে।
এক কোণে ধোঁয়া উঠছে কালো গ্রিল থেকে। কয়লার লালচে আগুন মাঝেমধ্যে ঝিলিক দিচ্ছে, তার ওপর ধীরে ধীরে সেঁকা হচ্ছে মাংস, মশলার ঘ্রাণ বাতাসে মিশে পুরো বাগানটাকে অন্যরকম ক্ষুধাময় উষ্ণতায় ভরিয়ে দিয়েছে। সেঁকার শব্দ, ছররর… ছটফট… কথাবার্তার ফাঁকে ফাঁকে কানে আসছে।
উপরে ঝুলানো ফেয়ারি লাইটগুলো নরম হলুদ আলো ফেলেছে চারপাশে। পুরো জায়গাটা খুব উজ্জ্বল না, আবার অন্ধকারও না,একটা আরামদায়ক, ঘনিষ্ঠ, সন্ধ্যার মায়াময় আবহ। দূরে বাগানের গাছগুলো আধো আলোয় ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে, যেন নীরব দর্শক।
এক পাশে কুলার ভর্তি বরফ, তার ভেতর বোতল আর ক্যান ডুবে আছে। আরেক টেবিলে সাজানো সস, সালাদ, ব্রেড,সব মিলিয়ে এলোমেলো না, আবার অত ফরমালও না। এমন একটা পরিবেশ, যেখানে হাসি জোরে উঠতে পারে, গোপন কথা ফিসফিস করে বলা যায়, আর কেউ এক কোণে দাঁড়িয়ে চুপচাপ ধোঁয়া ওঠা আকাশের দিকে তাকিয়েও থাকতে পারে।
এই জায়গাটা শুধু খাওয়ার না, এখানে গল্প হবে, স্মৃতি তৈরি হবে, আর হয়তো কারও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কোনো কথাও আজ এখানেই বলা হবে।
ফর্ক এবং নাইফে বিফ বারবিকিউ কাটতে কাটতে আদ্রিস নিজের সোজা সুজি তাকায়।
তার মুখোমুখিই বসে আছে আদ্রিতা।
সে হাত দিয়েই খাবার তুলছে মুখে।
তার সাথে ওর খিলখিল করে হাসির শব্দও শোনা যাচ্ছে। মিরা পরিবেশ মাতিয়ে রেখেছে।
ওদিকে রেভেনের হয়েছে যত জ্বালা।
গত ৪ ঘন্টা যাবত ৩ বার মিরার ফটো ক্লিক করে রাশিয়া পাঠানো লেগেছে।
বিরক্ত হয়ে রেভেন এবার ম্যাসেজ টা করেই ফেলে,
“বস আপনি না তর সইতে না পারলে গত ১৩ দিনের জন্য বাংলাদেশ চলে আসুন। আমরা এক সাথে আদ্রিস বসের প্রাইভেট জেটে ফ্লাই করব।”
ওপাশ থেকে সায়েরের ধমক বা গালাগালি শোনার আশা ছিল রেভেনের কিন্তু না তাকে অবাক করে দিয়ে সায়ের প্রচন্ড খুশি হয়ে গেছে।
১০০ বার ধন্যবাদ দিচ্ছে এত সুন্দর বুদ্ধি দেওয়ার জন্য।
অজ্ঞাত মিরা জানেই না। তার জীবনে ঠিক কি মোড় আসতে চলেছে।
রেভেন ফোন স্ক্রিনে ম্যাসেজ টা পড়ে সোজা তাকায়। মিরা কোঁকা কোলা পান করছে আর মজার মজার জোক্স বলছে।
“মিরা আপু। আই এম সরি আপনাকে আর বাঁচাতে পারলাম না।”
খান মেনশন,
মাধবী বেগম রুমের ভেতর মন মরা হয়ে বসে আছে।
আসরাফ খান নিজেও বিরক্ত। তিনি কেন এত চিন্তিত কোন ঘটনা খুলে বলছেন না। অথচ খুব বেশি চিৎকার, রাগে এটা ওটা ভাঙা চুড়া করছেন৷
নেওয়াজ খানও ভাইকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে কিন্তু উপায় হয়নি।
ওদিকে মিরার হাসবেন্ড ফাহিম এসেছে আজ।
সে মিরাকে নিয়ে যেতে চায়। মিরা ঠিক রাগ করেছে। কিন্তু সংসারত আর ভাঙা যাবে না৷
ফাহিম সবার সাথে মিলেমিশে গিয়েছে। যেন মিরার উপর তার কোন রাগ নেই। কিন্তু ভেতরে ভেতরে সে জানে মিরা তার জন্য শুধুমাত্র টাকা ইনকামের পথ। মিরার উপর যত অত্যাচার হবে ততই টাকা আসবে।
আফজাল শেখ, কখনো মিরাকে বোঝার চেষ্টা করেনি।
এ সমাজ ডিভোর্সি মেয়েদের এক্সেপ্ট করেনা।
আর এটাই ছিল তার কথা৷ কিন্তু এই সমাজের কথা চিন্তা করে নিজের চিরচেনা মেয়েটাকে যে ক্রমশ হারিয়ে ফেলছে তার কোন খেয়াল ওদের নেই।
অধিকাংশ মা বাবাই এটা বুঝতে চায়না। মানুষের কথা থেমে থাকবে না কোন কিছুতেই।
তবুও সেই কথার ভয়ে কত হাজার হাজার মেয়ের জীবন চাপা পড়ে যায় সংসার নামক কাল কুঠুরির ওপারে।
না আছে সম্মান না আছে ভালোবায়া।
স্ত্রী হিসাবে নূন্যতম মর্যাদা দিলে স্ত্রীর গায়ে হাত তোলা যায় না।
খান মেনশনের খাবার টেবিলে সবাই বসেছে রাতের ডিনার করতে।
আফজাল শেখের পাশে ফাহিম বসে।
সার্ভেন্ট খাবার সার্ভ করে দিচ্ছে।
মহিলা বেগম এবং মাধবী বেগম দু’জন পাশাপাশি বসে।
টেবিলের মাথার দিকে আসরাফ খান এবং নেওয়াজ খান।
“ত বাবা মিরা, প্রিয়া, আদ্রিস আর ওই আদ্রিতা নামক মেয়েটা কাউকেই দেখছি না যে।”
মাধবী বেগম, ফাহিমের প্লেটে মাংস তুলে দিতে দিতে বললেন,
“ওরা একটা ট্রিপে গেছে ফিরবে কাল।”
“ও তাহলে ঐশী আর জারিফ কেন যায় নি?”
আসরাফ খানের চোয়াল শক্ত হয়ে এলো। আফজাল শেখ, ফাহিমের দিকে ফিরে চায়,
“বাবা খাবারে মনোযোগ দেও। খাবার টেবিলে অতিরিক্ত কথা বলাটা আমিত পছন্দ করিনা৷”
ফাহিম তাচ্ছিল্য হাসে,
“আমার স্ত্রী আমার অনুমতি ছাড়া কোথাও চলে গিয়েছে। সেটা আমি জানিনা। এ বিষয়টা আমারো যে ভালো লাগে না বাবা৷”
আফজাল শেখ রাগান্বিত দৃষ্টিতে ফাহিমের দিকে তাকালেন,
“স্ত্রী বলছো যখন তখন স্ত্রী কে নিজের কবলে রাখলেই পারতে। তাহলেত আর এইসব হতোনা।”
মাহিলা বেগম পরিবেশ বুঝে দু’জনের মাঝেই কথা উঠালেন,
“থাক বাদ দিন। আফজাল আপনি খাওয়ায় মনোযোগ দিন। আর ফাহিম চুপ থাকো। এ বিষয়ে পরে কথা হবে।”
ফাহিম আর কিছু বলেনা।
ঐশী এক পাশে বসে সবটাই দেখল। তারও পছন্দ না মিরা যে ডিভোর্স হয়ে এসে শেখ বাড়িতে থাকবে।
আফজাল শেখ বিরক্ত এটা নিয়ে মেয়েটা কিভাবে তাদের বাড়িতে এসে পড়ে আছে।
সবাই যেন অকারণ বিরক্ত। বিয়ের পর মেয়ের নিজের বাড়িটাই ধীরে ধীরে তার জন্য অচেনা হয়ে যায়। যে ঘরে বড় হয়েছে, যে দেয়াল তার হাসি-কান্না দেখেছে, সেখানেও সে একসময় অতিথি হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
হয়তো সেই কারণেই মানুষ বলে,
মেয়ে মানুষের আসলে কোনো বাড়ি হয় না।
ভরপুর ডিনারের পর সবাই আগুনের সামনে বসে গল্প করছে।
আদ্রিতা, এবার আদ্রিসের পাশেই বসেছে।
আদ্রিসের ফোনে পরপর চার পাঁচটা ম্যাসেজ পপ আপ হয়।
আদ্রিস নিজের ফোনের স্ক্রিন অন করে দেখে সায়ের শহ সায়েরের মা রাদিয়া সুলতানা মিহু উভয়ের ম্যাসেজ।
আদ্রিস ম্যাসেজ গুলো অন করে।
রাদিয়া সুলতানা ভয়েজ পাঠিয়েছেন,
“আদ্রিস বাবা, কেমন আছিস? ভুলেই গেছিস এই মম কে। বেশ কিছুদিন আমারো কাজ ছিল তোর সাথে ঠিকঠাক কথা হয়নি।
সায়ের কেন বাংলাদেশ যাবে অনেক বড় সমস্যা হয়েছে কি বাংলাদেশে?”.
আদ্রিস ভ্রু কুঁচকে তাকায়। মিসেস মিহুর রিপ্লাই করার আগে সায়েরের ম্যাসেজ দেখার প্রয়োজন আছে। আদ্রিস উঠে দাঁড়ায়।
কিন্তু আদ্রিসের বাম হাতের ঘড়ির সাথে আদ্রিতার ওড়না জড়িয়ে ছিল।
আদ্রিস দাঁড়িয়ে যেতে আদ্রিতা ওড়নায় টান অনুভব করল।
আদ্রিতা দ্রুত আদ্রিসের হাত ধরে বসে।
আদ্রিস ফিরে চায়। দু’জনের চোখাচোখি হয়।
জলন্ত আগুনের আলোতে আদ্রিতাকে একটু বেশিই আদুরে দেখাচ্ছে।
আদ্রিস কিছুক্ষণ ওভাবে তাকিয়ে থাকে আদ্রিতার দিকে এরপর চোখ সরিয়ে নেয়,
” হোয়াট? “
“কোথায় যাচ্ছেন?”
আদ্রিস ভ্রু কুঁচকে তাকায়,
“ইয়ে মানে আমার ওড়না। “
আদ্রিস নিজের হাতের দিকে তাকায়।
সে মৃদু হেসে আদ্রিতার ওড়নাটা ছাড়িয়ে দেয় নিজের ঘড়ির থেকে।
“হ্যাপি?”
“হ্যাপি অনহ্যাপির কি আছে? ওড়না নিয়ে চলে যাচ্ছেন তাই আটকেছি।”
আদ্রিস চোখ ছোট ছোট করে তাকায়।
“তোকেত পরে দেখে নেব৷”
আদ্রিস সায়েরের সাথে কথা বলতে চলে যায় সাইডে। ওদিকে এই সিনেমাটিক দৃশ্য সামনে বসে তিন জন বেশ উপভোগ করেছে।
আদ্রিতাকে এখন দেখাচ্ছে রিচ মাফিয়ার রিচ ওয়াইফ। পরনের মেরুন রঙা ড্রেস টা বড্ড মানিয়েছে। আদ্রিস যত্ন করে। তাইত আদ্রিতা, আদ্রিসের কাছেই সুস্থ থাকে।
কথায় আছেনা নারীর চেহারা খুলে পুরুষের যত্নে।
“হ্যাঁ ভাই বলো।”
“মম কে কি বলেছিস?”
“কিছুই বলিনি।”
“গুড বল যে ঝামেলা হয়েছে ১৩ দিনের বিষয় আমরা তার আগেই ফিরে আসব৷”
“ক্রেজি ইউ আর৷”
“চুপ থাক৷”
“আর মিসেস রাশিয়ার কি হবে?”
“ওটাকে আমি দেখে নেব।”
“ফর ইয়োর কাইন্ড ইনফরমেশন, এখানেও একটা মিস্টার বাংলাদেশ আছে।”
“মিরার হাসবেন্ড? “
“হ্যাঁ।”
“ওটার ১৪ গুষ্টির তথ্য বের করা শেষ। ওটাকে কিভাবে টাইট করতে হয়। সেটা আমার হাতে ছাড়। তুই মম কে কানভেন্স কর৷”
“ওকে মাই জাঁহাপনা।”
“বেয়াদব।জাহাপনা আমি না তুই। আমার দিনের শুরু হয় তোর ফরমান দ্বারা শেষ হয় তোর ঝামেলা মিটিয়ে। “
আদ্রিস হেঁসে,
“তুমি বড় এই জন্য।”
“আচ্ছা বাই। ব্যাগ প্যাক করতে হবে।”
“ওকে।”
আদ্রিস, ফোন কেটে দেয়।
এরপর মিসেস মিহুর সাথে কথা বলে আদ্রিস ফের বারবিকিউ এড়িয়াতে চলে আসে।
রেভেন, রেকর্ড করছিলো তাদের সুন্দর মুহুর্ত গুলো।
আদ্রিতা, প্রিয়া, মিরা সুন্দর পোস দিয়ে ছবি তুলে।
আদ্রিসকে আসতে দেখে রেভেন, মিরাকে ইসারা করে।
“মিরা আপু৷ মনে আছেত?”
মিরা ইসারা করে। নিশ্চিত ওরা কিছু পাকিয়েছে।
আদ্রিস উপস্থিত হতে মিরা আদ্রিসকে চেপে ধরে,
“আদ্রিস গান গাইতে হবে।”
“আপু তুমি কি বাচ্চা?”
“না কোন কথা না। এমন রাত আবার কবে আসবে প্লিজ গান গাইতে হবে।”
আদ্রিস, রেভেনের দিকে চায়। রেভেন দাঁত কেলিয়ে পেছন থেকে গিটার বের করে আদ্রিসকে দেয়।
“মাই গড এটা জেনে শুনে ফাঁদ।”
“জাস্ট অনস আদ্রিস। এত ভাও খাস না। আমি বড় ভুলে জাস না।”
“হ্যাঁ।”
আদ্রিস বসে আগুনের সামনে। আদ্রিতা এক্সাইটেড। পুরাতন সব ঘটনা ভুলেই গেছে আদ্রিতা এই হাসি খুশির মাঝে। এ যেন এক টুকরো সুন্দর স্বপ্নের মত।
আদ্রিস গিরাটে টুন টান শব্দ উঠিয়ে সুর টানে,
Haaye, main mar hee jaaun jo tujhko na paaun
Baaton mein teri main raatein bitaun
Hothon pe lamha-lamha hai naam tera, haaye
Tujhko hee gaaun main, tujhko pukaarun
থেমে গেল আদ্রিস। অথচ সবাই অবাক হয়ে গেছে আদ্রিসের কন্ঠ শুনে।
সবাই মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছে। আদ্রিস থেমে গেলে মিরা বিরক্তি নিয়ে বলল,
“থামলি কেন? আজব শেষ কর ভাই৷”
আদ্রিস, আদ্রিতার দিকে চায়, আদ্রিতা পিট পিট করে তাকায়। তারও আকাঙ্খা রয়ে গেছে যে। আরেকটু শুনবার।
Saiyaara, tu to badla nahi hai
Mausam zara sa rootha hua hai
Saiyaara, tu to badla nahi hai
Mausam zara sa rootha hua hai (Hai)
এবার আদ্রিসের সাথে রেভেনও সুর তুলে,
Beete lamhon se duniya basa loon
Main to tere aansuon ka bana hoon
Meri hasi mein teri sadayein
Teri kahani khud ko sunau
Yaadon ke taare—
Yaadon ke taare tootenge kaise
Mere hai jo wo roothenge kaise
Beete dinon ki kholi kitabein
Guzrе palon ko kaise bhuladein
Haaye, main mar hee jaaun jo tujhko na paaun
Baaton mеin teri main raatein bitaun
Hothon pe lamha-lamha hai naam tera, haaye
Tujhko hee gaaun main, tujhko pukaarun
চলবে?
[ দয়া করে রেসপন্স করিও। গল্পের ঝড় আসছে। সবার পানিশমেন্ট দেখার জন্য প্রস্তুত হও৷ আর হ্যাঁ খুবই অবাক এবং কষ্ট লাগল। একটা সিঙ্গেল মানুষ একটু আগে করা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারল না। আসলেই আমি এত কষ্ট করে মিরীচিকার পেছনে ছুটছি। এই গল্প জগত আসলে আমাকে কি দিলো। আমিত সবই উজাড় করে দিলাম। নূন্যতম রেসপন্সও করতে পারেনা আমার ফলোয়ার’স আর কি বা বলব তাদের। ]
Share On:
TAGS: জেন্টাল মনস্টার, লামিয়া রহমান মেঘলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জেন্টাল মন্সটার গল্পের লিংক
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৬
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৬
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৫
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৪
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৫
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৮
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৮
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৯