জেন্টাল_মনস্টার
লামিয়ারহমানমেঘলা
পর্ব_৩১
[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ কঠোর ভাবে নিষেধ ]
নিস্তব্ধ প্রহর। আদ্রিতার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা দীর্ঘশ্বাসে মিশে আছে অদ্ভুত এক প্রহেলিকা।
জীবনের এমন এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে সব কিছুই প্রহেলিকা বলে মনে হচ্ছে তার৷
পায়ের সেকল দু’টো তার বন্দী দশাকে নির্দেশ করছে।
আদ্রিতা সেই প্রহর থেকে এই পর্যন্ত মুখে একটা শব্দ উচ্চারণ করেনি।
ভয় আর জিদ ভেতরটাকে দুমড়ে মুচড়ে রেখেছে।
প্রিয়া অনেক বার ট্রায় করেছে আদ্রিতার৷ মুখ থেকে কিছু কথা বের করতে। কিন্তু তার চেষ্টায় সে বিফল গেছে বার বার।
“আদ্রিতা।”
আদ্রিতা ফিরে চায়।
“বলো আপু।”
প্রিয়া, আদ্রিতাকে জড়িয়ে ধরে। আদ্রিতাও বিড়াল ছানার মত নিজেকে গুটিয়ে নেয়। প্রিয়া, আদ্রিতা মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।
“আদ্রিতা, আমি জানিনা তুই কেন এত নিশ্চুপ হয়ে গেছিস। কিন্তু, বাচ্চামি করার বয়স এখন নয়। আমি জানি তোর ভেতরে সঠিক জ্ঞান আসতে সময় প্রয়োজন। কিন্তু কখনো কখনো পরিস্থিতি মানুষকে বয়সের থেকে বড় বানিয়ে দেয়।
তখন নিজের বয়সের থেকেও বেশি ভাবতে হয়।
নিজের ভালো মন্দ না বুঝলে কি হবে বলত? এভাবে পালিয়ে গেলি কেন?”
“বড় মা বলেছিলো।”
“বড় মা বলেছিলো বলে পালাতে হবে? তুই জানতিস না আদ্রিস ভাইয়া যে প্রচন্ড রকমের রাগী৷”
“জানতাম।”
“হ্যাঁ জানতি যখন তখন বোকামি করলি কেন?”
আদ্রিতা, শক্ত করে প্রিয়াকে জড়িয়ে ধরে,
“আমি কি ভয়ানক দৃশ্য দেখেছি জানো?”
“কি দেখেছিস?”
আদ্রিতা, মাথা তুলে তাকায়৷
“সে রাতে…”
“সে রাতে কি?”
হটাৎ দরজার দিক থেকে কারোর গম্ভীর কন্ঠ ভেসে এলো।
প্রিয়া এবং আদ্রিতা দু’জন চুপ হয়ে গেছে।
আদ্রিস সোজা ওদের সামনে বসে পায়ের উপর পা তুলে,
“থেমে গেলি কেন? কম্পিলিট ইয়োর স্পিচ প্লিজ।”
আদ্রিতা, ভয় পাচ্ছে। তার ভিরু মনের উপর আদ্রিসের এমন ভয়ানক সেই কান্ড গুলো ভয়ানক ভাবে প্রভাব ফেলেছে।
তাই এখন আদ্রিসের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হুমকি বা গম্ভীর কথোপকথনও আদ্রিতাকে কাঁপিয়ে দেয় ভেতর থেকে।
প্রিয়া, আদ্রিতার কম্পন অনুভব করে ভ্রু কুঁচকে তাকায়।
“আদ্রিতা কি হয়েছে? ভয় কেন পাচ্ছিস এত?”
আদ্রিতা, প্রিয়াকে জড়িয়ে ধরে শক্ত করে,
“যেও না।”
“যাচ্ছি না কোথাও যাচ্ছিনা।”
আদ্রিস, ঘাড় কাত করে তাকায়। এই ঘাড় কাত করাটা ভীষণ ভয়ানক। তার পছন্দ মত কোন ঘটনা না ঘটলে সে এমনটা করে।
প্রিয়া, ভাইকে দেখে মিলাতে পারছে না।
“ভাইয়া বাহিরে জাও।”
“সিরিয়াসলি! “
“ভাইয়া প্লিজ৷”
আদ্রিস উঠে দাঁড়ায়, যেতে যেতে হটাৎ ফিরে তাকায়। আদ্রিতার কনুই ধরে হেঁচকা টাকে নিজের নিকটে নিয়ে আসে।
প্রিয়া কিছু বলতেই যাবে কিন্তু আদ্রিস ইসারা করে থামিয়ে দেয়।
আদ্রিস, হাত রাখে আদ্রিতার চুলে। তার হাত নিঃশব্দে চুলের স্তরে হারিয়ে গিয়ে নিচের অর্ধেক অংশ দৃঢ় মুঠোয় বন্দী করে নিল।
যা চোখে পড়ল না প্রিয়ার। কিন্তু আদ্রিতার যন্ত্রণা বাড়ালো ঠিকই।
আদ্রিতা, ছলছল নয়ন জোড়া আদ্রিসের দিকে স্থির। আদ্রিসের ঠোঁট ভুবন ভোলানো হাসি,
“ভয় কেন পাচ্ছিস। আমি আছিত৷”
আদ্রিসের ডান হাত আদ্রিতার গালে স্লাইড করতে করতে ফিসফিসিয়ে বলে,
“আমি থাকতে তোর কি হবে বল? তোর জীবনের সব থেকে বড় আশঙ্কা আমি নিজেই। এত ভয় পাস না। আমি বলেছি না, আমি ব্যাতীত সব পুরুষের টাচ ব্যাড টাচ। তাই আমি ব্যাতীত অন্য কেউ তোকে কষ্ট দেবার মত নেইও। ভয় পেলে আমাকে পা।”
আদ্রিস খানিকটা সরে আসে।
“ভয় পাস না বি কেয়ারফুল, তুই যা বলবি তা সবার আগে আমার কানে আসবে।”
কথা গুলো শেষ করে ধীরে আদ্রিতার চুল ছেড়ে দিল আদ্রিস।
এরপর সে রুম ত্যাগ করল।
আদ্রিতা তাকিয়ে আছে সে দিকে। প্রিয়া এগিয়ে আসে তড়িঘড়ি করে,
“কি হলো? কাঁদছিস কেন? ভাইয়াত তোকে আদর করল।”
আদ্রিতা, ফিরে চায়, প্রিয়ার দিকে।
এটা আদর নাকি শাস্তি ছিল সেটা প্রিয়া কিভাবে জানবে।
মিরা, কিচেনে রান্না করছিল। রেভেন দাঁড়িয়ে আছে প্রিয়ার পাশেই।
“আপু, আপনি বসের বড়? “
“হুম৷”
“আপনাকে অনেক ইয়াং দেখায়৷”
মিরা মৃদু হাসে,
“আচ্ছা তাই?”
“জি৷”
ওরা দু’জন কথা বলছিলই এমন সময় হটাৎ কাউন্টারে থাকা আদ্রিসের ফোনটা বেজে ওঠে।
সায়েরের নাম্বার ফ্লাস হচ্ছে।
রেভেন সেটা দেখে মিরাকে বলে,
“আপু এটা সায়ের বস। আপনি ফোনটা ধরে বলুন বস সাওয়ার নিচ্ছে।’
মিরা ভ্রু কুঁচকে তাকায়।
” সায়ের কে? এমন কেউত আমাদের বংশে নেই।’
“সায়ের হচ্ছে, রাশিয়ান এন্ট্রাপ্রেনার, আপনি সার্ক ট্যাঙ্ক ইংল্যান্ড ২০২৪ এ ওনাকে দেখতে পারেন। তখন খুব ভাইরাল হয়েছিল।”
“ও মাই গড সায়ের সুভহান আলভি? “
“ইয়াহ রাইট৷”
মিরা অবাক হয়ে তাকায়।
“আদ্রিস ওনার সাথে কাজ করে?”
“হ্যাঁ।”
“ও মাই গুডনেস। পিক করি?”
“জি আপু।”
মিরা কলটা পিক করে,
“হ্যালো আসসালামু আলাইকুম।”
আদ্রিসের ফোনে একটা মিষ্টি মেয়ের কন্ঠ শুনে সায়ের এক সেকেন্ডের জন্য পস হয়ে গিয়েছিল।
সে একবার ফোনটা হাতে নিয়ে নাম্বার চেক করে। না নাম্বারত ঠিকই আছে। তাহলে এটা সম্ভবত আদ্রিতা।
সায়ের কিছু বলবে তার আগেই মিরা বিষয়টা ক্লিয়ার করে,
“আমি শেখ মিরা, আদ্রিসের বড় বোন। ও আসলে সাওয়ার নিচ্ছে মি.সুবহান৷”
“ও আচ্ছা। শেখ মিরা। আপনার নাম আমি শুনেছি।”
“বাহ। আদ্রিস আমার কথাও বলেছে?’
” ইয়াহ। হি ইজ টু মাচ টকেটিভ। আপনাদের সবার কথাই আমি জানি।”
“ও আচ্ছা৷”
এরপর কিছুক্ষণ দু পাশেই নীরবতা ছেয়ে গেল। দু’জনই জানেনা। তারা দু’জনকে ঠিক কি বলবে।
এমন সময় আদ্রিস সাওয়ার শেষ করে নিচে আসে।
মিরা সেটা দেখে বলে,
“আদ্রিস এসেছে।’
” এত দ্রুত!”
মিরা খানিকটা অবাক হয়,
“মানে?”
সায়ের ওপাশ থেকে জিহ্বা কামড়ে ধরে।
“আই মিন ও সাওয়ার নিতে সময় নেয় সেটাই বলছিলাম।”
“ওহ আচ্ছা৷”
“কি হচ্ছে এখানে?”
“তোর বিজনেস পার্টনার কল করেছে।”
“ও আমার ফোন এখানে। আর আমি রুমে খুঁজে এলাম।”
আদ্রিস ফোনটা নিয়ে নেয়।
“ভাইয়া বলো।’
আদ্রিস হেঁটে চলে গেল পুল সাইডে।
মিরা তাকিয়ে রইল।
রেভেন খানিকটা আন্দাজ করল সব কিছুর।
” আপু খাবার৷”
“ও সরি সরি।”
প্রিয়া দ্রুত গ্যাস অফ করে দিল।
রেভেন মৃদু হেসে বাইরে বেরোল। ভাবনায় ডুবে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ কারও সঙ্গে ধাক্কা লাগল তার। সামনে থাকা মেয়েটি পড়ে যেতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই রেভেন দ্রুত হাত বাড়িয়ে তার কোমর জড়িয়ে ধরল। মুহূর্তটা যেন এক নিঃশ্বাসের মতো থমকে।
প্রিয়া পিট পিট করে তাকিয়ে আছে। রেভেনের দৃষ্টিও সেই কাজল চোখের দিকে স্থির।
প্রিয়া সিচুয়েশন বুঝতে পেরে সোজা হয়ে দাঁড়ায়,
“সরি বলুন।”
রেভেন এদিক ওদিক তাকায়৷
“এদিক ওদিক কি দেখছেন আপনাকেই বলছি।”
“কেন আমি কেন? আমিত তোমাকে বাঁচিয়েছি।”
“ধাক্কা টা কে মেরেছে?”
“আমিত একটু বেখেয়ালি হয়ে গেছিলাম।
বাট আই ডিড সেভ ইউ৷”
“এন্ড বিপদে ফেলা মানুষ টাও আপনি৷”
“ইউ নো হোয়াট?”
“হোয়াট?”
প্রিয়ার হুঙ্কার শুনে রেভেন চুপ হয়ে গেল ঠিক বিড়াল ছানার মত৷
“সরি৷”
প্রিয়া নিজের হাসি আটকানোর প্রচেষ্টা করছে।
“ইট’স ওকে।”
কথাটা বলে প্রিয়া কিচেনে চলে যায়।
রেভেন তাকিয়ে আছে বিরক্তি নিয়ে।
“দিস ইজ হোয়াই মাই ফ্রেন্ড’স সেইড টু মি, ইউ কেন জাস্ট এডপ্ট এ ক্যাট বাট নট মেক এনি গার্লফ্রেন্ড।
বিনা দোষে সরি বলতে হলো।”
“বুঝতে পেরেছিস?”
“হুম৷”
“এরপর বাংলাদেশ থেকে রাশিয়া আসার ফ্লাইটে না ওঠা পর্যন্ত একটা খুন করেছিস তোকে আমি সুলে চড়াব আদ্রিস৷”
“ওকে বস আমি মনে রাখব৷”
“আচ্ছা। আর একটা কথা।”
“বলো।”
“মিরা ইজ সি ম্যারিড?”
“কেন?”
“সোজা কথার সোজা উত্তর দিতে কি হয়?”
“আমার আর আদ্রিতার বিয়ে না হলে আমি কারোর বিয়ে হতে দেব না। সে গুড়ে বালি মেরে জান৷”
সায়ের দিল কল কেটে। আদ্রিস ফোনের দিকে তাকায়।
তার প্রচন্ড হাসি পাচ্ছে এই মুহুর্তে।
সায়েরর দ্বারা কোন মেয়েকে পছন্দ হওয়াটা ভীষণ টাফ।
আদ্রিস ফিরে চায়৷ মিরা মেয়েটা এতটা ইনোসেন্ট অথচ তার সাথেই তার হাসবেন্ড চিট করল।
সায়ের এই মুহুর্তে এত বড় থ্রেট না দিলে, হয়ত নেক্সট মিরার হাসবেন্ড ই খুন হতো আদ্রিসের হাতে।
কল কেটে সায়ের ফোনের দিকে তাকিয়ে রয়,
“এত মিষ্টি যার কন্ঠ। সে দেখতে কেমন হবে? আই কান্ট বিলিভ আমি কোন মেয়েকে নিয়ে এসব ভাবছি।”
বেলা গড়িয়ে দুপুর। আজকাল তেমন শীত পড়েনা। রোদ উঠলে গরম পোশাকের প্রয়োজনই হয়না।
বেলাটা আজ যেন একটু বেশি আলো দিচ্ছে।
পরিবেশ ঝলমলে হয়ে উঠেছে।
আদ্রিতার রুম থেকে একটা বিরাট আকাশমণি গাছ দেখা যাচ্ছে। বাঁকানো পাতা গুলো নীল আকাশের বুকে অপূর্ব সুন্দর দেখাচ্ছে।
গাছটা শুভ্র রঙা। হলুদ হলুদ ফুলও হয়। এখন অবশ্য ফুল নেই।
আদ্রিতা মুগ্ধ নয়নে সেই দৃশ্য উপভোগ করছে।
মানুষ কিছু নিয়েত থাকবে। আদ্রিতা এমন একটা মেয়ে যে চাইলে নিজের পুরোটা দিন প্রকৃতি দেখে কাটিতে দিতে পারে। প্রকৃতির সাথে তার বন্ধুত্ব বেশ।
আদ্রিতা সে দিকে তাকিয়েই ছিল হটাৎ পেট গুড়গুড় শব্দ।
আদ্রিতা পেটে হাত দেয়। জিদ দেখিয়ে সকাল থেকে পেটে একটা পাখির দানা পর্যন্ত পড়েনি। পেটটা আর কতক্ষণ এই অত্যাচার সইবে।
আদ্রিতা মাথাটা হাঁটুতে গুঁজে।
চাইলেত নিচে যাওয়াও যাচ্ছে না।
লাঞ্চ টেবিলে বসে আছে সবাই শুধু আদ্রিতা নেই।
প্রিয়া, মিরাকে তখন থেকে খোঁচাচ্ছে আদ্রিসকে কথাটা বলার জন্য। মিরা বলবে বলবে করে বলতে পারছে না৷
“আদ্রিস।”
“বলো?’
” আদ্রিতাকে নিয়ে আয় না প্লিজ। সবাই খাচ্ছি আমরা৷”
আদ্রিস মাথা তুলে তাকায়।
“ওকে।”
মিরা, প্রিয়া দু’জন অবাক। রেভেনও।
আদ্রিস উঠে দাঁড়ায়। আদ্রিতার রুমের দিকে পা বাড়ায়৷
“দেখেছো মিরা আপু আমি বলেছিলাম আদ্রিস ভাইয়া তোমার কথা ফেলতেই পারেনা৷ “
“আমার সুইটহার্ট আদ্রিস৷”
খান মেনশন,
বিরাট এক ফুলদানি কাচের টেবিলের উপর ছুঁড়ে মারাতে টেবিল শহ ফুলদানি বিকট শব্দে ভেঙে গেল গুড়িয়ে গেল মুহুর্তে।
মাধবী বেগম তাকিয়ে আছেন সে দিকে। আসরাফ খান রাগে ফুঁসছেন।
চলবে?
Share On:
TAGS: জেন্টাল মনস্টার, লামিয়া রহমান মেঘলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৫
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৩
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৪
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৩
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৯
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৬
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩০
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ২
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩২