জাহানারা
জান্নাত_মুন
পর্ব :৩৯
🚫ক’পি করা নিষিদ্ধ
🔞 সতর্কবার্তা:
এই গল্পে অশ্রাব্য ভাষা, অশ্লীলতা এবং সহিংসতার উপাদান রয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সী বা সংবেদনশীল পাঠকদের জন্য উপযুক্ত নয়। পাঠক নিজ দায়িত্বে পড়বেন।
জুই আর ইতি দুজনেই গাউন জামা পড়ে রেডি হয়ে নিচে দাঁড়িয়ে আছে। ইতি জুইকে বলেছিল এই গ্রাম টা যদি একবার ঘুরে দেখতে পারতো।জুই সেই কথা জিতু ভাইয়াকে বলতেই তিনি বলেন, রেডি হয়ে তাড়াতাড়ি নিচে আসতে।ইতি আর জুই খুশিতে ঝটপট রেডি হয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে আছে।জিতু ভাইয়া গাড়ি বাইরে বের করে আনলো।অতঃপর ওদের কে গাড়িতে উঠে বসতে বললো।জুই আর ইতি লাফিয়ে গিয়ে উঠে বসে পড়লো।জিতু ভাইয়া ফ্রন্ট মিররে ইতির হাসি মুখ দেখে মুচকি হাসলো।তিনি গাড়ি স্টার্ট দেওয়ার সাথে সাথেই পেছন থেকে একটি মেয়েলি কন্ঠ স্বর শুনতে পেলো।জিতু ভাইয়ের বুঝতে বাকি নেই এটা কে হতে পারে।তবে তিনি গাড়ি থামালেন না।পিছন থেকে নোহা চেচিয়ে ডাকছে,
–জিতু বেইবি স্টপ দ্যা কার।আমাকে নিয়ে যাও।আমিও তোমাদের সাথে যাবো।
নোহার ডাক কানে তুললেন না তিনি।এদিকে জুই আর ইতিও ভাইয়াকে বলছে নোহা ডাকছে।ইতি বললো,
–ভাইয়া আমার নোহাপু ডাকছে।আপুও রেডি হয়ে এসেছে আমাদের সাথে যাবে বলে।
জিতু ভাইয়া গাড়ির স্টিয়ারিং এ হাত চালাতে চালাতে বললো,”ওর যাওয়ার দরকার নেই। “
ছোট্ট ইতি এই কথার পিছে আর কিছু বলতে পারলো না।সে গাড়ির উইন্ডো দিয়ে দেখলো নোহা দৌড়ে ওদের গাড়ি কে ধরতে চাইছে। ইতি সবচেয়ে আশ্চর্য হলো নোহাকে গাউন পড়ে সম্পূর্ণ শরীর ঢেকে রাখতে দেখে।কারণ এর আগে কখনো নোহা ওয়েস্টার্ন ছাড়া আর কিছু পড়েনি।আজ নোহা আমার দেওয়া গাউনটা পড়ে আছে।গলায় জরজেট ওড়না জড়িয়ে রেখেছে।সামনের শর্টকাট চুলগুলো কপালে পড়ে আছে।দৌঁড়ানোর সাথে সাথে ওর পিট পর্যন্ত পড়া সিল্কি চুলগুলো দুপাশে দোল খাচ্ছে।ভিষণ সুন্দর আর স্নিগ্ধ লাগছে নোহাকে।সে দেখতে বরাবরই পুতুলের মতো মিষ্টি। আজ যেন বাঙালি পোষাকে আরও আবেদনময়ী লাগছে।কিন্তু এই সাজ যার জন্য সে একবারো ফিরেও দেখলো না।বরং গাড়িটা দ্বিগুণ গতি নিয়ে নোহার চোখের আড়াল হয়ে গেলো।মেয়েটা ডাকতে ডাকতে অনেকটা পথ দৌঁড়াল।তবুও ওকে সাথে নিলো না।অবশেষে মেয়েটা রাস্তায় পড়ে থাকা একটা ইটের টুকরোর সাথে বেজে হোঁচট খেয়ে পড়লো।নোহা সাথে সাথে হু হু করে কেঁদে দিলো।মাথাটা সামনে তুলে গাড়িটা চলে যাওয়ার পথে তাকালো।নোহার চোখদুটো জলে টইটম্বুর।সে নাক টেনে কাঁদতে কাঁদতে ঠোঁট উল্টালো।
নোহার হাত ছিলে গেছে। পায়ের হাঁটুও হয়তো কিছুটা ছিলে গেছে। তাই পাজামা রক্ততে ভিজে লাল হয়ে উঠেছে।নোহা নিজের রক্তাক্ত হাত দুটো চোখের সামনে ধরে বেশ কিছুক্ষণ ব্যথাতুর দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো।অতঃপর অচেনা কারো পুরুষালী কন্ঠ কানে আসে।সে সামনে তাকাতেই দেখলো দুটো ছেলে ওর দিকে হাত বাড়িয়ে রেখেছে। একটা কালো ছেলে বললো,
–আপু এভাবে রাস্তায় পড়ে আছেন কেন?যে কোনো সময় গাড়ি আসতে পারে।
আরেকটা শ্যামলা, মুখে ব্রুনে ভরা ছেলে বললো,
–আরে আপু আপনার হাত তো দেখছি ছিলে গেছে।একা উঠতে পারবেন?না পড়লে আমার হাতটা ধরুন।
নোহা হাতের উল্টো পিট দিয়ে চোখের পানিটা মুচে ফেললো।অতঃপর সামনে ওর দু’হাত বাড়িয়ে দিতেই ছেলে দু’টো ওর দুহাতে ধরে টেনে দাঁড় করালো।নোহা নাক টেনে ঠোঁট হালকা প্রসারিত করে বললো,
–থ্যাঙ্ক ইউ লিটিল বয়েজ।
ছেলে দু’টো একে অপরের দিকে চোখাচোখি করলো।মানে নোহার কথা তারা বুঝে নি।বুঝবেই বা কিভাবে?কোনোদিন কি বই কলম ছুঁইয়ে দেখেছে নাকি?ছেলে দুটোকে দেখে মনে হচ্ছে আঠারো কি উনিশ হবে।তবে মনে তো হচ্ছে নোহার জুনিয়রই হবে।ছেলে দুটো হেসে বললো,
–আপু এলাকায় নতুন নাকি?না মানে আর কোনোদিন আপনাকে দেখিনি তো তাই।
নোহা মন খারাপ করে রেখেই বললো,
–হ্যা তো।আমি এই এরিয়ায় লাইফের ফাস্ট টাইম এসেছি।এই প্লেইসটা সো বিউটিফুল। বাট বেইবি আমাকে না নিয়েই ঘুরতে চলে গেলো।
নোহার কথায় ছেলে দু’টো দুঃখ প্রকাশ করলো।অতঃপর বললো সামনের চা দোকানটায় বসে এক কাপ চা খেলে মনটা ভালো হয়ে যাবে।নোহা ছেলে দু’টোর সাথে চা দোকানে গিয়ে বসলো।সেখানে আরও তিনজন ছেলে আগে থেকেই বসে চা খাচ্ছে।নোহাকে দেখে ছেলেগুলো ভদ্রতা দেখিয়ে আরেকটা বেঞ্চে গিয়ে বসলো।বয়স্ক চা ওয়ালা নোহাকেও এক কাপ চা দিলো।নোহা চা খেতে খেতে ছেলেদের সাথে গল্প জময়ি দিলো।ছেলেগুলো নোহার সাথে ভদ্রভাবে কথা বলছে। অন্যদিকে নিজেদের মধ্যে চোখাচোখি করে ঠোঁট টিপে হাসলো।
আমি চোখ গরম করে ইফানের দিকে তাকিয়ে আছি।ইফান আমার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট টিপে হাসছে।আমার শাড়ির আচল ইফানের হাতে।সে নাকি এখন ঘুমাবে!!অথচ আমাকে রুম থেকে যেতে দিচ্ছে না।আমাকেও নাকি এখন তার সাথে ঘুমাতে হবে।ইফানের প্রতি রাগে দুঃখে নিজের চুল টেনে ছিঁড়তে ইচ্ছে করছে।নিজের মা বাপের সামনে সারাক্ষণ জামাই নিয়ে ঘরে থাকাটা কতটা লজ্জাজনক এটা এই শয়তানকে কে বুঝাবে।আমি শাড়ির আচল নিজের দিকে টানতে টানতে রাগে রিরি করতে করতে বললাম,
–ইফান ভালো হচ্ছে না।শাড়ির আচল ছাড় নিচে যাব।
–ওকে,,,,
আমার কথায় ইফান সত্যিই ছেড়ে দিলো।আমি আশ্চর্য হলাম।এত সহজে আমাকে ছেড়ে দিলো?আমি ওর দিকে তাকিয়ে আঁচলটা কাঁধে তুলবো তক্ষুনি ইফান নিজের দুই পা আমার কোমরে পেচিয়ে নিজের উপর বিছানায় ফেলে দিলো।আমি “আহ্” করে উঠলাম।ইফান আমার আচলটা একপাশে ফেলে বুকে মুখ গুঁজলো।পরপর বুকের ভাজে শব্দ করে চুমু খেয়ে নাক ঘষতে লাগলো।আমি ওর খালি গায়ে হাত রেখে উঠতে নিলে পিছলে পড়লাম।ফলে আমার ঠোঁট ওর ঠোঁটে লেগে যায়।আমি তৎক্ষনাৎ ইফানের চোখের দিকে তাকালাম।ইফানের চোখে হাসি খেলছে।ঝটপট আমার ঠোঁট ওর ঠোঁট থেকে সরিয়ে নিতে নিলে, ইফান আমার পিটে এক হাত আর মাথায় এক হাত রেখে ওর সাথে চেপে ধরে। ফলে আমি চাইলেও নিজেকে ওর থেকে সরিয়ে নিতে পারছি না।ইফান আমার ওষ্ঠভাজে ডুব দেয়।আমি নড়াচড়া করলেই দাঁত বসিয়ে দিচ্ছে। কিছুক্ষণ পর আমার ঠোঁট ছেড়ে দিলো।আমি হা করে হাঁপাতে হাঁপাতে জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগলাম। ইফান জিহ্ব দিয়ে নিজের ঠোঁট ভিজিয়ে নিতে নিতে আমার এলোমেলো হওয়া চুলগুলো মুখ থেকে সরিয়ে দিতে লাগলো।
–অসভ্য, শয়তান,বদমাইস,,,,
আমি চোয়াল শক্ত করে চিবিয়ে চিবিয়ে বললাম।ইফান ঠোঁট বাকিয়ে হেসে আমার কন্ঠনালিতে গভীর চুম্বন এঁকে দিলো।অতঃপর আমার মাথায় রাখা হাতটাতে চাপ বসিয়ে ওর কপালের সাথে আামর কপাল ঠেকালো।তারপর হিসহিসিয়ে বললো,
–কি সব বল সব সময়?মাঝেমধ্যে তো একটু ইউনিক নামেও ডাকতে পার।এই যেমন :জান, হানি,বেইবি আ,,,,,
বাকি কথা আর বলতে দিলাম না।তার আগেই ওর বুকে কিল বসালাম।ইফান হেসে দিলো আমার এমন কাজে।আমি নিজের রাগ কিছুটা কন্ট্রোলে আনতে চোখ বন্ধ করে শ্বাস নিলাম।অতঃপর শীতল কন্ঠে বললাম,
–কিছুক্ষণ পর সন্ধ্যা হয়ে যাবে। আমাকে ছাড় নিচে যেতে হবে।
ইফান আমাকে বালিশে শুইয়ে দিলো।তারপর ব্লাউজের দুটো বোতাম খুলে সেখানে মুখে ডুবিয়ে মাদকীয় কন্ঠে বললো,
–ঠিক আছে,আমি ঘুমিয়ে পড়লে চলে যেও।
–তাহলে তুমি ঘুমাও, আমাকে যেতে দাও।আমি থেকে কি করবো?
ইফান একটু নড়েচড়ে আমাকে আরও তার সাথে চেপে ধরলো।অতঃপর বুকে মুখ ডুবিয়ে রেখেই সেখানে দাঁত বসিয়ে দিলো।আমি দাঁতে দাঁত চেপে চোখ বন্ধ করে সহ্য করে নিলাম।ইফান দাঁত বসানো জায়গায় নাক ঘষতে ঘষতে হাস্কি স্বরে বললো,
–বউ আমার খালি মন চায় তোমার ভেতর ঢুকে যেতে।
আমি দাঁতে দাঁত চেপে বললাম__❝আমারও খালি মন চায়,,,,,,❞
ইফান আমাকে তার সাথে আরও চেপে ধরলো।তারপর আহ্লাদি স্বরে জিজ্ঞেস করলো__❝কি?❞
আমি দাঁত কিরমির করতে করতে বললাম__❝তর বালডা ছিঁড়ে ফেলতে।❞
জিতু ভাইয়া ইতি আর জুইকে নিয়ে গ্রামের আশেপাশের কিছু জায়গা ঘুরিয়ে দেখালো।এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশটা অসম্ভব সুন্দর। আমাদের বাড়ি থেকে বেশ কিছুটা দূরে গেলে দেখতে পাওয়া যায় রাস্তার দু পাশে পাট ক্ষেত আর ধনচে ক্ষেত।ঐদিকটায় লোকালয় নেই।বেশ কয়েক একর জমি জুড়ে কৃষকরা পাট আর ধনচে চাষ করেছে।তাই ক্ষেতের দিকে তাকালে যতটুকু দেখা যায় সবটায় সবুজে সবুজে ভরপুর। জুই আর ইতি দুজনেই অনেক খুশি একটু ঘোরাঘুরি করতে পেরে।ইতি তো শহরের মেয়ে। তাই তার আগে কখনো এমন সুন্দর গ্রাম দেখার সৌভাগ্য হয় নি।এদিকে জুই আমার বিয়ের পর থেকে ঘর কোণ হয়ে আছে।বাড়ির বাহিরে ও নিজেও বের হয় না, আবার আমার পরিবারও একা বের হতে দেয় না।
প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এসেছে।তাই জিতু ভাইয়া ওদের গাড়ি ঘুড়িয়ে বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা দিলো।উনার আবার সন্ধ্যার পর ভিষণ দরকারি একটা কাজে বেরতে হবে।
গাড়ি বাড়ির গেইটের ভেতর ঢুকতেই জিতু ভাইয়া ওদের নামিয়ে দিলো।ইতি তারাহুরো করে নামতে গিয়ে ওর ওড়না গাড়ির ডোরে আটকে যায়।সে ওড়না ধরে টানাটানি করার সময় পিছন থেকে জিতু ভাইয়া এসে ওড়না টা ছাড়িয়ে দেয়।ইতি বেশ লজ্জা পেল।তাই বাড়ির দিকে আস্তে আস্তে দু পা এগিয়ে এক ছুটে ভেতরে চলে গেলো।জিতু ভাইয়া ইতির ছেলে মানুষি দেখে ঠোঁট কামড়ে হাসলো।অতঃপর বাড়িতে না ঢুকেই গাড়ি নিয়ে কাজে বেড়িয়ে গেলে।
আজ ইতি আর জুই যে যে জায়গা গুলোতে ঘুরেছে,সবখানেই দু-জনে সেলফি তুলেছে।আর জিতু ভাইয়াও ওদের অনেক ছবি তুলে দিয়েছে।ইতি বাড়িতে এসেই নোহাকে খুঁজতে লাগলো পিকগুলো দেখাবে বলে।ইতি যখন ডাকছিল তখন রান্নাঘর থেকে আম্মু বেরিয়ে আসে।তিনি বলেন নোহা জুইদের সাথে ঘুরতে যাবে বলে বেড়িয়েছিলো, এখনো আসে নি।জুই আর ইতি আম্মু কে বললো, তাদের সাথে নোহা যায় নি।মূহুর্তেই সকলে চিন্তায় পড়ে গেছে। এদিকে জিতু ভাইয়া, আব্বু আর বড় আব্বুও বাসায় নেই। আর ইনান আলাল দুলালও বড় আব্বুর সাথে বাজারে বেড়িয়েছে।এই ভর সন্ধ্যায় কে খুঁজতে যাবে।ইতি নোহার জন্য কেঁদে দেয় দেয় অবস্থা। উপয়ান্তর না পেয়ে আম্মু বললো আমাকে গিয়ে কথাটা বলতে।ইতি আর জুই এক মূহুর্ত আর দাঁড়ালো না।এক ছুটে আমার রুমের উদ্দেশ্য রওনা দিলো।
দরজার সামনে এসে ইতি ডাকতে লাগলো,”ভাবিজান তাড়াতাড়ি একটু আস।” ইফানের সাথে শুইয়ে থাকতে থাকতে কখন যে চোখ লেগে গেছে ঠাহর করতে পারলাম না।ইতি আর জুইয়ের গলা শুনে আমি চোখ মেলে তাকালাম। ইফান এখনো আমার বুকে মুখ গুঁজে ঘুমাচ্ছে। এদিকে ইতি আবার ডেকে উঠলো,
–ওও ভাবি রুমের দরজা একটু খোল জরুরি দরকার আছে।
ইতির কথায় জুই লজ্জায় পড়ে গেলো।কারণ সে জানে ইফান রুমে আছে।জুই ইতিকে বললো আস্তে ডাকতে।ইতি জুইয়ের দিকে চেয়ে রইলো।এরই মাঝে রুম থেকে আমার কন্ঠ ভেসে আসলো,
–তোরা নিচে যা আমি আসছি।
ইতি আরও কিছু বলতো কিন্তু জুই ওকে টেনে নিয়ে নিচে চলে যায়।এদিকে আমি নিজের থেকে ইফান কে সরাতে পারছি না।ওকে সরাতে নিলেই ঘুমের ঘোরে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরছে।আমি দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে ওকে আস্তে আস্তে ডাকলাম,
–ইতি ডাকছে।নিচে যেতে হবে ছাড়ুন।
ইফান বিরক্তিতে চ বর্গীয় শব্দ উচ্চারণ করে বালিশের উপর মুখ ডুবিয়ে চিত হয়ে শুয়ে পড়লো।আমি এতক্ষণে ওর থেকে ছাড়া পেয়ে স্বস্তিতে নিশ্বাস নিলাম।অতপর ব্লাউজের বোতামগুলো লাগিয়ে বুকে শাড়ির আচলটা টেনে নিলাম।এরপর চুলগুলো আলগোছে খোঁপা করতে করতে রুম থেকে বেড়িয়ে গেলাম।
ধরণী অন্ধকারে তলিয়ে গেছে। নিচে বড় আম্মু, আম্মু, জুই আর ইতি আমার অপেক্ষায় পায়চারি করছে।তাদের চেহারায় চিন্তার ছাপ।আমাকে সিঁড়ি দিয়ে নামতে দেখেই ইতি কাঁদতে কাঁদতে ছুটে আসলো।আমাকে জড়িয়ে ধরে হেঁচকি তুলে বলতে লাগলো,
–ভাবি নোহাপুকে খুঁজে পাচ্ছি না কোথাও।বড় আন্টি প্রতিবেশীদের বাড়িতে খোঁজ নিয়েছে।নোহাপু কারো বাড়িতে যায় নি।আমার নোহাপু কোথায় চলে গেলো?
আমি আশ্চর্য হলাম ইতির কথা শুনে।নোহা আবার কোথয় চলে যাবে?ও কিছুক্ষণ আগেই আমার থেকে একটা জামা নিয়ে গেলো।আমি আম্মু কে বললাম,
–মেয়েটা কোথায় গেছে তোমাদের কিছু বলে যায় নি?
–মেয়েটাকে দেখেছিলাম তোর একটা নতুন জামা পড়ে হেলেদুলে নিচে নামতে।আমি জিজ্ঞেস করলেই বললো জিতু আব্বা নাকি ওদের নিয়ে ঘুরতে যাবে।
আমি জুইদের দিকে সরু চোখে তাকাতেই জুই সবটা খুলে বললো।ওদের কথা শুনে আমারও টেনশন হচ্ছে।এই অন্ধকারে কোথায় গিয়ে খুঁজবো যেখানে বড় আম্মু বলছে এদিকে কারো বাসায় নেই। এরই মাঝে জিয়াদ ক্লান্ত শরীর নিয়ে সদর দরজা ডিঙ্গিয়ে বাড়ির ভেতর আসলো।আমাদের এভাবে চিন্তিত দেখে কাঁধের ব্যাগটা সোফায় রাখতে রাখতে জিজ্ঞেস করলো কি হয়েছে?আমি সবটা বলতেই সবাই কে একটা ঝারি মারলো,
–আশ্চর্যের কথাবার্তা বলছ তোমরা।বাড়িতে মেহমান আসছে।তাদের দেখে শুনে রাখবে, তা না করে এখন বলছ নোহা আপুটা নাকি নিখোঁজ,অদ্ভুত।।।
বড় আম্মু জিয়াদের সামনে এক গ্লাস পানি ধরে ছেলেকে শান্ত করার চেষ্টা করলো।ইদানীং জিয়াদ অনেক খিটখিটে হয়ে গেছে। আমি না থাকায় আরও বেশি অবনতি হয়েছে।জিয়াদ পানি না খেয়েই বাসা থেকে বেড়িয়ে গেলো আশপাশটা একটু দেখতে।কেউ যদি নোহার বিষয়ে কোনো খবর দিতে পারে তাহলে মেয়েটাকে খুঁজে পেতে সুবিধা হয়।
জিয়াদ বেরিয়ে যেতেই আম্মু আমাকে বললো,
–জাহান তোর ভাইকে বিষয়টা জানা।যদি ও কিছু জানে।
জুই বললো,”না আম্মু ভাইয়া নোহা আপুর সম্পর্কে কিছু জানে না।কারণ উনি নোহা আপুর সাথে কথাই বলতে চান না।তাই তো আমাদের দিয়ে বাইরে থেকেই চলে গেছে। “
আমিও ভাবলাম নোহা যদি আসেপাশেই থাকে তাহলে তো ভাইয়াকে বিরক্ত করা হবে।আর ভাইয়ার সাথে সকালে কথা হয়েছে। ইদানীং কি কেইস নিয়ে ভীষণ ব্যাস্ত।
কিছুক্ষণের মধ্যেই জিয়াদ ছুটে আসলো।এসেই হাঁপাতে হাঁপাতে বলতে লাগলো,
–জাহানাপু নোহা আপুকে আসেপাশে কোথাও পেলাম না।তবে মিরাশ নানার চায়ের দোকানে গিয়ে উনাকে জিজ্ঞেস করতেই উনি বললো,মাগরিবের আযান অব্দি নাকি তার দোকানেই বসে ছিলো।আর আমি জিগ্যেস করলাম তার সাথে কেউ কি ছিলো কিনা?তিনি বললো,পশ্চিম পাড়ার মিন্টু আর তার চার বন্ধু নাকি চা খাচ্ছিল।নোহা আপু নাকি ওদের সাথেই হেসে হেসে কথাবার্তা বলছিলো।
জিয়াদের কথা শুনে আমি সহ সকলের আত্মা শুকিয়ে যাওয়ার অবস্থা হয়েছে।কারণ সবাই বলে পশ্চিম পাড়ার মানুষ নাকি সুবিধার না।ইতির সাথে এখন আম্মুরাও হুহু করে কেঁদে দিলো।এটা দেখে জিয়াদের মাথা আরও গরম হয়ে গেলো।সে ধমকে উঠলো,
–এখন এত নাটক করছ কেন?তখন মনে ছিলো না বাড়ি তে পরের বাড়ির মেয়ে আছে।আর তাদের দেখেশুনে রাখতে হবে?
জিয়াদের কথায় কেউ কিছু বলার সাহস পেল না।আমি আর এখানে দাঁড়ালাম না।এক দৌঁড়ে সোজা নিজের রুমে আসলাম।ইফান এখনো আগের ন্যায় বেঘোরে ঘুমাচ্ছে। বেশ কয়েক রাত ধরে ওর ঘুম হয় না।তাই আজ সব ঘুম তাকে জেঁকে ধরেছে।আমি ছুটে বিছানায় গিয়ে বসলাম।
–ইফান, এই ইফান উঠ না তাড়াতাড়ি,,,,,
লোকটার কান অব্ধি আমার ডাক হয়তো পৌঁছালো না।আমি ওর বাহুতে হালকা থাপড়ে আবারও অধিক উত্তেজিত হয়ে ডাকতে লাগলাম,
–এই শুন না। নোহাকে তখন থেকে পাওয়া যাচ্ছে না,,,,
ঘুমের মাঝে ইফান বিরক্তি তে চোখমুখ কুচকে ফেললো।আমি আবার ওর বাহুতে হালকা থাপড়ে ডাকতে লাগলাম,
–ইফান, এই ইফান তাড়াতাড়ি উঠ,,,
–হুমম,,,,
ঘুমের মধ্যে নড়েচড়ে সংক্ষিপ্ত উত্তর করলো।আমি ওর হাতে ধরে টানতে টানতে বললাম,
–হুম না, উঠ। নোহাকে পাওয়া যাচ্ছে না।এই জায়গাটা এত ভালো না। মেয়েটা কোনো বিপদে পড়তে পারে।
ইফান ঘুমের মধ্যে বিরক্তি নিয়ে বললো,
–কি সমস্যা?
–কি সমস্যা মানে?নোহাকে পাওয়া যাচ্ছে না,,,
–তোমার ভাই কোথায়?
ইফানের কথা শুনে আমার চোয়াল শক্ত হয়ে আসলো।আমি দাঁত কটমট করে বললাম,
–জিতু ভাই কোথায় মানে?
এদিকে ইফান আবার ঘুমিয়ে পড়েছে। আমি ওর উত্তরের আশায় কয়েক মূহুর্ত অপেক্ষা করলাম।তারপর আমি আবার ওর হাত ধরে টানতে লাগলাম,
–ইফান,,,
ঘুমের মধ্যে বারবার ব্যাঘাত ঘটায় বেশ বিরক্ত হচ্ছে ইফান।কারণটা আমি হওয়ায় কিছু বলতেও পারছে না।অন্য কেউ হলে হয়তো কিছু একটা অঘটন ঘটিয়ে দিতো।ইফান বিরক্তি নিয়ে বললো,
–ইশশ, গিয়ে দেখ কোন পাট ক্ষেতের চিপায় শালা-শালি লীলাখেলা করছে।
ইফানের উত্তরে আমার মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো,
–নোহার কিন্তু কিছু হয়ে যেতে পারে।
–জাহান্নামে যাক,তাতে আমার কি।।
ইফান গা ছাড়া ভাব নিয়ে উত্তর করে আবার ঘুমিয়ে পড়েছে। আমিও বুঝলাম এখানে এভাবে বসে থাকলে চলবে না।তাই আমি তাড়াতাড়ি রুম থেকে বেড়িয়ে যেতে নিয়েও কিছু একটা ভেবে থেমে গেলাম।অতঃপর আমার পুড়নো স্কুল ব্যাগটা গেটে কাঙ্ক্ষিত জিনিস টা বের করে রুম থেকে বেড়িয়ে গেলাম।
নির্জন কাঁচা মাটির রাস্তা দিয়ে দুর্বল শরীরটাকে নিয়ে প্রাণপণে দৌড়াচ্ছে নোহা।চেঁচিয়ে কাউকে ডাকবে তার শক্তিটাও আর নেই।মেয়েটার চোখ বারবার বন্ধ হয়ে আসছে তবুও থামছে না।এখন থামলেই হয়তো আর কোনোদিন পৃথিবীর আলো দেখা হবে না।মেয়েটার পায়ের তালা ক্ষত বিক্ষত।নোহার হিল জুতা গুলো কোথায় ফেলে এসেছে সে আর বলতে পারবে না।তার জরজেট ওড়নাটাও হয়তো কোথাও অবহেলায় পড়ে আছে।এদিকে ওর পেছনে চারজন ছেলে দৌড়াচ্ছে।একজনের হাতে ফোনের ফ্ল্যাশ জ্বালানো।আরেক জনের হাতে ধারালো অস্ত্র।নোহা যে আঁকাবাকা রাস্তা দিয়ে ছুটছে, ছেলেগুলোও তাকে অনুসরণ করে পিছনে ছুটছে।মন্টু ছেলেটা বললো, –মাগীর তেজ ভালা আছে দেখা যায়।দুইটা ঘুমের বড়ি খাওয়ালাম তবুও কাবু হইলো না।
পাশের ছেলেটা বললো,
–শালিরে একবার ধরবার পারলে সাউ*য়ায় মরিচ দিমু।
নোহা আর দৌড়াতে পারছে না।তার পা বারবার থেমে আসছে।এই কঠিন পরিস্থিতিতে নোহার খালি মনে পড়ছে তার বাবার কথা।এই ছেলেগুলো যদি একবার জানতে পারতো নোহা কার মেয়ে, তাহলে হইতো ওর দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস কেউ দেখাতো না।নোহার কানে বারবার আসছে তার বাবার আদুরে ডাক,
❝ওহ্ মাই ডিয়ার প্রিন্সেস,,,, ❞
নোহার পা থেমে গেছে।মূহুর্তেই ছেলেগুলো ওকে ধরে ফেললো।নোহার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে।তার চোখ দুটো সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত অস্পষ্ট ভাবে বারবার বলতে লাগলো,
–পাপা সেইভ মি,ইফান বেইবি সেইভ মি,প্রিটি গার্ল সেইভ মি,জিতু বেইবি সে,,,,,,,,
বাকিটা বলার আগেই সম্পূর্ণ নিস্তেজ হয়ে ঢলে পড়ে নোহা।নোহাকে জ্ঞান হারাতে দেখে ছেলেগুলো উল্লাসে ফেটে পড়লো।
চলবে,,,,,,,,,,,,
(চুপিচুপি গল্প পড়ে চলে না গিয়ে রিয়েক্ট আর গঠনমূলক মন্তব্য করে যাও।এতে লেখায় আগ্রহ বাড়ে।হ্যাপি রিডিং 🥳🫶)
জাহানারা
জান্নাত_মুন
পর্ব :৪০
🚫ক’পি করা নিষিদ্ধ
🔞 সতর্কবার্তা:
এই গল্পে অশ্রাব্য ভাষা, অশ্লীলতা এবং সহিংসতার উপাদান রয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সী বা সংবেদনশীল পাঠকদের জন্য উপযুক্ত নয়। পাঠক নিজ দায়িত্বে পড়বেন।
আমি আর জিয়াদ নোহাকে পাগলের মতো খুঁজে বেড়াচ্ছি।এই রাতের অন্ধকারে সব ঠিক মতো দেখাও যাচ্ছে না।ফোনের ফ্ল্যাশ যেদিকে ধরা হচ্ছে সেদিকে ততটুকুই দেখতে পাচ্ছি।এদিকে আরও পাঁচ মিনিট আগে লোকালয় পেড়িয়ে এসেছি।জিয়াদ অনেক ক্লান্ত। তবুও সে গলা ফাটিয়ে চেচিয়ে চেচিয়ে ডাকছে নোহাকে।আমিও সমান তালে ডাকছি।জিয়াদ জোরে জোরে শ্বাস ফেলতে ফেলতে বললো,
–জাহানাপু এখানে কি নোহা আপুকে পাব?এদিক থেকে তো সবটাই ক্ষেত।
–কি জানি রে।আমিও বুঝতে পারছি না, মেয়েটা কি এদিকে আসবে?
হঠাৎই জিয়াদ আমাকে ডেকে উঠলো,
–আপু ঐ যে, ঐখানে কেউ আছে মনে হচ্ছে না?
আমি লাইটের আলো অনুযায়ী সেদিকে তাকাতেই দেখি, অনেকটা দূরে কেউ একজন পায়চারি করছে।মূহুর্তেই আমি আর জিয়াদ চোখাচোখি করে নিঃশব্দে সেদিকে এগিয়ে যেতে লাগলাম।তবে আমাদের লাইটের আলো দেখতে পেয়ে সতর্ক হয়ে যায়। আগুন্তক পালাতে নিলেই জিয়াদ দৌড়ে ধরে ফেললো।লোকটাকে দেখে জিয়াদ অবাক হয়ে বললো,
–জাহানাপু এটাতো মন্টুর চাচাতো ভাই সাদ্দাম।
সাদ্দাম ছেলেটা জিয়াদের সাথে ধস্তাধস্তি শুরু করেছে।আমি ওর গালে ঠাস করে চর বসালাম। মূহুর্তেই ছেলেটা চোখ উল্টে দিলো।আমি সাদ্দামের চোয়াল চেপে ধরে শক্ত গলায় বললাম,
–মেয়েটা কোথায় তাড়াতাড়ি বল?
সাদ্দাম আমাকে দেখে ভয়ে জড়সড় হয়ে গেছে। ফলস্বরূপ ওর প্যান্ট ভিজে গেছে। আমি আরেক টা থাপ্পড় বসাতে গেলেই বলে উঠলো,
–মন্টু ভাই আর তার বন্ধু রা মিলে মেয়েটাকে ক্ষেতের ভিতর নিয়ে গেছে। আমাকে বলছে এখানে পাহারা দিতে।
আমি শাড়ির আচলটা কাঁধে তুলে কোমরে পেচিয়ে, জিয়াদকে নিয়ে সেদিকেই ছুট লাগালাম। এদিকে সাদ্দাম ছাড়া পেয়ে দৌড়ে পালিয়েছে।আমরা একটা ক্ষেত পেরোতেই দেখতে ফেলাম সেদিকে আলো জ্বলছে। সাথে কয়েকটা কন্ঠ স্বরও শুনতেই আমি আর জিয়াদ চিৎকার দিয়ে সেখানে পৌঁছাতেই ছেলেগুলো আমাদের দিকে তাকালো।এদিকে মন্টুসহ সকলেই সবে জ্ঞান হারা নোহার উপর ঝাপিয়ে পড়তে উদ্ধত হয়েছিলো।আমাদের দেখেই থেমে গেছে।মন্টু আমাকে দেখেই বলে উঠলো,
–এ এ তো জিতু ভাইয়ের বোইন।
সানি নামের ছেলেটা চেচিয়ে বলে উঠলো,
–ভাই এরা তো আমাদের দেখে নিয়েছে। এখন তো আমাদের জেলে ঢুকিয়ে দিবে।
সানির কথা শুনেই মন্টু আমার আর জিয়াদের উপর হামলে পড়তে পড়তে বললো,
–শালিদের ধর, কোনো ভাবে যাতে পালাতে না পারে।এদের কাহিনি আজ এখানেই শেষ করবো।
মূহুর্তের মাঝেই তিন জন ছেলে জিয়াদের দিকে হামলে পড়লো।জিয়াদও সমান তালে তাদের উপর আক্রমণ চালাচ্ছে।আমিও জিয়াদকে সাহায্য করতে ওদের সাথে লড়তে লাগলাম।এরই মাঝে মন্টু মাটি থেকে ছু*রিটা হাতে তুলে জিয়াদের পিটে বসাতে নিলে আমি চিৎকার করে উঠলাম,
–জিয়াআআদ,,,,,
জিয়াদ ওদের সাথে মারামারি ছেড়ে পিছনে তাকাতেই দেখলো, মন্টু ছুরি হাতে নিয়ে ওর দিকে ধরে আছে।মুহূর্তেই আবার মন্টু হেলে পড়লো।এদিকে মন্টুর পিছনে আমি রক্তাক্ত ছুরি হাতে দাঁড়িয়ে আছি।জিয়াদ আমাকে একবার দেখে আবার মন্টুর দিকে তাকাতেই দেখলো, মন্টুর পিট দিয়ে অনর্গল রক্ত বের হচ্ছে।মন্টু নিজেকে সামলে আবার ছুরি হাতে আমার দিকে এগিয়ে আসতে নিলে আমি মুখ দিয়ে আওয়াজ বের করে ছুরিটা ওর কপালের মাঝ বরাবর ঢুকিয়ে দিলাম।মন্টুর রক্ত ছিটকে আমার গায়ে এসে পড়েছে।এরই মাঝে সানি ছেলেটা আমার দিকে তেড়ে আসতে নিলে আমি এক হাতে শাড়িটা কিছুটা উঁচিয়ে ওর বুক বরাবর লাথি বসালাম।ছেলেটা ছিটকে গিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো।এদিকে বাকি দুজন জিয়াদের সাথে ধস্তাধস্তি শুরু করেছে পালানোর জন্য। জিয়াদ একা পড়ে উঠলো না। ছেলে দু’টো ওকে ধাক্কা মেরে পাট গাছ ভেঙে দৌড়াতে লাগলো।জিয়াদও মাটি থেকে ফোনটা তুলে লাইট ধরে ওদের পেছনে দৌড়াতে লাগলো।এদিকে মাটিতে লুটিয়ে পড়া সানি নামক ছেলেটা মন্টুর লাশের পাশে পড়ে থাকা ছুরি টা নিয়ে আমার দিকে এগিয়ে আসলো।আমি ছেলেটার হাতে লাথি মারতেই ছুরিটা ছিটকে দূরে পড়ে গেলো।সানি থামলো না।বরং আামর দিকে তেড়ে আসতে আসতে বললো, –মাগী তরে আজকে আমি খায়ালছি।
সানি আমার উপর ঝাপিয়ে পড়তে নিলেই আমি অবিজ্ঞ হাতে ওর ঘারে ছুরি বসালাম। অতঃপর আবার একই জায়গায় ছুরি মারলাম।এতে সানি তক্ষুনি গোঙ্গাতে গোঙ্গাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো।কিছুক্ষণের মধ্যেই মন্টুর মতো নিস্তেজ হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।
আমি ছুরি ধরা হাতটার উল্টো পিট দিয়ে কপালের ঘাম মুছে নিলাম।তক্ষুনি জিয়াদ আবার ফিরে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে বললো,
–আপু ঠিক আছ?
–হ্যা,তুই ঠিক আছিস?
–আমি ঠিক আছি কিন্তু ছেলেগুলো কে ধরতে পারি নি।
আমাদের কথার মাঝেই কারো গোঙ্গানির আওয়াজ কানে আসে।আমি আর জিয়াদ সেদিকে তাকাতেই দেখি নোহা মাটিতে পড়ে গোঙ্গাচ্ছে।হুশ তেমন একটা নেই। আমি হাতের ছুরিটা ভাজ করে আবার কোমরে গুঁজে নিলাম।অতঃপর নোহার গালে হালকা থাপ্পড়ে ডাকতে লাগলাম।নোহা পিটপিট করে হালকা চোখ দু’টো খুলে মৃদু আলোয় আমাকে দেখে ঠোঁট প্রসারিত করলো।তারপর কিছু একটা বিরবির করে বলতে লাগলো।আমি,আমার কান নোহার ঠোঁটের কাছে নিতেই শুনতে পেলাম নোহা বলছে,
–আমি জানতাম তুমি আসবে প্রিটি গার্ল,,,,,,
–হ্যা আমি এসেছি,তুমি ঠিক আছ?
নোহার থেকে উত্তর আসলো না।সে নিজের মতো কি যেন বিরবির করছে।আমি আর জিয়াদ ওকে ধরে দাঁড়া করালাম।মেয়েটা বারবার পড়ে যেতে নিচ্ছে। আমি ওর কোমর জড়িয়ে ধরলাম শক্ত করে।অতঃপর পড়ে থাকা মন্টু আর সানির লা*শের দিকে তাকিয়ে জিয়াদকে বললাম,
–আমাদের বাড়ি দিয়ে এসে এখানের সব চিহ্ন মুছে দিবি।কোনো প্রমাণ যাতে না থাকে।কেউ যেন বুঝতে না পারে এখানে কিছু হয়েছে।
–সে নিয়ে তোমাকে চিন্তা করতে হবে না।প্রমাণ লোপাট করার কাজটায় এতদিনে বেশ অবিজ্ঞ হয়ে গেছি।
কথা শেষ হতেই আমি আর জিয়াদ একে অপরের দিকে তাকিয়ে ক্রুর হাসলাম।জিয়াদ এক হাতে নোহাকে সাপোর্ট দিয়ে আরেক হাতে ফোনের ফ্ল্যাশ সামনে ধরে স্থান ত্যাগ করলাম।এদিকে আমরা এখান থেকে প্রস্থান করতেই কয়েকজন কালো পোশাকধারী লোক এখানে আসলো।অতঃপর কিছুক্ষণ আগের ঘটে যাওয়া সকল প্রমাণ মুছে দিলো।
আমরা বাড়ির পিছন দিক দিয়ে বাড়িতে আসলাম।কারণ সেদিকে রাতে মানুষ আনাগোনা করে না।এদিকে আমার শরীরে এখনো মানুষের তাজা র*ক্ত লেগে আছে।তাই এদিক দিয়ে আসাটাই নিরাপদ ছিলো।জিয়াদ আমাদের বাড়ির পেছন গেইট দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে__আবার প্রমাণ লোপাট করার জন্য চলে গেছে।
আমাদের বাড়ির পেছন দিকটা সাধারণত বাগান।সেখানে একটা ঘাট বাঁধানো পুকুরও আছে।আমি নোহাকে উপরে রেখে ঝটপট পুকুরে নেমে গেলাম।কয়েকটা ডুব দিয়ে নিজের শরীরে লেগে থাকা র*ক্ত ধুয়েমুছে নিলাম।এখন আর কেউ কিছু বুঝতে পারবে না।আমি চুলগুলো কে খোঁপা করে পুকুর থেকে উঠে আসলাম।তারপর বুকের আঁচলটা কাঁধ থেকে নামিয়ে ভালোভাবে চিপে নিলাম।এরপর নোহাকে আবার তুলে বাড়ির দিকে এগিয়ে গেলাম।এদিকে আমার অগোচরে বেলকনি থেকে এক জোড়া চোখ আমার দিকেই তাক করা ছিলো।সে আমার প্রতিটি পদক্ষেপ খুব মনযোগ দিয়ে দেখতে দেখতে জিহ্বা দিয়ে গাল ঠেলে ক্রুর হাসছে।
ড্রয়িং রুমে আম্মু’রা এখনো অপেক্ষা করছে।ইতি তো কাঁদতে কাঁদতে চোখ মুখ ফুলিয়ে ফেলেছে।পিছনের দরজায় নক করতেই জুই দরজা খুলে দিলো।নোহাকে এই অবস্থায় দেখে তাদের কান্না আরও বাড়লো।কি এক অবস্থা?আমার বাড়ির লোকদের দেখে মনে হচ্ছে নোহার সাথে তাদের কতদিনেরই না সম্পর্ক!! আমি সবাই কে ধমকে চুপ করালাম। নোহার কিছু হয়নি শুনে সকলে কান্না থামালো।নোহাকে ধরে সোফায় শুইয়ে দিলাম।এতক্ষণ আমার দিকে কারোর নজর ছিলো না।হঠাৎ আম্মু অবাক হয়ে বললো,
–জাহান তুই ভিজলি কিভাবে?
–নোহাকে আনতে গিয়ে পুকুরে পড়ে গিয়েছিলাম।তোমরা ওকে দেখ, আমি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসছি।আর এত মরা কান্না করার কিছু নেই, ও ঠিক আছে।
আমি ওঠে নিজের রুমের উদ্দেশ্য যাওয়া ধরলাম।এখন ভালো ভাবে ফ্রেশ হয়ে নিতে হবে।
রুমে এসে দেখি ইফান আগের মতোই উপর হয়ে ঘুমাচ্ছে। আমি ওর দিকে এক পলক চেয়ে ওয়াশরুমে চলে আসলাম।তারপর শরীর থেকে নোংরা শাড়ি টা খুলে শাওয়ার ছেড়ে দিলাম।মাথার খোঁপাটাও খুলে দিলাম।ফলে চুলগুলো কোমরের উপর পড়ল।আমি দেয়ালে দুহাত রেখে ভিজতে লাগলাম।তারপর ভাবতে লাগলাম আজকের ঘটনা টা।মূহুর্তেই মস্তিষ্কে এসে হানা দিলো অতীতে আমার সাথে ঘটা পুরনো কিছু ঘটনা। আমি চোখ বন্ধ করে ভাবনায় তলিয়ে গেলাম__
____ফ্ল্যাশব্যাক_____
ইদানীং বাড়ি থেকে আামকে একা বের হতে দেওয়া হয় না।শুধু আমাকেই নয়,কবিতা আপু সহ সবাই কে জায়ান ভাই বলে দিয়েছে প্রয়োজন ছাড়া না বের হতে।এমনিতেই আমি পড়াশোনায় ভালো স্টুডেন্ট হলেও বড্ড ফাঁকিবাজ।তাই জায়ান ভাইয়ের বাহানা দিয়ে এক সপ্তাহ ধরে কোনো প্রাইভেটে যাই না।কিন্তু আজ কলেজে যেতে হবে।কারণ আজ আমার কলেজ জীবনের প্রথম দিন।সকাল সকাল আমি নতুন কলেজ ড্রেস পড়ে রেডি হয়ে গেছি।যদিও কলেজ সারে নয়টায় থেকে।তাতে কি? আমি তো আনন্দে আত্মহারা। কারণ আজও জায়ান ভাই আমাকে কলেজে দিয়ে আসবে।তাই খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে কলেজের নতুন ড্রেস পড়ে সারা বাড়িতে টইটই করে বেড়াচ্ছি।
সকাল নয়টায় সকলে ব্রেকফাস্ট সেরে নিয়েছে।এরপর আমি জায়ান ভাইয়ের সাথে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গেলাম।আমি গাড়ির জানালার বেইরে তাকিয়ে দেখছি তখনই জায়ান ভাইয়ের কন্ঠ কানে আসে,
–এত সেজেছিস কেন?
আমি উনার দিকে তাকালাম। জায়ান ভাই সামনে তাকিয়েই গাড়ি চালাচ্ছে। আমি ফ্রন্ট মিররে নিজেকে একবার দেখে নিলাম।আমি ঠোঁটে হালকা গোলাপি লিপবাম দিয়েছি।আর সব চুলগুলো একসাথে করে ঝুটি করে রেখেছি এইটুকুই।তাহলে সাজলাম কোথায়?মনে মনে এগুলো ভাবতে ভাবতেই জায়ান ভাইয়ের সাথে মিররে চোখাচোখি হলো।ইশশশ লোকটার চোখগুলো কত মায়াবী।কেউ দেখলেই বলে দিতে পারবে লোকটা কতটা নিষ্পাপ।
–কি দেখছিস?
উনি ব্রু নাচিয়ে আমাকে বললেন।উনার কথা কানে পৌঁছাতেই আমার গাল লজ্জায় লাল হয়ে গেছে। আমি উনার দিকে আর তাকিয়ে থাকতে পারলাম না।উনার প্রশ্ন এড়িয়ে যেতে মাথা নিচু করে বললাম,
–কই আমি তো সাজি নি।
হঠাৎই গাড়িতে ব্রেক কষলেন। আমি ভরকে গেলাম,উনি আবার__আমার কথায় রেগে গেলেন না তো।কিন্তু এমন কিছু হলো না।বরং উনি প্যান্টের পকেট থেকে নিজের রুমালটা বের করে আমার ঠোঁট মুছে দিলো।আমি উনার এমন কাজে অবাক।আমি হা করে জায়ান ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে রইলাম।উনি আমার উপর ঝুঁকে পড়লেন। এতে আমি নিজের জামা খামছে ধরলাম।উনি আমার চোখের উপর পড়ে থাকা বাবরি চুলগুলোকে কানে গুঁজে দিলো।তারপর আমার কানের কাছে মুখ এনে হিসহিসিয়ে বললো,
–ঠোঁটে কখনো এসব ফালতু জিনিস লাগাবি না।
–লিপবাম না দিলে আমার ঠোঁট শুকিয়ে যায়,,,,,
আমাকে বাকিটা বলতে দিলেন না।তিনি আমার ঠোঁটে এক আঙ্গুল ধরে শশশশ আওয়াজ করে চুপ করিয়ে দিলেন।তারপর আবার বললো,
–আর তোর ঠোঁট ভেজা থাকলে আমার গলা শুকিয়ে যায়।
–কিহ্?
–স্টুপিড।
উনি আমার থেকে সরে গিয়ে আবার গাড়ি চালাতে মনযোগ দিলেন।তবে সারাটা পথ উনি মিররে আমাকেই দেখে গেছেন।তখন বেশ কয়েকবার আমার সাথে চোখাচোখি হয়েছে। আমি লজ্জায় চোখ নামিয়ে ফেলেছি।তবে উনি সরায় নি।আর এদিকে আমি ভেবে পাচ্ছি না একটু আগে উনি কিসব বললেন?
কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের গাড়িটা কলেজের সামনে এসে থামলো।জায়ান ভাই আগে গাড়ি থেকে নেমে আমাকে গাড়ির ডোর খুলে দেয় নামতে।আমি নামতেই দেখি আসেপাশের মেয়েরা জায়ান ভাইকে দেখে গিলে খাচ্ছে। বেশ রাগ হচ্ছে আমার।আমার ইচ্ছে করছে গিয়ে জিগ্যেস করতে,”তোরা কি কখনো পুরুষ দেখসনি নাকি?” রাগে শরীর জ্বলে যাচ্ছে।
–জারা শোন,,,
জায়ান ভাইয়ের ডাক আমি শুনতে পেলাম না।জায়ান ভাই আমার থেকে সারা না পেয়ে__আমার দিকে তাকাতেই দেখলো আমি অন্য দিকে তাকিয়ে আছি।তিনি আমার দৃষ্টি অনুযায়ী আসেপাশে তাকিয়ে দেখলো মেয়েগুলো উনাকে দেখে ভাবসাব নিচ্ছে।জায়ান ভাই সেদিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে আবার আমাকে ডাকলো,
–কিরে, আমি কিছু বলছি?
জায়ান ভাইয়ের কন্ঠ স্বর কানে আসতেই আমি তাড়াহুড়ো করে উনার দিকে তাকালাম।উনি সামনে এগিয়ে যেতে যেতে বললো,”চল”।আমি মেয়েগুলোকে দেখে মুখ মুচড়ে চলে যেতে লাগলাম।তবে কয়েক পা এগোতেই দেখলাম কলেজের সামনে একটা ফুলের দোকান আছে।আর সেখানে ছেলেমেয়েরা ভীর জমিয়েছে। জায়ান ভাই কয়েক পা এগিয়ে গিয়ে পিছনে ফিরতেই দেখলো আমি এখনো এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি।তিনি আমার দৃষ্টি অনুযায়ী তাকালো।আমি মনযোগ দিয়ে দোকানে ঝুলিয়ে রাখা বেলি ফুলের গাজরাগুলো কে দেখছি।আমার বরাবরই ফুল জিনিসটা বড্ড প্রিয়। সেখানে সুগন্ধিযুক্ত ফুল হলে তো কথাই নেই। আমার এখন একটা বেলি ফুলের গাজরা কিনতে ভিষণ ইচ্ছে করছে।
হঠাৎই নিজের হাতে কারো স্পর্শ পেতেই দেখলাম জায়ান ভাই আমার হাত ধরেছে।তিনি কোনো কিছু না বলেই আমাকে ফুলের দোকানে নিয়ে আসলেন।অতঃপর একটা বেলি ফুলের গাজরা কিনে আমার হাতে পড়িয়ে দিলেন।এটা দেখে আসেপাশের মেয়েদের মুখ হা হয়ে গেছে। আমার যে কি আনন্দ হচ্ছিল আমি কাউকে বুঝাতে পারবো না।ইচ্ছে করছে এই আনন্দে জায়ান ভাইয়ের গালে একটা চুমু দিয়ে দিই।এটা ভাবতেই একটা ঢুক গিললাম।মনে মনে ভিষণ লজ্জা পেতে লাগলাম নিজের ভাবনা নিয়ে। এদিকে জায়ান ভাই আমার হাতে গাজরাটা বেঁধে দিয়ে বললো,”পার্ফেক্ট”।আমি আরও লজ্জা পেলাম। উনি আমার হাত ধরে কলেজে নিয়ে যেতে লাগলেন। আমি উনার সাথে যেতে যেতে মেয়েগুলোকে গাজরা বাঁধা হাতটা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখাতে লাগলাম।আমার এমন ছেলে মানষি দেখে জায়ান ভাই ঠোঁট কামড়ে হাসলো।এদিকে মেয়েগুলো আমাকে মুখ মুচড়ে বিরবির করতে করতে চলে গেলো।
জায়ান ভাই আমাকে ক্লাসে দিয়ে, যাওয়ার আগে বললো,
–জারা, কলেজ শেষে একা বের হবি না।তোর কলেজ ছুটি শেষে আমি তোকে ড্রপ করে নিয়ে যাব।ওকে?
–আচ্ছা,,,
আমার উত্তর পেয়ে জায়ান ভাই আমার কপালে একটা টোকা মেরে হালকা হেসে চলে যায়।উনি চলে যাওয়ার পরই আমি তন্নিদের সাথে বসে ক্লাস করতে লাগলাম।
আমাদের কলেজ ছুটি হয় সারে বারোটার দিকে।আমি, তন্নি, আরিফ,সুমাইয়া, নাফিয়া একসাথে গেইট পর্যন্ত আসলাম।এদিকে এখনো জায়ান ভাই আসে নি।আমি দাঁড়িয়ে ওদের বললাম চলে যেতে__আমি জায়ান ভাইয়ের সাথে যাব।তন্নিরাও “বাই” বলে নিজেদের মতো চলে গেলো।এদিকে কলেজ ফাঁকা হয়ে গেছে। এখনো জায়ান ভাই কে আসতে না দেখে আমি গেইটের বাইরে বেরিয়ে রাস্তার দুপাশ দেখতে লাগলাম।আমি যখন আবার গেইটের ভিতর চলে যাব তক্ষুনি আমার পিছনে একটা গাড়ি এসে থামে।আমি মনে করেছি জায়ান ভাই চলে এসেছে।তাই খুশিতে পিছনে ফিরতেই আমার নাকে রুমাল ধরে কয়েকজন লোক গাড়িতে তুলে নিলো।আমি চেচামেচি করার আগেই জ্ঞান হারিয়ে অচেতন হয়ে পড়ি।
কলেজের সামনে থেকে গাড়িটা এক মিটার যেতেই জায়ান ভাইয়ের গাড়ি এসে থামলো।তিনি গেইটের কাছে আমাকে খুঁজে না পেয়ে কলেজের ভেতরে গেলো।সেখানে গিয়ে জানতে পারলো সবাই চলে গেছে।জায়ান ভাই তাড়াহুড়ো করে আবার গেইটের কাছে আসলো।তারপর আসেপাশে ভালোভাবে খুঁজলো কিন্তু কোথাও পেল না।তিনি তাড়াতাড়ি বাড়িতে কল দেয়।তিনি জানতে পারেন আমি বাড়িতেও পৌঁছায় নি।জায়ান ভাইয়ের পাগলের মতো অবস্থা হয়েছে।আসলে এখানে তিনি ইচ্ছে করে লেইট করে আসেন নি।বরং এখানে আসার পথে রাস্তায় উনাকে কারা জানি অ্যাট্যাক করেছিলো।তিনি সে সব সামলে এখানে আসতে দেরি হয়ে গেছে। উনার মাথায় চিন্তার বাজ ভেঙে পড়েছে। উনার মন বারবার বলছে আমার যদি কিছু হয়ে যায় তাহলে তিনি কিভবে বাঁচবেন?
জায়ান ভাই পাগলের মতো গাড়ি চালিয়ে এদিক ওদিক আমাকে খুঁজতে খুঁজতে বাড়িতে এসে পৌঁছাল। সেখানে আমাকে দেখতে না পেয়ে পুরো বাড়ি মাথায় তুললেন।তারপর নিজেকে শান্ত করে নিজের লোক দিয়ে কলেজের রাস্তার সিসিটিভি চেক করালেন।সেখানে স্পষ্ট দেখা গেছে গেইটের সামনে আমি দাঁড়িয়ে। তখন একটা গাড়ি আমার সামনে এসে থামে।তারপর চলে যায়। আর আমাকে গেটের সামনে দেখা যায় নি।তৎক্ষনাৎ জিতু ভাইয়াকে ইনফর্ম করা হলে তিনি গাড়ির নাম্বার অনুযায়ী খোঁজ নেন।কিন্তু নাম্বার টা ফল্স। জায়ান ভাই নিজের লোকদের লাগিয়ে দিয়েছে।তিন ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও জিতু ভাইয়া সিআইডি টিম নিয়ে আমাকে খুঁজে পেলেন না।উপায়ান্তর না পেয়ে পুলিশ, র্যাব,আর্মি মাঠে নামানো হয় আমাকে খোঁজার জন্য।
দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমেছে। বাংলাদেশের অলিগলি সহ সকল জায়গায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টহল দিচ্ছে। নিউজ চ্যানেল গুলোতে শুধু একটাই নিউজ হচ্ছে,
🛑 ব্রেকিং নিউজ:
❝এসপি আরমান শেখের ছোট বোন জাহানারা শেখ জারা’কে আজ দুপুরে কলেজের সামনে থেকে অপহরণ করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে কিছু দুর্বৃত্ত জাহানারাকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। এখনও পর্যন্ত তাকে কোথাও পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে দেশের পরিচিত সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার জায়ান শেখ নিরব তার টিমের সঙ্গে মিলে সিআইডিকে লোকেশন ট্রেসিং ও সাইবার সহায়তা দিচ্ছেন; তবে এখনো কোনো নিশ্চিত ক্রমানুসন্ধান পাওয়া যায়নি।
পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে পুরো এলাকা কঠোরভাবে তল্লাশি করছে — প্রতিটি চেকপোস্টে সব যানবাহন ও যাত্রীকে বিস্তারিতভাবে তল্লাশি করা হচ্ছে। জনসাধারণকে অনুরোধ করা হচ্ছে—যদি কেউ জাহানারা সম্পর্কে কোনো তথ্য রাখেন, তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানায় বা হেল্পলাইনে জানাতে।❞
আজ পুরো বাংলাদেশের মানুষ অবাক জিতু আর জায়ান ভাইয়ার ক্ষমতা দেখে।তার চেয়েও বেশি মানুষের মনে ধরেছে বোনের প্রতি বড় ভাইয়ের ভালোবাসা। সাধারণ জনগণ পা ফেলার জয়গা নেই রাস্তা ঘাটে।সব খানে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর তল্লাশি চলছে।জায়ান ভাই পাগলের মতো হয়ে গেছেন।জিতু ভাইয়া ড্রাইভ করছে।উনার চোখ মুখের অবস্থা অসূচনীয়।সাত ঘন্টা পেরিয়ে গেছে অথচ কেউ আমার কোনো খোঁজ এনে দিতে পারলো না।অপরাধী বেশ আটঘাট বেঁধে নেমেছে। এদিকে জিতু ভাইয়ার পাশের সিটে গা ছেড়ে বসে আছে জায়ান ভাই। উনার চোখ দুটো বন্ধ। সেখান থেকে টপটপ করে অশ্রু কণা গড়িয়ে পড়ছে।উনার একটা হাত বুকের বাম পাশে রাখা।জিতু ভাইয়া ভালো বুঝতে পারছে, এভাবে থাকলে জায়ান ভাই নিশ্চয়ই স্টোক কিংবা হার্ট অ্যাটাক করে ফেলতে পারে।তাই নিজেকে শক্ত দেখিয়ে বললো,
–ভাইয়া তুমি চিন্তা করো না।আমি আমার বোনকে যেখান থেকেই হোক সুস্থ অক্ষত অবস্থায় তোমার সামনে নিয়ে আসবো।তুমি নিজেকে একটু সামলে রাখার চেষ্টা কর প্লিজ।
জায়ান ভাইয়ের থেকে কোনো সারা শব্দ আসলো না।জিতু ভাই স্টিয়ারিং এ হাত চালাতে চালাতে বললো,
–ভাইয়া দয়া করে তুমি এভাবে ভেঙে পড়ো না। তুমি তো সবসময় আমাকে সাহস জোগাড় দাও।তোমার জন্যই তো আমি আজ এই অব্দি এসেছি।তুমি ভেঙে পড়লে আমার কি হবে?ভাইয়া নিজেকে সামলাও। আমরা বনুকে আজই খোঁজে বের করবো,কথা দিলাম তোমায়।
জিতু ভাইয়ার কথা শুনে জায়ান ভাই হুহু করে কেঁদে উঠলো।জিতু ভাইয়া গাড়িতে ব্রেক কষলো।অতঃপর জায়ান ভাইয়ের বাহুতে ধরে শান্তনা দিয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগেই জায়ান ভাই জিতু ভাইয়াকে জড়িয়ে ধরলো।অতঃপর ভাঙা কন্ঠে বলতে লাগলো,
–জিতু ভাই আমার, আমার কলিজাকে এনে দে ভাই। আমি কি নিয়ে বাঁচব আমার পাখিকে ছাড়া।ও যে আমার প্রাণ। ওর কিছু হলে আমি ধ্বংস হয়ে যাব।ভাই তুই আমার পাখিকে আামর বুকে এনে দে।সাত ঘন্টা পেরিয়ে গেলো। এখনো ওর কোনো খবর পেলাম না।না জানি জারা কি অবস্থায় আছে।ওর কোনো ক্ষতি হলে আমি মরে যাব ভাই। এই কারণেই দেশে আসতে চাইনি।জানতাম আমি আসলেই আমার পাখির কিছু হয়ে যেতে পারে।কিন্তু আমি তো ওকে কাছে পাওয়ার লোভ সামলাতে পারি নি।তাই তো ছুটে এদেশে এসেছি ওর কাছে।আমি কেন এলাম ভাই কেন?আমি মরে যাচ্ছি ভাই। জারাপাখিকে আমার বুকে এনে দে।এখানে খুব ব্যথা হচ্ছে। আহ্,,,,,,
জায়ান ভাই আর কিছু বলতে পারলো না।ওনার বুকের বাম পাশে অনেক ব্যথা শুরু হয়েছে।উনি সেখানে হাত রেখে বারবার আমার নাম বলতে লাগলো।জিতু ভাইয়া তাড়াতাড়ি পানির বোতল নিয়ে উনার মুখের সামনে ধরে বললো,
–ভাইয়া ভাইয়া একটু পানি খেয়ে নাও।আজ তো সারাদিন এক ফোটা পানিও স্পর্শ কর নি।আমার ভাই দয়া করে একটু পানি খাও।।
–আমার জারাকে এনে দে জিতু।ওকে এক নজর দেখলেই আমার তৃষ্ণা মিটে যাবে।
জিতু ভাইয়া অসহায় ভাবে জায়ান ভাইয়ের দিকে তাকালো।যে মানুষটা কিনা জিতু ভাইয়ার মতো সাহসী সিআইডি অফিসারকে সাহস জোগাত।তাকে সকল দিক নির্দেশনা দিয়ে সাহায্য করতো।যার কাছে ভয় শব্দটা অচেনা ছিলো।আজ সেই জায়ান ভাই কে এমন বিধস্ত অবস্থায় দেখে জিতু ভাইয়ার বুক হু হু করে কেঁদে উঠলো।কিন্তু উনি তো চাইলেও কাঁদতে পারবে না।কারণ আজ উনাকেই সবাই কে ঠিক রাখতে হবে।এই মূহুর্তে জিতু ভাইয়ের কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায় মানুষ মনে হচ্ছে নিজেকে।
আম্মু আমার কিডন্যাপ হওয়ার খবর শুনার পর থেকে এই নিয়ে আট বার জ্ঞান হারিয়েছে।বড় আম্মুও বেশ কয়েকবার জ্ঞান হারিয়েছে।আব্বু কথা বলার অবস্থায় নেই।বিছানায় শুইয়ে রাখা হয়েছে।তিনি শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে সব কিছু দেখছে।বড় আব্বু ভাইয়ের পাশে বসে সাহস জোগাচ্ছে।যদিও উনিও ভেঙে পড়েছেন।কিছু বলতে গেলেই গলায় কান্না পাকিয়ে আসছে।ছোট জুই থেকে শুরু করে সকলেই পাগলের মতো হয়ে গেছে। আব্বু আচমকা উঠে পড়লেন।তিনি রুম থেকে বেড়িয়ে যাওয়ার জন্য উদ্ধত হতেই বড় আব্বু আটকালেন।আব্বু যখন নিজেকে ছাড়াতে ব্যর্থ তখন চিৎকার করে কেঁদে বলতে লাগলেন,
–আমার আম্মা কই, আমার জাহান আম্মা কই গেলো রে।আমার আম্মা,আমার আম্মারে কেউ এনে দাও,,,,,,,,
আব্বু চিৎকার চেচামেচি করতে করতে অবশেষে তিনিও জ্ঞান হারালেন।আব্বুর চাচাতো ভাই, তাদের বউরাও এসে আমাদের মানসিক ভাবে ভরসা দিতে লাগলেন।
রাত আটটার দিকে বাড়িতে সিআইডি অফিসার আবির আর কণা আসলো।উনারা সবাইকে জানালো আমাদের লোকেশন ট্রেস করতে সক্ষম হয়েছে জায়ান ভাই আর তার টিম।বাড়ির সকলেই আল্লাহ ডেকে ডেকে আরও জোরে কেঁদে উঠলো।তাদের মনে বাসা বেঁধেছে আমার প্রাণ আর সম্মান হারানোর ভয়।ছোট্ট জুই কাঁদতে কাঁদতে আবিরের কোমর জড়িয়ে ধরে বলতে লাগল,
–ও আবির ভাই, আবির ভাই। আপনি তো ভাইয়ার মতো সাহসী অফিসার। দয়া করে আমার আপিকে এনে দিন।
জিয়াদও ছুটে এসে আবিরকে জড়িয়ে ধরে আমাকে সেইভ করার কথা বলতে লাগলো।অফিসার কণা, মানসিক ভবাে ভেঙে পড়া কবিতা আপুকে সাপোর্ট দিতে লাগলো।কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ অফিসার রাকিব আসলো।উনার মা সেই দুপুর থেকেই আমার পরিবারকে মানসিকভাবে সাপোর্ট দিচ্ছেন।রাকিব ভাই ডিউটিতে ছিলো।জিতু ভাইয়ের কথায় আমাদের হাল অবস্থা দেখতে এসেছে।কবিতা আপু ছুটে গিয়ে রাকিব ভাই কে জড়িয়ে ধরে বলতে লাগলো,
–ও রাকিব ভাই তুমি তো পুলিশ অফিসার, আমার বোনটাকে বাড়িতে ফিরিয়ে এনে দাও। দয়া কর আমাদের উপর। আমার বোনটা এখন কি অবস্থায় জানি আছে।আল্লাহ গো জাহানকে বাঁচাও আল্লাহ,,,,,,
রাকিব ভাই কবিতা আপুকে শান্তনা দিয়ে বললো,
–জাহানারার কিছু হবে না কবিতা।তুমি একটু শান্ত হও।তুমি ভেঙে পড়লে চাচা চাচিকে কে দেখে রাখবে।একটু শান্ত হও।জিতু ভাই, জায়ান ভাই সহ আমাদের টিম জাহানারা কে উদ্ধার করতে যাচ্ছে। ইনশাআল্লাহ আমরা তোমার বোনকে আজই সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরিয়ে আনবো।
রাকিব ভাই কথা শেষ করেই অফিসার আবিরের দিকে তাকাল।কারণ আমার লোকেশন ট্রেস করতে পারলেও কেউ এখনো জনাতে পারে নি আমি এখনো কি অবস্থায় আছি।রাকিব ভাই সবাইকে আশ্বাস দিয়ে আবার সিআইডি অফিসারদের সাথে বেড়িয়ে গেলো।
চারিদিকে ফায়ার ব্লেজ জারে আগুন জ্বলছে।তার হলদেটে আভায় সবকিছু মৃদু দৃশ্যমান। আমাকে ফ্লোরে ফেলে রাখা হয়েছে।জ্ঞান নেই বললেই চলে।তবে ক্ষনে ক্ষনে মুখ দিয়ে গোঙ্গানোর আওয়াজ বেড়িয়ে আসছে।আমার সামনে চেয়ারে দুজন বসে আছে।দু’জনেই আয়েশ করে নে*শা দ্রব্য সেবন করছে।তার পিছনে অনেকগুলো গার্ড দাঁড়িয়ে আছে দানবের মতো।বসে থাকা একজন লোক সিগারেটে টান দিতে দিতে আমার দিকে এগিয়ে আসলো।অতঃপর পা ভেঙে আমার উপর ঝুঁকে মুখের সিগারেটের ধোঁয়া আমার মুখের উপর ছাড়লো।আমি তৎক্ষনাৎ কেশে উঠলাম।লোক দু’টো এক্ষেত্রে হো হো করে হেসে উঠলো।চেয়ারে বসে থাকা লোকটাও এবার উঠে দাঁড়াল। তারপর ওয়াইনের গ্লাস টা হাতে নিয়ে আমার মুখের সামনে এসে দাঁড়াল। বসে থাকা লোকটাও উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বললো,
–মেয়েটা পুরাই আগুন।
ওয়াইন হাতে লোকটা, গ্লাসের সবটা ওয়াইন আমার মুখের উপর ডেলে দিয়ে আবার হেসে উঠলো।অতঃপর পাশের লোকটাকে বললো,
–ব্যাস অনেক হয়েছে।সারাদিন অপেক্ষা করছি।আর পারবো না।এখন ওকে খাওয়ার সময় হয়ে গেছে।
লোকটার কথার টোন শুনে মনে হচ্ছে পুরোপুরি বাঙালি না।তবে সিগারেট হাতে লোকটার কথা স্পষ্ট বাঙালিদের মতো।বাঙালি লোকটা হাসতে হাসতে বলল,,
–রিলাক্স, এই সুন্দরী আমাদের দু’জনের খাবার। এত উতলা হওয়ার কিছুই নেই। যতদিন দম থাকবে ততদিন এনজয় করবে।
অবাঙালি লোকটা হাসিতে ফেটে পড়লো,
–হোয়াট দ্যা জোক ব্রো।ওকে তো আমি বিশ মিনিটেই সারাজীবনের জন্য ঠান্ডা করে দিবো।লেটস স্টার্ট।
লোকটা হাতের গ্লাসটা ছুড়ে ফেলে দিলো।মূহুর্তেই ভেঙে কাচগুলো ফ্লোরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়লো।সে সবে কারো খেয়াল নেই। অবাঙালি লোকটা এক এক করে শার্টের বোতামগুলো খুলে, শার্ট খুলতে যাবে তক্ষুনি দু’জন গার্ড দৌড়ে আসলো।বাঙালি লোকটা বেশ ক্ষিপ্ত হলো।সেভাবেই বিগড়ে যাওয়া মেজাজ নিয়ে বললো,
–কি হয়েছে?
–বস আমাদের লোকদের একে একে শুট করে মেরে ফেলে দেওয়া হয়েছে।আর যে লোকটা মেরেছে সে তার লোকগুলো নিয়ে ভেতরের দিকেই আসছে।
–ওহ্ শীট।।।।
অবাঙালি লোকটি শব্দটা উচ্চারণ করেই বাঙালি লোকটার দিকে তাকালো।দু’জনের চোখাচোখি হতেই নিজেদের মধ্যে আতংক সৃষ্টি হলো।আর সময় নষ্ট না করে, গোপন পথ দিয়ে উপস্থিত গার্ড গুলোকে নিয়ে এই স্থান ত্যাগ করলো।
ফায়ার ব্লেজ জারে আগুনও নিভে আসছে।সবকিছু আস্তে আস্তে অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে। আমি খুব কষ্ট করে চোখগুলো হালকা খুলতেই দেখতে পেলাম দরজার সামনে একটা বিশাল আকৃতির অবয়ব দাঁড়িয়ে আছে।আমি আরেকটু চেষ্টা করে চোখদুটো মেলাতে চাইলাম। তবে বারবার চোখদুটো বন্ধ হয়ে আসছে।কিছুতেই চোখ ভালো করে খুলতে পারছি না।নিভু নিভু চোখেই দরজার দিকে তাকিয়ে দেখার চেষ্টা করলাম, আমি যার আশায় চেয়ে সেই কাঙ্ক্ষিত মানুষটা কি না?
এদিকে দরজার সামনের অবয়বটা আস্তে আস্তে আমার দিকে এগিয়ে আসছে।তার পড়নে হয়তো লং কোট।যা হাঁটার বেগের সাথে দোল খাচ্ছে। দু হাতে দুটো রিভলবার।আমি আর দেখতে পারলাম না।এরই মাঝে লোকটা আমার কাছে এসে হাঁটু ভেঙে বসলো।আমার সারা দেহে ভালো করে একবার চোখ বুলালো।অতঃপর অক্ষত অবস্থায় আমাকে দেখে__আগুনে দাউদাউ করা চোখ দুটো শীতল হয়ে আসলো।লোকটা আমার মাথাটা তুলে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নিলো।আমি অস্পষ্ট ভাবে উচ্চারণ করলাম,
— জায়ান ভাই,,,,,,
আমার গলার আওয়াজ আগুন্তকের কান অব্ধি পৌঁছাল কি না জানা নেই?তবে লোকটা আমাকে সন্তোপনে পাজাকোলে তুলে নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো।অতঃপর ক্ষীণকাল আমার নিস্তেজ পুতুলের মতো স্নিগ্ধ মলিন চেহারার দিকে তাকিয়ে থেকে একটা ঢুক গিললো।ফলে পুরুষালি এডামস অ্যাপল তরঙ্গায়িত হয়েছে যা স্পষ্ট দৃশ্যমান। লোকটা আমাকে নিজের বুকের সাথে আরও মিশিয়ে নেয়।আমাকে এমন ভাবে আগলে নিলো যেন আমি খুবই মূল্যবান একটা সম্পদ।সেভাবেই আমাকে নিয়ে বড় বড় পা পেলে লাউঞ্জ ত্যাগ করলো।আর লোকটার পায়ের নিচে পিষে যাওয়া বেলি ফুলের গাজরাটা সেখানেই অবহেলায় ফ্লোরে পড়ে রইলো।
এদিকে পিছনে ফায়ার ব্লেজ জারে আগুন সম্পূর্ণ নিভে যেতেই লাউঞ্জ এরিয়াটা তিমিরে ছেয়ে গেলো।
চলবে,,,,,,,,
(ইফানের টুরুটুরু লুমান্স আগামী পর্বে পাবে🙃)
হ্যাপি রিডিং 🥳🫶
Share On:
TAGS: জান্নাত মুন, জাহানারা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জাহানারা পর্ব ১০
-
জাহানারা পর্ব ৪১+৪২
-
জাহানারা পর্ব ৪৩+৪৪
-
জাহানারা পর্ব ২
-
জাহানারা পর্ব ৪৮
-
জাহানারা পর্ব ৪৫+৪৬
-
জাহানারা পর্ব ২৫+২৬
-
জাহানারা পর্ব ৫৭+৫৮
-
জাহানারা পর্ব ৬৭+৬৮
-
জাহানারা পর্ব ৯