Golpo romantic golpo জাহানারা

জাহানারা পর্ব ৩


জাহানারা

জান্নাত_মুন

পর্ব :০৩
🚫ক’পি করা নিষিদ্ধ

🔞 সতর্কবার্তা:
এই গল্পে অ’কথ্য ভাষা এবং স”হিং’সতার উপাদান রয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সী বা সং’বে’দনশীল পাঠকদের জন্য উপযুক্ত নয়। পাঠক নিজ দায়িত্বে পড়বেন।

পুলিশ চৌধুরী ম্যানশন থেকে বের হতেই আমার শ্বাশুড়ি তার আসল রুপে চলে এসেছে।
–“বস্তির মেয়ে একটা। আমার ছেলেকে ফাঁ’সিয়ে চৌধুরী ম্যানশনে ঢুকে গেলি। থানা পুলিশ করে পুরো দেশকে জানিয়ে কি প্রমাণ করতে চেয়েছিলি, তুই সাধু হুহ্। তোর মতো ছোটলোকদের ভালো করেই চিনি। টাকার লোভে নিজেকেও বিক্রি করে দিতে পারিস। থার্ড ক্লাস ফ্যামেলি থেকে তো কোনোই শিক্ষা পাসনি।”

শ্বাশুড়ি মায়ের কথা শুনে আমার খুব হাসি পেল। হেসেও ফেললাম। আমার হাসি যেন শ্বাশুড়ি মায়ের গায়ে আ’গুন ধরিয়ে দিল। আমি লেহেঙ্গাটা দু’হাতে উঁচু করে ধরে গিয়ে অসভ্য পুরুষটার সাথে সোফায় পায়ের উপর পা তুলে বসলাম। কিন্তু সে কোনো রিয়াকশন দেখালো না। বরং টি-টেবিলে রাখা আপেল হাতে তুলে নিলো। সে আপেলে কামড় বসাবে তার আগেই ছু মেরে নিয়ে নিলাম। ওর কাঁধে হাতের ভর দিয়ে হেলে আয়েশ করে আপেলে একটা কামড় দিলাম। শ্বাশুড়ির মনে হয় বিষয়টা ভালো লাগছে না। এই যে আমাকে এতগুলো কথা শুনালো কিন্ত আমি রিয়েক্ট করছি না। তিনি রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে আমার দিকে আরেকটু এগিয়ে আসে। আমি আপেল চিবাতে চিবাতে বললাম,
–“কি যেন বলছিলেন সাসু মা? থার্ড ক্লাস ফ্যামিলিতে বিলং করি তাই আমার পরিবার কোনো শিক্ষা দেয়নি ? বাট আপনারা তো ফাস্ট ক্লাস। তাহলে ছেলেকে আমার পিছে লেলিয়ে দিয়েছিলেন কেন? আর বাকি রইলো পুলিশের কথা। হাহ্ সাসু মা, পাছায় পুলিশের লাঠি না পড়লে কি আর আপনার গুনধর ছেলে আমায় বিয়ে করতো?”

আচমকা দাড়িয়ে পড়লো ইফান।আমি তার সাথে হেলান দিয়ে বসে ছিলাম তাই তার হঠাৎ দাড়িয়ে পড়ায় পড়ে যেতে যেতেও নিজেকে সামলে নিলাম।সে বড় বড় পা ফেলে সিঁড়ি বেয়ে কিছুটা উঠতেই আবার মাথা ঘুরিয়ে তার মায়ের দিকে দৃষ্টিপাত করলো। অতঃপর চোয়াল শক্ত করে দাঁতে দাঁত পিষে বললো,
–“মম এই ফ’কিন্নির বাচ্চার সাথে কথা বলে মুখ নষ্ট করো না।”

–“ও তাহলে এই ফকিন্নির সাথে কথা বললে মুখ নষ্ট। আর জোর জ’বরদস্তি করে শুয়ে পড়লে বেডাগিরি তাই তো নাকি ?”

আমার ঠাট্টা মিশ্রিত কন্ঠে বাক্যটা তার কানে পৌঁছাতেই ক্রোধিত নয়নে আমার দিকে তাকালো।আমি তার দৃষ্টি উপেক্ষা করে স্বাদ করে আপেল খেতে লাগলাম। বাড়ির বড়রা বেশ অস্বস্তিতে পড়ে যায়।আর ইফান দাঁতে দাঁত পিষে কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থেকে ধপ ধপ আওয়াজ তুলে সিড়ি বেয়ে উপরে ওঠে গেল। নাবিলা চৌধুরী আমার দিকে তেড়ে আসতে নিলে দাদি শাশুড়ী বাঁধা দেয়। তিনি কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বলেন,
–“বউমা ভুলে যেও না সে এখন এই বাড়ির পুত্র বধু। চৌধুরী বাড়ির বড় ছেলের বউ। তাই এখন আর ঝামেলা না করে সবাই নিজেদের ঘরে যাও।”

দাদি শাশুড়ীর কথায় আর কেউ প্রতিত্তোর করলো না। সবাই নিজেদের ঘরে চলে গেল।যাওয়ার সময় মুখের এমন ভাব করলো যেন আমি নর্দমা থেকে উঠে আসা কোনো পচা বস্তু। সবাই চলে যেতেই দুজন মেয়ে আমার পাশে এসে বসলো।একজনের পরনে জামদানী শাড়ি। আরেকজন পরে আছে প্যান্ট আর গেঞ্জি। শাড়ি পড়া মেয়েটা নিচু কণ্ঠে আমাকে বললো,
–“আসসালামু আলাইকুম ভাবি, আমি এই বাড়ির ছোট ছেলে ইমরান এর বউ পলি। মানে আপনার ছোট জা। আর ও আমাদের ছোট ননদ।”

–“হ্যালো ভাবি,আমি ইতি।”

আমি ওদের দু’জনকে দেখে বুঝলাম ওরা অন্যদের থেকে আলাদা। আমি ইতির দিকে পূর্ণ দৃষ্টি দেওয়ায় মেয়েটা লজ্জায় কাচুমাচু হয়ে গেল। আমি ওর লজ্জা মিশ্রিত কোমল গালে স্পর্শ করে মৃদু হেসে বললাম,
–“হাই আমি জাহানারা। তোমরা আবার বাড়ির বাকিদের মতো আমার উপর রে’গে নেই তো? আমি তো প্রথমে ভাবলাম এই বাড়িতে আমি একাই।”

পলি আমার এক হাতে ধরে বললো,
–“কি যে বলেন ভাবি, আমরা তো অনেক খুশি হয়েছি। শুধু মা আর ভাইয়ার ভয়ে কিছু বলতে পারি নি।”

–“হ্যাঁ গো ভাবি, তুমি তো জানো না আমার মম হেব্বি ডে’ঞ্জারাস। আমরা তো অনেক ভয় পাই। সাথে পাপাও মমকে ভয় পায়।”

ইতির কথা শুনে আমরা তিনজনই হাসলাম। মেয়েটা বেশ লাজুক আর চঞ্চল ধাঁচের । এদিকে কখন থেকে এত ভারি কাপড় পড়ে আছি তাই ফ্রেশ হওয়া প্রয়োজন। আমি ইতি আর পলিকে জিজ্ঞেস করলাম, “অসভ্য লোকটার রুমটা কোনদিকে?” ওরা আমাকে ইফানের রুম পর্যন্ত দিয়ে চলে যায়। আমি ভেজানো দরজা খুলে ভেতরে ঢুকি। রুমটি নান্দনিক সব উপাদানে পরিপাটি করে সাজানো; দেখেই বোঝা যাচ্ছে লোকটা ভীষণ সৌখিন। সারা ঘরজুড়ে এক স্নিগ্ধ শৃঙ্খলা, যেখানে শোভা পাচ্ছে আভিজাত্যে ঘেরা সব দামি দামি ফার্নিচার। প্রশস্ত এই রুমটির প্রতিটি কোণ যেন রুচির এক অনন্য স্বাক্ষর বহন করছে।

মুগ্ধ নয়নে পুরো ঘরটির নান্দনিকতা অবলোকন করতে করতে আমি বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম। ঠিক তখনই ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এল ইফান। ওর কোমরে কেবল একটি সাদা টাওয়াল জড়ানো। জীম করা সুগঠিত বলিষ্ঠ ফর্সা দেহে বিন্দু বিন্দু জলকণা হিরের মতো চিকচিক করছে। অন্য একটি টাওয়াল দিয়ে কপালে লেপ্টে থাকা অবাধ্য ভেজা চুলগুলো মুছতে মুছতে সে এগোচ্ছিল। হঠাৎ ওর দৃষ্টি আমার ওপর স্থির হতেই সে পলকহীন হয়ে থমকে দাঁড়াল।
আমার অঙ্গে তখন লালচে খয়েরি রঙের লেহেঙ্গা আর শ্বশুর মশাইয়ের দেওয়া সেই সোনালি গোল্ডের গহনা। দীর্ঘ সময়ের ক্লান্তিতে খোঁপা থেকে কিছু চুল অবিন্যস্তভাবে অবয়বে ছড়িয়ে পড়েছে। ওকে ওভাবে বিমোহিত হয়ে তাকাতে দেখে যখন বুঝলাম সে সশব্দে একটি ঢোক গিলল, ঠিক তখনই আমি দুষ্টুমি করে একটা চোখ মা’রলাম। মুহূর্তেই যেন ওর ঘোর কাটল, আর সেই বিস্ময় ছাপিয়ে চেহারায় এক তীব্র হিং’স্রতা ফুটে উঠল। পরক্ষণেই চোয়াল শক্ত করে হাতের টাওয়ালটা ছু’ড়ে ফেলে সে ক্ষিপ্র গতিতে এগিয়ে এল এবং এক হেঁচকা টানে আমাকে বিছানা থেকে নামিয়ে দিল।

–“খান”কির মেয়ে তর সাহস কি করে হলো আমার ঘরে ঢোকার? কি ভেবেছিস, কবুল বলে বাড়িতে থাকতে দিয়েছি বলে তোকে নিয়ে ঘর করবো বাসর করবো? তোর মতো ছোটলোক মেয়েদের দিকে আমি ইফান চৌধুরী তাকিয়েও দেখি না।”

ইফান দাঁতে দাঁত চেপে আক্রোশে বাক্যগুলো আওড়ালো। ওর সেই রুদ্রমূর্তি দেখে আমি হাসিতে ফেটে পড়লাম এবং অবলীলায় ওর হাতের বাঁধন আলগা করে দিয়ে আবার বিছানায় গিয়ে বসলাম। আমার এই খিলখিল হাসি যেন ওর রাগের আগুনে ঘি ঢালল; মুহূর্তেই সে আমায় আবার এক হ্যাঁচকা টানে দাঁড় করিয়ে দিল। রাগে উন্মত্ত হয়ে সে আমায় আরও কিছু কড়া কথা শোনাতে উদ্যত হলো, কিন্তু সেই সুযোগ না দিয়েই আমি আচমকা দুহাতে ওর গলা জড়িয়ে ধরলাম। অতঃপর ব্যঙ্গাত্মক হেসে ইফানের কানে হিসহিসিয়ে বললাম
–“ও আচ্ছা তুমি বলতে চাইছ, তুমি আমার দিকে তাকাও নি চোখ বন্ধ করেই আমাকে রে’প করেছিলে।”

চলবে,,,,,,,

(এই গল্পটা স্ট্রং নায়িকার। যারা স্ট্রং নায়িকা পছন্দ করেন না তারা এড়িয়ে যেতে পারেন।লাইক কমেন্ট করার জন্য অনুরোধ রইলো🥹🥹)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply