Golpo romantic golpo জাহানারা

জাহানারা পর্ব ২৫+২৬


জাহানারা

জান্নাত_মুন

পর্ব :২৫
🚫ক’পি করা নিষিদ্ধ

🔞 সতর্কবার্তা:
এই গল্পে অশ্রাব্য ভাষা, অশ্লীলতা এবং সহিংসতার উপাদান রয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সী বা সংবেদনশীল পাঠকদের জন্য উপযুক্ত নয়। পাঠক নিজ দায়িত্বে পড়বেন।

লোকটার শরীর থেকে অতি পরিচিত ক্লোনের গন্ধ বারবার নাকে এসে বারি খাচ্ছে।আমি বিরক্তিতে নাকমুখ কুঁচকে ফেললাম।রাগে কটমট করে মুখ খোলার আগেই ইফানের মাদকীয় কন্ঠ ধ্বনি কানে আসে,

❝বুলবুলি❞

আমি তপ্ত শ্বাস ছেড়ে খানিকটা সময় চুপ করে রইলাম কি বলে তা শুনার জন্য।এতদিন পর আমাকে কাছে পেয়ে উন্মাদ হয়ে গেছে ইফান।আমার দেহের স্পর্শ কাতর জায়গা গুলোতে তার হাতের বিচরণ চালাতে মগ্ন সে।কাঁধ থেকে চুলগুলো কে সরিয়ে সেখানে মুখ ডুবিয়ে দিয়েছে।তারপর সেখানে শব্দ করে অসংখ্য চুম্বন এঁকে ভরিয়ে দিচ্ছে।কিছুক্ষণের মধ্যেই কাঁধের সেই অংশ লালায় ভিজে উঠেছে।আমি দাঁতে দাঁত পিষে কটমট আওয়াজ করে বললাম,
–এখনো এক পা কবরে ঝুলে আছে, তবুও আপনার কুর*কুরানি কমে না!!

এতদিন পর আমার কন্ঠ শুনে সাথে সাথে আমাকে আরেকটু তার সাথে মিশিয়ে নিলো লোকটা।তারপর কোনো বাকবিনতাহীন আমার ভেজা সেঁতসেঁতে কাঁধে জোরে দাঁত বসিয়ে দিলো।ব্যথায় কুঁকড়ে চেচিয়ে উঠলাম,
–ওওওও, শালা ন*ডির পুত।তুই মরলি না কেন?

আমার চেঁচানোতে বেশ মজা পেল ইফান।তাই ঠোঁট কামরে একটু হেঁসে দিয়ে কানের কাছে নাক ঘষে জোরে জোরে আমার শরীরের ঘ্রাণ নিলো।আমি অনুভব করতে পারছি তার চাপা হাসি।আমার রাগ বেড়েই চলছে।আর ইফানও সেটাই চাইছে আমি রেগে তার সাথে চেচামেচি করি।আমাকে খেপিয়ে কি মজা পায় আমিও বুঝে উঠতে পারি না।ইফান আমার কানের লতিতে শব্দ করে একটা চুমু খেল।একটু থেমে আবারও আচমকা সেখানে দাঁত বসিয়ে দিলো।এবার আর নিজেকে শান্ত রাখতে পারলাম না।চেচিয়ে উঠে পিছনে হাত বাড়িয়ে ওর পশ্চাতে খামচে ধরলাম,
–গোলামের ঘরে গোলাম। আরেকবার কামড় দিলে তর মা*ঙ্গে পারা মেরে ধরবো।

আমি অ*শ্লীল ভাষায় গালি দিয়ে তার পশ্চাতে খামচে ধরা হাতটায় আরও চাপ বসালাম।আমি দাঁতে দাঁত পিষে নিজের সব বল প্রয়োগ করতে লাগলাম।এতে ইফান বাঁধা দিলো না।তার একটা হাত আমার শাড়ির ফাঁকে উন্মুক্ত উদরে। সেখানে বারবার তার ধারালো নখর দিয়ে আচর কেটে দিচ্ছে।অন্যদিকে আমার গলায় পেচিয়ে রাখা তার অপর হাতটা সরিয়ে নিলো।তার শক্ত বাঁধন থেকে মুক্ত হয়ে ঝটপট ওর দিকে তাকাবো তার আগেই সে আমার স্তনে জোরে জোরে চাপ প্রয়োগ করতে লাগলো।আমি তার পশ্চাতে আরও জোরে খামচে ধরলাম।সে চাপা হেসে আমার বক্ষে আরও চাপ প্রয়োগ করে ঘারে জিহ্বা দিয়ে লোহন করতে থাকলো।একদিকে আমার তল পেটে নখের আচরে জ্বলছে আর এদিকে বক্ষে চাপ প্রয়োগের ফলে ব্যথায় শরীর অবশ হয়ে আসছে।এতে ওর পিছন থেকে হাত টায় জোর কমে এসেছে।আমি বেশি ব্যথা পাচ্ছি বিষয়টা বুঝতে পেরে ইফানের হাতগুলোও থামলো।অতঃপর আমার কানের কাছে তার সিগারেটে পোড়া করকরে ঠোঁট ছুঁইয়ে হাস্কি স্বরে বললো,
–ছেহ্ বউ ছেহ্।শেখ বাড়ির মেয়ের থেকে এত ছোটলোকি কাজ আশা করি নি।শেষে কিনা স্বামী কে গাড়ি চাপা দিতে চেয়েছিলে।

ইফানের কথা শুনে আমি কয়েক সেকেন্ডের জন্য নাড়াচাড়া বন্ধ করে দিলাম।মনে মনে আবার পুরাতন প্রশ্নটা উঁকি দিচ্ছে, “আমি তো ভেবেছিলাম ঐটা জাস্ট এক্সিডেন্ট। কিন্তু এখন ওর কথায় মনে হচ্ছে প্লেন। ও তো শিউর না হয়ে কখনো কিছু বলবে না।কিন্তু এটাও সত্যি আমি ওর এক্সিডেন্ট করাই নি। তাহলে কে করালো?আমি ছাড়া আর কে ওর ক্ষতি করতে চায়?কারই বা এত সাহস ইফান চৌধুরীর সাথে খেলছে?”

ভাবনা থেকে ঝটকা খেয়ে বেড়িয়ে আসলাম।আমার চোখগুলো বড়বড় হয়ে গেছে।ইফান আমাকে তার সাথে আরও শক্ত করে চেপে ধরেছে।আমার থেকে অনেকটা লম্বা হওয়ায় পিছন থেকে কিছুটা ঝুঁকে আছে আমার উপর।ও আমার এতটাই সন্নিকটে আছে যার ফলে আমার পশ্চাতে দন্ডায়মান কিছু অনুভব করতে পারছি।এই মূহুর্তে আমি বাক হারা হয়ে পড়েছি।এদিকে আবার ইফানের মাদকীয় কন্ঠ স্বর কানে আসে,
–জান এসব নিয়ে পড়ে বুঝাপড়া হবে আগে বেডে চল।

কতটুকু শয়তান মানুষ ভাবা যায়।নিজের জানই এখন ঠিক মতো চলছে না। আর আমাকে এসব কথা বলছে।আমি আচমকা ওকে ধাক্কা মারলাম।হঠাৎ আমার থেকে এটা আশা করে নি ইফান।ফলে ছিটকে পেছনের দেয়ালের সাথে ধাক্কা খায়।এতে কপালের বেন্ডেজ করা জায়গাটা আবারো রক্তে ভিজে উঠে।ইফান বিরক্তিতে তে চোখমুখ কুচকে নিলো।এরই মাঝে আমি এক পা এগিয়ে চেচিয়ে উঠলাম,
–তোর মতো বেহায়া,চরিত্রহীন,লম্পটকে চামচা দিয়ে মারতে যাব কোন দুঃখে। তুই জানিস তোর মতো কুলাঙ্গার কে দিনের পর দিন সহ্য করছি কেন?

এইটুকু বলে থামলাম। ইফানের ভাব মুর্তি এখনো স্বাভাবিক। আমি আরেক পা এগিয়ে ইফানের সামনে দাড়ালাম। তারপর চাপা স্বরে বললাম,
–কারণ তোকে আয়োজন করে পুড়ানোর ব্যবস্থা করছি।

আমি চেচিয়ে কথাগুলো বলে নিজের সব রাগ ইফানের উপর ঢেলে দিলাম।আমার রাগে লাল হয়ে যাওয়া চোখের সাথে শান্ত ধূসর বর্ণের মণির দৃষ্টির মিলন ঘটে ক্ষীণকাল।সেটার ইতি অবশ্য আমিই টানি।ইফানের প্রতি আমার ঘৃণাত্মক চাওনি সরিয়ে বেলকনি থেকে চলে যেতে লাগলাম।দু পা এগিয়ে যেতেই পছন থেকে হাতে জোরালো টানে ইফানের বক্ষে গিয়ে পড়ি।আমি চেচিয়ে উঠার আগেই ইফান আমাকে রেলিংয়ের সাথে চাপে ধরে।তারপরই আচমকা আমার ওষ্ঠে হামলে পড়ে।তার করকরে ঠোঁট আমার কোমল ওষ্ঠভাজে রাজত্ব চালাতে মগ্ন। তার হাতগুলো আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বারবার ঠোঁটের ভাজে ভাজে দাঁত বসিয়ে দিচ্ছে।আমার ওষ্ঠগুলো ব্যথায় জর্জরিত হয়ে গেছে।গত দশ মিনিট ধরে আমি ওর বুকে কিল ঘুষি মেরে যাচ্ছি। তাতেও লোকটা দমছে না।অধিক উত্তেজনার ফলে কপালের বেন্ডেজটা আরও ভিজে উঠছে।ইফান এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে আমাকে দম ফেলারও সুযোগ দিচ্ছে না।এবার আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে।নিজেকে ছাড়াতে বারবার বৃথা হয়ে দম পুরোপুরি আটকে নিলাম।আমি শ্বাস ফেলছি না বুঝতে পেরেই আমাকে ছেড়ে দিলো।ওর থেকে ছাড়া পেয়েই হাঁপাতে হাঁপাতে জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকলাম।ইফান জিহ্বা দিয়ে ঠোঁটের আশপাশের অমৃত সুধাটুকু আহরণ করে নিলো।তারপর হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল দিয়ে অবশিষ্ট তরল টুকু মুচে নিলো।আমি নিজেকে স্বাভাবিক করার আগেই তার কন্ঠ কানে আসে,
–এটুকুতেই তেজ কমে গেছে সোনা।

আমি চোখ তুলে ইফানের দিকে তাকালাম। তার ঠোঁটে পৈশাচিক হাসি ফুটে উঠেছে। ইফান হাত বাড়িয়ে আমার ঠোঁট মুচে দিতে দিতে আবারও বলে উঠে,
–উফফ এই ভিটামিন টা প্রতিদিন খেলে ১০দিন আমাকে হাসপাতালে পড়ে থাকতে হতো না।শালি তুমি বড়ই খাটাস।একটা দিনও দেখতে গেলে না।তোমার ঠোঁটের এই ভিটামিনটা না খেয়ে যদি এখন মরে যেতাম তাহলে কি হতো?

–তুই মরে গেলে আমার কোন বাল পড়ে যেতো?

আমি চিবিয়ে চিবিয়ে কথাটা বলে আর এক মূহুর্ত দাঁড়ালাম না।তবে হ্যা বেলকনি ত্যাগ করার আগে ইফানের মেইন পয়েন্টে হাঁটু মেরে দিয়ে গটগট করে রুম থেকে বেড়িয়ে গেলাম।এদিকে ইফান আমার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে গারে হাত বুলাতে বুলাতে বললো,
–উফফ,ঝাঁঝওয়ালির তেজ দেখছি আগের চেয়ে বেড়েছে।আজ মনে হচ্ছে তেজ কমাতে আমাকেই একটু বেশি পরিশ্রম করতে হবে,,,,


আমি সিড়ি দিয়ে নিচে নামতেই চোখ পড়ে মাহিন আর ইমরানের দিকে। দু’জনেই ফর্মাল ড্রেসআপে।মনে হচ্ছে কোথাও বের হবে।ইকবাল চৌধুরী আর ইরহাম চৌধুরী ছাড়া বাকি সকলেই উপস্থিত। আমাকে নিচে নামতে দেখেই সকলের দৃষ্টি এদিকে পড়ে।আমার সাথে এখনো মাহিনের পরিচয় হয় নি।তাই কাকিয়া আমাকে মাহিনের সামনে দাড় করিয়ে পরিচয় করিয়ে দিলেন।মাহিন হেসে আমার সাথে নিজের পরিচয় দেয়।আমিও ভদ্রতার খাতিরে মৃদু হেসে নিজের পরিচয় দিলাম।আমাদের কথার মাঝে পেছন থেকে ইমরান বলে,
–ভাবিজান আমরা এখন একটু বাইরে যাচ্ছি।এসে আড্ডা দিবো কেমন।

আমি ইমরানের কথায় হেসে জিজ্ঞেস করলাম,”তো দেবর রা রাতে কোথায় যাচ্ছে। “

ইমরান মাহিনকে দিখেয়ে বলে,”আপনার দেবরকেই জিজ্ঞেস করেন।এত রাতে আমাকে কেন টেনে নিয়ে যাচ্ছে। ” ইমরানের কথা শুনে মাহিন তার মাথায় গাট্টি মেরে হেসে বলে,আমি দেবর হলে তুই কে রে।” ইমরান বুকে হাত রেখে আমাকে কুর্নিশ করে উত্তর দেয়,”আমি জাহানারা ভাবির আদরের ছোট ভাই। ” তখন মাহিন আরেকটা গাট্টি মেরে বলে,”তাহলে আমি কে?”

আমি ইমরানের আগেই উত্তর দিলাম, “তোমরা দুজনেই আমার ছোট ভাই। এবার ঠিক আছে?”

আমার কথা শুনে মাহিন আর ইমরান দুজনেই বুকে হাত ধরে কুর্নিশ করে এক সাথে বলে,”জি মাতা এবার ঠিক আছে ।” আমার সাথে ইমরানের আর বাড়ির সকলের ভালো সম্পর্ক এটা আগে থেকেই সহ্য করতে পারে না নাবিলা চৌধুরী। এখন মাহিনের সাথেও ভাব জমে যাচ্ছে এটাও সহ্য করতে পারলো না।তাই পেছন থেকে মাহিন কে ডেকে উঠলেন,”মাহি বেটা কোথায় যাচ্ছ ইমরান কে নিয়ে বললে না তো।”

নাবিলা চৌধুরীর গলা শুনে মাহিন তাকে হালকা করে কাধে জড়িয়ে ধরে বলে,”আরে বড় মা টেনশন করো না এত।এক্টুয়ালি আমি আসায় আমার কিছু ফ্রেন্ড রেস্টুরেন্টে দেখা করতে আসছে।আর এত বছর পর দেশে আসায় তেমন কিছু চিনে উঠতে পারছি না।তাই ইমরান কে নিয়ে যাচ্ছি।”

কথা শেষ করে হাত ঘড়িটায় একবার চোখ বুলিয়ে বলে,”এতক্ষণে হয় ত এসে পড়ছে ওরা। আর দেরি করা যাবে না আসছি।ইমরান চল।” তারপর যাওয়ার আগে আরেকবার আমার দিকে তাকিয়ে হেসে বলে,” সম্মানিত বড় ভাবিজান এসে আমরা সবাই মিলে গল্প স্বল্প করবো এখন আসছি।টাটা।”

আমি নাবিলা চৌধুরীকে একবার আড় চোখে দেখে মৃদু হেসে মাহিনদের সম্মতি দিলাম।ওরা আর সময় ব্যয় করলো না ঝটপট চৌধুরী ম্যানশনের সদর দরজা দিয়ে বেড়িয়ে গেল।এদিকে আমাকে দেখে চোখ উল্টিয়ে সোফায় গিয়ে নুলক চৌধুরীর সাথে বসলো নাবিলা চৌধুরী।আমিও চোখ উল্টে উনার সামনের সোফায় দাদির সাথে বসলাম।আমি বসতেই দাদি ফিসফিস করে বলে,”কিরে নাত বউ সন্ধ্যার পর থেকে তোকে আর আমার নাতিটাকে নিচে দেখলাম না।ঘরে কি দুইজনে প্রেম করছিলি।”

দাদির কথা শুনে উনার দিকে তাকিয়ে হেসে দিলাম।দাদিও হেসে দিলো,”এত দিন পর জামাইরে কাছে পাইছ।কেমন আদর করলো?”দাদির কথায় আমি আরও শব্দ করে হেসে দিলাম।আমার হাসির শব্দে সকলে আমার দিকে তাকলো।আমি সেসবে পাত্তা না দিয়ে দাদির মতো করে ফিসফিস করে বললাম,”তোমার নাতিই শুধু আদর করে নি।আমিও তাকে আদর করে দিয়ে আসলাম।এখন মনে হয় সে সান্ডার তেল লাগাচ্ছে।” কথা শেষ করে আরও শব্দ করে হাসতে লাগলাম।আমাদের হাসির কারণ বাকিরা না বুঝলেও দাদি মুখে আচল টেনে হাসতে লাগলো।এদিকে হঠাৎ করে আমার কানের কাছে ফিসফিস করে কেউ বলে উঠলো,
–what is সান্ডার তেল?

আমি দ্রুত পাশে ফিরতেই দেখি নোহা আমার সাথে বসে আমার দিকে ঝুঁকে আছে।এই মেয়েটা কি জ্বীন নাকি।হঠাৎ কখন এসে এখানে বসে পড়লো বুঝতেই পারলাম না।আমার থেকে উত্তর না পেয়ে নোহা আবার প্রশ্ন করলো,”বল না প্রিটি গার্ল। সান্ডার তেল কি?” নোহা এমন ভাবে ফিসফিস করে কথা বলছে। যা কিচেন থেকে পলি আর কাকিয়াও শুনে ফেলেছে।পলি ঠোঁট টিপে হাসছে।কাকিয়া গলা খাঁকারি দিয়ে আবার সবজি কাটায় মন দিয়েছে। এদিকে নাবিলা চৌধুরী নোহার বেহায়া কথা শুনে নুলক চৌধুরীর দিকে তাকালো।নুলক চৌধুরী চোখ পাকিয়ে মেয়েকে শাসাচ্ছে।যদিও নোহাকে কেও কখনো শাসন করে না।নোহার বাবা অনেক বড় বিজনেস ম্যান।সাথে নামকরা টেরোরিস্টও।উনার একমাত্র মেয়ে নোহা। তাই উনার আদরের মেয়ের সাথে গলা উঁচিয়ে কেউ কখনো কথা বলে না।এমন কি নুলক চৌধুরীও না।

নোহা আমার থেকে উত্তর না পেয়ে সরাসরি তার মা’কেই জিজ্ঞেস করে বসলো,”ওহ্ মম টেল মি।” নকুল চৌধুরী আর এখানে এক মূহুর্ত বসলো না।উঠে চলে গেলেন।এই মেয়েকে একটুও ভারসা করেন না তিনি।হইতো একটু পরে এটাও জিজ্ঞেস করে বসবে, সান্ডার তেল দিয়ে কি করে? উনি চলে যেতেই নাবিলা চৌধুরীও চলে গেলেন।কারণ উনিও খুব ভালো করে জানে এই মেয়ের লজ্জা শরম বলতে কিছুই নেই। যেকোনো সময় নাবিলা চৌধুরী কেও জিজ্ঞেস করে বসতে পারে।নোহা কারো থেকে উত্তর না পেয়ে হতাশ হলো।তবে হাল ছাড়লো না মেয়েটা।
–প্রিটি গার্ল তুমি কি বেইবির সাথে রুমে এতক্ষণ সে*ক্স করছিলে।

নোহার কথা আবারও কিচেন পর্যন্ত পৌঁছে যায়।কাকিয়া অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছেন এই বেহায়া মেয়ের কথা শুনে।এদিকে পলি বড়দের সামনে দাড়িয়ে থাকতে না পেরে ইতির জন্য দুধ রুমে নিয়ে যাবে বাহানা নিয়ে চলে গেল।আমি এখনো নোহার দিকে হতবিহ্বল হয়ে চেয়ে আছি।কি বলবো বুঝে উঠতে পারছি না।আমি স্বাভাবিক হওয়ার আগেই নোহা আরেক কথা ছেড়ে বসলো,”প্রিটি গার্ল,আমারও সে*ক্স করতে ইচ্ছে করছে।”

❝বেহায়াচুদা❞

আমি আর এখানে বসলাম না।উঠে দাড়াতে দাড়াতে নোহাকে একটা গালি দিয়ে ইতির রুমের দিকে যেতে লাগলাম।


ঘড়ির কাটা রাত সারে এগারোটার ঘরে।অন্ধকারাচ্ছন্ন রুমটাতে একটা মোম বাতি জ্বালানো।নোংরা মেঝের উপর বিধস্ত অবস্থায় পড়ে আছে এক কিশোরী। বস্রহীন দেহে শত শত আঘাতের চিহ্ন দৃশ্যমান মোমবাতির হলদেটে আভায়।দেখেই বুঝা যাচ্ছে এটুকু শরীরে কি পরিমাণ অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে।মেয়েটার তেমন জ্ঞান না থাকলেও বারবার শরীর ঝাঁকনি দিয়ে উঠছে।সাথে করুন গলায় অপরিসীম যন্ত্রণায় গোঙ্গানোর আওয়াজ যে কারো শরীরে কাঁপন ধরিয়ে দিতে পারবে।কিন্তু বিধস্ত মেয়েটার সামনে যে চারটা পশু বসে বসে মদ গিলছে তাদের খারাপ লাগা তো দূর, মেয়েটার গোঙানির আওয়াজে নরপিশাচের মতো আনন্দ উল্লাস করছে।চারজন নিকৃষ্ট লোকেরই শরীরের উপরের অংশ উদাম।একটা লোক শেষ বারের মতো মদের গ্লাসে একটা শেষ চুমুক দিয়ে হেলেদুলে মেয়েটার কাছে গেলো।বাকি তিনজন মদ গিলতে গিলতে উচ্চ স্বরে হেসে দিলো।তাদের মধ্যে একজন বলে উঠলো,
–কিরে ভাই সারাদিনই তো মজা নিলে।এখন আবার?

ঐ লোকটা বিধস্ত মেয়েটার উপর আবারও অমানবিক নির্যাতন চালাতে চালাতে মাতাল স্বরে বলে,”কি করবো ভাই, এত কচি মাল খালি খেতেই ইচ্ছে করছে।”লোকটার কথা শুনে বাকি তিনজন আবারও উচ্চস্বরে হেসে দিলো।আরও বেশ কিছুটা সময় পর এই ময়লায় স্তুপ পড়া রুমটার দরজায় বারবার কারাঘাত করে কেউ। বেশ বিরক্ত নিয়ে মেয়েটার উপর নির্যাতন চলানোরত লোকটা উঠে আসলো।বিধস্ত মেয়েটার গোঙ্গানির আওয়াজ এখন আর হচ্ছে না।হয়তো সম্পূর্ণ ভাবে জ্ঞান হারিয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়েছে।নির্যাতনকারী লোকটা পেন্ট ঠিক করতে করতে অশ্রাব্য একটা গালি দিলো,
❝কোন মাদারচুদের কুর*কুরানি ভাসছে রে।❞

তারপর বাকি তিনজনের থেকে একজন বকতে বকতে পুরান কাঠের দরজাটা খুলে দিলো।তখুনি তাড়াহুড়ো করে একটা লোক ভেতরে প্রবেশ করলো।মাতাল গুলোকে কিছু বলার আগেই চোখ পড়ে বিধস্ত কিশোরীর উপর।লোকটা ভয়াতুর ঢুক গিলে বললো,
–ভাই তোরা এটা কি করলি।বস বলেছিলো মেয়েটাকে বাইরে চালান দিবে।আর তোরা এর এই অবস্থা করলি।এখন বস আমাদের বাচিয়ে রাখলেই হয়।

অপর একটা মাতাল কটাক্ষ করে বলে উঠে,”শালা তুইও তো মজা নিছিস এখন সাধু সাজছিস।” কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি লেগে মারামারি অব্ধি চলে যায়।তাদের চেচামেচি শুনে আরও দুজন ছুটে আসে। তাদেরকে থামিয়ে একজন আতংক নিয়ে বলে,
–ওরে বাইনচোদের দল।তরে পাঠায়সি সবাই কে নিয়ে গাড়িতে তুলতে। আর তোরা এখানে মারামারি শুরু করছস।

সাথে সাথেই সকলে ঝামেলা থামিয়ে দিলো।একজন আতংক নিয়ে বলে উঠে,”এখান থেকে সরে যাবো মানে।” যে লোকটা প্রথমে এসেছিল সেই লোকটা ভয়ে বলে উঠে,”হাই সর্বনাশ। আমি তো ভুলেই গেছি তোদের আসল কথা বলতে।” চারজন মাতালই এখন হুশে এসে গেছে। একজন বলে, “কি হয়েছে তাড়াতাড়ি বল।” লোকটার কথা শুনে আরেকজন বলে,”আরে ভাই তাড়াতাড়ি কর বস কল করেছে কিছুক্ষণ আগেই। তিনি এখানে আসছিল তবে মাঝ রাস্তায় বসের এক ইনফরমার খবর দিয়েছে।আমাদের আস্তানার খবর পেয়ে গেছে ঐ শালা পুলিশ অফিসার টা।আর ঐ মাদারচু*দ সি আই ডি কে ইনফর্ম করে দিয়েছে।কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ আর সি আই ডি এখানে চলে আসবে।তাড়াতাড়ি মেয়েটারে নিয়ে গাড়িতে তুল।”

লোকটার কথা শুনে সকলের কলিজার পানি শুকিয়ে গেল।মূহুর্তেই সকলে সব কিছু গুছিয়ে নিয়ে মেয়েটা সহ গাড়িতে উঠে বসলো।এই স্থানটা একটা পোড়া বাড়ি।তাই এখানে কেউ ভয়ে আসে না।এই সুযোগটাই ব্যবহার করে তাদের ঘাটি বানিয়েছিলো।যেহেতু লোকালয় থেকে অনেক দূরে তাই এটাই তাদের অপকর্মের জন্য নিরাপদ আশ্রয় ছিলো।সকলে গাড়িতে উঠতেই গাড়ি জোড়ে ছেড়ে দেয়।একটু আগে মেয়েটার উপর যে লোকটা নিকৃষ্ট নির্যাতন চালিয়েছে, সেই লোকটা বলে,
–আমার মনে হচ্ছে ঐ শালা পুলিশ অফিসারটায় হবে।ইসস কত বড় মিস করে ফেলেছিলাম সেই দিন।আরেকটুর জন্যই পায়ে না লেগে গুলিটা বুকে লাগতো।ঐ হারামিটার জন্য একটু শান্তি করে মেয়েটার সাথে মজাও করতে পারলাম না।


মাতাল লোকগুলোর গাড়িটা এই এরিয়া থেকে বেড়িয়ে যেতেই সেই রাস্তা দিয়ে একটি গাড়ি প্রবেশ করে।তারপর পোড়াবাড়ির সামনে এসে গাড়িটি থামে।সেখান থেকে একে একে নেমে যায় দুজন মেয়ে তিনজন ছেলে অফিসার।সকলের ফর্মাল ড্রেসআপে থাকলেও একজন সিনিয়র পুরুষ অফিসার সিভিল ড্রেসে। উনার সারা মুখ মাস্ক দিয়ে আবৃত। এমনকি মাথাও একটা ক্যাপ দিয়ে ঢাকা।সকলে ভালো করে সারা বাড়ি তন্নতন্ন করে খুঁজেও কোনো প্রুফ পায়নি।অবশেষে উপায়ান্তর না পেয়ে সকলে গাড়ির সামনে এসে দাড়াল। মাস্ক পড়া লোকটা অতি রাগ, বিরক্তি নিয়ে গাড়িতে একটা পাঞ্চ বসিয়ে মুখ দিয়ে আওয়াজ করে,
❝শীট শীট শীট❞

তারপর একজন লেডি অফিসার এসে বলে, “বস ওরা তো মেয়েটাকে নিয়ে পালালো।আই থিংক এই মেয়েটাকেও দেশের বাইরে চালান করে দিবে।”

মেয়ে অফিসারের বিপরীতে কিছু বলার আগেই আরেকটি পুলিশের গাড়িও হাজির হয় এখানে।সেখান থেকে কিছু পুলিশ নেমে আসে। তাদের মধ্যে একজন সিভিল ড্রেসে।তিনি পুলিশ অফিসার রাকিব।হালকা কুড়িয়ে কুড়িয়ে এসে মাস্ক পড়া লোকটাকে স্যালুট জানিয়ে বলে,”বস ওরা কি আবার পালিয়েছে?”পুলিশ অফিসারের কথা শুনে নিজের রাগ কে কন্ট্রোল করার চেষ্টা করছে মাস্ক পরিহিত লোকটা। কিছুক্ষণ নিজের রাগকে কন্ট্রোলে এনে গম্ভীর কন্ঠে জবাব দিলো,”পালিয়ে যাবে কোথায় ওরা।একদিন না একদিন সি আই ডি র হাতে ধরা পড়তেই হবে।সেদিই এই চক্রের মাস্টার মাইন্ডদেরকে ফাঁ*শির কাটগুরাতে তুলবো।সেদিন দেখবো তারা কিভাবে নিজেদের কে বাঁচায়।”

অতঃপর সকলে নিজেদের গাড়ির দিকে রওনা হলো।পুলিশ অফিসার রাকিব গাড়িতে যখন উঠতে যাবে তখনই পেছন থেকে মাস্ক পরহিত লোকটা বলে,
–তুমি ছুটিতে ছিলে,,তাহলে আজকের মিশনে আসতে গেল কেন?

গম্ভীর কন্ঠ কানে পৌঁছাতেই রাকিব পিছনে তাকিয়ে আবারও মাস্ক পরহিত লোকটাকে স্যালুট জানিয়ে মৃদু হেসে উত্তর করলো,”কারণ আজকের মিশনে আপনিও এসেছিলেন। আর আমি বেঁচে থাকতে আপনাকে একা ছাড়বো না কখনো।” পুলিশ অফিসার রাকিবের কথা শুনে মৃদু হাসলো মাস্ক পরিহিত লোকটা।তা তার চোখ দেখেই বুঝে গেল রাকিব।তাই তার ঠোঁটের হাসিটাও আরও প্রশস্ত হলো।অতঃপর সি আই ডি অফিসারদের গাড়ির পেছনে পুলিশের গাড়িটাও এক সাথে বেড়িয়ে গেলো এই নির্জন এরিয়া থেকে।”পেছনে পড়ে রইল অভিশপ্ত পোড়াবাড়ি—যার প্রতিটি কোণে মিশে আছে পাপের ছায়া, অমানবিক নির্যাতনের দাগ আর নির্মম ভাবে নির্যা*তিতদের হাহাকার।”

চলবে,,,,,,

জাহানারা

জান্নাত_মুন

পর্ব :২৬
🚫ক’পি করা নিষিদ্ধ

🔞 সতর্কবার্তা:
এই গল্পে অশ্রাব্য ভাষা, অশ্লীলতা এবং সহিংসতার উপাদান রয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সী বা সংবেদনশীল পাঠকদের জন্য উপযুক্ত নয়। পাঠক নিজ দায়িত্বে পড়বেন।

আয়নার সামনে দাড়িয়ে আছে ইফান।তার পেন্ট নাভির বেশ কিছুটা নিচে।সে টেনে পেন্টটাকে আরেকটু নিচে নামালো।এখন ইফানের পেন্ট এমন এক পর্যায়ে আছে যে পান থেকে চুন কষলেই খুলে পড়বে।সে এসবে ধার ধারলো না বরং শিশ বাজাতে বাজাতে তার পেশিবহুল বক্ষে হাত বুলাতে লাগলো।তার নজর ডেসিং টেবিলের বড় আয়নাটায়।সেখানে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে তার জিম করা বডি।সে নিজেকে খুব মনযোগ দিয়ে দেখছে সাথে মুখ দিয়ে আয়েশি উচ্ছ্বাসের শব্দ বের করছে,”উফফ, সসস,আহহ্।”

ইফান নিজের বক্ষ জুড়ে কয়েকবার হাত বুলিয়ে জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভিজালো।অতঃপর ঘারে হাত বুলাতে বুলাতে আফসোসের স্বরে বললো,
–শালা নিজের ফিগার দেখে নিজেরই নেশা ধরে যাচ্ছে।ইচ্ছে তো করছে নিজেকেই খেয়ে ফেলি।তবু বালের সেরি আমার হটনেসের কদর বুঝলো না।

এটুকু বলে আবারও নিজের ফিটনেস দেহে চেপে চেপে হাত বুলাতে লাগলো।এতে তার ফর্সা দেহে আঙ্গুলের চাপ বসে জায়গাটা লালছে বর্ণ ধারন করছে।তখনই চোখে পড়লো তার বক্ষে গ্রীবাদেশে অনেক গুলো নখের আচর।উক্ত জায়গাগুলোতে হাত বুলাতে বুলাতে ঠোঁট কামরে ধরছে ইফান।কখনো কখনো চোখ বন্ধ করে “উফফ, ইসসস,আহ্” উচ্চারণ করছে।তারপর ইফানের নজরে পড়ে তার কন্ঠনালিতে কিছুটা রক্ত জমে শুকিয়ে গেছে। ইফান সেই জায়গাটাতেও আল্ত করে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে কয়েকবার বিরবির করলো,

❝ঝাঁঝওয়ালি ঝাঁঝওয়ালি ঝাঁঝওয়ালি❞

পরক্ষণেই কি একটা মনে করে তার মেইন পয়েন্ট চেপে ধরে চোখ বন্ধ করে নিয়ে উচ্চারণ করলো “উফফ”।এদিকে নোহার মুখ থেকে টপটপ করে দু ফোটা লালা পড়ে গেল।সেই কখন থেকে দরজার পর্দার আড়াল থেকে ইফানকে দেখছে নোহা।সে আসলে ইফানের সাথে দেখা করতে এসেছিলো। তারপর রুমের দরজার কাছে আসতেই ইফান কে এই অবস্থায় দেখে তার পা থেমে যায়।আর তখন থেকে হা করে ইফানের দিকে তাকিয়ে তাকে গিলে খাচ্ছে।নোহার মুখ থেকে লালা পড়তেই মুখ বন্ধ করে খুব কষ্টে শুকনো ঢুক গিললো।এদিকে ইফান এখনো তার হটনেস নিয়েই পড়ে আছে।

❝দেখা শেষ এবার নিজের রুমে যা শালি।❞

ইফানের গলা শুনেই পর্দার আড়াল থেকে বেড়িয়ে আসলো নোহা,”ডার্লিং তুমি কি করছিলে?”নোহার কথা শুনে একটা ব্রু উচালো ইফান,”সোনায় মালিশ করছিলাম।”দায় সারা উত্তর করলো সে। ইফানের কথা কানে তুললো না নোহা।সে ইফানের খালি গায়ে নজর বুলিয়ে হাত বাড়িয়ে দিলো ইফানের এডামস এপলে।তারপর আসতে আসতে হাতটা নিচে নামাতে লাগলো।ইফান সরু চোখ করে নোহার হাতের দিকে তাকালো।যখন নোহার হাতটা বুকের বা পাশে আনলো তখনই খপ করে হাতটা ধরে নিলো।নোহা ঘোর থেকে বেড়িয়ে এসে একটা ঢোক গিললো।তারপর ইফানের চোখের দিকে তাকাতেই ইফান নোহার হাতটা ঝটকা মেরে দূরে সরিয়ে দিলো।

❝এখানে হাত রাখার রাইট শুধু আমার বুলবুলিরই আছে।❞

ইফান এটুকু বলতেই থেমে যায় অতি পরিচিত মেয়েলি কন্ঠ শুনে ,❝আর সাউয়ায় হাত মারার অধিকার সব মাগীরই আছে,তাই তো?❞

ইফান আর নোহা দুজনেই দরজার দিকে তাকালো।তাদের চাউনি দেখে আমি চোয়াল শক্ত করে দাঁত বের করে হেসে দিলাম,❝কি হলো মিস্টার ইফান চৌধুরী,আন্সার মি?নাকি উত্তর নেই আপনার কাছে।❞

আমার কথা বলা শেষ হলেই ইফান দু’হাত মেলিয়ে ধরে নেশালো কন্ঠে ডাকে,
–কাম বেইবি,আমি এতক্ষণ ধরে তোমার জন্যই ওয়েট করছিলাম।

আমি ইফানের কথা শুনে ওর থেকে চোখ সরিয়ে নোহার দিকে তাকালাম।আমার সাথে চোখাচোখি হতেই ঠোঁট গোল করে হাত দিয়ে ফ্লাই কিস দিলো।তারপর ইফানের বাহু জড়িয়ে ধরে নেকামি করে বলে,
–প্রিটি গার্ল এতক্ষণ কোথায় ছিলে তুমি?Do you know তোমাকে কাছে না পেয়ে বেইবি কতটা লোনলি ফিল করছিল।That’s why আমি একটু কোম্পানি দিতে আসলাম।

নোহা বাক্যটা শেষ করেই ইফানের পেশিবহুল বাহুতে শব্দ করে কিস করে দিলো।আমি নোহার থেকে চোখ সরিয়ে কিস করা জায়গায় ইফানের বাহুতে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম।ইফানের দৃষ্টি প্রথম থেকেই আমার উপর ছিলো।এখনো আমার উপরই।সে ভাবে তাকিয়ে থেকেই এক হাত দিয়ে নোহার মাথায় ধাক্কা মেরে তার থেকে দূরে সরিয়ে দিলো।এতে নোহা একটুও বিরক্ত বা রাগ করলো না।বরং মুখে হাত দিয়ে হাই তুলে ইফানের বাহুতে হালকা থাপড়ে দিয়ে বললো,
–ডার্লিং Enjoy tonight.আমি মাহি হটির কাছে যাচ্ছি।

বাক্য শেষ করেই নোহা ইফানকে চোখ মারলো।ইফান ঠোঁট বাকিয়ে নোহার থেকে দৃষ্টি সরিয়ে আমার দিকে তাকালো।তারপর নোহা যাওয়ার সময় সে তার কাধ দিয়ে আমাকে হালকা ধাক্কা মেরে আবার চোখ মারলো,
–Enjoy সুইটহার্ট, টা টা।

নোহা হেসে হেসে হেলেদুলে রুম থেকে চলে গেলো।আমি ঘার বাকিয়ে তার প্রস্থান দেখলাম। তারপর সামনে ঘার ঘোরাতেই ইফানের বুকে বারি খাই।ইফান আমাকে ঝাপটিয়ে ধরে তার বুকের সাথে মিশিয়ে নিলো।তার এক হাত আমার সরু কোমরে। আরেক হাত আমার চুল ভেদ করে ঘারে।ইফান তার থুতনি আমার মাথায় ঠেকিয়ে হাস্কি টোনে বলে,
–জান এতক্ষণ বাইরে কি করছিলে?

–তোর মতো নষ্টামি,,,

ইফান আমার মাথায় চুমু দিচ্ছিল।কিন্তু আমার বাক্যটা শুনেই থেমে গেল।তার এতক্ষনের নরম চেহারা মূহুর্তেই শক্ত হয়ে আসলো।হঠাৎই কোনো পূর্বাভাস না দিয়েই আমাকে দেয়ালের সাথে ঠাস করে চেপে ধরলো।ধাক্কাটা এত জোরে ছিলো যে মূহুর্তেই মাথাটা ঘুরে উঠলো।শুধু মাথা না পিঠেও সমান ভাবে আঘাত লেগেছে। ফলে না চাইতেও ব্যথায় চোখের কোণে পানি জমে উঠলো।আমি ব্যথার চোটে চোখ বন্ধ করে ফেলেছি।এদিকে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে ইফান হুংকার ছাড়লো,
–বান্দির বাচ্চা, আরেকবার এই বাক্য উচ্চারণ করলে গলায় পারা মেরে ধরবো।তোর দিকে যে তাকায় তার চোখ উপড়ে ফেলি আমি ইফান চৌধুরী। আর তর কলিজা কত বড় এই কথা বলিস।আবার মনে করিয়ে দিতে হবে কে আমি?

আমার চোখের ঘন কালো পাপড়িগুলো ভিজে উঠেছে।এটা শরীরের ব্যথায় নয়, মনের ব্যথায়।ইফানের শেষ বাক্যটা আবারও আমার হৃদয়ে ঝড় তুলে দিয়েছে, “আমি ওকে ঘৃণা করি। ভীষণ রকম ঘৃণা। যার মূল্য তাকে দিতে হবে।আমি জাহানারা তোমাকে জীবনের এমন এক জায়গায় এনে ফেলবো ইফান চৌধুরী পালাবার কোনো পথ খুঁজে পাবে না।” আমার শান্ত চেহারা ভেজা চোখ নজরে পড়তেই ইফানের হৃৎস্পন্দন গতি হারাল।আমার দুই বাহুতে চেপে ধরা হাতও শীতল হয়ে আসলো।ইফান নিজের রাগকে কনট্রোল করতে চোখ বন্ধ করে নিলো।তারপর, পরপর কয়েকটা ঢুক গিলে আমার শান্ত চেহারার দিকে তাকালো।মূহুর্তেই আমাকে আবার ঝাপটে ধরে তার নগ্ন বুকে মিশিয়ে নিলো।ইফানের মাত্রা অতিরিক্ত হৃৎস্পন্দন আমারে কানে আসছে।সে উন্মাদের মতো আমার সারা মুখে গলায় ঘারে চুম্বন একে দিতে দিতে হিসহিসালো,
–কলিজা খুব লেগেছে? ট্রাস্ট মি জান, আমি তোমায় হার্ট করতে চাইনি,,,


ঘড়ির কাটা সারে বারোটার ঘরে।গত দশ মিনিট ধরে আমাকে ইফান তার বুকের সাথে মিশিয়ে ধরে এলোপাতাড়ি চুমু একে দিচ্ছে। আমি এতক্ষণে একবারেও তাকে বাঁধা দিলাম না।অবশেষে ইফানই আমাকে ছেড়ে দিলো।আমি ওর চোখের মণির দিকে তাকিয়ে রইলাম। সে আমার কপালের সাথে নিজের কপাল ঠেকিয়ে ফিসফিস করে বললো,
–বেইব এখনো ব্যথা করছে?

আমি ইফানের চোখে চোখ রাখলাম।কিছুক্ষণ তাকে দেখে নিলাম।কপালের ব্যন্ডেজের সাদা গজটা রক্তে লাল হয়ে আছে।আমি কোনো ইঙ্গিত না দিয়েই ইফানের বাহুতে জোরে কামড়ে ধরলাম, যেখানে একটু আগে নোহা কিস দিয়ে গেছে।আমার হঠাৎ আক্রমণেও ইফান আমাকে তার থেকে ছাড়ালোও না।বরং স্বাভাবিক নয়নে আমার কান্ড দেখছে।কিছুক্ষণ পরই আমার কামড়ে ধরা জায়গায় রক্ত বেরিয়ে এসেছে।এটা বুঝতে পেরে ছেড়ে দিই।আবার ইফানের দিকে তাকাতেই দৃষ্টি মিলন হয়।ইফান ঘার বাকিয়ে তার রক্তাক্ত হাতের দিকে এক বার দৃষ্টি বুলিয়ে মুচকি হেসে দিলো।বৃদ্ধাঙ্গুল দিয়ে আমার ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা রক্তটা যত্ন নিয়ে মুচে দিলো।তারপর আমার দুগাল তার দিকে উঁচিয়ে ধরে কপালে শব্দ করে একটা চুমু একে দিয়ে হাস্কি স্বরে হিসহিসিয়ে বললো,
–জান রাগ কমেছে। তুমি চাইলে আরেকটা কামড় দিতে পার এখানে,,

ইফান এক আঙ্গুল দিয়ে নিজের বুকের বাম পাশে ইশারা করে দেখালো।আমি একবার সেদিকে তাকায়।তারপর ধীরে ধীরে তার বুকের দু পাশে হাত রেখে জোরে ধাক্কা মেরে দিই।ইফান আচমকা ধাক্কায় তাল সামলাতে না পেরে বিছায় গিয়ে পড়ে।আমি তাকে ধাক্কা মেরে এক মূহুর্ত সেখানে আর দাড়ালাম না।এদিকে আমি ওয়াশরুমে চলে যেতেই ইফান নিজের দেহের নিচের দিকে চোখ রাখলো।পায়ের সাথে পা বেজে বিপদ সীমার নিচে নেমে থাকা টাউজার পেন্টা খুলে পায়ের গুরালিতে বাঁধা পেয়ে আটকে আছে।সে নিজের এই অবস্থা দেখে একটা ঢুক গিললো।এতে তার এডামস এপল তরঙ্গায়িত হলো।এদিকে দরজায় পর্দার আড়ালে তখন থেকে লুকিয়ে থাকা নোহা মাথা বের করে বলে উঠলো,

❝টুকি দেখে ফেলেছি ❞


দিয়াবাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া তুরাগ নদীতে একটি লাইটার শিপ ভিড়তেই, কয়েকজন লোক লাফ দিয়ে মালবাহী ছোট জাহাজটায় উঠে পড়ল।।তারপর আরও দুজন লোক নিচ থেকে একটা বিশাল বড় বস্তু ধরতেই আগে উঠে যাওয়া লোকগুলো টেনে তুলে নিলো।সকলে উঠতেই লাইটার শীপটা ছেড়ে দিলো।লোকগুলো একটা কক্ষে এসে বস্তাটা থেকে বিধস্ত মেয়েটাকে বের করে একপাশে তারা দাড়িয়ে পড়লো।এদিকে মেয়েটার সামনের চেয়ারে আরাম করে বসে আছে একজন লোক।মাথায় একটা ক্যাপ লাগানো।ঠোঁটে সিগারেট ধরা।তার দুপাশে কালো পোশাকধারী আরও দুজন স্বঅস্র হাতে দাঁড়িয়ে আছে।বসে থাকা লোকটা ভ্রু উচিয়ে একবার মেঝেতে পড়ে থাকা মেয়েটাকে দেখে নিলো।তারপর ঘারে হাত বুলিয়ে ঠোঁটের সিগারেটটায় শেষ টান দিয়ে পায়ের নিচে ফেলে পিষে দিলো।
–মেয়েটার দায়িত্বে কারা কারা ছিলো?

লোকটার মুখটা এখনো ক্যাপের আড়ালে শুধু ঠোঁটগুলো দৃশ্যমান। হিমশীতল কন্ঠে সকলে কেঁপে উঠলো।দাঁড়িয়ে থাকা দুজন গার্ড বাইরে থেকে ঐ মাতাল চারজনকে নিয়ে আসলো।সামনের বসে থাকা লোকটা উঠে দাড়িয়ে তাদের দিকে এগিয়ে গিয়ে বললো,”আমি কি না করেছিলাম মেয়েটাকে টাচ করার জন্য?”শান্ত কন্ঠে হুমকি ছাড়লো লোকটা।চারজনের মধ্যে একজন কাঁপা কাঁপা গলায় বললো,”বস আসলে,,,”।বাকি কথা শেষ হওয়ার আগেই পরপর গুলির আওয়াজ আসে।তৎক্ষনাৎ লোকটা গগন কাপিয়ে চিৎকার দিয়ে মেঝে লুটিয়ে পড়লো।সকলে একবার রক্তাক্ত দেহটাকে দেখে কাঁপা কাঁপা শরীরে সামনের লোকটার দিকে তাকালো।লোকটার ঠোঁটে পৈশাচিক হাসি ফুটে উঠেছে।লোকটার হাতের গানটা থেকে এখনো বারুদের ঝাঁঝালো গন্ধ বের হচ্ছে। লোকটা বন্ধুকটাকে ঠোঁটের কাছে এনে ফু দিয়ে ধোঁয়াটা বাতাসের সাথে মিশিয়ে দিলো।সকলে এখনো ভয়ে ভয়ে লোকটার কর্মকাণ্ড দেখছে।তৎক্ষনাৎ কোনো পূর্বাভাস না দিয়ে আরেকজন মাতালের কপালের মাঝ বরাবর শুট করে দিলো।ঐ লোকটাও চিৎকার দিয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে।তারপর ছটপট করতে করতে নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
–আমার কথা না শুনার ফল কি হতে পারে জানতি না!

বাকি দুজন লোকের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বাক্যটা বলে সকলের ভয়ার্ত চেহারা দেখে ক্রুর হাসলো।অত:পর আবার বলতে আরম্ভ করলো,”এটাই শেষ বার বলছি।আমার কথার বাইরে গেলে তোদের কলিজা ছিড়ে ফেলবো।বুঝতে পেরেছিস।” সকলে এক সাথে উপর নিচ মাথা ঝাঁকাতে লাগলো।লোকটার হাসিটা আরও চওড়া হলো।তারপর ইশারা করে বাকি দু’জনকে আর লা*শ দুটো কে এখান থেকে নিয়ে যেতে ।তৎক্ষনাৎ দুটো গার্ড তাদের কে রুম থেকে নিয়ে বেড়িয়ে গেল।লোকটা মেঝেতে পড়ে থাকা মেয়েটাকে একবার দেখে আবার চেয়ারে গিয়ে বসলো।অতঃপর ঠোঁটে আরেকটা সিগারেট জ্বালিয়ে সামনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকা গার্ডদের বললো,
–মেয়েটাকে ভালো ট্রিটমেন্ট দাও।যাতে মিয়ানমার পৌঁছানোর আগেই সুস্থ হয়ে উঠে।

–বস বাকি মেয়েদেরকে কি বর্ডার দিয়ে নিয়ে যাবো নাকি নদীপথেই?

–মেয়েদের নিয়ে ভুলেও স্থলপথে উঠবে না।বুড়িগঙ্গা, মেঘনা,নাফ নদী দিয়ে একেবারে মিয়ানমার পৌঁছে সেখানেই ক্লাইন্ডদের হাতে তুলে দিবো।মনে রাখবে সি আই ডি টিম কু*ত্তার মতো আমাদের পিছে পড়ে আছে।একবার ধরতে পারলে সব শেষ।

–জ্বি বস,,
__

সামনের গার্ড দুটো বেড়িয়ে যেতেই লোকটা সিগারেটে আরেকটা টান দিলো।পরপরই ফোনকল বেজে উঠলো।পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটা গার্ড ফোনটা চেয়ারে বসে থাকা লোকটার হাতে দিলো।ফোনটার স্কিনে ইমরান সেইভ করে রাখা নাম্বার টা দেখেই বিরক্তি তে চোখ কুঁচকালো। তারপর সিগারেটে শেষ টান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে ফোন রিসিভ করে বললো,
–হ্যালো!!

ফোনের অপর প্রান্ত থেকে ঝটপট উত্তর করলো ইমরান,
–আরে ভাই, রেস্টুরেন্টে আমাদের ফেলে কোথায় গায়েব হয়ে গেলি।

–আমার একটা দরকারী কাজ ছিলো তাই তোদের না জানিয়েই বেড়িয়ে পড়তে হয়েছে।

মাহিনের কথায় বিরক্ততে ইমরান বলল,
–এতই যখন দরকারী কাজ ছিলো তাহলে আমাকে বাসা থেকে রাত বিরেতে বাইরে নিয়ে আসলি কেন।তর না হয় বউ নাই। আমার তো একটা ফুলটুসি বউ আছে নাকি,,

এরই মাঝে টুট টুট করে কলটা কেটে গেল।মাহিনের এমন কাজে বেশ বিরক্ত হলো ইমরান।সেই কখন থেকে ইমরান আর মাহিনের বন্ধুরা রেস্টুরেন্টে অপেক্ষা করছে মাহিনের জন্য। ইমরান ফোনটা পকেটে ঢুকিয়ে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এসে বাকিদের জানালো মাহিন আর আসবে না।ইমরান গাড়িতে উঠতে উঠতে চাপা রাগ নিয়ে বলতে লাগলো,
–ধুর ধুর ধুর।এতক্ষণে বউয়ের সাথে প্রেম করে ঘুমিয়ে পড়তাম। শালা সব আমাকে বেক্কল পইছে।


রাত একটা চৌধুরী বাড়ির সকলে গভীর ঘুমেে বিভোর। লিভিং রুম সহ পুরো ম্যানশন অন্ধকারাচ্ছন্ন।ইমরান গাড়ি পার্কিং লটে রেখে এসে বাড়ির মেইন ডোর খুললো। ভেতরে সব অন্ধকারে ছেয়ে আছে।বিরক্তিতে নাক ছিটকালো ইমরান।তারপর আবার সদর দরজা লাগালো বিরবির করতে করতে,
–ধুর ধুর আজকেও বউটাকে একটু আদর করতে পারবো না।এই জীবনটায় তেজ পাতা।

ইফান আর পঙ্কির এক্সিডেন্ট হওয়ায় পারিবারিক বিজনেস তাকে আর ইরহাম চৌধুরীকেই সামলাতে হচ্ছে। সাথে ইকবাল চৌধুরীর রাজনৈতিক কাজেও তাকে সামলাতে হয়।যেহেতু ইফান নেই তাই সব কাজ একা সামলাতে হচ্ছে। এই ব্যস্ততার মধ্যে পলিকে একদমই সময় দিতে পারে না ইমরান।এই নিয়ে পলি কদিন ধরে মন খারাপ করে রেখেছে। অথচ মুখ ফুটে কখনো কিছু বলে না ইমরান কে।ইমরান তার প্রেয়সীর চেহারা দেখেই বুঝে যায় তার মনের কথা।এদিকে ইমরান সদর দরজা লাগিয়ে দিলো।এখন আর লাইট জ্বালানোর প্রয়োজন মনে করলো না।অন্ধকারেই হাতরে হাতরে কয়েক পা এগোতেই পিছন থেকে কেউ একটা ঝাপটে ধরলো।ইমরান চেঁচিয়ে উঠলো,
–এই কে, কে রে চোর চোর,,

তখনই ইমরানের কানে আসলো একটা মেয়েলি কন্ঠ,
–মাহি বেবি আমি,,

কন্ঠ শুনেই বুঝতে বাকি রইলো না এটা কে।ইমরান দাঁত কিরমির করে তার কোমর থেকে নোহার পেচিয়ে রাখা হাত সরাতে সরাতে বললো,
–ওরে পাগলি আমাকে ছাড়রে।আমি তর মাহি বেবি টেবি না। এবার ছেড়ে দে আমার বাপ।


ঘড়ির কাটা ঘুরতে ঘুরতে তিনটায় এসে থামলো।আমি কম্বল মুড়ি দিয়ে বেঘোরে ঘুমাচ্ছি।হঠাৎ তল পেটের শেষাংশে কোনো বস্তুর নড়াচড়ায় ঘুম হালকা কাঁচা হয়ে আসলো।এখনো কারো হাতের বিচরণ আমর তলপেটের শেষাংশে।এতে ভিষণ নেগেটিভ ফিল হচ্ছে।আমি ঘুমের মাঝেই মুচরামুচরি করছি।তখনই কেউ একজন আমার সাথে আরও ঘনিষ্ঠ হলো।ঘারে কারো তপ্ত শ্বাস পড়ছে।আমি ঘুমের ঘোরেই বিরক্তিকর আওয়াজ বের করছি।

❝বুলবুলি চল কিছুক্ষণ সে*ক্স করি❞

ইফান আমার কানের লতিতে ঠোঁট ছুঁইয়ে হাস্কি সরে হিসহিসিয়ে বাক্যটা বলে।এদিকে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেছে ওর লাগামহীন কথা শুনে।আমি হালকা পিটপিট করে চোখ খুললাম।এখনো ইফান কানে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিচ্ছে তো হাত দিয়ে তল পেটে জোরে জোরে চাপ প্রয়োগ করছে।ঘুমানোর পর থেকে কত বার যে কাঁচা ঘুম ভেঙে গেছে ওর এসব কারণে তার কোনো হিসাব নেই।এখন আর চোখ খুলেও রাখতে পারছি না ঠিক মতো।আমি রাগে শক্ত হাতে পেটিকোটের ভিতর থেকে ওর হাতটা টান মেরে বের করে দিয়ে আবার চোখ বুঝলাম।বিষয়টা একটুও ভালো লাগে নি ইফানের।তাই বাহুতে শক্ত টান মেরে তার দিকে ঘুরিয়ে দিলো আমাকে।আমি তপ্ত শ্বাস ফেলে শান্ত গলায় বললাম,

❝কি সমস্যা এভাবে টানাটানি করছেন কেন?❞

ইফান আমার ব্লাউজের দুটো বুতাম টেনেটুনে খুলে সেখানে মুখ ডুবালো।অতঃপর তার সাথে আমাকে আরেকটু চেপে ধরে মাদকীয় হাস্কি স্বরে ফিসফিস করে বললো,

❝হরমোনে নাড়া দিচ্ছে বুলবুলি। ❞

চলবে,,,,,,,

(চুপিচুপি গল্প পড়ে চলে না গিয়ে একটা রিয়েক্ট কমেন্ট করে যেও।এতে লেখার আগ্রহ বাড়ে🥹❤️)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply