জাহানারা
জান্নাত_মুন
(সূচনা পর্ব)
🔞নিচের নোট টুকু পড়ে গল্প পড়া শুরু করুন।
আমি জাহানারা, জাহানারা শেখ। মজিদ শেখ আর হালিমা বেগমের বড় মেয়ে।আমাদের শেখ বংশের রীতি অনুযায়ী কখনো অন্যায় মুখ বুজে সহ্য করা অন্যায়।আমি ছোট থেকেই আমার বাবার আদর্শে বড় হয়েছি।তিনি হাই স্কুলের হেডমাস্টার, তার আদর্শ মেনে কত ছাত্রছাত্রী যে জীবনে সফল হয়েছে তা হিসাবের বাইরে।আজও আমার বাবাকে প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা কোথাও দেখলে ব্যাকুল হয়ে উঠে।আজ আমি এমন এক পরিস্থিতি তে আছি জানি না এর ফল কি হবে।আজ আমার সাথে এত বড় অন্যায় হয়েছে আমি কি তা সহ্য করবো, কখনোই না।তাই তো অনিশ্চিত ভবিষ্যত জেনেও অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে এই বাড়িতে আসা।
চৌধুরী বাড়ির ড্রয়িং রুমে আমি দাড়িয়ে। ওহ্ শুধু আমি না, আমার শ্বশুর বাদে এই বাড়ির প্রতিটি সদস্য উপস্থিত। আমাকে দেখে সকলের মুখের অবস্থা কতটা তিক্ত তা আমি ভালোই বুঝতে পারছি।আমার সাথে পুলিশ না থাকলে হইতো এতক্ষণে গুম করে দিতো। আর যার জন্য এ বাড়িতে আসা সে তো আস্তো একটা শয়তান।এই যে সোফার উপর আয়েশ ভঙ্গিমায় বসে মনযোগ দিয়ে ফোন টিপছে।এখানে যে সব গন্ডগোল তাকে নিয়ে তাতে তার কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই।
–“মিসেস নাবিলা চৌধুরী আপনার ছেলের অপরাধটা কতটা দণ্ডনীয় তা আপনারা জানেন।আপনারা রাজনৈতিক মানুষ কিন্তু ভুলে যাবেন না আপনাদের উপরেও আছে সাধারণ জনগণ। তারা একবার ক্ষিপ্ত হলে আপনাদের সব ক্ষমতা এখানেই শেষ। আমি আপনার পুত্র বধুকে এখানে রেখে গেলাম আশা করি আপনারা মিসেস ইফান চৌধুরী কে তার প্রাপ্ত সম্মান দিবেন।”
নাবিলা চৌধুরী মানে আমার নতুন শ্বাশুড়ি। তিনি পুলিশ অফিসারের কথায় হালকা হেসে বললেন,
–“অফিসার আপনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। এখন এই মেয়েটা আমাদের বাড়ির বউ তাকে তার প্রাপ্ত সম্মান অবশ্যই দেওয়া হবে।”
তিনি কথাটা বলে আমার দিকে আড় চোখে তাকালেন।আমি বুঝতে পারলাম এই কথাগুলো খুব কষ্টে উনার মুখ দিয়ে বেড়িয়েছে। কিন্তু আমি তেমন কিছু আর বললাম না। কারণ এটা এখন থেকে আমার সংসার নিজেকে আরো স্ট্রং করতে হবে সবকিছুর জন্য। হয়তো এর চেয়েও কঠিন পরিস্থিতি আমার জন্য অপেক্ষা করছে। পুলিশ অফিসার আমার কাছে এসে দাঁড়িয়ে মৃদু হেসে বললো,
–“মিসেস জাহানারা চৌধুরী, আপনি এখন থেকে সেইফ আছেন। আশা করি আপনাকে আর কোনো হ্যা’রাসমেন্টের শিখার হতে হবে না। মন্ত্রী সাহেব নিশ্চয়ই নিজের কথা রাখবেন। তারপরও যদি আপনাকে অসম্মান করা হয় তাহলে অবশ্যই আমাদের কে জানাবেন আইন সবসময় আপনার মতো ভুক্তভোগীদের সাথে আছে।
–অবশ্যই অফিসার আপনারা না থাকলে আমার সাথে হওয়া অন্যায়ের সঠিক বিচার পেতাম না। এখন থেকে আমিই সবকিছু সামলে নেওয়ার চেষ্টা করবো।এই বাড়িতে অনেকেরই পর্যাপ্ত শিক্ষার অভাব। সেটা দেওয়ারও চেষ্টা করবো। তখনও যদি সাইজ না হয়, তাহলে নিশ্চয়ই আপনাদের সাহায্য চাইবো।
আমি কথা শেষ করে আড় চোখে সোফার দিকে তাকালাম। তখনই চোখাচোখি হয় সেই অসভ্য পুরুষের সাথে। তার মানে সে আগে থেকেই আমার দিকে তাকিয়ে ছিলো। তার শান্ত মুখশ্রী দেখে মনে হচ্ছে প্রবল ঝড় উঠার পূর্বভাস।আমি তার দৃষ্টিকে উপেক্ষা করে অফিসারের দিকে তাকালাম। তিনি আমার থেকে বিদায় নিয়ে ফোর্স নিয়ে বের হয়ে যান।আমার নতুন লড়াইয়ের সূচনা হলো আজ থেকে।আমি হারতে শিখিনি আর হারবোও না। আমার বিন্দু মাত্র অধিকারও ছাড়বো না।আমার যেসকল হক সব আদায় করে নিব।কারণ আমি জাহানারা, জাহানারা শেখ।
চলবে,,,,
⛔নোটটুকু পড়ে গল্প পড়া শুরু করুন :
🔞গল্প সংক্রান্ত কিছু কথা :
এই গল্পটা রহস্যে ঘেরা।প্রতিটি পর্বে টুইস্ট আছে।গল্পটিতে সব চরিত্রই প্রয়োজনীয় এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে দুজন পুরুষ চরিত্র আছে যারা বেশি হাইলাইট হবে।একজন অত্যাধিক মাত্রায় টক্সিক যাকে বলে রেড ফ্ল্যাগ।গল্পের মেইন নায়িকা জাহানারা।গল্পটা সম্পূর্ণ তাকে ঘিরে। প্রতিটি পর্বে টুইস্ট থাকবে।আর আমি ধীরে ধীরে সব রহস্য উন্মোচন করবো।
⛔গল্পটা ধৈর্য ধরে পড়বেন।গল্পে কিছু চরিত্র আপনার খারাপ লাগতে পারে।আবার সেই চরিত্র গুলোই কখনো আপনার পছন্দের হয়ে উঠতে পারে।
🔞এই গল্প সবার জন্য নয়।গল্পটিকে সাহিত্যের কাতারে ফেলবেন না।গল্পটি থ্রিলার রোমান্টিক সাসপেন্সে ভরপুর। আপনি গল্প পড়তে গিয়ে অনেক সময় গোলকধাঁধায়ও পড়ে যেতে পারেন।এই গল্পে অনেক ডার্ক সাইট আছে।তাই মুক্ত মন মানসিকতার মানুষদের জন্যই উপযুক্ত।
Share On:
TAGS: জান্নাত মুন, জাহানারা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জাহানারা পর্ব ৭
-
জাহানারা পর্ব ৩৯+৪০
-
জাহানারা পর্ব ৫৯+৬০
-
জাহানারা পর্ব ২৩+২৪
-
জাহানারা পর্ব ৮
-
জাহানারা পর্ব ৫
-
জাহানারা পর্ব ২৭+২৮
-
জাহানারা পর্ব ৩৭+৩৮
-
জাহানারা পর্ব ১০
-
জাহানারা পর্ব ২৯+৩০