কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ ⚠️
খাঁচায়বন্দীফুল
jannatul_ferdous_জান্নাতুল_ফেরদৌস
পর্ব- ২৮
কড়াইয়ের গরম তেলে পেঁয়াজ ভাজার ছিতছিত শব্দ আর অদিতির নাকটানার শব্দ ছাড়া রান্নাঘরে আর কোন শব্দের আনাগোনা নেই। সাইফের এমন উদ্ভট কর্মকাণ্ড একদমই ভালো লাগেনা অদিতির। রান্না করতে করতে চুলার আঁচ কমানোর সময় হঠাৎ মনে পড়লো, ওই বাড়িতে চুলায় মরিচের গুড়া রাখার কথাটা। ইস কি বাজে ভাবেই না আহত হতো অদিতি সেদিন।
অদিতির ওপর রাগ মেটাতে জেবা গ্যাসের চুলার মধ্যে মরিচের গুড়া রেখে দিয়েছিল। কিন্তু অদিতির বদলে চুলা প্রথমে জ্বালায় আকবরের স্ত্রী। আগুন জ্বলার সাথে সাথে মরিচের গুড়াগুলো ছিটে এসে তার চোখে মুখে লাগে। আর পুড়ে যাওয়া গুড়ো গুলোর বীভৎসঙ্গ গন্ধ আর ধোয়ায় ছেয়ে যায় পুরো রান্নাঘর। কাশতে কাশতে বেরিয়ে আসে সকলে রান্নাঘর থেকে। আকবরের স্ত্রী খুব আহত হয়েছিল সেদিন। কথাটা মনে পড়তে অদিতির গায়ে শিউরে ওঠে। জেবা অযথাই কেন এত জেদ করে ওর সাথে তা বুঝে আসেনা অদিতি।
নদী দরজা খুলে দেখে সাইফ অগ্নি মূর্তু হয়ে তাকিয়ে আছে নদীর দিকে। নদীর ভয়ে প্রাণটা শুকিয়ে গেল মুখে হাসি রাখার চেষ্টা করল।
“কি হয়েছে ভাইয়া? হঠাৎ এত ডাকছিলেন কেন?”
সাইফ গম্ভীর গলায় বলল
“আগে তুই বল দিনে দুপুরে দরজা বন্ধ করে রুমের মধ্যে কি করছিস?”
নদী আমতা আমতা করে বলল
“আমি তো…মানে”
সাইফ কিছুটা তেতে উঠে বলল
“কি মনে মনে করছিস? সকালেও দেখলাম অদিতি তোর খাবার ঘরে এনে দিয়ে গেলো? আবার তোকে দরজার বাইরে থেকে ডাকলেও দরজা খুলছিস না। সমস্যাটা কি তোর?”
নদীর মাথা নিচু করে ফেলল।সাইফ পুনরায় বলল
“ও বাড়িতে দু’দন্ড বসার সময় পাইনি মেয়েটা। একা হাতে কত কাজ করেছে। বাড়িতে এসেছে একটু রেস্ট করবে তা না সকাল থেকে সেই রান্নাঘরে। রান্না করে খাবারটা পর্যন্ত তোকে রুমে দিয়ে যেতে হচ্ছে। নবাবজাদী হয়ে গেছিস? এর আগেও তো তোকে পরীক্ষা কত দিতে দেখেছ, কই কখনো তেমন ঘর বন্ধ হয়ে থাকিস নি। তোকে তো খাবারটাও ঘরে দিয়ে যেতে হয়নি। এখন কি অদিতি কে হিংসা করা শুরু করেছিস তুই নদী?”
নদী মাথা তুলে ছল ছল চোখে বলল
“কি বলছেন এসব? আমি ভাবিকে কেন হিংসা করবো?আমি তো….”
“তোর আর কিচ্ছু বলা লাগবে না। যা বোঝার আমি বুঝে গেছি। অদিতি এ বাড়িতে থাকে বলে সবার সমস্যা। তোর সমস্যা, কাকার সমস্যা, কাকীর সমস্যা, সকলের সমস্যা। তো কালই আমি চলে যাব বাড়ি ছেড়ে অদিতিকে নিয়ে। থাকিস তোরা তোদের মন মতো”
অদিতি রাগগুলো সাইফ পুরোপুরি নদীর উপর ঝেড়ে গেল। নদীর গাল বের গড়িয়ে পড়ছে নোনা জল। তুমুল দরজার পিছন থেকে রাগে দাঁতে দাঁত চেপে হাতের মুষ্টি শক্ত করে দাঁড়িয়ে আছে। তার সামনে তার স্ত্রীকে কেউ এভাবে কথা শুনিয়ে গেল এটা মোটেই সহ্য হচ্ছে না তুমুলের। কিন্তু এখন জবাব দেওয়ার উপায় নেই। তুমুল নদীকে বাহু ধরে টান দিয়ে রুমের ভেতর এনে দরজা পুনরায় লাগিয়ে দিলে ভেতর থেকে।
“চলো বাইরে। আজই চলে যাবে তুমি আমার সাথে। আর এক মুহূর্ত তোমাকে এখানে রাখবো না আমি।”
নদী নিজেকে তুমুলের থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বলল
“কি বলছেন এসব? পাগল হয়ে গেছেন?”
“পাগল হবো না তো কি হবো? তোমাকে কতগুলো কোথাও শুনিয়ে গেলো? সারা বছরই তো কাজ করো, একটা দিন রুমে রয়েছো তাতে কি এমন হয়েছে?”
নদী মাথা নিচু করে মিনমিনে গলায় বলল
“ভাইয়া তো ঠিকই বলেছেন। ভাবি ও বাড়িতে অনেক কাজ করেছে জানেন। আবার বাড়িতে এসেও একটু রেস্ট নিতে পারছে না।”
অদিতি সারাদিনই সাইফের থেকে দূরে দূরে রইলো। সাইফুও রাগে কোন কথা বলল না। রাতে দুজনে দুদিকে ফিরে শুয়ে রয়েছে। কারো মুখে কোন কথা নেই। এবার সাইফ ও আগ বাড়িয়ে কথা বলবে না অদিতির সাথে। দুজনের মনেই দ্বিধা কাজ করছে। কেউ কথা বলছে না আগে থেকে। সাইফ চোখ বন্ধ করে ঘুমানোর চেষ্টা করছে। পিছন থেকে অদিতির ফোপানো কান্নার আওয়াজ আসছে কানে। সাইফ তাতেও কিছু বললো না। আরো কিছু সময় পার হলো ওভাবেই। সাইফের ঘুম আসছে না অদ্বিতী ও কান্না থামাচ্ছে না।
এতক্ষণ কান্না শব্দ আসলেও এখন শুধু ফোপানোর আওয়াজ আসছে। সাইফ পিছন দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে কিঞ্চিৎ বিরক্তি নিয়ে বলল
“সারারাত কি এমন নাটক করবে? নাকি আমাকেও একটু ঘুমাতে দিবে? আর না হলে তুমি এখানে শুয়ে শুয়ে কান্না করো, আমি অন্য রুমে গিয়ে ঘুমাচ্ছি”
অদিতি তাতেও কোন সাড়া দিল না। চুপ চাপ শুয়ে রইলো ওভাবেই।
বেলা আটটা বাজে। জানালা দিয়ে রোদ আসছে ঘরের ভেতর। চোখে মুখে পানির ছিটা পরতেই কপাল কুচকালো সাইফ। এই সাত সকালে মুখে পানি কে মারছে? পিটপিট করেছ খুলতেই দেখল,
অদিতি ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চুল ঝাড়ছে। পরনের জলপাই রং এর একখানা সুতি শাড়ি। লম্বা চুলগুলো তোয়ালেতে ঝেড়ে এখন চিরুনি দিয়ে আঁচরাতে লাগলো। কি স্নিগ্ধ লাগছে মেয়েটাকে। সাইফের আগের দিনের রাগ সব যেন মাটি মোমের মতো গলতে শুরু করলো অদিতিকে দেখে।
আদিতি খাটের দিকে তাকাতেই দেখল সাইফ ওকেই দেখছে। অদিতি তৎক্ষণাৎ চোখ সরিয়ে নিল। সাইফের রাগ ভাঙলো অদিতি রাগ মোটেও ভাঙ্গেনি। চিরুনিটা ড্রেসিং টেবিলের উপর রেখে গটগট করে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে । সাইফের দেখায় ব্যাঘাত ঘটায় বেশ বিরক্ত হলো। কপাল কুচকে চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে রইল অদিতির চলে যাওয়ার দিকে।
কি সুন্দর বউটাকে দেখছিল। ওর এখনই চলে যেতে হলো। অদিতি যে সাইফ কে দেখেই চলে গেছে তা সাইফ বেশ ভালোই টের পেল। অদিতি টেবিলে নাস্তা সাজাতে ব্যস্ত। সাইফ ফ্রেশ হয়ে নিচে নামতেই হাসান চৌধুরীর চেঁচামেচি শুনলো বাইরে।
“তোমাদেরকে এমনি এমনি টাকা দেওয়া হয়? নাকি সারা রাত ঘুমানোর জন্য মাইনে দিয়ে পুষছি তোমাদের? রাতের বেলা একজন অচেনা পুরুষ মানুষ বাড়ির ভিতরে ঢুকে আসে আর তোমরা কিচ্ছু করতে পারো না”
সাইফ টি-শার্টের হাতা গোটাতে গোটাতে এগিয়ে গেল
“কি হয়েছে বাবা?”
“আরে দেখতো, রাতের বেলায় কে যেন বাড়ির ভিতর থেকে বেরিয়ে গেট দিয়ে বেরিয়ে গেছে। এরা কেউ ধরতেও পারেনি। তাও আবার সে পুরুষ মানুষ ছিলো”
সাইফের তখন মনে পরলো, সে গেটের সামনে এক জোড়া পুরুষ মানুষের জুতা দেখেছিলো। কিন্তু তখন অদিতির পিছনে পিছনে যাওয়ায় আর খেয়াল করা হয়নি বিষয়টা। আবার নদীর ঘরের সামনেও লাইটের আলোতে কোন পুরুষের অভাব দেখা গেছে। হাসান চৌধুরী রাগতে রাগতে ভিতরে চলে গেলো। সাইফিদ বাড়ির ভিতরে গেলো সেই জুতোটা ওখানে আছে কিনা দেখার জন্য। কিন্তু জুতো জোড়া ওখানে আর নেই।
তোর কপালে দীর্ঘ ভাঁজ পড়ল। কে এসেছিল বাড়িতে? ওরা তো আজ সকালে এলো। তার মানে যখন কেউ বাড়িতে ছিলো না তখনই কেউ বাড়িতে এসেছিল। বাড়িতে তো শুধু নদী আর দীঘি ছিলো, ওরা নিশ্চয়ই কিছু বলতে পারবে।
সাইফ নদীর দিকে সন্দিহান চোখে তাকিয়ে বলল
“তোরা তো এ কদিন বাড়িতেই ছিলি তাই না?”
নদীর জবাব না দিলেও দীঘি জবাব দিল
“হ্যাঁ ভাইয়া, বাড়িতেই তো ছিলাম”
সাইফ দিকের দিকে তাকিয়ে বলল
“তোকে না, ওকে জিজ্ঞেস করেছি। আমি তুই চুপ করে থাক”
দীঘি চুপ করে গেলো। নদীর ভয়ে গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। দীঘির মত অত গুছিয়ে মিথ্যা কথা নদী বলতে পারেনা। নদী দীঘির সাথে অদিতিরও ভিতরটা শুকিয়ে আসে ভয়ে। নদী শুকনো ঢোক গিলে বলল
“হ্যাঁ বাড়িতেই তো ছিলাম”
“তাই? কেউ আসেনি বাড়িতে?”
“শুধু সিমি এসেছিল আর কেউ আসেনি”
সাইফ আর কথা বাড়ালো না। নিশ্চয়ই কিছু গন্ডগোল আছে। নদীর ওপর নজর রাখতে হবে। অদিতির দিকে তাকিয়ে বলল
“কলেজে যেতে হবে। তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নাও। আমি গাড়ি বের করছি”
সাইফ উঠে চলে গেল। অদিতি ওপরে গেল রেডি হতে। চুলগুলো পাঞ্চ ক্লিপ দিয়ে আটকে নিলো।
শাড়ি পাল্টে কালো রঙের একটা থ্রি পিস পরে ব্যাগে কয়েকটা বই ঢুকিয়ে নিলো। ব্যাগটা কাঁধে দিয়ে বেরিয়ে গেল। আঞ্জুমান আর সায়রাকে বলে বিদায় নিয়ে অদিতি গেট পার হয়ে বাইরে আসে।
সাইফ গাড়িতে বসে আছে। অদিতি কে আসতে দেখে পাশের গেট খুলে দিলো। অদিতি গাড়িতে উঠে বসলেই সাইফ গাড়ি স্টার্ট করলো। মিনিট পাঁচেক যাওয়ার পর অদিতি সাইফ কে জিজ্ঞেস করল
“আর কতদূর কলেজ?”
সাইফ জবাব দিল না। অদিতি একটু অপমান বোধ করলো। আগ বাড়িয়ে কথা বলতে যাওয়াই ঠিক হয়নি তার। আরো দশ মিনিট পর গাড়ি এসে থামল কলেজের সামনে। সাহেব গাড়ি থেকে নেমে এসে অদিতির পাশের দরজাটাও খুলে দিলো। অদিতি মুখ ভাড় করে গাড়ি থেকে নামলো। সাইফের করা ব্যবহারে মনটাই খারাপ হয়ে গেছে অদিতির। সাইফ অদিতির হাত নিজের মুঠোয় ধরে নিয়ে এগুয়ে গেলো কলেজের ভিতর।
অদিতি কোন কথা বলছেন না শুধু তাকিয়ে আছে সাইফের দিকে। আরও কিছুটা সামনে যাওয়ার পর সাইফ অদিতির কাধ জড়িয়ে ধরে বলল
“ক্লাস খুজে নিতে পারবে? নাকি আমাকেও যেতে হবে সাথে?”
অদিতি ছোট করে বলল
“পারবো”
সাইফ বলল
“ক্লাস শেষে বাইরে অপেক্ষা করবে। আমি নিয়ে যাবো এসে”
অদিতি ঘাড় কাত করে এগিয়ে গেলো ভবনের দিকে। সাইফ ও এসে গাড়িতে বসলো। অফিসে যাবে এখন। অদিতি এগিয়ে যাচ্ছে সামনে এমন সময় একজন লোকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে হাতের কাগজ পত্র গুলো পড়ে গেলো লোকটার।
অদিতির বেখালির জন্য ধাক্কা লাগায় একটু ইতস্তত বোধ করলো। লোকটা হাটু মুড়ে বসে কাগজপত্র গুলো তুলছিলো নিচ থেকে। অদিতি ভাবলো ওর ও হেল্প করা উচিত। নিজেও লোকটার সাথে সাথে পেপার গুলো তুলে দিতে দিতে বলল
“অনেক অনেক দুঃখীত। আমি একদমই খেয়াল করিনি”
লোকটা হাস্যোজ্জ্বল মুখে বলল
“ইট’স ওকে। ইট’স ওকে। আমিও খেয়াল করিনি।”
কালো ফরমাল প্যান্ট আর ইন করা সাদা শার্ট পরনে লোকটার। দেখে মনে হচ্ছে কোনো বিদেশি সাহেব। অদিতি ভাবলো একেই জিজ্ঞেস করবে ক্লাস এর কথাটা।
“আমাকে একটু বলতে পারবেন, ফার্স্ট ইয়ারের ক্লাস কোনটা?”
লোকটা কাগজ গুলো ঝাড়তে ঝাড়তে বলল
“সেকেন্ড ফ্লোর, রুম নম্বর ১০২”
আর কথা বাড়ালো না লোকটা। আবার চলে গেলো তার গন্তব্যের দিকে। অদিতি ক্লাসে গিয়ে দেখলো ২৫-৩০ জন স্টুডেন্ট হবে। মেয়ের সংখ্যাই বেশি। সবাই অচেনা। কেমন অস্বস্তি হচ্ছে ওর। প্রথম টেবিল পাস করে পিছনে যেতে নিলেই সামনের টেবিলের মেয়েটা ডাকলো।
“হেই, শুনো”
অদিতি পিছনে ফিরে দেখলো মেয়েটা ওর দিকেই তাকিয়ে আছে।
“আমাকে বলছেন?”
মেয়লটা হাস্যোজ্জ্বল মুখে ওপর নিচ মাথা নাড়লো। অদিতি এগিয়ে গেলো মেয়েটার কাছে। মেয়েটা অদিতির দিকে আঙুল তুলে বলল
“আজ প্রথম?”
অদিতি হ্যা সূচক মাথা নাড়লো। মেয়েটা হেসে নিজের হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল
“আফিয়া। তুমি?”
অদিতিও স্মিত হেসে হাত মেলালো
“অদিতি”
“এখানেই বসো না”
অদিতি আফিয়ার পাশেই বসলো। মেয়েটা বড্ড মিশুক। ক্লাসে প্রফেসার আসার আগ পর্যন্ত দুজন গল্প করলো। বেশি কথা আফিয়াই বলেছে। ও এক মাস ধরেই ক্লাস করছে। মোটামুটি সবই ওর পরিচিত। কথা বলতে বলতে প্রফেসর চলে আসলো। সকলেই দাঁড়িয়ে পড়লো।
“গুড মর্নিং এভরি ওয়ান”
অদিতি দেখলো এটা সেই লোক যার সাথে সে বাইরে ধাক্কা খেয়েছিলো। উনি তারমানে প্রফেসর। নিজের কাছেই ভীষণ লজ্জিত অদিতি। শেষে কিনা স্যারের সাথে ধাক্কা? হাতে টান পড়তেই ধ্যান ভাঙলো অদিতির। আফিয়া হাত ধরে টানছে।
“কি হলো বসো”
সবাই বসে পরেছে। অদিতি একাই দাঁড়িয়ে ছিলো। আফিয়ার কানে কানে বলল
“উনি প্রফেসর?”
আফিয়া দাঁত দিয়ে নখ কাটছে। শুধু ওপর নিচ মাথা নাড়লো। অদিতির কানে কানে বলল
“ প্রফেসর সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত”
বলেই মুখে হাত দিয়ে ফ্যাচফ্যাচ করে হাসতে লাগলো। অদিতি কপাল কুচকে বলল
“কি বলছেন এসব?”
“কি বালের আপনি আপনি করছো? আমরা তো ক্লাসমেট। উনার নাম সরোয়ার আদিত্য। আমরা ফাজলামো করে বলি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত”
“সরি”
“সামনের বেঞ্চে বসে দুজন কি এত ফুসুর ফুসুর করছো?”
আদিত্য স্যারের কথায় অদিতি এবং আফিয়া দুজনেই নড়েচড়ে বসলো। স্যার রীতিমতো ক্লাস শুরু করলো। আফিয়া অদিতির কানে কানে আবার বলল
“ক্রাশ স্যার এটা”
অদিতি শুধু ঠোট টিপে হাসলো। কিছু বললো না। একের পর এক কয়েকটা ক্লাস হলো। আফিয়া বেশ চঞ্চল। অদিতির মতো অত শান্ত না। পিছন থেকে রোহান আফিয়ার চুল টেনে বলল
“কিরে শাঁকচুন্নি, আজ পাত্তাই দিচ্ছিস না? আমাদের ও দিন আসবে হু”
আফিয়া পিছনে ঘুরে রোহান কেও লাগিয়ে দিলো দু”ঘা। অদিতিকে বলল
“ক্লাস শেষে কিন্তু একসাথে ফুচকা খাবো”
অদিতি কোনো টাকা নিয়ে আসেনি। সেটা বলতেও লজ্জা করছে। আফিকা অদিতিকে চুপ থাকতে দেখে বলল
“কি হলো? খাবে না আমার সাথে ফুচকা?”
অদিতি কিছু বলার আগেই মেহের ক্লাস রুমে ঢুকলো। সকলের উদ্দেশ্যে জোরে জোরে বলল
“আজ আর ক্লাস হবে না। এখানেই শেষ”
আফিয়া লাফ দিয়ে উঠে পরলল একটা কাঁধে নিয়ে। অদিতির হাত ধরে বললো
“ চলো চলো”
অদিতি ও উপায় না পেয়ে ব্যাগ কাঁধে নিয়ে আফিয়ার পিছন পিছন গেল। সিড়ি নামতে নামতে আফিয়া অদিতি কে বলল
“আজকের ফুচকার ট্রিট কিন্তু আমি দিবো”
অদিতি স্মিত হেসে বলল
“তাহলে কাল কিন্তু আমার পালা। তুমি কিন্তু না করতে পারবে না”
আফিয়া চোখ মেরে বলল
“ওক্কে ডান”
কলেজের সামনের ফুচকার দোকানটায় দাঁড়িয়ে দুজন ফুচকা খাচ্ছে। খেতে খেতে আফিয়া অদিতিকে বলল
“ওহ কথায় কথায় তোমার বাড়ি কোথায় সেটাই তো শোনা হয়নি। বাসা কোথায় তোমার?”
অদিতি ছোট করে বলল
“বেইলি রোড”
রোহান এসে আফিয়ার মাথায় একটা গাট্টা মারল।
“আমাদের রেখেই ফুচকা খাচ্ছিস?”
আফিয়া অদিতির দিকে তাকিয়ে বলল
“পরিচয় হ। আমাদের নতুন বন্ধু। ওর নাম অদিতি”
মুশফিক, রোহান এবং নীলয় তিনজনই অদিতির দিকে তাকিয়ে হাত বাড়িয়ে দিল। অদিতি ওদের সাথে হাত মেলাতে করতে একটু অস্বস্তি বোধ করছে। আফিয়া ফুচকা মুখে নিয়ে বলল
“আরে ইটস ওকে, আমাদের ফ্রেন্ড ই সবাই”
অদিতির জড়তা কাজ করলেও বাধ্য হয়ে হাত মেলালো ওদের সাথে । আফিয়া নিজের ফোনটা বের করে অদিতির দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল
“ফোন নাম্বার দে”
অদিতি কন্ঠ নিচু করে বলল
“আসলে আমার ফোনটা বাড়িতে রেখে এসেছি”
“সো হোয়াট? নাম্বারটা দিয়ে যা। মুখস্থ নেই?”
অদিতি দেখলে গেটের বাইরে সাইফের বাড়ি এসে থেমেছে। ফুচকার প্লেট টা ফুচকা ওয়ালার ভ্যানে রেখে দ্রুত ব্যাগ কাঁধে নিয়ে আফিয়া কে বলল
“এই আমার গাড়ি এসে গেছে। আসছি হ্যা?”
মুশফিক অদিতির যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থেকে বলল
“বাবাহহহ নিজেদের গাড়ি?”
চলবে?
কেমন হলো বলিও কিন্তু 🥹🫶
Share On:
TAGS: খাঁচায় বন্দী ফুল, জান্নাতুল ফেরদৌস
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৪
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২৩
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২৭
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১২
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৩
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২৪
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১১
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৮
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২২
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৭