কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ ⚠️
খাঁচায়বন্দীফুল
jannatul_ferdous_জান্নাতুল_ফেরদৌস
পর্ব – ২৩
নদী দরজা খুলে দিলো। দীঘি সন্দিহান চোখে তাকিয়ে আছে। নদী আমতা আমতা করে বলল
“কি….কি হয়েছে। এভাবে কী দেখছিস?”
হঠাৎ করে মুখভঙ্গির স্বাভাবিক করে ফেলল। এক অসাধারণ ট্যালেন্ট দীঘির। ভিতরে কি চলছে তা মুখ দেখে বোঝা অসম্ভব। দু’হাত নাচাতে নাচাতে রুমের ভিতর ঢুকে ধপ করে খাটের উপর বসলো।
“ আচ্ছা তুই আর আমি যে সব গপা গপ করে খেয়ে নিলাম, এবার ভাইয়াকে কি খেতে দিবি”
নদীর চোখ বড় বড় করে বলল
“ কাকে?”
দীঘি খাটের তলায় সামান্য ঝুঁকে বলল
“ বেরিয়ে আসুন ভাইয়া খাটের তলায় অনেক ধুলো ময়লা জমেছে। আপনার বউ পরিষ্কার করে না তো। সেই কবে আমাকে করে দিতে হবে, তারপর। আসুন আসুন, বেরিয়ে আসুন”
নদীর চোখ তখন চড়কগাছ হয়ে গেছে। তুমুল ও অবাক। কি বিচ্ছু মেয়ে রে বাবা। তুমুল উপায় না পেয়ে বেরিয়ে আসলো খাটের তলা থেকে। নদী তখন কি বলবে বুঝতে পারছিনা। শীতের মধ্যেও ঘামতে লাগলো। ইস কি লজ্জা কি লজ্জা। তাও আবার ছোট বোনের সামনে। তুমুল খাটের তলা থেকে বেরিয়ে গা গত্তর ঝাড়তে লাগলো।
দীঘির দিকে তাকিয়ে বলল
“ এই তোমার চোখ কয়টা শালিকা?”
দিঘির অকপটে উত্তর দিল
“ চোখ দুইটাই। তবে দুইটাই কাজের। কোনো টা অ-কাজের না”
নদী মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। কি বলবে বুঝতে পারছে না। তুমুল শরীর ঝাড়তে ঝাড়তে দীঘির পাশে বসে বলল
“আমি আগেই বলেছিলাম শালিকার কাছ থেকে আবার লুকানোর কি আছে। তাইনা শালিকা?”
বলেই দেখি দেখি হাতটা বাড়িয়ে দিল হ্যান্ডশেক করার জন্য। দীঘিও হাত বাড়িয়ে হ্যান্ডশেক করে বলল
“ একদম তাই”
“ বাট সরি, তোমাকে প্রমিস করেছিলাম আগের বার। যে আবার আসার সময় সান্ডার তেল নিয়ে আসবো কিন্তু আনতে পারিনি”
ব্যাস দীঘির মেজাজ বিগড়ে গেল আবার। মুখ কালো করে বলল
“বিয়ে করেছেন সেটুকু পর্যন্ত বলেন নি কেউ আমায়। আমি কি আপনাদের শত্রু নাকি? যে ঢাক ঢোলক পিটিয়ে মানুষকে জানিয়ে দেবো”
তুমুল দীঘির গাল টিপে দিয়ে বলল
“ অনেক অনেক সরি শালিকা। তোমাকে পরে স্পেশাল ভাবে জানানো হবে। আপাতত আমাদের একটু একা ছেড়ে দাও প্লিজ।”
নদীর চোখে ইশারা করে তুমুল কে চুপ থাকতে। ছোট মানুষের সামনে কি সব বলছে ও নির্লজ্জের মত। তোমার নদীর চোখে ইশারা দেখে বলে
“ তুমি আবার আমাকে চুপ করতে বলছো কেন? শালী আমার বিশাল ইন্টালিজেন্ট তাই না?”
দীঘি নদীর দিকে তাকিয়ে ভেংচি কেটে বলল
“ তোর কি মনে হয়েছিল? আমার চোখ ফাঁকি দিয়ে ভাইয়া আসবে আবার চলে যাবে আর আমি কিছুটা জানতে পারবো না। যাক এসে যখন পড়েছে তখন তো আর বের করে দিতে পারি না। হাজার হোক আমার মনটা তো আবার অনেক বড়।”
তুমুলের দিকে হাত পেতে বলল
“ দশ হাজার”
তুমুল আর নদী সমস্বরে বলে উঠলো
“ এ্যাঁ?”
দীঘি চট করে উঠে দাঁড়িয়ে বলল
“ আজ্ঞে হ্যাঁ।”
“ ইয়ে, একটু বেশি হয়ে গেল না?”
“দেখুন হওয়ার তিনটা কারণ আছে,
নম্বর এক – এটা সিক্রেট বাসর, যেটা কাউকে বলা যাবে না।
নম্বর ২ – আমি আপনার একমাত্র শালিকা
নম্বর ৩ – এখন আপনারা প্রেম করবেন আর আমাকে কিচেনে গিয়ে রান্না করতে হবে।
তুমুল মানিব্যাগ হাতে ৬০০০ টাকা পেল। সেটা দীঘির হাতে দিয়ে বলল
“ বাকিটা তোলা রইল। একদিন ভালো কোন রেস্টুরেন্টে নিয়ে তার চাইতে বেশি পুষিয়ে দেবো কেমন?”
দীঘিও খুশি হয়ে নিয়ে নিল। তুমুল হেসে বলল
“ আমার সুইট শালিকা”
দীঘি টাকা গুনতে গুনতে বের হওয়ার সময় ইচ্ছাকৃত নদীকে মৃদু ধাক্কা দিল। নদী ধাক্কা লাগায় পিছন দিকে তাকাতেই দীঘি চোখ মারল । নদী মনে মনে বলছে
“ আচ্ছা পাকা পেকেছে মেয়েটা। ওকে বেশিদিন ঘরে রাখা যাবে না তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দিতে হবে।”
তুমুল বিছানায় শুতে শুতে বলল
“ লাইট নিভিয়ে এসো বউ”
—-
সকাল থেকে প্রধান বাড়ির মানুষজন বেশ ব্যস্ত। আগামীকাল মেহেরজান বেগমের কুলখানি।
বিশাল কুলখানির আয়োজন করা হয়েছে। পুরো গ্রাম শুদ্ধ পাশের কয়েকটা গ্রাম্য আমন্ত্রণ করা হয়েছে। নদীর নানা বাড়ি থেকে এবং সাইফের নানুবাড়ি থেকে লোকজনও এসেছে।
অদিতি আর সায়রা সব রান্নাবান্না করেছে। জেবা অসুস্থ, মাথায় এখনো ব্যান্ডেজ করা। বাড়িতে বলতে নিষেধ করায় বলতেও পারেনি। বলেছিল পা ফোসকে পরে গেছে। জানিয়ে দিল জেবার হাতে। জেবা চায়ের কাপ নিয়ে উঠে গিয়ে সাইফের পাশে বসলো । কাপটা সাইফের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললো
“ বেবিইইই, দেখতো চাটা কতটুকু গরম”
সাইফ বাঁকা হেসে বলল
“ শিওর বেবি”
সাইফ জেবার হাত থেকে চায়ের কাপটা নিয়ে সম্পূর্ণ চা জেবার হাতে ঢেলে দিলো। জেবা চিৎকার দিয়ে উঠলো জোরে করে। সকলে জেবার চিৎকার শুনে এগিয়ে আসছে এক এক করে। সবার মুখে এক বুলি, কি হলো, কি হলো?
সাইফ শয়তানি হাসি দিয়ে বলল
“ এবার বুঝেছো চা কতটা গরম ছিলো?”
সায়রা এসে বোন ঝির হাত গামলা ভর্তি ঠান্ডা পানিতে চুবিয়ে দিলো।
“ একি হাতে চা পড়লো কি করে?”
সাইফ উঠে যেতে যেতে বললো
“ কি জানি? অদিতি চা দিয়ে গেলো আর ও নিজের হাতে ঢেলে নিলো। বোধহয় মাথায় আঘাত পেয়ে বোধবুদ্ধি যে টুকু ছিলো সেটুকুও লোপ পেয়েছে”
জেবা জোরে জোরে কেঁদেই চলেছে। আকবরের স্ত্রী ভেংচি দিয়ে যেতে যেতে বলল
“ এত বড় ধুমসি মেয়ে, এমন ভাবে চেঁচাচ্ছে যেন পাঁচ বছরের বাচ্চা মেয়ে পড়ে গেছে। একে সহ্য করে কি করে এর বাড়ির লোক?”
জেবা কটমট করে সাইফের দিকে তাকালো। আজকে ওর খবর আছে। জেবা ভাবলো ভিডিও থেকে কয়েকটা স্ক্রিনশট নিয়ে আপাতত সাইফের হোয়াটসঅ্যাপে দেবে, সাইফ কে এটা মনে করাতে যে সে যেন বেশি চালাকি না করে। কিন্তু গ্যালারিতে ঢুকেই অবাক হয়ে যায় জেবা। পুরো গ্যালারি তন্ন তন্ন করে খুঁজেও কোথাও পেল না অদিতির সেই ভিডিওটা। গুগল ড্রাইভ থেকে শুরু করে কোথাও নেই ভিডিওটা। কিন্তু এটা কি করে হতে পারে? রাগে ফোনটা আছাড় মারতে গিয়েও আবার হাত ফিরিয়ে নেয়। এখন রাগলে চলবে না ঠান্ডা মাথায় আবার ভাবতে হবে। ধুর কত কষ্টে পাকড়াও করেছিলাম, এখন আবার সব হাত থেকে বেরিয়ে গেল। এখন আবার নতুন কোন প্ল্যান বানাতে হবে।
জেবা হাতে মোবাইল নিয়ে সামনের দোকানটায় যাচ্ছে। গ্রামে নেটওয়ার্কের খুব সমস্যা। হাটতে হাটতে দোকানে গিয়ে দোকানিকে বলল
“ এই যে, হ্যালো শুনছেন?”
জাবেদ পান খাওয়া দাঁত গুলো বের করে হেসে বলল
“ আপা আমি হিলু না তো। আমি জাবেদ।”
জেবা নাক মুখ সিটকায়
“ হাউ স্টুপিড। কি বলে এরা?”
জাবেদ গামছা গলায় দিয়ে হাসতে হাসতে বলল
“ ও আইচ্ছা বিড়ি খাইবেন?”
জেবা রাগে কটমট করতে করতে বলল
“ অসভ্য ছোটলোক আমাকে দেখে কি তোমার বিড়িখোর মনে হয়? ইউ আ’র অ্যা বিচ”
জেবা মুখ ঝাংটা দিয়ে চলে গেল। জাবেদ মুখ কালো করে তার স্ত্রী কে বলল
“ আরে রেহানা, ম্যাডাম কিসের বিচি চাইলো কইতে পারস?”
“ না। আমিও তো বুঝলাম না।”
জেবা রাগে ফুসতে ফুসতে গিয়ে একটু দূরে একটা মাচালের ওপর বসলো। পাশেই একজন মুরব্বি মহিলা পাতা ঝাড়ু দিচ্ছে। জেবার হাব ভাব ভালো লাগলো না উনার। ঝাড়ু হাতেই জেবার দিকে এগিয়ে এলো। পা থেকে মাথা পর্যন্ত খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছেন। কেমম অদ্ভুত ব্যাটা-ছেলেদের মত পোশাক পরেছে মেয়েটা।
জেবা মহিলার তাকানোর ধরন দেখে বিরক্ত হলো। মহিলা টি জেবার উদ্দেশ্যে বলল
“ কোন বাড়িত আইছো মাইয়া? তোমারে তে আগে দেখি নাই”
জেবা মোবাইল চাপতে চাপতেই বলল
“ প্রধান এর বাড়িতে”
মহিলা হঠাৎ ঝংকার দিয়ে উঠলো
“ প্রধান বাবু সোনার মানুষ। হেই বাড়িত আইছো মাইয়া ভালো হইয়া চলবার পারো না? গতর ডার মইধ্যে ওড়না পিন্দো না ক্যান? কি ছিরি পোষাকের হুহহহ”
মহিলা আবার চলে গেলো। জেবা এদের ব্যাবহারে বিরক্ত পুরো। না পেরে উঠে গেলো বাড়িতেই। বাড়িতে ঢুকতেই সায়রা ধরলো জেবা কে
“ মামনি শোন”
জেবাকে টেনে আড়ালে নিয়ে গেলো
“ শোন এটা তো গ্রামের বাড়ি, এখানের মানুষ জন আধুনিক পোষাক পছন্দ করে না বুঝলি। তুই থ্রি-পিছ পড় আজকেই। বাড়িতে অনেক লোকজন আসবে আজ থেকেই।”
জেবা মুখ কালো করে বলল
“ কিন্তু আমার তো সব এমন পোষাক। কোনো থ্রি-পিস নেই”
সায়রা বলল অদিতির থেকে চেয়ে নিতে। জেবা বাধ্য হয়ে গেলো অদিতির কাছে
“শোনো।”
অদিতি শুনলো। কিন্তু পিছনে ফিরলো না। জেবা একটা টমেটো নিয়ে খেতে শুরু করলো
“খালামণি বলেছে আমায় এক সেট থ্রি-পিস দিতে তোমার থেকে”
অদিতি গম্ভীর গলায় বলল
“ আমার সব শাড়ি। কোনো থ্রি-পিস আনিনি”
জেবা মনে মনে ভাবলো, শাড়ি পরে সাইফ কে সারপ্রাইজ দেবে।
“ তাহলে শাড়িই দাও”
“ আমার ব্লাউজ আপনার হবে না”
“ ব্লাউজ আমি খালামনির থেকে নিয়ে নিবো না হয়। তুমি শাড়িই দাও”
অদিতি রান্না রেখে জেবাকে শাড়ি বের করে দিতে গেলো। সাইফ খাটের ওপর শুয়ে শুয়ে মোবাইল চাপছে। অদিতির পিছন জেবা ও ঢুকলো। সাইফ অদিতিকে বলল
“ হোয়াট ননসেন্স বেইবি, তোমাকে কতবার বলেছি যাকে তাকে নিয়ে আমাদের রুমে আসবে না”
অদিতি মিটিমিটি হাসলো। কোনো জবাব দিলো না। ব্যাগ থেকে শাড়িগুলো বের করলো খাটের ওপর। তারাহুরোয় মাত্র ৩ টা শাড়িই এনেছে। আর একটা পড়ে এসেছে। জেবার নীল শাড়িটাই পছন্দ হলো। শাড়িটা হতে নিয়ে বলল
“ আমি এটাই নিই না হয়”
সাইফ উঠে বসলো ওমনি। জেবার হাত থেকে শাড়ি কেড়ে নিয়ে অদিতিকে বলল
“তোমার শাড়ি তুমি ওকে দিচ্ছো কেন হানি?”
“ কাকিয়া দিতে বলেছে”
সাইফ শাড়িটা সরিয়ে নিয়ে বলল
“তোমার শাড়িতে তোমার শরীরের স্মেল পাওয়া যায় সুইটহার্ট। আমি চাই না সেটা অন্যের গায়ে উঠুক”
জেবা রাগে ফুসছে ভিতরে ভিতরে। কিন্তু কিচ্ছু বলতে পারছে না। অদিতি বলল
“ নিক না। এটা না হয় একেবারেই দিয়ে দিচ্ছি। আমি আর পরবো মা”
“ দাও বাট এই নীল টা না। ওই সাদা শাড়িটা দিয়ে দাও।”
জেবা উপায় না পেয়ে সাদা শাড়িটাই নিয়ে নিলো। সায়রার থেকে ব্লাউজ চেয়ে নিয়ে আকবরের স্ত্রীর থেকে পরে নিলো। সাইফ নিচে তখন বারান্দায় বসে বসে ফোন চাপছে। তুযা কবিতা কে নিয়ে যাচ্ছে জাবেদের দোকানে। জেবা শাড়ি পরে ঢং করতে করতে এসে বলল
“ সাইইইফ। দেখো তো আমাকে কেমন লাগছে”
সাইফ তাকালো না। জেবা আচল ঘুরাতে ঘুরাতে সাইফের কাছে গিয়ে দাড়ালো
“ দেখো না কেমন লাগছে আমায়”
“ ঠিক আমাদের গোয়াল এর সাদা গরু টার মতো”
তুযার কথায় পিছনে তাকালো জেবা।সাথে সাইফ ও তাকালো। কবিতার হাত ধরে নিয়ে এদিকেই আসছে। তুযার কথায় কবুতা খিলখিল করে হেসে দিলো। জেবা ঝারি বলল
“ আপনাকে বলেছি আমি?”
তুযা এগিয়ে এসে জেবার চুল মুঠো করে ধরলো পিছন থেকে
“ আমার সাথে চাপা কম লাড়বি গাছু্ন্নি। চ্যাকমুইখা চাপা ডা এক্কেরে ছিড়া দিমু।”
সাইফ উল্টো দিক ফিরে হাসতে লাগলো।
কবিতা চিকন কন্ঠে বলল
“ আব্বা ছাইড়া দেও উনারে। চলো, আমারে দোকানে নিয়া চলো। মজা কিনা দিবা”
তুযা জেবার চুলের মুঠি ছেড়ে দিয়ে সাইফ কে বলল
“ আয় চল। জাবেদের দোকান থেইকা হাইটা আসি”
“ হ্যা চলো”
জেবা রাগে, অপমানে ভিতরে চলে গেলো। এই অদিতির জন্য এসব হচ্ছে ওকে একটা বড় শিক্ষা দেওয়া লাগবে। জেবা রাগে গজগজ করতে করতে অদিতির ঘরে গেলো। অদিতি গোসল করছে। নীল শাড়িটা খাটের ওপর রাখা। এটা পরবে বোধহয় বেরিয়ে। জেবার মাথায় শয়তানি বুদ্ধি আসলো। একটা কাচি নিয়ে সব গুলো শাড়ি কুটি কুটি করে কেটে রাখলো। সাইফ ও বাইরে গেছে। দেখা যাবে বেরিয়ে পড়ে কি?
এই অবস্থায় তো নিচে গিয়ে কাউকে বলতেও পারবে না।
চলবে?
কেমন হইছে বলিও পাখিরা 🫶🥰
Share On:
TAGS: খাঁচায় বন্দী ফুল, জান্নাতুল ফেরদৌস
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৪
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৫
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১২
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৯
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২১
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৪
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১১
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২২
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৩
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২০