কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ ⚠️
খাঁচায়বন্দীফুল
jannatul_ferdous_জান্নাতুল_ফেরদৌস
পর্ব – ২০
বাড়ির ভিড় সমাগম ঠেলে তুযা আর মানিক ভিতরে যাচ্ছে। সদর দরজার সামনে গুটিশুটি মেরে দাড়িয়ে আছে কবিতা। তুযা কে আসতে দেখেই এক দৌড়ে এসে জাপটে ধরলো দুযার হাটু দ্বয়। মানিক কবিতাকে টান দিয়ে নিজের কাছে নিলো তুযা তখন দৌড় দিয়ে ঢুকলো ভিতরে।
ভিতরে কতগুলো মানুষ গোল হয়ে বসে আছে। লতিফা বেগম আহাজারি করে কাদছেন। ওয়াহাব চৌধুরী কে খাটে শুইয়ে মাথায় পানি ঢালা হচ্ছে। কিন্তু চারিপাশের গোলযোগ এ মেহেরজান কে দেখতে পাচ্ছে না তুযা। সামনে থাকা মহিলা গুলো কে ঠেলে ভিতরে যেতেই তুযার পায়ের তলার মাটি সরে গেলো।
মার্বেল টাইলসের কারুকাজ খচিত ফ্লোরে টান টান করে শোয়ানো মেহেরজান এর লাশ। বুক ওবদি সাদা কাপড়ে ঢাকা। তুযা সামনে বসা সকলকে মাড়িয়ে এক ছুটে গিয়ে পড়লো মেহেরজান এর পাশে। আচমকা এমন দৃশ্য দেখে হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে পরেছে তুযা। মেহেরজানের কুচকে যাওয়া গাল টা দু- হাতে আগলে ধরে ডাকলো
“ দাদি! ওই দাদি। এখানে শুইছো কেন? তোমার না কোমড়ে ব্যাথা। ওঠো ওঠো নাআআআ।”
চিৎকার করে কেদে ফেললো তুযা। বাইরের সব মানুষ ভিতরে আসতে লাগলো তুযার গগণ কাপানো কান্না শুনে। পুরুষালী গলায় যতদূর শক্তি আছে দিয়ে কাদছে তুযা। প্রধান বাড়ির ছোট সাহেব কে কেউ কোনো দিন এই রুপে দেখেনি।
“ ওই দাদি। দাদি ওঠো কইলাম। আমি কিন্তু এইবার বাড়ি ছাড়লে আর আমু না। দাদিইইই। ওই মেহের। মেহের ওঠঠঠ।”
মানিক আর ফারুক দুজন তুযার দুই বাহু ধরে টেনেও ওকে মেহেরজানের লাশের কাছ থেকে এ চুল নড়াতে পারছে না। মেহেরজানের মাথা নিজের কোলে তুলে নিলো তুযা।
“ ওই রহমান এর মা ওঠ। ওঠ না। আমি আর তোর পানের খিলি চুরি কইরা খামু না। তবুও তুই ওঠ। আমি কানে ধরছি দেখ। দেখ না। ওই মানিক। মানিক ও চোখ খুলে না ক্যান? ও দেখে না ক্যান?”
মানিক কাদতে কাদতে বলল
“ দাদি আর চোখ খুলবো না ছোট সাহেব। আমাগো আর লাঠি দিয়া তাড়া করবো না।”
তুযা মেহেরজান এর মাথা নিজের বুকের সাথে চেপে ধরে গগনবিদারী আর্তনাদ করতে লাগলো। কয়েকজন মুরব্বি এও বলল
“ মহিলা মানুষ মরলে, পুরুষ মানুষ ধরতে নাই। পেটের পুত হইলেও না। ছাইড়া দাও হেরে”
আজ কারো কথা তুযার কানে যাচ্ছে না। ও সমানে আহাজারি করছে
“ ও মেহের ওঠ। আমার লাইগা ভাত নিয়া কিডা বইসা থাকবো হারা রাইত। তোর গালি না খাইলে আমার পেটের ভাত হযম হয় না তুই জানস না? ওঠ না। আমি আর রাইত কইরা বাড়ি ফিরমু না দাদি। ও দাদি, তোমার তুযা আর অকাম করবো না। আর খারাপ জায়গায় যাইবো না, তুমি ওঠো”
তুযা সমানে বিলাপ করে কেদেই চলেছে।
“তুমি আগেই যাও কেমনে দাদি, তুমি না ছুডো নাতির বউ দেখবা। হ্যা? তুমি না দেইখাই চইলা যাইতেছো? আমার খেয়াল কে রাখবো দাদি? কে আমারে ঝাড়ু দিয়া দৌড়ানি দিবো? আম্মায় ঘর না খুল্লে কে আমারে ঘরে ঢুকাইবো। ওঠো না দাদি। আমি যারেই ভালোবাসি সেই কেন আমারে ছাইড়া যায়। ও দাদি তুমি যাইয়ো না”
মেহেরজান তবুও চোখ খুলে না। আর খুলবেন না তিনি চোখ। সন্ধ্যার আযান পড়লে এক কাপ চা খাওয়ার অভ্যাস ছিলো তার। কিন্তু সন্ধ্যা পেরিয়ে যাবার পরও বের হয়নি ঘর থেকে। লতিফা নেগম ডাকতে গিয়ে দেখেন শ্বাস চলে না। হুরোস্থুল পড়ে যায় বাইরে।
মানিক আর ফারুক নিজেদের সর্বশক্তি দিয়েও পারছে না তুযা কে সরাতে। তুযা ছাড়ছে না মেহেরজানের লাশ। কিন্ত হঠাৎ ই তুযার শক্তি দমে এলো। দমে এলো তার বাহুর জোর। ক্রন্দনরত চোখ দুটিও বুজে এলো। হাতের মুষ্টি আলগা হলো। গ্রামের এক মহিলা মেহেরজানের মাথাটা আবার ঠিক করে দিলো। তুযা হেলে পড়লো ফ্লোরে। মানিক আর ফারুক পালাক্রমে ডেকে যাচ্ছে। কোনো সাড়া শব্দ নেই তুযার।
ছোট্ট কবিতা ভয়ে কেঁদেই চলেছে। গ্রামের লোকজন আরো বাড়তে থাকে ধীরে ধীরে। আকবর ইতিমধ্যে ফোন করে দিয়েছে হাসান চৌধুরীর বাড়িতে। তারা রওনা হয়ে গেছে। ঢাকা চৌধুরী বাড়ির প্রত্যেক সদস্য আসছে গ্রামে। সাথে জেবা ও। হাসান চৌধুরীর শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। হাবিব চৌধুরীও শোকে কাতর।
আঞ্জুমান কেদেই চলেছে সমানে। নদী-দীঘি কান্নাকাটি করছে খুব। সায়রা ভীষণ শক্ত মানুষ। সবাই কাতর হলে তাহলে এদের সামলাবে কে। সায়রা আর অদিতিই ঠিক আছে। মেহেরজানের মৃত্যুর কথা শোনার পর থেকে অদিতির ভিতর সুচের মতো ফুটছে বারবার। কানে ভেসে আসছে সেই মায়ামাখা স্বর
“ আহারে, এমন চান্দের লাহান মাইয়া ডারে জানোয়ার কোন অন্ধকার রুমে ঢুকাই রাখছে।”
অদিতি কে তুযা যে ক’দিন আটকে রেখেছিলো। কিচ্ছু খেতে দেয় নি। দুইদিন পার হওয়ার পর ক্ষুধা আর তৃষ্ণায় অদিতির প্রাণ যায় যায়। মেহেরজানের করুণায় দুমুঠো ভাত আর এক ঘটি পানি জুটেছিলো অদিতির। সেই কৃতজ্ঞতা কোনোদিনও ভুলবেনা সে। আজ সেই মানুষটারই লাশ দেখতে যাচ্ছে। সাইফ এর স্পর্শে অদিতির ভাবনার ছেদ ঘটে। সাইফ অদিতির কাধে হাত রাখতেই একটু চমকায় অদিতি। সাইফ বাহুতে হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করে
“ ঠিক আছো?”
অদিতি ছোট করে বলে
“হুমম”
আজ আবার তুযার মুখোমুখি হতে হবে। আজও কি সেই মানুষটার ভাব মূর্তির এতটুকু পরিবর্তন হয়েছে? ভেবে পায় না অদিতি। প্রধান বাড়িতে পৌছাতে আরো ঘন্টা দুই সময় লাগবে। আঞ্জুমান খুব কাতর হয়ে পড়েছে। সেই কোন ছোট বেলায় বউ হয়ে এসেছিলো। মেহেরজান হাতে ধরে সব শিখিয়েছেন। সেই মেহেরজান আজ গত হলো। নদীও কাদছে খুব। নদীর শান্ত স্বভাবের জন্য দাদির কাছে ভীষণ প্রিয় পাত্রী ছিলো। দীঘি যদিও দাদিকে এতটা পায় নি। জেবা সামনের গাড়িতে।
—–
পৌঁছাতে ভোর হয়েছিল চৌধুরী পরিবারের। গোটা একটা রাত পার হয়েছে তবুও বাড়িতে মানুষের কোন কমতি নেই। গ্রাম প্রধানের মা বলে কথা। রাত ১ টার পর চৌধুরী পরিবার এসে প্রধান বাড়িতে উপস্থিত হলো। তারা বাড়িতে প্রবেশ করতে চারদিকে শোরগোল যেনো আরো বেড়ে গেল। এলাকাবাসীর চাপা গুঞ্জন।
আঞ্জুমান ও সায়রাকে দেখে আরো কান্নায় ফেটে পড়লে লতিফা বেগম। তার মায়া সবচেয়ে বেশি, তিনি থাকতে শাশুড়ির সাথে। সায়রা ও আঞ্জুমানও বড় জা কে শাশুড়ির পরের গুরুজন বলে মানে। দুই জা কে বুকে নিয়ে লতিফা আহাজারি করে কান্না করতে লাগলো। এদের মধ্যে কেউ কেউ আবার অদিতি কেউ চিনতে পারলো। অদিতি চারিদিকে চোখ বোলাচ্ছে। এই বাড়িতে পা দিতেই গা শিউরে উঠে তার। খুব মর্মান্তিকভাবে বেরিয়ে গেছিল এই বাড়ি থেকে। নিয়তি তাকে আবার টেনে এনেছে এই বাড়িতে।
এখন অবশ্য যোগ্য সম্মানের সাথে এসেছে এবং তার ঢাল হয়ে বিপদ রক্ষক সাইফ ও এসেছে সাথে। এতোটুকুই অদিতির ভরসা। অন্দরমহলে প্রবেশ করতেই সাইফের হাতটা আরো জোরে চেপে ধরল। নদী দাদির লাশের পাশে বসে কাঁদছে। সাইফ গেল ওয়াহাব চৌধুরীর কাছে। অদিতি নদী এবং দিদিকে সামলাতে ব্যস্ত। তার মধ্যেও অদিতির ভয়ার্ত চোখ চারিদিকে খুঁজছে তুযাকে। অবশেষে খুজে পেল মূল ফটকের পাশে খাটের চৌকির ওপর। শুইয়ে মাথায় পানি ঢালা হচ্ছে সচেতন অবস্থায়। কয়েকজন বলছে এই ঠান্ডার মধ্যে আর পানি দিও না। মানিক গামছা নিয়ে এসে তুযার মাথা মুছিয়ে দিতে ব্যস্ত। ছোট্ট কবিতা মেহেরজানের লাশের পাশে বসে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাদছে। কে জানে কি বুঝে কাদছে মেয়েটা।
গভীর রাত আস্তে আস্তে ভোর হতে শুরু করল। ফজরের আযান পড়লো মসজিদে। তুযা এখনো অচেতন অবস্থায় পড়ে, আছে হুঁশ ফেরেনি। চৌধুরীদের পারিবারিক কবরস্থানে কবর খোঁড়া আরম্ভ করে দিয়েছে গ্রামের কিছু লোকজন। নামাজের সময় পার হওয়ার পরপরই ইমাম সাহেব চলে এলো জানাজা পড়াতে। এখন পালা মেহেরজানকে গোসল করতে নেওয়ার।
তিনজন মহিলা হাফিজাকে খবর দিয়ে আনা হয়েছে মেহজানের গোসল দেওয়ার জন্য। তারার রীতিমতো নিয়ম অনুসারে মেহেরজানকে গোসল করালো। কাফনে মোরাবার সময় আরেকবার আপনজনদের ডাকা হল শেষবারের মতো মুখ দর্শন করতে। তুযা তখনো অচৈতন্য। মানিক তুযার পাশে বসে আর্তনাদ করে কাঁদে
“ভাই ওঠেন না। দাদীরে শেষবারের মতো দেহনের সুযোগটাও কিন্তু যাইতেছে। ওরা দাদিরে নিয়ে যাবো একটু পর। ও ভাই শুনছেন? ভাই ওঠেন না।?”
তো যা চোখ টিপটিপ করে উঠে বসলো। এখনো সম্পূর্ণ চোখ মেলে তাকাতে পারছে। না শরীর ঢুলছে তার। পা দুটো শরীরের ভর নিতে পারছে না। ধরতে ঠেলতে এসে দাদির খাটিয়ার পাশে ধাপ করে বসে পড়লো। কয়েকজন গিয়ে জোরে জাপটে ধরলো যাতে এখন আর স্পর্শ করতে না পারে। কবরস্থানে নেওয়ার সময় হয়েছে। শেষ আলগা কৃত মুখটুকু কাফনে মুড়ে দেওয়া হলো।
খাটিয়া তুললো সাইফ, হাবিব চৌধুরী, মানিক এবং আকবর। তুযা নিজের পায়ে ভর করে দাঁড়াতে পারছে না। থমথমে মুখটা হঠাৎ চিৎকার করে উঠলো
“ এই তোরা দাদিরে কই নিয়ে যাস?”
সামনের দিকে ছুটে যেতে চাইলে কয়েকজন কর্মচারী এসে টেনে ধরল। যা আপ্রাণ চেষ্টা করছে ওদের থেকে ছুটে গিয়ে লাশ বহনকারী চারজনকে থামাতে। অদিতি অবাক চেয়ে আছে তুযার এমন রূপ দেখে। চৌধুরীদের কবরস্থান টা তাদের বাড়ি থেকে অল্প একটু দূরেই। সেখানে নিয়ে জানাযা পড়ে লাশ দাফন করা হলো মেহেরজানের।
গ্রামের কয়েকজন মহিলারা মিলে প্রধান বাড়ির পাশেই রান্না করলো। গোটা বাড়ি শুদ্ধ লোক কাল থেকে না খেয়ে, আছে তাদের মুখে তো দুটো দিতে হবে। নদী আর দিঘি শুকনো মুখে ওঠোনের দড়ির মাচাটায় বসে আছে। গ্রামের কয়েকজন মহিলারা শত চেষ্টা করেও তাদের মুখে কিছু দিতে পারিনি।
ওহাব চৌধুরীর জ্ঞান ফিরেছে। কিন্তু কোনো কথা বলছে না। চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে। দুই ভাই ও তার পাশে। সায়রা জোর করে দুই জা কে অল্প অল্প একটু খাওয়ালেও নিজে কিছু মুখে দেয়নি এখনো। তুযা কে উপরের ঘরে স্যালাইন লাগানো হয়েছে। অদিতি বড় চাচি শাশুড়ির হাতে পায়ে তেল মালিশ করছে। আঞ্জুমান অদিতি কে বলল
“ দেখ তো বাবু ভিতরে ব্যাগের মধ্যে মুভ আছে। নিয়ে আয় তো একটু। তোর বড় মা’র মাথায় লাগিয়ে দিই একটু। মাথা ধরা টা কমবে”
অদিতি শাশুরের কথা মতো ঘরে গেল মুভ আনতে। আঞ্জুমানের ব্যাগের পাশেই নদীর ব্যাগটা রাখা। আঞ্জুমানের ব্যাগ থেকে মুখ খুঁজতে গিয়ে অদিতি দেখলো নদীর ফোনে সমানে কল বেজে যাচ্ছে। অদিতি নদীকে ফোনটা নিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যাগ থেকে বের করল। ৩৭ টা মিসড কল । অদিতি একটু অবাক হলো কারো নাম্বার থেকে এতগুলো মিসড কল। হয়তো কারো কোনো বিপদ হয়েছে। সাধারণভাবে তো কেউ এত কল দেয় না। এত মানুষ জনের মধ্যে নদীকে খুঁজবেই বা কতক্ষণ। এর মধ্যেই হাতের ফোনটা আবার বেজে উঠলো। অদিতি এবার কোন কিছু না ভেবে ফোনটা রিসিভ করল। ওপাশ থেকে তুমুলের গলা শোনা যায়
“ কি হলো বউ? সেই রাত থেকে ফোন করছি তোমায়। স্বামীর কথা কি ভুলে গেছো?”
অদিতির চোখ তখন কপালে ওঠার উপক্রম। কন্ঠটা সে বেশ ভালো করে চিনতে পেরেছে। তাছাড়া নাম্বারও সেভ করা T+N দিয়ে। বউ? তুমুল বউ বলছে নদী কে? এ পাশ থেকে কোন রেসপন্স না পেয়ে তুমুল আবার বলল
“ কি হলো পাখি? কথা বলছো না কেন? আর তোমার চারপাশে এত মানুষ জনের শব্দ কেন?”
তুমুল কোন রেসপন্স না পেয়ে কয়েকবার হ্যালো হ্যালো বলল। অদিতি কোন জবাব দিল না। মোবাইলটা আবার আগের মতই ব্যাগে রেখে মুভ নিয়ে চলে গেল আঞ্জুমানের কাছে। আঞ্জুমানকে মুভ টা দিয়ে অদিতি নদীকে খোঁজা শুরু করল। অবশেষে নদীকে গিয়ে পেল তুযার খাটের পাশে। অদিতি ভিতরে গেল না। দরজার সামনে থেকে বলল
“নদী আপু, আপনার ফোন বাজছে অনেকক্ষণ হলো”
নদীর তখনই স্মরণ হলো আবার তুমুল কল করেনি তো? কেউ ফোনটা রিসিভ করে তার আগে দৌড়ে গেল ঘরে। যে কথা সেই কাজ। তুমুল ই কল করেছিল। নদী কল ব্যাক করে বলল
“ হ্যালো”
তোমার বিরক্ত গলায় বলল
“ এই ফোন রিসিভ করে কথা বলোনা কেন?”
“ আমি আবার কখন ফোন রিসিভ করলাম?”
“ এইতো 5 মিনিট আগে। কল দিলাম রিসিভ করলে। কথা বললে না। আমি ডাকলাম। হ্যালো হ্যালো বললাম।”
নদীর আত্মার পানি শুকিয়ে যায় যেন। কোনভাবে কি অদিতি ফোনটা রিসিভ করেছিল? দাঁতে দাঁত পিষের তুমুল কে বলল
“ কি করেছেন এটা আপনি? আগে শিওর হয়ে নেবেন তো এটা আমি না অন্য কেউ”
“ কেন কোনো সমস্যা? শালিকা ধরেছিলো নাকি ফোন?”
নদীর পিছনে ঘুরতেই দেখতে পায় অদিতি তারই দিকে তাকিয়ে আছে। নদী ফোনটা কেটে বিছানায় ছুড়ে দিয়ে বলে
“ তু…তুমি আমার ফো…ফো..ফোন রিসিভ করেছিলে?”
অদিতি গম্ভীর গলায় বলল
“ যেহেতু এ বাড়িতে শোক। তাই এ বিষয়ে আমি তোমার সাথে এখন কথা বললাম না। তবে আমি অবশ্যই বলব”
অদিতি ঠান্ডা হুঁশিয়ারি তে ভয়ে প্রাণ শুকিয়ে গেল নদীর।
জেবা সারা বাড়ি সাইফ কে খুঁজছে। কিন্তু কোথাও পাচ্ছেনা। অদিতি উপর থেকে নিচে নামার সময় সিঁড়িতে মুখোমুখি হয় লতার। অদিতির বান্ধবী। লতা অবাক হয়ে বলে
“ অদিতি তুই?”
“ লতা তুই?”
কোলাকুলি করল দুই বান্ধবী। লতা বিষ্ময় এর সাথে অদিতিকে বলে
“ তুই এখানে কি করিস?”
অদিতি বলল
“ এবারের ছোট ছেলের সাইফ এর সাথে বিয়ে হয়েছে আমার”
“ আচ্ছা সাইফ বাবু তোর স্বামী? কিন্তু ওনাকে তো দেখলাম একটা জিন্স প্যান্ট পরা মেয়ে টেনে টেনে কোথাও একটা নিয়ে যাচ্ছে”
চলবে?
রাতে ধামাকা আসছে 👀
অবশ্যই পড়বেন এবং মতামত ও জানাবেন🫶
Share On:
TAGS: খাঁচায় বন্দী ফুল, জান্নাতুল ফেরদৌস
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৮
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৯
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১১
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১০
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৩
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৪
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১২
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৭
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৬
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৮