কীভয়ংকরমায়া_তোর
পার্ট_০৮
লেখিকাআরিফাতাসনিম_তামু
[কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ❌]
চার শয়তান বুদ্ধি খাটাচ্ছে কীভাবে বের হবে। হঠাৎ রোদের চোখ যায় দেয়ালের সাথে একটা চিকন গাছ আছে এটা ধরে দেয়াল টপকে যেতে পারবে।
—পেয়ে গেছি রাস্তা আয় আমার সাথে
রোদের কথায় সবার মুখ খুশিতে ঝকঝক করে উঠলো দেরি না করে সব গুলা একে একে ছুটলো রোদের পিছে।
★
এই দিকে আদ্র এক সেকেন্ডও দেরি না করে বাইরে ছুটলো এই মেয়ের পরিচয় তাকে জানতে হবে বেশি দূর যেতে পারিনি ওরা এটা সিউর
★
একে একে দেয়াল টপকে নামছে এখন যেহেতু দুপুর তাই রাস্তা ঘাটে তেমন মানুষ নেই আর ক্লাস টাইম থাকায় কোনো ছাএ ছাএী বা টিচারও বাইরে নেই তাই তো এই চার বিচ্চুর পাগলা কারবার কেউ দেখতে পারছে না।সবাই এপাশে চলে এসেছে এবার রোদের পালা দেয়ালের উপর দাড়িয়ে যেই না এপাশে লাপ দিতে যাবে।
এমন সময় আদ্র গেট দিয়ে বের হয়ে বাম পাশে তাকাতেই তার চক্ষু কপালে উঠে গেলো। সে দ্রুত পায়ে এগিয়ে যেতে লাগলো।সে যাওয়ার আগেই রোদ লাফ দিয়ে নেমে গেলো যেই না চারজন দৌড় দিতে লাগবে ওমনি পিছন থেকে কারো গম্ভীর কন্ঠে শুনে পা থেমে যায় সবার
—তোমরা এখন পড়ালেখা বাদ দিয়ে এসব করছো তাহলে ভবিষ্যতে কী করবে?
সবাই পিছন ফিরতেই আদ্রকে দেখে শুকনো ডোগ গিলে,তবে রোদের মুখ থেমে নেই সে বিরবির করে বলে উঠলো
— ভবিষ্যতে যেহেতু বিয়েই করবো প্যারা নেই চিল
আকাশের রঙ নীল বিয়ের পর মার্কেট করমু আমি জামাই দিবে বিল”বিল যদি না দেয় জামাই খাবে কিল
এতোটাই বিরবির করে কথাটা বলেছে যে উপস্থিত সবাই শুনতে পেয়েছে।আদ্র তো ভ্রু কুঁচকে কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে হঠাৎ কাশতে শুরু করলো।কাশির শব্দে রোদ আদ্রের দিকে তাকালো যে এখন তার দিকে চেয়ে কাশতে কাশতে মরে যাচ্ছে।রোদ বাকিদের দিকে তাকালো যারা এখন খেয়ে ফেলার দৃষ্টিতে তার দিকে চেয়ে আছে।রোদের আর বুঝতে বাকি নেই তার কথা সবাই শুনেছে এমন কী আদ্রও
আদ্র কোনোরকমে কাশি থামিয়ে রোদের দিকে চেয়ে বলল
—তুমি এক্ষুনি অফিস রুমে আসো ফাস্ট
এই বলে সে গড়গড় করে হেঁটে চলে গেলো আর পিছনে ফেলে গেলো চারটা ভিতু মুখ
—রোদ রে স্যার তোকে কেন অফিসে যেতে বলেছে নাকি বাড়িতে কল দিবে কল দিলে আম্মু আমার পিঠটা রাখবে না আলুর ভর্তা করে ফেলবে
সাইফার কথায় রোদ বিরক্তি কন্ঠে বলল
—তোকে একা খালি আলু ভর্তা করবে?আমাকে কি ফুল ভেবে সাজিয়ে রাখবে ফাজিল মেয়ে আমার হিটলার মায়ের খুন্তির বাড়ি গুলা কী তুই খাবি?
রোদের কথায় সাইফা চুপসে যায়
—তোদের তো তাও বাড়িতে রাখবে আমাকে আর তিহানকে নিশ্চয়ই বাড়ি থেকে বেরই করে দিবে
তিহার কথা সাইফা ফুসে উঠলো
—তোর অকর্মার ডেকি ভাইটাকে বাড়িতে রেখে কী করবে শুধু শুধু চাল নষ্ট হবে এর জন্য এই বিপদে পড়লাম নাতো ও এই বুদ্ধি দিতো না তো আমরা ক্লাস থেকে বের হতাম
এতক্ষণ চুপচাপ থাকা তিহান সাইফার কথায় ওর মাথায় গাট্টা দিয়ে বলল
—এই শাঁকচুন্নি তোকে আমি একবারও আসতে বলেছি নাচতে নাচতে বিনা দাওয়াতে আমাদের পিছে পিছে এসেছিস কেন?আবার ন্যাকা ডং দেখাস
তিহা রোদকে ইশারা দিয়ে বুঝালো এই দুটাকে থামাতে না হলে দেখা যাবে এখানে ছোটো খাটো যুদ্ধ হয়ে যাবে
—চুপ থাক একটা আর একবার কথা বলবি খবর আছে বকবক না করে উপায় বের কর কীভাবে এই বিপদ থেকে বাঁচা যায়
রোদের কথায় তিহান মেয়েদের মতো করে সাইফাকে ভেংচি কাটলো তা দেখে সাইফাও একি কাজ করলো
বেশ কিছুক্ষন ভাবা ভাবির পর রোদ’আইডিয়া”বলে চেঁচিয়ে উঠলো।সবাই ওর দিকে তাকালো।তিহা বলল
—কী তাড়াতাড়ি বল?
রোদ ভাব নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বলল
—চুপচাপ দেখতে থাক কীভাবে সব এক চুটকিতে ঠিক করে দি। তোরা এখানে থাক আমি আসছি।
কেউ আর কিছু বলতে পারলো না রোদ চলে গেলো
অনেকক্ষণ ধরে আদ্র রোদের জন্য অপেক্ষা করছে অথচ এই মেয়ের আসার নাম গন্ধও নেই। এই দিকে আদ্রের যেন ধৈর্যই কুলচ্ছে না। এতোটা অধৈর্য সে কবে হল?এই প্রশ্নটা মনে গুরুপাক খেতেই আদ্র বিরবির করে বলল
—প্রসঙ্গ যদি হয় আমার বার্বিডলকে নিয়ে তাহলে বরাবরই আমি ধৈর্যহীন ব্যাক্তি
আদ্রের বিরবিরানির মধ্যেই রোদের কন্ঠে ভেসে এলো
—মে আই কাম ইন স্যার?
আদ্র শান্ত হয়ে বসে বলল
—ইয়েস কাম ইন
অনুমতি পেয়ে রোদে আস্তে আস্তে ভিতরে ডুকলো আদ্র ছাড়া কেউ নেই এখানে আর রোদ গিয়ে আদ্রের সামনে দাড়ালো আদ্র তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে রোদের উপর নিচ পরক্ষ করছে।আদ্রের এমন চাহনিতে রোদ অস্ত্বিত্বে পড়ে গেলো।আমতা আমতা করে বলল
—স্যার আপনি আমাকে ডেকে ছিলেন
আদ্রের দৃষ্টিতে এক চুলও নড়চড় হয় নাই সেভাবেই বলল
—হুম তোমার নাম কী?
—রোদ
রোদ নামটা কেমন জানি শুনালো আদ্রের কাছে নামটা শুনা মাএই ওর দৃষ্টি স্থির হলো রোদের চোখে দিক
—পুরা নাম কী এর আগে পিছে কী আর নাম নেই?
—জ্বি স্যার আছে পুরা নাম অনিয়া খান রোদেলা সবাই ছোট করে রোদ ডাকে
রোদের কথাটা যেন আদ্রের বিশ্বাস হয় নাই সে আবার বলল
—সত্যি এই নাম?
—জ্বি স্যার আপনার সাথে মিথ্যা কেন বলতে জাবো?আপনার বিশ্বাস না হলে আমার ভর্তির সব কাগজপএ দেখুন
আদ্র কিছু বলল না কারণ সে আরো আগেই সব চেক করেছে সবখানে অনিয়া খান রোদেলাই ছিলো তবে সে মনে করেছে অন্য কারো এগুলো।এরি মধ্যে রোদ আশপাশে চেয়ে ঝুঁকে ফিসফিস করে বলল
—স্যার আমরা যে কলেজ ফাকি দিতে চেয়ে ছিলাম এটা কাউকে বলবেন না প্লিজ প্রয়োজনে আমি আপনাকে ৫০০ টাকা ঘুস দিবো ওই টাকা দিয়ে কিছু খেয়ে মুখটা বন্ধ রাইখেন
রোদ এতো কাছে আসায় আদ্রের কেমন যেন একটা ফিল হচ্ছে যেমনটা তার ছোট ফুলের কাছে গেলে হতো।তবে রোদের কথায় আদ্র ভ্রু কুঁচকে আসে
—চোরের মায়ের বড় গলা এই কথাটা তোমার সাথে বেশ মানিয়েছে।চুরি করতে গিয়ে ধরা খেয়ে ঘুস দিয়ে মুখ বন্ধ করতে চাচ্ছো?আমাকে কী তোমার ঘুসখোর মনে হয়?নাকি ফকির মনে হয়?
আদ্রের কথায় রোদ থতমত খেয়ে যায় আসলেই ওর কী মাথা গেছে কাকে কী বলছে ও?এটা কী দারোয়ান চাচা নাকি ঘুস দিলেই কাজ হয়ে জাবে। নিজেকে সামলে আমতা আমতা করে বলল
—ইয়ে মানে স্যার তা কেন হবে আসলে ভয় হচ্ছিলো আপনি যদি কাউকে বলে দেন তাহলে বাড়িতে জানতে পারলে ভাইয়া আর আম্মু বকা দিবে
—এতোই যখন ভয় পাও তাহলে কলেজ ফাকি দিতে চেয়েছিলে কেন?
—কী বলেন যে স্যার আপনি আমাদের চারপাশে সারাক্ষণ শয়তান ঘুরে এটা তো আপনি জানেন স্যার সত্যি বলছি এই কাজ বিবেক দিয়ে করিনি আবেগে পড়ে করেছি আর সব দোষ শয়তানের সে আমাকে ভুলিয়ে বালিয়ে আবেগে ফেলেছে তাই তখন আমার আবেগ কাজ করে ছিলো বিবেকে কাজ করেনি বিবেকে কাজ করলে এমন কাজ কী আমার মত কিউট একটা মেয়ে করতে পারে?
আদ্র অবাকের চরম পর্যায় পৌঁছে গেলো কি সাংঘাতিক মেয়ে রে বাবা দোষ করেছে তো করেছে আবার তাকে এতো ইমোশনাল কথা শুনাচ্ছে?আর যাই হোক এই বাঁচাল মেয়ে ওর বার্বিডল হতেই পারে না তার বার্বিডল কত শান্ত ভদ্র অন্তত এই মেয়ে মতন বকবক করবে না
—আচ্ছা বলবো না তবে নেক্সট টাইম যদি সব কিছু দেখেছি বা শুনেছি তাহলে আমি নিজ দায়িত্বে তোমাদের বাসায় কল করে জানাবো এবার তুমি আসতে পারো
রোদ খুশিতে গদগদ হয়ে বলল
—ধন্যবাদ স্যার আর এমন হবে না আজ আসি আসসালামু আলাইকুম
এই বলে হাঁটা দিলো যেই না বের হতে যাবে তখনি আদ্রে ডাকে থেমে যায়
—দাঁড়াও
রোদ পিছনে ফিরে তাকাতেই আদ্র একটু সঙ্কোচ নিয়ে বলল
—তুমি কী সব সময় মাক্স পড়ে থাকো?
—জ্বি স্যার
—আচ্ছা আসতে পারো এবার তুমি।রোদ চলে গেলো
রোদ বের হয়ে আসতেই কেউ একজন ওর উপর হুমড়ি খেয়ে পড়লো।রোদ সহ দুজনই মাঠের ঘাসের উপর পড়লো
—কোন আবালের বাচ্চারে চোখে দেখোছ না আহ মাগো কোমর টা আমার গেলো ভেঙ্গে
রোদের কথায় শ্রেয়া চেঁচিয়ে বলল
—সারপ্রাইজ
পরিচিত কন্ঠ কানে আসতেই তড়াক করে চোখ খুলল রোদ শ্রেয়া ওর মুখের উপর ঝুঁকে আছে হাসি মুখে।আচ্ছা সে কী স্বপ্ন দেখছে?শ্রেয়া এখানে কীভাবে আসবে ওর বাড়ি তো চট্টগ্রাম ২বছর আগে অনলাইনে ওদের পরিচয় হয় সেই থেকে বন্ধুত্ব দুজন একি ক্লাসে তবে সামনাসামনি দেখা হয়নি কখনো। রোদের ভাবনার মাঝেই শ্রেশা রোদকে টেনে তুলল। আহাম্মক রোদ বলে উঠলো
—আমি কি স্বপ্ন দেখছি?স্বপ্নে তুই আমাকে কীভাবে টেনে তুলেছিস?
রোদের কথায় শ্রেয়া মুচকি হেঁসে রোদের হাতে চিমটি দিলো
—আহ এতো জোরা কেউ চিমটি দেয়?
—এবার বল স্বপ্ন না বাস্তব হুম?
—তুই সত্যি এখানে কিন্তু কীভাবে?
—আব্বু এখানে বিজনেস খুলেছে তাই সহ পরিবার এখন এখানে থাকবো আমি এখানেই ভর্তি হয়েছি তোকে না বলে সারপ্রাইজ দিলাম কেমন লাগলো
রোদ খুশি হয়ে জড়িয়ে ধরলো
—আমি সত্যি সারপ্রাইজ হয়েছি রে সেই সাথে অনেক খুশি
আর এই দিকে তিহা,সাইফা,তিহান এতক্ষণ হা করে এ-সব দেখছিলো তবে এবার শ্রেয়াকে ওরা চিনলো রোদ সব সময় ওর কথা বলে।
[এই শ্রেয়া টা আমার পাঠিকা প্লাস অনলাইন ফ্রেন্ড কম আমার বোন বেশি ওর সাথে অনলাইনেই পরিচয় ওর আবদার গল্পে ওর চরিত্রটা থাকবে তাই দিলাম আর ও কিন্তু হিন্দু তবে ভালোবাসা তো আর জাত ধর্ম দেখে না ]
[আমি আমার কথা রেখেছি আজকেও পার্ট দিয়েছি তাও বড় করে এবার ভালো করে রেসপন্স করো তাহলে কালকেও পাবা]
Share On:
TAGS: আরিফা তাসনিম তামু, কী ভয়ংকর মায়া তোর
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৪
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১২
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১৫
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১০
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১৬
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর গল্পের লিংক
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ২
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৭
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৯
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১৪