Golpo romantic golpo কী ভয়ংকর মায়া তোর

কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৬


কী ভয়ংকর মায়া তোর

পার্ট:০৬

লেখিকা:আরিফা তাসনিম তামু

[কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ❌]

ফাইজ পড়ালেখার কারণে কয়েক মাসে জন্য দেশের বাহিরে গিয়েছে। যেহেতু সে একজন টিচার তার দায়িত্বটা তো কাউকে না কাউকে দিয়ে যেতেই হয় হুট করেই বিদেশ যাওয়ার কথা উঠে। দায়িত্ব টা দাওয়ার মতো মানুষ খুজার সময় ও তার কাছে ছিলো না। তার পর তার আদ্রের কথা মনে পড়ে অনেক রিকুয়েষ্ট করে আদ্রকে রাজি করায় এমনিতেও আদ্রকে ওর বাবার বন্ধু উনাদের ভার্সিটির ইংলিশ লেকচারার হিসেবে জয়িন করতে বলছে বারবার।আদ্রের মতো একজন টিচার উনাদের ভার্সিটিতে থাকলে উনাদের জন্যই ভালো। তবে আদ্র ভেবে জানাবে বলেছে সে চাচ্ছে নিজের বিজনেস চালু করতে পারিবারিক ব্যবসা বাপ-চাচারা দেখবে।

আদ্র ভাইয়ের কথা ফেলতে পারেনি ফাইজ বাইরের দেশে গিয়েছে যে আজকে তিন দিন হতে চলল।আদ্র আজ থেকেই কলেজে ক্লাস নিতে যাবে।

ওয়াশরুমে থেকে শাওয়ার নিয়ে বের হলো আদ্র। তার পর রেডি হতে লাগলো। কালো ব্লেজার আর হোয়াইট শার্ট ইন করে পোরেছে। গলায় চিকন সিলভার রঙ্গে চেইন ওর সব সময় থাকে যেটাতে A লেখা আছে। গলার শার্টের বোতাম দুটা খোলা চেইনটা দেখা যাচ্ছে।হাতে কালো ঘড়ি চুল গুলা সুন্দর মতো সেট করা। ফর্সা শরীরে কালো রংটা মারাত্মক লাগছে।

রেডি হতে হতে আদ্রের চোখ যায় চেইনটার দিকে হাতে নিয়ে মুচকি হেঁসে ওটাতে ঠোঁট ছোঁয়ায়।A অক্ষরটা আদ্র নিজের নাম মনে করে দেয় নাই দিয়েছে আহির নাম মনে করে। আদ্রের একটা কথা মনে পড়ে যায়।

আহির নাম যখন শুনেছে তখন আদ্রের কী যে মেজাজ খারাপ হয়েছে।পুরো বাড়ি চেঁচামেচি করে মাথায় তুলে ফেলছে।কেন তার বার্বিডলের নাম তার সাথে মিলিয়ে রাখেনি?সে কিছুইতেই মানবে না তার বার্বিডলের নাম তার সাথে মিলিয়ে রাখতেই হবে। অতঃপর সবই হার মানে আদ্রের জিদের কাছে আদ্র তার সাথে মিলিয়ে নাম রাখে ফাহিরা নেওয়াজ আহিয়া তবে ছোট করে সবাই আহি ডাকে। অনেক বড় অনুষ্ঠান করে আহির নাম রাখা হয়।


পুরোনো দিনের কথা গুলো মনে করে আদ্রের বুক ভারি
হয়ে আসে।পরক্ষনে ঠোঁটে হাসি টেনে বিরবির করে বলে উঠে

—কি সাঙ্ঘাতিক তুই পিচ্চি। তোর মতো পিচ্চির কাছে শক্তপোক্ত আমিটা বারবার হেরে যাই আর তুই জিতে যাস।এতো এতো মেয়ের ভিতর আমার চোখ একটা পিচ্চির উপর গিয়ে পড়েছে। মানুষ শুনলে হাসবে তবে তাতে আমার কিছু যায় আসে না আমি তো আমার পিচ্চিকে অনেক ভালো বাসি।

এটুকু বলে আদ্র থামে মুখের হাসি বিলিন করে ভেজা গলায় বলল

—তুই নেই ভাবলেই কলিজা কেঁপে উঠে আমার।বুকটা শূন্য শূন্য লাগে কবে এসে এই বুকটার শূন্যতা দূর করে এই আমিটাকে পরিপূর্ণ করবি বার্বিডল?

দীর্ঘশ্বাস ফেলে গাড়ির চাবি সহ মোবাইল নিয়ে রুম থেকে বের হলো

টেবিলে সবাই সকালের নাস্তা করতে বসেছে। এখনো কেউ খাওয়া শুরু করেনি সবাই আদ্রের জন্য অপেক্ষা করছে।তখনি সিঁড়ি বেয়ে আদ্র নেমে আসে।সবাই তাকিয়ে আছে মাশাল্লাহ ও বলেছে মনে মনে আতিয়া নেওয়াজ তো অনেক বার মনে মনে মাশাল্লাহ বলেছে।এদিকে ফিহা হা করে চেয়ে আছে তবে সেটা কারো চোখে না পড়লেও পারুল নেওয়াজ এর চোখের ঠিকি পড়েছে মেয়ের মনের অবস্থা তিনি ঠিকি দরতে পারলেন।

আদ্র সোজা গিয়ে তার ছোট চাচ্চু তাহমিদ নেওয়াজ এর পাশে বসলো তিনি হেঁসে বললেন

—মাশাল্লাহ আমার আদ্রকে পুরো নায়কের মতোই লাগছে

উনার কথা আদ্র হেঁসে বলল

—আমার থেকে তোমাকে বেশি নায়কের মতো লাগে বয়স তো কম হয় নাই এখনো হ্যান্ডসাম আর ইয়াং মেয়েরা এখনো তোমার পিছে লাইন মেরে থাকে। তোমার সাথে বের হলে সবাই আমাকে রেখে তোমাকেই দেখবে।

আদ্রের কথা উনি শব্দ করে হেঁসে দিলেন আদ্র মিথ্যা তো বলেনি সত্যি বয়সের তুলনায় উনার সৌন্দর্যের পরিমান একটুও কমেনি হসপিটালে কত মেয়ে লাইন ধরে থাকে উনাকে দেখার জন্য কিন্তু উনার এসবে কিছু যায় আসে না উনি যুবক বয়সে একজনকে মন দিয়েছে সে একজনকে না পেয়ে এখনো সিঙ্গেল আছে আজও বিয়ে করেনি।


খান বাড়িতে সকাল সকাল প্রতিদিনের মতো চলছে যুদ্ধ এ আর নতুন কী শুধু শুক্রবার ছাড়া বাকি দিন গুলোতে এসবই চলে রোদ এটা যুদ্ধ মনে করে না সে এটাকে নাটক মনে করে নাটকের একটা নামও দিয়েছে”পারবো না আমি ছাড়তে তোকে ঘুম”সেখানে নায়ক বিছানা আর নায়কা রোদ আর ভিলেন রোদের হিটলার মা।

আজ আর উনি চেঁচামেচি করে নিজে শক্তি শেষ করেনি গিয়ে একবারে মুখের উপর পানি ঢেলে দিয়েছে।সাথে সাথেই রোদ হুমড়ি খেয়ে ধড়ফড়িয়ে উঠে গেলো।কিছু বলতে নিবে রাইসা বেগম কে এক হাতে খুন্তি অন্য হাতে পানির প্লাস নিয়ে দাড়িয়ে থাকতে দেখে বুঝতে আর বাকি নাই কাজ টা তার হিটলার মা’ই করেছে।মেকি হেঁসে বলল

—গুড মর্নিং আম্মু

—রাখ তোর গুড মর্নিং তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে খেতে আয় না হলে খুন্তির বাডি একটাও মাটিতে পোরবে না।

রাইসা বেগমের ঝাঁঝালো কণ্ঠে রোদ তাড়াতাড়ি উঠে ওয়াশরুমের দিকে যেতে যেতে চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে গাইতে শুরু করলো

পারবো না আমি ছাড়তে তোকে ঘুম
পারবো না আমি ভুলতে তোকে ঘুম
কিন্তু কিছু যে করার নেই
পিছে যে আমার হিটলার মা দাড়িয়ে আছে
তাও আবার খুন্তি হাতে

(গান শুনে হাসবে না এরকম উগান্ডা মার্কা গান তোমাদের লেখিকা সারাক্ষণ তার আম্মুকে শুনায় কারণ এরকম অত্যাচার তার সাথেও হয় আর পুরুষ্কার হিসেবে তার আম্মুর ধাড়াম মার্কা কিল🙂🙏)

রোদ ওয়াশরুম ডুকতেই রোদ্র রুমে ডুকলো রোদের গান সে শুনেছে।হাসতে হাসতে মায়ের দিকে চেয়ে জিজ্ঞেস করলো

—কী আম্মু গান পছন্দ হয়েছে না হলে বলো আরো একটা গাইতে বলি তোমার মেয়ে কিন্তু সুন্দর গান গাইতে পারে।

—থাক লাগবে না তোর বোন যে পাগল এটা সবাই জানে। খেতে আয় সাথে ওটাকেও নিয়ে আয়।

এ বলে উনি বের হয়ে গেলেন।উনি যেতেই রোদ ওয়াশরুমের দরজা খুলে মাথা বের করে উঁকি দিয়ে দেখলো উনি আছে কিনা। এতক্ষণ সব ওয়াশরুম থেকে শুনেছে।

—বের হ চোরের মতো এরকম উঁকি দিচ্ছিস কেন?আম্মুকে রাগিয়ে দিয়ে আবার ভয় পাস কেন?

রোদ এবার পুরোপুরি বের হয়ে বলল

—আমি কী ভয় পায় নাকি হুম এমনিই দেখছিলাম

—হ্যাঁ সব জানা আছে তাড়াতাড়ি খেতে আয় তোদেরকে কলেজে নামিয়ে দিয়ে আমি আবার অফিসে জাবো।


খাওয়া দাওয়া শেষে রোদ আর সাইফা নিয়ে রোদ্র বের হয়ে গেলো।ওদেরকে কলেজের গেটের সামনে নামিয়ে দিয়ে নিজের কাজে চলে গেলো।

রোদ আর সাইফা গেট দিয়ে ডুকতেই তিহা আর তিহান দৌড়ে এলো। ওরা দুজন যমজ ভাই বোন

—এতো দেরি করলি কেন?

তিহার কথায় সাইফা বলল

—আরে আর বলিস না রোদ ঘুম থেকেই উঠতে চায় না তোরা তো জানিস ও কী পরিমাণ ঘুম পাগল ওর জন্য সব সময় দেরি হয় আজকেও বড় আম্মু মুখের উপর পানি ঢেলে ওকে তুলেছে।

তিহা এবার রোদের দিকে তাকালো রোদ তো এমন ভান ধরে আছে এখানে কী হচ্ছে সে যেন শুনতেই পাচ্ছে না।তিহা কটমট করে বলল

—এই তোর কী জামাই আছে যে রাতে তাকে সময় দিতে গিয়ে সকলে উঠতে পারিস না।আমাদের ফ্রেন্ড সার্কেলর মধ্যে তুই আর তিহান তোরা দুইটাই ঘুম পাগল। অলওয়েজ তোরা লেট লতিফ।

—জামাই নাই মোবাইল আছে ওটাকে সময় দিতে হয়।তোদের ইচ্ছে হলে তোরাও ঘুমা শুধু শুধু আমাদের ঘুম নিয়ে হিংসা করিস কেন?

এতক্ষণ চুপচাপ সবার কথা শুনতে থাকা তিহানও রোদের সাথে তাল মিলিয়ে বলল

—হ্যাঁ দোস্ত ঠিক বলেছিস এই দুইটা ঘুম যেতে পারে না দেখে আমাদের হিংসা করে।চল ওরা থাক আমরা যাই।

রোদ আর তিহান সামনে হাঁটা দিলো কিন্তু কিছুটা দূর যেতেই সামনের সব মেয়েকে হা করে তাকিয়ে থাকতে দেখে ওদের পা থেমে যায় চারদিক থেকে গিজগিজ করছে মেয়েরা রোদে পিছে তাকিয়ে সেও হা হয়ে গেলো

কলেজের গেট দিয়ে কালো ব্লেজার আর হোয়াইট শার্ট ইন করা হাতে কালো ঘড়ি গলায় চেইন চোখে কালো সানগ্লাস লাগিয়ে এক হাত পকেটে গুজে অন্য হাতে কানে ফোন দরে রেখে কথা বলতে বলতে এগিয়ে আসছে ফর্সা ডল হ্যান্ডসাম এক যুবক।

রোদ ঘোরের মধ্যে চলে গিয়েছে আর ঘোরের মধ্যে থেকেই বিরবির করে বলে উঠল

—হায় মে মার গেয়া কিতনা হ্যান্ডসাম লারকা হে

আর তখনি আদ্র কথা বলতে বলতে রোদের পাশ কেটে চলে গেলো রোদ চোখ বুঝে উল্টো ঘরে গেলো।হঠাৎ আদ্র হার্টবিট দ্রুত গতিতে চলতে শুরু করলো ওর মনে হলো তার আশপাশেই তার বার্বিডল আছে। আদ্র সানগ্লাসের আড়ালে আড়চোখে একটু দেখে নিলো নিজের মনে ভুল ভেবে আবারও হাঁটা দিলো।

চোখ খুলে রোদ আশপাশে তাকালো যে যেখানে আছে সেখান থেকে হা করে আদ্রের দিকে চেয়ে আছে। তবে আদ্র ভুলেও কোনোদিকে তাকাচ্ছে না কথা বলতে বলতে অফিস রুমের দিকে যাচ্ছে।

রোদ আবারও বিরবির করে নিজেকে গালি দিতে লাগলো

— আস্তাগফিরুল্লাহ তওবা তওবা রোদ তোর না মনের মানুষ আছে তারপরও অন্য কারো দিকে এভাবে তাকাচ্ছিস ছ্যাহ মাপ চা আল্লাহর কাছে।

(রেসপন্স না করে গল্প চেয়ে লজ্জা দিবে না গল্প লিখতে কষ্ট আছে। আর রিচেক করেনি ভুল ক্রটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখিও🙏)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply