কীভয়ংকরমায়া_তোর
পার্ট_১৩
লেখিকাআরিফাতাসনিম_তামু
[কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ❌🚫]
এইদিকে রৌদ্র ফোনে কথা বলা শেষ করে পিছন ফিরতেই কেউ একজন এসে তার বুকে হুমড়ি খেয়ে পড়ে।হঠাৎ এমন হওয়ায় রৌদ্র দু’পা পিছিয়ে যায়।এইদিকে ইয়ানা শক্তপোক্ত কিছু সাথে বারি খেয়েছে বুঝতে পেরে মাথা তুলে তাকাতেই তিনশো বোল্টের শকড খায়।দু’পা পিছিয়ে পড়তে পড়তে নিজেকে সামলে রৌদ্র বুকের দিকে তাকিয়ে ইয়ানাকে অবাক হয়।কিছুক্ষণ অবাক হয়ে তাকিয়ে থেকে হঠাৎ দুজন একসাথে কিছুটা চেঁচিয়ে বলে উঠলো
—তুমি?
—আপনি?
আশেপাশে কয়েকজন কর্মচারী ছিলো ওরা রৌদ্র আর ইয়ানার দিকে চেয়ে আছে কেমন দৃষ্টিতে।আর এইদিকে একসাথে কথাটা বলে দুজনই থতমত খেয়ে যায়।রৌদ্র গম্ভীর কন্ঠে বলল
—তুমি এখানেও?তাও আবারও আমার উপরই এসে পড়লে এবার অন্তত মিথ্যা কথা বলিও না যে ইচ্ছে করে পড়নি উষ্ঠা খেয়ে পড়েছো!
এবার ইয়ানার কান্না করতে ইচ্ছে করছে।দুনিয়াতে আর কোনো মানুষ নেই?সে কোনো বারবার এই লোকের উপরে এসে পড়ে?সে তো এবারও ইচ্ছে করে পড়েনি তার গাউনে পা আটকে হাঁটতে গিয়ে পড়ে গিয়েছে।কিন্তু সেটা এই লোককে কী করে বুঝাবে?এই লোক যে গম্ভীর আর ত্যাড়া ইয়ানার কথা জীবনেও বিশ্বাস করবে না তা ইয়ানা বুঝে গেছে।
—কী হলো এখন মুখ দিয়ে কথ বের হচ্ছে না?চুপ করে আছো কেন?
—আসলে সত্যিই আমি ইচ্ছে করে আপনার উপর পড়িনি জামার মধ্যে পা আটকে পড়েছি বিশ্বাস করুন
কাঁদো কাঁদো কন্ঠে কথাটা বলে ইয়ানা।রৌদ্র অদ্ভুত দৃষ্টিতে ইয়ানার মুখের দিকে চেয়ে আছে।মেয়েটার চোখে পানি চিকচিক করছে।এই বুঝি কেঁদে দিবে।ফর্সা নাকটা লাল হয়ে আছে।রাগে নাকি কান্নায় তা বুঝলো না রৌদ্র।ব্লু রঙ্গের গাউন পড়েছে সাথে মেসিং হিজাব।টানা টানা কাজল রাঙ্গা চোখ,ঠোঁটে গোলাপি আভা বাম গালে একটা বাদামি তিল।রৌদ্রের দৃষ্টি সে তিলটাতে কিছুক্ষণ স্থীর হয়।ফর্সা মেয়েটাকে এই রঙ্গে বেশ ফুটেছে।এই প্রথম রৌদ্র কোনো মেয়েকে এভাবে দেখছে তাও এতো কাছ থেকে।
রৌদ্র আর কিছু না বলে চুপচাপ হেঁটে চলে আসলো।এই দিকে ইয়ানা রৌদ্রের যাওয়া দেখছে অবাক হয়ে।এই লোক এতো ভালো কবে হলো?
সেই কখন থেকে রৌদ্র রোদকে খুঁজছে।এতো এতো অচেনা মানুষের মধ্যে তার বোনটা কোথায় গেলো?তার বোনটা হারিয়ে গেলো না তো? নাহ্ এসব কী ভাবছে সে?তার বোনের কিছু হয়নি।সে আবারও রোদকে দাঁড় করিয়ে রেখে যাওয়া জায়গায় এসে দাঁড়ালো।একজন কর্মচারীকে দেখে জিজ্ঞেস করলো
—আচ্ছা এখানে কালো গাউন পরা একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো আপনি দেখেছেন মেয়েটাকে?
—হ্যাঁ দেখেছি ওই যে আদ্র স্যারের কেবিন ওইটাতে ডুকেছে তখন।
— ওহ আচ্ছা ধন্যবাদ আপনাকে
রৌদ্র সে দিকে হাঁটা দিলো।এতক্ষণে মনটা একটু হালকা হলো।এসেছে পর্যন্ত আদ্রের সাথেও দেখা হয়নি।রোদকে নিয়েই আদ্রের সাথে দেখা করতে যাবে।আদ্র আর রৌদ্রের বন্ধুত্ব ছোট বেলা থেকেই যদিও দুজনের বয়সের একটু গ্যাপ আছে তাতে কী ছোট বড়,ধনী,গরিব এসব দেখে তো আর বন্ধুত্ব কিংবা ভালোবাসা হয় না।যা হয় তা তো মন থেকেই হয়।আদ্র রৌদ্রের দু’বছরের বড় ছোট বেলায় আদ্রের বড় একটা রোগ হয় যার কারণে বাইরের দেশে নিয়ে তাকে দু’বছর চিকিৎসা করানো হয়। অসুস্থতার কারণে আদ্রের দু’বছর গ্যাপ পড়ে।ক্লাস 1 থেকে রৌদ্রের সাথে আদ্রের পরিচয় হয় তার পর বন্ধুত্ব। তার পর হুট করেই আদ্র দেশ ছেড়ে চলে যায়।তখন রৌদ্র আদ্রের সাথে দেখা করতে পারেনা আদ্র দেশ ছাড়ার ১ মাস আগেই রৌদ্র তার পরিবার সহ লন্ডনে যায় রাইসার বেগম অসুস্থ অবস্থা খারাপ উনাকে লন্ডন নিয়ে যাওয়া হয়।১ বছর পর লন্ডন থেকে দেশে ফিরে উনারা।রৌদ্র বাকি জীবন এভাবে একাই কাটায় আদ্রের জায়গা কাউকে দেয়নি।আদ্রও রৌদ্রের জায়গায় কাউকে দেয়নি।দু’জনেরই ফোনে ঘন্টার পর ঘন্টার কথা হতো।দেশে আসার পর শুধু একদিন দেখা হয়েছিলো তাও ব্যস্তায় কথা বলতে পারেনি আদ্র ব্যস্ত ছিলো এজন্য।
ডান দিক থেকে রৌদ্র আদ্রের কেবিনের দিলে যাচ্ছে বাম দিক থেকে ইয়ানা আসছে।
এইদিকে আদ্র এতটাই শক্ত করে রোদকে জড়িয়ে ধরেছে।যে রোদ শ্বাস নিতে পারছে।আদ্রের থেকে যত সরতে চাইছে আদ্র তত শক্ত করে নিজের সাথে রোদকে চেপে ধরছে।ছেড়ে দিলেই এই বুঝি তার বার্বিডল আবার উড়াল দিয়ে পালাবে।বেশ কিছুক্ষণ পর রোদের কোনো নাড়াচাড়া না দেখে আদ্র নিজের বুক থেকে রোদের মাথাটা তুলে সামনে আনলো রোদকে চোখ বন্ধ থাকতে দেখে ভড়কে যায়।পাগলের মতো রোদের গালে হালকা থাপ্পড় দিতে দিতে ডাকতে থাকে
—এই জান কী হয়েছে তোর চোখ বন্ধ করে আছিস কেন?চোখ খুলনা পাখি। তাকা আমার দিকে বার্বিডল।
আজ যেন আদ্র অবুঝ বাচ্চা হয়ে গেছে।রোদ যে সেন্সলেস হয়ে পড়েছে তাও বুঝতে পারছে না। এরি মধ্যে রৌদ্র দরজা ঠেলে ভিতরে ডুকলো।তার পরপরই ইয়ানা ডুকলো। আদ্র বুকে কোনো মেয়েকে দেখে ইয়ানা অবাক হয়ে চেয়ে থাকে মুখটা দেখা যাচ্ছে না।তবে রৌদ্র ঠিকি চিনেছে ড্রেস দেখে সে দৌড়ে আদ্রদের সামনে এসে রোদের গালে হাত দিকে ডাকতে লাগলো
—বনু কী হয়েছে তোর চোখ খুলনা।
রোদের কোনো সাড়াশব্দ নেই সে নিশ্চুপ চোখ বন্ধ করে পড়ে আছে আদ্রের বুকে।রৌদ্রের ঘাম ছুড়ে গেছে এসির বাতাসেও ছেলেটা ঘামছে হাত পা কাঁপছে কন্ঠও কাঁপা ইয়ানা আর আদ্র অবাক হয়ে দেখছে রৌদ্রকে।রৌদ্র এবার আদ্রের দিকে চেয়ে জিজ্ঞেস করে
—আদ্র কী হয়েছে আমার বোনের?
রৌদ্রের প্রশ্নের উওর না দিয়ে আদ্র পাল্টা প্রশ্ন করলো
—ও তোর বোন হয় রৌদ্র?
—নাহ্ আমার প্রাণ ভোমরা
রৌদ্রের উওরে আদ্র আগের চেয়েও বেশি অবাক হয় কিন্তু ইয়ানা সে তো রোদের মুখ দেখতে পেয়েই রোদের মাথার কাছে এসে আদ্রের দিকে চেয়ে কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বলল
—ভাইয়া আমার ছোট্ট পরীটার কী হয়েছে? ও’কে তুমি কোথায় ফেলে?
আদ্র রৌদ্রের চেয়ে শক্ত কন্ঠে বলল
—সেটা রৌদ্রকে জিজ্ঞেস কর।ও’কে বলতে বল ইয়ানা ও আমার বার্বিডলকে কোথায় ফেলো!
এতক্ষণে রৌদ্র ইয়ানা দুজন দুজনকে চিনলো ছোট বেলায় আদ্রদের বাড়িতে গেলে ইয়ানাকে দেখতো মেয়েটাকে যত বার সে দেখেছে ততবারই দেখতো উষ্ঠা খেয়ে পড়ে ব্যাথা পেয়ে বসে থাকতে।এর জন্য অবশ্য রৌদ্র ইয়ানার নাম দিয়েছে”উষ্ঠা খাওয়া ওয়ালি”তবে ওদের কথায় রৌদ্র কিছু বুঝতে পারছে না।
—এই ছোট্ট পরীটা কে”উষ্ঠা খাওয়া ওয়ালি?
রৌদ্রের কথায় আদ্র ইয়ানার আগের গম্ভীর কন্ঠে বলল
—আগে তুই বল তোর বোন আসলো কোথায় থেকে?আমি যতদূর জানি তোর কোনো ভাই-বোন নেই আর হবেও না কারণ আন্টি অসুস্থ হওয়ার পর ডাক্তার জানিয়েছে উনি আর কখনো মা হতে পারবে না।
সত্য কখনো চাপা থাকে না।একদিন না একদিন ঠিকি সামনে আসে। সেটা আজকে কিংবা এক যুগ পর তবে কিছু সত্য আনন্দময় হয় আবার কিছু সত্য বিষাদময় হয়।
(আমি জানি এক তোমাদের হার্টবিট পাস্ট চললে পরে কী হয়ে দেখার জন্য তাই বেশি করে রেসপন্স করো আমি তাড়াতাড়ি দিয়ে দিবো)
Share On:
TAGS: আরিফা তাসনিম তামু, কী ভয়ংকর মায়া তোর
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৫
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৬
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৩
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১১
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১৪
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১৬
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৮
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৭
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ২
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১৫