Golpo romantic golpo কী ভয়ংকর মায়া তোর

কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১২


কীভয়ংকরমায়া_তোর

পার্ট_১২

লেখিকাআরিফাতাসনিম_তামু

[কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ 🚫❌]

সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে ল্যাপটপ নিয়ে বসেছে আদ্র।অবশ্য খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস আদ্রের আগে থেকেই আছে।তবে আজকে উঠতে একটু কষ্ট হয়ে গেছে তার কারণ কালকে সারারাত আহির কথা ভাবতে ভাবতে কখন সে ভোর করে ফেলেছে টেরও পায়নি।৪টায় ঘুমিয়েছে এখন ৫টা বাজে মাএ এক ঘন্টা ঘুমিয়েছে সে।মাথাটা খুব ধরেছে এক কাপ কফির খুব দরকার কথাটা ভাবতেই আদ্রের রুমের দরজায় কেউ নক করল।এত সকালে কে আসতে পারে তার রুমে?আতিয়া নেওয়াজ কফি দিতে ৬ টায় আসবে কারণ আদ্র ৬ টায় কফি খায়।এখন কে আসলো ভাবতে ভাবতে দরজা খুলল।দরজা খুলতেই ফিহার হাসিখুশি মুখটা দেখা গেলো হাতে কফির মগ।এত সকালে ফিহাকে এখানে দেখে ভ্রু কুঁচকে আসে আদ্রের।ফিহাকে কেন যেন সে সহ্যই করতে পারে না।ছোট বেলায় বোনের মতো একটু আধটু আদর করতো তবে অতটাও না জাস্ট মেঝো চাচ্চুর মেয়ে হিসেবে।তবে দেশে আসার পর মেয়েটা কেমন গায়ে পড়ে পড়ে কথা বলতে চায় পারে না কোলে উঠে বসতে।আর আদ্র যতক্ষণ বাসায় থাকে ততক্ষণ আদ্র পিছে পিছে ঘুরে অতিরিক্ত সাজগোছ করে।আদ্র বুঝে পায় না এই মেয়ে বাড়িতে এতো সাজে কেন?মনে হচ্ছে যেন বিয়ে খেতে এসেছে।আদ্রের এগুলা একদম পছন্দ না বিশেষ করে গায়ে পড়া মেয়ে। তার মতে মেয়েরা হবে লজ্জাবতী, লজ্জাবতী গাছকে যেমন ছুঁয়ে দিলে মিইয়ে যায় সে রকমই কোনো মেয়ের দিকে কোনো ছেলে তাকলে নিজেকে মিইয়ে আড়াল করে নিবে।আর এই মেয়ের ভিতর লজ্জা”ল” ও নেই।

—এত সকালে এখানে কী?

গম্ভীর কন্ঠে কথাটা বলে আদ্র।তার এই গম্ভীর কন্ঠ শুনে ফিহা একটু ভড়কে যায়।ফিহা ভেবে পায় না আদ্র এমন গম্ভীর টাইপের কেন?ছেলেরা তো মেয়ে দেখলেই কথা বলার জন্য পাগল হয়ে যায়।বিশেষ করে সুন্দরী মেয়ে।ফিহা তো কম সুন্দর না যথেষ্ট সুন্দরী সে ভার্সিটির কত ছেলে যে তার পিছে লাইন ধরে আছে।আর সে কিনা এই গম্ভীর ছেলে পিছনে বেহায়ার মত পড়ে আছে?অবশ্য গম্ভীর হলেও হ্যান্ডসাম তো কম না বাড়িতে এমন বিরিয়ানি রেখে বাইরে পান্তা ভাতের দিকে কার নজর যায়?যারা বদল তাদের যায়।

—খাম্বার মতো দাঁড়িয়ে আছিস কেন?কিছু জিজ্ঞেস করেছি

—তোমার জন্য কফি নিয়ে এসেছি।

নিচের দিকে চেয়ে মিনমিন করে বলল কথাটা ফিহা।তবে কথাটা যে আদ্রের একটুও পছন্দ হয়নি তার মুখ দেখেই বুঝা যাচ্ছে আদ্র আগের চেয়েও বেশি গম্ভীর কন্ঠে বলল

—আমি কী তোকে আমার জন্য কফি আনতে বলেছি?

এবার ফিহা আমতাআমতা করতে থাকে।তা দেখে আদ্রের বিরক্তির মাএা বেড়ে যায়।এই মেয়েকে দেখলেই তার বিরক্ত লাগে।চাচাতো বোন না হলে এতদিনে থাপ্পড় দিয়ে গাল লাল করে দিতো।যতোসব অসহ্য আর উটকো ঝামেলা।

—আমতা আমতা না করে কী জন্য এসেছিস এখানে সেটা বল।আর বলে বিদায় হ আমার কাজ আছে।

—তুমি তো প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে কফি খাও তাই ভাবলাম আজকে আমি বানিয়ে আনি।খেয়ে বলো কেমন হয়েছে।

কফির কাপ টা বাড়িয়ে দিয়ে মেকি হেসে কথাটা বলে ফিহা।এবার আদ্র বিরক্ত নিয়ে কিছুটা ধমকের মতো করেই বলল

—চুপ তোকে আমি বলেছি আমার জন্য সকাল সকাল কফি বানিয়ে আনতে?কফির খাওয়ার সময় হলে আম্মু নিজেই এনে দিবে না হলে আমার হাত আছে আমি নিজেই বানিয়ে নিতে পারবো।আমার কাজ আছে আর একবারও বিরক্ত করবি না।

এই বলে আদ্র মুখের উপর ঠাস করে দরজায় আটকে দেয়।আর ফিহা সে তো বন্ধ দরজার দিকে অগ্নি দৃষ্টিতে চেয়ে আছে।রাগে অপমানে চোখ মুখ লাল হয়ে গেছে।এতো অহংকার এই ছেলের?এই অহংকার কয়দিন থাকে সেও দেখবে।বন্ধ দরজার দিকে চেয়ে দাঁতে দাঁত পিষে বিরবির করে বলল

—মিস্টার ফাইজান নেওয়াজ আদ্র তোমার আর আমার বংশ একি তোমার যদি এত অহংকার থাকে তাহলে সেই অহংকার তুড়ি মেরে উঠিয়ে দাওয়ার রাস্তাও আমার জানা আছে।কয়দিন আর ওই রাস্তার মেয়ের জন্য শোক পালন করবে?একদিন না একদিন তো আমার কাছে আসতেই হবে তোমাকে।আমার রুপের আগুনে তোমাকে জ্বলতেই হবে তুমি না জ্বলতে চাইলে প্রয়োজনে কেরাসিন দিয়ে জ্বালাবো তবুও জ্বালাবো।

ফিহার এই কথায় যেন বন্ধ দরজার সহ ভিতরের দেওয়াল গুলি হেঁসে বলে উঠলো

—বোকা নারী তুমি হয়তো জানো না প্রকৃত পুরুষ কখনো নারীর সৌন্দর্য,কলঙ্ক, অতীত খুঁজে না।সৌন্দর্য আজ আছে কাল নাও থাকতে পারে সৌন্দর্যের প্রেমে কাপুরষরাই পড়ে প্রকৃত আর চরিএ বান পুরুষ নারীর মায়ায় পড়ে।সব মায়া সুখময় হয় না কিছু কিছু মায়া ধ্বংসও হয়।এটা নির্ভর করে তোমার উপর তুমি ভুল মানুষের মায়া পড়েছো না সঠিক মানুষের।আর এই আদ্র নামক ব্যক্তিটি মায়ায় পড়েছে ভয়ংকর মায়ায়।তার এই উম্মাদ্দ ভালোবাসার সাক্ষী আমরা।
সে ঠকবে না উল্টো তুমি হেরে যাবে।


সকাল ১০ টা আজকে খান বাড়িতে সবার একটা দাওয়াত আছে তবে ব্যস্ততায় বড়রা কেউ যেতে পারছে না শেষে সিদ্ধান্ত হলো রৌদ্র,রোদ,সাইফ আর সাইফা যাবে তবে সকাল হতে না হতেই সাইফা বেচারি অসুস্থ হয়ে পড়ে তাই সে জাবে না বাকি রইল তিনজন একটু আগে সাইফ ফোন করে জানায় তার জরুরি কাজ পড়ে গেছে যেতে পারবে না সে। কী আর করার সবশেষে রৌদ্র আর রোদই যাবে বলে ঠিক করে।রৌদ্র রেডি হয়ে বোনের রুমে এসে নক করল

—বনু তোর হয়েছে তাড়াতাড়ি কর না দেরি হয়ে যাচ্ছে

রোদ বের হয়ে আসলো তার পরনে সাদা পাথরের কালো গাউন পড়া।মাথায় মেসিং হিজাব আজকে মাক্স পড়েনি সে ঠোঁটে খয়েরী লিপস্টিক চোখে গাড়ো কাজল দাওয়া সেই সাথে টানা আইলেনা দাওয়া বড় বড় পাপড়িতে মাসকারা দাওয়া ব্যস আর কোনো সাজসজ্জা নেই এতেই মেয়েটাকে হুরপরী লাগছে। রৌদ্র বোনেকে কয়েক পলক দেখে মুচকি হেঁসে বলল

—মাশাল্লাহ আমার বনুটাকে একবারে পরীর মতো লাগছে

রোদ ভাইয়ের কথা মুচকি হেঁসে বলল

—দেখতে হবে না বোনটা কার হুম।মাশাল্লাহ আমার ভাইটাকেও নায়কের মতো লাগছে।

বোনের কথায় রৌদ্র মুচকি হেঁসে বোনের মতো করেই বলল

—দেখতে হবে না ভাই টা কার হুম।

—হয়েছে হয়েছে নায়কের মতো লাগলেও তোমার জীবনে নায়কার বড্ড অভাব এবার একটা নায়কা জোগাড় করে নাও তো।

—আমার নায়কা পায়কা লাগবে না গো এবার আপনি চলেন দেরি হয়ে যাচ্ছে।

কথা না বাড়িয়ে রোদও হাঁটা দিলো সবার থেকে বিদায় নিয়ে গাড়িত উঠে বসলো দুজন।রৌদ্র ডাইভিং করছে আর পাশের সিটে রোদ বসে আছে।দুইজনেই ড্রাসআপ কালো। রৌদ্রের ফর্মাল ড্রেসআপ কালো সুট বুট আর সাদা শার্ট ইন করে পরা হাতে চেইন ঘড়ি চোখে সানগ্লাস।

আধা ঘণ্টা ডাইভিং করে রৌদ্র গাড়ি থামালো একটা ১৫ তলা বিল্ডিংয়ের সামনে।গাড়ি থেকে নেমে রোদ আশপাশ দেখছে রৌদ্র গাড়ি পার্কিং করে এসে রোদকে নিয়ে ভিতরে গেলো।

ভিতরে এসে তো রোদ অবাক সবকিছু কী সুন্দর করে সাজানো অনেক মানুষ।রৌদ্রের কল আসায় রোদকে এখানে দাঁড়াতে বলে সাইডে গেলো কথা বলার জন্য এখানে মানুষের জন্য কথা বলা যাচ্ছে না।রোদ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে আশপাশে দেখতে লাগলো।রোদের ওয়াশরুমে যাওয়া প্রয়োজন।সাত পাঁচ না ভেবে পাশের কেবিনে ডুকে পড়লো।মিনিট দুয়েক পর রোদ ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে দরজা লাগিয়ে পিছনে ফিরতেই ভড়কে যায়।আদ্র কবিনের দরজা লাগিয়ে সেও পিছনে ফিরতে থমকে যায়।আদ্রের হার্ট ফাস্ট চলতে শুরু করে। হাত পা কাঁপছে সে কী সত্যি দেখছে সব নাকি সব তার কল্পনা? মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না বহু কষ্ট থেমে থেমে বলল

—বা র্বি ডল

তার কথা মাচিরাও শুনেনি হঠাৎ আদ্র দ্রুত পায়ে হেঁটে রোদকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।এতে করে রোদ ভড়কে যায় আরো তার হাসফাস লাগছে।আদ্রের গায়ে থেকে আসা কড়া পারফিউমের ঘ্রাণে নেশা দরছে।কিছু বলতে নিবে তার আগে তাকে অবাক করে দিয়ে আদ্র ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো।রোদ থমকে যায়।আদ্র কাঁদছে বাচ্চাদের মতো।

—আমার জান আমার পাখি তুই কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলি?আমি তোকে পাগলের মতো খুঁজেছি। কোথাও পায়নি।জানিস আমি ভালো নেই তোকে ছাড়া। তোর আদ্রের ভাইয়ের উপর তোর এতো অভিমান ছোট ফুল?আমি তোকে কথা দিচ্ছি তোকে ছেড়ে আর কোথাও যাবো না।ওরা কেউ ভালো না ওরা তোকে আমার থেকে আলাদা করে দিলো আমি আর কারো কথা শুনবো না কখনো তোকে ছেড়ে জাবো না।প্রমিস।

রোদের সব কিছু মাথায়র উপর দিয়ে যাচ্ছে।তার মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না।এতটাই অবাক আদ্রের মত গম্ভীর মানুষ ও যে এভাবে বাচ্চাদের মত করে কাঁদতে পারে নিজ চোখে না দেখলে রোদ বিশ্বাসই করতো না।তাকে অবাক করে দিয়ে আদ্র রোদের সারামুখে চুমু খেতে লাগলো।রোদের কপালে কপাল ঠেঁকিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলল

—আর হারিয়ে যাস না বার্বিডল তোকে ছাড়া একা থাকার শক্তি আমার আর নেই।আ”আমি মরে যাবো তোকে ছাড়া।প্লিজ আমার হয়ে থেকে যা আমি সারাজীবন তোকে যত্নে আগলে রাখবো।

তার কন্ঠে অসহায়ত্ব।এই দিকে রোদ কিছু বুঝতে পারছে না কী হচ্ছে তার সাথে এসব।লজ্জা লাগছে তার ভীষন আদ্র তাকে চুমু খেয়েছ? আল্লাহ মাটি পাক করে দাও মাটির নিচে ডুকে যেতে ইচ্ছে করছে লজ্জায়।

(বেশি বেশি রেসপন্স করো বড় পার্ট দিয়েছি ভালো মন্দ অবশ্যই জানাবে)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply