কিসঅফবিট্রেয়াল
পর্ব_০৭
লামিয়ারহমানমেঘলা
[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ]
কিছুক্ষণ আগে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রভাবে সেরিনের মনটা এমনিই খারাপ। তাই বিছনায় শুয়ে সে ঘুমিয়ে যায়৷
ওদিকে সিকদার নিবাসে সবাই দুপুরে খাবার একটা সময়ের মাধ্য খেয়ে থাকে।
এরপর যারা কাজে থাকে তাদের ভিন্ন কথা৷
আজ যেহেতু বাড়িতে সবাই আছে তাই বানু মির্জার আদেশে সবাই খেতে এসেছে৷
শিমুল ডাইনিং এড়িয়াতে এসে সেরিনকে না দেখে অবাক হলো।
সে পাঠিয়েছিলো একজনকে সেরিনকে ডাকতে।
শিমুল, ভাবে হয়ত সেরিন আসবে একটু পর। তাই সে গিয়ে টেবিলে বসে পড়ে।
কায়ান আসেনি তখনো।
জারিফ এবং জিনুকে তাদের মামা মাহমুদ খাইয়ে দিচ্ছে।
মাহমুদ খাইয়ে দিতে দিতে মেহেরীণ কে জিজ্ঞেস করে,
“কায়ান কোথায় মেহেরীণ? “
“রুমে হয়ত৷”
“হাসবেন্ড কে নিয়ে খেতে আসা তোর কর্তব্য আপু।”
বানু মির্জা কথা গুলো শুনে বেশ খানিকটা তাচ্ছিল্য হাসলেন,
“সেই খেয়ালটা মেহেরীণ কবেই বা রাখল।”
মাহমুদের হাত থেমে গেলো। সে সরাসরি বানু মির্জার চোখের দিকে দৃষ্টি স্থির করলেন,
“তার স্বামী এবং তার বিষয় এটা।”
বানু মির্জা তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে মাহমুদের দিকে।
চোয়াল শক্ত করে ঝরঝরে কন্ঠে উত্তর দিলো
“মেহেরীণ তোমার ভাইকে বলবা চোখ নামিয়ে কথা বলতে। আর আমার ছেলের বিষয় কখনোই স্বামী স্ত্রীর পার্সোনাল বিষয় নয়।
কোনটা পার্সোনাল কোনটা পাবলিক সেটা আমাকে বোঝাতে হবেনা৷”
মেহেরীণ থতমত খেয়ে গেলো। সে হাত থেকে ফোন রেখে মাহমুদ কে উদ্দেশ্য করে বলল,
“মাহমুদ ভাই আমার গুরুজনদের সাথে এভাবে কথা বলতে নেই। কিছু মনে করবেন না আম্মা বেগম, মাহমুদ ছোট ভাইত আদুরে বড্ড।”
বানু মির্জা বাঁকা হাসলেন,
“বাল বাহুল্য আমার জেবরান এবং আহিও ছোট। বড়দের সাথে কথা বলতে গেলে শিক্ষার প্রয়োজন হয়। তোমার মা বাবাকে বলে দিও।”
মাহমুদ তিব্র ক্রোধে ফুঁসছে নিজের ভেতরেই তবে সে কোন কথা না বলে বাচ্চা দের মুখে খাবার তুলে দিতে মনোযোগ দেয়।
সেরিনের সামনে ফ্লোরে হাঁটু গেড়ে বসে আছে কায়ান৷
সেরিনের ঘুমন্ত মুখশ্রী অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে সে।
সেরিনের কানের পেছন থেকে এক গুচ্ছ ছোট ছোট চুল হুট করেই মুখের সামনে এসে পড়ল।
কায়ান, আলতো হাতে চুল গুলো ফের কানের পেছনো গুঁজে দিলো।
কারোর শীতল স্পর্শ অনুভব হতে সেরিন নড়েচড়ে ওঠে।
পাশ ফেরা থেকে সোজা দিকে ঘুরে।
এরপর ধিরে ধিরে চোখ খুলে নেয় সে।
সিলিং এর দিকে তাকায় সেরিন। পানির পিপাসা পেয়েছে তার।
“সেরিন৷”
কায়ানের শীতল কন্ঠ শুনে ফিরে চায় সেরিন।
কায়ানকে পাশে দেখে এক লাফে বিছনায় উঠে বসে সে।
“আপনি এখানে কি করছেন?”
কায়ান ফ্লোর থেকে উঠে দাঁড়ায়,
“লাঞ্চ করবে চলো।”
সেরিন মুখ ফিরিয়ে নেয়।
“করব আপনি জান আপনার কাজে।”
“আমি কথা রিপিট করব না সেরিন। আমাকে বিরক্ত করোনা।”
কথাটা বলে কায়ান বেরিয়ে গেলো। সেরিন তাকিয়ে রইল সে দিকে। এরপর কিছু একটা ভেবে সেরিন মুখ ধুয়ে নিচে চলে আসে।
কমবেশি সবাই খাবার শুরু করেছে। আহি , সেরিনকে দেখে হাত উঠায়,
“সেরিন আমার পাশে এসে বসো।”
সেরিন গিয়ে আহির পাশে বসে।
কায়ান মেহেরীণের পাশে বসে আছে সেরিনের সোজাসুজি।
বানু মির্জা, সেরিনকে দেখে বলেন,
“সেরিন অসময়ে ঘুমিয়ে ছিলে শুনলাম। শরীর খারাপ?”
“না আন্টি, ওই জার্নি করলামত। তাই চোখ লেগে এসেছিলো।”
“খাবার খেয়ে ঘুমিও।”
“না আম্মা বেগম, আমি সেরিনকে নিয়ে বের হতে চাই। প্লিজ সেরিন৷”
আহির মিষ্টি আবদার শুনে সেরিন না করতে পারেনা।
“আচ্ছা আপু৷”.
কায়ান খাবার প্লেটে তুলতে তুলতে ওয়ার্নিং করে,
” বেশি দুর গেলে পা দু’টো ভাঙব তোর আমি৷”
আহি চোখ পিট পিট করে তাকায়।
সেরিনকে কুনুই দিয়ে ধাক্কা দিয়ে বলে,
“যাবনা বেশি দুর৷”
সেরিনকে ইসারা করে বলতে,
সেরিন বুঝতে পারেনা সে কি বলবে।
কায়ান ফের বলে ওঠে,
“কোথায় যাবি?”
“ওই যে নতুন ক্যাফে ওখানে যাব৷”
“ওকে আমি নিয়ে যাব৷”
মেহেরীণ খাবারের শেষ লোকমা টা মুখে নিয়ে কায়ানের কথাটা শুনে থেমে গেলো।
“তুমি যাবে?”
“এনি প্রবলেম? “
মেহেরীণ বিরক্তি নিয়ে উঠে যায়৷
কিছু বলাও যাচ্ছে না আবার এটাও বলা যাচ্ছে না সেও যাবে। কায়ান ভীষণ বুদ্ধিমান।
মেহেরীণ উঠে গেলে বানু মির্জা বললেন,
“যাও গিয়ে ঘুরে এসো ভালো লাগবে।”
সেরিন খুশি ছিল তবে কায়ান যাবে কথাটা শুনে বেশি একটা খুশি হতে পারল না।
বিকালের দিকে প্রহর গড়িয়ে এসেছে।
সেরিন রেডি হয়ে আহির রুমে বসে আছে। আহি একটু সাজুগুজু প্রিয় মানুষ।
তাই সে নিজের সাজুগুজু করে সেরিনকেও একটু সাজিয়ে দেয়। একটু লাইনার টেনে লিপস্টিক লাগিয়ে দেয়। লিপস্টিক লাগিয়ে সেরিনকে কি সুন্দর দেখাচ্ছে। আহি নিজেই প্রেমে পড়ে যায়৷
“কি সুন্দর লাগছে আমার সেরিনকে। আমি ছেলে হলে বিয়ে করে নিতাম৷”
সেরিন হাসে,
“ইস তুমিও সুন্দরী৷”
আহি, সেরিনের গাল টেনে দেয়৷
সেরিন, শিমুলকে বলে আহির সাথে বেরিয়ে যায়৷
কায়ান গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল বাহিরে।
ওরা দু’জন আসলে কায়ান সেরিনের দিকে তাকিয়ে রয়। কি মায়াবী লাগছে মেয়েটাকে। চোখ দু’টো টানা টানা।
আঁকানোর কারনে আরও টানা টানা লাগছে।
সেরিন, আহি গাড়িতে এসে বসার পরেও কায়ান ড্রাইভ শুরু করেনি।
আহি তা দেখে মৃদু হাসে,
“ভাইয়া৷”
ধ্যান ফিরে কায়ানের।
“হুম?”
“গাড়ি চালও।”
গাড়ি সিটবেল্ট লাগিয়ে ড্রাইভ শুরু করে।
চট্টগ্রাম শহরের মাঝ দিয়ে গাড়িটা ধীরে এগিয়ে চলছে। দু’পাশে সারি সারি গাছ, তাদের পাতার ফাঁক দিয়ে রোদের নরম আলো রাস্তার ওপর ছায়ার নকশা এঁকে দিচ্ছে। দূরে কোথাও পাহাড়ের ঢাল দেখা যায়, আবার হঠাৎই চোখে পড়ে ব্যস্ত শহরের কোলাহল, দোকানের সাইনবোর্ড, মানুষের আসা–যাওয়া, রিকশার টুংটাং শব্দ। বাতাসে লবণাক্ত একটা গন্ধ মিশে আছে, যেন সমুদ্র খুব দূরে নয়।
রাস্তার এক পাশে পুরোনো ভবন, অন্য পাশে নতুন উঁচু দালান, শহরটা যেন একই সঙ্গে পুরোনো আর নতুন গল্প বলছে। মাঝে মাঝে হালকা বাতাস এসে মুখে লাগে, দিনের গরমটাকে একটু নরম করে দেয়। গাড়ির কাঁচের বাইরে তাকালে মনে হয়, এই শহর থেমে নেই কখনো, চলছে, বাঁচছে, নিজের মতো করে স্বপ্ন দেখছে।
সেরিন,আহি পুরোটা রাস্তা মজা করতে করতেই কাটায়।
কিছুক্ষণ পর তারা এসে পৌঁছায় আহির পছন্দের রিও ক্যাফেতে।
সেরিনের খুব একটা জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশ পছন্দ নয়। তার পছন্দ প্রকৃতি। প্রকৃতিতে মিশে থাকা ঘ্রাণ, পাতার ঘর্ষণের শব্দ, সমুদ্রের কুল কুল ডেউ, মাটিতে মিশে থাকা ঘ্রাণ আর প্রশান্তি৷
তবে আহি এখানে নিয়ে এসেছে তাই সে কিছু বলেনা৷
কায়ান ঠিকই বুঝেছে বিষয়টা। এই মেয়টার কি পছন্দ অপছন্দ সে ভালোই জানে।
ক্যাফেতে বসে ওরা প্রথম কিছু হালকা খাবার খায়।
এরপর সেখানে আহির বন্ধুরা আসে।
কায়ান জানত আহি একা থাকা মেয়ে নয়। সে সব সময় গ্যাং বানিয়ে থাকে।
সেরিন এত মানুষ দেখে ঘাবড়ে যায়।
কায়ান, সেরিনকে ধরে নিজের পেছনে নিয়ে নেয়৷
“আহি৷”
“সরি ভাইয়া আমি জানতাম না ওরাও এখানে আসবে। বিশ্বাস করো এটা কোইনসিডেন্স৷”
“জানি, তুই ওদের সময় দে। আমি ওকে নিয়ে বার হচ্ছি।”
“আমিত ওকে ঘুরতে নিয়ে এসেছিলাম বাড়িতে নিয়ে যাবা? “
কায়ান আড় চোখে তাকায়।
“দেখা যাক কোথায় যাওয়া যায়। ৮ টার আগে বাড়িতে যাবি৷”
আহি খুশি হয়ে যায়।
“ওকে ওকে। “
কায়ান, ফিরে সেরিনের হাত ধরে বেরিয়ে নিয়ে আসে।
সেরিন অবাক হয়,
“আহি আপু যাবে না?”
“না৷”.
” আমরা কোথায় যাব তাহলে?”
“আমি যেখানে তোমাকে নিয়ে যাব সেটাই তোমার ঠিকানা হওয়া উচিত।”
সেরিন কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল কায়ানের দিকে। কায়ানের বলা বাক্যটা তার কানে বাজতে লাগল।
কায়ান, সেরিনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে এগিয়ে এসে সেরিনকে গাড়িতে বসায়।
সেরিন এবং কায়ান বেরিয়ে এলে, আহির ফ্রেন্ড’স রা বলতে লাগে,
“আহি তোর হ্যান্ডসাম ভাইটা কেন চলে গেলো?’
” কাজ আছে তাই৷”
“আরে ভালো কথা মেয়েটাকে কেন নিয়ে গেলো। একটা চান্স নিতে পারতাম৷”
“খবরদার ওকে নিয়ে দেখা স্বপ্ন কেও বড় ভাইয়া দুঃস্বপ্ন বানিয়ে দিবে৷”
আহির কথা শুনে ছেলেটা অবাক হয়।
“মানে?”
আহি চুপ হয়ে যায়। মুখ ফোসকে কি বলে দিলো।
“ওই মজা করছিলাম চল চল ওদিকে যাই৷”
“চল।”
কিছুক্ষণ ড্রাইভ করার পর সেরিনকে নিয়ে কায়ান একটা পাহাড়ে চলে আসে।
দৃষ্টিসীমানার সব টুকুন জুড়ে সবুজ আর সবুজে ঘেরা।
সেরিন জায়গাটা দেখে খুশি হয়ে যায়৷
কায়ান গাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে সেরিনকে বার করে৷
“আমি যাব ওদিকে?”
“হুম৷”
সেরিন মুক্ত পাখির ন্যায় ডানা ঝাপটে সবুজের মাঝে নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। মেয়েটার আত্মা টা সেই ৬ বছরেই পড়ে আছে। ভীষণ প্রাণোচ্ছল, মায়াবী, নিষ্পাপ।
সেরিন এদিক ওদিক সব কিছু দেখছে আর পর্যবেক্ষণ করছে।
বেশ বাতাস হচ্ছে। যেন পাশেই সমুদ্র। সেখান থেকে ভেসে আসছে বাতাস৷
কায়ান দু হাত বুকে গুজে, গাড়ির সাথ হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে সেরিনকে দেখছে।
যেন তার প্রাণ পাখিটাকে সে মুক্ত বাতাসে উড়তে দেখছে। সেদিনের পরনে পিঙ্ক রঙা একটা ড্রেস। যেটা এই সবুজের মাঝে বেশ খুলেছে।
কায়ান ফেন বের করে সেরিনের কিছু ছবি তুলে নেয়৷
সবুজের মাঝে কিছু রঙ বেরঙের প্রজাপতির দেখা মিলল।
সেরিন বেশ অনেকক্ষণ ছুটাছুটি করে বেলার দিকে তাকায়। সূর্য ডুবে যাবে আর কিছুক্ষণের মধ্যেই।
সেরিন ফিরে তাকায়,
কায়ানের ডেউ খেলা কুঞ্চিত কালো চুল গুলো উড়ছে বাতাসে৷
লোকটার পরনে লেদার জ্যাকেট।
কায়ানকে তার বয়সের থেকে বরাবরই ছোট দেখা যায়।
সেরিন মনে মনে ভাবে,
“দুই জামাই বউ কি খায় কি জানি। দু’জনকেই বয়সের থেকে ছোট দেখা যায়৷”
সেরিনকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবতে দেখে কায়ান আওয়াজ দেয়,
“এখানেই থাকবে নাকি বাড়িতে ফিরবে?”
সেরিনের ধ্যান ফিরে সে হেঁটে আসে কায়ানের কাছে।
কায়ান গাড়ির দিকে ইসারা করে। সেরিন উঠে বসে।
কায়ান ড্রাইভিং সিটে এসে বসে।
সেরিন এত কাছে থাকা সত্ত্বেও সেরিনকে ছোঁয়া মানা। এই অনুভুতি কায়ানকে বিধস্ত করছে ভেতর থেকে।
কায়ান নিজেকে কনট্রোল করতে করতে ভাবে,
“রিলাক্স কায়ান, ভালোবাসা থাকে আত্মায়; শরীর তো কেবল ক্ষণিকের বাসা, শেষে মাটির কাছেই ফিরে যায়।শরীরের আয়ু ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আত্মার স্পর্শে জন্ম নেওয়া ভালোবাসা মরে না।”
চলবে?
[ এলোমেলো পর্বটা আমি জানি। কিন্তু বিশ্বাস করো এটাকে কেটে লেখা সম্ভব ছিলনা। সময় নেই আবার দেরিও হচ্ছে। দয়া করে রেসপন্স করিও। রেসপন্স না করলে লেখায় আগ্রহ পাইনা ]
Share On:
TAGS: কিস অফ বিট্রেয়াল, লামিয়া রহমান মেঘলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৫
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৬
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩০
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৩
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৮
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১০
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৮
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ২০
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৫