কিসঅফবিট্রেয়াল
পর্ব_২১
লামিয়ারহমানমেঘলা
[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ]
রাতে প্রচন্ড ঝড়বৃষ্টি হচ্ছিলো।
চারিদিকে প্রচন্ড হাওয়া দিচ্ছে।
আফজাল খান পরিবারের সাথে খেতে বসেছেন৷
মেহেরীণ বার বার মাহমুদের দিকে তাকাচ্ছে।
মাহমুদ বাবার দিকে তাকিয়ে বললো,
“আব্বু আপনি কি সিদ্ধান্ত নিলেন?”
আফজাল খান খাবার চামচটা রাখলেন প্লেটে,
“সমস্যা টা হচ্ছে ওই বাচ্চা মেয়ে সেরিন তাইত?”
“হ্যাঁ।”
“কায়ান কি ওই মেয়েকে বিয়ে করেছে?”
“না বিয়ে করেনি। কিন্তু ওর জন্য সব করতেছে৷”
“কিছুদিন আগে যে কায়ান হারিয়ে গেছিলো। ওটার পেছনে কারণ কি ছিলো?”
মেহেরীণ ভয় পেয়ে যায়৷ সে হাতের পিঠে ঘাম মুছে বলে,
“ও ওই সেরিনকে নিয়ে সম্ভবত পালানোর চেষ্টা করেছিলো৷”
মেয়ের উত্তরে আফজাল খান বিরক্ত হলেন
“পালাতে হলে এমনিই পালাবে ফিরে কেন আসবে?”
মাহমুদ বুঝতে পারে তাদের আব্বু সব বুঝে যাচ্ছে। সে দ্রুত কথা ঘুরিয়ে দেয়,
“হতে পারে কায়ান ঘুরতে গেছিলো সেরিনকে নিয়ে। শুধু শুধুই এসব নাটক করেছে৷”
“ত তোমরা দু ভাই বোন সিওর যে সেরিন মেয়েটা কায়ানকে ফাসিয়েছে?”
“হ্যাঁ আমরা সিওর৷ “
দু ভাই বোন এক সাথেই বলে ওঠে।
আফজাল খান খাবার টেবিল থেকে উঠে বলেন,
“ঠিক আছে তবে আমিই বিষয়টা দেখছি৷ আমার মেয়ের ঘর ভেঙেত ওই মেয়ে শুখি হতে পারবে না৷ কোন দিনও না। “
সিকদার নিবাস।
বানু মির্জা বাহিরের দিকে চেয়ে আছেন ছেলের জন্য।
জেবরান ফিরেছে আজ রাত করেই। কিন্তু কায়ান ফেরেনি।
আহি মাকে এমন জেগে থাকতে দেখে এগিয়ে আসে,
“আম্মা বেগম আপনি এমন বসে আছেন কেন? কি হয়েছে আপনার?”
“আমার কিছু হয়নি আহি৷”
“তাহলে?”
“কায়ান ফেরেনি যে।”
“আপনিত চেনেন ভাইকে হয়ত অফিসে কোন কাজ আছে৷”
“জানি কিন্তু আজ কাল একটু বেশি মা ছাড়া থাকছে ছেলেটা৷”
আহি কিছু বলবে এমন সময় বাহিরে গাড়ির শব্দ।
কিছুক্ষণ পর কায়ান প্রবেশ করে ভেতরে।
লিভিং রুমে আম্মা এবং বোনকে দেখে এগিয়ে যায় কায়ান৷
“কি হয়েছে আম্মা বেগম? কিরে আহি? এত রাতে এখানে বসে?”
বানু মির্জা ছেলেকে জড়িয়ে ধরলেন,
“আমার ছেলে৷”
কায়ান ভ্রু কুঁচকে তাকায়। মায়ের পিঠে হাত রাখে,
“আম্মা বেগম কি হয়েছে?”
“তোর জন্য চিন্তা হচ্ছিলো।”
“চিন্তার কি আছে? আমি ঠিক আছিত৷”
“কায়ান একটা কথা জিজ্ঞেস করব আমাকে সত্যি উত্তর দিবি?”
“হ্যাঁ বলুন আম্মা বেগম?’
” মেহেরীণ কোন ভাবে তোর আর সেরিনের হারানোর পেছনে দায়ি ছিলো নাত?”
কায়ান মৃদু হাসে। মায়ের দু গালে হাত রাখে,
“আম্মা বেগম। আমার প্রিয় আম্মা বেগম৷ এত চিন্তা শরীরের জন্য ভালো নয়। আহি কাল থেকে আম্মা বেগমের রাতের খাবার এবং ঔষধ তুই নিজের হাতে দিবি।”
“আচ্ছা ভাইয়া৷”
কায়ান ফের মায়ের দিকে তাকায়৷
“আম্মা বেগম সব কিছু জোগাড় করা শেষ। আমাকে একটু সময় দিন আমি সব কিছু আপনাদের সামনে নিয়ে আসব৷”
বানু মির্জা ছেলের কপালে চুমু খেলেন। কায়ান নিজের রুমে চলো গেলো।
জারিফ,জনুকে ঘুমিয়ে শিমুল নিজের রুমে চলে আসে।
শিমুল রুমে এসে দেখে জেবরান বসে আছে বিছনায় কোন একটা বই পড়ছে।
শিমুল গিয়ে জেবরানের পাশে বসে। জেবরান শিমুলকে দেখে বইটা ফেলে শিমুলকে কাছে টেনে নেয়।
শিমুল জেবরানের কাঁধে মাথা ঠেকায়।
জেবরান বুঝে শিমুল কোন ভাবে আপসেট।
“শিমুল।”
“জি৷”
“তুমি আপসেট? কেন?”
“আমি আপসেট না৷”
“আমার থেকে কথা লুকাবা এটা সম্ভব? “
শিমুল দীর্ঘশ্বাস ফেলে,
“তোমার বড় ভাইয়ের বউ এতটা অমানুষ জানতাম না৷”
হুট করেই শিমুলের এমন টিউন শুনে জেবরান অবাক হয়৷
“কি হয়েছে?”
“বাচ্চা দু’টোকে এত ভয় দিয়ে রেখেছে জানো? ওদের এত মন মায়ের সাথে সময় কাটাবে কিন্তু ওদের মা জেন থেকেও নেই।
আমি বুঝিনা কায়ান ভাইও কোন খেয়াল রাখেনা বাচ্চা দের।
ওদের মা বাবা থেকেও নেই। কায়ান ভাইয়ার টা না হয় বুঝলাম কিন্তু মেহেরীণ ভাবি? উনিও বাচ্চা দের খেয়াল রাখেনা।
বাচ্চা দের কাছে জিজ্ঞেস করলাম। জীবনের লক্ষ কি তোমাদের? ওরা উত্তর দিলো জানো?”
“কি?’
” উত্তর দিলো, মম এর সাথে একটা সম্পূর্ণ দিন কাটানোই ওদের জীবনে লক্ষ।
দু’টো বাচ্চা কতটা অবহেলা পেলে এমন কথা বলতে পারে।”
জেবরান দীর্ঘশ্বাস ফেলে। সে শিমুলের মাথায় হাত রাখে।
“শান্ত হও। এর পেছনে অনেক লম্বা গল্প আছে।”
শিমুল মাথা তুলে তাকায় জেবরানের দিকে।
“কি গল্প?”
জেবরান তাদের অতিত সম্পর্কে বলা শুরু করে।
কিভাবে কায়ান নিজেকে কুরবানির করেছিলো তার ভবিষ্যতের জন্য।
সমস্ত গল্প শুনে শিমুল অবাক হয়৷
সে হতভম্ব হয়ে জেবরানের দিকে তাকিয়ে আছে।
“কি বলছো কি? এই সন্তান গুলো কায়ান ভাইয়ের না?”
“না সন্তান ত দুরে থাক কায়ান ভাই কখনো মেহেরীণকে ছুয়ে দেখেছে কিনা সন্দেহ৷”
“বলো কি।”
“এটা ছিলো মেহেরীণ ভাবির যিদ৷ কায়ান ভাই তখন অসহায় ছিলো। ভাই চাইলে আমাকে কোরবানি করতে পারত। কিন্তু ভাই সেটা আমাকে করতে দেয়নি।”
জেবরানের চোখ দু’টো লাল হয়ে এসেছে।
শিমুল, জেবরানকে জড়িয়ে ধরে,
“রিলাক্স। ভাইয়াকি কাউকে পছন্দ করে বা করত? তাহলে তার সাথে ভাইয়ার বিয়ে দিয়ে দিলে হয়?”
জেবরান, শিমুলের দিকে তাকায়।
তবে কিছু বলেনা৷
সে শিমুলকে জড়িয়ে ধরে রাখে। শিমুলও আর বেশি কথা বাড়ায় না।
সেরাত কেটে যায়।
সে রাত শহ কেটে যায় বেশ কয়েক দিন।
এই কয়েক দিনে কায়ানের সাথে সেরিনের দেখা হয়নি।
সেরিনের মনটা বড্ড উদাস থাকে আজ কাল।
কায়ানের ওদিক থেকে কোন রেসপন্স না আসলে সেরিনেরও উপায় নেই দেখা করার বা কথা বলার।
সেদিনের পর থেকে ক্যাপ্টেন শাহরিয়ারের সাথে সেরিনের দেখা হলেও সেরিন এভোএট করেছে তাকে।
আজ শুক্রবার।
দিনটা বেশ রোদেলা।
চকচক রোদে ঝলমলে পরিবেশ।
চারিদিকে বেশ গরম গরম পড়েছে।
গ্রামের বাড়িতে বেশি একটা বিদ্যুৎ থাকছে না।
লোডশেডিংবিহীন হচ্ছে।
দুপুরে নূরবানু সিকদার একটা পাতলা ঝোল রেঁধেছিলেন।
সেটা দিয়ে ভাত খেয়েই যে যার রুমে গিয়েছিলো।
কিন্তু বিদ্যুৎ চলে গেলে ভীষণ ভ্যাপসা গরম অনুভব হয় সেরিনের।
সেরিন উঠে বসে।
বাড়ির পেছনে পুকুর পাড়। বিরাট বিরাট আম গাছের নিচে চালি বাঁধা।
সেরিন রুম থেকে বেরিয়ে সেখানে চলে যায়।
চালির উপর বসে সেরিন মন খারাপ করছিলো।
কত গুলো দিন কেটে গেলো।
তার সাথে কায়ানের কোন কথাও হচ্ছে না।
কায়ানের কি তার কথা মনে পড়ছে না৷
এসব ভাবতে ভাবতে সেরিন চালির উপর শুয়ে পড়ে।
এখানে বেশ বাতাস বইছে। গাছের নিচে বেশ ঠান্ডা।
সেরিন চোখ বন্ধ করে নেয়।
এমন সময় হটাৎ সেরিনের কলেজের স্যার আসলাম ভুইয়া এবং ক্যাপ্টেন শাহরিয়ার শহ আরও একজন পুরুষ তাদের উঠানে প্রবেশ করে।
সেরিন উঠে বসে চালির উপর।
হটাৎ ওদের দেখে একটু ঘাবড়ে গিয়েছে সেরিন।
তবে সেরিনকে ওরা দেখিনি।
ওরা ভেতরে গিয়ে সেরিনের বাবাকে ডাকে। সেরিনের মা বেরিয়ে আসে।
“আরে স্যার আপনি ভেতরে আসুন।”
“জি আপা।”
আসলাম ভুইয়া সবাইকে নিয়ে ভেতরে যায়।
সেরিনের আম্মা সবাইকে বসতে দেয়।
কিছুক্ষণ পর সেরিনের বাবাও সেখানে উপস্থিত হয়।
“আরে মাস্টার মসাই দেখি। কি মনে করে?”
আসলাম ভুইয়া উঠে দাঁড়ায়,
“আরে না না। আমিত আশেপাশেই থাকি। বাজারে দেখা হয় তাই ভেতরে আসা হয়না৷”
সেরিনের বাবা সেরিনের আম্মাকে ডেকে চা দিতে বললেন।
সেরিনের মা চা বানাতে গেলো।
“ত মাস্টার মসাই কি খবর আজ কাল?”
“এইত চলে আলহামদুল্লিলাহ সুফিয়ান এই দেখ আমার ভাইয়ের ছেলে। আর্মি ক্যাপ্টেন। শাহারিয়ার।”
ক্যাপ্টেন শাহরিয়ার সালাম দেয় আবু সুফিয়ান সাহেব কে।।
“,আসসালামু আলাইকুম আঙ্কেল।”
“ওয়ালাইকুম সালাম বাবা। কেমন আছো?”
“আলহামদুলিল্লাহ আপনি? ‘
” আলহামদুলিল্লাহ ভালো।”
আসলাম ভুইয়া বেশ কিছু কথা বলতে বলতে বললেন,
“আমি আজ এখানে একটা প্রস্তাব নিয়ে এসেছি সুফিয়ান। “
আবু সুফিয়ান নড়ে চড়ে বসলেন,
“হ্যাঁ বলেন মাস্টার মসাই।”
“আমার ভাইপোর সাথে আমি সেরিনের হাত চাই৷”
কথাটা শুনে আবু সুফিয়ান অবাক হয়ে গেলেন।
“কি বলছেন এসব?”
“হ্যাঁ সেরিন মায়েরত বিয়ের বয়স হয়েছে। আমার শাহরিয়ার কিছু দিনের ভেতরেই মেজর পদে পদন্নোতি করবে। আমি সেরিন মায়ের থেকে ভালো কাউকে খুঁজে পাইনি আমার চোখে।’
আবু সুফিয়ান, শাহারিয়ার কে দেখলেন।
তার ছেলেটাকে পছন্দ হলেও বিয়ের বিষয়ে তিনি তাড়াহুড়ো করবেন না৷
তাই অনেক রকম কথা বার্তা বলে তিনি সবাইকে বিদায় দিয়ে দিলেন।
ওদিকে সেরিন সবটাই শুনেছে।
সেরিনের হাত পা কাঁপছে।
সে লুকিয়ে নিজের রুমে চলে যায়৷
সেরিন রুমে গিয়ে খাটে বসে। তার চোখ দিয়ে অনবরত পানি গড়িয়ে পড়ছে।
সেরিন দ্রুত নিজের ব্যাগ খুলে। ওখানে একটা কাগজে কায়ানের নাম্বার টা লেখা ছিলো।
সেরিন খুঁজে পায় নাম্বার টা।
রাতে মায়ের ফোনটা নিবে সে কোন অজুহাতে।
রাতে সবার খাওয়া দাওয়ার পর সেরিন মায়ের কাছে মায়ের ফোনটা চায়।
” আম্মা আপনার ফোনটা দিন। আমার একটু লাগত৷”
নূরবানু সিকদার মেয়ের প্রতি কেন সন্দেহ না দেখিয়েই নিজের ফোনটা দিয়ে দিলো।
সেরিন রুমে গিয়ে অপেক্ষা করলো এক ঘন্টা।
সবাই এখন ঘুমিয়ে গিয়েছে।
সেরিন রুমের সব কিছু ভালো করে বন্ধ করে।
এরপর কায়ানের নাম্বারে কল করে।
ফোনে মাত্র ২ টাকা আছে। ১ মিনিও কথা বলা হবেনা৷
সেরিন ফোন দেয় কায়ানের নাম্বারে।
২ বার রিং হতে ওপাশ থেকে কল তুলে কায়ান।
,”হ্যালো।’
সেরিন হন্তদন্ত হয়ে বলে,
“আ আমি সেরিন একটু ব্যাক করুন।”
কায়ান শোয়া থেকে উঠে বসে।
সে দ্রুত কল কেটে ফের কল করে ওই নাম্বারে।।
চলবে?
[ ভালো মন্দ সব মিলিয়ে হয় গল্প। আশা করি রেসপন্স করবেন ]
Share On:
TAGS: কিস অফ বিট্রেয়াল, লামিয়া রহমান মেঘলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১১
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১২
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ২১
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৪৬
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩৯
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩১
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১৩ [ রহস্য সমাধান -০১]
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৭
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৯
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১