কিসঅফবিট্রেয়াল
পর্ব_১৬
লামিয়ারহমানমেঘলা
[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ]
গ্রামে রাতটা একটু দ্রুতই শুরু হয়৷
সবে বাজে মাত্র ১১ টা। তাই জেন চারিদিকে নিস্তব্ধতা ঘিরে গিয়েছে।
প্রতিটা ঘরে মানুষ ঘুমিয়ে ভূত।
সেরিনও অবশ্য ঘুমিয়ে গেছে বোঝা যাচ্ছে।
কায়ান ফোন ধরে সময় দেখছে বার বার৷
বাইরে ঠান্ডা হাওয়া দিচ্ছে সেই সাথে বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ।
হয়তবা বৃষ্টি হবে কিছুক্ষণ পরেই।
কায়ান বিছনা ছেড়ে উঠে বসে।
আজকের একটা দিন তার জন্য একটা বছরের সমান ছিলো। কায়ান চায়না এই সময়টা শেষ হোক৷
হুট করেই কায়ানের ফোনে সিগন্যাল আসে। তার সাথে বেশ কিছু মিসড কল।
জেবরান সব থেকে বেশি কল করেছে।
কায়ান খাটের পাশ থেকে সিগারেটের প্যাকেট খানা উঠিয়ে বাহিরে আসে।
সত্যি বাহিরে ঝড়ো হাওয়া বইছে।
যেন একটু পরেই বৃষ্টি হবে।
কায়ান একটা সিগারেট জ্বালে। এরপর জেবরান কে কল ব্যাক করে,
“হ্যালো ভাই৷”
“হ্যাঁ বল৷”
“ভাই কি খবর তোমাদের? “
কায়ান মৃদু হেসে সিগারেটে টান লাগায়,
“ভালো। ওখানে সব কেমন চলে?”
“এখানে সব ভালো। আম্মা বেগম কেমন আছেন?”
“আম্মা বেগম চিন্তিত। কাল ফিরে এসো এরপর বুঝিও৷”
কায়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
“হুম ঠিক আছে৷”
“সেরিন কোথায়? “
“ঘুমোচ্ছে।”
“ওহ ওখানেত….”
এরপর আর কোন কথা এলোনা। কায়ান খেয়াল করলো সিগন্যাল চলে গিয়েছে।
কায়ান ফোনটা নামায় কান থেকে।
সিগারেট টা শেষের পথে৷
এমন সময় পেছন থেকে সেরিনের কন্ঠ ভেসে এলো,
“এইযে, শুনছেন”
ঠিক যেন স্ত্রী তার স্বামীকে ডাকলো। কায়ান ফিরে চায়৷ হাত থেকে সিগারেটের শেষ অংশটা ফেলে দেয় মাটিতে।
“আমি একটু ওয়াসরুমে যাব৷”
সেরিনের কন্ঠ নিচু যেন কেউ কিছু শুনে না ফেলে।
কায়ান মৃদু হাসে।
এই বাড়িতে বাথরুমটা বেশ দুরে। বাগানের দিকে বলা চলে। সেরিন হয়ত ভয় পাচ্ছে। পাওয়ারই কথা। এমনিতেও আবহাওয়া ঠিক নেই। যখন তখন বৃষ্টি শুরু হবে।
“চলো৷”
কায়ান ফোনের লাইট জ্বেলে সেরিনকে পথ দেখায়। সেরিন হাটে সোজা।
কায়ান ওয়াসরুমের বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকে।
কিছুক্ষণ পর সেরিন ফ্রেশ হয়ে বের হয়। এমন সময় আকাশ গর্জে ভারি বর্ষণ শুরু হয়।
কায়ান সেরিন বৃষ্টির ভেতর পড়ে যায়৷
কায়ান দ্রুত সেরিনের হাত ধরে কোন মতে দৌড়ে বাড়িতে ফেরে।
ফিরতে ফিরতে দুজনই অর্ধেক ভিজে গিয়েছে।
ওদের কাছে এই মুহুর্তে শুকনা কাপড় নেই। আর এই মানুষ গুলোকেও এখন জাগানোর ইচ্ছে দু’জনের কারোর নেই।
কায়ান ফোনের লাইট জ্বেলে সেরিনকে নিয়ে রুমে চলে যায়।
এক কোণায় একটা হারিকেন ছিলো সেটাই জ্বালে কায়ান।
এরপর দু’জন বসে বিছনায়।
সেরিনের ফর্সা শরীর জুড়ে পানির ফোটা মুক্ত দানার মত চিকচিক করছে।
কায়ান তা লক্ষ করে। খুবই গুরুত্ব দিয়ে কায়ান সেগুলো দেখছিলো।
হটাৎ গলা শুঁকিয়ে আসে কায়ানের।
সে এলটা শুঁকনো ঢোক গিলে।
সেরিন ফিরে চায় কায়ানের দিকে।
কায়ান তখন সেরিনের দিকেই তাকিয়ে ছিলো। দু’জনের চোখা চোখি হয়।
দু’জন এমন ঘোর লাগা চাহনিতে দু’জনে দিকে তাকিয়ে আছে যেন এই দেখার কোন শেষ নেই৷
কায়ানের ভেতরে জ্বলতে থাকা আগুনটা লায় পেয়ে যায়৷
কায়ান একটু নিচু হয়ে সেরিনের ওষ্ঠদ্বয় আবদ্ধ করে নেয়।
সেরিন নিজের পরনের শাড়ি খামচে ধরে।
বুঝতে পারছে না সেরিন তার ভেতরে ঠিক কি বয়ে যাচ্ছে।
কায়ানের তখন নিজেকে থামানোর একটুও ইচ্ছে করছে না।
বৃষ্টি হচ্ছে ঝুম বৃষ্টি। টিনের চালে বৃষ্টির ফোটা পড়তে শব্দ করছে টুপটাপ।
সেই সাথে বজ্রপাত। বাহিরের আবহাওয়া যেমন উতলা হয়ে আছে। কায়ানের ভেতরেও ঠিক ততটাই উতলা হয়ে আছে।
কায়ানের পুরুষালি মন এখন কি চাইছে সেটা কায়ান শহ সবাই বুঝবে।
কোন পুরুষই সাধু নয়। কায়ানত মোটেই হয়। তার সাথে যদি সঙ্গে থাকে পছন্দের নারী। তাহলেত কথাই নেই।
কায়ানের হাত অজান্তেই সেরিনের শাড়ি ভেদ করে ভেতরে চলে যায়।
সেরিনের ধ্যান ফিরে।
সেরিন তখন কায়ানের বুকে হাত রেখে কায়ানকে বাঁধা দেয়।
কায়ান মাথা তুলে। সেরিন ঘনঘন নিঃশ্বাস নিচ্ছে। সেই সাথে ওর বুক ওঠানামা করছে।
সেরিন মাথা নাড়িয়ে না করে।
কায়ান বিনা বাক্যে সরে আসে।
যদিও তার কষ্ট হচ্ছিলো। এবং তার ভেতরে বাহিরের থেকেও ভয়ঙ্কর ঝড় চলছিলো। কিন্তু সিকদার কায়ান মাহবুব ভালোবাসে সেরিনকে।
ন্যায্য সম্মানে সেরিনকে নিজের করে নেবে। এভাবে কোন সুযোগ নিয়ে নয়।
কায়ান বেশ দুরত্বে গিয়ে ওপাশ ফিরে শুয়ে পড়ে।
তখনই দমকা হাওয়া এসে আচমকা হারিকেন টা নিভিয়ে দিয়ে যায়।
সেরিন তখনো ওভাবে শুয়ে ছিলো।
এমন সময় বিকট শব্দের বজ্রপাত ঘটে।
সেরিন ভীষণ ভয় পেয়ে কায়ানকে জড়িয়ে ধরে শক্ত করে।
কায়ান অবাক হয়। এমন সময় আরেকটা বজ্রপাত। যেন আশেপাশে কোথাও ঘটেছে বজ্রপাত।
কায়ান ফিরে সেরিনকে জড়িয়ে ধরে শক্ত করে।
সেরিন চোখ বন্ধ করে কায়ানের বুকের সাথে লেপ্টে থাকে। যেন কায়ান ছেড়ে দিলেই সেরিনকে কেউ নিয়ে যাবে।
বজ্রপাত হলে সেরিনের এই ভয়টা করে সব সময়।। তাইত বৃষ্টির দিনে মা সব সময় সেরিনের সাথেই থাকে৷
কায়ানের শরীরের পুরুষালি ঘ্রাণ সেরিনকে শান্ত করছে।
সেরিন ঘুমিয়ে যায় নীরবে৷
কায়ান জড়িয়ে রাখে সেরিনকে সারাটা রাত৷
বিরাট ঝড়বৃষ্টি শেষে পর দিন নতুন ভোর হয়৷
আকাশে তখনো মেঘের ঘনঘটা।
চারিদিকে বৃষ্টিতে যেন সব ধুয়ে সাফ হয়ে গিয়েছে৷
সকাল সকাল ঘুম ভাঙতে সেরিন অনুভব করে সে কায়ানকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে রেখেছে।
কায়ানও তাকে সেফলি ধরে রেখেছে। সেরিন লজ্জা পায়। সাথে কাল রাতে ঘটা ঘটনাও তার মনে পড়ে। সেদিনের গাল লাল হয়ে যায়। পরনের কাপড় শুকিয়ে গেছে কাল রাতে।
সেরিন ধিরে নিজেকে কায়ানের থেকে ছাড়িয়ে নেয়৷
রুমের পেছন দিকের জানালাটা খুলে বাহিরে দেখে সেরিন।
অনেকটা বেলা হলেও বাহিরে মেঘের জন্য মনে হচ্ছে সবে মাত্র ভোর হয়েছে।
সেরিন দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
হটাৎ এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ কেন হলো।
সেরিন কায়ানকে রেখে বেরিয়ে যায় রুম থেকে।
মনিরা বেগম রান্না করছিলেন। সেরিন ফ্রেশ হয়ে মনিরা বেগমের কাছে চলে যায়৷
পিড়ে পেতে বসে মনিরা বেগমের রান্নার পাশে,
“কি রান্না করছেন?”
মনিরা বেগম হেসে উত্তর দিলেন,
“খিচুড়ি।”
“বাহ বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি।”
“হ তোরাত আজ চইলা যাবি।।তোর চাচা সকালে বাজার থেইকা গুরুর গোস্ত কিনা আনছে।”
“আল্লাহ কেন? আমরাত বাড়িতে যেটা আছে সেটাই খেয়ে নিতাম।”
“তা বললে হয়। তুই লক্ষি বাচ্চা বউ। তোর মত একটা বেটার বউ যদি আমি পাইতাম। একটা দিন আমার ঘর ভরে রাখছিলি আনন্দে। কি সুন্দর আমার পিছ পিছ থাকছিস। আমাড কথা হুনছিস৷
কিরে বউ সময় পাইলে আসবিত কায়ানরে নিয়া এই মায়ের ধারে?”
মনিরা বেগমের চোখে আশা।
সেরিনকে বলা প্রতিটা কথা যেন অসম্ভব আদুরে।
সেরিন মৃদু হেসে জবাবা দেয়৷
“হ্যাঁ আসব৷”
মনিরা বেগম যেন আশা পেলেন।
ওরা আর যাই হোক ভুলে যাবেনা তাকে।
চলবে?
[ প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। বলার মত না তার উপর ঔষধ শেষ। এতটুকু লিখা ছিলো। আরও লিখার কথা বাট পারলাম না। ক্ষমা করিও। আমি একেবারে ভালো মুডে নাই। সকালে উঠে উল্ট পাল্টা মন্তব্য যেমন ছোট হয়েছে এত টুকু লিখে নাকি এসব দেখলে ব্লক করে দেব সব আইডি। ওয়ার্নিং]
Share On:
TAGS: কিস অফ বিট্রেয়াল, লামিয়া রহমান মেঘলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৫
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ২০
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৪৩
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৪
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ২
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ২
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩১
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩৭
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৯