Golpo romantic golpo কিস অফ বিট্রেয়াল

কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১২


কিসঅফবিট্রেয়াল

পর্ব_১২

লামিয়ারহমানমেঘলা

[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ]
বেশ অনেকটা রাস্তা সেরিন এবং কায়ানের ভেতর কোন কথা হলোনা।
দু’জন যেন নিস্তব্ধতা পালন করছে।
সময়ের সাথে গাড়িটাও সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
সেরিন বুঝলো চট্টগ্রাম শহরটা তারা পার করে ফেলেছে। ততক্ষণে বিকালের আলো টুকু ঢলে যাচ্ছে পশ্চিম দিকে।
সেরিন নিশ্চিত হয় সন্ধ্যা নামছে ধরণী জুড়ে।
ওদিকে বহু তামঝাম করে সে বাড়ির পথেত ফিরেছে কিন্তু দুপুরে লাঞ্চ টা করা হয়নি।
পেটের ভেতর ছুঁচো ডন মারছে। এদিকে মুখ ফুটে কিছু বলবে সেটাও পরছে না৷
সেরিন একবার কায়ানের দিকে চায়৷
কায়ান সোজা তাকিয়ে ড্রাইভ করছে কোন কিছুই বোঝা যাচ্ছে না তাকে দেখে এই মুহুর্তে।
সেরিন দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
গাড়ির সিটে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে নেয়৷

কিছুক্ষণ সোজা তাকিয়ে ড্রাইভ করতে করতে কায়ান লুকিং গ্লাসে লক্ষ করে। বেশ কিছুক্ষণ ধরেই পেছন থেকে একটি কালো গাড়ি তাদের ফলো করছে৷
এতক্ষণে তারা ৫ টা মোড় পেরিয়েছে কিন্তু কালো গাড়িটা কোন মোড়েই তাদের পিছু ছাড়েনি।
কায়ান ড্রাইভ করতে করতে ফোনটা হাতে নেয়। কিছু একটা ম্যাসেজ করে ফের ড্রাইভিং- এ মনোযোগী হয়।
সেরিনদের বাড়ির পথে বেশ নির্জন একটা জঙ্গল পড়ে।
শহর থেকে বের হয়ে এই জঙ্গলটা প্রায় বহুদুর পর্যন্ত বিস্তৃত। এই জঙ্গলে কোন বাড়ি নেই। আশেপাশে জনমানবহীন। জঙ্গলের মাঝে পাকাপোক্ত রাস্তা চলে গিয়েছে গন্তব্যের দিকে।
সেই রাস্তা ধরেই এগোচ্ছে কায়ানের গাড়ি।
সন্ধ্যা নেমেছে চারিদিকে।
কেমন একটা থমথমে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
সেরিন গায়ে জড়ানো ওড়নাটা নিজের চারিদিকে জড়িয়ে নেয়। বেশ ঠান্ডা লাগছে তার।
কায়ান বিষয়টা লক্ষ করে গাড়ির গ্লাস উঠিয়ে দেয়।
এতক্ষণ রোদ ছিলো তাই গ্লাসটা নামানোই ছিলো।
সেরিন একটা বিষয় খুব ভালো বুঝে কায়ান নামক এই মানুটা ছোট খাটো বিষয় গুলোও খুব পর্যবেক্ষণ করে৷
সামান্য একটা দাগ যেটা চোখে পড়ার নয় সেটাও তার চোখে পড়ে। চুলের মাঝে একটা আনহেলদি চুল সেটাও লক্ষ করে। একটা সামান্য চুল পরিমাণ বিষয়ও যে কায়ান খুব গভীর ভাবে লক্ষ করে।
সেরিন সে সব ভাবতে ভাবতে দীর্ঘশ্বাস ফেলে৷
রাস্তাটা নিস্তব্ধ। আশেপাশে তেমন কোন গাড়ি দেখা যাচ্ছে না৷
বহুক্ষেত্রিক পর একটা দু’টো আসছে এই আরকি।
তবে হটাৎ করেই সামনে থেকে বিশাল সাইজের বেশ কয়টা গাড়ি এসে কায়ানের গাড়িকে ঘিরে ধরে।
কায়ান উপায় না পেয়ে ব্রেক করে।
ব্রেক এতটা জোরে ছিলো যে সেরিন সিটবেল্ট থাকা অবস্থায় ও ছুটে গিয়েছে সামনের দিকে।
কায়ান ব্রেক করে নিজের চারিদিকে দেখে।
তারা আরটা পড়ে গেছে।
সেরিন মাথাটা উঠিয়ে নিজেদের চারিদিকে চোখ বুলায়।
সেরিনের চোখ বড় বড় হয়ে গিয়েছে। সে কায়ানের দিকে তাকায়৷
কায়ান দেখতে পায় গাড়ির ভেরত থেকে লম্বা লম্বা হকিস্টিক হাতে বেশ কিছু মানুষ বের হচ্ছে।
সেরিন পুরো সিচুয়েশন দেখে ঘাবড়ে গিয়েছে।
কায়ান গাড়িস স্টেয়ারিং শক্ত করে চেপে ধরে। এরপর সেরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,

“সেরিন, জাস্ট ট্রাস্ট মি ওকে। “

সেরিন মাথা নাড়ায়৷
কায়ান শক্ত হাতে স্টেরিং ধরে জঙ্গলের ভেতরে নেমে যায়।
সামনের লোক গুলো হটাৎ করেই কায়ানের কান্ড দেখে হতভম্ব। ওরা বুঝে নিজেদের গাড়িতে উঠতে উঠতে কায়ানের গাড়িটা বেশ দুরে চলে গিয়েছে।

“ওই সব, ওদের ফলো কর। সালারা বেরিয়ে গেলো।’

সবাই যে যার গাড়িতে উঠে জঙ্গলের দিকে অগ্রসর হয়।
তবে চ্যালেঞ্জ কমেনি। জঙ্গলের ভেতর কোন রাস্তা নেই। পাকা কাঁচা কেন প্রকার রাস্তাই নেই।
বড় বড় গাছে পরিপূর্ণ চারিদিকে।
গাড়িটা বের করার কোন জায়গা নেই দু পাশে।
কায়ান কিছুদুর গিয়ে গাড়ি থামিয়ে দেয়।
এর থেকে ভেতরে গাড়ি নিয়ে যাওয়া সম্ভব না।
ওদিকে পেছনে ওরা আসছে এটাত সাভাবিক।
গাড়ির ভেতর থাকাটা মোটেই সুরক্ষিত না।
কায়ান দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে একটা ব্যাগ নিয়ে নেয় হাতে।
এরপর সেরিনের হাত শক্ত করে ধরে জঙ্গলের ভেতরে দৌড় শুরু করে।
সেরিনও দৌড়াচ্ছে। তবে ওরা কারা কেন এসেছে কিছুই জানেনা সেরিন।
কায়ান এত গুলো ছেলের সাথে কোন ভাবেই পেরে উঠবে না। একা থাকলেও রিক্স নেওয়া যায়। কিন্তু ওদের মাঝে কেউ যদি সেরিনের ক্ষতি করার চেষ্টা করে। তখন কি হবে।
কায়ানের মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। নিজের জন্য কখনো এতটা ভয় পায়নি সে।
কায়ান এবং সেরিন দৌড়াতে দৌড়াতে বেশ অনেকটা ভেতরে চলে এসেছে।
মাটির উঁচু উঁচু টিলা। পাহাড়ের মত।
কায়ান সেরিনকে নিয়ে একটা টিলার নিচে বসে।
সেরিন, কায়ানের বুকের সাথে লেপ্টে যায়। এই মুহুর্তে দু’জনই হাপাচ্ছে।
সেরিনের পায়ে আঘাত পেয়েছে। সেরিন চোখ খিচে বন্ধ করে নেয়।

“উফ।”

কায়ান, পাশে তাকিয়ে দেখার চেষ্টা করছিলো কেউ পেছনে আসছে কিনা। যদিও পুরোই অন্ধকার দেখার মত কিছুই নেই।
হটাৎ সেরিনের মৃদু আর্তনাদে কায়ান ফিরে তাকায়।

“কি হয়েছে?”

সেরিন, কাঁদো কন্ঠে জাবাব দেয়,

“পাহ।”

কায়ান পকেট থেকে ফোন বের করে ফ্লাস অন করে সেরিনের পায়ের দিকে ধরে।
কেটে গিয়েছে বেশ খানিকটা৷
কায়ান কিছু বলতে যাবে তার আগেই পেছন থেকে শব্দ শোনা গেলো।
কায়ান দ্রুত ফ্লাস বন্ধ করে সেরিনকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে।
সেরিনের মুখে হাত দিয়ে চেপে ধরে। সেরিনও ভয় পেয়ে আছে বিড়াল ছানার মত লেপ্টে যায় কায়ানের বুকের সাথে৷।
কায়ান কিছুক্ষণ ওভাবেই চুপ থাকে।

ওদিকে,

“এই গেলো কোথায় এতটুকু সময়ের ভেতর। সবাই আলাদা আলাদা হয়ে খোঁজ।”

“গাড়িত ওই খানে ফেলেছে বেশি দুরে যেতে পারেনি৷”

ওদের ভেতর মোটা লম্বা কালো মত ব্যক্তিটা বলে ওঠে,

“হ্যাঁ বেশি দুর যায় নি। তোরা ওই দিকে যা আর তোরা ওই দিকে। ওই মাইয়া টাকে পাইলে আটকে ফেলতে বলেছে ম্যাডাম।”

“আচ্ছা।”

ওরা সবাই দু ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়।
সেরিন শক্ত করে কায়ানের সার্ট খামচে ধরে।
কায়ান, সেরিনের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর জঙ্গল পুনরায় নীরব হয়ে যায়৷
সেরিন হেঁচকি তুলে ওঠে। কায়ান ফের ফোনের লাইট জ্বালে।
সেরিন, কায়ানের হাত ধরে বলে,

“ক কেন আ আমাকে খুঁজছে? আ আমি কিছু করিনি বিশ্বাস করুন৷”

কায়ান, সেরিনকে জড়িয়ে নেয় পুনরায়৷

“আমি জানি তুমি কিছু করোনি শান্ত হও।”

“ওরা কেন আমাকে খুঁজছে তাহলে?”

“ওরা দুষ্টু ডাইনির লোক। চিন্তা করোনা আমি আছিত সব ঠিক হয়ে যাবে।”

“আমিত হাঁটতে পারছি না কি করব?”

কায়ান ফোনের দিকে তাকায়। একটা দাগ নেটওয়ার্ক নেই। কায়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফোনটা পকেটে গুঁজে সেরিনকে পাজকোলে তুলে নেয়।

“আপনার কষ্ট হয়ে যাবে না? “

“এত টুকুনত শরীর তোমার। কিসের কষ্ট? “

কায়ান হাঁটা ধরে সামনের দিকে।
সেরিন চুপচাপ থাকে। কোন কথা বলেনা।
বেশ অনেকটা দুর এগিয়ে যাওয়ার পর সব কিছুই নিস্তব্ধ।
অন্ধকারে আর কত এগোবে তারা।
কায়ান ভেবেছিলো তারা ঠিক সামনের দিকে মোড়ের রাস্তাটা পেয়ে যাবে।
কিন্তু না যত এগোচ্ছে জঙ্গল তত ঘন হচ্ছে।
কায়ানের এবার ভেতর থেকে ভয় লাগতে শুরু করে।
এই জঙ্গলের ভেতর সেরিনকে নিয়ে সে করবে টা কি।
কায়ান পকেট থেকে ফোন বের করে পুনরায় ফ্লাস অন করে।
সামনের দিকে একটা বিশাল মত পরিত্যক্ত গোডাউন রুম।
চারিদিকে অর্ধেক ইট দিয়ে গড়া। দেখেই বোঝা যাচ্ছে কোন এক সময় পুরাতন আমলে তৈরি হয়েছিলো এই গোডাউন। তবে জঙ্গলের ভেতর গোডাউন৷ কিন্তু এখন কিছু ভাবার সময় নেই।
কায়ান ভেতরে চলে যায় সেরিনকে নিয়ে।
ভেতরে বিশাল এড়িয়া জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নানান পরগাছা।
কায়ান, সেরিনকে ফ্লোরে বসায়।
ফোনটা নিয়ে সেরিনের ক্ষত এর দিকে দেখে।
কায়ানের কাছে একটা ব্যাগ ছিলো তা থেকেই একটা অন টাইম ব্যান্ডেজ বের করে লাগিয়ে দেয় ক্ষতস্থানে।

“এটা কোথায় ছিলো?”

“গাড়িতে থাকে সব সময়৷”

“এটা আমারা কোথায় এসেছি?”

সেরিনের প্রশ্ন শুনে কায়ান অবাক। সে কিভাবে জানবে তারা কোথায় আছে। একেত অন্ধকার আলো নেই। তার উপরে এমন একটা সিচুয়েশন।
কায়ান ঘেমে নেয়ে একাকার।

“আমি কিভাবে জানব সেরিন? তুমিও যেখানে আমিও সেখানে।”

“দেখুন না কল করতে পারেন নাকি কাউকে।”

“নেটওয়ার্ক নেই!”

সেরিন ভ্রু কুঁচকে তাকায়,

“আমাকে দিন আমি একটু ট্রায় করি। “

কায়ান বেশ বিরক্ত হয়। সেরিনের হাতে ফোনটা ধরিয়ে পাশে বসে সেরিনের।
সেরিন বেশ কিছুটা সময় চেষ্টা করে পারেনা কিছু করতে।

“নাহ হচ্ছে না৷”

“আমিত বলেছিলাম হবেনা৷”

“কেন যে আসতে গেলাম আজকে। আচ্ছা ওরা কারা?”

কায়ান ভ্রু কুঁচকে তাকায়,

“আমি জানি ওরা কারা?”

“এখন কি হবে?”

“জানিনা৷ “

“এখানে থাকব নাকি?”

“বের হতে পারলে হও৷’

সেরিন, কায়ানের ত্যাড়া কথা শুনে মুখ ঘুরিয়ে নেয়। কায়ান অবাক হয়। মেয়ে মানুষের মন বোঝা আসলেই কঠিন একটু আগেওত ঠিক ছিলো। এখন কি হলো। দেখো মহারানী আবার মুখ ফিরিয়ে নিলেন।
কায়ান পকেট থেকে চকলেট বের করে সেরিনের দিকে ধরে,

” খেয়ে নেও। ঠান্ডা লাগছে?”

সেরিনের কোন উত্তর নেই। ভারি রাগ হলো কায়ানের। কোথা রাগ হবে সে। তা না এই মেয়ে মুখ ফুলিয়ে বসে আছে।
কায়ান বিরক্ত কন্ঠে বলল,

“সেরিন লাস্ট টাইম জিজ্ঞেস করছি, ঠান্ডা লাগছে? এটা খাবে কি না? “

অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে রেখেই বলে,

“খ খাব না। লাগছে না আমার ঠান্ডা।”

কায়ান চোয়াল শক্ত করে কটমট করতে করতে বলে,

“এমন একটা সিচুয়েশনে তুমি কি চাইছো? আমি চলে যাই?”

“হ্যাঁ ত জান না ঠেকিয়েছে কে? চলে জান। লাগবে না আমার কাউকে “

কায়ান একটা সিঙ্গেল শব্দ উচ্চারণ করলো না। সে জঙ্গলের অন্ধকারের ভেতর কোথায় গেলো বোঝা গেলোনা তবে সেরিনের সামনে থাকলো না।
কায়ান চলে গেছে অনুভব করে সেরিনের কাঁপা কপি শুরু হয়ে যায়। চারিদিকে নিস্তব্ধতা এই জঙ্গলের মাঝে ওকে একা রেখে চলে গেলো৷ সেরিন কাঁপা কন্ঠে কায়ানকে ডেকে ওঠে,

“এ এটা কেমন কথা? এমনিতেত কখনো এমন করেন না। আমি বললে কি আমাকে ছেড়ে দেন নাকি? এখন কেথায় গেলেন? শুনছেন ফিরে আসুন৷ “

সেরিন উঠে দাঁড়ায়।
পায়ে যন্ত্রণা ভীষণ।
সেরিন এবার কান্না করতে করতে বলে,

“ক কোথায় গেলেন? ফিরে আসুন। কোথায় গেলেন?”

সেরিন হেটে এগোতে গেলে কিছুর সাথে ধাক্কা খায়। অন্ধকারে পড়ে যেতে নিকে কেউ শক্ত করে ধরে বসে সেরিনকে।
সেরিন জানে এটা কে। হটাৎ করেই বড্ড আহ্লাদ হলো তার৷
সে লেপ্টে গেলো কায়ানের বুকের সাথে।
কায়ান মৃদু হেসে সেরিনের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।

“রিলাক্স আমি আছি৷”

সেরিন ফুঁপিয়ে ওঠে।
কায়ান সেরিনকে বসায় নিচে।
পকেট থেকে চকলেট নিয়ে সেরিনকে এগিয়ে দেয়।
সেরিন নিয়ে নেয় চকলেট টা৷
হেঁচকি তুলতে তুলতে খাওয়া শুরু করে। আর প্রশ্ন করে,

“এরা কাদের লোক?”

“মেহেরীণের৷”

সেরিনের খাওয়া বন্ধ হয়ে গেলো। সে খাওয়া বাদ দিয়ে কায়ানের দিকে ফিরে তাকালো। কায়ানের ফোনের ফ্লাসে দু’জনের মুখ মৃদু উচ্চল দেখা যাচ্ছে।

চলবে?

[ প্রিয়তম পাঠক পাঠিকা। সত্যি বলতে প্রচন্ড অসুস্থ সোনারা। এত ঠান্ডা লেগেছে নিঃশ্বাস নিতে ভীষণ কষ্ট হয়। এত অসুস্থতা নিয়েও লিখে দিলাম দয়া করে রেসপন্স করিও ]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply