Golpo romantic golpo কিস অফ বিট্রেয়াল

কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১০


কিসঅফবিট্রেয়াল

পর্ব_১০

লামিয়ারহমানমেঘলা

[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ]

শিমুলের রুমে বসে আছে সেরিন। একটু অন্যমনস্ক হয়েই বসে আছে সে।
সকাল সকাল মাহমুদ চলে গিয়েছে নিজের বাড়িতে।
সেরিন ভাবে তারও এখন যাওয়ার সময়। ভাবতে ভাবতে হটাৎ শিমুল সেরিনকে ডাক দেয়,

“সেরিন। কি ভাবছিস তখন থেকে?”

সেরিন ফিরে চায় বোনের দিকে। সেরিন প্রতিত্তোরে বলে,

“কই কিছু নাত।”

” চলত নিচে চল। আম্মা বেগম ডাকলেন বোধ-হয়।”

“আপু।”

“হ্যা?”

“কিছু কথা আছে।”

“তুই নিচে চল। আম্মা বেগমের কথা, শুনে আসি আগে।”

সেরিন দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
দু’জন নিচে চলে আসে।
বানু মির্জা, আহি, মেহেরীণ সবাই বসে লিভিং রুমে।
শিমুল গিয়ে বানু মির্জার পাশে বসে।
বানু মির্জা সেরিনকে দেখে মিষ্টি হেসে নিজের অন্য পাশে বসতে বলে,

” এসো সেরিন আমার পাশে বসো মা।”

সেরিন এগিয়ে গিয়ে বানু মির্জার অন্য পাশে বসে।

“তারপর সেরিন বলো তুমি, দিন কেমন কাটছে এখানে?”

সেরিন ফিরে চায়। তার দিন কাটছে, শুরু কায়ান শেষ কায়ান। কায়ানে কায়ানে পরিপূর্ণ।
ভাবতে ভাবতে সেরিন দীর্ঘশ্বাস ফেলে।

“আন্টি, আলহামদুলিল্লাহ ভালোই। কিন্তু আমি আজ চলে যাব ভাবছি।”

বানু মির্জা অবাক হলেন কিছুটা । তিনি সেরিনের মাথায় হাত রেখে বললেন,

“কেন মা যাবে কেন? ভালো লাগছে না সিকদার নিবাস। তুমিত আসোই না। আর তা ছাড়া কিছু দিন পর থেকেত এখানেই থাকতে হবে। ত চলে যাবে কেন?”

সেরিন মাথা নুইয়ে নেয়,

“সেটা অন্য বিষয়। তখন আসা যাবে। এখনত বাড়িতে যাব।”

শিমুল অবাক হয় বোনের কথা শুনে।

“সেরিন, আম্মা বেগম এত মিষ্টি করে বলছে তুমি কেন এভাবে বলছো?”

সেরিন মাথা তুলে তাকায়।
সে কিছু বলবে তার আগেই মেহেরীণ বলে,

“আহা হয়ত সেরিন সেদিনের জন্য আপসেট। আই এম সরি সেরিন জারিফ, জিনু তোমারও বাচ্চা বিশ্বাস করো। আমি সেদিন একটু ফেডাপ ছিলাম৷”

সেরিন অবাক হয়। সেত এমন কিছু ভাবছিলোই না৷
বানু মির্জা ভ্রু কুঁচকে তাকায়,

“কি বলেছো তুমি সেরিনকে?”

“কিছু বলিনি আম্মা বেগম। সে দিন একটু বোন হিসাবে বকুনি দিয়েছিলাম৷”..

” না না ভাবি আপনার কথায় কিছু মনে করিনি। আমিত এমনিতেই যাব। আপুকে আজ বলতে নিলাম ত আন্টি ডাকল তাই নিচে চলে এসেছি।”

শিমুল, সেরিনের কথার উত্তর দেয়,

“সেরিন তোকে আমি একা কিভাবে ছাড়ব? আসার সময়ত তোর ভাইয়া নিয়ে এসেছিলো৷”

” আমি যেতে পারব আপু।”

বানু মির্জা সেরিনকে উত্তেজিত হতে দেখে সেরিনের হাতে হাত রাখে।

“সেরিন শান্ত হও। দু দিন পর রেজাল্ট দিবে তোমার। তখনত এমনিতেও এখানেই থাকতে হবে।”

সেরিন, শান্ত হতে চাইলেও পারছে না। তবে সে শান্ত কন্ঠে উত্তর দেয়,

“আসলে, বাড়িতে যেতে পারলে ভালো হতো। এমনিতে কিছু না৷”

মেহেরীণ প্রতিত্তোরে বলে,

“সেরিন ঘুরে নেও। এরপর ভার্সিটিতে উঠলে বহুত প্যারা বোন৷”

মেহেরীণকে আজ আলাদা লাগছে সেরিনের। কিছুদিন আগে করা আচরণের সাথে আজকের মেহেরীণের কোন মিল নেই।
সেরিন দীর্ঘশ্বাস ফেলে। মনে মনে ভাবে মেহেরীণকে সে যদি কায়ানের কথাটা বলে তবে হয়ত কোন কাজ হতে পারে।
ওদিকে মা বাবাকে এত দুরে থেকে কিছু বলতেও পারছে না। মেহেরীণ হয়ত সেদিন সত্যি স্ট্রেস এ ছিলো। তাই হয়ত ওমন আচরণ করেছে।
এমনিতে মেহেরীণের চরিত্র টা তার হৃদয়ে সুন্দর একটা চরিত্র। মেহেরীণ হয়ত বিষয়টা বুঝবে।
সেরিন মনে মনে ঠিক করে আজ সে মেহেরীণকে বলবে সবটা।

সবার আবদারে আর একটা দিন থাকতে রাজি হয় সেরিন। কাল চলে যাবে। আহি কিছুটা এগিয়ে দেবে।


আজ সকালের পর থেকে কায়ানকে দেখেনি সেরিন। হয়ত অফিস গেছে। ওদিকে জেবরানত বহুত আগেই অফিস চলে গেছে।
দুপুরে লাঞ্চ করার পর মেহেরীণ তার রুমে ছিলো। সেরিন ভাবে এটাই সুযোগ।
তাকে কথা বলতে হবে।
সেরিন ভাবতে ভাবতে মেহেরীণের দরজায় টোকা দেয়। মেহেরীণ ভেতর থেকে আওয়াজ দেয়।

“কে ভেতরে এসো।”

সেরিন ভেতরে প্রবেশ করে। মেহেরীণ বিছনায় বসে ফোন দেখছে।
সেরিন এগিয়ে গিয়ে বলে,

” ভাবি।”

মেহেরীণ ফোন থেকে মাথা উঠিয়ে সেরিনের দিকে তাকায়। সেরিনকে দেখে গাল ভরা হাসি দিয়ে বলে,

“বসো বসো। কি খবর বলো?”

সেরিন বসে বিছনার এক কোণায়।

“ভাবি কিছু কথা বলতাম৷”.

সেরিনের মুখশ্রী দেখে মেহেরীণ কিছু আন্দাজত করতে পেরেছে।
মেহেরীণ সেরিনের হাতে হাত রাখে,

” কি বলবা সেরিন? কিছু হয়েছে আপু? আমাকে নিরদ্বিধায় বলতে পারো কি হয়েছে”

মেহেরীণের এ কথায় সেরিন আরও সাহস পেলো।
সে একটা শুঁকনো ঢোক গিলে বলতে শুরু করলো,

“ভাবি আসলে, সেদিন যখন আপনাদের ছবি তুলতে গেছিলাম সে দিন দেখি, ক কায়ান ভাইয়ার ফোনে।”

মেহেরীণ ভ্রু কুঁচকে তাকায়।
সেরিন ঘামছে প্রচন্ড। মেহেরীণ সেরিনের কপালের ঘাম মুছিয়ে দিয়ে বলে,

“ফোনে কি?”

“ও ওই ছবি আমার ছবি। ক কায়ান ভাইয়া ডি ডিসটার্বং মুডে থাকে সব সময়৷আ আমাকে, আ আমার মনে হয় উনি, আমাকে ব্যাড টাচ। “

পুরো কথাটা শেষ হবার আগেই সেরিনের গালে পড়ল চড়। সেরিন চোখ বড় বড় করে তাকায় চড়টা খেয়ে। মেহেরীণ রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে।
সেরিন কিছু বুঝে ওঠার আগেই মেহেরীণ ওর হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে,

“খবরদার আমার স্বামীর বিষয়ে এমন কিছু উচ্চারণ করবে না সেরিন। তুমি কি বলছো ভেবে বলছো? আমাকে বলেছো বলেছো। আর কাউকে বলোনা সেরিন। তুমি জানো কায়ান আমাকে কত ভালোবাসে। কাল রাতেও আমরা ইন্টিমেট হয়েছি৷”

সেরিনের চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। সে ছলছল দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মেহেরীণের দিকে। মেহেরীণ এটা মিথ্যা বলল ডাহা মিথ্যা কাল রাতে কায়ান ছিলো সেরিনের রুমে। সেটা সেরিন অবশ্য পুরোপুরি জানেনা।

“ও আমাকে যতটা ভালোবাসে, আমি ব্যাতিত অন্য কারোর দিকে তাকাবে। এটা সম্ভব না। এ কথা ভুলেও আম্মা বেগমের সামনে বলোনা। তোমারত খারাপ হবেই সাথে তোমার বোনের সংসার। তুমি এই অভিযোগ করার সাথে সাথে আম্মা বেগম তোমার বোনকে এ বাড়ি থেকে বেরিয়ে দেবে। তোমার হয়ত খারাপ লাগছে। তুমি এক কাজ করো কাল চলে যাও। মনটা ভালো হবে। এসব চিন্তা আর করবে না। এসব নিয়ে ভেবো না। বুঝোইত বোনের সংসার যেখানে সেখানে তুমি এমন একটা মানুষের সম্পর্কে এসব বলছো যে ইনোসেন্ট। আমার কায়ান সত্যি ইনোসেন্ট সেরিন। “

কথা গুলো শেষ করে মেহেরীণ সেরিনের গালে আলোত করে হাত রাখে।

“সেরিন দেখো আই এম সরি, চড়টা রাগে মেরে ফেলেছি। লক্ষি বোন আমার। আমার ওমন স্বামীর উপর এমন কিছু এলেগেশন এনো না। যেটা আমি সইতে পারব না।”

সেরিনের ভেতরে জাগতে থাকা আশা টুকু ফুরিয়ে গেলো নিমিষেই।
সে আর কোন কথা না বলে উঠে রুম ত্যাগ করলো।
মেহেরীণ, সেরিনের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রয়। বাঁকা হাসে সে।

“সিকদার কায়ান মাহাবুব, আমার চালটা আমি চেলে দিলাম।”


সেরিনের মনের ভেতর নানা ধরনের বিষয় উতল পাতাল খাচ্ছে।
কিছুই ভেবে পারছে না কি ঘটছে তার সাথে।

সেরিন রুমে গিয়ে বসে।
মাথাটা ঝিমঝিম করছে।
এত চিন্তা এক সাথে নিলে কিভাবে হবে।
নাহ বাড়িতে তাকে যেতেই হবে। বাড়িতে না গেলে যে আর হচ্ছে না। মাকে সব বলবে সেরিন।

“নালিশ করা শেষ ডার্লিং।”.

হটাৎ থমথমে রাগান্বিত কন্ঠ শুনে সেরিন ভয় পেয়ে যায়। সে ফিরে চায় আওয়াজ যে দিক থেকে এসেছে ওই দিকে।
কায়ান দাঁড়িয়ে পকেটেছে হাত গুঁজে।
কালো সার্ট আর অফ হোয়াইট রঙা প্যান্ট তার পরনে। চোখ দু’টো শান্ত কিন্তু আগাম ঝড়ের আভাস।

সেরিন একটা শুঁকনো ঢোক গিলে। সে একটু পিছিয়ে গিয়ে বলে,

” কি নালিশ? আপনি কি সব আগে থেকেই জানতেন?”

কায়ান এগিয়ে গিয়ে, সেরিনের চুলের মুঠি শক্ত করে চেপে ধরে। সেরিন ব্যাথায় চোখ খিঁচে বন্ধ করে নেয়।

“আহ……”

কায়ানের এই মুহুর্তে রাগ হচ্ছে, সেরিনের গালে চড়ের লাল দাগ দেখে।
মেহেরীণ যে সাহস পেয়েছে সেরিনের গায়ে হাত তুলতে। এটা সেরিন দিয়েছে। সেরিন গিয়ে না বললে এমনটা হতোই না।
সে শক্ত করে সেরিনের লম্বা চুল গুলো চেপে ধরে, সেরিনের গালে হাত রাখে।
আলতো হাতে স্পর্শ করতে করতে বলে,

“কেন? কেন অন্য কেউ এই গালে চড় দিবে? এই অধিকারত আমার। এই পুরো শরীরের উপর অধিকার শুধুমাত্র আমার। কেন অন্য কেউ সাহস পাবে? তুই কেন ওকে এসব বলতে গেলি? তোকে আমি বলেছি না। তুই আমার। তুই কেন এত অবাধ্য সেরিন? আমাকে রাগাতে খুব ভালোবাসিস তুই?”

সেরিন মাথা এদিক ওদিক করছে।
তার এই মুহুর্তে কিছু বলার মত শক্তি নেই।
কায়ান, সেরিনের গালে ওষ্ঠ ছোঁয়ায়,

“কেন কেউ মারবে তোকে? সে অধিকার আমি কাউকে দেইনি। দেইনি।”

সেরিন, চোখ দু’টো খিঁচে বন্ধ করে রাখে।
কায়ান, সেদিনের কপালে চুমু খায়। চুল গুলো ছেড়ে দেয়। সেরিন হাফ ছাড়ে। প্রচন্ড যন্ত্রণা হচ্ছিলো তার।

“তুই জানিস, আমি খুব সহজে রেগে যাই। তাহলে রাগের কাজটা কেন করিস?”

সেরিন, ফুঁপিয়ে ওঠে,

“আ আপনি এমন কেন করছেন?”

কায়ান, সেরিনের কপালে কপাল ঠেকায়।

“আমার দুরত্ব এক দিন তোকে বেশি কাঁদাবে সেরিন। আমারে না পাইলে একদিন তুই কষ্ট পাবি।
সে দিন তোরে কষ্ট দিব সেরিন। দেখিস তোরে ঠিক কষ্ট দেব সে দিন। আমারে পোড়াচ্ছিস তুই। জ্বালায় দিচ্ছিস আমার দুনিয়া। দেখিস তোরেও একদিন পুড়াব আমি।”

“আপনার দাবানলে এখনো আমি পুড়ছি।”

সেরিনের কথাটা শুনে কায়ান, সেরিনের ঠোঁট দু’টোয় , আঙ্গুল ছোঁয়ায়।

“এই গালটা খুব বেশি বাজে কথা বলে।”

এমন একটা সিচুয়েশনেও সেরিন কনফিউজড হয়ে তাকায়। কায়ান কি বলছে এগুলো উধভট।

কায়ান ছাড়ে সেরিনকে। ওকে উঠিয়ে গাল থেকে চুল সিরয়ে, চোখের পানি মুছিয়ে দেয়।

“কেঁদো না। কাল নিয়ে যাব তোমাকে তোমার বাড়িতে। দিয়ে আসব থেকো সেখানে। তবে একটা কথা শেষ কিছুদিন থেকে এসো।
যে দিন পার্মানেন্ট করে আনব না এ বাড়িতে। প্রয়োজনে পায়ে তালা দেব সেরিন।
আমার ভালোবাসা এবং আমি উভয় ভয়ঙ্কর। খারাপ রূপটা দেখতে চাইও না৷ সইতে পারবে না।”

সেরিন ফুঁপিয়ে ওঠে। কায়ান পানি ধরে দেয় সেরিনকে। এক গ্লাস পানি এক নিঃশ্বাসে শেষ করে সেরিন।

কায়ান সেরিনের কপালে চুমু খায়।
এরপর বেরিয়ে যায়।
তার চোখে ক্রোধ স্পষ্ট।

কিছু একটা সে করতে চলেছে।


জারিফ জিনুকে সাথে নিয়ে বসে আছে মেহেরীণ।
পাশেই ওদের ন্যানিও বসে।
হটাৎ করেই দরজা ঠেলে শব্দ করে কায়ান ভেতরে প্রবেশ করে।
কায়ানকে দেখে মেহেরীণ কিছু বুঝে ওঠার আগেই কায়ান গিয়ে মেহেরীণের গালে পরপর ২ টা চড় লাগিয়ে দেয়।
মেহেরীণ গালে হাত দিয়ে তাকিয়ে আছে।
বাবার এই রূপ দেখে জারিফ, জিনুও ভয় পেয়ে ন্যানিদের পেছনে লুকায়।
মেহেরীণ রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে কায়ানের দিকে।
কায়ান ন্যানিদের দিকে তাকিয়ে বলে,

“লিভ।”

ন্যানিরা জারিফ, জিনুকে নিয়ে বেরিয়ে যায় দ্রুত।
মেহেরীণ রাগে ফুঁসছে,

“তোমার সাহস কি করে আমারে গায়ে হাত তুলতে?”

“আমার কোন শখ নেই তোমাকে ছোবার। তুমি বাধ্য করেছো আমাকে। একটা কথা মেহেরীণ শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে কোন বাজে কথা বলার আগে একটা কথা মাথায় রেখো। এরপর যদি কোন আচরণ করো না। তোমাকে পতিতালয়ে ফেলো আসব। মিটিও শরীরের মজা।
আর হ্যাঁ তোমাকে কখনো ছুই নি। না কখনো ছোব।
তোমাকে ছোবার আগে মরণ কামনা করি আমি। আমার সেরিন থেকে দুরে থাকবে মেহেরীণ। সিকদার কায়ান মাহাবুব তোমার সব ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে। “

চলবে?.

[ রেসপন্স করবা ]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply