কি_আবেশে (৩০)
জেরিন_আক্তার
মেরাব স্নেহাকে নিজের কাছে নিতেই স্নেহা ঘাবড়ে গেল। স্নেহার বুক ধুরুধুরু করছে। কেমন যেনো লাগছে। স্নেহা হুট্ করে মেরাবের থেকে একটু দূরে সরে গেলো। মেরাব রেগে গিয়ে স্নেহাকে নিজের কাছে বলল,
“তুমি আগেই পজিশন নিচ্ছো! কেনো আমার কাছে আসতে ভালো লাগে না? যদি কাছে আসতে মনে না চায় তাহলে আসতে হবে না। দূরে সরো!”
বলেই মেরাব স্নেহাকে ছেড়ে দিয়ে বিছানায় থেকে নেমে গেলো। রুমের দরজার দিকে এগিয়ে গিয়ে ঠাস করে দরজা খুলে বাহিরে চলে গেলো। স্নেহা বিছানায় থেকে নেমে দরজার কাছে এসে দাড়ালো। খুব মন খারাপ হচ্ছে। স্নেহাই বা কি করবে মেরাব কিছু করতে এলেই তো ওর কেমন যেনো লাগে। স্নেহা শাড়িটা ঠিক করে রুম থেকে বের হলো। উপরে থেকেই দেখলো মেরাব নিচে যায়নি। তাহলে গেলো কোথায়? অন্য কারো রুমে গেলো নাকি? কিন্তু এত রাতে কার রুমে যাবে?
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে রুমে ফিরে এলো। রুমের লাইট জ্বালিয়ে দিয়ে বিছানায় বসলো। মেরাবের বালিশের নিচে থেকে নিজের ফোনটা বের করে মেরাবকে কল দিতে গিয়ে থেমে গেলো। মেরাবের ফোনটা তো চার্জে। স্নেহা ফোনটা রেখে দিয়ে বসে রইলো মেরাবের জন্য। স্নেহা ভাবতে লাগলো ওর এটা করা মোটেও ঠিক হয়নি। মেরাব যা চেয়েছিল তাই ভালো হতো। ইশ,কেনো যে সরে গেলো।
সেহেরীতে উঠার জন্য স্নেহার ফোনে এলার্ম বেজে উঠল। স্নেহার ঘুম ভাঙ্গতেই উঠে বসলো। পাশে মেরাবকে না পেয়ে প্রায় কেঁদেই দিলো। কাদতে কাদতে ওয়াশরুমে চলে গেলো। ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে এসে রুম থেকে বের হলো। নিচে এসে দেখলো ফাহমিদা খান উঠে গিয়েছেন। রান্না বসিয়ে দিয়েছেন। স্নেহা মনমরা হয়ে কিচেনে ঢুকলো। মেরাব কোথায় গিয়েছে যদি জানতে পারত।
রান্না শেষ হয়ে গিয়েছে। সবাই যে যার যার মতো টেবিলে বসে আছে। মেরাব ধীর পায়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামলো। স্নেহা অবাক চোখে তাকিয়ে রইলো।
মেরাব তখন রুম থেকে বেরিয়ে মৌয়ের রুমে গিয়ে শুয়ে পড়েছিলো।
মেরাব খাবার টেবিলে বসে পড়লো। স্নেহা তখনও ওকে তাকিয়ে দেখছে। ফাহমিদা খান স্নেহাকে ডেকে বললেন মেরাবকে খাবার বেড়ে দিতে। স্নেহা খাবার বেড়ে দিলো। মেরাব স্নেহার দিকে একটুও তাকালো না। বিনাবাক্যে খাওয়া শেষ করে উঠে দাড়িয়ে তার বাবাকে বলল,
“বাবা, নামাজে আগেই যেও না। আমি আসছি!”
“ঠিক আছে।”
মেরাব সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেলো। স্নেহা সেদিকে তাকিয়ে থেকে নিজে খেতে বসলো। মনে মনে নিজেকেই অপরাধী মনে হচ্ছে। কেনো যে তখন দূরে সরে গেলো। যার জন্য মেরাব কথাই বলছে না। খুব মনে হয় রেগে আছে।
মারুফুল খান আর মেরাব নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরে এলো। তখন সকাল হয়ে গিয়েছে। দুজনেই যে যার যার রুমে চলে এলো। মেরাব সোজা বিছানায় এসে শুয়ে পড়লো। খুব ঘুম পাচ্ছে। রাতে সেভাবে ঘুমাতে পারেনি। স্নেহা মেরাবের উপস্থিতি টের পেলো কিন্তু জেগে উঠলো না। ঘুমের ভান করে রইলো। দেখতে চায় মেরাব কাছে আসে কি না। মেরাব নিজের মতো পাশ ফিরে কাত হয়ে শুলো। একটু পরে আবার ঘুমিয়েও পড়লো।
সকাল এগারোটা,,, মেরাবের ঘুম ভাঙার পরে কিছুক্ষন ওভাবেই শুয়ে থেকে ফোন বের করে স্ক্রল করতে লাগলো। হোয়াটস্যাপে ঢুকে দেখলো মৌ মেসেজ দিয়েছে,,
—-ভাইয়া, তোমার বন্ধু বলছে সে আমাদের বাড়ি যাবে না। কিছুতেই রাজি করাতে পারছি না।
মেরাবের মেজাজ চট করে খারাপ হয়ে উঠলো। ফোনটা রেখে দিয়ে উঠে বসলো। এরপরে বিছানায় থেকে নেমে ওয়াশরুমে চলে গেলো। বেলা হওয়ার কারণে একবারে শাওয়ার নিয়েই বের হলো। স্নেহা তখন রুমে এলো। মেরাব আড়চোখে তাকিয়ে জামাকাপড় বের করে পড়তে শুরু করলো। মেরাব কোনো কথা না বলায় স্নেহা নিজেই তার সামনে এসে বলল,
“আমার সাথে কথা বলছেন না কেনো?”
“কি বলবো?”
“রাতে কই ছিলেন?”
“বাড়িতেই!”
“আমি তো খুঁজে পেলাম না! কোথায় ছিলেন?”
মেরাব খানিকটা রাগ নিয়ে বলল,
“বললাম না বাড়িতেই ছিলাম।”
মেরাবের শার্ট পড়া শেষ হলে ট্রাউজার হাতে নেয়।স্নেহা মেরাবের শার্ট ধরে বলল,
“আপনার কি হয়েছে বলুন তো?”
“কি হবে আবার?”
“রাতে রুমে আসলেন না যে!”
“কেনো? আসলেই বা কি হতো?”
“এমন করে কথা বলছেন কেনো?”
মেরাব কোনো উত্তর দিলো না। রেডি হয়ে চুপচাপ বেরিয়ে গেলো। মসজিদে নামাজ পড়ে গাড়ি নিয়ে নিজের মতো ঘুরে বেড়ালো। মন-মেজাজ কিছুই ঠিক লাগছে না। প্রথমত স্নেহার ওইরকম আচরণ, সবসময় দূরে দূরে থাকবে। আবার এরপরে আসিফ আর মৌকে নিয়ে আরেক ঝামেলা। সন্ধ্যায় মেরাব বাড়িতে ফিরলো না। আসিফের রেস্টুরেন্টে চলে গেলো। সেখানেই আসিফের সাথে ইফতার করবে। এদিকে বাড়িতে ইফতারের সময় সবাই বসে অপেক্ষা করছে মেরাবের জন্য। মারুফুল খান চিন্তিত হয়ে শেষমেষ ফোনই দিলেন।
“হ্যালো, মেরাব!”
“হ্যা, বাবা বলো!”
“কোথায় তুমি?”
“আছি এক জায়গায়!”
“আসতে কতক্ষন লাগবে?”
“রাত হবে?”
“কেনো?”
মেরাবের ছোট্ট উত্তর,
“ইচ্ছে করছে না।”
“ঠিক আছে। সাবধানে থাকো।”
“রাখছি!”
মেরাব ফোন রেখে আসিফের কেবিনের ডেস্কে মাথা রেখে শুলো। আসিফ রুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে মেরাবকে বলল,
“কিরে তোর কি হয়েছে রে?”
মেরাব মাথা উঠিয়ে বলল,
“আর বলিস না তো, কিছুই ভালো লাগছে না!”
আসিফ চেয়ার টেনে মেরাবের পাশে বসে আবারও বলল,
“কিছু তো হয়েছেই। কি হয়েছে বল!”
“কিছুই হয়নি রে।”
আসিফ মাথা নাড়িয়ে মশকরা করে বলে উঠলো,
“আরে ভাই হিসেবে বল না কি হয়েছে? বউ কি কাছে যেতে দেয়নি নাকি?”
মেরাবের রাগে যেনো আরও ঘি ঢেলে দিলো। আরও রেখে গিয়ে বলল,
“আজেবাজে কথা বন্ধ কর তো! ভালো লাগছে না।”
আসিফ উঠে দাড়িয়ে বলল,
“ঠিক আছে, ভাই। আর কিছু বলবো না। দাড়া ইফতার কিছু নিয়ে আসি।”
“যা!”
আসিফ যেতে যেতে বিড়বিড় বলল,
“কিজানি ভাই বুঝি না তোকে। আমার আবার আরেক সমস্যা, বিয়ে করেছি ঠিকই কিন্তু বউকে কাছে নিতেই পারিনা। বলতেও পারিনা। বউকে প্রেম-ভালোবাসা বুঝিয়ে-পড়িয়ে এরপরে কাছে নিতে হবে। কি একটা অবস্থা। ছ্যাহ! ছোট মেয়ে বিয়ে করে বিপদে পড়েছি।”
রাত দশটারও পরে মেরাব ফিরে এলো। ততক্ষনে সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। নিচে ফাহমিদা খান জেগে ছিলেন মেরাব তাকে দেখে আর জেগে থাকতে না করলেন। ফাহমিদা খান ছেলেকে দেখে কিছুটা স্বস্তির সাথে রুমে চলে গেলেন। মেরাব রুমে এসে আশেপাশে তাকিয়ে স্নেহাকে খুজলো। বেচারিকে সারাদিন দেখতে পারেনি। যার কারণে মনটাও ভালো নেই। স্নেহা রুমে নেই। ব্যালকনিতে উঁকি দিতেই চোখে পড়লো। স্নেহা মেরাবের উপস্থিতি টের পেয়ে রুমে চলে এলো। মেরাবের সামনে কাঁদো কাঁদো হয়ে বলল,
“আমার উপরে রাগ করে আছেন তাইনা? বিশ্বাস করুন আমি আর ওইরকম কিছু করবো না। আপনি যা বলবেন তাই হবে তবুও আমার থেকে দূরে দূরে থাকবেন না। প্লিজ!”
মেরাব স্নেহার হাত ছাড়িয়ে বোঝানোর কণ্ঠে বলল,
“তুমি তো দূরেই থাকতে চেয়েছো এখন থাকো! তোমার কাছে যাওয়া যখন তোমার ভালো লাগে না তাহলে নিজের মতো থাকো। এতে সমস্যা কোথায়? আর তোমার কোনো সমস্যা হওয়ার কথাও না।”
চলবে….
পরবর্তী কালকে রাত আট টায় দিবো। ইনশাআল্লাহ। পরের পার্ট একটু বড় হবে। যারা যারা পড়বে অবশ্যই রিএক্ট দিবে।
ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না। রেসপন্স করবেন!!!!!!
[হেশট্যাগ ব্যবহার ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ]
Share On:
TAGS: কি আবেশে, জেরিন আক্তার
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
কি আবেশে পর্ব ৯
-
কি আবেশে পর্ব ৭
-
কি আবেশে পর্ব ২৪
-
কি আবেশে পর্ব ৬
-
চোরাবালির পিছুটানে ৩
-
কি আবেশে পর্ব ১৪
-
চোরাবালির পিছুটানে গল্পের লিংক
-
কি আবেশে পর্ব ২
-
কি আবেশে পর্ব ১
-
কি আবেশে গল্পের লিংক