কি_আবেশে (২৮)
জেরিন_আক্তার
মেরাবকে কাশতে দেখে সাদাফ সাথে সাথে পানি এগিয়ে দিলো। ফাহমিদা খান মুখটিপে হাসছেন। স্নেহা ফাহমিদা খানের হাসি দেখে বলল,
“মামনি হাসছো কেনো?”
“তোর খুশির খবর শুনে।”
স্নেহা কপালে ভাজ ফেলে বলল,
“কি খুশির খবর?”
মেরাব স্নেহাকে থামাতে বলল,
“স্নেহা তুমি হয়তো উনার কথা বুঝতে পারোনি?”
“মানে?”
সাদাফ গলা খাকারি দিলো। ওদিকে ফাহমিদা খান হেসেই চলেছে। স্নেহা ভাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো। মেরাবের দিকে এগিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“আমি কি ভুল কিছু বলে ফেলেছি?”
“নাহ! শুধু রুমে চলো সব সুখবর কই থেকে আসে বের করবো।”
স্নেহা চুপচাপ খেয়ে উঠে কিচেনে চলে গেলো। ফাহমিদা খান সেদিকে তাকিয়ে বললেন,
“আমি সব কাজ করে নিবো তু্ই রুমে গিয়ে রেস্ট নে। সারাদিন রোজা ছিলি এখন আর এগুলো করার দরকার নেই।”
“কিচ্ছু হবে না। আর তুমিও রোজা রেখেছিলে তোমারও এতগুলো জিনিস গুছিয়ে রাখতে কষ্ট হবে। এর থেকে আমি গুছিয়ে দিয়ে রুমে যাই।”
ফাহমিদা খান কড়া গলায় বললেন,
“তোকে যেতে বলেছি মানে এই আমার শেষ কথা।”
স্নেহা মেরাবের দিকে তাকালো। মেরাব মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানিয়ে রুমে যাওয়ার জন্য ইশারা করলো। স্নেহা সিঁড়ি বেয়ে উপরে রুমে চলে গেলো। মেরাব খাওয়া শেষ করে সিঁড়ির কাছে আসতেই সাদাফ পেছনে থেকে বলে উঠলো,
“ভাইয়া, সত্যিই কি খুশির কিছু আসতে চলেছে নাকি?”
মেরাব হেয়ালি কণ্ঠে বলল,
“আরে নাহ! ও ভালো করে কথাটা না শুনেই বলেছে।”
“ওহ, আচ্ছা।”
দুজনে একসাথেই সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে এলো। সাদাফ তার ঘরে আর মেরাব নিজের ঘরে ফিরে এলো। স্নেহা বসে বসে চকলেট খাচ্ছে। মেরাব ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লো। নিজের ফোন বের করে স্ক্রল করতে লাগলো। স্নেহা হাত বাড়িয়ে চকলেট এগিয়ে দিয়ে বলল,
“খাবেন?”
“আমি চকলেট-ফকলেট খাই না।”
“একটু খান!”
“নাহ!”
“এই একটু!”
মেরাব এক ঝটকায় স্নেহাকে শুইয়ে নিজে তার উপরে উঠে যায়। স্নেহার হাতে থেকে চকলেট নিয়ে নিজের মুখে নিয়ে স্নেহার মুখের দিকে আগায়। স্নেহা মুখ ঘুরিয়ে নেয়। মেরাব ঠান্ডা গলায় বলল,
“এই তো খাচ্ছি। তুমিও খাও!”
“নিজেই তো চকলেট মুখে ভরে রেখেছেন আমি আবার খাবো কি করে? আমি বরং অন্য একটা খাবো। আপনিই এটা খান!”
“উহু! আমার মুখেরটাই খাবে।”
“না। আপনি খান। আমি খাবো না।”
“খাবে না?”
“না?”
“খাবে না?”
“না, খাবো না।”
“শেষবার বলছি খাবে না?”
“না।”
মেরাব স্নেহার হাতদুটো বিছানার হেডবোর্ডে ঠেকিয়ে, মুখে চকলেট নিয়েই স্নেহার ঠোঁটে ঠোঁট ডুবালো। স্নেহা এক অসস্তিতে পড়ে গেলো। লজ্জায় ইচ্ছে করছে মাটি দুভাগ করে সেখানে ঢুকে যেতে। মেরাব মিনিট পাঁচেক পরে স্নেহাকে ছেড়ে দিলো। স্নেহা উঠে বসলো। মেরাব নিজের বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে নিজের ঠোঁটে থাকা চকলেটটুকু মুছে বাকা হেসে বলল,
“বউজান চকলেটের ফ্লেবারটা কেমন ছিলো?”
স্নেহা লজ্জায় বিছানা থেকেই নেমে গেলো। মেরাব আগের ন্যায় বলে উঠলো,
“কি হলো জান ভালো লাগেনি নাকি? তাহলে আবার এসো!”
স্নেহা বিড় বিড় করে বলল, “অসভ্য লোক কোথাকার!”
মেরাব এই শুনে ঠোঁট কামড়ে হেসে বলল,
“তোমায় বড়জোর দুই থেকে তিন সময় দিলাম। এরপরে…..”
“কি এরপরে?”
মেরাব ছোট্ট করে বলল,
“বুঝে নিও!”
মেরাব বুঝতে পেরে যায় স্নেহা এটা নিয়েও প্রশ্ন করবে। স্নেহা বিছানায় বসে কিছু বলতে যাবে ঠিক তখন মেরাব বলে উঠলো,
“নিচে তখন কি বলছিলে, কিসের খুশির খবর আসবে হ্যা?”
স্নেহা আমতা-আমতা করে বলল,
“আসলে মামনির কথাটা সাথে সাথে বুঝে উঠতে পারিনি।”
“পরে বুঝতে পেরেছো?”
“হুম।”
“কি বলেছে বলোতো?”
স্নেহা উঠে দাড়িয়ে বলল,
“জানি না। বুঝে নিয়েন!”
এই বলে চলে গেলো রুম থেকে। মেরাব স্নেহার যাওয়ার পানে তাকিয়ে মুচকি হাসলো।
আরও একটি নতুন দিন। সকাল দশটা, মেরাব ঘুমিয়েই আছে। স্নেহা রুমে এসে কিছু একটা খুঁজছে মনে হয়। রুমটা উলোট-পালোট করে ফেলেছে প্রায়। মেরাবের ঘুম ভেঙেই গেলো। চট করে উঠে বিরক্তি নিয়ে বলল,
“কি হয়েছে? এমন করে কি খুঁজছো?”
“আর বইলেন না। সুনেরাহ সেদিন একটা কাগজে নাম্বার লিখে দিয়েছিলো। সেটা ফোনে উঠাবো আর মনে ছিলো না। এখন সেই কাগজটা কই যে রেখেছি খুঁজে পাচ্ছি না। একটু খুঁজে দিন না।”
মেরাব উঠলো না বরং উঁবু হয়ে শুয়ে পড়লো। আর বলল,
“সেদিন আমি যে প্যান্ট পড়ে গিয়েছিলাম সেই প্যান্টের পকেটেই তো রাখতে বললে।”
স্নেহা মেরাবের কাছে এসে বলল,
“সত্যিই তো! এখন মনে পড়লো। আপনার সেই প্যান্ট কই?”
“কেনো, কি করবে?”
“দেখবো সেটায় নাম্বার আছে কি না!”
“পাবে না।”
“মানে? পাবো না কেনো?”
মেরাব মাথা তুলে বলল,
“সেই প্যান্ট রহিমা আন্টি ধুয়ে দিয়েছে।”
স্নেহা মুখটা গোমড়া করে বলল,
“সব দোষ আপনার। আপনার তিনবেলা জামা-প্যান্ট না পাল্টালে হয়না। সেদিন যদি ওইটা ধুতে না দিতেন তাহলে নাম্বারটা থাকতো।”
মেরাব উঠে বসে বিছানার সাইড টেবিলে থেকে সেই নাম্বারটা বের করে দিয়ে বলল,
“এই যে নাম্বার।”
স্নেহা বিশ্বজয় করা একটা হাসি দিয়ে বলল,
“আপনি না খুব ভালো।”
মেরাব হেসে নিজের ফোনটা এনে নাম্বারটা ডায়াল করে কল দিলো। নাম্বারটা ছিলো সুনেরাহর মায়ের ফোন নাম্বার। ফোনটা রিসিভ করার পরে ওপাশে থেকে কোনো কথা এলো না। এমনকি মেরাবও চুপ করে রইলো। দেখতে যে কে কথা বলে।
এদিকে ফোনটা রিসিভ করেছেন আহনাফ মির্জা। তিনি আর কি কথা বলবেন। কথা বলতে পারেন না তিনি। মেরাব এপাশে থেকে বলল,
“হ্যালো!”
আহনাফ মির্জা কিছুই বলতে পারেন না। মেরাব কয়েকবার হ্যালো হ্যালো করে ফোন মিউট করে স্নেহাকে বলল,
“মনে হয় তোমার চাচা কল ধরেছে। কথা বলতে পারছে না।”
স্নেহা বলল,
“অন্য জায়গায়ও তো কলটা যেতে পারে। হয়তো অচেনা নাম্বার তাই ধরছে না।”
“উহু, কলটা তোমার চাচাই ধরেছে। আমি শিওর।”
মেরাব ফোনটা পুনরায় কানে ধরে বলল,
“আস্সালামুআলাইকুম! আমি মেরাব বলছি। চিনতে পেরেছেন?”
আহনাফ মির্জা বিছানায় থেকে নেমে ফোনটা আয়েশা বেগমের কাছে নিয়ে যেতে চাইলেন। কিন্তু তার আগেই মেরাব বলে উঠলো,
“আচ্ছা, আপনার কি মনে হচ্ছে না আমি কেনো ফিরে এসেছি। আমি ফিরে এসেছি শুধু আমার মায়ের খুনের প্রতিশোধ নিতে। কেনো মারলেন আমার মাকে? আর যদি নাও মেরে থাকেন তাহলে সেদিন আমার মাকে বাঁচালেন না কেনো? কি অপরাধ ছিলো আমার মায়ের? আপনি তো চাইলেই আমার মাকে তুলে নিয়ে হসপিটালেও নিতে পারতেন অথবা আমাদের কাউকে জানাতেও পারতেন। ওইখানে দাড়িয়ে দাড়িয়ে হাসতে আপনার বিবেকে বাঁধলো না। কি ভেবেছেন কেউ কিচ্ছু দেখেনি? আমি দেখেছি, এখনও চোখে চোখে ভাসে। আমি শিওর, আপনি যে কথা বলতে পারেন না এইটা আমার বাবাই করেছে। তবে আপনি তৈরী থাকুন, আমি আসবো আর এবার একা চুপিচুপি কথা বলে চলে আসবো না। এবার এই মেরাব খান যাবে মারুফুল খান ও তার ওয়াইফ ফাহমিদা খানকে সাথে নিয়ে। তৈরী থাকুন। আপাতত রাখছি।”
মেরাব ফোন কেটে দিলে। স্নেহা ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে।
আহনাফ মির্জা ফোন রেখে বিছানায় বসে পড়লেন। তিনি অনবরত ঘামছেন। কপাল বেয়ে বিন্দু বিন্দু ঘামের ফোটা পড়ছে। এতদিন যে ভয়ে দিনগুলো পার করেছেন সেই ভয়ই এবার সত্যি হয়ে আসবে।
চৌধুরী বাড়ি,,,
বেলা এগারোটার দিকে আসিফ রেস্টুরেন্ট থেকে বাড়ি ফিরলো। আপাতত তার এখন কাজ নেই। সন্ধ্যার পরে আবার রেস্টুরেন্টে যেতে হবে। আসিফ রুমে ঢুকে মৌকে দেখে একটু অবাক হলো বৈকি। মৌ পেটে হাত গুজে কাচুমুচু হয়ে শুয়ে আছে। বুঝতে পারলো মৌয়ের পেট ব্যাথা। আসিফ মৌয়ের দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল,
“কি হয়েছে মৌ?”
মৌ মাথা তুলে নরম কণ্ঠে বলল,
“কিছুনা!”
আসিফ বসেই রইলো। মৌ কোনোরকম উঠে বসে বলল,
“ফ্রেশ হয়ে আসুন!”
আসিফ উঠে ওয়াশরুমে চলে গেলো। ফ্রেশ হয়ে হাত-মুখ মুছতে মুছতে বের হয়ে এলো। মৌ পেট ব্যাথায় প্রায় বেহাল অবস্থা। চোখ-মুখ বারবার খিচে বন্ধ করছে। আসিফ আয়নায় মৌকে খেয়াল করলো। মৌ নিজ থেকে বলে উঠলো,
“আমার একটা জিনিস লাগবে।”
আসিফ এগিয়ে এসে বলল,
“কি লাগবে বলো!”
মৌ আমতা আমতা করে বলল,
“ওই যে… আছে না!”
“কি আছে না। বলো!”
“মেসেজ করে দেই?”
“ঠিক আছে। দাও!”
মৌ হাত বাড়িয়ে ফোনটা নিয়ে মেসেজ করলো। আসিফও ফোন বের করে সাথে সাথেই তা সিন্ করলো। এরপরে ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে বলল,
“আগে বলবে তো! থাকো আমি আসছি!”
আসিফ ওয়ালেট নিয়ে বেরিয়ে গেলো। যাওয়ার আগে বলল,
“আর কিছু লাগবে?”
“না।”
“ঠিক আছে।”
আসিফ সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে নামতে কিচেনে তাকালো। তার মাকে খুঁজছে। তনিমা বেগম কিচেনেই ছিলেন। আসিফ কিচেনের দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল,
“মা, একটু উপরে মৌয়ের কাছে যাওতো! ওর পেট ব্যাথা করছে।”
তনিমা বেগম বুঝতে পেরে বললেন,
“দাড়া তাহলে পানি গরম করে হট ব্যাগে ভরে নিয়ে যাই। ব্যাথা একটু কমবে।”
“ঠিক আছে।”
আসিফ বাহিরে চলে যায়। মিনিট বিশেক পরে আবার ফিরেও আসে। রুমে এসে দেখে মৌ কাত হয়ে শুয়ে আছে। আসিফ গলা খাকারি দিয়ে বলল,
“মৌ, এসে গিয়েছি। আর এই নাও তোমার দরকারি জিনিস।”
মৌ উঠে বসে আসিফের দিকে তাকিয়ে বিছানায় থেকে নেমে দাঁড়ায়। একহাত পেটে রেখেই ওয়াশরুমে চলে যায়। আসিফ বিছানায় বসলো। মৌ ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে বিছানায় এসে শুয়ে পড়তে নিলে আসিফ মৌয়ের হাত ধরে বলল,
“আগেই শুয়ে পড়ো না। এই যে এই পেইন কিলারটা খাও! ব্যাথা কমে যাবে।”
মৌ কিছুক্ষন পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। আসিফকে যত দেখছে ততই অবাক হচ্ছে। সত্যিই এখন দায়িত্ববান হয়ে গিয়েছে তার উপরে।
দুপুরে,,,
মেরাব শাওয়ার নিয়ে শুধু টাওয়াল নিয়ে বের হলো। মসজিদে নামাজ পড়তে যাবে। কাভার্ড খুলে পাঞ্জাবী বের করছে। স্নেহা মেরাবের আগেই শাওয়ার নিয়ে ব্যালকনিতে দাড়িয়ে আছে। রুমে ঢুকে দেখলো মেরাব পাঞ্জাবী বের করছে।
স্নেহা বিছানার দিকে এগিয়ে যেতে যেতে দুষ্টুমি করে বলল,
“দেখে ফেলেছি!”
মেরাব পেছন ফিরে কপাল কুঁচকে বলে উঠলো,
“কি দেখেছো?”
“আপনার সবই!”
মেরাব নাক-মুখ কুঁচকে বলল,
“কি বললে? কখন দেখলে?”
স্নেহা বিছানায় চিৎ হয়ে শুয়ে মোবাইলটা হাতে নিয়ে বলল,
“দেখেছি কোনো একসময়!”
স্নেহা যে মজা করছে মেরাবের বুঝতে বাকি রইলো না। সেও মুখের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটিয়ে এগিয়ে এসে বলল,
“সত্যিই দেখছো?”
“হুম।”
“তাহলে আরেকটু দেখাই।”
স্নেহা ফোন রেখে উঠে বসলো। মেরাবের দিকে তাকিয়ে রইলো। মেরাব একটু ঝুকে আসতেই স্নেহাও ঘাবড়ে গেলো। মেরাব স্নেহার একটা হাত নিয়ে নিজের টাওয়ালের মাথা ধরিয়ে বলল,
“একবার যখন ভুলবসত দেখে ফেলেছো তাহলে এবার ইচ্ছে করে নিজেই খুলেই দেখো না।”
স্নেহা চোখ বড় বড় করে তাকালো। তড়িৎ বেগে হাত টাওয়াল থেকে ছাড়িয়ে মেরাবকে সরিয়ে দিয়ে উঠে দাড়ালো। এরপরে বলল,
“আল্লাহ এনাকে হেদায়েত দান করুন। লোকটার জন্য রোজা মনে হয় হালকা হয়েই যাবে।”
মেরাব খিলখিলিয়ে হেসে পাঞ্জাবী পড়লো।
চলবে….
পরবর্তী কালকে রাত আট টায় দিবো। ইনশাআল্লাহ। যারা যারা পড়বে অবশ্যই রিএক্ট দিবে।
ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না। রেসপন্স করবেন!!!!!!
[হেশট্যাগ ব্যবহার ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ]
Share On:
TAGS: কি আবেশে, জেরিন আক্তার
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
কি আবেশে পর্ব ২৩
-
চোরাবালির পিছুটানে গল্পের লিংক
-
কি আবেশে পর্ব ২৬
-
কি আবেশে পর্ব ২৪
-
চোরাবালির পিছুটানে পর্ব ১
-
কি আবেশে পর্ব ১১
-
কি আবেশে পর্ব ১
-
কি আবেশে গল্পের লিংক
-
কি আবেশে পর্ব ১২
-
কি আবেশে পর্ব ২১