কি_আবেশে (১৫)
জেরিন_আক্তার
মেরাব স্নেহার সাথে কথা বলছিলো। ঠিক সেই সময়ই দুজনেরই ডাক পড়ে যায়। সাইদা তখন মেরাবকে ডাকতে ডাকতে রুমে ঢুকলো। স্নেহা উঠে দাড়িয়ে সাইদাকে জড়িয়ে ধরে বলল,
“আপু কেমন আছো?”
“ভালো তু্ই কেমন আছিস?”
“ভালো। বসো এইখানে।”
সাইদা মেরাবের পাশে বসে বলল,
“ভাইয়া আসতে চেয়েছিলাম সেই সকালে কিন্তু পারলাম না। এখন কেমন বোধ করছো?”
মেরাব মুখ বেকিয়ে বলল,
“ভালো আর অসুস্থ ভাইয়াকে দেখতে এসেছিস খালি হাতে এসেছিস কেনো?”
সাইদা দোপাটি দাঁত বের করে বলল,
“কই খালি হাত? এই যে দেখো হাতে চুরি পড়ে এসেছি।”
তিনজনে খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো। মেরাব বলল,
“তোর জামাই কই? আসেনি?”
“কাজে গিয়েছে। ও কালকে আসবে।”
“ওহ।”
কথার মাঝে মেরাব সাইদাকে বলল,
“তোর ভাইয়ের কোনো খবর পেয়েছিস?”
“ভাইয়া ভালো কথা মনে করালে। ওকে ফোনে পাচ্ছি না। ভেবেছি বাবাকে বলবো আজই। বাবা না হয় সেখানে লোক পাঠাবে।”
স্নেহা বলল,
“তুমি ঠিক বলেছো আপু। এই বাড়িতে এসেছি থেকে ভাইয়াকে একটি বারের জন্যও দেখলাম না। কেউই তাকে ফোনে পাচ্ছে না। বেশ চিন্তা ধরিয়ে দিলো সবাইকে।”
মেরাব স্নেহার দিকে তাকিয়ে বলল,
“তোমার চিন্তা হয় নাকি?”
স্নেহা স্বাভাবিকভাবেই বলে উঠলো,
“হুম। হয়ই তো।”
সাইদা বলল,
“ভাইয়া নিচে যাবে না নাকি?”
“হুম। চল!”
মেরাব উঠে দাড়ালো। সাইদা বলল,
“ভাইয়া আমি কিন্তু খালি হাতে আসিনি। তোমার জন্য কিছু নিয়ে এসেছি।”
মেরাব হেসে সাইদার কাধে হাত রেখে বলল,
“আরে গাধা এমনেই মজা করেছি।”
দুজনে কথা বলতে বলতে চলে গেলো। স্নেহাও একটু পরে বের হলো। আফনান মির্জা আর নাফিসা বেগম রাত নয়টার দিকে বাড়িতে চলে গেলেন। মারুফুল খান থাকতে বলেছিলেন অনেক বার কিন্তু উনারা রইলেন না।
মেরাব রাতের খাবার খেয়ে আগে রুমে চলে এলো। স্নেহা নিচে কিছু কাজ করছিলো। সাইদাও ওখানেই বসে ছিলো। সাইদার মা বাড়িতে নেই। সাইদার মামার অসুস্থতার কথা শুনে তিনি ওখানেই রয়েছেন কয়েকদিন ধরে। আরও কিছুদিন পরে আসবেন। আরিফুল খান আর মারুফুল খান সাদাফের কোনো খোঁজ না পেয়ে গ্রামের বাড়ির আশেপাশের কিছু আত্মীয়দের ফোন করলেন। তারা বলল সাদাফ নাকি ওখানেই আছে। তারা এইটুকু শুনে নিশ্চিন্ত হলেন সাদাফ ঠিকই আছে।
মেরাব আসিফকে কল দিলো ওই মহিলা আর তার মেয়ের কথা শুনতে। আসিফ কল ধরেই বলল,
“কিরে, কি মনে করে কল দিলি? ভালোই তো সারাদিনে মনে করলি না!”
“তু্ইও তো মনে করে ফোন করিসনি?”
“দেখলাম তু্ই আমাকে কখন মনে করিস?”
“যদি এখন কল না দিতাম তাহলে?”
“আমিই দিতাম!”
“এসব প্রেমাত্মক কথা রাখ! কাজের কথায় আয়! ওদের থেকে কোনো কথা বের করতে পেরেছিলি?”
“না। তোর দুই নাম্বার শাশুড়ি বলেছে তু্ই আসলে তোকে বলবে!”
“তোকে বলেনি?”
“না!”
“এখন তো আমিও বাড়ি থেকে বের হতে পারবো না। বের হলেও অনেক রাত হবে।”
“কিহ! তু্ই আসবি?”
“হুম।”
“ভাই তু্ই আজকে আসিস না। কালকেই বের হোস!”
মেরাব কপাল কুঁচকে বলল,
“কেনো?”
“ভাই, ভুলে যাস না তু্ই অসুস্থ। ব্যাথা খুব একটা না পেলেও হাতে পেয়েছিস। কালকে রাতে ঘুমাসনি। আজ রাতে ঘুমা।”
“কিচ্ছু হবে না। তু্ই গাড়ি নিয়ে আয়!”
“পারবো না ভাই। তু্ই আজ রেস্ট নে। কালকে যাবো তোকে নিয়ে। আজকের দিনটা একটু শুয়ে থাক। ভাবি না হয় তোর সেবা করুক।”
মেরাব দাঁত চেপে বলল,
“তু্ই আসবি না তাইতো?”
“হুমমম।”
পরক্ষনেই মেরাব বুঝতে পারে আজ বাড়ির বাহিরে যাওয়াটা মোটেও ঠিক হবে না। তাই বলল,
“ঠিক আছে। আজকে যাবো না। কালকেই যাবো।”
মেরাব ফোন কেটে দিয়ে বসে রইলো। স্নেহা রুমে ঢুকে মেরাবকে বলল,
“আপনি কি কালকে কলেজে যাবেন?”
“হঠাৎ এই প্রশ্ন?”
“যদি কালকে কলেজে যান তাহলে পড়তে বসবো।”
মেরাব ভ্রু কুঁচকে বলল,
“যদি না যাই?”
“তাহলে শুয়ে পড়বো।”
মেরাব কড়া গলায় বলল,
“কিসের শুয়ে পড়া? পড়তে বসো।”
স্নেহা গাল ফুলিয়ে বলল,
“কথা সেটা না! কথা হলো কালকে কলেজে যাবেন কি, যাবেন না?”
“যাবো!”
স্নেহা পট করে বলল,
“কালকে যে পোশাক-আশাকে কলেজে গিয়ে গিয়েছিলেন সেভাবেই কি যাবেন?”
“হুম। কেনো?”
স্নেহা তেতে উঠে বলল,
“কেনো মানে? কেনো শব্দটা কি? কালকে ওইরকম নায়কের মতো সেজেগুঁজে গিয়েছিলেন বলে আমারই কিছু বান্ধবীরা নাকি আপনার উপরে ক্রাশ খেয়েছে।”
মেরাব স্নেহার মন বুঝতে বলে উঠলো,
“তুমি এই কথা তোমার বান্ধবীদের থেকে শুনে বলোনি আমি তোমার হাসব্যান্ড হই?”
স্নেহা বুকে হাত গুজে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে বলল,
“আমি যদি ওদের সামনে বলি যে আপনি আমার হাসব্যান্ড তাহলে ওরা মজা নিবে। কারণ ওইখানে আমিও ওদের মতো স্টুডেন্ট বেশেই যাই। ওরা কখনই বিশ্বাস করবে না যে আমি আপনার ওয়াইফ।”
মেরাব মাথা নাড়িয়ে বলল,
“হুম বুঝেছি। এখন পড়তে বসো!”
স্নেহা বিড়বিড় করে বকতে বকতে চলে গেলো রিডিং টেবিলে। যা দেখে মেরাব হেসে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। ধীর পায়ে হেটে এসে তার বাবার রুমের সামনে দাড়িয়ে বলল,
“বাবা, আসবো?”
মারুফুল খান বললেন,
“হ্যা, মেরাব এসো!”
মেরাব রুমে ঢুকলো। এখন মারুফুল খান রুমে একাই রয়েছে। মেরাব মারুফুল খানের সামনাসামনি বসে বলল,
“বাবা, একটা কথা বলতে এসেছি!”
“হ্যা, বলো কি বলবে!”
“বাবা, আমি যে বিয়ে করেছি এটা আমার কিছু বন্ধুরা এখনও জানে না। বা আমাদের কোনো আত্মীয় স্বজনরাও জানে না। তাই বিয়ের অনুষ্ঠানটা অফিসিয়াল ভাবেই করতে চাচ্ছি।”
মারুফুল খান মুখে হাসি এনে বললেন,
“বেশ তাই হবে। কবে চাইছো তুমি শুধু সেটা বলো!”
“ভেবে বলছি!”
“ঠিক আছে।”
মারুফুল খান মনে মনে খুব খুশি হয়েছেন। তিনি অপেক্ষায়ই ছিলেন মেরাবই যেনো এই কথাটা বলে।
মেরাব রুমে এসে দেখে স্নেহা পড়তে বসেছে।
রাত তখন এগারোটা স্নেহা এসে শুয়ে পড়ে। কালকে রাতে খুব একটা ঘুম হয়নি। তাই চোখ দুটো জ্বলছে। স্নেহা ঘুমিয়ে পড়তেই মেরাব বিছানা ছেড়ে নেমে ফোন, ওয়ালেট আর গাড়ির চাবি নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। যেতে যেতে আসিফকে কল দিলো। এখন ওই মহিলার সাথে কথা বলতে যাবে। মেরাবের বারবার মনে হচ্ছে আজ ওখানে গেলে কিছু না কিছু জানতেই পারবে। মেরাবের বাড়ি থেকে বের হওয়া মারফুল খানের চোখে পড়ে। রুমে পানি শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি পানি খেতে এসেছিলেন ড্রইং রুমে। অন্ধকারে মেরাব হয়তো তাকে খেয়াল করেনি। তিনি মেরাবের পেছনে পেছনে বাহিরে এলেন।
মেরাব টের পেয়েছে তার বাবা তাকে দেখেছে। তাই বলে ফিরে যাওয়ার পাত্রও সে নয়। দরকার হলে তার বাবাকে সাথেই নিয়ে যাবে। মারুফুল খান মেরাবকে পেছনে থেকে ডেকে উঠে বললেন,
“মেরাব কোথায় যাচ্ছো এখন?”
চলবে….
এই পর্বে ৭০০+ রিএক্ট হলে পরবর্তী পর্ব কালকে দুপুরেই দিবো। আর নাহলে বিকেলে।
ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না। রেসপন্স করবেন!!!!!!
[হেশট্যাগ ব্যবহার ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ]
Share On:
TAGS: কি আবেশে, জেরিন আক্তার
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
চোরাবালির পিছুটানে ৩
-
কি আবেশে পর্ব ৩
-
কি আবেশে পর্ব ৪
-
কি আবেশে পর্ব ১১
-
কি আবেশে পর্ব ৫
-
কি আবেশে পর্ব ৬
-
কি আবেশে পর্ব ১৩
-
কি আবেশে পর্ব ১২
-
কি আবেশে পর্ব ১৪
-
কি আবেশে পর্ব ১০(স্পেশাল পার্ট)