Golpo romantic golpo কি আবেশে

কি আবেশে পর্ব ১৪


কি_আবেশে (১৪)

জেরিন_আক্তার

ফাহমিদা খান আর মারুফুল খান ডক্টরের সাথে কথা বলে মেরাবের কেবিনে চলে এলেন। আসিফ খুব রেগে আছে। সংকায় আছে কে আবার কি জানি বলে ফেলে। আর মৌয়ের দিকে কটমট দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মৌও রেগে আছে।

বেলা এগারোটার দিকে ডক্টর এসে মেরাবকে ডিসচার্জ করে দিয়ে গিয়েছে। সবাই এসে পড়েছে একটা গাড়িতে। আর একটা গাড়িতে মারিফুল খান, ফাহমিদা খান, মেরাব আর স্নেহা এসেছে।

মেরাব বাড়িতে ফিরে রুমে ঢুকেই শাওয়ার নিয়ে নেয়। হাতের ব্যান্ডেজ আর মাথার ব্যান্ডেজ ভিজে যায়। সাথে সাথে ব্যান্ডেজ খুলে ওয়াশরুমেই ফেলে আসে। হাতটা ভালোই কেটেছে। মেরাব হাতের ক্ষতের দিকে তাকিয়ে শ্বাস ছেড়ে রুমে ঢুকে। স্নেহা ভেজা চুলগুলো মুছছিলো। মেরাব শুধু টাওয়াল পড়ে তার সামনে দিয়ে কাভার্ডের দিকে যায়। প্যান্ট বের করে আবারও ওয়াশরুমে ঢুকে। প্যান্ট পড়ে বের হয়ে আবারও কাভার্ডের কাছে আসে। এরপরে কালো রঙের শার্ট বের করে পড়ে নেয়। স্নেহা মেরাবের সামনে এসে বলে,

‘এই আপনার ব্যান্ডেজ কই?’

মেরাব জবাবে বলল,

‘ওয়াশরুমে পড়ে আছে দেখে এসো।’

‘ওয়াশরুমে পড়ে থাকা ব্যান্ডেজগুলো দেখতে চাইনি। ব্যান্ডেজ গুলো খুলেছেন কেনো?’

‘ভিজে গিয়েছে।’

এই বলে মেরাব নিজের শার্টের বোতাম লাগাতে চায় কিন্তু কাটা হাতের জন্য পারে না। তাই চেষ্টা করতে থাকে। এই দেখে স্নেহা মেরাবের কাছে দাড়ালো। মেরাবের হাত সরিয়ে দিয়ে বলল,

‘আমি লাগিয়ে দিচ্ছি।’

স্নেহা মেরাবের শার্টের বোতামগুলো লাগিয়ে দিতে শুরু করলো। মেরাব স্নেহার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো। স্নেহার গালে লেপ্টে থাকা ভেজা চুলগুলো সরিয়ে দিলো। এরপরে স্নেহার কোমরে হাত রেখে দাড়ালো। ঠিক সেই সময় বাহিরে থেকে ফাহমিদা খান মেরাবকে ডেকে উঠলেন। সাথে সাথে দুজনে দুইদিকে ঘুরে দাড়ালো। ফাহমিদা খান আর রহিমা বেগম রুমে ঢুকলেন। রহিমা বেগমের হাতে খাবার। ফাহমিদা খান রহিমা বেগমকে খাবারগুলো রেখে যেতে বললেন। রহিমা বেগম খাবারগুলো টি-টেবিলে রেখে চলে গেলেন।

ফাহমিদা খান মেরাবকে খেয়াল করতেই দেখলেন ব্যান্ডেজগুলো নেই। তিনি উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলে উঠলেন,

‘মেরাব, তুমি ব্যান্ডেজগুলো খুলে ফেলেছো কেনো?’

‘আসলে শাওয়ার নিতে গিয়ে ভিজে গিয়েছে।’

ফাহমিদা খান চিন্তিত কণ্ঠে বলে উঠলেন,

‘ব্যান্ডেজ ছাড়া কাটা দাগ গুলো তো ইনফেকশন হয়ে যাবে। আবার ব্যান্ডেজ করাতে হবে। আমি তোমার বাবাকে দিয়ে ডাক্তারকে কল দিয়ে আসতে বলি।’

স্নেহা বলে,

‘হুম তাই করতে হবে।’

‘আমি বলে আসছি। তু্ই আর মেরাব খেয়ে নে!’

‘ঠিক আছে।’

ফাহমিদা খান চলে গেলেন। মেরাব এসে সোফায় বসলো। এখন একটা সমস্যায় পড়ে গেলো। এই কাটাহাতে খাবে কি করে? চামচও তো দিয়ে যায়নি। মেরাব হাই তুলে স্নেহাকে বলল,

‘এই যাও তো একটা চামচ নিয়ে এসো। চামচ ছাড়া খাবো কি করে?’

স্নেহা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মনে মনে বলে,, আমাকে বললেও তো খাইয়ে দিতে পারি। আমি থাকতে চামচের কি দরকার?

মেরাব স্নেহাকে তাড়া দিয়ে বলে,

‘কি হলো যাও!’

স্নেহা চলে যায়। মনে মনে একশো একটা গালি দিতে দিতে কিচেনে আসে। এরপরে একটা চামচ নিয়ে আবারও চলে আসে। মেরাবকে চামচটা দিতেই মেরাব বলে,

‘এতো দেরি হয় একটা জিনিস আনতে?’

স্নেহা চুপ করে থাকে। মেরাব চামচ দিয়েই খাওয়া শেষ করে বিছানায় গিয়ে বসে। স্নেহা খাওয়া শেষ করে প্লেটগুলো নিয়ে নিচে চলে যায়। এর একটু পরেই ডাক্তার এসে মেরাবের হাত ও মাথায় ব্যান্ডেজ করে দিয়ে যায়।

সন্ধ্যাবেলা আফনান মির্জা আর নাফিসা বেগম আসেন। মেরাব নিজের রুমেই ছিলো তখন। আসিফের সাথে চ্যাট করছিলো। স্নেহা কিচেনে ফাহমিদা চৌধুরীর সাথে কাজ করছিলো। স্নেহা তার বাবা-মাকে এই সময় দেখে খুশি হয়ে উঠে। পরক্ষনেই তার আব্বুর দিকে তাকিয়ে মনটা বিষিয়ে উঠে। সাথে সাথে আবার তার আম্মুর মুখপানে তাকায়। মনটা নিমিষেই খারাপ হয়ে উঠে। মনে মনে ভাবতে থাকে,,, আম্মুর মুখের দিকে তাকিয়েও তো আব্বু এইরকম একটা ভুল থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারতো।

ভাবতে ভাবতে স্নেহার চোখ দিয়ে ঝরঝর করে পানি পড়ছে। ফাহমিদা খান স্নেহার চোখে পানি দেখে, স্নেহাকে হালকা ধাক্কা দিয়ে বললেন,

‘কিরে কাঁদছিস কেনো?’

স্নেহা চোখের পানি মুছে হেসে বলে,

‘কই কাঁদছি? চোখে হয়তো কিছু পড়েছে!’

‘মিথ্যে বলছিস কেনো?’

স্নেহা হেসে বলে,

‘কই মিথ্যে বলছি? তুমিও না!’

এই বলে স্নেহা আবারও মুখে হাসি ফুটিয়ে চলে গেলো তার বাবা-মায়ের দিকে।

ফাহমিদা খান স্পষ্ট দেখতে পেলেন স্নেহা কাঁদলো। তবুও মিথ্যে কেনো বলল।

স্নেহা তার আব্বু-আম্মুর সাথে টুকটাক কথা বলে উপরে চলে গেলো মেরাবকে বলতে। স্নেহা রুমে এসে বিছানার এককোণে বসলো। মেরাব ফোন রেখে বলে উঠে,

‘কি হয়েছে?’

‘কিছুনা?’

স্নেহা মিনিট দুই চুপ থেকে বলে উঠে,

‘আব্বু-আম্মু এসেছে।’

‘ভালোই তো! যাও কথা বলো!’

‘ভালো লাগছে না।’

‘কেনো?’

স্নেহা ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে লম্বা শ্বাস ছেড়ে বলে উঠে,

‘আব্বুর দিকে তাকালে রাগ হয়। আর আম্মুর দিকে তাকালে বুক ফেটে চিৎকার আসে। ইচ্ছে করে না কারোর সামনে যেতে।’

মেরাব স্নেহার পেছনে এসে বলে,

‘তুমি উনাদের সামনে না গেলে উনারা কি ভাববে বলো! তুমি না হয় জেনে এমন করছো। আর ফুপ্পি যদি জানে তাহলে কি হবে? আর তোমাকে একটা কথা বলার আছে।’

স্নেহা তৎক্ষণাৎ পেছনে ফিরে তাকিয়ে বলে,

‘কি কথা?’

মেরাব একবার দরজার দিকে তাকিয়ে দেখে আবার স্নেহার দিকে বলে,

‘কালকে রাতে উনাদের অন্য জায়গায় সরানোর জন্য একবারের জন্যও মনে হলো না যে উনি তোমার বাবার ওয়াইফ।’

স্নেহা কপালে ভাজ ফেলে বলল,

‘এখন আবার কি বলছেন?’

‘হুম।’

মেরাব ভাবুক গলায় বলল,

‘আমাদের মনে হচ্ছে কিছু একটা ভুল হচ্ছে। আমাদের আরও অনেক কিছু জানতে হবে। হতেও পারে উনি তোমার বাবার বিয়ে করা বউ নয়। হয়তো অন্য কোনো রহস্য আছে এখানে!’

স্নেহা জিজ্ঞাসু কণ্ঠে বলে,

‘কালকে উনাদের থেকে কিছু জানতে পারেননি?’

‘না। কোনো কথাই বের করতে পারিনি দুজনের থেকে। তবে ওই মহিলাটা বার বার বলছিলো তাকে ছেড়ে দিতে। তাকে হসপিটালে যেতে হবে। তাকে নাকি খুন দরকার। আজ যদি যেতে পারতাম তাহলে না হয় কিছু জানতে পারতাম। কিন্তু আজ তো বেরও হতে পারবো না। ’

চলবে….

পরবর্তী পর্ব কালকে বিকেলে দিবো ইনশাআল্লাহ।
ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না। রেসপন্স করবেন!!!!!!

[হেশট্যাগ ব্যবহার ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply