কি_আবেশে (১২)
জেরিন_আক্তার
স্নেহা রেডি হয়ে এলো। কালো বোরখা সাথে কালো হিজাব পড়েছে। মেরাব স্নেহাকে নিয়ে বেরিয়ে গেলো। ড্রয়িং রুমে আসতেই ফাহমিদা খান বলে উঠেন,
‘ দুজনের কোথায় যাওয়া হচ্ছে? ’
মেরাব বলে,
‘ স্নেহার নাকি কি কি কিনতে হবে তাই শপিংয়ে যাবে। ’
‘ ওহ আচ্ছা। ঠিক আছে যাও! ’
মেরাব স্নেহাকে নিয়ে চলে গেলো।
আধঘন্টা পরে মেরাব আসিফের দেওয়া লোকেশনে পৌঁছে গেলো। আসিফ সেখানেই একটা মোড়ে চায়ের দোকানে বসে ছিল। মেরাবের সাথে স্নেহাকে দেখে আসিফ একটু অবাক হলো। মেরাবকে একটু সাইডে নিয়ে গিয়ে বলল,
‘ ভাই তুই তোর বউকে কেনো নিয়ে এসেছিস? ওকে জানিয়েছিস নাকি? ’
‘ হুম জানিয়েছি। ’
‘ কোনো রিয়েক্ট করেনি? ’
‘ এখন এসব রাখ। আগে ওইখানে নিয়ে চল! ’
‘ তা নাহয় নিয়ে গেলাম তবে সেখানে তোর বউও যাবে? না মানে ওর বাবার দ্বিতীয় বউয়ের সামনে যাবে? ’
‘ হুম যাবে। ’
‘ ঠিক আছে। চল। ’
মেরাব স্নেহার হাত ধরে আসিফের সাথে হাটা দেয়। মেরাব স্নেহাকে বলে,
‘ ওখানে গিয়ে তুমি নিজের পরিচয় দিবে না। ওখানে একটা পরিচয়ে যাবে সেটা আমার ওয়াইফ। ’
স্নেহা মাথা নাড়িয়ে বলে,
‘ ঠিক আছে। ’
মেরাব যেতে যেতে স্নেহার মুখের দিকে তাকালো। স্নেহার চোখ দুটো পানিতে টলমল করছে। মেরাব থেমে দাঁড়ায়। সাথে স্নেহাও। মেরাব ঠান্ডা গলায় বলে,
‘ ওখানে গিয়ে কিন্ত কাদবে না। কাদলে আমার সব প্ল্যান ভেস্তে যাবে। ’
‘ ঠিক আছে। ’
মেরাব যেতে যেতে থেমে যায়। আসিফকে ডেকে বলে,
‘ এই ভাই, আমরা যদি এখন ওইখানে যাই তাহলে বিরাট ভুল হবে। ’
‘ কি ভুল হবে? ’
‘ এখন দিনের বেলা এখন ওদের আমরা কোথাও সরাতেও পারবো না। আর ওরা যদি চালাকি করে স্নেহার বাবাকে বলে দেয় তাহলেও তো আমাদের এত দিনের টার্গেট সব শেষ হবে। ’
আসিফ ভাবুক গলায় বলে,
‘ সত্যিই তো। ভালো কথা বলেছিস। আগে ভাবিনি। ’
মেরাব, আসিফ আর স্নেহা উল্টো হাটা দেয়। ঠিক তখনই স্নেহার চোখে কিছু একটা পড়ে। সাথে সাথে মেরাবকে নিয়ে একটা বিল্ডিং এর পেছনে লুকিয়ে পড়ে। সাথে আসিফকেও টান দেয়। মেরাব বলে,
‘ কি হয়েছে এভাবে দাঁড়ালে কেনো? ’
স্নেহা নিচু গলায় বলে,
‘ আব্বু আসছে দেখো। ’
মেরাব উকি দিয়ে সামনে তাকাতেই দেখে সত্যি আফনান মির্জা আসছেন। স্নেহা মেরাবের থেকে অন্যদিক ঘুরে কাদতে থাকে। কোনো মেয়েই এই পরিস্থিতিতে নিজেকে ঠিক রাখতে পারবে না। কি দরকার ছিলো এইরকম একটা সুন্দর সংসারটা ছেড়ে আরেকটা সংসার গড়ার।
মেরাব স্নেহার কাধে হাত রেখে নিজের কাছে এনে বলে উঠলো,
‘ কেদো না। নিজেকে শক্ত করো। ’
স্নেহা মেরাবের বুকে মুখ গুজে কাদতে থাকে। মেরাব কি বলে শান্তনা দিবে তা তার জানা নেই। আসিফ বলে,
‘ ভাবী, প্লীজ কাদবেন না। এই সময়ে কেউই ঠিক থাকতে পারবেনা এটা জানি। কিন্তু আপনাকে শক্ত হয়ে সবটা জানতে হবে। ’
এই বলে আসিফ মেরাবের দিকে তাকিয়ে বলল,
‘ কিরে কি করবি এখন তাহলে? ’
‘ এখন বাড়ি ফিরে যাব। রাতে ওদেরকে এখানে থেকে সরিয়ে অন্য জায়গায় নিয়ে যাব। আর স্নেহাকে ওর বাবার বাড়িতে দিয়ে আসবো। ’
‘ কেনো? ’
‘ শোন ওদের রাতে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় যদি ওরা চালাকি করে স্নেহার বাবাকে কল দেয় তখন তো উনি উড়তে উড়তে চলে আসবেন। তখন কি করবো। এর থেকে ভালো উপায় হলো স্নেহা ওইখানে থেকে ওর বাবাকে আটকাবে। ’
স্নেহা মাথা তুলে তাকিয়ে ভাঙ্গা গলায় বলে,
‘ যাবো না আমি ওই বাড়িতে! ’
মেরাব বলে,
‘ যেতেই হবে তোমাকে। ’
‘ আমি যাবো না। প্লীজ আমাকে যেতে বলবেন না। আমি ওইখানে গিয়ে থাকতে পারবোনা। ’
‘ তোমাকে শুধু আজকের রাতটা থাকতে বলছি। সন্ধ্যায় দিয়ে আসবো। শুধু রাতটা কোনোভাবে ম্যানেজ করবে। সকালে গিয়ে আমি আবার নিয়ে আসবো। ’
স্নেহা কথা বাড়ায় না। সম্মতি জানিয়ে বলে,
‘ ঠিক আছে। তবে শুধু রাতটাই। খুব সকালে গিয়ে নিয়ে আসবেন। ’
‘ হুম নিয়ে আসবো। ’
মেরাব আর স্নেহা বাড়ি ফিরে আসে। দুজনে আসার আগে একটু শপিংয়েও গিয়েছিল। স্নেহা সেখানে থেকে আসার পরই মন খারাপ করে ছিল। খায়নি। ওইভাবেই মন খারাপ করে শুয়ে ছিল। সন্ধ্যার আগে দিয়ে স্নেহা রেডি হয়ে নেয়। মেরাবও রেডি হয়ে নেয়। এখন স্নেহাকে ওর বাবার বাড়িতে দিয়ে এসে আবার অন্য জায়গায় যাবে।
মেরাব স্নেহাকে সাথে নিয়ে বের হয়। স্নেহা কোনো কাপড়-চোপড় নেয় না শুধু রাতটাই থাকবে বলে।
ড্রয়িং রুমে তখন মারুফুল খান আর ফাহমিদা খান বসে ছিল। ওরা দুজনও এসে দাঁড়ায়। মারুফুল খান বলেন,
‘ কোথাও যাচ্ছ নাকি?’
মেরাব বলে,
‘ হুম বাবা। স্নেহাকে ওর বাবার বাড়িতে দিয়ে আসতে যাবো। ’
মারুফুল খান উদ্বিগ্ন কন্ঠে বলেন,
‘ কেনো কি সমস্যা হয়েছে? ’
‘ কোনো সমস্যা হয়নি। স্নেহা মন খারাপ করে ছিল। ওর নাকি ফুপ্পির কথা মনে পড়ছে। তাই ভাবলাম ওকে রেখে আসি। আবার নাহয় সকালে নিয়ে আসবো। আবার তো কলেজেও যেতে হবে সকালে। ’
মারুফুল খান সম্মতি জানিয়ে বলেন,
‘ ঠিক আছে যাও। ’
মেরাব চলে যেতে নিয়ে বলে,
‘ বাবা রাতে ফিরতে অনেক দেরি হবে। ’
‘ কেনো? তুমি কি ঐ বাড়িতে থাকবে না? ’
‘ না। ওইখানে থেকে আসিফের সাথে একটা জায়গায় যাবো। ’
‘ ঠিক আছে। সাবধানে থেকো। ’
‘ হুম আসছি। ’
মেরাব স্নেহাকে ওর বাড়ির সামনে নামিয়ে দিয়ে বলে,
‘ তুমি চলে যাও, আমি আসছি। আর সকালে উঠে কল দিও। চলে আসবো। ’
‘ ভিতরে আসবেন না? ’
‘ না এখন আর যাবো না। ’
‘ ঠিক আছে। সাবধানে থাকবেন। ’
স্নেহা গেট খুলে ভিতরে যেতে যেতে পেছনে ফিরে তাকিয়ে থাকে মেরাবের দিকে। মেরাব ভ্রু উঠিয়ে বোঝায়..কি হয়েছে?
স্নেহা মাথা নাড়িয়ে না বোঝায়। এরপরে ভিতরে চলে যায়। মেরাব ফোন বের করে আসিফকে কল দিতে দিতে গাড়ি ঘুরিয়ে চলে যায়।
স্নেহা বাড়িতে ঢুকে দেখল ড্রয়িং রুমে তার বাবা,মা দুজনেই বসে আছে। স্নেহা তার বাবার দিকে এক নজর তাকিয়ে হনহন করে চলে যেতে নিলো। স্নেহাকে এই সময়, এইভাবে, একা দেখে আফনান মির্জা আর নাফিসা বেগম দুজনেই উঠে দাঁড়ালেন। নাফিসা বেগম এগিয়ে গিয়ে বলেন,
‘ কিরে মা তুই এই সময় একা? কেউ কিছু বলেছে? ’
‘ না। ’
‘ তাহলে এলি যে? আর মেরাব আসেনি? ’
‘ না । ও নামিয়ে দিয়ে চলে গিয়েছে। আর ওইবাড়িতে থেকে তোমার কথা মনে পড়ছিল তাই মেরাব বলল আজ রাতটা যেনো তোমার কাছে থাকি। ’
‘ ওহ। সব কিছু ঠিক আছে তো? ’
‘ হুম। ’
স্নেহা তার বাবার সাথে কথা না বলেই চলে গেলো। আফনান মির্জা ভাবলেন তার মেয়ে তো অন্যদিন হলে দৌড়ে এসে জাপটে ধরত আর আজ এলো না কেনো? এমনকি কথাও বলল না। আফনান মির্জা বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েন।
রাত প্রায় তিনটা,,,
স্নেহার চোখে ঘুম নেই। আজ মায়ের সাথে শুয়েছে। স্নেহার কেনো যেনো মনে খুঁতখুঁত হচ্ছে। বারবার মনে কু ডাকছে। ঠিক সেই সময় নাফিসা বেগম নিরেট গলায় বলেন,
‘ কিরে কি হয়েছে, ঘুমাচ্ছিস না কেনো? ’
‘ আম্মু ঘুম আসছে না। ’
ঠিক সেই সময়ে স্নেহার ফোন বেজে উঠে। স্নেহা পট করে উঠে ফোন হাতে নেয়। মেরাব ফোন দিয়েছে। সাথে সাথে কল রিসিভ করে বলে,
‘ আপনি বাড়ি যাননি? ’
ওপাশে থেকে আসিফ বলে,
‘ ভাবী আমি আসিফ। ’
‘ ওহ আপনি। তাহলে আপনার বন্ধু কোথায়? ’
‘ ভাবী আমরা সব কাজ শেষ করে বাড়ি যাচ্ছিলাম ঠিক সেই সময় মেরাব একটা ট্রাকের সাথে এক্সিডেন্ট করে। ওকে হসপিটালে এনেছি। ও জানাতে না করেছিল। বলেছিল সকালে জানাবে কিন্তু ওর অবস্থা এখন গুরুতর তাই জানাতে বাধ্য হলাম। ’
এই শুনতেই স্নেহার মাথা চক্কর দিলো। নাফিসা বেগম উঠে বলেন,
‘ কি হয়েছে মেরাবের? ’
স্নেহা কাপা গলায় বলে,
‘ আম্মু ও হসপিটালে। এক্সিডেন্ট করেছে। ’
চলবে….
পরবর্তী পর্ব কালকে দুপুর তিনটায় আসবে। এর আগে কোনো পর্ব আসবে না।
ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না। রেসপন্স করবেন!!!!!!
[হেশট্যাগ ব্যবহার ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ]
Share On:
TAGS: কি আবেশে, জেরিন আক্তার
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
কি আবেশে পর্ব ৯
-
কি আবেশে পর্ব ৭
-
চোরাবালির পিছুটানে ৩
-
চোরাবালির পিছুটানে পর্ব ১
-
চোরাবালির পিছুটানে পর্ব ২
-
কি আবেশে গল্পের লিংক
-
কি আবেশে পর্ব ৫
-
কি আবেশে পর্ব ৪
-
কি আবেশে পর্ব ২
-
কি আবেশে পর্ব ৩