কি_আবেশে (১০)—স্পেশাল পার্ট
জেরিন_আক্তার
স্নেহা মেরাবের কথার মাঝে মৌ রুমে নক করে,
‘ ভাইয়া আসবো? ’
‘ হুম আয়! ’
মৌ রুমে ঢুকে বলে,
‘ ভাইয়া কি জন্যে ডেকেছো? ’
মেরাব জিজ্ঞাসু কন্ঠে বলে,
‘ সাদাফের কি খবর রে? ওর সাথে যোগাযোগ করতে পেরেছিলি? ’
‘ না ভাইয়া। কলই ঢুকছে না। ’
‘ ঠিক আছে। আর কালকে সকালে কলেজে যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে থাকিস আমি নিয়ে যাবো। দেরি কেনো হয়না। এলার্ম দিয়ে রাখিস। ’
‘ ঠিক আছে। এখন গেলাম। ’
‘ হুম, যা! ’
মৌ চলে গেলো। স্নেহা বিছানা ছেড়ে দিয়ে দরজা বন্ধ করলো। এরপরে কাভার্ডের দিকে এগিয়ে গিয়ে একসেট টুপিস বের করলো। মেরাব স্নেহার দিকে তাকিয়ে বলে,
‘ রাতে শাড়ি পড়ে ঘুমাতে অসুবিধা হয় নাকি? ’
স্নেহা হালকা হেসে বলে,
‘ একদম ঠিক ধরেছেন। শাড়ি পড়ে কালকে ঘুমাতেই পারিনি। তাই আজ আর শাড়ি পড়ে শুয়ে রাতের ঘুমটা নষ্ট করবো না। ’
এই বলে স্নেহা যেই ওয়াশরুমের দিকে চলে যাবে ঠিক তখন মেরাব কাঠ গলায় বলে উঠে,
‘ চুপচাপ এসে শুয়ে পড়ো। কোনো চেঞ্জ করাকরি হবে না। ’
স্নেহার পা থেমে যায়। পেছনে ফিরে বলে,
‘ কেনো? আমি তো শাড়ি পড়ে ঘুমাতে পারিনা বললামই তাহলে চেঞ্জ করতে মানা করছেন কেনো? ’
‘ তোমায় কি বললাম তুমি শোনোনি? নাকি আবার বলতে হবে? ’
স্নেহা ফিরে এসে জামাটা রেখে দেয়। মেরাব শুয়ে পড়তে পড়তে বলে,
‘ লাইট নিভিয়ে এসে শুয়ে পড়ো। সকালে উঠতে হবে। ’
স্নেহা লাইট নিভিয়ে মেরাবের পাশে শুয়ে পড়ে। মেরাব পাশে আছে বলে স্নেহার একদিকে কেমন অস্বস্থিও হচ্ছে। বুকের ভিতরে ধুকবুক করছে।
সকাল হতেই মেরাবের আগে স্নেহার ঘুম ভাঙে। ঘুমের ঘোর থেকে বেরিয়ে নিজেকে মেরাবের কাছাকাছি দেখে আলগোছে সরে এলো। মেরাব তখনও ঘুমে বিভোর। স্নেহা মেরাবের দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে বিছানায় থেকে নেমে ওয়াশরুমে চলে যায়। ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে এসে হাত-মুখ মুছে ওইভাবেই রুম থেকে বেরিয়ে ড্রয়িং রুমে চলে আসে। কিচেনে তখন রহিমা বেগম সকালের রান্না বসিয়ে দিয়েছেন। আর কেউই এখনও উঠেনি। একটু পরেই সবাই উঠে নিচে চলে আসবে।
স্নেহা রহিমা বেগমের কাছে যায়। তিনি স্নেহার সাথে কথা বলা শুরু করলেন। দুজনেই কাজ করছে আর কথা বলছে। রহিমা বেগম মেরাবের জন্য কফি বানাতে নিলে স্নেহা তাকে কফি বানাতে দেয় না। বলে নিজেই বানাবে আজকে। হঠাৎ করে রহিমা বেগমের চোখ যায় স্নেহার দিকে। এতক্ষণ মেয়েটাকে ওইভাবে দেখেনি। স্নেহা নিজের মতো করে কফি বানাচ্ছে। বাড়িতে থাকতে শুধু চা আর কফিটাই বানানো শিখেছে। এছাড়া নাফিসা বেগম তেমন কোনো কাজই করতে দিতেন না।
রহিমা বেগম স্নেহার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসেন। স্নেহা বুঝতে পেরেও আমলে নিলো না। একজন একজনকে দেখে হাসতেই পারে এই ভেবে আর কিছু বললো না।
এর একটু পরে মৌ নিচে আসে। আজ কলেজে যাবে বলে আগেই উঠে গিয়েছে। নাহলে তার ঘুম ভাঙে না। শেষে দেখে কলেজের টাইমই নেই। তাই আজ এলার্ম দিয়ে আগে উঠেছে।
মৌ স্নেহাকে দেখে এগিয়ে আসে। এদিকে স্নেহারও কফি বানানো শেষ। মেরাবও হয়তো এতক্ষণে উঠেও গিয়েছে। স্নেহা কফি নিয়ে যেই চলে যাবে ঠিক তখন মৌ স্নেহার দিকে তাকিয়ে বলে,
‘ আপু তোমার গলায় কি হয়েছে? ’
স্নেহা আচমকা এমন কথা শুনে হেঁয়ালি করে বলে,
‘ গলায় আবার কি হবে? ঠিকই তো আছে! ’
মৌ আর রহিমা বেগম দুজনে মুখ চাওয়া-চাওয়ি করে হেসে ওঠেন। স্নেহা নিজের গলায় হাত দিতেই হালকা ব্যথা অনুভব করে। পরক্ষনেই রাতের কথা মনে করে নিজেই লজ্জা পেয়ে চলে যায় কিচেনে থেকে।
স্নেহা রুমে এসে কফি রেখে আয়নার সামনে গিয়ে দাড়ায়। চোখে পড়ে গলায় স্পষ্ট লাল হয়ে আছে। এখন বুঝতে পারছে,তখন কেনো রহিমা আন্টি হাসলো। এর সাথে মৌ। স্নেহা নিজের মাথায় নিজেই গাট্টা মেরে বলে উঠলো,,,ইশ কেনো যে তখন আয়না দেখে গেলাম না। মাঝখানে থেকে লজ্জা পেয়ে গেলাম।
তখন মেরাব ওয়াশরুম থেকে বের হলো। স্নেহা রাগী চোখে তাকিয়ে আবার অন্য কাজে মন দিলো। মেরাব এগিয়ে এসে কফির মগ হাতে নিলো। কফিতে চুমুক দিতে দিতে স্নেহাকে দেখলো। স্নেহা যাই করছে মেজাজ গরম দেখিয়ে করছে। মেরাব বুঝতে পেরে যায় এই মেয়ে কিছু নিয়ে রেগে আছে। তৎক্ষণাৎ, মেরাব কফিতে আরেকটা চুমুক দিয়ে স্নেহার উদ্দেশ্যে বলে উঠে,
‘ ওভাবে রাগ দেখিয়ে কি প্রমাণ করতে চাইছো, আমার কি রাগ নেই? ’
স্নেহা বিড়বিড় করে বলে,,,বজ্জাত লোক একটা।
এই বলে রাগী মুখে হাসি দিয়ে বলে উঠে,
‘ না, তাতো বোঝাতে চাইনি। আর এই পৃথিবীতে তো শুধু আপনার একারই রাগ আছে। ’
মেরাব গম্ভীর গলায় বলে উঠে,
‘ কি হয়েছে সেটা বলো? ’
স্নেহা এগিয়ে এসে বলে,
‘ দেখুন আমার গলায় কি করেছেন? ’
মেরাব গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলে,
‘ তাতে কি হয়েছে? ’
‘ কি হয়েছে মনে? আপনি জানেন এইটার জন্য নিচে মৌ আর রহিমা আন্টির সামনে কতটা লজ্জা পেয়ে গিয়েছিলাম। ’
‘ তুমি ঢেকে যেতে! ’
‘ মনে ছিলো না। ’
মেরাব উঠে দাড়িয়ে বলে,
‘ তবে এরপর থেকে রুম থেকে বের হতে গেলে আয়নায় দেখে তারপর যাবে। ’
স্নেহা বির বির করে বকতে থাকে। মেরাব একহাত পকেটে গুঁজে বাকা হেসে বলে,
‘ রাতে নিজের দোষেই তো আমায় বাধ্য করলে গলায় এমনটা করতে। আর এরপরে যদি দেখি কোনো কথায় তেরামি করেছো তাহলে রাতের মতো পানিশমেন্ট তোমার প্রাপ্য। ’
রাতে,,,,
স্নেহা শুয়েই ছিলো। এর পরে নিজের ফোন বের করে বান্ধবীকে মেসেজ দিচ্ছিলো। মেরাব তা দেখে ফোনটা চায়। কিন্ত স্নেহা দেয় না। তখন মেরাবকে বলে,
‘ আমি ফোন দিবো না আপনাকে। ’
মেরাব বলে,
‘ কেনো দিবে না? আগে প্রেম করতে নাকি। আর সেটা দেখবো বলে ভয় পাচ্ছো? ’
‘ আপনি না জেনে অযথা মিথ্যে কথা বলবেন না। আর শুনুন আমি এসব কোনো কিছুর জন্যই ভয়ে নেই। আর একজনের ফোন চাইলেই কি দেওয়া যায়। পার্সোনাল জিনিস থাকে তো। ’
মেরাব বলে,
‘ তোমার পার্সোনাল জিনিস এখন আমার অধিকারে। ফোন চাইছি দাও! ’
‘ দিবো না। ’
‘ কেনো দিবে না? ’
‘ দিবো না মানে দিবো না। কেনো সেটা জানিনা। ’
‘ শেষ বার বলছি দাও। নাহলে কিন্তু! ’
‘ আমি আপনাকে দেখে ভয় পাই না। যা করার করুন আমি তবুও ফোন দিবো না। ’
ঠিক তখনই মেরাব স্নেহার কাছে যায়। এরপরে চট করে স্নেহার গলায় মুখ গুঁজে কামড় বসায়। আর আরেক হাতে স্নেহার ফোনটা নিয়ে নেয়। স্নেহা ব্যথায় মেরাবের শার্ট খামচে ধরে। এর কিছুক্ষণ পরে মেরাব স্নেহাকে ছেড়ে দেয়। স্নেহা রাগে,ব্যথায় পাশ ফিরে শুয়ে মনে মনে বকতে থাকে।
স্নেহা আর মৌ রেডি হয়ে বসে আছে। মেরাব আসলেই বেরিয়ে যাবে। স্নেহা মেরবের কথা মতো বোরখা আর হিজাব বেঁধেছে। দুজনেই ড্রয়িং রুমে বসে আছে। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে মেরাবও নিচে আসে। এরপরে তিনজনে একসাথে বেরিয়ে যায়।
স্নেহা তার বান্ধবী জুঁইয়ের সাথে ক্লাসে বসে কথা বলছিলো। জুঁইকে বলে দিয়েছে তার বিয়ে থেকে শুরু করে এই পর্যন্ত যা যা হয়েছে। এর মধ্যে একজন টিচার এসে বলে গিয়েছে আজ নতুন ইংলিশ টিচার আসবে। ক্লাসে কয়েকটা মেয়ে বলাবলি করছিলো নতুন টিচার নাকি বেশ হ্যান্ডসাম। স্নেহার এগুলো শুনে কেমন একটা জেলাস ফিল হচ্ছে।
এখন ইংলিশ ক্লাসের সময়। সবাই নতুন টিচারের অপেক্ষায় বসে আছে। সবার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মেরাব ক্লাসরুমে ঢুকলো। সব মেয়েরা কেমন মেরাবের দিকে তাকিয়ে ছিলো। স্নেহা মনে মনে বলে উঠলো,,, কলেজে আসবে টিচার বেশে ,কিন্ত উনি এসেছে নায়ক বেশে। না না, আর উনাকে এভাবে আসতে দেওয়া যাবে না। উনার ড্রেসাপ চেঞ্জ করে দিবো।
স্নেহার ভাবনার মাঝে মেরাব তার দিকে আঙুল উঠিয়ে ডেকে উঠলো,
‘ মিসেস খান! স্ট্যান্ড আপ! ’
চলবে….
এই পার্টটা কেমন লেগেছে আপনাদের কাছে, কমেন্টে জানাবেন!!!
পরবর্তী পর্ব কালকে দুপুর তিনটায় আসবে। এর আগে কোনো পর্ব আসবে না।
ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না। রেসপন্স করবেন!!!!!!
[হেশট্যাগ ব্যবহার ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ]
Share On:
TAGS: কি আবেশে, জেরিন আক্তার
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
চোরাবালির পিছুটানে গল্পের লিংক
-
কি আবেশে পর্ব ১
-
কি আবেশে পর্ব ১১
-
কি আবেশে পর্ব ৪
-
কি আবেশে পর্ব ৭
-
কি আবেশে পর্ব ৬
-
চোরাবালির পিছুটানে ৩
-
কি আবেশে গল্পের লিংক
-
চোরাবালির পিছুটানে পর্ব ১
-
কি আবেশে পর্ব ৫