Golpo romantic golpo কি আবেশে

কি আবেশে অন্তিম পর্ব (স্পেশাল)


কিআবেশে #অন্তিমপর্ব (স্পেশাল)

জেরিন_আক্তার

ঈদের পরেরদিনই মেরাব স্নেহাকে তার বাবার বাসায় রেখে এলো। দুইদিনের ভিতরে সব কেনাকাটা শেষ দিলো। স্নেহাদের বাড়ির সব মেহমানও চলে এসেছে। এদিকে মেরাবের সব ফ্রেন্ড থেকে শুরু করে সব আত্মীয় চলে এসেছে।

গায়ে হলুদের দিন,,,
সন্ধ্যার দিকে স্নেহা সেজেগুঁজে মেরাবকে ভিডিও কল দেয়। মেরাব স্নেহাকে গায়ে হলুদের সাজে দেখে কিছুক্ষণ দেখে মুচকি মুচকি হাসলো। পরক্ষনেই শয়তানি করতে বলল,
“যেই সাজা সেজেছো, ভূতও হার মেনে যাবে।”

স্নেহা চোখ পাকিয়ে বলে উঠলো,
“তাহলে ভূতকেই বিয়ে করুন।”

“তুমিই তো সেই ভূত।”

“আপনি কালকে বিয়ে করতে আসুন তখন দেখবেন কি করি।”

মেরাব ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলল,
“কি আর করবে, বলবে বিয়ে করবে না। আমাদের তো আগে একবার বিয়ে হয়ে গিয়েছে। এখন তুমি বিয়ে করলেও আমার। আর বিয়ে না করলেও আমার।”

স্নেহা এই শুনে হেসে বলল,
“হুমমম, জানি। এখন একটা কথা বলি!”

“বলো!”

“রাখবেন তো?”

“আগে বলো কি কথা?”

“না, আপনি আগে বলেন রাখবেন কি না?”

“আমি তো জানিই না, কি রাখার কথা বলবে তুমি! আগে বলো তারপর বলছি।”

“না, আপনি আগে বলুন রাখবেন।”

“ঠিক আছে, রাখবো। এবার বলো!”

স্নেহা বাচ্চাসুলভ ভঙ্গিতে বলে উঠলো,
“বলছি, অনেকের বিয়েতে দেখিছি তার হাসব্যান্ড গায়ে হলুদের রাতে বউয়ের বাড়িতে এসে সারপ্রাইস দেয়। নাচেও একসাথে। আপনিও আসুন না!”

মেরাব ভ্রু কুঁচকে হাত দিয়ে না করে বলে উঠলো,
“না, বাবা আমার ওসব পছন্দ নয়। একা একা নাচো!”

স্নেহা নাক ফুলিয়ে বলে উঠলো,
“আসবেন না?”

“না।”

“সত্যিই?”

“হুমম।”

“না, প্লিজ আসুন!”

“পারবো না, একা একা নাচো!”

“না, আপনি আসবেন!”

“আসা-আসি বাদ। এখন রাখছি। কাজ আছে!”

মেরাব কল কেটে দিলো। স্নেহা ফোনটা বিছানায় রেখে গাল ফুলিয়ে উঠে দাড়ালো। মেরাব রুম থেকে বেরিয়ে সাদাফ, মাহিন সহ আরও কিছু কাজিনকে নিয়ে বের হয়ে গেলো। মাহিন জিজ্ঞাসা করলো,
“কোথায় যাবেন মেরাব ভাই?”

“আমার বউকে হলুদ লাগাতে!”

সাদাফ হেসে বলে উঠলো,
“ভাইয়া সিরিয়াস!”

“হুমম। ওখানে গিয়ে সারপ্রাইস দিবো। আর নাচ তো জানাই আছে।”

মাহিন মুচকি হেসে বলল,
“নিশ্চই বউ বলেছে তাই যাচ্ছো?”

“স্নেহা বলেছিলো। আমি ওকে বলেছি ওসব আমার পছন্দ নয় যাবো না। ও তো রাগে ফুলে গিয়েছে। তাও বলিনি যে যাবো। সারপ্রাইস দিবো যখন তাহলে ভালো করেই দিবো।”

“তাহলে চলো!”

স্নেহা তার কাজিন, ফ্রেন্ড সবার সাথে একেক রকম ভাবে ছবি তোলায় ব্যাস্ত হয়ে পড়েছিলো। অনুষ্ঠানটা ছাদেই করা হয়েছিলো। মেরাবরা সেখানেই গেলো। একই সাথে মেরাবরা নাচের জন্যও প্রস্তুত ছিলো।

হঠাৎ করে গান বেজে উঠলো—
Kab se aaya hain teri dulhe raja
Ab der na kar, jaldi aaja

Kab se aaya hain teri dulhe raja
Ab der na kar, jaldi aaja

এইটুকু বাজার পরে সবার মাঝখানে মেরাব দাড়িয়ে গানের সাথে ঠোঁট মিলালো আর নাচতে শুরু করলো—-

Hoooo Hoooo..
Tere ghar aaya
Main aaya tujhko lene,
Dil ke badle mein
Dil ka nazrana dene….

Tere ghar aaya
Main aaya tujhko lene,
Dil ke badle mein
Dil ka nazrana dene….

Meri har dhadkan keya bole hai-
Sun Sun Sun Sun

Saajanji ghar aaye
Saajanji ghar aaye
Dulhan kyun sharmaye…
Saajanji ghar aaye

এর সাথে সাথে স্নেহা ও তার কাজিনরাও উঠে আসে। স্নেহা মেরাবের সামনে এসে, মেরাবের মতো করে নাচতে শুরু করলো—

Ai dil
Chalega ab na koi bahana,
Gori ko hoga
Ab saajan ke ghar জানা

Maathe ki bindiya keya bole hai-
Sun Sun Sun Sun

Saajanji ghar aaye
Saajanji ghar aaye
Dulhan kyun sharmaye…
Saajanji ghar aaye.

স্নেহা আর মেরাবের এই সুন্দর নাচের মুহূর্তটা ক্যামেরায় বন্দি হলো।

নাচানাচি শেষ হলে স্নেহাকে বলা হয় মেরাবকে নিয়ে নিচে যেতে। স্নেহা মেরাবকে নিয়ে এসে নিজের রুমে দুজন বসলো। স্নেহা বলেই ফেললো,
“তখন মিথ্যে বললেন কেনো? বললেন তো যে এসব পছন্দ নয়। তাহলে এলেন কেনো?”

মেরাব বাকা হেসে বলল,
“আসার একটাই কারণ। তা হলো তোমাকে চুমু খাবো।”

স্নেহা কপাল কুঁচকে নিলো,
“কিহ!”

“হুমমম।”

মেরাব এগোতে নিলে স্নেহা বলে উঠলো,
“সরুন! আমাদের কালকে বিয়ে!”

“তো কি হয়েছে। বিয়ে বলে কি আগে চুমু খাইনি?”

“খেয়েছেন তবে এখন না!”

“কেনো?”

“বিয়ে বাড়ি ভর্তি মানুষ। চুমু খাবেন কেউ দেখলে?”

“দেখুক! আমার কোনো সমস্যা নেই।”

স্নেহা উঠে দাড়ালো। মেরাবও উঠে দাড়ালো। আজ চুমু খেয়েই যাবে। যা হওয়ার হোক। স্নেহা রুম থেকে বেরিয়ে যাবে বলে পা বাড়ালো। মেরাব পেছনে থেকে স্নেহাকে এক ঝটকায় টান দিয়ে নিজের কাছে আনলো। স্নেহা হাঁসফাঁস করতে করতে দরজার দিকে তাকিয়ে বলল,
“ছাড়ুন না। দরজাও লাগানো না। কেউ এলে কি হবে।”

মেরাব স্নেহার কথা শুনেও না শোনার ভান করে রইলো। স্নেহার দুইগালে হাত রেখে নিজের আরও কাছে নিয়ে এলো। স্নেহা চোখ বন্ধ করে নিলো। মেরাব হেসে স্নেহার ঠোঁটে ঠোঁট রাখলো। মিনিট পাঁচেক যাওয়ার পরে এই দিকে মাহিন এলো।সে এসেছে মেরাবকে খুঁজতে। মেরাবের ফোন ওর কাছে ছিলো বলে সেটা দিতে। রুমের দরজা খুলতেই মেরাব আর স্নেহাকে দেখে মাহিনের চোখ বড়বড় হয়ে গেলো। গলা খাকারি দিয়ে বলেই উঠলো,
“এই আস্তে আস্তে। কালকে বিয়েটা পর্যন্ত ধৈর্য হলো না তোমাদের।”

মেরাব স্নেহাকে ছেড়ে মাহিনের দিকে তাকালো। স্নেহা লজ্জা পেয়ে রুমের ব্যালকনিতে চলে গেলো। মেরাব পাশ থেকে একটা টিস্যু নিয়ে ঠোঁট মুছতে মুছতে বলে উঠলো,
“আমার না হয় ধৈর্য নেই। আপনার তো আরও ছিলো না।”

মাহিন নাক-মুখ কুচকালো। তবে আর যাই হোক মেরাবকে ক্ষেপানোর একটা সুযোগ পেয়েছে বটে। মেরাব আরেকটা টিস্যু নিয়ে ব্যালকনিতে চলে গেলো। স্নেহাকে টিস্যু দিয়ে বলল,
“এই নাও! আর ঠোঁটে ওই যে কি লাগাও। লাগিয়ে যেও। উঠে গিয়েছে।”

স্নেহার ইচ্ছে করছে মাটিটা দুইভাগ করে লুকিয়ে পড়তে। লোকটা বড্ড ঠোঁটকাটা হয়ে গিয়েছে। মেরাব স্নেহার কাছে বিদায় জানিয়ে বলল,
“ভালো থেকো। কালকে বিয়ে করতে আসবো। আর বেশি আটা-ময়দা মাখিও না।”

স্নেহা চোখ রাঙিয়ে বলে উঠলো,
“বিয়েই করবো না।”

মেরাব গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলে উঠলো,
“না করলে, আমার আবার এতো লোভ নেই তোমাকে বিয়ে করার। আমার তো বউ আছেই। তুমি বিয়ে না করলেও আগের বউ দিয়ে টেনেটুনে চালিয়ে দিবো।”

অতঃপর স্নেহা মেরাবের মুখপানে তাকিয়ে হেসে উঠলো। মেরাব স্নেহার কাছে গিয়ে একটু জড়িয়ে ধরে চলে এলো। রুমে এসে মাহিনকে বলল,
“বুঝলেন ভাই, এসেছি শশুরবাড়ি। কিছু না খেয়ে গেলে হয়। তাই একটু মিষ্টি মুখ করলাম।”

মাহিন জিভে কামড় দিয়ে হেসে হেসে বলল,
“ছি ছি! দাড়াও সবাইকে বলতে দাও।”

মেরাব হেসে মাহিনের কাধে হাত রেখে যেতে যেতে বলল,
“চলুন, আমিও আপনার সাথে যাই। একসাথেই নাহয় সবাইকে বলি।”

দুজনে গলা ধরে কথা বলতে বলতে চলে গেলো।

পরদিন,,,

বিয়েটা ভালোভাবেই সম্পন্ন হলো। সবার আনন্দ-হইহুল্লোড় এখনও রয়েছে। স্নেহার বিদায়ের সময় হয়ে এলে সবাই একটু ইমোশনালও হয়েছিলো। বিশেষ করে স্নেহার বাবা-মা। যেহেতু তাদের একমাত্র সন্তানই স্নেহা।

সবাই বউ নিয়ে খান বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলো। মেরাব নিজে ড্রাইভার করে বউ নিয়ে যাচ্ছে। মেরাবের গাড়িতে শুধু ওরা দুজনই। মেরাব একবার সামনে তাকাচ্ছিলো আবার স্নেহার দিকে তাকাচ্ছিলো। স্নেহা মুচকি হেসে বলে উঠলো,
“গাড়িটা তো মন দিয়ে ড্রাইভ করবেন।”

“পাশে সুন্দরী কোনো মেয়ে বসে থাকলে ড্রাইভে মন বসবে কিভাবে? বলো!”

স্নেহা হাসলো। মেরাব একহাত বাড়িয়ে স্নেহার হাতে হাত রেখে বলল,
“খুশি আগেও হয়েসছি। তবে আজকে প্রকাশ্যে খুশি হলাম আরও। আমার সাত বছরের ভালোবাসা আজ পূর্ণতা পেলো। সবশেষে তোমায় একটা কথাই বলতে চাই, ভালোবাসি তোমায়, ভীষণ ভালোবাসি, অসম্ভব ভালোবাসি।”

স্নেহা হেসে বলল,
“আমিও ভালোবাসি আপনাকে, ভীষণ ভালোবাসি, অসম্ভব ভালোবাসি।”

মেরাব গভীর শ্বাস ছেড়ে একটা গান প্লে করলো আর নিজেও তাতে সুর মেলালো—

         “উড়ু উড়ু স্বপ্নে এক রাজকন্যে,
             আসে ফিরে চলে যায়..!
          উড়ু উড়ু স্বপ্নে এক রাজকন্যে,
              ডাকে যেনো ইশারায়..!

         উড়ু উড়ু স্বপ্নে এক রাজকন্যে,
             আসে ফিরে চলে যায়..!
         উড়ু উড়ু স্বপ্নে এক রাজকন্যে,
              ডাকে যেনো ইশারায়..!

         কি আবেশে.. তারে বারে বারে দেখি
               তবু যেনো মেটে না তৃষা....!
         সে যে পথ চলে, বুকে ঝড় তুলে..
               জেগে উঠে ঘুমোনো আশা।

          উড়ু উড়ু স্বপ্নে এক রাজকন্যে,
                আসে ফিরে চলে যায়..!
          উড়ু উড়ু স্বপ্নে এক রাজকন্যে,
              ডাকে যেনো ইশারায়..!
                             ----

          শুধু চেয়ে চেয়ে চেয়ে চেয়ে দেখি,
                লিখি মনে মনে রূপকথা!
                          রূপকথা..।

           লাগে স্বপ্ন স্বপ্ন স্বপ্ন স্বপ্ন সবই
              ভাবি বসে বসে তার কথা
                      তার কথা..।

              কেন মন তারে বারে বারে
              কাছে খোঁজে উতলা ভাষা
           সে যে পথ চলে, বুকে ঝড় তুলে..
              জেগে উঠে ঘুমোনো আশা।

           উড়ু উড়ু স্বপ্নে এক রাজকন্যে,
                আসে ফিরে চলে যায়..!
           উড়ু উড়ু স্বপ্নে এক রাজকন্যে,
              ডাকে যেনো ইশারায়..!
                          ----

           মনে আশা আশা আশা আশা,
               চোখে নেশা নেশা নেশা,
               বেড়ে যায়....বেড়ে যায়....!
         কাছে এসে এসে এসে এসে প্রেম,
         দূরে দূরে উড়ে যায়....উড়ে যায়....!

  একা মন শুধু.. মরু ধুধু বুকে চায় প্রেমেরই বরষা।”
          সে যে পথ চলে, বুকে ঝড় তুলে..
              জেগে উঠে ঘুমোনো আশা।

                 ওহো হো.... ওহো হো,
                ওহো হো.... ওহো হো।”


                         ~সমাপ্ত~

চলবে….
__প্ৰিয় পাঠক-পাঠিকারা,,, গল্পটা শেষ করার কোনো ইচ্ছেই ছিলো না। কিন্তু পর্ব আর বাড়াতে পারলাম না। তাই ইতি টানলাম।
তবে মারুফুল খানের ছেলেকে এতো সহজেই বিদায় দিচ্ছি না। আমার মনে হয় মেরাব আর স্নেহাকে নিয়ে এই গল্পটা কম লিখে ফেলেছি। যদি চান মেরাব-স্নেহাকে নিয়ে আবারও অন্য রকম কাহিনী নিয়ে ফিরবো। আপনাদের অনেক অনেক ধন্যবাদ এই পর্যন্ত পাশে থাকার জন্য। ভালোবাসা নিবেন।

আর কেমন হয়েছে এন্ডিং টা, অবশ্যই গঠনমূলক মন্তব্য করবেন।

[হেশট্যাগ ব্যবহার ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply