Golpo কাজরী

কাজরী পর্ব ৫


কাজরী-৫

ইশান দূর্বল কাজরীকে দেখতে চেয়েছিল। সেই ইচ্ছে পূর্ণ হয়েছে। ওর বাহুঢোরে বিধ্বস্ত অবস্থায় যে কাজরী আছে সে বিধ্বস্ত, দূর্বল নেতিয়ে যাওয়া লতার মতো। ইশান কাজরীকে কোলে তুলে প্যালেসের ভেতরে প্রবেশ করলো।

শিরিন এই মুহুর্তে খুব অসহায় বোধ করছেন। নিশান তার বাবার সন্দেহের কথা জানানোর পর থেকে শিরিনের মন খারাপ হয়ে গেল। হ্যাঁ ইশানের এই বিয়ের বিপক্ষে তিনি ছিলেন। কাজরীকেও সে খুব একটা পছন্দ করেন নি এটাও সত্যি। কিন্তু তাই বলে ত্বরিতার সঙ্গে চক্রান্ত করার দায় তার এটা মানতে কষ্ট হচ্ছিলো। এরমধ্যে আল্পনার ব্যাপার টা আরও বেশী ঝামেলায় ফেলে দিলো।

ওয়াজেদ চৌধুরী নিজেও এই ব্যাপারটা নিয়ে আপসেট আছেন। এতো এতো সিকিউরিটির মধ্যে থেকে একটা মেয়ে উধাও হয়ে গেল! অবিশ্বাস্য ব্যাপার। সিসিক্যাম ফুটেজ চেক করে দেখা গেল আল্পনা এক লোকের পিছনে যাচ্ছিলো। এক্সিট গেটের পর আর কিছু দেখা যায় নি।

আখতারউজ্জামান চৌধুরীকে বললেন,

“যে লোকটার সঙ্গে আল্পনা গিয়েছে সে আমাদের কেউ নয়। হবে আপনাদেরই কেউ একজন। “

চৌধুরী গম্ভীর গলায় বললেন,

“তুমি এতো শিওর কী করে হচ্ছো যে লোকটা আমাদের ই কেউ একজন? হতে পারে তোমাদের কারো সাথেই গেছে। তোমার মেয়েকে সুস্থই মনে হচ্ছে। বেহুশ করে তো তাকে নিয়ে যাওয়া হয় নি। “

ওয়াজেদ চৌধুরীর কথায় যুক্তি খুঁজে পেলেও আখতারউজ্জামান মনে করেন এটা তার লোকের ই কাজ। তিনি জোর গলায় বললেন,

“আল্পনার ফোন টা বন্ধ। আমাদের লোক হলে নিশ্চয়ই এতক্ষণে জানার কথা যে আমার মেয়ে কোথায় আছে।”

“আমি আশ্চর্য হয়ে যাচ্ছি তোমার অভিযোগ দেখে! আমি তোমার মেয়েকে কিডন্যাপ করব! তোমার ছোট মেয়ে যে আমার ছেলের বউ হয়েছে সেটা আমি এরমধ্যে মোটেও ভুলে যাই নি।

নিশান এসে আখতারউজ্জামান কে থামালো। বলল,

“আঙ্কেল এটা তর্ক বিতর্কের সময় নয়। আমি শান্ত হয়ে বসুন। আল্পনাকে খোঁজার সমস্ত ব্যাবস্থা করা হয়েছে। “

আখতারউজ্জামান শান্ত হতে পারছেন না। তার সঙ্গে চৌধুরী এরকম ডার্টি গেম খেলবে সেটা সে বিশ্বাস করতে পারছেন না। ওয়াজেদ চৌধুরী চুপচাপ সব সহ্য করবেন না, এটা জানতেন। কিন্তু তার এমন পরিকল্পনা থাকতে পারে সেটা ভাবেন নি।


মন্যুজান খাতুন শিরিন কে ডাকলেন। শিরিন অত্যন্ত বিরক্ত গলায় বললেন,

“মা আমরা একটু ঝামেলায় আছি। আপনার সঙ্গে পরে কথা বলি।”

মন্যুজান খাতুন রাগী গলায় বললেন,

“আমারে ব্যস্ত হওয়া দেখাবা না শিরিন। বসো এইখানে। “

শাশুড়ীর গলার তেজ আজ অন্যরকম টের পেল শিরিন। তিনি বসলেন। বললেন,

“এইটা তোমার চাল না? “

শিরিন হতভম্ব গলায় বললেন,

“কিহ!”

“তুমি ইশানের বউরে সরাইতে চাইছিলা? ভুলে তার বোনরে সরাইছ। যেমন করছিলা আমার ছোট বউয়ের সাথে! “

শিরিন রাগে কাঁপতে লাগলো রীতিমতো। চিৎকার করে বললেন,

“চুপ একদম চুপ। আর একটা মিথ্যা অপবাদ দিলে আপনার জিব কেটে ফেলব আমি। “

মন্যুজান খাতুনও আজ বেশ তেজে আছেন। তিনিও গলা চড়িয়ে বললেন,

“তুই আমারে কাটবি। আমার সংসারে ভাঙন আনছ। আমার এতো সুন্দর বউটারে ঘরছাড়া করছস। চান্দের মতো মাইয়া ছিলো সে। এখন আরেক ব্যটার ঘর করে সে। “

মন্যুজান খাতুন হঠাৎ ই চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করলেন। শিরিন হতভম্ব মুখে বসে রইলো। উঠে যাবার শক্তিটুকু খুঁজে পাচ্ছেন না এই মুহুর্তে।


ইশান পানির গ্লাস টা এগিয়ে দিতেই কাজরী বলল,

“লাগবে না ইশান। “

ইশান আর জোর করলো না। আল্পনার ব্যাপারে ওর তেমন কিছু জানা নেই। আজ ই দেখা হলো। প্রথম দেখায় ইশানের মনে হলো মেয়েটা একটা কিছু সমস্যায় ভুগছে। অবশ্য বিয়ে ভেঙে যাওয়া ব্যাপার টা বাঙালি মেয়েদের ক্ষেত্রে অনেক বড় সমস্যাই বলা যায়।

ইশান কাজরীকে বলল,

“ফুটেজে যা দেখা গেছে তাতে এতটুকু বোঝা গেছে যে পরিচিত কারোর সঙ্গে গেছে? “

“সেটা নাও হতে পারে। তোমার আত্মীয় পরিচয় দিয়ে যদি কেউ নিয়ে যায়!”

কাজরীর জিজ্ঞাসু চোখ দেখে ইশান বলল,

“হতেই পারে। “

“গত কয়েক দিনে যা যা ঘটছে সবটাই দুর্ঘটনা। আল্পনার হবু বরের মরে যাওয়া, তোমার আমার বিয়ে সব ই দুর্ঘটনা। আর কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে দেয়া যাবে না। “

কথাটা বলে কাজরী উঠে দাঁড়ালো। ইশান বাঁধা দিতে চাইলো, কাজরী একা চলার মতো অবস্থায় নেই, কিন্তু ও ইশানকে সরিয়ে দিয়ে বেরিয়ে গেল।

কাজরী চলে গেল বসার ঘরে। সেখানে এই মুহুর্তে শিরিন, নিশান ও ওয়াজেদ চৌধুরীর সঙ্গে ওর বাবা বসে আছেন। কাজরী ভনিতা ছাড়াই শিরিন কে বলল,

“আপনি কী সত্যিই আল্পনাকে আটকে রেখেছেন?”

শিরিন অবাক হবার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন ইতিমধ্যে। তিনি তাকিয়ে আছেন কাজরীর চোখে চোখ রেখে। কাজরী আবারও বলল,

“আপনি আমাকে পছন্দ করেন না। আমি কোনো রকম বেয়াদবি আপনার সঙ্গে করিনি। তবে আপনার চাপানো কর্তৃত্বকে মেনে নেয় নি। আবার আজ নিজের মতো সাজের ব্যাপার টাও আপনি পছন্দ করেন নি। এই বাড়িতে আপনাকে অমান্য করার শাস্তি কী হতে পারে সেটাই কী দেখাতে চাইছেন? “

শিরিন জবাব দেবার আগে চৌধুরী সাহেব বললেন,

“তুমি শান্ত হও মা। এখনও বেশী সময় যায় নি। আমি দেখছি, আমাকে ভরসা করো। “

কাজরী রুক্ষ স্বরে বলল,

“আমি একটুও ভরসা করতে পারছি না আপনাদের। যদি আমাকে শিক্ষা দেবার দরকার হয়, তবে আমাকেই শিক্ষা দিন। আমার বোন কে নয়। সাহস থাকে তো আমার সামনে দাঁড়িয়ে যা করার করুন। পেছন থেকে ছুরি মেরে নিজেদের স্ট্যান্ডার্ড লো করছেন কেন!”

শিরিন বজ্রকন্ঠে কাজরীর নাম টা উচ্চারণ করলেন শুধু। সেই সময় ইশান শান্ত গলায় বলল,

“ও তো জবাব চাইছে মা। ও’কে ধমকে চুপ না করিয়ে জবাব দাও।”

আজকে যা কিছু শিরিন ফেস করেছে তারমধ্যে এটাই ছিলো তার জন্য সবচেয়ে দু:খজনক ব্যাপার। ইশান তাকে প্রশ্ন করছে। ইশান তাকে সন্দেহ করছে। আখতারউজ্জামান নীরবে সবকিছু দেখছেন। আল্পনার চিন্তা ছাপিয়ে এই মুহুর্তে কাজরীর দৃঢ় প্রত্যয়ী আচরণ তাকে বিস্মিত করছে।

নিশান ইশান কে সরিয়ে দূরে নিয়ে বলল,

“হোয়াট ইজ দিজ? আর ইউ লস্ট ইওর মাইন্ড। “

“নো। আই এম অ্যাবসুলেটলি ফাইন। “

“তুইও দাদীর কথা বিশ্বাস করে বসে আছিস? “

“কাজরী এই বাড়িতে নতুন হলেও আমি নতুন না। আর আমি কী বলব না বলব, সেটা আমার চয়েজ। তোমাকে ঠিক করে দিতে হবে না। “

শিরিন দম নিয়ে শান্ত গলায় ইশানের উদ্দেশ্যে বললেন,

“তুমি তোমার দাদীর কথা বিশ্বাস করছ ভালো। আমি আজ জানলাম যে আমাকে নিয়ে তোমার একচুয়াল মনোভাব কী। না আমি আল্পনার ব্যাপারে কিছু জানিনা। তোমার বউকে জবাব দেবার জন্য এতটা নোংরা প্ল্যান আমাকে বানাতে হবে না। তাকে জবাব দেবার মতো গাটস আমার আছে। হ্যাঁ তার সামনে দাঁড়িয়ে চোখে চোখ রেখে কথা বলার গাটস আমি শিরিন চৌধুরী রাখি। “

কাজরী রক্তচক্ষু নিয়ে দাঁড়িয়ে সব শুনলো। শিরিন তার কথা শেষ করে চলে গেলেন নিজের ঘরে। এই নাটক শেষ হলো রাতের মধ্যেই। আল্পনা ফিরে এলো চৌধুরী প্যালেসেই। তখন মাঝরাত, প্রাইভেট কারে করে ফিরেছে। কোথায় ছিলো, কোন অবস্থায় ছিলো সেই ব্যাপারে প্রশ্ন করলেও ঠিকঠাক জবাব দিতে পারে নি। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে যেটা বলল সেটা হলো একজন লোক এসে জানালো যে এখানে থাকা আল্পনার জন্য বিপজ্জনক। একটা কিছু অঘটন ঘটতে পারে তাই চৌধুরী সাহেব ওকে অন্য জায়গায় থাকতে বলেছেন। ওর ফোন টাও নিয়ে যাওয়া হয়েছে যেন সেটা ট্র‍্যাক করে খুঁজে না পাওয়া যায়। আল্পনার নাকি ঘোর বিপদের আশঙ্কা টের পাওয়া গেছে।

“তোমাকে যে লোকটা যেতে বলেছিল সঙ্গে তাকে কী আগে থেকে চিনতে?”

আল্পনা কাজরীর দিকে তাকালো একবার। ইশান জিজ্ঞাসু চোখে তাকিয়ে আছে। কপালের ভাজ দেখে বোঝা যাচ্ছে যে এই মুহুর্তে ও আল্পনার উপর খুব বিরক্ত। কাজরী ঠান্ডা স্বরে বলল,

“ইশানের প্রশ্নের জবাব দাও আল্পনা। তোমার বোকামির জন্য আমাকে সাফার করতে হচ্ছে। “

কাজরীর গলার স্বর কঠিন।

আল্পনা মাথা নেড়ে বলল,

“না।”

“তাহলে তুমি তার সঙ্গে গেলে কেন?”

“কাজরী যেতে বলেছে বলল। “

“তারপর? “

“উনি বললেন গাড়িতে উঠতে। আপনার বাবা আন্দাজ করেছেন নাকি যে ঝামেলা হতে পারে। এজন্য কাজরীকে বলে আমাকে নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। “

ইশান কৌতুক স্বরে বলল,

“স্ট্রেঞ্জ তো! একজন তোমাকে বলল আর তুমি চলে গেলে! কাজরী তো অস্ট্রেলিয়ায় ছিলো না। ও’কে একবারও জিজ্ঞেস করলে না? “

আল্পনা আমতা আমতা করে বলল,

“আমি.. আমি তো কাজরীকে কল করেছিলাম। ও কল রিসিভ করে নি। তাছাড়া এতো লোকের ভীড়, ক্যামেরা, মিডিয়া সহ্য হচ্ছিলো না। “

ইশান আরও কিছু বলতে যাবে সেই মুহুর্তে কাজরী বলল,

“আমার তোমার সঙ্গে একটু কথা আছে ইশান। “

“সেটা পরে শুনব। আগে ওর সঙ্গে কথা বলে নেই। “

কাজরী ইশানের বাহু ধরে টেনে নিয়ে যাবার সময় আল্পনাকে বলল,

“রিলাক্স আল্পনা, আমরা এক্ষুনি আসছি। “

কাজরী ইশান কে আড়ালে নিয়ে গিয়ে বলল,

“ইশান আল্পনাকে তুমি যতই প্রশ্ন করো ওর উত্তর কিন্তু একই থাকবে। “

“আল্পনার উত্তর গুলো যে বিশ্বাসযোগ্য নয় সেটা বুঝতে নিশ্চয়ই তোমার অসুবিধা হচ্ছে না!”

“আমি বুঝতে পারছি ইশান। আল্পনা মেন্টালি আপসেট। অ্যাংজাইটি ডিজঅর্ডার আর বাজেরকম ডিপ্রেশন নিয়ে অনেক বছর যাবত দিন পাড় করছে। তাছাড়া ওর এখনকার মানসিক অবস্থার সঙ্গে নিশ্চয়ই স্ট্রং লজিক কাজ করবে না তাই নয় কী!”

ইশান খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,

“ওকে। আমি জাস্ট দুটো প্রশ্ন করব এবং ও’কে বিব্রত করব না। “

ইশান আল্পনাকে গিয়ে আবারও জিজ্ঞেস করলো,

“তুমি যেখানে ছিলে সেটা কোন জায়গা? চিনতে পেরেছ?”

“ধানমন্ডি এড়িয়া। হাউজ নাম্বার ৩৪/১ চমক কুটির। “

আল্পনার ঝটপট উত্তরে ইশানকে খানিকটা বিভ্রান্ত মনে হলো।

“তোমার সঙ্গে কারো দেখা হয়েছে ওই লোক টা ছাড়া? “

“হ্যাঁ। অন্য আরেকজন ছিলো, মহিলা। “

“কেমন দেখতে?”

আল্পনা মহিলার বর্ননা শোনালো। ইশান আর কোনো প্রশ্ন করলো না। আখতারউজ্জামান আল্পনাকে নিয়ে চলে গেলেন। তবে তার ধারণা এটা চৌধুরী সাহেবের কাজ। এদিকে চৌধুরী সাহেবের দৃঢ় বিশ্বাস যে আখতারউজ্জামান মেয়েকে গায়েব করে অহেতুক নাটক করার চেষ্টা করছেন। দুজনের কেউই সম্মুখে এই বিষয়ে কথা বাড়ালেন না। চৌধুরী সাহেব আখতারউজ্জামান কে সতর্ক করে বললেন,

“তোমাকে তাহলে আরেকটু সাবধানে চলাফেরা করতে হবে। “

“একই উপদেশ আপনার জন্যও প্রযোজ্য। বিপদ আমার উপর দিয়ে আসলেও ঘুরেফিরে আপনাকে জড়ানো হচ্ছে। “

তিনি মাথা নেড়ে সায় দিলেন।


সারাদিনের ক্লান্তি শেষে ইশান নিজের ঘরের বিছানায় এসে বালিশে মাথা রাখলো। কাল ও অন্যরকম কাজরীকে দেখতে পেয়েছে। ঠিক যে মুহুর্তে কাজরী জানতে পারলো আল্পনাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, সেই মুহুর্তেই ওর মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেল। ইশান ওর হাত ধরে বলেছিল,

“আর ইউ ওকে?”

কাজরী থরথর করে কাঁপছিলো। ইশানের ধরা হাতটাকে ও শক্ত করে ধরে রইলো। ইশান ওর পিঠে হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল,

“রিলাক্স! ব্রিদিং প্রবলেম হচ্ছে? “

কাল ও কাজরীর সফট ভার্সন দেখতে পেয়েছে। বোনের জন্য ভয়ে অস্থির হওয়া, কেঁদে ফেলা প্রতিটি মুহুর্তের সাক্ষী হয়েছে। এক মুহুর্তের জন্য সব ভুলে ও কাজরীর পাশে থেকেছে।

“তুমি কী এখানে ঘুমাবে?”

ইশান চোখ খুলে দেখলো কাজরী দাঁড়িয়ে আছে। চৌধুরী প্যালেসে পা রাখার পর থেকে সাজগোজের ভালো বাহার দেখা যাচ্ছে। মিষ্টি গোলাপি রঙের শাড়িতে খোলা সিল্কি চুলে অপূর্ব লাগছে। পাতলা ঠোঁটে গোলাপি লিপস্টিক। ইশান তাকিয়ে আছে কাজরীর ঠোঁটের দিকে। কাজরীর কপাল কুঁচকে গেল।

“আমি তোমার সঙ্গে কথা বলছি ইশান৷ “

“রুম টা ডেকোরেট করতে হবে? “

কাজরী ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞাসু চোখে তাকালো।

“কোন ধরনের ফ্লাওয়ার চাও?”

“মানে?”

“আমাদের সুইট মোমেন্ট ক্রিয়েটের জন্য রুম টা ডেকোরেট করতে হবে সেটা বলতেই এসেছ তো?”

“এক্সকিউজ মি! ড্রিংক করেছ?”

“নো সুইটহার্ট। ম্যারিড কাপল দের মধ্যে সুইট মোমেন্ট ক্রিয়েট হবে, ইটস ন্যাচারাল। এম আই রাইট? “

“নো ইউ আর এবসুলেটলি রং। বিকজ উই ডোন্ট লাভ ইচ আদার। “

ইশান কাজরীর কোমর ধরে নিজের দিকে টানলো। আকস্মিক এমন ঘটনায় কাজরী নিজেকে সামলাতে গিয়ে ইশানের গায়ের উপর পড়লো। উঠে আসার চেষ্টা করতেই ইশান হাতের বাধন শিথিল করলো। কাজরী উঠে চুল ঠিক করে দাঁড়ালো। আঙুল উঁচিয়ে কঠিন গলায় বলল,

“ডোন্ট ক্রস ইওর লিমিট ইশান। “

ইশান এবার আরও বেপরোয়া হলো। কাজরীকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে ওর উপর নিজের ভর ছেড়ে দিয়ে বলল,

“লিমিট তো ক্রস হবেই মাই ডার্লিং। আর হ্যাঁ ইউ আর রাইট, আই অলসো হেট ইউ। “

চলবে…..

সাবিকুন নাহার নিপা

(যারা পড়ছেন তারা বেশী করে কমেন্ট করুন। বানান ভুল পেলে কমেন্টে ভুল ধরিয়ে দিন।)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply