Golpo কাজরী

কাজরী পর্ব ২৫


কাজরী-২৫

সাবিকুননাহারনিপা

ওয়াজেদ চৌধুরীর নামে বিশাল আয়োজনে মিলাদের ব্যবস্থা করে হয়েছে সুবর্ননগরে। পরিবারের সবাই সেখানে উপস্থিত আছে। ইশানের ইচ্ছেতেই কাজরীর এখানে আসা। কাজরী আসার আগে ইশানকে বলেছিল,

“বড়সড় কিছু না হলেও আমাকে কেন্দ্র করে ছোট ঝামেলা হতে পারে কিন্তু। “

ইশান ভাবলেশহীন গলায় জবাব দিলো,

“শিরিন চৌধুরীকে আমি তোমার চেয়ে ভালো চিনি। দুটো দিন তিনি ফেরেশতা অবতারে সবার কাছে ধরা দিবেন। সকলের সামনে তিনি এমন প্রিটেন্ড করবেন যে তুমি তার নয়নের মনি। সো চিল। “

কাজরী আর তর্ক বাড়ালো না। মন্যুজান খাতুনও যেতে রাজি হলেন কাজরী যাবে শুনে। তিনি এখন এমন আচরণ করছেন যে কাজরী যতক্ষন আছে ততক্ষণ শান্তি বজায় থাকবে।

ইশানের পাগলামীর পর নিশান একরকম গা ঢাকা দিয়ে প্যালেসে থেকেছে যেন। সচেতন ভাবে এড়িয়ে গেছে কাজরী আর ইশান কে। সুবর্ননগরে কাজরীর মুখোমুখি হতেই অস্বস্তিতে পড়ে গেল। এই মেয়েটার বিদ্রোহী ন্যাচার ও’কে অল্প সময়ের জন্য মুগ্ধ করলেও এখন অস্বস্তি দিচ্ছে। ভাইয়ের বউয়ের প্রতি আলাদা নজর না থাকলেও মনে একটা গোপন দীর্ঘশ্বাস আছে। বাবা চাইলে ওর সঙ্গেও বিয়েটা হতে পারতো, হলে লাভ কী হতো! ইশানকে দমন করা সহজ হতো? এতো গভীর চিন্তাভাবনা নিশান করে নি,এক্সট্রা প্রিভিলেজড হবার সুবাদেই বোধহয় গোপন ইচ্ছেটা জাগ্রত হয়েছে। তবে আশার কথা হলো বাবার অনুপস্থিতিতে মা’ই এখন সবকিছু। কোম্পানির শেয়ার হোল্ডার থেকে সবাই ই তার মতামত কে প্রাধান্য দিচ্ছে। অচিরেই চৌধুরী গ্রুপের ভার ওর কাঁধে উঠছে তবে। মায়ের পছন্দমতো অনামিকাকে বিয়ে করার পর প্যালেসে কাজরীর অবস্থানও নিচে নামবে। যে আত্মবিশ্বাস নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে সেটা একটু হলেও ফিকে হবে৷

তবুও ইশানের পাশে কাজরীকে দেখলে নিশানের রাগ বেড়ে যায়। ওদের দুজনের সম্পর্কের ফাঁক ফোকড় সবার জানা আছে। কিন্তু কাছে আসতে কতক্ষন! তখন যদি ইশান আরও শক্তিশালী হয়!

কাজরী লক্ষ্য করলো নিশান ওর দিকে আড়চোখে তাকিয়ে আছে। ওর একপাশে এশনা, অন্যপাশে মন্যুজান খাতুন বসেছে। শিরিন দুই পাশে দুই ছেলেকে নিয়ে বসেছে। ইশানের পাশের চেয়ারে এশনা বসে আছে। কাজরী ইশানের থেকে খুব বেশী দূরে নয়, তবুও মন বলছে ইশান আরও পাশে থাকলে ভালো হতো। ধীরে ধীরে ইশান কী হয়ে উঠছে ওর নির্ভরতার জায়গা। কাজরীর মনে হয় ইশান যদি পাশে থাকে তবে ও নিশ্চিন্ত। হাত বেঁধে রেখে যে শাস্তি দিতে চেয়েছিল তাকে ভরসা করার ব্যাপার টা যুক্তিহীন। তবুও মনে হয় ইশান আসলে শক্ত আবরনে নিজেকে আড়াল করেছে, যতটা নিষ্ঠুর ও’কে ভেবেছিল ততোটা তো নয়।

শিরিন চৌধুরী দাঁড়ালেন। তিনি ভাষনের সুরে কথা বলছেন। স্বামীর মৃত্যুর সময় তার শক্ত রুপ দেখে কাজরী ভেবেছিল উনি অভিনয় করতে জানেন না। হাসি না পেলে হাসতে পারেন না, কান্নার ভান করতে পারেন নি বলে সকলের সন্দেহের তীর ওনার দিকে এসেছে। কিন্তু এই মুহুর্তে মনে হচ্ছে উনি তুখোড় অভিনেত্রী। কথা বলছেন ভাঙা গলায়। যে কেউ শুনলেই বুঝে যাবেন যে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে কথা বলছেন। অথচ ওনার প্যালেসে সবাই জানে যে স্বামীশোকে তিনি একটা দিনও অতিবাহিত করেন নি। সকাল, বিকেল, সন্ধ্যার রুটিন অপরিবর্তিত ছিলো।

শিরিন স্বামীর স্মৃতিচারণা করলেন। তিনি শক্ত মানুষ হলেও মন টা ছিলো নরম। কতো মানুষের অন্ন, বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। সুবর্ননগরের কেউ গেলে খালি হাতে ফেরান নি। স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, মসজিদ কতো কিছু করেছে কিন্তু কখনো নিজের নাম কামাতে চান নি। বরং তার বিরুদ্ধে মানুষ ষ*ড়যন্ত্র করেছে। তাকে ফাঁসাতে কতো কাহিনী তৈরী করেছে।

শিরিন মাঝখানে একটু বিরতি নিয়ে পানি খেলেন। টিস্যু দিয়ে চোখ মুছলেন, অথচ চোখ ছলছলও করছিলো না। কাজরী সামনের সারিতে বসা আখতারউজ্জামানকেও দেখলেন। তিনি অস্বস্তি নিয়ে বসে আছেন। তিনিও বোধহয় কাজরীর মতো নেতিবাচক কিছু ভাবছেন।

শিরিন আবারও শুরু করলো,

“আপনারা অনেকেই জানেন কয়েকমাস আগে চৌধুরী সাহেবের সঙ্গে কী অঘটন টাই না ঘটলো। আখতারউজ্জামান এর মেয়ের বিয়ের দিন, নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটলো। বরযাত্রীর গাড়ি থামিয়ে ছেলেটাকে কুপিয়ে মারলো দু*বৃত্তরা। তাও এই বাড়ির সামনে। ভোরবেলার ঘটনা, অথচ একটা মানুষও স্বচোক্ষে ব্যাপার টা দেখলো না! তাহলে কী ধরে নেয়া যায় না যে সুবর্ননগরের মানুষজন ফজরের নামাজ পড়ে না। চৌধুরী জামে মসজিদ তো এখান থেকে দূরে নয়। “

ইশান চকিতে তাকালো মায়ের দিকে, সঙ্গে বাকীরাও। উনি যুক্তিহীন কিছু বলেন নি। সুবর্ননগর থানার ওসি যখন প্রাথমিক তদন্ত করেছিলেন তখন আশেপাশের কেউই স্বীকার করেন নি যে তারা কিছু দেখেছেন। ভি*ক্টিমের লোকজন এর আহাজারি, চিৎকার চেঁচামেচি ছাড়া কেউই কিছু শুনতে পায় নি বলে দাবী করেছেন।

উপস্থিত সকলে মুখ চাওয়াচাওয়ি করলো। কিছু সতর্ক দৃষ্টি আখতারউজ্জামান এর দিকেও। তিনি শক্ত মুখে বসে আছেন। শিরিন আবারও বললেন,

“এই হত্যা*মামলার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি। আমার স্বামীর কাঁধে অন্যায়ভাবে চাপানো দোষের দায়ভার নিতে রাজি নই আমি। বর্তমান এমপিসাহেবও আশা করি স্বতস্ফুর্তভাবে সহায়তা করবেন। “

এশনা ইশানের কানে কানে বলল,

“আনপ্রেডিক্টেবল ছিলো না? তুমি ভাবো রেগে সিন ক্রিয়েট করলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। জাস্ট লুক এট হার! “

ইশান ধৈর্য্য ধরে শুনছে। পদ্মার জল মেঘনায় যায় নাকি যমুনায় সেটা দেখবার পালা।

শিরিন আবারও বললেন,

“চৌধুরী সাহেব যে বড় হৃদয়ের মানুষ সেটার সবচেয়ে বড় ও জলজ্যান্ত প্রমাণ আমার বউমা। কাজরী চৌধুরী। “

কাজরীর সমস্ত মনোযোগ এতক্ষন ছিলো শিরিনের পূর্বে বলা কথাগুলো ভাবায়। এবার নিজের নামটা শুনে সঙ্গে সঙ্গে ও তাকালো শিরিনের দিকে। শিরিন চৌধুরী ওর দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে হাসলেন। এশনা কাজরীর হাত ধরলো। শিরিন বললেন,

“আপনারা ভাবুন, জুনিয়র চৌধুরীর কী এমন আকস্মিক বিয়ে হবার কথা ছিলো! সুবর্ননগরের প্রতিটি কোনায় রোশনাই জ্বলার কথা থাকলেও সেটা কিন্তু হয় নি, আখতারউজ্জামান এর সম্মান বাঁচাতে, ক্ষততে প্রলেপ লাগাতে নিজের প্রিয় পুত্রকে কুরবানী দিতেও তিনি দ্বিধা করেন নি। আমাদের দুর্ভাগ্য এই যে এমন মানুষকে চিরতরে হারিয়ে ফেললাম। “

অপমানে দগ্ধ হয়েও কাজরী পাথুরে মূর্তির ন্যায় বসে আছে। আখতারউজ্জামানকে ও বারংবার বোঝানোর চেষ্টা করেছিল ও। আজকের এই মুহুর্তটা তো কাম্য ছিলোই। আখতারউজ্জামান নিজেও প্রবল অস্বস্তিতে ভুগছেন। একজন প্রশ্ন করলেন,

“যার বিয়ে ভেঙেছিল তার সঙ্গে বিয়ে না হয়ে অন্য মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দেয়ার কারণ কী ছিলো? “

শিরিন মৃদু হাসলেন। প্রশ্ন যিনি করেছেন তার এলেম আছে, তবে প্রশ্নটার দরকার ছিলো। নাহলে তিনি আগ বাড়িয়ে ব্যখ্যা দিতে গেলে আরোপিত মনে হতো। তার দুই পাশে বসে থাকা দুই ছেলের মুখের অভিব্যক্তি দুই রকম। একজন ক্রোধে অন্ধ হয়ে যাচ্ছে, অন্যজন মায়ের বুদ্ধিমত্তায় বাহবা প্রকাশ করছে। মা যখন নিশানকে বলতো ধৈর্য্য ধরো নিশান, তোমার সব হবে। তখন নিশান রেগে যেত। চোখের সামনে প্রবলভাবে হেরে গিয়েও কিভাবে ধৈর্য্য ধরতে বলার মতো উপহাস করা যায় ভেবে পেত না। কিন্তু আজ বুঝতে পারছে, বাবার সঙ্গে থেকে ঠান্ডা মাথায় চিন্তা, ভাবনার ব্যাপার টা ভালোভাবেই রপ্ত করতে পেরেছে।

“এই প্রশ্নের উত্তর তো আমার জানা নেই। আমার স্বামীকে প্রশ্ন করলেও তিনি এড়িয়ে গিয়েছেন কারণ এতে আমার পুত্রবধূকে ছোট করা হবে। তার ব্যক্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠুক এমন কিছু তিনি চান নি। তিনি রাজকীয় ভাবেই পুত্রবধূকে বরণ করে নিয়েছিলেন । তবে আখতারউজ্জামান নিশ্চয়ই জেনে থাকবেন। এসব বিষয় তো আসলে সেনসিটিভ। কাজরী লক্ষী মেয়ে, আমাদের সঙ্গে খুব সহজে মানিয়ে নিয়েছে। আল্পনার জন্য সমবেদনা ছাড়া প্রানভরা দোয়া রইলো। ওর সুন্দর ভবিষ্যৎ হোক। বেশী কথা বাড়িয়ে সময় দীর্ঘ করতে চাই না। আপনাদের সকলের সামনে আমি একটা ঘোষণা দিতে চাই।”

ইশান জানে এটা কিসের ঘোষণা হতে যাচ্ছে। শিরিন চৌধুরীর নাটকের এই অংশটা ভালোমতোই প্রেডিক্ট করতে পারছে। ঠিক তেমন ই নিশানও বুঝতে পারে যে এই মুহুর্ত টা হতে যাচ্ছে ওর জন্য বিশেষ মুহুর্ত। রাজনীতিতে ওর পথচলার শুভারম্ভ।

তবে আনপ্রেডিক্টেবল শিরিন চৌধুরী সম্পূর্ন অন্য ঘোষণা দিলেন। ইশান, কিংবা নিশান নয়। ওয়াজেদ চৌধুরীর অসমাপ্ত পরিকল্পনায় নিজের নাম জড়ালেন। আসন্ন নির্বাচনে সুবর্ন নগরের এমপি পদে শিরিন চৌধুরীর নাম থাকবে।

কাজরী নিজের চিন্তা ভাবনায় মগ্ন। শিরিন চৌধুরীর ঘোষণায় ওর প্রতিক্রিয়া নেই। কিন্তু তার দুই ছেলেই স্তব্ধ! ইশানের চেয়ে নিশান একটু বেশিই। মন্যুজান খাতুন এতক্ষন অনেক কিছু বুঝতে পারেন নি। তার জং ধরা ব্রেনে অনেক ব্যাপার ক্যাচ করে নি ঠিকই কিন্তু পুত্রবধূর এই সিদ্ধান্তে বিস্ময়ে হা হয়ে গেলেন। বাপের পরিবর্তে তার জায়গা নেবার জন্য শক্ত, সামর্থ দুই ছেলে আছে তো। মায়ের কী দরকার এসবে নাক গলিয়ে। তিনি পুরোনো চিন্তাধারার মানুষ, তার হিসাব আলাদা। তবে বাকীদের বিস্ময় চোখে পড়ার মতো।

শিরিন তার আসন গ্রহণ করে নিশান কে বলল,

“গো এহেড নিশান। “

আরও একবার অদৃশ্য চুরমার শব্দে নিশানের মন ভেঙে যাওয়ায় স্তব্ধ হয়ে আছে। মায়ের কথা শুনতে পেল না ঠিকঠাক। নিশানের বিলম্বের সুযোগ নিতে ভুল করলো না ইশান। দাঁড়িয়ে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে বলল,

“প্রথমেই মায়ের জন্য শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। প্রচন্ড ব্রিলিয়ান্ট এই ভদ্রমহিলা তার জীবনের সমস্ত ট্যালেন্ট বাবা আর আমাদের তিন ভাইবোনের জন্য ইনভেস্ট করেছেন। এখন এতো বড় সুযোগ এসেছে নিশ্চয়ই তার সমস্ত এনার্জি মানুষের জন্য ইনভেস্ট করবেন। তিনি বাবার আদর্শ ধরে রেখেই মানুষের জন্য ভালো কিছু করবেন আশা করি। “

শিরিনের মুখে স্মিত হাসি। যদিও তার ভয় হয়েছিল ইশানকে মাইক্রোফোন হাতে নিতে দেখে। এখনও যে পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হতে পেরেছেন তা নয়, তবে ভালো লাগছে।

“বাবার কথা বলতে গিয়ে মা বেশকিছু অপ্রাসঙ্গিক কথা বলেছেন যেগুলো আজকে এখানে আপনাদের না জানলেও চলতো। বিষয়গুলো প্রাইভেট। উনি প্রশ্ন তুলেছেন কেন আখতারউজ্জামান এর মেয়ের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছে। এটা মূলত উস্কানিমূলক বিষয়। বাবা নি:সন্দেহে ভালো মানুষ ছিলেন। সেটা তার কর্মেই স্পষ্ট হয়। কিন্তু আখতারউজ্জামান এর পরিবার কে করুনা করেছেন এমন বিষয় প্রেজেন্ট করে তাকে ভালোমানুষ প্রমাণ করার কোনো দরকার নেই। তাছাড়া আরেকটা বিষয় স্পষ্ট করি, আখতারউজ্জামান এর ছোট মেয়ের সঙ্গে আমি দুই বছর ধরে রিলেশনশিপে ছিলাম। ফিনল্যান্ডে এক কমন ফ্রেন্ড এর বার্থডে পার্টিতে আমাদের প্রথম দেখা হয়। সিকিউরিটি ইস্যুর জন্য রিলেশনশিপ টা প্রাইভেট ছিলো। নাউ উই আর হাজবেন্ড ওয়াইফ। আমার বাবা নিজেও প্রাইভেট পার্সন ছিলেন। তাছাড়া আমি আমার প্রাইভেট লাইফ নিয়ে কাউকে এক্সপ্লেইন করাও লাইক করি না। কিন্তু আমার মা মিসেস চৌধুরী অতিরিক্ত সহানুভূতির আশায় এই অপ্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো তুলে বিরক্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। আই ডোন্ট লাইক ইট। আর যে কথাটা মার্ক করা হয়েছে বেশী, ওয়াজেদ চৌধুরী তার সন্তান কু*রবানী দিয়েছেন এটাও ভুল ইনফরমেশন। সেরকম কিছু হলে তিনি নিশান চৌধুরীর সঙ্গে আখতারউজ্জামান এর বড় মেয়ের বিয়ে দিয়ে সকলের মুখ বন্ধ করতেন। ওয়াজেদ চৌধুরীর কখনোই ফিল্টার এর প্রয়োজন ছিলো না।

শিরিন একরাশ হতাশা নিয়ে মাথানিচু করে আছেন। তার চলার পথের গোলাপের পাপড়ি তুলে নিয়ে কাঁটা বিছিয়ে দেয়ার দায়িত্ব তার ই সন্তান নিয়েছেন।

চলবে…..

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply