কাছেআসারমৌসুম_(৬৩.২)
নুসরাতসুলতানাসেঁজুতি
তুশি কফি বানাতে শিখেছে বহুদিন আগে। যবে থেকে সার্থর প্রেমে পড়েছিল তবে থেকে মানুষটার প্রিয়-অপ্রিয়র খুঁটিনাটি খেয়াল ও রেখেছে। হ্যাঁ ,হয়ত সার্থ ওকে নিজের কোনো কাজ করতে দিতো না,মানা করত ওর ঘরে ঢুকতে কিন্তু তুশি মনে প্রাণে সব রপ্ত করে রেখেছিল। যাতে কোনো এক দিন সার্থ মুখ ফুটে কিছু বললে ও চুটকিতে সেটা নিয়ে সামনে হাজির হতে পারে! তাই তুশি জানে সার্থর পছন্দ কী,অপছন্দ কী!
সার্থর প্রিয় রং সী গ্রীন,প্রিয় খাবার খিচুড়ি দিয়ে গোরুর মাংস,চায়ের থেকে কফি প্রিয় তার। সে টিশার্টের চেয়ে শার্ট পরে বেশি। তাও কোনো ডার্ক নেই সব সফট – লাইট রঙের।
এরকম আরো কত কত প্রিয়র লিস্ট তুশি আয়ত্বে রেখেছে হিসেব নেই। মানুষটাকে প্রতিনিয়ত পড়েছে ও। একটু একটু করে মুখস্থ করেছে। আজ কফি বানাতে তুশির অসুবিধে কিছু হলো না। বরং, এই প্রথম বার সার্থ ওকে নিজের জন্যে কিছু করতে বলেছে। কিছু চেয়েছে নিজে থেকে। ভেতর জুড়ে বসে থাকা ভালো লাগা নিয়ে তুশি সুনিপুন যত্নে কফি বানাল। সার্থ টেলিভিশন ছেড়েছে তখন। ইউটিউব ধরল সেথায়। দেওয়ালে ঝোলানো একটা ৪২” টিভির আলোয় মোমের আলোগুলো বড্ড ফিকে হয়ে যাচ্ছে।
তুশি চামচ নাড়তে নাড়তে যখন সোজা হলো,সরাসরি টিভিতে গিয়েই পড়ল তার চোখ। স্ক্রিনে নারী-পুরুষের ভীষণ অন্তরঙ্গ, ঘনিষ্ঠ দৃশ্য চলছে সেখানে। যন্ত্রের মধ্যে ভেসে আসছে ঝিমঝিম করা সুরেলা এক গান,
“ tere bin sooni sooni hain baahein,
tere bin pyaasi pyaasi nighaahein,
tere bin bin asar meri aahein tere bin,
aashiq banaya aashiq banaya,
aashiq banaya apne….
আগুনের উত্তাপ শরীরে লাগলে যেমন হয়,তেমনি লজ্জায়-কুণ্ঠায় তুশির সারামুখ ঝলসে গেল অমনি। গানের প্রতিটি সুর আর দৃশ্যের খোলামেলা আবেদন যেন নিস্তব্ধ ঘরটাতে এক টুকরো অবর্ণনীয় অস্বস্তি ছড়িয়ে দিল নিমিষে। তুশি কী করবে বুঝতে পারল না! হাত-পা কাঁপল,কাঁপল শীর্ণ বুক। ঘাম ছোটার সাথে সাথে লজ্জায় মাটিতে মিশে যাচ্ছে যেন। কিন্তু ও ঠিক বুঝেছে সার্থর ফন্দি। ইচ্ছে করে এসব গান চালিয়েছে তাই না?
তুশি শক্ত থাকতে চাইল, পারল না। হচ্ছে না! চলছে না পা দুটো। মনে হচ্ছে এক্ষুনি মাটিটা দুভাগ হলে ভালো হতো। মুহূর্তে এত লজ্জার ভার নিয়ে ঢুকে যেত সেখানে। তুশি এলোমেলো চোখে এদিক -ওদিক তাকায়। বুকের দুরুদুরু ভাব কমাতে হাত তুলে নাকের ডগায় জমতে থাকা ঘামের কণা মোছে। অথচ মেয়েটার এত অস্থিরতা নীরবে-আড়ালে উপভোগ করল সার্থ। গালের ভেতর জিভ নেড়ে দুষ্টু হাসল সে। ও জানে, ওর ঠিক বাম পাশে কয়েক হাত দূরে দাঁড়ানো তুশি লজ্জায় পাথর হয়ে আছে। রিমোর্ট তুলে গানের ভলিউম আরেকটু বাড়িয়ে দিলো সার্থ। টেনে টেনে একটা বোল্ড সীনই বারবার আনল। অমন করেই বলল,
“ কফি কোথায় আমার? অ্যাই চোর!”
তুশি রাগ করবে, না গালি দেবে সন্দিহান হয়ে পড়ল! ঠোঁট টিপে খিটমিট করে দুদণ্ড দেখল লোকটাকে। বেহায়ার মতো টিভি দেখছে! বোঝাতে চাইছে যেন তুশির হাবভাবে কিচ্ছু যায় আসে না। কিন্তু তলে তলে যে মজা নিচ্ছে,বোঝে না ও? ভেংচি কাটল তুশি। লুকোতে চাইল স্বীয় বেহাল দশা। কোনোরকম পা-টা টেনেটুনে এগিয়ে এলো আস্তে। চিবুক গলায় রেখে টি-টেবিলের ওপর রাখল কফির মগটা। ফিরতে নিলো দুরন্ত পায়ে, তুরন্ত হাতের কব্জি ধরে হ্যাচকা এক টান মেরে নিজের কোলের ওপর বসিয়ে দিলো সার্থ। চমকে গেল তুশি। তাকাল হতবুদ্ধি বনে। সার্থ নিঃসংকোচে ঠান্ডা হাতটা গলিয়ে কোমরের বাঁক প্যাঁচিয়ে ধরল ওর। কামিজের ওপর থেকেও ওই স্পর্শের উন্মাদনা টের পেলো তুশি। শিহরণের তপ্ততায় থরথর করে উঠল মেয়েটার শরীর। মোমের প্রভায় তুশির সুন্দর মুখটা সতেজ পলাশের মতো লাগল তখন। অন্তর্ভেদী চাউনিতে দু সেকেন্ড চেয়ে রইল সার্থ। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখল সারামুখ। চোখ ফেরাল তারপর। অন্য হাতে তুলল কফি মগটা। কাপের গায়ে ছোট্ট এক চুমুক দিয়ে বলল,
“ উম,নট ব্যাড!”
তুশির বিহ্বলতা কাটেনি। অমন হকচকিয়েই বলল,
“ এটা কী হলো?”
সার্থ উত্তর দিলো না। ফটাফট কতগুলো চুমুক দিয়ে কাপ খালি করল আগে। এবার মুচড়ে উঠল তুশি।
রেগেমেগে বলল,
“ কীরকম অসভ্যতা এটা?”
“ কোনটা?”
তুশি আরো চটে যায়।
“ এভাবে আমাকে…”
পুরো কথা বলার আগেই সার্থ নিজের সরু নাক ওর চুলের ভাঁজে রাখল। সেদিনের সেই পার্টির মতো নয়, ছুঁলো আজ। গলার নগ্ন, নরম ত্বকে এক চোট ঘষল নিজের নাকটা। শ্বাস টানল বড়ো করে। যেন শুষে নিলো সব ঘ্রাণ! তুশির কথা হারিয়ে যায়। প্রান সুদ্ধ ছটফটিয়ে ওঠে। কাঁপুনি বইল রন্ধ্রে রন্ধ্রে। কানের লতিতে ঠিকড়ে পড়া উষ্ণতায় গলায় এসে থমকে দাঁড়ায় ক্ষুদ্র জান। সার্থর গায়ের চড়া পারফিউম,আর পৌরুষদীপ্ত ঘ্রাণে অবশ হয় ধরণী। ত্রস্ত সরতে চাইলে আরো জোরে চেপে ধরল সার্থ। কোমরের লতানো বাঁকে আঙুলের ছাপ পড়তেই, অসহায় চোখে তাকাল মেয়েটা। জিজ্ঞেস করল নিভু স্বরে,
“ ক-কী চাইছেন আপনি?”
“ ছুঁতে!”
তুশি কোমর থেকে হাতটা সরাতে সরাতে বলল,
“ ছুঁয়েছেন, ছাড়ুন এবার।”
সার্থ গলায় নাক ঘষতে ঘষতে জবাব দেয়,
” এভাবে না। স্বামীরা যেভাবে ছোঁয়,সেভাবে।”
তুশির বুক শুকিয়ে গেল। তুঁতলে বলল,
“ মা-মাথা খা-খারাপ লোক!”
সার্থর নিরেট স্বর গভীর হলো আরো।
গরম নিঃশ্বাস লুটিয়ে দিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“ আমার মাথাটা সত্যিই খারাপ হয়ে যাচ্ছে তুশি। দিন কে দিন তোমাকে ছোঁয়ার জন্য কেমন পাগল হয়ে যাচ্ছি!”
তুশি মরিয়া হয়ে বলল,
“ ছাড়ুন,ভালো লাগছে না আমার।”
“ কেন? হিসেব মতো আজ আমাদের বিয়ের প্রথম রাত! এই রাতে কী হয় জানো?”
“ ন- না, জানতে চাই না। আপনি জেনে বসে থাকুন।”
“ আমি জানব কীভাবে? আমারও তো প্রথম বিয়ে হলো।”
“ আপনি আমাকে ছাড়বেন?”
“ ছাড়িয়ে নাও।”
তুশি হাতটা জোর খাটিয়ে কোমর থেকে সরাল। ওকে ঠেলে সরিয়ে উঠতে গেল অমনি বুক চেপে ছোট্ট একটু আর্তনাদ করল সার্থ,
“ উফ!”
তুশি উৎকণ্ঠিত হয়ে বলল,
“ লেগেছে?”
“ লাগবে না? বলেছিলাম ছটফট করো না!”
তুশি ব্যস্ত হলো চিন্তায়। অথচ উদ্বীগ্ন মেয়েটাকে তক্ষুনি ছিনিয়ে নেয়ার মতো পেশিবহুল দুই বাহু মেলে ফের কাছে টেনে নিলো সার্থ। বুকের ভেতর আস্ত শরীরটা ঠেসে ধরে বলল,
“ কারো শরীর এত নরম হয়! বেশি জোরে ধরলে গলে যাবে না তো?”
তুশি হতভম্ব,স্তব্ধ! বুঝল ওসব নাটক।
চেতে একাকার হয়ে বলল,
“ আপনাকে আমি মেরে ফেলব!”
“ আচ্ছা? আমি তো চাইছিই মরতে। যার তরে ঘায়েল হয়েছি, সে আমার ঘাতক হলে সেই মৃত্যু মঞ্জুর আমার কাছে! তার আগে একটু ছুঁয়ে নিই,মন ভরে!”
তুশির কণ্ঠ আরো নিঃসহায় শোনাল,
“ এমন করছেন কেন? আপনি কিন্তু আমাকে জোর করছেন।”
“ উহু,
এটা জোর নয়। একটু আদর করতে চাইছি। কথা বলার ব্যাপারে আমি যত লিমিটেড,ছোঁয়াছুয়িতে আজ তার দ্বিগুন লিমিটলেস হতে চাইছি। এই তো!”
তুশি মহাবিপদে পড়েছে। না পারছে এইভাবে সার্থর কোলে বসে থাকতে,না পারছে কোনোদিকে তাকাতে। টিভিতে ঐ গান চলছে এখনো। অতীষ্ঠ হয়ে বলল,
“ কী চালিয়েছেন এসব? বন্ধ, বন্ধ করুন।”
রিমোর্টের দিকে হাত বাড়াতে গেলেই,ছো মেরে সরিয়ে ফেলল সার্থ।
“ চলুক! তোমার সমস্যা কোথায়?”
“ আমার ভালো লাগছে না। ছি,নোংরা গান।”
“ তুমি রোমান্স বোঝো?”
“ বুঝতে চাই না। আপনি এটা সরান। ইস এগুলো কেউ দেখে?”
“ বাট, আম আ বিগ ফ্যান অফ ইমরান হাশমী! কিছু ব্যাপারে আমি কিন্তু ওর চেয়েও বোল্ড হতে পারি!”
বলতে বলতে সার্থর অবাধ্য হাতটা তুশির কামিজের ভাজে ঢুকল। বসল গিয়ে মসৃণ উদরে। অমনি হতবাক হয়ে চাইল মেয়েটা। হাঁসফাঁস করে বলল,
“ আপনাকে, আপনাকে আমি ভালো ভেবেছিলাম। কিন্তু আপনি খুব অভদ্র একটা লোক!”
সার্থ নিঃসংকোচে হাসল। বলল,
“ আশ্চর্য, আমি অভদ্র নাহলে আমার বংশ বাড়বে কীভাবে?”
তুশির কানে আর কিছু ঢুকল না। পেটের মেদুর ত্বকে খসখসে আঙুলগুলো ছুঁতেই,বরফের মতো শক্ত হয়ে গেল। অস্পষ্ট বলল,
“ হা-হাত… সরা-সরান।”
সার্থ শুনল না। উলটে
মাথা খারাপ হয়ে গেল তুশির এত কাছে আসায়। চোখ জুড়ে জেঁকে বসল ভীষণ গাঢ় নেশা। মেয়েটার গাল দু আঙুলে চেপে নিজের দিকে ফেরাল সে। চোখে চোখ পড়ল সরাসরি। পুরুষালি দৃষ্টিজোড়ায় গা হিম করা আদিম তৃষ্ণা দেখে শিউরে উঠল তুশি। সেকেন্ড খানেকও তাকাতে পারল না,জোরসে চোখ বুজে ফেলল। সার্থ একটা আঙুল ওর সারা গালে আলতো করে বোলায়,বৃদ্ধাঙ্গুল ছোঁয়ায় নিচের পেলব ঠোঁটে। ইস্পাতের মতো দৃঢ় স্বরে আফিম মিশিয়ে হিসহিসিয়ে ডাকে,
“ অ্যাইইইইইইই চোওওওর!”
তুশির সারা শরীরে ভূমিকম্প নামল। ঠোঁট দুটো ঠকঠক করে কাঁপছে। সার্থর জ্বলজ্বলে চোখ গাঢ় আকর্ষণ নিয়ে দেখল ওর তিরতিরে অধরজোড়া। ভেতরটা যেন ছুঁতে আরো ব্যাকুল হয়ে উঠল । কেমন করে বলল,
“ মে আই কিস ইউ ওয়ান মোর টাইম,বেইব!”
তুশি উত্তর দেবে কী? বোঝেইনি ও। সার্থ নিজেই দিশাহারা নাবিকের ন্যায় উন্মত্ত হয়ে আওড়ায়,
“ একটা চুমু খাই? সেদিনের মতো!”
আঁতকে চাইল মেয়েটা।
উদ্রগীব হয়ে ছাড়াতে চাইল নিজেকে,
“ ন-না….ছা ড়ুন।”
সার্থ নির্লজ্জ্বতার সীমা ডিঙিয়ে ফেলার পিপাসায় মাতলো আজ। খেই হারাল নিয়ন্ত্রণের। অনুমতি নিলো না আর। বাঘের মতো ঠোঁট দুটো হামলে পড়ল তুশির গলার খাজে। একেরপর এক ঝড়ের মতো চুমু খেল সেখানে। শরীরের বাঁকে আরো গাঢ় হয়ে বসল তার হাত। ঘাড় থেকে অনেকটা নামিয়ে ফেলল কামিজ। পাগলের মতো বসিয়ে দিলো দাঁত।
যখনই ঠোঁট তুলে ঠোঁট ছুঁতে আসবে,স্পর্শ পেলো এক ছটা ভেজা চটচটে গালের। চট করে মুখ তুলে চাইল সার্থ। ভাঙল তার ঘোর। তুশির চোখ বন্ধ,অথচ কার্নিশ বেয়ে পানি পড়ছে গালে। ও অবাক হয়ে বলল,
“ কাঁদছো তুমি?”
ঝাপসা চোখে চাইল তুশি। দৃষ্টি ভেজা অভিমান নিয়ে বলল,
“ থামলেন যে! কেন? কাউচে ভালো না লাগলে বিছানায় যাই?”
সার্থর মুখটা থমকে যায়। আলগা হয় হাত দুটো। কোমল গলায় বলে,
“ খারাপ লেগেছে তোমার?”
“ খারাপ! আপনি আমার খারাপ ভালো নিয়ে ভাবেন বুঝি? ভাবলে, এইভাবে জোর করতেন না। সময় দিতেন আমাকে।”
বলতে বলতে ফুঁপিয়ে উঠল তুশি।
সার্থ ফোস করে শ্বাস ফেলল। কোল থেকে সরিয়ে দিলো তুশিকে। অথচ দম ফেলার আগেই ঝট করে ওর শরীরটা তুলে আনল দুহাতে। সত্যি সত্যি ওকে বিছানার দিকে এগোতে দেখে, পায়ের মাটি সরে গেল তুশির। চোখে অবিশ্বাস নিয়ে মানুষটার পানে চাইল সে।
সার্থ সোজা এসে বালিশে শোয়াল ওকে। বেড সাইড টেবিলের ওপর জ্বলন্ত মোমগুলো ফুঁ দিয়ে নেভাতেই,হালকা অন্ধকার ছেঁয়ে এলো ঘরে। সেই তিঁমিরে বুকটা জ্বলে গেল তুশির। বুঝে নিলো, সার্থ বোধ হয় এমনই। যে প্রয়োজন বোঝে,চাহিদা বোঝে। যেটা দরকার,নেবেই সে। ওইপাশের মানুষটার মন বুঝবে না,বুঝবে না তার কেমন লাগছে! সার্থ পাশে শোয় তখনই। তুশির এই হাহুতাশের মাঝেই,ওর হাত টেনে নিজের বুকে নিয়ে যায়। মাথাটা হৃদয় বরাবর চেপে রেখে বলে,
“ ঘুমাও।”
তুশি বিস্মিত, স্তম্ভিত। হাঁ করে তাকাতে নিলে বাঁধ সাধল সার্থ। মাথা তুলতে দিলো না। উলটে চড়া কণ্ঠে বলল,
“ ঘুমোতে বলেছি। কথা না শুনলে এবার সত্যিই রেপিস্ট হয়ে যাব। চোখ বন্ধ করো। কী? করো।”
তুশি ধড়ফড় করে চোখ বুজে রাখল।
টের পেলো সার্থর হৃদস্পন্দের প্রখর গাঢ় শব্দ। পরপর টের পেলো মাথার চুলে হাত বোলাচ্ছে মানুষটা। কেন যেন দুনিয়া উথাল-পাতাল করে কান্না পেলো তুশির। মন চাইল এই পাথরের মতো শক্ত শরীরটা দুহাতে আগলে ধরে, কিছুক্ষণ হাউমাউ করে কাঁদতে। কিন্তু না,আবেগের রাশ টেনে নিজেকে সামলে নিলো ও। চুপ করে রইল কিছু পল। পরপর সরে যেতে নিলে সার্থ চেপে রাখল আবার।
খুব মোলায়েম স্বরে বলল,
“ ভয় নেই। কিছু করব না।
তুমি না ডাকলে আর যাব না আমি। তবে আলাদা শুতেও পারব না। এখন থেকে এভাবেই ঘুমোবে। আলাদা ঘুমোনোর কথা যখনই মাথায় আনবে, তখনই আমার একটু আগের রূপটা দেখাব। মনে থাকবে?
অ্যাই চোর,মনে থাকবে?” শেষটুকু ধমকে শুধাল ও।
তুশি গড়গড়িয়ে বলল,
“ থা-থাকবে থাকবে।”
চলবে….
Share On:
TAGS: কাছে আসার মৌসুম, নুসরাত সুলতানা সেঁজুতি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ১৪ ক
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৬১
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৬০.২
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৫৮
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৬০.১
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৬
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৬০
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৪৬
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৪০
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ২৪