ওরামনেরগোপনচেনেনা
পর্ব সংখ্যা [৩১]
মৃত্তিকার দেহটা বুকের লেপ্টে আছে। শরীরের আনাচে-কানাচেতে লেগে আছে তার লম্বা চুল। সিঁড়ি বেয়ে ঘরে ঢুকেই মৃত্তিকাকে বিছানায় শুইয়ে দেয় সে। গায়ে কম্ফোর্টার টেনে দেয়। মেয়েটা তার শার্ট টেনে ধরে রেখেছে ঘুমের ঘোরেও। আফিম মৃত্তিকার মুষ্টিবদ্ধ হাতে বন্দী থেকেই পরনের স্যুট খুলে ফেলে এক হাতে। কষ্ট করে এক হাতে পায়ের বুট, হাতের ওয়াচ খুলে ফেলে। খুব ধীরে কাজগুলো করে সে। মৃত্তিকার ঘুমে ব্যাঘাত ঘটার ভয়ে শব্দও করে না। খুব সযত্নে মৃত্তিকার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় আফিম। চেয়ে থাকে কিছুক্ষণ। তার মুগ্ধকর দৃষ্টি পলকহীন ভাবে নজর বুলায় মেয়েলি দেহের প্রতিটি ভাঁজে। দূর্ভেদ্য হাসে আফিম, চোখ জোড়াও সমান তালে হেসে ওঠে তার। মৃত্তিকার গালে হাতের খসখসে আঙুল চালিয়ে বলে,
“- মাঝে মাঝে তোমার জন্য মায়া হয় মৃত্ত। তোমাকে আমি তৃপ্ত জীবন দিতে পারিনি।”
ঘুম ভাঙার পর মৃত্তিকা নিজেকে বিছানায় পেল। নিজেকে বিছানায় আবিষ্কার করেই মৃত্তিকার মন-মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। তারমানে সবই স্বপ্ন ছিল? ওই লোকগুলো, ওই গোডাউন, সবই মৃত্তিকার ভ্রম? কিছুই কি তবে সত্য নয়? কিছুক্ষণ চুপচাপ বিছানায় বসে রইল মৃত্তিকা। পরক্ষণেই ঘুমের ঘোর কাটতে গতরাতের সব কথা মনে পরল মৃত্তিকার। মনে পরল সব সত্য, কোনোটাউ তার ভুল নয়। আফিম, আফিম আগাগোড়া একজন ভালো মানুষ। সব ঘটনা মস্তিষ্কে ধারণ হতেই অজানা সুখে হৃদয় দুলে উঠল মৃত্তিকার।
মৃত্তিকা বিছানা ছেড়ে নামে। আফিমকে কোথাও না পেয়ে সে কিচেনে ছোটে। দেখে আফিম কিচেনে কিছু একটা করছে। খুট খুট শব্দ আসছে সেখান থেকে। মৃত্তিকার ললাটে ভাঁজ দেখা দেয়। ধীর পায়ে কিচেনে ঢোকে সে। আফিমের পরনে কিচেন অ্যাপ্রোন। খুব মনোযোগ দিয়ে পেয়াজ কাটছে সে। মৃত্তিকা এগিয়ে আসে ছেলেটার নিকট। পেঁয়াজের ঝাঁঝে আফিমের চোখ লাল হয়ে গেছে। এই বুঝি টপটপ করে পানি গড়াবে। নাক ও রক্তিম ছেলেটার। এমন অবস্থায় আফিমকে দেখে মৃত্তিকার হাসি পায় খুব। সে মুখ টিপে বলে,
“- গ্যুড মর্নিং শাফায়াত আফিম মির্জা”।
আফিমের হাসি চওড়া হলো। বলল,
“- গ্যুড মর্নিং মাই বিলাভড”।
তার সম্বোধনে মৃত্তিকার মনে খুশির জোয়ার বয়ে গেল। আফিম বড় বড় স্লাইস করে পেয়াজ কাটছে। চপিং বোর্ডের সর্বত্র পেঁয়াজ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। রান্নাঘরের অবস্থা নাজেহাল। চুলোয় ভাত বসিয়েছে আফিম। পেঁয়াজ কাটা শেষ হলেই সে ফোনটা নিয়ে ইউটিউবে ঢুকে কিছু একটা সার্চ করে। মৃত্তিকা পা উঁচু করে তার ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়েই ফিক করে হেসে ফেলে সে। হাসতে হাসতে লুটিয়ে পড়ে আফিমের বাহুতে। বলে,
“- এটা আপনি কি করছেন”?
মৃত্তিকার হাসিটা সহ্য হলো না আফিমের। গম্ভীর স্বরে সে বলল,
“- কি করছি”?
“- এসব সার্চ দিয়ে কি লাভ? ইউটিউব সঠিক উত্তর দিতে পারবে? কেউ এরকম প্রশ্ন করে কখনো? “ভাত হয়েছে কিনা বুঝবো কি করে”? এ ধরণের প্রশ্ন কেউ আবিস্কার করেনি, ইউটিউবও আপনার প্রশ্ন শুনে হাসবে”।
বলেই আবার হাসে মৃত্তিকা। আফিম পুনরায় ইউটিউবে সার্চ করে। লিখে “চালের দানা পুরোপুরি সিদ্ধ ও খাওয়ার উপযুক্ত হয়েছে কিনা বুঝবো কিভাবে”? এতে মৃত্তিকার হাসির ঝংকার বাড়ে। আফিমকে সরিয়ে দিয়ে সে ভাতের চাল টিপে। ভাত হয়েছে বুঝতে পেরে সে চুলো থেকে কুকার সরায়। আফিমের অ্যাপ্রোনের দিকে তাকিয়ে বলে,
“- আপনি রান্না করতে এসেছেন কেন”?
আফিম স্বাভাবিক সুরেই বলে,
“- তোমাকে খাওয়াবো, তাই”।
“- আমি তো আছি”।
“- রোজ তুমিই করো”।
মৃত্তিকা হাসে। অতঃপর গতরাতের কথা স্মরণ হতেই অভিমান জমে। আফিম তাকে এতটা দিন মিথ্যে বলেছে, ঘুণাক্ষরেও টের পেতে দেয়নি নিজের পরিচয়। সে কি মৃত্তিকাকে বিশ্বাস করে না? ভরসা করে না? অজস্র মিথ্যের মাঝে কেন ডুবিয়ে রেখেছিল তাকে? মৃত্তিকা সরে আসে সেখান থেকে। ওয়াশরুমে গিয়ে প্রায় মিনিট বিশেক শাওয়ার নেয়। গোলাপী রঙের কামিজ পড়ে বেরিয়ে আসে। আফিম অপেক্ষা করছিল তার জন্য। মৃত্তিকা বের হতেই আফিম টাওয়াল গায়ে ঝুলিয়ে নিল। ঘামে আর দুর্গন্ধে আফিম টিকতে পারছে না। ওয়াশরুমে যাওয়ার পূর্বে মৃত্তিকার দিকে নজর ফেলে সে। মৃত্তিকা গাল ফুলিয়ে রেখেছে, মুখে হাসি নেই। আফিমের মাথায় আসে না কি এমন করল সে? মৃত্তিকা রেগে রয়েছে কেন? আফিম ওয়াশরুমে গেল। শাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে এলো কিছু সময় পর। বিছানায় মৃত্তিকা বসে আছে। তার ভেজা চুলের পানিতে বেডশিট ভিজে গেছে।
আফিম রাগ দেখাল। বলল,
“- চুল মোছো”।
মৃত্তিকা শুনল না। ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে নিলেই আফিম তার হত টেনে ধরল। বাহুবন্ধনে আবদ্ধ করে বলল,
“- কি হয়েছে? রাগ করেছো? অভিমান”?
মৃত্তিকা মুখ গোমড়া করে বলে,
“- আপনি আমায় একটুও বিশ্বাস করেন না, তাই না”?
আফিম সলজ্জ চোখে তাকাল। বলল,
“- এমন কেন মনে হলো”?
“- সত্যটা আপনি আমায় আগে জানালেন না কেন? বিশ্বাস করলে ঠিকই আগে জানাতেন।”
আফিম প্রত্যুত্তরে বলে,
“- লুকিয়ে লুকিয়ে আমাকে ফলো করে ফিল্ড রুমে চলে গিয়েছিলে। কেন? বিশ্বাস ছিল না আমার প্রতি?”
বিপরীতে এমন প্রশ্ন শুনে থমকাল মৃত্তিকা। হকচকিয়ে উঠল। আফিম মৃত্তিকার আড়ষ্টভাব বুঝতে পেরে তার মাথার তালুতে হাত ঠেকিয়ে বলল,
“- মৃত্ত, আমি সময় নিয়েছিলাম। তোমাকে ঠিকই জানাতাম। আমি চেয়েছিলাম তুমি আমাকে ছন্নছাড়া আফিম ভেবেই ভালোবাসো। বখাটে প্রেমিক হিসেবে ভালোবাসো”।
মৃত্তিকার চোখ টলটলে হয়ে ওঠে। আফিম বলে,
“- এসো চুল মুছিয়ে দিই”।
“- আমি পারবো”।
“- পারার দরকার নেই। সব যদি তুমি একাই পারো, তবে তোমার জীবনে আমার ভূমিকা কী”?
মৃত্তিকা বসল বিছানায়। চুলগুলো আফিমের দিকে দিয়ে উল্টো ঘুরে বসে রইল। আফিম হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে খুব সুন্দর করে মৃত্তিকার চুল শুকিয়ে দিল। কিছুক্ষন পর একসাথে খাওয়াদাওয়া করার পর আফিম ছুটল কাজে। এখন আর তার মাঝে লুকোচুরি নেই। মৃত্তিকাকে বলেই সে কাজে গেল। আফিম বেরিয়ে গেলে মৃত্তিকার মাথায় একটি প্রশ্ন এলো। ওইদিন আব্বু কেন আফিমের সাথে তাকে চলে আসতে বলল?, কেন এত দ্রুত বখাটে আফিমকে মেনে নিল? আফিমকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করে লাভ হয়নি। মৃত্তিকা আফিমের রেখে যাওয়া ফোনটা থেকে আব্বুকে কল করল। কলটা উঠাল মনোয়ারা। দু এক কথা বলার পর মৃত্তিকা আতিকুর রহমানকে ফোনটা দিতে বলল। জিজ্ঞেস করল,
“- আব্বু, তুমি আমায় শর্ত দিয়েছিলে। বলেছিলে আফিম না শোধরানো অবধি আমি এ বাড়িতে ফিরতে পারবো না। তুমি বলেছিলে আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে আমার ফিরে যাওয়া উচিত নয়। তাহলে তুমি কেন শেষে গিয়ে আমাকে এ বাড়িতে চলে আসতে বললে? কেন মানিয়ে নিয়ে আফিমের সাথে থাকতে বললে”?
এত এত প্রশ্নের তোপে পড়ে আতিকুর রহমান চুপ রইলেন। তৎক্ষনাৎ তিনি জবাব দিলেন না। মৃত্তিকা অধৈর্য্য হয়ে পরল আব্বু চুপ থাকায়। সে ফের জিজ্ঞেস করল,
“- আব্বু, শুনছো”?
“- শুনছি,
“- বলছো না যে”?
“- আফিমকে তুমি ভালোবাসো, তাই পাঠিয়েছিলাম। অসুস্থ হয়ে পড়লে, এখানে থাকলে শরীর আরো খারাপ করে ফেলতে”।
“- শুধুমাত্র এ কারণে? তুমি মিথ্যে বলছো”।
জোর দিয়ে কথাটা বলল মৃত্তিকা। আতিকুর রহমান আরো কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,
“- আফিম এসে আমার কাছে অনুরোধ করেছিল। যে ছেলেটাকে দেখেছি এলাকায় মারামারি করতে, গুণ্ডামি করতে, দাপট দেখাতে, সেই ছেলেটা এসে আমার পা ছুঁয়েছিল তোমার জন্য। কিভাবে ফিরিয়ে দেই”?,
মৃত্তিকা স্তব্ধ হয়ে গেল। কণ্ঠনালী আটকে এলো। আফিম, কি করে? কিভাবে সম্ভব এটা?, যে আফিম তার সামনে কেউ উঁচু স্বরে কথা বললে রেগে যায়, মারধোর করে, যে ছেলে কখনো মাথা নোয়ায় না, নত সুরে কথা বলে না। যার আগাগোড়া পুরোটাই ক্ষমতা, দাপট, ব্যক্তিত্বে ঢাকা, সে কারো কাছে অনুরোধ জানাতে পারে?, যার কাজ আদেশ করা, সে কি করে অনুনয় করে?
“- কি বলছো এসব”?
“- ঠিক বলছি। ওই বখাটে ছেলেটা তোমাকে আমার কাছে ভিক্ষা চেয়েছে। তখন তোমার চেয়েও আমি বেশি অবাক হয়েছিলাম আফিমের এ কাজে”।
“- আমার মাথায় ঢুকছে না আব্বু”।
“- আফিম এসে জানাল সে তোমাকে নিয়ে যেতে চায়। আমি বাঁধা দেয়ায় সে নত হলো। আমার পা জাপ্টে ধরে বলল সে তোমাকে নিয়ে যেতে চায়। তুমি ছাড়া ওর ভালোমন্দ ভাবার কেউ নেই। আরো বলল, “আমার মেয়েকে আমি যেন তাকে ভিক্ষা দিয়ে দিই। সে আর কোনোদিন কিছু আমার কাছে চাইবে না, তোমাকে ভালো রাখবে, অভিযোগ করার সুযোগ দিবে না”।
মৃত্তিকা থ বনে গেল। বলার মতো কিছুই পেল না। আতিকুর রহমান ফের বললেন,
“- আফিম কেঁদেছিল, আমার পা ধরে নিঃশব্দে কেঁদেছিল। অমন জোয়ান, তাজা ছেলে। যার রাগ, দম্ভ অসীম, যে মাথা নত করে না, ভদ্রতার জ্ঞান যার নেই, কাউকে যে তোয়াক্কা করে না, সেই ছেলে আমার সামনে কাঁদবে আমি ভাবতেই পারিনি। অমন করে বললে কোন বাবা ছেলেকে ফেরাতে পারে”?
মৃত্তিকা কলটা কেটে দিল। চোখ জোড়া জ্বলছে রীতিমতো। কান্না পাচ্ছে খুব। আফিম মানুষটা এমন কেন? তার কাজকর্ম আর সে, দুটোই আলাদা। তাকে বোঝা যায় না, তার মন ছোঁয়া যায় না। সে আলাদা, সবার চেয়ে আলাদা। সে যা দেখায় তা সে না। তার ভিতরের সত্তা আরো নরম, সুন্দর। মানুষটা তাকে এত ভালোবাসে কি করে? এই আফিম শুধুমাত্র মৃত্তিকাকে পেতে নত হয়েছে, কারো পা ছুঁয়েছে, কারো সামনে কেঁদেছে। পুরুষ মানুষ এমন আশ্চর্য রকমের সুন্দর কি করে হয়?
শান্ত রাইমার সাথে কথা বলে না। রাইমা কথা বললেও তার উত্তর দেয় না। পুরোপুরি রাইমাকে সে উপেক্ষা করে। লাঞ্চ টাইমে শান্ত অন্য ছেলেদের সাথে বসে। ভুল করেও সে রাইমার দিকে তাকায় না। রাইমা শান্তর মনোযোগ পেতে কত কিছুই না করে, তবুও শান্তর নজর তার দিকে ফেরে না। অফ টাইমে রাইমা নিজেই আসে শান্তর কাছে। বলে,
“- আপনি আমাকে ইগনোর করছেন কেন”?
শান্ত রাইমার কথায় পাত্তা দিল না। কারণ ছাড়াই ল্যাপটপটা অন করে ঘাটাঘাটি শুরু করে দিল। প্রচন্ড রাগ হলো রাইমার। আশেপাশে কেউ না থাকায় শান্তর শার্টের কলার চেপে ধরল সে। হতবিহ্বল হয়ে তাকাল শান্ত। চট করে রাইমার হাত সরিয়ে দিয়ে তীব্র তেজ দেখিয়ে বলল,
“- সমস্যা কি? আপনি আমার কলার ধরেন কোন সাহসে”?
রাইমাও সমান রেগে বলে,
“- আপনি আমায় ইগনোর করছেন কেন”?
শান্ত চোখ গরম করে বলে,
“- আমি আপনাকে কেবল বন্ধু ভাবতাম। আপনি যখন সম্পর্কটাকে বন্ধুত্বের চেয়েও এগিয়ে রাখছেন তখন এ সম্পর্ক রাখার মানেই হয় না”।
রাইমা অবাক হয়ে বলল,
“- ভালোবাসা কী পাপ”?
শান্ত তাচ্ছিল্যের সুরে হেসে বলল,
“- ভালোবাসা পাপ না। তবে বিপরীত দিকের মানুষটা যদি অনাগ্রহী হয়, তবে তা পাপের শামিল”।
“- আমি কি দেখতে সুন্দর নই”?
“- আমি কী বলেছি”?
“- তাহলে আমাকে ভালোবাসবেন না কেন”?
“- কারণ আমি আপনাকে ওই চোখে দেখি না”।
“- দেখেন না, এবার থেকে দেখবেন”।
“- আপনি বাড়াবাড়ি করছেন রাইমা”।
“- আপনি বাড়াবাড়ি করছেন শান্ত। ভালোবাসি আমি, অন্যায় করিনি। আপনারও উচিত আমাকে ভালোবাসা”।
শান্ত ফোঁস করে শ্বাস ফেলল। ডেস্কের ড্রয়ার থেকে একটি সাদা মতন কার্ড বের করে রাইমার দিকে বাড়িয়ে দিল। রাইমা ভ্রু কুঁচকে কার্ডটা দেখল, হাত বাড়িয়ে নিল মোটা কাগজটি। কার্ডটিকে সূক্ষ্ম নজরে দেখেই বুঝতে পারল এটি বিয়ের কার্ড। কার্ডটি ভালোভাবে দু পাশে ছড়িয়ে খুলে বরের নামের দিকে তাকাল রাইমা। সঙ্গে সঙ্গে বাজ পরল রাইমার মাথায়। চট করে চোখ তুলে দেখল শান্তর দিকে। শান্ত পুরোপুরি স্বাভাবিক, কোনো রকম অনুশোচনা নেই চোখে মুখে। দু পকেটে হাত গুঁজে সে রাইমার অভিব্যক্তি দেখল। রাইমা ভুলে বসল স্থান, কাল। থরথর করে কাঁপল তার সত্তা। চোখ জোড়া বড় বড় হয়ে উঠল। নামটিতে পুনরায় ভালোভাবে দেখল রাইমা, উল্টেপাল্টে পরখ করল কার্ড। পরবর্তীতেও সবখানে একই নাম দেখে সে কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলল,
“- এটা কী শান্ত? এখানে বরের জায়গায় আপনার নাম লেখা কেন”?
শান্ত গম্ভীর সুরে বলল,
“- সামনের সপ্তাহে আমার বিয়ে, আমার কাজিনের সাথে।”
রাইমার হাত থেকে কার্ডটি পড়ে গেল। থমকে গেল সে। নড়চড় করাও ভুলে গেল, অভিব্যক্তি প্রকাশ করার ভাষাও খুঁজে পেল না মেয়েটা। হাঁসফাস করতে লাগল। ঘন ঘন শ্বাস ফেলল মেয়েটা। ভিতরের তাণ্ডব বৃহৎ আকার ধারণ করতেই হেলে-দুলে তার শরীর পড়ে যেতে নিল। শান্ত বুঝল রাইমার ভেতরের অস্থিরতা। দ্রুত নিজের চেয়ারটায় টেনে বসিয়ে দিল ওকে। রাইমা স্থির, হম্বিতম্বি নেই তার। কথা নেই, নিজের ভাবনার প্রকাশ নেই। সে চুপচাপ বসে রইল। মস্তিষ্ক কাজ করতে ভুলে গিয়েছে, শরীরটা মাত্রাতিরিক্ত ভার লাগতে শুরু করেছে। ঢোগ গিলে সে উত্তেজিত হয়ে বলল,
“- মিথ্যে বলছেন। মিথ্যে এসব। আমাকে পিছু হটাতে আপনি এমনটা করছেন তাইনা? মিথ্যে কার্ড ছাপিয়ে আমাকে আপনার থেকে আলাদা করতে চাইছেন”।
শান্তর মায়া হলো মেয়েটার এই অবস্থা দেখে। এই বুঝি মেয়েটা জ্ঞান হারাবে। ঘন ঘন শ্বাস ফেলছে সে। কণ্ঠেও জড়তা প্রকাশ পাচ্ছে। চোখ জোড়া বুজে আসছে রাইমার। ছটফট করতে করতে সে উঠে দাঁড়ায়। শান্ত শীতল চোখে চেয়ে বলে,
“- সত্যি বলছি। বিয়েতে আপনার নিমন্ত্রণ রইল রাইমা। মিথ্যা নাকি সত্য তা প্রমাণ হয়ে যাবে”।
তালগোল পাকিয়ে ফেলে রাইমা। দু চোখ বেয়ে অঝরে নোনাপানির জলপ্রপাত বয়ে যায়। অস্থির, অধৈর্য্য, উত্তেজিত দেখাচ্ছে রাইমাকে। ঠক ঠক করে কাঁপছে, মাথা ঘুরছে। শান্তকে সে ভালোবাসে। একদম প্রথম দিন থেকে। রাইমা মাত্রাতিরিক্ত চঞ্চল। বাবাকে কাছে পায়নি বলে মা-ই ছিল তার ভরসা। বাবা-মায়ের শাসনটা যেমন বেশি ছিল, ভালোবাসাও ছিল ততটাই মজবুত। কখনো তাকে কোনোকিছুতে বাঁধা দেয়নি রাইমার পরিবার। রাইমা স্বাধীনতা পেয়েছে, মুক্ত জীবন পেয়েছে। এই মুক্ত জীবনে কখনো কাউকে ভালো লাগেনি রাইমার। কারো প্রতি আগ্রহ জাগেনি। ওইদিন বাসের মধ্যের ওই বোকা ছেলেটাকে দেখে হৃদয় হারিয়ে বসেছিল। অজানা ভালো লাগায় হৃদয় আবেশিত হয়েছিল। তার মতো বাচাল মানুষের জন্য অমন শান্ত শিষ্ট বোকাসোকা ছেলেই চাইতো রাইমা। সে চাইতো রাইমা সারাদিন বক বক করবে, অপর মানুষটা তার বকবকানি শুনবে মনোযোগ দিয়ে। শান্তর বোকা কথা, সহজ-সরল ভাবভঙ্গি সবটাই রাইমাকে মুগ্ধ করতো।
রাইমার ছটফটানি দেখে শান্ত বলে,
“- দেখুন রাইমা, কষ্ট পাবেন না প্লিজ। আমি আপনাকে ওই চোখে দেখিনি। দেখার প্রশ্নই আসে না। আপনি ভালো মেয়ে, আপনার সাথে বন্ধুত্ব করে আমি অনেক কিছু শিখেছি। কিন্তু অন্যরকম অনুভূতির সন্ধান আমি পাইনি। আমাকে ভুল বুঝবেন না প্লিজ”।
রাইমা ফ্যাল ফ্যাল করে তাকাল শান্তর দিকে। চুপ হয়ে গেল সে। কোনোরকম ভণিতা ছাড়াই উঠে গেল চেয়ার ছেড়ে। শান্ত পিছু ডাকলেও লাভ হলো না। রাইমা তার ডেস্ক থেকে ব্যাগটা নিয়ে ছুটে বেরিয়ে গেল। তার তাড়া অনেক, ছুটতে গিয়ে পিছলে গেলেও দমল না। ছুটতে ছুটতে বিড়বিড় করে সে বলল,
“- আমি হেরে গেলাম, ভালোবাসার এই খেলায় আমি বাজে ভাবে হেরে গেলাম। শান্ত আমার নয়, আমার ছিল না। আমি অন্ধকারে হাত ডুবিয়ে কাটা ধরেছি। আহত হয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছি। ভুল, ভুল করেছি। এখন আমি কি করবো? কিভাবে বাঁচবো? আমার বুক পুড়ছে, ব্যথা করছে। বেঁচে থাকায় এত কষ্ট কেন”?
অফিসের গেট থেকে বের হবার পথে একটি পাগলকে দেখল রাইমা। উষ্কখুষ্ক চুল, ছেঁড়া নোংরা কাপড় পড়ে এক লোক হেঁটে যাচ্ছে। তার মুখে হাসি, জীর্ণ শীর্ণ বদন। পোশাকআসাকের অবস্থা করুণ, জোড়া তালি দেয়া লুঙ্গি। মাথায় হাত রেখে রেখে পাগলটা হেলে-দুলে যাচ্ছে আর অদ্ভুত কুৎসিত গলায় গান গাইছে,
“- ওরা মনের গোপন চেনে না,
ওরা হৃদয়ের রঙ জানে না।
রাজনীতি নিয়ে বাড়াবাড়ি রকমের তোলপাড় সব দেশে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল নয়। গণমাধ্যম গুলো উল্টোপাল্টা প্রচারণার জন্য দায়ী। আফিম এসেছে চট্টগ্রাম বিমান বন্দরে। এখানে সে এসেছে বখাটে বেশে। হাতে জ্বলন্ত সিগারেট নিয়ে দাঁড়িয়ে বন্দরের আশপাশ নজর রাখছে সে। আশেপাশে প্রচুর ভিড়। জনসমাগমে মুখরিত চারপাশ।
নদীর তীরজুড়ে সারি সারি কনটেইনার। লাল, নীল, সবুজ, হলুদ, একটার ওপর আরেকটা স্তূপ করে রাখা। দূর থেকে দেখলে দেখায় রঙিন ধাতব দেয়াল। প্রতিটি কনটেইনারের ভেতরে লুকিয়ে আছে তৈরি পোশাক, কোথাও যন্ত্রাংশ, কোথাও খাদ্যপণ্য। বিশাল গ্যান্ট্রি ক্রেনগুলো সেই কনটেইনারগুলোকে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে তোলে। তাদের দীর্ঘ বাহু আকাশের দিকে প্রসারিত। ক্রেন চলার সময় ধাতব ঘর্ষণের শব্দ আর সতর্ক সংকেতের সাইরেন প্রকট হয়। বন্দরের ভেতর ও আশপাশের সড়কে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে ভারী ট্রাক, ট্রেইলার আর কাভার্ড ভ্যান। ইঞ্জিনের গর্জন, হর্নের শব্দ, চাকার ঘর্ষণ, সব শব্দরা ঝংকার তুলছে। ট্রেইলারগুলো কনটেইনার বহন করে ইয়ার্ড থেকে জেটিতে, আবার জেটি থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। মাঝে মাঝে মালবাহী রেলওয়ে ওয়াগন ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়, লোহার চাকা রেলের ওপর ঘর্ষণ তুলে এক টানা শব্দ তোলে।
নদীপথে ছোট টাগবোটগুলো বড় জাহাজকে ধীরে ধীরে ঘুরিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে ভেড়ায়। বিশাল কনটেইনার শিপ যখন সাইরেন বাজায়, তার গভীর গম্ভীর ধ্বনি নদীর দুই তীরে প্রতিধ্বনিত হয়। ডিজেলের গন্ধ বাতাসে মেশে তখন।
আফিম একপাশে দাঁড়িয়ে থেকে দেখে একটি লোক ইতিউতি করছে। তার কন্টেইনারের জাহাজটি নোঙর করেছে চট্রগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের জেটিতে। বিদেশে পণ্য পাঠানোর খুব তাড়া তার। পণ্য সময়মত না পৌঁছালে হয়তো অর্ডার বাতিল হয়ে যাবে। আফিম তার প্রতিক্রিয়া গুলো পর্যবেক্ষণ করে। অন্য একজনের সাথে লোকটির কথাবার্তা শুনে আফিম বুঝতে পারে কাস্টমস অফিসে তার ফাইল আটকে আছে। কাগজপত্রে সমস্যা আছে বলে তাকে আটকে দেয়া হয়েছে। পণ্য পাঠানোর ঝামেলায় পড়েছে লোকটা।
আফিম এগিয়ে গেল লোকটির কাছে। বলল,
“- কি ভাই? মাল পাঠাবেন না”?
লোকটি বিষাদ গ্রস্ত সুরে বলে,
“- ওরা ফাইল এক টেবিল থিকা আরেক টেবিলে পাঠায় দেয় ভাই। ভালো ভাবে কাজ করে না। আমার মাল আজ পাঠানোই লাগবো। কিন্তু ওরা কিছুয় কয় না। এক দালালে কইছে স্যার গো ঘুষ দেয়া লাগবো। তাইলে মাল পাঠান যাইবো তাড়াতাড়ি। আর কোনো সমস্যায় পড়মু না বন্দরে”।
আফিম শুনল মনোযোগ দিয়ে। সিগারেটে টান দিয়ে বলল,
“- আমিও তো মাল পাঠাবো। তা কাদের ঘুষ দেয়া লাগবে?”
লোকটা আশপাশে ভালো ভাবে চেয়ে, সতর্ক হয়ে আফিমের কানের কাছে মুখ ঠেকিয়ে ফিসফিস করে বলে,
“- আইনমন্ত্রী আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে যাইবো। তাগো কাছে যাইতে যাইতে অনেকের পকেট ভরবো।”
আফিম থ বনে গেল। তবে অভিব্যক্তি প্রকাশ করল না নিজের। চুপচাপ শুনে আরো কিছুক্ষণ বন্দরে থেকে চলে এলো সেখান থেকে। যেতে যেতে পার্সোনাল ফোন থেকে পুলিশ ফোর্সের হেডকে টেক্সট করে জানাল,
“- আজ রাতে তোমাদের ফোর্স থাকবে চট্টগ্রাম বন্দরে। ইটস আ অর্ডার। নো স্ল্যাকিং অফ ইজ অ্যালাউড। স্ট্রিক্ট গার্ডিং মাস্ট বি ইনফোর্সড।
Shafayet Afim Mirza, A Undercover Agent, Field Operative.
রৌদ্রজ্জ্বল দিন শেষে সন্ধ্যের আলোতে পৃথিবী হয়ে উঠল নরম, শান্ত। মৃত্তিকা বেলকনিতে বসে রইল দীর্ঘ সময়। আফিম ফেরার প্রতীক্ষায় সময় কাটছে না। মানুষটাকে দেখার জন্য রীতিমতো হাসফাস করছে মৃত্তিকা। আফিম ঢাকায় ফিরেছে দেড় ঘন্টা আগে। দলের লোকদের নিয়ে আজ উত্তরায় একটা বড়সড় গ্যাঞ্জাম করেছে সে। এক প্রাক্তন ছাত্রলীগ আফিমের দলের একটি ছেলেকে ব্যাট দিয়ে পিটিয়েছে। আফিমের লোকের দোষ ছিল যে সে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিয়ে সর্বসাধারণের মাঝে সমালোচনা করছিল, রাজনীতির ছলাকলা নিয়ে মুখ খুলেছিল। তাতেই ছাত্রলীগ ছেলেটা ক্ষেপে গিয়ে আফিমের লোককে মেরেছে। ছেলেটিও ওই ছাত্রলীগকে মেরেছে তবে আঘাত সে পেয়েছে বেশি। কল করেছে আফিম নামক বড় ভাইকে। আর তাই দ্রুত আফিম ছুটে গিয়েছে উত্তরায়। ওখানকার কিছু ছেলেপেলের সাথে আফিমের দলের মানুষের মারামারি লেগেছিল। আফিম দক্ষ, নিষ্ঠাবান ও প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত এজেন্ট। তার কাছে এসব পাতি ছাত্রলীগ চুনোপুঁটি। ওদের মেরে কাত করে ফেলেছে আফিম। প্রায় ছয়জন ছেলের সাথে একসাথে দাঁড়ানোয় পিছন থেকে একটি লোহার রডের বাড়ি লেগেছে আফিমের বাহুতে। কালো দাগ পড়েছে সেথায়। মোটা বাহুতে সফেদ ইলাস্টিক ব্যান্ডেজ জড়িয়ে আফিম বাড়ি ফিরেছে। শার্ট খুলে কাঁধে ঝুলিয়ে বাড়ি ফিরেছে।
মৃত্তিকা আফিমকে দেখে ছুটে এলো। তার বাহুতে ব্যান্ডেজ দেখে মৃত্তিকা দু হাত বুকে গুঁজে দাঁড়াল। বলল,
“- কোথায় ছিলেন সারাদিন”?
আফিম ভড়কাল। এই মেয়েটা আজও জিজ্ঞেস করছে সে কোথায় ছিল? একজন এজেন্টকে এ ধরণের প্রশ্ন করা মানায়? যাক, মৃত্তিকা বদলায়নি। সে আগের মতোই আছে।
“- কাজে গিয়েছিলাম”।
“- মারামারির কাজ”?
আফিম কাঁধ বাঁকিয়ে, মাথা চুলকে বলল,
“- ওখান থেকে ফিরে উত্তরায় গিয়েছিলাম”।
মৃত্তিকা দরজা থেকে না সরে বলল,
“- বের হন, বাড়িতে আপনার জায়গা হবে না”।
ভ্যাবাচ্যাকা খায় আফিম। বলে,
“- কেন? কি করলাম আমি”?
“- বাবা বলে গিয়েছেন, আপনাকে যদি আমার ভালো না লাগে তাহলে আমি আপনাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার ক্ষমতা, অধিকাড রাখি। আমার এখন আপনাকে ভালো লাগছে না”।
“- ভালো না লাগার কারণটা বলো”?
“- হাত কেটে এসেছেন”।
“- কাটেনি, ফুলে গিয়েছে”।
মৃত্তিকা চোখ পাকায়। রাগে গা জ্বলে ওঠে মেয়েটার। দপদপ করে মস্তিস্ক। হুংকার ছেড়ে বলে,
“- আপনি মারামারি করতে যান কেন? এই হাত নিয়ে ঘরে ঢুকবেন না”।
আফিম ক্রূর হাসে। মৃত্তিকার কাছে এসে তার কোমর ধরে শূন্যে তোলে। হকচকিয়ে যায় মৃত্তিকা। সে ভাসে হাওয়ায়। রাগান্বিত মুখটা লজ্জায় লাল হয়ে যায়। আফিম হেসে বলে,
“- তোমার ওয়েট ক্যারি করতে পারছি, অতএব, হাত ঠিক আছে”।
মৃত্তিকা মুখ ফিরিয়ে বলে,
“- আপনি ভালো হবেন না? মারপিট বন্ধ করুন এবার”।
“- করবো, সময় হোক”।
“- কবে হবে”?
“- ভালোবেসে বলবে যবে”?
মৃত্তিকা লোকটার দুষ্টুমির স্বর ঠিকই টের পেল। আফিম মৃত্তিকাকে বসিয়ে নিজেও চেয়ার টেনে বসল। মৃত্তিকার মুখের দিকে চেয়ে রইম আফিম। গোলাপী রঙের সুতির কামিজ মৃত্তিকার পরনে। মাথায় ওড়না টানা। মুখটা মসৃন, প্রসাধনীহীন। তাকে দেখতে অদ্ভুত সুন্দর লাগে আফিমের। আফিমকে এভাবে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে লজ্জায় মোচড়ামুচড়ি শুরু করে মৃত্তিকা। নতজানু হয়ে বলে,
“- ওভাবে কি দেখেন”?
আফিম অবিলম্বে প্রত্যুত্তর করে,
“- আমার বোকা মৃত্তকে”।
মৃত্তিকা মিছে রাগ দেখায়। বলে,
“- আমি বোকা”?
“- অবশ্যই, বোকা না হলে বখাটে এই মানুষটাকে ভালোবাসতে”?
মৃত্তিকা কথাগুলো সাজিয়ে নিল। চোখ নামিয়ে বলল,
“- ভালোবাসি কখন বললাম”?
আফিম মৃত্তিকার নত মুখ খানা উচু করল। নাকের ডগায় ছোট্ট চুমু বসিয়ে বলল,
“- ভালোবাসো না”?
মৃত্তিকা লজ্জায় গুটিয়ে যায়। মাথা নেড়ে না বোঝায়। আফিম মৃত্তিকার গালে হাত রেখে ঘনিষ্ঠ হলো। চোখাচোখি হলো দুজনের। আফিম ফের শুধাল,
“- সত্যিই ভালোবাসো না”?
মৃত্তিকা এবারেও মাথা দোলাল। আফিম প্রগাঢ় হেসে মৃত্তিকার গালে ঠোঁট ছোঁয়াল। নরম, তুলতুলে গালটা পুরু ঠোঁটের ভারে দেবে গেল। চোখ বুজে নিল মৃত্তিকা। আফিম তার ওড়নাটা সরিয়ে দিল। ঘাড়ে মুখ গুঁজে শ্বাস টানল বারবার। হেসে বলল,
“- ভালোবাসো না জেনেও ভালোবাসি,
কাছে আসবে না জেনেও মায়ায় ডুবি।”
মৃত্তিকার চিত্ত চনমনে হয়ে উঠল। আফিমের ঠোঁটে এলোমেলো হয়ে ঠোঁট ডুবিয়ে দিল খুব ধীরে। হতভম্ব চোখে চেয়ে আফিম পরক্ষণেই সায় জানাল। প্রগাঢ় চুমুতে ভরিয়ে দিল মৃত্তিকার গাল। অবিরত, অনিয়ন্ত্রিত ভাবে মেয়েটার গালে বাচ্চাদের মতো চুমু বসাল। মৃত্তিকা লাজে নুইয়ে পরল। আফিম সুযোগ পেয়ে বসল। মৃত্তিকার গলায় চুমু খেয়ে বলল,
“- সেইভার মাই লাভ( আমার ভালোবাসা উপভোগ করো)”।
মৃত্তিকা হাসল। আফিমের গলা জড়িয়ে ধরল। একে অপরের সাথে আলিঙ্গনে মত্ত হলো ওরা। শ্বাস প্রশ্বাসের ঘনত্ব বাড়ল, এতটুকু ফাঁক রইল না দুজনের মধ্যে। আদর, যত্নে, পরিপূর্ণ হলো দুজন।
চলবে?
লেখনীতেঃ #বৃষ্টি_শেখ
[ নোটঃ আপনারা কি জানেন আর একটি পর্বে আফিম মির্জার কাহিনী শেষ হবে? নতুন গল্পটার কথা মনে আছে আপনাদের? ওই গল্পটাকে এডিট করবো। আফিম আর মৃত্তিকাকে নিয়ে সিজন টু আসবে। ওখানে আপনারা অন্যরকম মৃত্তিকাকে পাবেন অর্থাৎ সে হবে প্রভার মতো, আফিম হবে রগচটা। বলুন পড়বেন তো তুমি অনল হয়ো আমি বৃষ্টিধারা)? ]
Share On:
TAGS: ওরা মনের গোপন চেনে না, বৃষ্টি শেখ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ওরা মনের গোপন চেনে না পর্ব ১২
-
ওরা মনের গোপন চেনে না পর্ব ৪
-
ওরা মনের গোপন চেনে না পর্ব ৫
-
ওরা মনের গোপন চেনে না পর্ব ১৫
-
ওরা মনের গোপন চেনে না পর্ব ২৬
-
ওরা মনের গোপন চেনে না পর্ব ১৪
-
ওরা মনের গোপন চেনে না পর্ব ২৩
-
ওরা মনের গোপন চেনে না পর্ব ১
-
ওরা মনের গোপন চেনে না পর্ব ১৯
-
ওরা মনের গোপন চেনেনা পর্ব ৬