আদিল মির্জাস বিলাভড
— ১৭
আদিলের বাবা — মরহুম ওসমান মির্জা ছিলেন প্রভাবশালী লোক। সফল ব্যবসায়ীর পাশাপাশি তার আন্ডারওয়ার্ল্ডে বিশাল বড়ো হাত ছিলো। একসময় ব্যবসা ছেড়ে পুরোপুরি আন্ডারওয়ার্ল্ডের কালো দুনিয়ার সাথে জড়িয়ে পড়লেন। যেখানে নিত্যদিন খু নোখু নিটা ছিলো অনেকটা ভাত-পানির মতো। দেশের মধ্যে ভারী এক ক্রিমিনাল রেকর্ড ছিলো, সাথে ক্ষ মতা, কালো টাকার পাহাড়।
বিপরীতে আদিলের মা —মরহুম গুলনাহার ছিলেন সুস্থ, স্বাভাবিক এক পরিবারের আদরের একটিমাত্র সন্তান। গুলনাহারের বাবা ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক। সততা আর নিষ্ঠা যার রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছিলো। তাইতো রাজনৈতিক এক বড়সড় ঝামেলায় জড়ান তখনকার প্রভাবশালী স’ন্ত্রাস ওসমান মির্জার সাথে। ওসমান মির্জা তখনো তরুণ। শরীরের র ক্ত গরম। তার গুহায় বিনা অনুমতিতে ঢোকার স্পর্ধার শাস্তিটা দিয়েছিলেন ভিন্নভাবে। ভদ্রলোকের একমাত্র আদরের কন্যাকেই লোকজন দিয়ে তুলে আনিয়েছিলেন। শাস্তি দেয়ার উছিলায় তোলা হলেও, ওসমান মির্জা ভেবে রেখেছিলেন মেয়েটাকে চার-পাঁচদিন পরে আবার ফিরিয়ে দেবেন। স্রেফ মেয়ের বাবাকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যেই তুলে আনা মাত্র। নিজের তৃপ্তি মিটলেই অস্পর্শীয়, সুরক্ষিত মেয়েটিকে পাঠিয়ে দেবেন।
তবে ভাগ্যের খেলা যে ভিন্ন! কে জানতো তার তৃপ্তি যে আর মেটার ছিলো না? তৃষ্ণা যে আরও ভয়ংকর ভাবে বেড়ে যাবে? কে বলেছিল গুলনাহারকে রূপবতী, পর্দাশীল হতে! এতোটা চমৎকার ব্যক্তিত্বের একজন নারী হতে? যাকে এক দেখায় দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন ওসমান মির্জা। ছটফট করেছিলেন ক্রমাগত! ব্যাকুল হয়ে পড়েছিলেন স্বচ্ছ এক আকাঙ্ক্ষায়। তাইতো নিজের স্বার্থের জন্য আর ফিরিয়ে দেননি গুলনাহারকে। জোরপূর্বক, মেয়েটাকে একরকম বাধ্য করে তবেই বিয়ে করেন। বন্দী করে রাখেন নিজের কালো রাজ্যের এই রাজপ্রাসাদে। সারাজীবনের জন্য।
গল্পটা তাদের ভীষণ দুঃখের শোনালেও, আদতেও দুঃখের হয় না। গুলনাহার ছিলেন ভীষণ সেকেলে মস্তিষ্কের মেয়েমানুষ। যার যাতায়াত বাইরের দুনিয়ায় কম। চারদেয়ালের ভেতর থেকে পড়তেই ভালোবাসতেন। তাই তার জীবনের প্রথম পুরুষই ছিলো ওসমান মির্জা। খারাপ-ভালো যেমনই হোক না কেনো, তিন কবুল বলে ওসমান মির্জাকে তিনি বিয়ে করেছিলেন। সম্পর্কে স্বামী হোন। ওতটুকু এক ডাক, তিন কবুলের ক্ষমতাটাই ছিলো বিশাল। তারওপর স্বামীর স্পর্শ , আদর… আহ্লাদে কীভাবে না গলে থাকবেন? ওত কঠোর মনের তিনি যে ছিলেন না! না চাইতেও, মায়া জন্মায়। ভাগ্যে ভাগ্য জড়ায়। দীর্ঘকাল সংসার করে ভালো না বেসে আর পারা যায়নি। এই খারাপ স্বামীটাকেই উজাড় করে ভালোবেসেছেন। জন্ম দিয়েছিলেন একমাত্র সন্তান আদিলের।
আদিলের জন্মের পরে তাদের সংসার সুখের ছিলো। আনন্দের ছিলো। তবে এমন এক অন্ধকার দুনিয়ায় কখন কী হয় তা যে অভাবনীয়! অকল্পনীয়! হটাৎ এক গভীর, প্রতারণামূলক আ’ক্র’ম’ণেই ওসমান মির্জা নিজের স্ত্রীর সাথেই খু ন হোন। ওসমান মির্জার বুকের সতেরো বুলেট পাওয়া গিয়েছিল। গুলনাহারের বুকে দুটো।
আদিলের বয়সটা তখন যেন কতো ছিলো? সম্ভবত আঠারো? বড়োজোর এমনই হবে। বাবা-মায়ের মৃ:ত্যুতে ভীষণ ভাবে ভেঙে পড়েছিল। মানসিক য’ন্ত্রণা থেকে বেরুতে কয়টা বছরের প্রয়োজন পড়েছিল আদিলের আর মনে নেই। তবে সে প্রতিশোধ নিতে নিজের মা-কে দেয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে বসে। জড়ায় এই অন্ধকার, স্বার্থপর, নিষ্ঠুর দুনিয়ার সাথে। শুধু জড়ায় না, মিশে যায় একরকম। নিজেকে তৈরি করে নিজের বাবা ওসমান মির্জার চেয়েও ক্ষ মতাবান হিসেবে। তার চেয়েও বড়ো ক্রি মিনাল, তার চেয়েও বড়ো ব্যবসায়ী। প্রতিশোধ নেয় সে। কঠিন প্রতিশোধ! তারপর.. তারপর….
.
আদিলের ভাবনার সুতো কাঁটে মৃদু গোঙানির শব্দে। চোখ মেলে তাকায়। মাথার ওপর ঝাড়বাতিটা ঝুলছে। আলোটা হলদে-আর লালের মিশেলে এক অন্যরকম দ্যুতি ছড়াচ্ছে। এলিয়ে রাখা মাথাটা উঠিয়ে তাকায় সামনে। রোযার ভ্রু-দ্বয়ের মধ্যে অসংখ্য ভাঁজ পড়েছে। নড়ে উঠেছে সামান্য। গায়ের কোটটা ফ্লোরে পড়েছে মৃদু শব্দে। ওর একটা হাত ঝুলে আছে। ধবধবে ফর্সা, মসৃণ হাতের লম্বা আঙুলের পাঁচটা নখ বেশ বড়ো, চোখা। টকটকে গাঢ় লাল রঙের। নখগুলো কেমন চিকচিক করছে। ওই নখগুলো কি আসল নাকি নকল? মানুষ মা রার জন্য যেন নখগুলোই পারদর্শী! আদিল অনেকটা সময় হাতটা পর্যবেক্ষণ করল। এরপর দৃষ্টি ঘুরেফিরে বেড়া্ল পুরো রোযাতেই। পরনের শাড়িটার এলোমেলো অবস্থা। হাঁটুতে উঠে এসেছে। পেটের দিকের শাড়ি সরে গেছে। আদিলের শক্ত পাঁচ আঙুলের থাবাতে র ক্তের ছাপ পড়েছে। এতো ফর্সা চামড়ায় টকটকে লাল রঙের ছাপটা সুস্পষ্ট। লালচে এক তিল ঠিক পাশেই। একটা সুন্দর পেইন্টিং এর মতো লাগছে। সম্ভবত র ক্তের পাশাপাশি আদিলের আঙুলের ছাপও পড়েছে। ধীরে ধীরে চোখের দৃষ্টি গিয়ে থামল রোযার পায়ের কাছে। জুতোজোড়া খুলে পড়ে আছে পাশেই। ন’গ্ন পা-জোড়া হাতের চেয়েও সুন্দর। ওত সুন্দর পায়ের লাল রঙা নখগুলো কেমন আকর্ষণীয়, বলতে নিলে বলা যায় —মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত! এযাত্রায় আদিল তাকাল নিজের হাতের দিকে। র ক্ত পড়া কমেছে। সাধারণ মানুষের পক্ষে হাতের তালু দেখার মতো না হলেও আদিল দেখল। বেশ শ ক্ত করে চুটকিও বাজাল। ব্যথায় মুখ লালনীল হওয়ার কথা হলেও, সে কিচ্ছুটি অনুভব করল না। পিনপতন নীরবতা ভাঙতে তার খসখসে আঙুলের চুটকির শব্দটুকুই যেন অনেক! রোযা আরও গাঢ়ভাবে নড়ে। ফিসফিস করে কীসব বকে আধোআধো চোখ মেলে চায়। ফের চোখ বুজে। ফের চোখ মেলে চায়। নিজের অবস্থা নিয়ে ভীষণ সন্দিহান যেমন! আদিল নিশ্চুপ হয়ে শুধুই দেখে গেলো। এযাত্রায় স্মুথলি লাইটারে শব্দ তুলে ধরায় আরেকটি সিগারেট। লাইটারের শব্দেই রোযার টনক নড়ে। হড়বড়িয়ে উঠে বসে। এদিক-ওদিক সতর্ক ভাবে তাকাতেই আদিলকে দেখে বেচারি চমকে ওঠে। কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়। আতঙ্কে সুন্দর মুখখানা চুপসে যায়। ভয়ে গুটিয়ে আসে শরীর। বড়ো বড়ো চোখে চারিপাশটা দেখে আঁতকে ওঠে।
আদিল সময় নিয়েই দেখে চুপসানো, ভয়ার্ত মুখ খানা। কী সরল, সুন্দর! যেন ভাঁজা মাছটা উল্টে খেতে জানে না। অথচ! চোখে ভাসল, অকল্পনীয় দৃশ্য টুকু। চ’ড়! এই দুনিয়াতে আদিল মির্জাকে চ:ড় মারার স্পর্ধা আছে কারো? ছিলো কখনো? হয়েছে জীবনেও? যদি থাকেও, ওর তো বেঁচে থাকার সুযোগ নেই। কতরকম ভাবে নি’র্যাতন চালানো হতো তার হিসাব নেই! হয়তোবা এতক্ষণে ম রার জন্য পা’গলের মতো বিলাপ করতো। অথচ, তাকে চ’ড় মা রা ব্যক্তি কী সুন্দর করে সামনে বসে আছে! গোলগাল চোখে ভয় নিয়ে তাকাচ্ছে। আদিলের বাম হাতটা দেখে ছোটোখাটো একটা সীৎকার দিতে গিয়েও দেয়নি যেমন! দু-হাতে মুখ ঢেকে সোফার এককোণে মিশে গেছে। আদিল ভ্রু তুলে তাকাল নিজের হাতের দিকে। বাম হাতে পিস্তল। পিস্তলটা সে আঙুলে ঘোরাচ্ছিল। এযাত্রায় ভীষণ নির্বিকার ভাবে, যেন পুতুল পুতুল খেলা হচ্ছে —ওমন ভাবে চোখের পলকে ট্রিগার প্রেস করে দিলো। শব্দ তুলে গু’লিটা সোজা রোযার পাশ কাটিয়ে পেছনের দেয়ালে গর্ত করে ফেলল। রোযা এক চিৎকারে লাফিয়ে উঠতেই হামাগুড়ি খেয়ে পড়ল ফ্লোরে। ব্যথায় চোখের কোণ ভিজে গেলেও, ওই ব্যথা যেন ব্যথা না। রীতিমতো তার হাত-পা কাঁপছে ভয়ে। একটা গু’লি আরেকটু হলেই তার শরীরে লাগতো ভেবেই আতঙ্কে হাত-পা জমে যাচ্ছে। চোখ ভিজে উঠছে। সুন্দর গোলাপি ঠোঁটজোড়া ক্রমান্বয়ে কাঁপছে। ঠোঁট কাঁপার দৃশ্যেই বুঝি একটা সিনেমা। আদিল তো ভীষণ উপভোগ করল।
ইতোমধ্যে গু লির শব্দে দৌড়ে প্রবেশ করেছে শান্ত আর এলেন। ক্লান্ত, স্বপণও পেছনে। চারজনই থমকে আছে দুয়ারে। প্রশ্ন করার স্পর্ধাও ফুরিয়েছে। এগিয়ে যাচ্ছে না। আবার ফিরেও না। বলদের মতো দাঁড়িয়ে আছে। আদিল তখনো সোফায় পায়ের ওপর পা তুলে বসে আছে। তার সামনে— অদূরেই ফ্লোরে রোযা জুবুথুবু মে রে উঠে বসেছে। মুখ খুলে যেন কিছু বলারও সাহস পাচ্ছে না। অনুশোচনা হচ্ছে বুঝি? আদিলকে মির্জাকে চ’ড় মা রার অনুশোচনা?
রোযা কাঁপতে কাঁপতে অনেক সাহস যুগিয়ে মুখটা খুলতে নিতেই —নির্দ্বিধায় আরেকটা গু’লি ছোড়া হয়। রোযার একমুহূর্তের জন্য মনে হলো, সে শেষ! বিদ্যুৎ বেগে গু’লিটা ঠিক তার মাথার ওপর দিয়ে গেলো। বিঁধল দেয়ালে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই, রোযা আ’র্ত’নাদ করে উঠল। চোখের মণি দুটো উল্টে এলো। শরীর ছেড়ে দিলো। চট করে ফ্লোরে মিশে গেলো। এহেন আকস্মিক ঘটনায় শান্ত ওরা আশ্চর্য হলেও আদিল নির্বিকার ভাবে উঠে দাঁড়িয়েছে। এসে দাঁড়াল রোযার সামনে। পুনরায় অজ্ঞান হয়ে গেছে। দুর্বলভাবে শ্বাস নিচ্ছে। এই সাহস? এই সাহস নিয়ে তাকে চ’ড় মা রা! আদিলের ইচ্ছে করছে, পৃথিবীটা ভস্ম করে ফেলতে। রাগে-ক্ষোভে টনটন করছে কপালের রগ। রাগে তার দমবন্ধ হয়ে আসছে অথচ সে কিছুই করতে পারছে না!
সময় নিয়ে বসল দু-পায়ের তালুতে ভর দিয়ে। কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে দেখল রোযার চোখমুখ ঢেকে আছে চুলের আড়ালে। তাই হাতের পিস্তল দিয়েই আলগোছে চুলগুলো সরিয়ে দিলো। সম্ভবত দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ানোর বদভ্যাস আছে মেয়েটার। তাইতো, লিপস্টিক সরে গিয়ে দাঁত বসার ক্ষ ত হয়ে আছে গোলাপি ঠোঁট জোড়ায়। আদিলের হাতের পিস্তলের মাথাটা ক্রমশ নিচে নেমে এসেছে। ছুঁয়েছে রোযার ক্ষ’ত-বি’ক্ষত ঠোঁটজোড়া।
‘কটা বাজে?’
আদিলের আকস্মিক প্রশ্নে সামান্য ভড়কায় শান্ত। এলেন স্বাভাবিকভাবেই জবাবে বলে, ‘দুটো ত্রিশ, বস।’
আদিল দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সেকেন্ডের জন্য চোখ বুজল। এরপ দু-হাতে কোলে তুলে নিলো রোযাকে। এতো হালকা! ওজন কতো এই মেয়ের? ফিগার তো মনে হচ্ছে কাঠির মতো। আদিলের একটা পুরো হাতেরও প্রয়োজন হয় না কোমর পেঁচিয়ে ধরতে! মুখের দিকে আড়চোখে চেয়ে পুনরায় শুইয়ে দিলো সোফায়। ফ্লোর থেকে কোট তুলে গায়ে মেলে দিলো। এবারে আর সেখানে দাঁড়াল না। সিঁড়ি বেয়ে উঠতে নিয়ে আদেশ ছুঁড়ল –
‘মিসেস মরিয়মকে আসতে বল।’
কেনো আসতে বলবে, তা বোঝার মতো সামর্থ্য আছে বুদ্ধিমান চার বডিগার্ডের। শান্ত দ্রুতো বেরিয়ে গেলো দলবল নিয়ে। ওখানে দাঁড়ানোও ঝুঁকির। তাকানোর স্পর্ধা তো নেই-ই তাদের। আদিল মির্জাকে চ’ড় মেরেও যেই মেয়ে সহিসালামত শুয়ে থাকতে পারে, তাকে হেলাফেলা করার প্রশ্নই আসে না।
.
মরিয়ম বেগমকে আতঙ্কে দু কদম পিছিয়ে যেতে দেখে শান্তর টনক নড়ে। মনে পড়ে, মিস রোযার আপত্তিকর অবস্থা। মুহূর্তে মৃদু স্বরে কাশে। ভুলেও তাকায় না সোফার দিকে। অন্যদিকে চেয়েই বলে,
‘ডোন্ট ওয়ারি মিসেস মরিয়ম। শি’জ ফাইন। ওসব র ক্ত তার নিজের না।’
স্বস্তির শ্বাস ফেললেন ভদ্রমহিলা। চিন্তিত চোখ তুলে চেয়ে প্রশ্ন করেন, ‘তাহলে?’
শান্ত জবাব দিলো না। নীরবতাই যেন এক শক্তপোক্ত অদৃশ্য জবাব। ভদ্রমহিলা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। আর প্রশ্ন করলেন না। এগুলেন সোফার কাছে। ধরলেন রোযার গাল দুটো। ভীষণ মায়া লাগল। একটু হলেও আন্দাজ করতে পারছেন কিছু একটার। র ক্তের একটা গ ন্ধ নাকে লাগছে। বললেন –
‘আমিতো একা ওঠাতে পারব না। গেস্টরুমে নিতে হবে তো। আসুন, ধরুন আমার সাথে।’
কথাটুকু শেষ করে ব্যস্ত ভাবে রোযাকে তুলতে গিয়ে অনুভব করল একজনও এগিয়ে আসেনি। নড়ছেও না! মরিয়ম বেগম সন্দিহান চোখে তাকালেন। অবুঝ হয়ে বললেন –
‘কী হলো? এখানে তো কিছু করা সম্ভব না। গেস্ট রুমে নিতে হবে।’
শান্ত সহ এলেন আরও কয়েক কদম পিছিয়ে এলো। মিস রোযাকে ছোঁয়া? অসম্ভব! মরিয়ম বেগম কিছুক্ষণ চোখ পিটপিট করে হঠাৎ কেমন মিইয়ে গেলেন। তার সন্দেহ আরও পাকাপোক্ত হলো। দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। নিজেই দু-হাতে রোযাকে তুললেন। খুঁড়ে খুঁড়ে, থেমে থেমে ওকে নিয়ে পৌঁছালেন গেস্ট রুমে। এটায় কোনোরকমের সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। সুরক্ষিত! তাই এটাতেই আনা। যেহেতু পোশাক পরিবর্তন করবেন, শরীর মোছাবেন! কিন্তু পরাবেন কী? এই বাড়িতে মেয়েমানুষের কাপড়চোপড় তো নেই! আর র ক্তে মাখোমাখো শাড়ি ত পুনরায় পরানোও সম্ভব না!
ওসময় শান্ত ফের এলো। দরজায় টোকা মে রে ডাকল। প্রত্যুত্তরে দরজা হালকা মেলে ধরলেন মরিয়ম বেগম। কাপড়চোপড়ের আবদার করতে হলো না। কোনো কথা ব্যতীত সাদা প্যান্ট আর সাদা শার্ট ধরিয়ে দিয়ে গেলো শান্ত। মরিয়ম বেগম ভুল না হলে এসব আদিল মির্জার। দরজা লক করে কাজে লেগে পড়লেন। ভাবলেন, কী সুন্দর মেয়েমানুষ! আল্লাহর সৃষ্টি অতুলনীয় বটে।
চলবে ~~
® #নাবিলা_ইষ্ক।
Share On:
TAGS: আদিল মির্জাস বিলাভড, নাবিলা ইস্ক
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ১
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ২১
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ৭
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ৮
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ১৪
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ৪
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ১৩
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ১৮
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ১৯
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ১৫