‘আদিল মির্জা’স বিলাভড’
— ২৯
বডিগার্ড হাসান এসে দাঁড়িয়েছে রুমের সামনে। দরজাটা আধখোলা। অল্পখানি ভেতরটা দেখা যাচ্ছে। পুরোপুরি অন্ধকার ওপাশ। মনে হচ্ছে, রাতের মেঘাচ্ছন্ন কুচকুচে কালো আকাশটা রুমের ভেতর বাসা বেঁধেছে। হাসান নীরবে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। ওর পেছনের গার্ডগুলো ভয়ে তটস্থ হয়ে আছে। ওদের অভিব্যক্তি সর্বদা নির্বিকার থাকলেও, একমুহূর্তে ওই মুখগুলোতে ভয়ের ছাপ। হাসান একপলক ওদের দেখে হাত তুলে থামার ইশারা করল। কদম বাড়িয়ে ভেতরে ঢুকল একাই। মুহুর্তে পায়ের তলায় কিছুর বাঁধা পড়ে। কচমচ শব্দ হয়। শব্দে বোঝা গেলো ও টুকরো কাঁচের ওপর পা ফেলেছে। আরেক কদম বাড়াতে পুনরায় কিছু পায়ের তলায় পিষে যায়। হাসানের চোখজোড়া অন্ধকার সইতেই আবছায়া রুমের গোটা পরিস্থিতি দেখতে পেলো। মৃত্যপুরীতে রূপ নিয়েছে। সবকিছু ভেঙেচুরে গুড়িয়ে আছে। সেসবের মধ্যেই ক্লান্ত ভঙ্গিতে বসে থাকা শরীরটা্র পরনে ঊরু সমান ড্রেস। যা বসার জন্য আরও ওপরে উঠে এসেছে। ছোটো এলোমেলো চুলগুলোতে চোখমুখ ঢাকা। পাশের ম দের বোতলটা ভেঙে কয়েকটুকরো হয়ে আছে। তরল মদে ওখানটা ভিজে আছে। হালকা র ক্তের মিশেলে অদ্ভুত রঙে রূপ নিয়েছে। হাসানের চোখ গেলো বসের র ক্তাক্ত হাতে। দ্রুতো রুমের বাতি জ্বালাল। তাতেও হেলদোল হলো না মুখ নুইয়ে রাখা ঋণা সওদাগরের। হাসান ব্যস্ত গলায় সতর্ক ভঙ্গিতে ডাকল –
‘বস! বস! ডক্টর আদিত্যকে আসতে…’
ঋণা ওভাবে থেকেই কথার বাঁধ সেধে নিজের মতো প্রশ্ন করল একরকম নির্জীব কণ্ঠে –
‘খবর এনেছিস? ও কি সত্যিই বিয়ে করে নিয়েছে? কোথাও ভুল নেইতো? সবাইকে বোকা বানানোর জন্য এমন নিউজ ছড়িয়েছে নিশ্চয়ই?’
হাসান ঢোক গিলল। কাঁপল ওর চোখের পাপড়িগুলো। কণ্ঠ আঁটকে আসছে। নিজেকে স্বাভাবিক রাখতে চেয়ে সময় নিয়ে বলতে পারল –
‘বি-বিয়ে্টা বিয়েটা সত্যি করেছেন। ওই মেয়ে মির্জা বাড়িতেই থাকছে।’
থমথমে এক নীরবতা বয়ে গেলো। ওই নীরবতায় ভেতরে ভেতরে আরও ঘাবড়াল হাসান। ভয়ে শুকিয়ে এলো ওর গলা। তারপরও সাহস করে এগুলো কয়েক কদম। র ক্তাক্ত হাতটা ধরতে চাইল। পারল না! পরমুহূর্তেই নীরবতা ভাঙল ঋণার জখ মিত সিংহের মতো এক চিৎকারে। এলোপাতাড়ি ছুড়ে মার ল হাতের কাছে যা পেয়েছে। একপর্যায়ে ঠিক হাসানের সেদিনের জখমিত কপালেই ফের এসে লাগে ভাঙা ফুলদানি –
‘নো, নোওও! হি কান্ট ডু দিস টু মি! আদিল ইউ ক্যান নট ডু দিস টু মি!’
গলগল করে র ক্ত ঝরছে হাসানের কপাল থেকে। ব্যথায় নীল হয়ে যাচ্ছে মুখ। তবিও একটা টু-শব্দও করল না ছেলেটা। নিঃশব্দে প্যান্টের পকেট থেকে একটা রুমাল বের করে কপালে চেপে ধরল। ঋণা ভাঙচুর সেরে দিশেহারা অবস্থায় সমানে পায়চারি করছে। চোখমুখ ভিজে আছে চোখের জলে। এলোমেলো ভঙ্গিতে বিড়বিড় করে গেলো –
‘ও না বলতো, হি উইল নেভার গেট ম্যারিড? হি উইল নেভার ফল ইন লাভ? তাহলে এগুলো কী করছে? কী করছেএএএ?’
ঋণা দু-হাতে নিজের চুল খামচে ধরল। র ক্তিম চোখে তাকাল হাসানের দিকে। বিলাপ জুড়ল পাগলের মতো –
‘আমার মধ্যে কী কমতি ছিলো? কখনো ফিরেও দেখেনি। কখনো ভালোভাবে তাকানোর প্রয়োজনবোধ করেনি। একটু সময়ের জন্যও পাশাপাশি বসতে চায়নি। এগ্রিমেন্টের সময়তেও ভিন্ন ভিলাতে থেকেছিল এই বলে যে –ও কাউকে ট্রাস্ট করতে পারে না। কাউকে আশেপাশে সহ্য করতে পারে না। কাউকে কখনো নিজের জীবনে ঢুকতে দিতে পারবে না। তাহলে এখন? এখন কী করছে? ওই মেয়ে হলে আমি কেনো না? আমিতো ওর বাচ্চার মা। আমি!!’
অঝোরে কাঁদছে ঋণা। ওর দৃষ্টি ঝাপসা। শরীর টলছে বাজেভাবে। যেকোনো সময় পড়ে যেতে পারে। হাসান দ্রুতো গিয়ে ধরল একহাতে –
‘বস! বস, কাম ডাউন…প্লিজ। নিজের ক্ষ তি করছেন।’
জ্ঞান হারানোর পথে ঋণা। ও যেনো কিছুই শুনল না। আস্তে আস্তে ওর চোখদুটো বুজে গেলো। বন্ধ চোখের পাতায় ভাসল অনেক বছর আগের দৃশ্যগুলো। যা আজও কেমন জীবন্ত তবে হৃদয়বিদারক।
ওইদিনটায় ছিলো ঋণার জন্মদিন। আলমগীর সওদাগর বড়ো করে মেয়ের জন্মদিনের পার্টি রাখেন। উপস্থিত হয় দেশের সব উচ্চবর্গের লোকজন। আদিলও ওদিন তার হাজবেন্ড হিসেবে উপস্থিত হতে একরকম বাধ্য হয়। তবে আসে সবার শেষে। কোনোরকমের জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানায় না, কাছেও ভিড়ে না। সবার মধ্যে, সবার সাথে আলাপে ব্যস্ত রয়। যেন পুরোপুরি ব্যবসার খাতিরে তার আসা। ঋণা ওমন অগ্রাহ্য সইতে পারেনি। তার দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা একজনের সাথে মাখোমাখো সম্পর্ক করে ওখানেই। কাপল ডান্স করে। তাতেও কোনো আগ্রহ দেখায়নি আদিল। যেনো ঋণা এখুনি এই ছেলের সাথে কোনো হোটেলের বেডে গেলেও যায় আসে না তার। তাইতো! সবসময় এমনই বলে এসেছিলো প্রথম থেকে। ঋণাই স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। যেইসেই স্বপ্ন নয়। ভয়াবহ স্বপ্ন। কঠিন প্রেমে পড়েব্যে। নিজেকে পরিবর্তন হতে দেখতো নিয়মিত। যেই মেয়ে প্রতিদিন নাইট ক্লাবে রাত কাটাতো সে আর নাইট ক্লাবে যেতো না। নিজের সব রাতের সঙ্গীদের ভুলে গেলো কেমন! শুধু এক আদিল মির্জাকে নিজের করে পাওয়ার লোভে। তাকে পাওয়ার লোভে ঋণা সবরকম চেষ্টা চালিয়েছে। চেয়েছিল তার সংসার করতে। এ-সব ভুলতে। নতুন এক ঋণা হতে চেয়েছিল। কিন্তু… কিন্তু আদিল যে তার কোনো রূপেই মুগ্ধ হতো না। তার কোনো পরিবর্তনই যে দৃষ্টিতে নিতো না। ফিরে তাকাতো না, কল রিসিভ করতো না। তারপর তারপর…ঋণা ডেসপারেট হয়। ভীষণ বাজেভাবে। এতোটাই যে জীবনের সবচেয়ে নিকৃষ্ট কাজে নামে সে। ব্যবহার করে ড্রাগ! সিডাকটিভ ড্রাগ….
জ্ঞান হারানোর আগে শুধু বিড়বিড় করে ঋণা,
‘আমার পেটের বাচ্চাকে এতো ভালোবাসতে পারলে, আমাকে কেনো একটু ভালোবাসতে পারলে না?’
হাসান অসহায় হয়। চোখ বুজে শ্বাস ফেলে, দীর্ঘশ্বাস। পকেটে ফোন বেজে চলেছে। ঋণার বাবা, আলমগীর সওদাগরের পার্সোনাল বডিগার্ড কল করে যাচ্ছে। আজ তাদের ফ্যামিলি ডিনার ছিলো। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলাপ হওয়ার কথা। এমতাবস্থায় যে ওসব সম্ভব না। হাসান ভুল না হলে, ব্যবসায়ীক আলাপটা সম্ভবত মৃ ত আব্দুস সোবহান চৌধুরীর সম্পত্তি নিয়ে। যা এখনো কোনোভাবেই ঋণার নামে করানো সম্ভব হচ্ছে না। সোবহান চৌধুরীর বড়ো ছেলে কেইস লড়ছে রীতিমতো। সম্পত্তির একভাগও ছাড়তে নারাজ…
—
এইসময়ে, রাতের বেলায় গ্রাউন্ডফ্লোরের লিভিংরুমের বিশাল এই ঝাড়বাতিটার রং বদলায়। সাদা আলো থেকে একরকম নিভুনিভু হলদে আলোয় জ্বলছে। এই নিভু আলোতে দু-হাঁটু ভেঙে বসা আদিলের চোখমুখ দেখাল নিষ্পাপ। জগতের সব খারাপ কাজের সাথে যেনো তার কোনো সম্পর্ক নেই। নেই দৈনন্দিনের ওমন গোমড়া, গম্ভীরমুখের লেবাস। কী নরম, অচেনা, অসহায় লাগছে! রোযা কোনোভাবেই এই লোকের সাথে ওর পরিচিত আদিল মির্জার সাথে মেলাতে পারে না। পারে না কল্পনা করতে এমন নিরীহ পুরুষটি সেই– যে কথায় কথায় পি স্তল তাঁক করে ধরে ওর ওপর। যে কথায় কথায় ধমকে ওঠে, আদেশ ছোড়ে, জোর দেখায়। রোযার চোখে ভাসল হৃদির মুখ। কী অবিকল লাগছে এখন! অজানা, অপ্রয়োজনীয় অনুভূতি গাঢ় হয়ে বসতে চাইল রোযার হৃদয়ের এককোণে। তা উপলব্ধি করে ওর দৃষ্টি এলোমেলো হয়। ব্যস্ত হাতটা থেমে যায় আচমকা। অবিশ্বাস নিয়ে তাকায় নিজের হাতেরই দিকে। যা এতক্ষণ বড়ো বাধ্য ভাবে বুলিয়ে চলেছিল তার কোলে বড়ো আরামের সাথে ডুবে থাকা এলোমেলো চুলের মাথাটা। এতক্ষণে ভীষণ স্বস্তিতে প্রাণভরে নিশ্বাস ফেলা আদিলও নড়েচড়ে ওঠে চুলের গভীরে থাকা আঙুলগুলো সরে যাওয়াতে। নেশাগ্রস্তের প্রভাবে এলোমেলো দৃষ্টি তুলে যখন তাকাল, রোযার বুক ধক করে উঠল। ধূসর চোখ দুটোর দৃষ্টি আজ ভাসা ভাসা। ওখানে আকাশের তারারা ভাসছে মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে ওই মণি জোড়ায় ভাসা রোযার মুখ তারাদের মধ্যে রাজ করা এক চাঁদ। রোযার ঠোঁট কাঁপে। ও কিছুক্ষণ বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে মুখের সামনে থাকা আদিলের এমন অসহায় চোখমুখ দেখে। ও তখুনি দৃষ্টি সরাতে পারে না। পারে দু-হাতে ঠেলে সরিয়ে দিতে। ওর গায়ের ওপরে একরকম ঝুঁকে থাকা ওমন পুরুষালি উপস্থিতি মেনে নেয় অনেকটা সময়ের জন্য। আদিলের ভাসা চোখজোড়া তখনো নিখুঁতভাবে দেখছে রোযার মুখের একেকটি অঙ্গ। পুরো মুখ ঘুরে এসে দৃষ্টি থামল রোযার ঠোঁটে, এরপর চোখে। হাত বাড়িয়ে ওভাবেই খপ করে ধরল রোযার নরম হাতটা। পুনরায় রাখল নিজের মাথায়, সিল্কি চুলের গভীরে। বাতাসের মতো ফিসফিস করে আওড়াল –
‘উহুঁম, থেমো না।’
রোযা অন্ধকারে আছে বোধহয়। এই সময়টা কেমন কাল্পনিক লাগছে। কল্পনা মনে হচ্ছে তার কোলে থাকা এই আদিল মির্জাকে। সম্মোহিত নিজেকে প্রশ্ন করতে শুনল ও –
‘নেশা করেছেন?’
আদিলের চোখমুখে কিঞ্চিত অপ্রস্তুত, অসহায়ত্বের অভিব্যক্তি ভাসল। একদৃষ্টিতে চেয়ে আস্তে করে বাচ্চাদের মতো আওড়ে গেলো –
‘মাথা বুলিয়ে দাও।’
রোযার আঙুল নড়ে। অসহায় দৃষ্টি হঠাৎ গিয়ে পড়ল আদিলের হাতের ওপর। হাতের তালু কে টে, র ক্ত শুকিয়ে আছে। কী ভয়াবহ দেখাল! ছোটো গর্তটা গভীর বোধহয়। ভেতরে সম্ভবত কাঁচও আছে একটুকরো। কেমন আধো আঁধারে চিকচিক করছে। আঁতকে উঠে রোযা তাকাল ফের আদিলের চোখমুখের দিকে। অবিশ্বাস্য গলায় বলে –
‘আপনি কী মানুষ? ব্যথা পাচ্ছেন না? কে টেছে তো।’
আদিল টু-শব্দও করে না। দৃষ্টি সরিয়ে তাকায় না নিজের ক্ষ ত বিক্ষ ত হাতের দিকে। র ক্ত লাল হয়ে আসা একদৃষ্টিতে চেয়ে থাকে ফটরফটর করে কথা বলা র ক্তজবার মতো ঠোঁটের দিকে। ঢোক গিলে, লাগাতার ওঠানামা করে স্পষ্ট দৃশ্যমান অ্যাডামস অ্যাপল। রোযা তখন ব্যস্তভাবে মাথা ঘুরিয়ে তাকিয়েছে। শান্ত, এলেনের পিঠ দেখা যাচ্ছে। এখনো দরজার কাছে বটগাছের মতো সোজা দাঁড়িয়ে আছে। মাথাটা সোজা, এদিক-ওদিক কোথাও তাকাচ্ছে না। সম্ভবত দৃষ্টি সামনে। ও কি ডাকবে ওদের? তখুনি রোযা ঘাড়ে গরম নিশ্বাস টের পেয়ে চমকে ওঠে। অস্পষ্ট শুনতে পায় গভীর স্বরের এলোমেলো, থেমে-থেমে বলা মাথামুণ্ডু বিহীন কথাগুলো –
‘ন-নট নাউ। ক ন্ট্রোল। ক ন ট্র ল। এক্ টু পর।’
রোযা ঘাড় ফেরাতেও ভয় পায়। ওভাবেই সমানেনিজের মাথাটা পিছিয়ে নিয়ে দু-হাতে ঠেলতে চাইল আদিলের শক্তপোক্ত বুক –
‘সরুন। আপনার লোকদের বলুন আপনাকে নিয়ে যেতে ওপরে। হাতের চিকিৎসা প্রয়োজন।’
হিমালয়ের মতন অটল আদিল আজ একবারের ধাক্কাতেই টলল। শুধু টলল না, রীতিমতো রোযার ওমন হাওয়ার মতো এক স্পর্শে শব্দ করে পড়ে গেলো। ফ্লোরে মিশে আর নড়ল না। চোখ দুটো বন্ধ হয়ে আছে। রোযা হতবাক! যাকে ওর সর্বোচ্চ শক্তি দিয়েও একবিন্দু টলানো সম্ভব হয়না, সে যে ওমন এক দুর্ব ল ধাক্কায় সোজা ফ্লোরে গিয়ে পড়বে তা কীভাবে বুঝবে? পরমুহূর্তেই খেয়াল আসে লোকটা নেশায় বুদ হয়ে আছে। নিজের মধ্যে নেই। মুহুর্তে চিন্তিত হয়ে ও এলোমেলো ভাবে চাদর জড়িয়ে ডাকে –
‘এই! এদিকে আসো।’
শান্ত শব্দ শুনেই ঘুরে তাকিয়েছে। ডাকে দ্রুতো ঢোকে ভেতরে। এলেন, ক্লান্তও আসে ভেতরে। রোযা তখনো ভীষণ অসন্তুষ্ট হয়ে চেয়ে আছে –
‘উনাকে নিয়ে যাও রুমে। কেমন বডিগার্ড তোমরা? হাত কে টে আছে ট্রিটমেন্ট করাওনি এখনো!’
শান্ত তাকাল না। বিনয়ের সাথে বলল, ‘ম্যাডাম, বস আমাদের কথা শোনে না। আপনি বলে দেখুন, নিশ্চয়ই শুনবে।’
রোযা মুহূর্তে ধমকালো, ‘আমার শুনবে মানে? আমি কে বলার?’
এলেন আরও বিনয়ের সাথে জানাল, ‘আমাদের ম্যাডাম। বসের ওয়াইফ।’
রোযা চোখ বড়ো বড়ো করে তাকাল। কী অসভ্য, ধুরন্ধর! দেখেনি ওদের বস কীভাবে বিয়ে করেছে ওকে? নিজেরাইতো পি স্তল ধরে ছিলো ওর পরিবারের ওপর। ওই মুখে এই কথা বলার জন্য চামড়া কতটা পাতলা হয়ে আছে কে জানে! আড়চোখে তাকাল অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকা শরীরটার দিকে। ফ্লোর ঠান্ডা। লোকটার হাত কা টা। কী গভীর ক্ষ ত! ও দৃশ্যে রোযা আরও অসন্তুষ্ট হয়। ফিরে তাকিয়ে রুক্ষ কণ্ঠে ধমকে ওঠে –
‘কী আশ্চর্য! তোমাদের বস অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে ফ্লোরে আর তোমাদের কোনো তাড়া নেই তাকে রুমে নেবার, ট্রিটমেন্ট দেবার! ফাজলামো হচ্ছে?’
শান্ত তখনো সাবলীলভাবে দাঁড়িয়ে আছে অজ্ঞান হওয়া বসের সামনে। পলকও পড়ে না বলার সময় –
‘আমরা তাকে ধরি তা বস পছন্দ করেন না।’
এলেনের পাপড়িগুলো সমানে কাঁপল। ক্লান্ত ঠোঁটে আলগোছে ঠোঁট টিপে রাখে। মাথাটা নোয়ানো। রোযা আশ্চর্য, হতবাক –
‘আর ইউ গাইস ইনসেইন? উনি অজ্ঞান! এসময়ে তার কী অপছন্দ তা ভাবা হচ্ছে? দ্রুতো ধরে তাকে নিয়ে যাও রুমে।’
এলেন মাথা নোয়ানো অবস্থাতেই বলল এবারে, ‘আমাদের স্পর্শ অপছন্দ করেন। আপনার তো না। ম্যাডাম আপনি যদি কাইন্ডলি বসকে ধরে ওঠান….’
রোযা হঠাৎ নড়েচড়ে ওঠে। কেমন সতর্ক চোখে তিন বডিগার্ডের মুখ দেখে শেষমেষ আদিলের মুখের দিকে তাকাল। সন্দেহ বাঁধল। যা গাঢ় হলো ক্রমশ। কোনোকিছু না ভেবে দ্রুতো দু-কদম সরে এলো পেছনে। শান্ত, এলেন ওদের কিংকর্তব্যবিমুঢ় করে রোযা দ্রুতো কদম বাড়াল সিঁড়ির দিকে। ও পারলে দৌড়াতো। দৌড়ানোটা খারাপ দেখাবে বলে ভদ্রভাবে কেবলই দ্রুতো হেঁটে সিঁড়ি বাইছে।
অন্যদিকে শান্ত অবাক না হয়ে পারল না। তাদের ম্যাডাম বেশ বুদ্ধিমতী। দীর্ঘশ্বাস আটকে দৃষ্টি ফেলল নিচে। আদিল ঢুলুঢুলু ভঙ্গিতে উঠে বসেছে তখুনি। উঠতে গিয়ে তার মাথাটা ঘোরাচ্ছে। ভাসা চোখে দেখা যাচ্ছে দুটো রোযা ছুটে পালাচ্ছে।
‘রান রান রান…আই লাভ টু চেইস ইউ।’
.
রোযা স্পষ্ট শুনতে পেলো ভারি পায়ের ধ্বনি। মুহূর্তে ও সচেতন হয়। আঁতকে ওঠে। আর পেছনে ফিরে তাকানোর সাহস করে না। সিঁড়িগুলো শেষ করে করিডোরে পা রাখতেই দেখতে পায় মরিয়ম বেগমকে। ভদ্রমহিলা হৃদির রুমের দরজার সামনে ছিলো। হঠাৎ চোখের পলকে দরজা লাগিয়ে ভেতরে চলে গেলো। রোযা হতবিহ্বল হতে পারল না। একদমকা হাওয়া এসে ওকে তুলে নেয় শূন্যে। ওকে কোলে তুলে আদিল সামান্য টলছে। টললেও কদম স্থির, দৃঢ়। দ্রুতো কদমে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে চাচ্ছে তিনতলার দিকে। রোযার গলা শুকিয়ে গেছে। ও অসহায় চোখে একবার দেখল ওর গায়ের চাদরটা যা পড়েছে ফ্লোরে। জোড়ালো ভাবে নামার চেষ্টা করতেও দ্বিধা হচ্ছে। আদিল দুলছে! যদি ওকে নিয়ে পড়ে? কী হবে তখন! কোনোরকমে বলে –
‘নামান, নামান আমাকে।’
আদিল শুনল না। খুব মনোযোগের সাথে বেয়ে সোজা এলো তিনতলায়। করিডোর ধরে রুমে প্রবেশ করতেই রোযা হড়বড়িয়ে এলোপাথাড়ি নড়েচড়ে নামল। দু-কদম পেছাল সতর্ক চোখে চেয়ে। আদিল খোলা দরজার সামনে তখনো ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে। নেশাগ্রস্ত, র ক্ত লাল একদৃষ্টিতে দেখছে আপদমস্তক পুরো রোযাকেই। ওই দৃষ্টিতে দৃষ্টি রাখতেই রোযার আত্মা কাঁপে। হাঁটু ভেঙে আসতে চায়। অনুশোচনা হয় ভীষণ! হৃদির আবদারে ম্যাচিং নাইট ড্রেসটা পরাই উচিত হয়নি। ও স্বাভাবিক থাকতে চেয়ে আওড়ায় –
‘সরে দাঁড়ান, হৃদি কাঁদছে আমার যে…’
আদিল একমুহূর্ত স্থির থেকে পরমুহূর্তে দ্রুতো প্রবেশ করে। দরজাটা শব্দ করে লক করতেই লাফিয়ে ওঠে রোযা। আতঙ্কে ও আরও পেছনে চলে যায়। আদিল অধৈর্য্য ভঙ্গিতে এগুতে এগুতে খুলল গলার টাই, কোট। ফেলল ফ্লোরেই। শার্টের বোতাম খুলতে নিলেই রোযা ঘাবড়ে একাকার হয়। দৃষ্টি পড়ে আদিলের র ক্তাক্ত, গভীর ক্ষতর হাতে। কতো বড়ো পিশাচ! হাতের ওমন অবস্থা নিয়ে কোনো মাথা ব্যথা নেই। ব্যথা অনুভব হয় না নাকি? গন্ডারের চামড়া গায়ে? আদিল শার্ট খুলে ফেলেছে ফ্লোরে। প্যান্টে হাত দিতেই রোযা পাশ কাটাতে চেয়ে প্রায় চিৎকার করে ওঠে –
‘কী করছেন?’
‘গল্প।’
মুহূর্তে সতর্ক হলো রোযা। উত্তরটা ওর বড়ো চেনা লাগলেও মাথা ঘামানোর সময় পেলো না। বাম পাশ দিয়ে সাবধানী ভঙ্গিতে যেতে যেতে বলে –
‘একা একা করুন।’
আদিলের ভাসা ভাসা দৃষ্টি পালাতে চাওয়া রোযাতেই আবদ্ধ, ‘এই গল্পের জন্য দুজন লাগে রোজ-আ।’
না এই মাতালের সাথে কথা বাড়ানো যাবে না। রোযা সুযোগে ঘুরেই দৌড়াল দরজার দিকে। এসে দরজায় হাত ছোঁয়াল। কম্পিত হাতে লক খুলতে চাইল তবে শেষমেষ পারল না। পেছন দিয়ে এসে আদিল থাবা দিয়ে ধরল ওর ফিনফিনে পাতলা নাইটি দ্বারা আবদ্ধ কোমর। এক হাতে কোমরে পেঁচিয়ে ঘুরিয়েই চেপে ধরল নিজের সুঠাম, নগ্ন দেহের সাথে। অনুভব করল পাতলা শরীরে থরথরে কাঁপুনি। রুমের ধিমি আলোয় রোযাকে ভয়ার্ত বিড়ালের মতো লাগল। বড়ো বড়ো চোখ দুটো কেমন রাঙিয়ে চেয়ে আছে। চোখের কোণ চিকচিক করছে জলে। ঠকঠক করে কেঁপে চলেছে লোভনীয় ঠোঁটজোড়া। আদিল দ্রুতো বেগে মাথা নুইয়ে তেড়ে যেতেই রোযা ধড়ফড়িয়ে হাত বাড়াল। চেপে ধরল তার মুখের কাছে আসা মুখ। দাঁড়ির খোঁচা লাগল ওর নরম তালুতে। শক খেলো যেমন, কাঁপল হাতটা। দ্রুতো হাত সরিয়ে আনতে চাইলে আদিল ধরে আরও নিজের ঠোঁটের সাথে মিশিয়ে নিলো। সমানে ভেজা চুমু খেলো রোযার হাতের তালুতে। রোযা শক্ত করে একমুহূর্তের জন্য চোখ বুজতেই এক পাগলা ঝড় সুযোগ বুঝে ওর অস্তিত্বের ওপর থাবা বসিয়ে দিলো। উড়িয়ে নিয়ে গেলো যেমন। নিজেকে চোখের পলকে আবিষ্কার করল বিছানায়। আদিলের ওমন ভারি শরীরের সমস্ত ওজন ওর ওপরে। রোযার প্রায় দমবন্ধ হয়ে এলো। একটা শরীরে এতো ওজন কীভাবে হয়, মাবুদ! ও দুর্বল হাত দুটো দিয়ে ঠেলে দিতে দিতে হাঁসফাঁস করে বলল –
‘আপনি কি আমাকে মে রে ফেলতে চাচ্ছেন? সরুন, উঠুন।’
আদিল নড়ল না। আরও গাঢ়ভাবে শরীরটা ছেড়ে দিলো শীর্ণ, নরমসরম দেহের ওপর। মাথাটা ঘাড়ে গুঁজতে চাইলে রোযা ফের কঠিন আপত্তি জানাল। আপত্তির ধার এবারে ধারল না আদিল। ফর্সা, মসৃন ঘাড়ে দ্রুতো মুখ ডোবাল। স্বস্তিতে শ্বাস টেনে নিলো অনেক। রোযা পানিতে ডুবে যাওয়া অসহায় নাবিকের মতো হাঁসফাঁস করে উঠল। কাঁপল থরথর করে। আদিল ঘাড়ে নাক-ঠোঁট গুঁজে, খোঁচা দাঁড়ি দিয়ে ঘষে আওড়াল –
‘ম র বেন না। উর্ধ্বে গেলে শ্বাস বন্ধ হতে পারে। তখন না-হয় আপনার হাজবেন্ড সিপিআর দিয়ে দেবে।’
কথাটুকু শেষ করে আদিল মাথা তুলল। রোযার চোখে চেয়ে ঠোঁট ফাঁক করে ইশারা করল, কীভাবে সিপিআর দেবে! রোযা মাথাটা ঘোরাল। দু-হাতে ঠেলতে ঠেলতে রাগিত কণ্ঠে বলল,
‘নিজেকেই দেন ওসব।’
‘একটু ডেমো দেখান। নিজেকে নিজে কীভাবে সিপিআর দেয়? দেখি! আম আ কুইক লার্নার, আ গুড স্টুডেন্ট মিসেস আদিল। শিখে নেব। আপনি শিখিয়েই দেখেন না একবার।’
রোযা ঘনঘন শ্বাস ফেলছে। দাঁত কিড়মিড় করে বলে, ‘জোরজবরদস্তি করছেন!’
আদিল মুখ চলে গেলো রোযার কানের কাছটায়। ওখানে এলোপাথাড়ি কিছু উষ্ণ চুমুর ঝড় তুলে বলে –
‘করছি।’
‘অসভ্য… অমান…’
রোযা এই ভারী শরীরের নিচ থেকে সরতে একটু মুষড়ে উঠল। আদিল নেশাগ্রস্ত ভঙ্গিতে হাসে মিহি স্বরে। কাঁপে বুক। স্পষ্ট অনুভব করে রোযা। শিউরে ওঠে। পরমুহূর্তেই তার চোয়ালটা ধরল আদিল। দৃষ্টিতে নিজের মোহাচ্ছন্ন দৃষ্টি মিলিয়ে, মুখ ছুঁইছুঁই করে ভাসা গলায় বলে,
‘অসভ্য আমাকে ভালো লাগছে না যেহেতু সভ্য করুন। আমি হতে রাজি।’
রোযা চোখ রাঙাল। দেখল আদিলের অচেতন হাবভাব। নেশায় বুদ হওয়া চোখমুখে চেয়ে দাঁতে দাঁত পিষে নির্বিকার মুখে বলল –
‘আচ্ছা। উঠে বসেন তবে। শুনুন আমার কথা।’
আদিল অস্পষ্ট চোখে কিছুক্ষণ চেয়ে থাকল। রোযাকে হতবিহ্বল করে ধীরে ধীরে সরে এলো ওর শরীরের ওপর থেকে। বসল পাশেই। বড়ো বাধ্য! রোযা হতবাক, ঢোক গিলল। পরনের এলোমেলো নাইটি-টা গায়ে ভালোভাবে জড়াতে জড়াতে সতর্ক চোখে চেয়ে বলে,
‘গু..গুড। আরেকটু সরে বসুন।’
আদিল অসন্তুষ্ট ভঙ্গিতে ডান ভ্রু তুলল। তবে কথা শুনল। আরেকটু সরে বসল। রোযা তৎক্ষণাৎ বিছানা থেকে লাফিয়ে নামল। জুতোয় পা-জোড়া গলিয়ে আদিলের দিকে সতর্ক ভঙ্গিতে চেয়ে থেকে কয়েক কদম পেছালো। দ্রুতো ঘুরে ছুটল দরজার দিকে। নব-এ হাত রেখেছে সে। মুষড়ে দরজাটা খুলে বেরুবে এমন সময় মনে হলো ঝড় বয়ে গেলো সেকেন্ডের জন্য। আদিল হাওয়ার বেগে এসে কোলে তুলে নিয়েছে। মৃদু শব্দ করে হাসতে হাসতে নরম বিছানায় ছুড়ল ওর শরীরটা। গায়ের ওপর ঝাপিয়ে পড়ল আবারও। আওড়াল মুগ্ধ গলায়,
‘আপনার জন্য এমন অসভ্য আদিলই পারফেক্ট, মিসেস মির্জা।’
রোযা তটস্থ, ভীতসন্ত্রস্ত। জান চলে যাবে এমন ভঙ্গিতে যখন চোখমুখ শক্ত করে বুজে রাখল বুঝল ওর ওপরে থাকা শরীরটা আর নড়ছে না। রোযা চোখ মেলে তাকাল। মাথাটা ঘুরিয়ে তাকাতেই দেখল আদিলের চোখ বোজা। সম্ভবত জ্ঞান নেই। রোযা স্বস্তির শ্বাস ফেলল। ধীরে ঠেলে তার ওপর থেকে সরাল। জ খমিত হাতটা রোযার চোখের সামনে। কাঁচটা আর নেই ক্ষ তর মধ্যে। বেরিয়ে এসেছে। তাজা র ক্ত বেরিয়েছে সামান্য। ও বিছানা থেকে নেমে সোজা চলে যেতে চাইল। কিন্তু কেনো যেন পারল না। দরজার কাছে এসে পুনরায় ফিরে তাকাল। র ক্তাক্ত হাতটা ওর চোখে লাগছে। দাঁতে দাঁত পিষে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে অবশেষে পুনরায় ফিরে এলো। রুমের চতুর্দিকে তাকাল। টি-টেবিলের ওপরে মেডিক্যাল বক্স পড়ে আছে। রোযা ওটা নিলো হাতে। এসে বসল বিছানায়। অসন্তুষ্ট চোখে তাকাল অজ্ঞান হওয়া আদিলের মুখের দিকে। অনিচ্ছুক ভঙ্গিতেই ঘা পরিষ্কার করল অ্যান্টিসেপ্টিক দিয়ে। ক্ষতের ওপর গজ প্যাড দিয়ে ব্যান্ডেজ করে হাঁফ ছাড়ল যেন। মেডিক্যাল বক্স ওভাবে এলোমেলো ভঙ্গিতে রেখেই পালাল। ওখানে আর এক সেকেন্ড থাকার সাহস সঞ্চয় করতে পারল না।
.
গা ছমছমে নীরবতা বয়ে যাচ্ছে। শান্ত, এলেন, স্বপন দাঁড়িয়ে আছে সোফার সামনে। আড়চোখে দেখছে বসের স্বাভাবিক চোখমুখ। তাদের বস অনেকক্ষণ যাবত এক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে নিজের ব্যান্ডেজ করা হাতের দিকে। অন্যহাতে ভীষণ অবহেলার সাথে জ্বলন্ত সিগারেট ধরে রেখেছে। এযাত্রায় সিগারেট ঠোঁটে পিষে বলল গম্ভীর কণ্ঠে –
‘খোঁজ লাগা, লোক লাগা। একটা টাচও যেন না লাগে তালুকদার বাড়ির কারও ওপর।’
ওরা দ্রুতো বলে, ‘ইয়েস বস।’
ইশারায় ওরা সব বেরিয়ে গেলো। গুমোট, বদ্ধ এই ঘরে শুধুই এলোমেলো ঘনঘন শ্বাসপ্রশ্বাসের শব্দ ভাসল। একজোড়া গাঢ় চোখের দৃষ্টি পড়ে রইল নিজের ব্যান্ডেজ করা হাতটিতেই। অনেকটা সময় পেরুলো। ভাসল ফিসফিস করে বলা কথাগুলো –
‘তুমি যেদিন থেকে আমায় ভালোবাসবে, ওদিন থেকে এই পৃথিবীতে শ্বাস নেয়া সবচেয়ে সুখী মানুষ হবে, এই আদিল মির্জা।’
চলবে ~~
® নাবিলা ইষ্ক।
Share On:
TAGS: আদিল মির্জাস বিলাভড, নাবিলা ইস্ক
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ৫
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ১৫
-
আদিল মির্জ’স বিলাভড পর্ব ২৮
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ২১
-
আদিল মির্জা’স বিলাভড পর্ব ২৫
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ১১
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ১৬
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ১
-
আদিল মির্জা’স বিলাভড পর্ব ২৪
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ৪