অ্যারেঞ্জম্যারেজ২ — ৯ পর্ব
অবন্তিকা_তৃপ্তি
(রোমান্টিক)
তিতলি বাথরুমে ঢুকেছে শাড়ি নিয়ে। শোয়েব ও যেতেই হা করে একটা লম্বা শ্বাস ফেলে বিছানায় গা এলিয়ে দিল। হঠাৎ বালিশে মাথা রাখতেই আবার উঠে বসে গেল। কোথাও থেকে খুব সুন্দর একটা সুঘ্রাণ আসছে। শোয়েব ভ্রু কুঁচকে তিতলির জন্য রাখা বালিশটা টেনে এনে নাকে চাপে। লম্বা করে শ্বাস টেনে ঘ্রাণ নিতেই শোয়েবের কেমন যেন শিরশির করে উঠে পুরোটা শরীর। শোয়েব লম্বা একটা শ্বাস ফেলে বালিশটা রেখে দিল আলগোছে। তিতলির গায়ের একটা সুন্দর পারফিউমের স্মেল পাচ্ছে ও বালিশেও। শোয়েব হেসে আবার বালিশে মাথা রাখল।
তিতলি শাড়িটা পরে বের হয়েছে; দরজাটা খুললো মাত্রই। শোয়েব ওকে বেরুতে দেখে উঠে বসলো। তিতলির মুখে কোনো সাজ নেই, স্নিগ্ধ পানিতে ভেজা একখান পানপাতার মতো মুখ। শরীরে জড়িয়ে আছে লাল-সাদা বেনারসি। শোয়েবের সামনে মাথাটা নিচু করে দাড়িয়ে আছে, এক পা দিয়ে আরেক পায়ের নখ খুটছে অনবরত।
শোয়েব হাসে সেটা দেখে। হাত দিয়ে ওর পাশে বসতে ইশারা করে বলল———-‘আসো, আমার পাশে বসো। ঘামছ কেন এত?’
তিতলি অস্ফুটে বলে—-‘ঘাম. .ঘামছি না তো।’
‘আচ্ছা, এসো।’
শোয়েবের পাশে বসার জন্যে তিতলি এগুতেই হঠাৎ পায়ের সাথে পা বেজে গেল। ব্যাস; তিতলি এলোমেলোভাবে মুখ থুবরে শোয়েবের উপর পরে গেল।
আচমকা তিতলি এভাবে পড়াতে শোয়েবও দিক পেল না। সাথেসাথেই তিতলির কোমর চেপে নিজেও ধপাস করে বিছানার উপর পরে গেল। শোয়েব ব্যথাতে মুখ কুচকে ফেলেকবে, তবুও তিতলিকে শক্ত করে ধরে রাখে। তিতলি
ওদিকে দাতো খিছে, চোখ খোছে শোয়েবের পাঞ্জাবির কাঁধের অংশটা খামচে ধরেছে।
শোয়েব অস্ফুটে ব্যথা নিয়ে বলল———‘তিতলি; আমার হাড্ডিটা . .’
তিতলিও নিজেকে সামলে নিয়ে উঠতে গেলেই, শোয়েব সাথেসাথে ওকে আটকে ফেলে দিল। তিতলি অবাক, শোয়েবের চোখের দিকে তাকাল——-‘উঠতে দিন; ব্যথা পাচ্ছেন তো।’
শোয়েব লম্বা শ্বাস ফেলে নিজেকে সামলে নিলো। পরপর তিতলির দিলে তাকিয়ে কোমরের দুপাশে শক্ত করে চেপে আচমকা ওকে ফেলে দিল বিছানায়। নিজে উঠে শুলো তিতলির উপর। তিতলি ওদিকে হা পুরো। শোয়েবের কাঁধের পাঞ্জাবি খাঁচে ধরে ফ্যালফ্যাল চোখে শোয়েবের চোখের দিকে তাকায়।
শোয়েব তিতলির ওই অবাক হয়ে চেয়ে থাকা চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে।তিতলিও একইভাবে তাকিয়ে থাকে।
শোয়েবের চোখ-দুটো একসময় নরম হয়ে আসে। ও আলগোছে তিতলির চুল কপালের উপর থেকে সরিয়ে পুনরায় ওর চোখে চোখ রাখে। তিতলি শোয়েবের চোখ থেকে একসময় চোখ নামিয়ে নিলো। ওর হৃদয় ধুকপুক করে কাঁপছে, সম্ভবত শোয়েবও শুনতে পাচ্ছে। তিতলি মিনমিন করে চোখ লুকিয়ে বলে————-‘উ. .উঠতে দিন।’
শোয়েবের কণ্ঠ অন্যরকম——-‘আমাকে নাম ধরে ডাকো আগে।’
তিতলি অবাক হয়ে শোয়েবের দিকে তাকাল, সাথেসাথে উত্তর ——-‘না।’
শোয়েব তিতলির কানের পাশটায় হাত রাখল——-‘কেন না? না কেন?’
তিতলি শোয়েবের ওই দৃষ্টি চেনেনা। ও লজ্জা বা ভয়েই হোক চোখ সরিয়ে নিলো। অন্যপাশে চেয়ে বলল———‘আম্মু মানা করেছে। আপনি বড় আমার। সম্মান দিতে বলেছে আপনাকে।’
শোয়েব ভ্রু কুচকায়———-‘যেভাবে বড় বড় বলে যাচ্ছ, নিজেকে সত্যি সত্যি বুড়ো লাগছে।’
তিতলি হেসে ফেলে। মিনমিন করে চোখ নামিয়ে বলল——-‘আপনি বুড়ো নন।’
শোয়েব সাথেসাথেই ভ্রু বাকালো——‘নই?’
তিতলি বলে——-‘উহু।’
শোয়েবের ঠোঁট হাসে হালকা। তিতলির চুল গুছিয়ে দিতে দিতে বলল———-‘তোমার চোখে যখন বুড়ো নই, তাহলে নাম ধরে ডাকো। বলো, এই শোয়েব। বলো।’
তিতলি শোয়েবের দিকে তাকাল একবার; পরপর শোয়েবের চোখের দৃষ্টি দেখে চোখ সরিয়ে নিল———-‘বলবো না। টাইম লাগবে নাম ধরে ডাকতে।’
শোয়েবও জবাব দিল——-‘ওকে টাইম দিলাম। পুরো দু সেকেন্ড।ইজ ইট এনাফ ওর আমি আরো রিডিউস করবো টাইম?’
তিতলি শোয়েবের এমন অদ্ভুত কাণ্ডে হা হয়ে গেল, শোয়েবের দিকে তাকাল ——-‘দু সেকেন্ড এনাফ? অন্তত কতগুলো মাস লাগবে আমার।’
শোয়েবও জবাব দিল——-‘মাস তো দেওয়া যাবে না। আচ্ছা আরো বাড়াই টাইম। পাঁচ সেকেন্ড, ওকে? এর বেশি বাড়ানো যাবে না, তিতলি।’
তিতলি এতক্ষণে বুঝতে পারে শোয়েব মজা করছে। ও হেসে ফেলে————‘শুধু মস্করা? উঠুন আমার উপর থেকে।’
‘আম সিরিয়াস তিতলি।’ —-শোয়েব শান্ত কণ্ঠে বলল এবার।
তিতলি হাসে, বলল———-‘হু, বুঝেছি কেমন সিরিয়াস। উঠুন তো আগে। ভর্তা হয়ে যাচ্ছি আমি।’
শোয়েব ভ্রু কুচকায়। তিতলির হাসিহাসি মুখ দেখে দীর্ঘসাস ফেলে বলল———-‘যা করার আমি করতে চাইনি। তুমিই ফোর্স করছো।’
বলে তিতলি কিছু বুঝে উঠার আগে শোয়েব ওর গলায় মুখ ডুবিয়ে দিল। তিতলি শিউরে উঠে আচমকা। শোয়েবের পাঞ্জাবির পিঠের দিক খামচে ধরে শ্বাস আটকে ফেলে। শোয়েব ধীরে ধীরে চুমু খেলো তিতলির গলায় কয়েকটা। তিতলির কেন যেন আরাম লাগছে, ও চোখ খিছে ফেলে সাথেসাথেই।
শোয়েব গলায় চুমু খেতে খেতে অত্যন্ত ধীর কণ্ঠে বলে যায়——‘কল মাই নেইম। জাস্ট একবার, একবার। জাস্ট একটাবার-!’
শোয়েব ধীর কণ্ঠে বলেই যাচ্ছে। ওদিকে তিতলির জান প্রায় আটকে আসছে। ও জীবনের প্রথম স্পর্শ পাগলপ্রায়! শোয়েবের মাথার চুল খামচে ধরে জোর করে সরিয়ে দিতে চাইলে শোয়েব ওর হাতটা চুল থেকে টেনে এনে বিছানায় সাথে মিশিয়ে নিয়ে আটকে দিয়ে হাস্কি টোনে বলল————‘তোমাকে কখনো বলা হয়নি তিতলি, আমি খুব…খুব সুন্দর আদর জানি। খুব সুন্দর আদর। রাগ আদর; দুষ্টু আদর; ভালো আদর: সুখ আদর; আরাম আদর, আবেগ আদর, শোয়েব-শোয়েব টাইপ আদর। অনেক ধরনের আদর, কোনটা চাও তুমি? বলো।’
শোয়েব চুমু খেতে খেতে পাগলের প্রলাপের মতো বলে যাচ্ছিল। শোয়েবের এমন আদরমাখা কণ্ঠ তিতলিকে পাগল করে ফেলে একসময়। ও শোয়েবের হাতের ভাজে হাত শক্ত করে ধরে চোখ আরও খিছে ধরে। শোয়েব শেষবারের মতো আরেকবার হাস্কি, লো টোনে শোনায়——‘ক. .কল মাই নাইম। আই উইল স্টপ। তিতলি, তিতলি, তিত. .লি। সে শোয়েব; ইউর শোয়েব।
তি.. .ত. .লি।’
তিতলির কি হলো! ও আরামে শোয়েবের হাত শক্ত করে ধরে গুঙিয়ে উঠে———‘শোয়েব. . শো. .শোয়েব! এই শোয়েব।’
শোয়েব মুহূর্তেই থেমে গেল। গলা থেকে মুখ উঠিয়ে সরাসরি তিতলির মুখের দিকে তাকাল, অবাক হয়ে। তিতলিও বুঝে – ও কি ব্লান্ডার করে ফেলেছে। তিতলি ধীরে ধীরে ওর চোখটা খুলে। শোয়েব দেখে— তিতলির পুরোটা চোখ লাল হয়ে গেছে। শোয়েব ভুল বুঝে— ভাবে তিতলির ওর আদর পছন্দ হয়নি। শোয়েবের মুখ নিচু হয়ে যায়, আস্তে করে বলে———‘সরি, এতটা এগুনো উচিত হয়নি। এগেইন সরি।’
শোয়েব কথাটা বলে তিতলির উপর থেকে উঠে বিছানায় বসে জোরে একটা শ্বাস ফেলে। তিতলি অবাক; শোয়েব সরি কেন বলল? ওর তো ভালো লাগছিল।
আচ্ছা কেন ভালো লাগছিল? ক্লাসে কোনো ছেলে ভুল করেও তিতলীর গা ছুলে ও চেতে যেত, আর আজ? আজ কি হয়ে গেছিলো ওর? রাগ না এসে; সুখ-সুখ কেন লাগছিল? এটা কি স্রেফ কবুলেরই জোর? ভালোবাসা? ভালোবাসা না?
তিতলি শোয়েবের পিঠের দিকে তাকায়। তারপর আস্তে করে শাড়ি সামলে উঠে শোয়েবের পাশটায় বসে।
দুজন চুপ হয়ে থাকে। একটা ভীষণ অপ্রীতিকর পরিস্থিতির পর দুজন দুজনকে কি বলবে কেউই বুঝতে পারেনা। শোয়েব আরচোখে একবার তিতলির দিকে তাকাল। তিতলিও তাকায় তখন; শোয়েব নিঃশব্দে চোখ সরিয়ে নেয় আবার।
একসময় শোয়েবই গলা কেশে গম্ভীর কণ্ঠে বলে ফেলে———-‘অস্বস্তি হচ্ছে? তিতলি?’
তিতলি শোয়েবের দিকে তাকায় চোখ তুলে। ও কিছু বলার আগেই; শোয়েব বলে———-‘সময় চেয়েছিলে তুমি, তারপরও আমি. . ! মাই ব্যাড! আর হবে না। শাড়িটা পাল্টে এসো, এই শাড়িতে ঘুমালে এলোমেলো করে ফেলবে।’
তিতলি তাকিয়ে থাকে শোয়েবের দিকে; কিছু না বলে। শোয়েব চোখ নামায়———‘আমি বাথরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে আসি: রুমে চেঞ্জ করে নাও তুমি।’
শোয়েব কথাটা বলে আর একবার তিতলির দিকে তাকাল না। চুপচাপ একপ্রকার পালানোর মতো করে ওয়াশরুমে ছুটে। তিতলির ওর যাওয়াটা দেখে। পরপর মুখ বাকায়,
‘ভদ্রলোকিপনা দেখাচ্ছে। বৌকে ছুয়েই এত ন্যাকামো! অদ্ভুত!’
চলবে
সবাই রিঅ্যাক্ট-কমেন্ট করবেন। আমি আজ সবার কমেন্টের রিপ্লাই করব।
Share On:
TAGS: অবন্তিকা তৃপ্তি, অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ সিজন ২
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৩৩
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ১৪
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ১২
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৪২
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৪৩
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ২৯
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ২৩
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৪১
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ২৬
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ২৫