Golpo romantic golpo অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা

অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৫


অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা

[পর্ব ০৫]

লেখিকাফারহানানিঝুম

(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয়)
(🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ)

আর যাই হোক মোটেও হসপিটালে থাকবে না আফরিদ এহসান। তার উপর অ্যাটাক করার বিষয়টি মাইমুনা এহসান জানতে পেরে তড়িঘড়ি করে হসপিটালে গেলেন। আফরিদের অবস্থা দেখে রীতিমত কেঁদে ফেলেছেন তিনি। আফরিদ এখানে থাকতে চায় না। কথাটা জানতে পেরে ডক্টরের সাথে আলোচনা করে তাকে রিলিজ করিয়ে এহসান মঞ্জিলে নিয়ে এলো মাইমুনা এহসান।
রুমে বসে আছে আফরিদ। একের পর এক সিগারেট খাচ্ছে। জানে এগুলো এই সময় তার শরীরের জন্য ঠিক কতটা ক্ষতিকর, তারপরেও থামছে না সে।

“আমি ভাবতে পারছি না আফরিদ ,এতটা সাহস তোমার উপর অ্যাটাক করেছে?হাউ ইজ দিস পসিবল?”

মাইমুনা এহসানের কথায় ভ্রুক্ষেপ নেই আফরিদের। সে নিজ ভাবনায় মগ্ন। হাতের ফোন টুং করে বেজে উঠতেই রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন তিনি।

“বস আসবো?”

ঈশানের আগমনে ভ্রু উঁচিয়ে আসতে বলল আফরিদ। ভেতরে প্রবেশ করতেই আফরিদ প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়।
“অল ডান?”

“নো বস। ন্যান্সি মেয়েটা টাকা ফেরত দিয়েছে।”

সিগারেটের শেষ টান টা দিতে গিয়েও থামতে হলো আফরিদ কে। ডান ভ্রু উঁচিয়ে বলল।

“হোয়াই?”

“বস মেয়েটা বলল টাকা নেবে না। ও নাকি এমনিতেই আপনাকে হেল্প করেছে। “

“হোয়্যাট?”

অংক মেলাতে পারছে না আফরিদ। এত গুলো টাকা দিলো মেয়েটাকে, অথচ তা নিলো না? রং রং রং সামথিং রং।

“কি হয়েছে ব্যাপার ডিটেইলসে বল।”

“মেয়েটা না করে দিয়েছে বাট বস ওর মা আবার টাকাটা নিতে চাইছিল। এখানে আবার টুইস্ট আছে।”

“যেমন?”

“মেয়েটা ভদ্র মহিলা কে মা বলে ডাকলেও তিনি হঠাৎ করে বলে উঠেছেন ন্যান্সি কে পেলে পুষে বড় করতে নাকি অনেক টাকা খরচ হয়ে গেছে।তার উপর বলল জব টা চলে গেছে। খোঁজ নিয়ে দেখলাম মেয়েটা ফেমাস ইয়াম্মি কেক বেকারি তে কাজ করে। ওখান থেকে সত্যি তাকে বের করে দেওয়া হয়েছে।”

ঘাড় দোলায় আফরিদ , সিগারেট জানালা দিয়ে ছুঁড়ে ফেলে বলল।
“কল দ্য ওনার অফ দ্য কেক বেকারি, রাইট নাউ”


সোফায় পায়ের উপর পা তুলে স্থির হয়ে বসে আছে আফরিদ এহসান। হাতে পিস্তল রয়েছে, যেটা বার বার কপালে ঘষছে সে।
তার ঠিক সামনেই দাঁড়িয়ে আছে ইয়াম্মি কেক বেকারির মালিক ইলিয়াস হোসেন। পা জোড়া কাঁপছে তার।‌ মনে মনে ভাবছে কোন মুসিবতে পড়লো সে? কি হবে এখন তার? যে লোকটা তার সামনে আছে তার মুখ কম গুলি চলে বেশী!

“কিরে তুই নাকি যখন তখন,যাকে তাকে বেকারি থেকে বের করে দিস?”

কন্ঠনালি কাঁপছে ইলিয়াস হোসেনের।
“স.. স্যার আমি আবার কাকে বের করলাম?”

“কেন বে ওই ন্যান্সি নামের মেয়েটিকে বের করিস নি?”

ন্যান্সি কে বের করে দেওয়াতে এখানে তুলে এনেছে ইলিয়াস কে। সেটা বেশ ভালোই বুঝতে পারছে ইলিয়াস। আচানক পিস্তল তুলে কপালে তাক করলো ইলিয়াসের।

“আজকে তুই ওর বাড়িতে যাবি,ক্ষমা চাইবি আবার কাজে আসতে বলবি। যদি না মানে তাহলে দরকার পড়লে পা ধরে ক্ষমা চাইবি। তারপরেও ওরে নিয়ে আসবি। আর যদি না নিয়ে আসিস তাহলে এই পিস্তলের সব গুলো গু’লি তোর পেটে চালান করে দেব।”

চিরচির করে ফ্লোরে পানি পড়তে লাগল। ইতিমধ্যেই লোকটা ভয়ে প্যান্ট ভিজিয়ে দিয়েছে। নাক মুখ কুঁচকে নিল আফরিদ। ঈশান হাঁ করে তাকিয়ে আছে।
ইলিয়াস কাঁপতে কাঁপতে বলল।

“দয়া করুন স্যার, আমি এখুনি গিয়ে ন্যান্সি কে নিয়ে আসবো। তবুও আমাকে ছেড়ে দিন স্যার।”

বিরক্ত হলো আফরিদ।
“এই কুত্তার বাচ্চা তোর তো টুনটুনির উপরেই কন্ট্রোল নেই। তুই আবার অন্যদের দাপট দেখাস?”

ইলিয়াস হোসেন মূর্তির মত দাঁড়িয়ে আছে। আফরিদ ফের বলল।
“যদি না পারিস আনতে তাহলে তোর টুনটুনি কেটে নদীতে ভাসিয়ে দেব।”

ঈশান ফিক করে হেসে ফেলল। ইলিয়াস হোসেন পারে না দৌড়ে পালিয়ে যেতে। সোফায় মাথা গা এলিয়ে দিল আফরিদ। ছাদের দিকে মুখ করে তাকালো আফরিদ। সিগারেটে টান দিয়ে ধোঁয়া ছাড়ল। এই সিগারেটেই বুঝি সর্বসুখ?
“বস একটা কথা বলি?”

“হু।”

ঈশান আমতা আমতা করে বলল।
“বস সত্যি যদি মেয়েটা না আসে তাহলে কি আপনি ওই ব্যাডার টুনটুনি কেটে ফেলবেন?”

আড় চোখে তাকায় আফরিদ। ভয়ে তটস্থ হয়ে দাঁড়ালো ঈশান। আফরিদ এক গাল হেসে বলল।
“না সবার আগে তোর টুনটুনি সাইজ করব এরপর ওই ব্যাডার , তারপর ওগুলো দিয়ে জগাখিচুড়ী বানাবো এরপর কুত্তাদের বিলিয়ে দেব। আফটার অল এত পাপের পরে যদি একটুখানি পশু সেবা করি তাহলে আমার অর্ধেক পাপ কমে যাবে।”

আঁতকে উঠে ঈশান।
“সরি বস , আমার ইয়ে টা ছেড়ে দিন , আমার বউ জুটবে না তাহলে!”

“সর শা’লা জা’উরা কোথাকার।”


সন্ধ্যার আকাশ যেন রঙের পটচিত্র। কমলা, বেগুনি আর লালচে সোনালি রঙে আকাশের ক্যানভাস রাঙিয়ে তুলেছে অস্তগামী সূর্য। পশ্চিম দিগন্তে মেঘগুলো রঙিন তুলোর মতো ভেসে বেড়াচ্ছে।পাখিরা সারাদিনের ক্লান্তি নিয়ে নীড়ে ফিরছে সারি সারি দল বেঁধে। গাছের পাতায় পাতায় যেন মৃদু সুর বাজে হালকা বাতাসে দুলছে তারা,শহরের কোলাহল কিছুটা স্তব্ধ, রাস্তায় নেমেছে হলুদ আলো, দোকানগুলোতে জ্বলে উঠেছে নরম বাতি। কারো কারো ঘরের জানালা দিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে সাদামাটা জীবনের উষ্ণ আলো। বারান্দায় বসে থাকা বৃদ্ধ মানুষটা মগে করে ধোঁয়া ওঠা চা হাতে। দোকান থেকে নিজের সেলাই করা জামা কাপড় গুলো নিয়ে বাড়ির পথ ধরেছে ন্যান্সি। বড় ক্লান্ত দেখাচ্ছে তাকে।

“ইলহাম?”

নিজের নাম শুনে চকিতে ফিরে তাকালো ন্যান্সি। ইলিয়াস হোসেন কে দেখে পিলে চমকে উঠে তার।

“স্যার আপনি?”

ইলিয়াস হোসেন দ্রুত এসে পা হাত জোড়া করে ক্ষমা চাওয়ার ভঙিতে বলল।

“ইলহাম আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছি। “

ভড়কে গেল ন্যান্সি।‌ অবিশ্বাস্য নয়নে তাকিয়ে আছে লোকটার দিকে। বিষয়টা বোঝার চেষ্টা করছে কি হচ্ছে!

“আমাকে মাফ করো ইলহাম। তুমি প্লিজ আমাকে মাফ করে দাও।”

আশেপাশে মানুষজন তাদের দিকে তাকাচ্ছে বার বার।
“স্যার কি বলছেন এসব? আপনি কেন ক্ষমা চাইবেন? প্লিজ স্যার এভাবে ক্ষমা চাইবেন না।”

ইলিয়াস হোসেন শুষ্ক ঢোক গিললো।
“তুমি আবার কাজে ফিরে এসো ইলহাম। আমি বুঝতে পেরেছি তুমি ছাড়া আমার বেকারি পুরো ফাঁকা। তোমার হাতের কেক, চকলেট সবাই চায়। তোমার আপ্যায়ন চায়। তুমি প্লিজ চলো।”

কথাটা শুনে বুকের ভেতর কাঁপছে ন্যান্সির।
“আপনি সত্যি বলছেন স্যার? আমি আবার কাজে ফিরব?”

“হ্যাঁ হ্যাঁ। তুমি কাল থেকে আবার কাজে ফিরো প্লিজ।”

ন্যান্সি মনে মনে আল্লাহকে শুকরিয়া আদায় করে। আবারো সুযোগ পেয়েছে সে। এটা তাকে কাজে লাগাতেই হবে।


“আপু আমাকে নিয়ে যাও। কলেজে নামিয়ে দিবে।”

ন্যান্সি মৃদু হাসলো।
“চলে আয়।”

তন্বী ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে এলো, ন্যান্সি স্কুটার চালিয়ে তন্বী কে কলেজের সামনে ছেড়ে দিলো। ন্যান্সির ভীষণ ভয় হচ্ছে, আল্লাহ মালুম কেক বেকারিতে গিয়ে কি হবে! এই যে ভিতু মেয়েটার বুক কাঁপছে খুব করে। তাকে যদি আবার বের করে দেয়? যদি আবার নিজের কথা থেকে সরে যায় ইলিয়াস হোসেন? তাহলে কি হবে ন্যান্সির?

কেক বেকারির সামনে আসতেই দেখতে পেলো সবাই চলে এসেছে। স্কুটার পার্ক করে ভেতরে প্রবেশ করলো ন্যান্সি। সঙ্গে সঙ্গে দেখা হলো ইতির সাথে। সে অনেক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছিল ন্যান্সির জন্য।

“ডার্লিং..তোর জন্য অপেক্ষা করছিলাম।”

প্রিয় সাথী কে পেয়ে মনে মনে ভীষণ খুশি হলো ন্যান্সি। ইলিয়াস হোসেন নাকি অসুস্থ তাই তিনি আসেন নি। তবে সবাই কে বলে দিয়েছে ন্যান্সি আবার কাজে জয়েন করবে।

“আচ্ছা ইলিয়াস হোসেনের কি হলো বল তো ইলহাম? হঠাৎ করে তোকে এভাবে নিয়ে এলো কেন? উনি যে মানুষ সে কখনোই নিজ থেকে কাউকে আনতে যাবে না।”

ন্যান্সি নিজেও জানে ইলিয়াস ঠিক কোন ধরণের মানুষ। কিন্তু হঠাৎ করে যে তার কি হলো সেটাই বুঝতে পারছে না।

“হ্যালো গার্লস , আমি কি একটা চকলেট ফ্লেভারের আইসক্রিম পেতে পারি?”

পরিচিত কন্ঠস্বর শুনে ইতি আর ন্যান্সি দুজনেই ফিরে তাকালো। হ্যাঁ তাদের প্রিয় বন্ধু পৃথ্বী রয়েছে।
পৃথ্বী কে দেখে ইতি চমকে উঠে রীতিমতো।

“আরে পৃথ্বী কখন এলি? আয় আয়।”

পৃথ্বী গাল ভর্তি হাসি নিয়ে চেয়ারে বসলো।
“আমি তো আজ সকালেই ফিরেছি। তোদের সাথে দেখা করতে চাচ্ছিলাম তাই চলে এসেছি।”

বড় বোনের সাথে দেখা করতে ঢাকার বাইরে গিয়েছিল পৃথ্বী। ন্যান্সির দিকে তাকিয়ে বলল।

“কেমন আছো ন্যান্সি?”

মৃদু হাসার চেষ্টা করলো ন্যান্সি। বরাবরই চুপচাপ অন্তর্মুখী স্বভাবের মেয়েটা। আগ বাড়িয়ে কারো সাথেই কথা বলে না শুধু ইতি ছাড়া। তবে ইতি আর পৃথ্বী সেই ছোট বেলার বন্ধু। এরপর তার সাথেও পরিচয় হয়।

“আমি ভালো আছি, তুমি কেমন আছো পৃথ্বী?”

“এই তো চলেছে এক রকম। তবে তোমার হাতের চকলেট ফ্লেভারের আইসক্রিম মিস করছি ‌,সেটা কি পাওয়া যাবে?”

এবারে খানিকটা হাসলো ন্যান্সি।
“অফকোর্স।”


কখনো কি কাউকে দেখেছেন খুন করে সেই লাশটা পাশে রেখেই আরাম করে ওয়াইন খেতে? হ্যাঁ এরকম করেছে আফরিদ এহসান। করেছে বললে ভুল হবে,করছে সে। রক্তাক্ত একটা লাশ পড়ে আছে ড্রয়িং রুমের মেঝেতে। ঠিক লাশের পাশে বসে ওয়াইন আর সিগারেট টানছে। একের পর এক সিগারেট শেষ করে ওয়াইন গ্লাসে চুমুক বসাচ্ছে।

“ভিলেন ক্যান ডু এভরিথিং। তারা সব পারে ,মারতেও পারে তবে মরতে পারে না। কারণ তাদের কে মারার মতো সাহস নিয়ে জন্মায় নি কেউ।”

কথাটা নিজে বলেই হো হো শব্দে হেসে উঠলো। মস্তিষ্ক কি বিগড়ে গেল তার? হঠাৎ করে উঠে দাড়ালো। সন্ধানি দৃষ্টি বুলিয়ে কিছু একটা খুঁজতে চাইলো! হ্যাঁ পেলো পাশে থাকা ওয়াইনের বোতল টা তুলে টেবিলে ভারি খাইয়ে ভেঙে ফেলল। সেই এক টুকরো কাঁচ তুলে মৃত্যু লোকটার হাতের শিরা গুলো টেনে টেনে ছিঁড়ে ফেলছে!

আফরিদের এই ভয়ংকর রূপ যদি সামনে থেকে কেউ দেখতে পেতো তাহলে হয়তো হার্ট অ্যাটাক করতো।‌ রক্তে মাখো মাখো হয়ে গেছে হাত দুটো। পাগল পাগল আফরিদ। হিসহিসিয়ে বলল।

“তোদের মতো জা’নোয়ার কে আমার মারতে আনন্দ হয়! খুব খুব আনন্দ।”

রাগে একে একে লোকটার সমস্ত শরীর ছিন্ন ভিন্ন করে দিচ্ছে আফরিদ। রগ টান টান হয়ে বেরিয়ে এসেছে লোকটার।

ভেতরে প্রবেশ করলো ঈশান ,আফরিদ কে এমন ভয়ংকর অবস্থায় দেখে অভ্যস্ত সে। আফরিদ ঠিক কি কি করতে পারে সবটা জানা তার।

“বস, আপনার কল!”

হাত বাড়াতেই টিস্যু পেপার এগিয়ে দিলো আফরিদ। র’ক্তাক্ত হাতটা মুছে নিল আফরিদ। কানে তুলল ফোনটা। ফোনের অপর প্রান্তে ঠিক কি বলেছে তা জানা নেই,তবে আফরিদ দু’টো শব্দ উচ্চারণ করলো।

“গুড। ওকে।”

“ঈশান, গাড়ি রেডি কর।”

ঈশান ভীত কন্ঠে শুধোয়।
“কিন্তু বস এখন কোথায় যাবেন আপনি?”

বাঁকা হাসলো আফরিদ।
“ইয়াম্মি কেক বেকারিতে। ইয়াম্মি ইয়াম্মি কেক টেস্ট করতে।”

কথাটা ভীষণ পেঁচিয়ে বলল আফরিদ। তবে তাকে আর কিছু জিজ্ঞেস করার সাহস হলো না আফরিদের। চুপচাপ বেরিয়ে গেল গাড়ি বের করতে। স্বভাব সুলভ ঘাড় বাঁকালো আফরিদ।

চলবে……….।✨

(📌 সবাই রেসপন্স করবেন,আর হ্যাঁ পরের পর্বে দেখা হবে দু’জনের 🥱)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply