Golpo romantic golpo অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা

অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৫(প্রথমাংশ +শেষাংশ)


অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা

[পর্ব ৩৫] (প্রথম অংশ)

লেখিকাফারহানানিঝুম

(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয় এবং প্রাপ্তমনস্কদের জন্য উন্মুক্ত)
(🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)

এহসান গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ বাণিজ্যের বিশাল এক সাম্রাজ্য, যার শাখা ছড়িয়ে রয়েছে বহু দেশে। বিশেষ করে স্পেনের বার্সেলোনা শহর যেন এই সাম্রাজ্যের প্রাণকেন্দ্র।

তবে আজ বাংলাদেশে আকাশছোঁয়া বিল্ডিংয়ের সর্বোচ্চ তলায় অবস্থিত কনফারেন্স রুমে আজ চলছে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং। দেওয়ালের কাঁচঘেরা জানালায় নীল আকাশ আর ব্যস্ত নগরী ধরা পড়ে, ঘরের ভেতরের পরিবেশ নিস্তব্ধ।

টেবিলের একদম শীর্ষে হেড চেয়ারে বসেছে আফরিদ এহসান। তার উপস্থিতি নিজেই এক কঠিন আদেশ, এক অটল নিয়ন্ত্রণ। সবার চোখ তার দিকে, যেন তার না বলা পর্যন্ত মিটিং রুমের কিচ্ছুটি হবে না!

মিস্টার খান দাঁড়িয়ে কাঁপা কণ্ঠে বলল।
“Ehsan, please let me explain!”

আফরিদ কোনো কথা না বলে শুধু এক আঙুল উঁচিয়ে থামিয়ে দিল। সেই ইঙ্গিতেই সবকিছু জমাট বরফ হয়ে গেল।

আফরিদ ঠান্ডা, স্থির স্বরে সে বলল।
“I don’t care. When I say it won’t happen , it won’t happen.

এক মুহূর্তে মিটিং রুমের সব শব্দ থেমে গেল। সবাই চুপসে গিয়ে তাকিয়ে রইল তার দিকে।
কিন্তু নীরবতা বেশিক্ষণ টিকল না। আবারো আলোচনার ঢেউ ধীরে ধীরে ফিরে এলো সংযত, সতর্ক, ভয়ে ভেজা। প্রত্যেকেই কথা বলছে হিসেব কষে, যেন আফরিদের দৃষ্টি আরেকবার তাদের ওপর পড়লেই সকল যুক্তি ভেঙে যাবে।

এদিকে অফিসে ন্যান্সি পা রাখতেই থমকালো ঈশান। সে মোটেও আশা করেনি ন্যান্সি এখানে চলে আসবে! আশ্চর্য হচ্ছে এটাই ভেবে আফরিদ তো একটু পরেই ফিরতো! তাহলে এখানে আসার দরকার কি ছিল?

ন্যান্সি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো ঈশানের দিকে। শীতল কন্ঠে শুধোয়।
“আফরিদ কোথায়?”

“ম্যাম আপনি এখানে কি করছেন? আপনার তো মঞ্জিলে থাকার কথা!”

ন্যান্সি দাঁতে দাঁত পিষে বলে উঠে।
“আমি আপনাকে ছাড়ব না, আমি আপনাকে কিন্তু সত্যি ছাড়ব না। আপনি ভীষণ বাজে একটা লোক ঈশান ভাইয়া!”

ঈশান ভোলাভালা চোখে তাকায় ন্যান্সির দিকে,সে তো সবকিছু বসের কারণেই করলো!
“দেখে নিবেন আমি আপনার মানচিত্র পাল্টে দেব বলে দিলাম!”

ঈশান থতমত খেয়ে গেল ।
“কিন্তু ম্যাম আমি তো আপনাদের দু’জনের ক্যাবল কানেক্ট করার চেষ্টা করছি এদিকে আমনি আমার মানচিত্র বদলে দেওয়ার কথা বলছেন?”

ন্যান্সির সর্বাঙ্গ রীতিমতো জ্বলছে। সে দ্বিতীয় বারের মতো শুধোয়।
“আফরিদ কোথায়?”

ঈশান মিটিং রুমের দিকে ইশারা করলো। পুরো অফিস রুমে হৈচৈ পড়ে গেছে কে এই মেয়ে আর মিটিং রুমের দিকে কেন যাচ্ছে? এবং কি ঈশান তাকে থামাচ্ছে না।

মিটিং রুমের কাছে এসে কাঁচের গ্লাস টেনে ভেতরে চড়ুই পাখির ন্যায় উঁকি দিলো ন্যান্সি। আফরিদের আঙ্গুলের ফাঁকে গুঁজে ছিলো কালো রঙের কলমটি। চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে মনোযোগ দিয়ে শুনছিল কথা গুলো। কিন্তু ওই যে অপরূপা সুন্দরী উঁকি দিলো ব্যস তার শান্ত মন অশান্ত করার জন্য তার গোল গোল চোখ দুটো যথেষ্ট ছিলো।

“অ্যাঞ্জেলিনা!”

সটান হয়ে দাঁড়িয়ে গেল আফরিদ, তাকে দাঁড়াতে দেখে বাকিরাও দাঁড়িয়ে গেল। সকলে তাকানোর পূর্বেই আফরিদ আদেশ স্বরুপ বললো।

“এভরিওয়ান’স আইজ আর ডাউন।”

কেউ তাকানোর সাহস টুকু দেখালো না, আফরিদ আপাদমস্তক দেখে নিলো ন্যান্সি কে। ন্যান্সি বিড়বিড় করে।
“আফরিদ।”

আফরিদ তপ্ত নিঃশ্বাস ছেড়ে তাড়া দেয় সকলকে।
“মিটিং ইজ ওভার।”

একে একে সকলে বেরিয়ে যায়,তবে কারো দুঃসাহস হলো না তাকানোর মেয়েটার দিকে। মনে মনে স্পৃহা জাগ্রত হয় কে এই রমণী যার আগমনে অস্থির হয়ে উঠে আফরিদ এহসান!

“আয় এদিকে আয়।”

ন্যান্সি ডুকরে কেঁদে উঠলো,তার কান্নায় অস্থিরতা বাড়ে বৈ কমলো না আফরিদের।
এমনিতেই মন আঙিনায় প্রশ্নরা ভিড় করেছে কেন সে অফিসে এলো? এখন আবার কাঁদছে কেন?

আফরিদ চটজলদি এগিয়ে গেল ন্যান্সির কাছে। বাহু ধরে ধরে আগলে নেয়।

“কি হয়েছে বল আমাকে? কাঁদবি না একদম। বল আমাকে কি হয়েছে? বল না!”

ন্যান্সি বলতে পারে না। তার লজ্জায় মাথা নীচু হয়ে আসে। সে কিভাবে বলবে আফরিদ আমাকে জড়িয়ে ধরুন, আমাকে আদর করুন। আমি চাই আপনি আমার কাছে আসুন।”

সে নিজেই তো এতদিন ধরে তাকে দূরে রেখেছে, তাহলে আজকে নিজের প্রয়োজনে তাকে কে কাছে টানবে?
“আয় আয়।”

ন্যান্সি কে এনে হেড চেয়ারে বসিয়ে দিলো আফরিদ,তার ঠিক সামনে ডেস্কে উঠে বসলো আফরিদ। হাতের আঁজলায় ভেজা মুখটা তুলে নিলো।
“কি হয়েছে জানকি বাচ্চা বল আমাকে। আমি ঠিক করে দেব সব। শরীর খারাপ করছে? মন খারাপ? বোঝা আমাকে?”

ন্যান্সি কান্নার হিড়িকে কথা অবধি বলতে পারছে না। আফরিদ ক্ষিপ্ত মেজাজে বলে উঠে।
“চুপ চুপ কাঁদিস না, কান্না নয় একদম নয়। আগে কান্না থামা, এরপর শুনবো। থামতে বললাম তো!”

ন্যান্সি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বলল।
“ঈশান ভাইয়া.. ঈশান ভাইয়া আমাকে..

আফরিদ শক্ত করে চোখট বুঁজে নিলো,হাত দুটো মুষ্টিবদ্ধ হয় রাতে আসে।
“কি করেছে ওই ব্লাডিটা? আমাকে বল আমি ওকে মে’রে ফেলব!”

ন্যান্সি ঠোঁট কামড়ে কেঁদে উঠলো।
“ঈশান ভাইয়া আমাকে… উনি আমাকে কিসব খাইয়ে দিয়েছেন। মিথ্যে বলে। আমার ভীষণ অস্থির লাগছে, আমি না বুঝাতে পারছি না। উনি ইচ্ছে করে এমন করছে! আমি.. আমার ভালো লাগছে না!”

আবারো ডুকরে কেঁদে উঠলো ন্যান্সি।
ন্যান্সি আফরিদের কব্জি খামচে ধরে আছে। এক মূহুর্তের জন্য থামলো আফরিদ। শুকনো ঠোঁট জোড়া ভিজিয়ে নিলো আলতো করে। নীলাক্ষী জোড়া ছোট হয়ে এলো ধূর্ত মস্তিষ্ক ধরে ফেলল বিষয়টা। ন্যান্সি কম্পিত হাত দুটো শক্ত করে মুঠোয় নিয়ে এলো।
“হেই,তাকা এদিকে। লুক অ্যাট মি পরাণ, এই সামান্য বিষয়ে কাঁদছিস তুই? আমি আছি না?”

ন্যান্সি বাচ্চাদের মতো ঠোঁট ফুলিয়ে আছে,আজ প্রথম বার নিজেকে অসহায় লাগছে। ঈশান তার সরলতার সুযোগ নিলো এভাবে! কাল পর্যন্ত যাকে বলেছে এক সপ্তাহ কাছাকাছি না আসতে, আজকে তার কাছেই ছুটে এসেছে সে।

“কই আছেন আপনি? আমি কিছু কথা কিভাবে বলব আপনাকে? আমি বলতেই পারছি না আমার কি হচ্ছে? আপনারা সবাই আমার সাথে যা ইচ্ছে করে চলেছেন! ভালো লাগছে না আমার। একবার আপনি আরেকবার ঈশান ভাইয়া। আপনার পরিবার সবাই মিলে শেষ করে দিচ্ছেন!”

আফরিদ শুকনো হাসে। গালটা ছুঁয়ে চলেছে অনবরত।
“স্টপ ক্রাইং। আমি আছি তো। আর একবার কাঁদলে খুব খারাপ হবে!”

ন্যান্সির রাগ কমলো না,কই আছে আফরিদ? তাকে তো একটিবার কাছেও টানছে না। দৃষ্টি গেল টেবিলের উপর রাখা গ্লাসের দিকে।
পানির গ্লাস তুলে সবটুকু পানি আফরিদের মুখের উপর ছুঁড়ে ফেলল ন্যান্সি।
ভিজে গেল আফরিদ এহসান, এই ভয়ংকর কান্ড খানা যদি অন্য কেউ করতো তাহলে তাকে নিঃশেষ করতে দুমিনিট লাগতো তার। অথচ এবেলায় চওড়া হাসলো।
“কোথায় আছেন আপনি? আপনি আমাকে কাছে টানছেন না তো!”

আফরিদ ন্যান্সির বাহু টেনে দাঁড় করালো।
“উঠ, আমি অস্থিরতা দূর করে দেব।”

আফরিদ ন্যান্সি কে দাঁড় করালো, আলগোছে নিয়ে গিয়ে থাইগ্লাসের দেয়ালের সাথে দাঁড় করায়। ন্যান্সি আফরিদের কলার চেপে ধরে। নিজের দিকে ফিরিয়ে বলে।
“আফরিদ শুনুন না, আমি না আপনাকে চাই।”

আফরিদ প্রশস্ত হেসে বলল।
“আসবো। দুই মিনিট দে আমাকে!”

আফরিদ ন্যান্সি কে ছেড়ে বেরিয়ে এলো। ঈশান কে ডাকলো। র’ক্ত চক্ষু জোড়া দেখে আত্মা কেঁপে উঠল ঈশানের। এতক্ষণে নিশ্চয়ই সব বলে দিয়েছে ইলহাম।
“ব..ব..বস ডাকছিলেন?”

আফরিদ হিম ধরানো গলায় বলে।
“ইয়ারফোন নিয়ে আয় এখুনি।”

ঈশান এক প্রকার দৌড়ে ইয়ারফোন নিয়ে এলো।
“বস ইয়ারফোন দিয়ে কি করবেন?”

আফরিদের মেজাজ এমনিতেই ঈশানের উপর চটে আছে,ঈশান ঠোঁট টিপে হেসে বলল।
“ওহ্ বুঝেছি আপনার দুষ্টু কথা যেনো ম্যাম শুনতে না পায় তাই ইয়ারফোন লাগিয়ে দেবেন তাই তো?”

আফরিদ মেজাজ হারালো, দাঁত কটমট করে বলল।
“ঈশান!”

ঈশানের শক্তপোক্ত দেহ কম্পিত হলো।

“তোর পিছনে লাগাবো এই ইয়ারফোন, আমাকে বেরুতে দে শুধু।”

ঈশান ফাঁকা ঢোক গিললো।
আফরিদ আবারো কেবিনে ঢুকে গেল। ভেতর থেকে লক করে দিলো, রিমোট নিয়ে আলো নিভিয়ে দিলো। ন্যান্সির কাছে ফেরত এলো।

ন্যান্সির বুকের ভেতর ধড়াস ধড়াস করছে, অসহায় কন্ঠে বলে উঠে।
“আপনি আমাকে নিয়ে মজা করবেন তাই না? আমি জানি আপনি আমাকে নিয়ে মজা করবেন। আমি স্বেচ্ছায় এসেছি বলে আপনি আমাকে নিয়ে মজা করবেন। কত কি বলবেন!”

আফরিদ ইয়ারফোন ফোনে ক্যাবল কানেক্ট করতে করতে বলে।
“উঁহু, মোটেও না। একদমই মজা করব না।”

ইয়ারফোন টা কানে গুঁজে একটা গান ছেড়ে দিলো। ন্যান্সি অসহায় হয়ে পড়ে।
“আপনি কেন শুনছেন না আমার কথা?কেন ইয়ারফোন লাগালেন? শুনুন না!”

আফরিদ নিজের গলার দিকে ইশারা করে।
“মুখ গুঁজ।আদর করি,পরে কান্নাকাটি করিস না।”

ন্যান্সি ত্রস্ত ভঙ্গিতে মুখ গুঁজে আফরিদের গলদেশে। আফরিদ দ্বিতীয় বারের মতো জিজ্ঞেস করলো।
“পরে কাঁদবি না কিন্তু।”

আফরিদ কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে ন্যান্সি।
“আমি না বলা পর্যন্ত মুখ বের করবি না ঠিক আছে!”

ন্যান্সি প্রত্যুত্তর করলো না।
আফরিদ একটুখানি বেসামাল হয়, শুধু মাত্র ন্যান্সির জন্য। ন্যান্সি ওমনি আফরিদের গলায় মুখ গুঁজে আছে, হাত দুটো তার চুল আঁকড়ে ধরে। আফরিদের বলিষ্ঠ হাত দুটো স্পর্শকাতর জায়গায় ছুঁয়ে যায়। মেদহীন মসৃন উদরের রেখা টেনে নিচে অগ্রসর হয়।
ন্যান্সি অস্ফুট স্বরে গোঙাতে লাগলো। তা শুনলো না আফরিদ,কানে যে ইয়ারফোন লাগানো! ন্যান্সি অস্থির ভঙ্গিতে আফরিদের গলদেশে বাইট করলো। দুর্বল শরীর ছেড়ে দিতেই তাকে পাঁজা কোলে তুলে নিল আফরিদ।

শুয়ে দিলো টেবিলের উপর লম্বা করে, আফরিদ কে গলা জড়িয়ে ধরে ন্যান্সি।‌ ব্যথাতুর কন্ঠে বলে উঠে।
“আমি আপনাকে চাইছি, আপনি শুনছেন না কেন?”

আফরিদ চোখে হাসে,মুখ নামিয়ে ওই লালিত মুখটায় চুমু এঁকে বড় আদুরে গলায় বলল।
“পরে যে তুই কষ্ট পাবি জানকি বাচ্চা!”

ন্যান্সি তাকিয়ে আছে তার দিকে, ঠোঁট ফুলিয়ে এযাত্রায় হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো। আফরিদ শুনলো না,ফের ফোনের ভলিউম বাড়িয়ে দিলো। ন্যান্সি কে ছেড়ে নিচের দিকে অগ্রসর হয়, চুমু আঁকে উদরে!

মিনিট দশেক পরেই শান্ত হয়ে গেল ন্যান্সি! প্রচন্ড ক্লান্ত লাগছে তার।

আফরিদ উঠে দাঁড়ালো, ন্যান্সি কে আলগোছে নিয়ে গিয়ে একপাশে রাখা কাউচের উপর শুয়ে দিলো,পরণের স্যুট খুলে গায়ে মেলে দিলো। আফরিদ ইয়ারফোন খুলে ফেলল, চলে গেল ওয়াশ রুমে। দরজাটা বন্ধ করে নিজের হাতের দিকে তাকালো,পরক্ষণে আয়নায় নিজেকে দেখে হেসে ফেলল আফরিদ।
পাঁচ মিনিটের মাথায় ফিরে এলো। হাঁটু গেড়ে বসলো ন্যান্সির মাথায় কাছে।
চুলের ভাঁজে হাত গুঁজে ম্যাসাজ করে দেয়।

“আর খারাপ লাগছে? অস্থিরতা দূর হয়েছে?”

ন্যান্সি আধবোজা দৃষ্টি জোড়া পুরাপুরি খুলতেই পারছে না। মাথা দুলিয়ে অসম্মতি জানায়। আফরিদ মুখ নামিয়ে কপালে গাঢ় চুমু খেলো।
ন্যান্সি ঘুম জড়ানো কন্ঠে ,খুব চাপা স্বরে বলে।
“একটা সত্যি কথা বলবেন? আপনি সত্যি সত্যি তিনটে মেয়ের সাথে ছিলেন?”

আফরিদ নৈঃশব্দ্যে হাসলো। কানের কাছে মুখ ঠেকিয়ে খুব নিচু সুরে বলে।
“উঁহু ,তিনটের সাথে ছিলাম না।”

ন্যান্সি নাক বোচা করে বলল।
“তারমানে দুজনের সাথে ছিলেন?”

আফরিদ এবারেও হাসলো ঠোঁট টিপে।
“উঁহু দুটোর সাথেও ছিলাম না।”

ন্যান্সির রাগ লাগলো। কি বলতে চাচ্ছে আফরিদ? নিজেই তো বলল তিনজনের সাথে ছিলো।
“তাহলে একজনের সাথে ছিলেন?”

আফরিদ কানের কাছে মুখটা ছুঁইয়ে আগের চেয়েও খুব নিচু স্বরে বলে।
“একটাও না। আমি আমার বউ ছাড়া কারো প্রতি ইন্টারেস্ট দেখাই না।”

ন্যান্সি শান্ত হয়ে গেলো। আফরিদ ঠোঁট কামড়ে হাসলো,এবার তার কি করা উচিত? উচিত নয়কি এই মেয়েটাকে সম্পূর্ণ নিজের করা?

“আমি চেঞ্জ করব।”

আফরিদ শুকনো ঢোক গিললো।
“বাড়িতে গিয়ে করিয়ে দেব।”

ন্যান্সি চোখ মুখ কুঁচকে নিল। ক্লান্ত ভঙ্গিতে বলল।
“না এখুনি।”

আফরিদ ফোনটা তুলে ঈশানের নাম্বারে কল করে।

ঈশানের হাত-পা কাঁপছে, এবার কি হবে? আফরিদ নিশ্চয়ই বেরিয়ে এসে তাকে ঠাস ঠাস করে গু লি করে দেবে।

“হ্যালো বস?”

“ওরে মা’ঙ্গের নাতি অফিসের সবাইকে দ্রুত যেতে বল,আর তুইও নিজের থুবড়া নিয়ে বের হ। না হলে তোর পিছনে আছোলা বাঁশ দেব।”

ঈশান ত্বরান্বিত ভাবে জবাব দেয়।
“এখুনি করছি।”

“আর শোন ড্রাইভার লাগবে না, শুধু গাড়ি রেখে যা।”

ঈশান ফোন কাটতে গিয়েও কাটল না। উল্টো উদ্ভট প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলো।
“বস, ক্যাবল আর পোর্টে কি কানেক্ট হইছে?”

মিটিমিটি হাসছে ঈশান। আফরিদের গা শুদ্ধু জ্ব’লে উঠলো।
“জাউরা রেএএ তু রেডি থাক তোর ক্যাবল কিভাবে বাঁচাবি এবার আমিও দেখব!”

ঈশান এক প্রকার চেঁচিয়ে উঠলো।
“কিন্তু বস আমি তো…

মুখের উপর ফোনটা কে টে দিলো আফরিদ। ঈশান পড়লো বিপাকে, এখন তার জন্য কি অপেক্ষা করছে একমাত্র আফরিদ জানে! সে তো ক্যাবল আর পোর্টের কানেক্ট করতে চাইছিল এদিকে তার ক্যাবল যে বিপদে পড়ে গেল!
____আমার পেইজ লিংক https://www.facebook.com/profile.php?id=100087612087977

পরের বার সকাল সাতটা ছুঁই ছুঁই। ঘুমন্ত ন্যান্সি জেগে উঠেছে,কাল দুপুর থেকে ঘুমিয়েছে। ডক্টর এসে একবার দেখে গেছে তাকে, অতঃপর একটা ইনজেকশন দিয়ে গেছে। সাথে কিছু ঔষধ, সেই ওষুধ সাইড এফেক্ট হওয়ায় পুরোটা রাত ঘুমিয়েছে।

ঘুম থেকে উঠে জুতোর খাপে পা গলিয়ে উঠে দাঁড়ালো ন্যান্সি। কন্ঠনালি কাঁপছে তার, নিশ্চয়ই এখন আফরিদ তাকে অনেকগুলো কথা শুনিয়ে দেবে। তাচ্ছিল্য করে বলবে।
“বান্দি,তুই নিজে থেকে আমার কাছে এসেছিস। অথচ নিজেই বলেছিলি এক সপ্তাহ তোর কাছাকাছি না ঘেঁষি।”

ন্যান্সির এবেলায় কান্না পেলো,ঈশানকে বিশ্বাস করে ঠকলো। আরেকবার আসুক তখন মুখ ঝামটা দিয়ে বলবে।
“আপনি ভীষণ খারাপ ঈশান ভাইয়া। আপনি আসলেই একটা বিশ্বাসঘাতক!”

🌿

স্টাডি রুমে বসে ফাইল চেইক করছে আফরিদ! ন্যান্সি ফ্রেশ হয়ে উঁকি দিলো। কি করছে সেটাই জানতে উৎসুক সে।
আফরিদ লম্বা নিঃশ্বাস টানলো। মিঠা মিঠা ঘ্রাণ নাসারন্ধ্রে প্রবেশ করতেই চওড়া হাসলো।

“ভেতরে আয় তাড়াতাড়ি কথা আছে।”

ন্যান্সি অপরাধীর ন্যায় মাথা নুইয়ে ভেতরে প্রবেশ করলো। কিন্তু এগুনোর সাহস পায় না, কেমন অস্বস্তি লাগছে! ন্যান্সি ফের বেঁকে গেল, না এখানে আসা উচিত হয়নি এখুনি যাওয়া প্রয়োজন।তার নিজের উপরেই ঘেন্না লাগছে ন্যান্সির। যাওয়ার জন্য পিছু ফিরতেই আফরিদ বলে উঠে।

“কাম।কাম কাম! কথা আছে বললাম না!”

আফরিদ ন্যান্সি কে এনে বসালো সোফায়,তার পায়ের কাছে হাঁটু গেড়ে বসলো আফরিদ। আফরিদ কিছু বলার আগেই ন্যান্সি বলতে শুরু করে।

“আমি আসলে খুবই দুঃখিত! আমি চাইনি ওইস…

“লিসেন, আমি বলি তুই শোন। তুই আমার কাছে এসেছিস এটা তোর করাই উচিত। না করলে থাপ্পড় দিতাম। আমার কাছে তোর কি? তুই আমার ওয়াইফ তোর সবকিছুর দায়িত্ব আমার। আমার কাছে আসবি না তো কার কাছে যাবি? নতুন কোনো ভাতার আছে নাকি? আর হ্যাঁ আমি চাইনি এর বেশি কিছু হোক তোর ওই অবস্থায় তাই নিজের লিমিটে থেকেছি। তারপরেও আই অ্যাম সরি পরাণ আমি ওইটুকু না করলে তুই কষ্ট পেতি।”

ন্যান্সি ভীতু চোখে তাকায় তার দিকে, আফরিদ শুকনো হেসে বলে।
“তোর রাইট আছে আমার কাছে চাওয়ার।আই নো ঈশান ভুল করেছে, ওই মা”” জন্য তোর কষ্ট হয়েছে। ওরে তো পরে দেখছি। আর তুই এটা নিয়ে একটুও ভাববি না আমি ওয়ার্নিং দিচ্ছি, এটা নরমাল বিষয়। তোর মনে হচ্ছে আমি তোকে নিয়ে মজা করব তাই তো? আই নো দ্যাট। তোর একটা গিল্টি ফিল হচ্ছে, বাট ট্রাস্ট মি আমি তোর অসহায় নিয়ে এটা মোটেও করব না। তুই রিল্যাক্স থাক, একদম আগের মতো। ঝগড়া কর, রাগারাগী কর। ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনা না তুই? আমার বাঘিনী!”

ন্যান্সি সামান্য নড়েচড়ে বসল, মুগ্ধ নয়নে তাকালো আফরিদের দিকে। এই প্রথম ভেতরে এক অজানা অনূভুতি কাজ করছে আফরিদ কে নিয়ে, মেয়েটা দোনোমোনো মনে শুধোয়।
“আ.. আপনি ইয়ারফোন কেন নিয়েছিলেন?”

আফরিদ ন্যান্সির কানের কাছে মুখ নামিয়ে নেশাতুর কন্ঠে বলে।
“আমি আমার বউয়ের দুষ্টু মোয়ানিং শুনতে চাইনি, না হলে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলতাম।”

ন্যান্সি বিস্মিত নয়নে তাকালো তার দিকে। আফরিদ ন্যান্সি কে নরমাল করতে রসিকতা করে আওড়াল।
“যাই বলিস না কেন ইট ওয়াজ সো টাইট।”

ন্যান্সি বোকার মতো মুখ করে তাকালো, কিসের কথা বলছে?
আফরিদ গলা খাঁকারি দিয়ে মিইয়ে যাওয়া গলায় বলে।
“আই মিন তোর কোমড়ের বেল্ট।”

আফরিদ উঠে দাঁড়ালো, স্টাডি রুম ছেড়ে বেরুনোর জন্য পা বাড়ায়, ন্যান্সি ভাবুক হলো সে তো কোনো বেল্ট পড়েনি তাহলে কিসের কথা বলল? ছোট্ট মস্তিষ্ক কথাটার সারমর্ম বুঝতে পেরে শিউরে উঠে।

“অস’ভ্য অস’ভ্য অসভ্য। আপনি আস্ত অস’ভ্য!”

যেতে যেতে যেতে হেসে উঠলো,বোকা বান্দি ধরে ফেলছে কথাটা।
“ইটস্ ট্রুথ অ্যাঞ্জু বেইবি। ইট ওয়াজ সো টাইট।”

ন্যান্সি নিজেও হেসে ফেলল আজকে। আফরিদের প্রতি তীব্র অনূভুতি কাজ করছে। উঁহু লোকটা মন্দ নয়। তাকে ভালোবাসে,তবে কি ন্যান্সির এক পা এগোনো প্রয়োজন?
পরক্ষণেই লজ্জায় বিবর্ণ হয় মুখশ্রী। অনূভুতির তোলপাড়ে ঠোঁটের কোণে ফুটে ওঠে লাজুক হাসি।
কিশোরী মেয়ের প্রথম অনূভুতি বলে কথা! প্রেমের দোলা লাগলো বুঝি?


বেসমেন্টের রুমে রয়েছে আলিয়াজ, এলোমেলো চুল গুলোতে হাত বুলাতে ব্যস্ত। মাঝে মধ্যে বাধা হচ্ছে শিকলটা।
আলোর অভাবে ঘরটা যেন আরও সংকুচিত হয়ে এসেছে। রুম জুড়ে র’ক্তের বিদঘুটে গন্ধ,কোনোভাবেই মানবজীবনের স্বাভাবিক গন্ধ হতে পারে না। দেয়াল জুড়ে ছায়ার টানাটানি, মেঝের ওপর ছড়িয়ে থাকা অজানা কিছু অবশিষ্টাংশ যা না চাইতেও চোখে পড়ে যায়, তবু মন সেগুলোর দিকে তাকাতে সাহস পায় না।

এক কোণে আলিয়াজ দাঁড়িয়ে আছে, তার মুখের কোণে বিকৃত এক হাসি। মাঝে-মধ্যে জিভের ডগা ঠোঁট ছুঁয়ে যাচ্ছে ঠিক যেন কোনো নিষিদ্ধ স্বাদের স্মৃতি তাকে এখনও তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে মানুষের হাড় গুলোর। তার চোখ দুটো অস্বাভাবিক উজ্জ্বল, এমন উজ্জ্বলতা যা মানুষে দেখা যায় না।

তার একদম সামনের চেয়ারে পা তুলে বসে আছে আফরিদ এহসান। চেয়ারটা কড়মড় করে উঠল যখন সে সামান্য ঝুঁকে সামনে এগোল। তার কণ্ঠ ঠান্ডা, অথচ ছুরির মতো ধারাল।

“স্বাদটা ভালো লেগেছে, তাই না? মানুষের মাংস বলে কথা!”

আলিয়াজের কাঁধে এক অচিন শক্তির ঢেউ দেখা দিল। সে ধীরে মাথা ঘুরিয়ে তাকাল আফরিদের দিকে, চোখ দুটো নিভে-আসা অগ্নিকুণ্ডের মতো।

“তুই যদি জানতিস! মানুষের মাংস যে ঠিক কতটা সুস্বাদু!”

আলিয়াজ হাসলো,হাসিটা বজায় রেখে বলল ঋ

“কাউকে ঠিকঠাকভাবে গ্রাস করার আনন্দটা কতটা গভীর! আহ্ কতটা স্বাদ!”

আফরিদ এবার ঠোঁটে এক ঠান্ডা হাসি টেনে নিল। সে পা নামিয়ে দুই হাত একসাথে চেপে ধরল, মনে হলো সে এবার সত্যিকারের লড়াইয়ের মঞ্চে নামবে।

“যেমন নিজের পরিবারকে করেছিলি তাই তো? ওদের খেতেও দারুন লেগেছিল?”

কক্ষের নিস্তব্ধতা মুহূর্তেই বিষাক্ত হয়ে উঠল।

আলিয়াজ মাথা টেনে পেছনে নিল, তারপর অদ্ভুত এক দমকা হাসিতে ভেঙে পড়ল।
“হ্যা। আমার মেয়েটার মাংস খুব সুস্বাদু ছিলো। ওর নরম হাতের আঙ্গুল গুলো যখন চিবিয়ে খাচ্ছিলাম তখন কি যে দারুন অনূভুতি হয়েছিল! আমি ওকেও খাবো,তোকেও খাবো, সবাইকে খাবো।”

আফরিদ গা দুলিয়ে হেসে উঠলো। উঠে দাঁড়ালো। ততক্ষন আলিয়াজ বলে উঠে।
“তাকে কেন নিয়ে এলি?”

আফরিদ একপল আলিয়াজ কে দেখে মুচকি হেসে গুনগুন করে বলল।

 মায়াবী চোখে কি মায়া 

যেনো গৌধূলির আবির মাখা
কি নেশা ছড়ালে
কি মায়ায় জড়ালে?

চলবে……..।🌿✨

(📌 গল্প জুড়ে শুধু রহস্য বাড়ছেই তো বাড়ছে,কমার নাম নেই। এই গল্পটা আমার শখের, আমার ড্রিম প্রজেক্ট। আমি জানি না এর আগে নরখাদক, পিরানহা জারা বোম্বা নিয়ে কেউ লিখছে কিনা। অনেকেই ইদানিং কপি করছে, বিষয়টা সত্যি খারাপ লাগছে। সময় নিয়ে লিখি কিছু পাঠকদের জন্য। অথচ কিছু পাবলিক কপি মেরে দেয়। আপনাদের কাছে অনুরোধ যদি কোথাও আমার গল্পের কোনো অংশ কপি দেখেন তাহলে প্রতিবাদ করবেন এবং আমাকে জানানোর অনুরোধ রইল। )

(📌বাসর দেইনি তার কারণ হচ্ছে ঈশান বেইমানি করেছে। আফরিদ এহসানের বাসর হবে সেন্টমার্টিন 👽 সবাই রেডি থাকবেন সেদিনের জন্য! তাছাড়া ইলহামের মনে কিন্তু প্রেমের দোলা লেগে গেছে 🤭🫣।)

অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা

[পর্ব ৩৫](শেষ অংশ)

লেখিকাফারহানানিঝুম

(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয়।)
(🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)

বরফে ঠাসা বিশাল ড্রামটার ভেতর ঈশান দাঁড়িয়ে কাঁপুনি যেন শরীরের ভাষা হয়ে উঠেছে। গায়ে শুধু তোয়ালের লাজুক আড়াল, দাঁত কাঁপতে কাঁপতে ঠোঁটের কোণে জমে উঠছে শীতের দীর্ঘশ্বাস। এই অবস্থায় তার ‘বউয়ের সম্মতি’ যে সত্যিই জমে বরফ হবে, সে বিষয়ে কারও বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।

ওদিকে আফরিদ আরাম করে চেয়ারে বসে ফোন স্ক্রল করছে নিশ্চিন্ত, নির্বিকার, যেন লনের এই তুষারনাট্য তার দৈনন্দিন বিনোদনেরই অংশ।
ঈশান অসহায় কণ্ঠে আকুতি ছুড়ে দেয়,

“বস, কান ধরছি। এইবারের মতো মাফ করে দিন স্যরি।”

আফরিদ গলা খাঁকারি দিয়ে তাকায়ও না।
“চুপ, শালা এখন ঠেলা সামলা। আমার বউয়ের কাছে আর কী কী করেছিস সব হিসাব বাকি।”

ঈশান নাক টেনে দীর্ঘশ্বাস ফেলে শব্দটা যেন সুরের মতো কাঁপে।

“কিন্তু বস, আমি তো আপনাদেরই হেল্প করছিলাম!”

আফরিদের চোখে তীক্ষ্ণ ঝিলিক।
“এমন হেল্প? যেটায় আমার বউ কাঁদতে কাঁদতে চোখের জল আর নাকের জল এক করে ফেলবে?”

ঈশান আবার নাক টানে, এবার প্রায় কান্না।
“এইবার ছেড়ে দিন বস দেখুন না, বউয়ের সম্মতি তো বরফ হয়ে যাচ্ছে!”

কথাটা কানে যেতেই আফরিদের দৃষ্টি বরফের চেয়েও ঠান্ডা।
“বেরিয়ে আয়।”

অনুমতি পেয়ে ঈশান হুড়মুড় করে বেরোয় মুক্তির আনন্দে নয়, লজ্জার আতঙ্কে। আর ঠিক তখনই লনে প্রবেশ করে এক অপূর্ব সুন্দরী রমণী। দৃশ্যটা দেখে ঈশান আঁতকে ওঠে; সম্মানের শেষ আশ্রয়টুকু বাঁচাতে প্রাণপণে দৌড়ে প্যান্ট পরার যুদ্ধে নামে বোতাম, জিপ, সব যেন তার বিপক্ষে ষড়যন্ত্রে নেমেছে।

তিতলি ভীতু চোখে দু’জনের দিকে তাকায় চাহনিতে বিস্ময়, কৌতূহল আর একচিলতে বিস্ময়।

আফরিদ ভ্রু কুঁচকে, অথচ ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি।
“এটাই তোর ভবিষ্যৎ বউ, ঈশান। তোর কালা মানিকের আসল দাবিদার।”

কথা শেষ না হতেই, ধুমধাম পায়ে হেঁটে আফরিদ লন ছেড়ে বেরিয়ে যায়।
ঈশান থমকে দাঁড়ায়। কালা মানিক?

তিতলি ঠোঁটে ঠোঁট চেপে হাসলো। ঈশান চোখ মুখ কুঁচকে নিল।ধমকের সুরে বলল।
“এই মেয়ে এভাবে হাসছো কেন?”

তিতলি মৃদু স্বরে ঠোঁট নাড়িয়ে বলল।
“আপনার কালা মানিকের কথা ভেবে।”

ঈশান অবিশ্বাস্য নয়নে তাকালো।
“অসভ্য মেয়ে মানুষের প্রাইভেট পার্টে নজর দিতে লজ্জা করে না? আর কে বলছে তোমাকে আমার মানিক কালা? দলাও তো হতে পারে?”

তিতলির কপালে গুটি কয়েক ভাঁজ পড়লো। কি অস’ভ্য লোক রে বাবা! সে প্রাইভেট পার্টে নজর দিচ্ছে? তিতলি মোটেও চুপ থাকতে পারলো না। দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠে।

“আমার এত সময় নেই মানুষের প্রাইভেট পার্টে নজর দেওয়ার। আপনি নিজেই তো নিজের কালা মানিক সবাইকে দেখিয়ে বেড়াচ্ছেন!”

ঈশান কথাটার অর্থ বুঝলো না। তিতলি নিচের দিকে ইশারা করলো, ওমনি ঈশানের হাতটা প্যান্টের জিপারে চলে গেল। তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে জিপার লাগাতেই ভুলে গেছে!

তিতলি হোহো শব্দে হেসে উঠলো। ঈশানের এই মূহুর্তে ইচ্ছে করছে এই অস’ভ্য মেয়েকে তুলে একটা আছাড় দিচ্ছে। অশ্লীল মেয়ে মানুষ!

🌿
ইদানিং বেশিরভাগ সময় স্টাডি রুমে থাকছে আফরিদ। কিছু জরুরী কথাবার্তা বলে কার সাথে যেনো।
তার কথার মাঝখানে এক জোড়া কাজল কালো চোখ উঁকি দিলো দরজার কাছে। সাদা রঙের ঘাঘড়াটার ভাঁজে ভাঁজে নরম আলো খেলছিল। ফর্সা শরীরটায় পোশাকটা এমনভাবে মানিয়ে গেছে, যেন সাদাটুকুই আজ তার পরিচয়। দু’হাত ভরা চুড়ির মৃদু ঝনঝন শব্দে বাতাসটাও কেমন সতর্ক হয়ে উঠেছে। লম্বা চুলগুলো যত্ন করে বিনুনি করা । আজ আর জিন্স-টপস নয়, আজ সে যেন নিজের ভেতরের অন্য এক রূপকে সামনে এনেছে।

আড়ালে দাঁড়িয়ে মুচকি মুচকি হাসছে ন্যান্সি। সেই হাসিতে লুকিয়ে আছে লাজ, কৌতূহল আর প্রথম প্রেমের নরম দোলা মন-কাননে লেগেছে।

এদিকে স্টাডি রুমে বসে থাকা আফরিদ হঠাৎই ভ্রু কুঁচকালো। অদ্ভুত এক টান অনুভব করে পিছু ফিরল সে। কিন্তু না কাউকে দেখতে পেল না। নিঃশব্দ করিডোর, স্থির দেয়াল, নির্লিপ্ত আলো সবকিছুই যেন স্বাভাবিক।

ঠিক তখনই ন্যান্সি খিলখিলিয়ে হেসে উঠল। দু’হাতে মুখ চেপে ধরেছে, যেন হাসিটা ধরা পড়ে যাবে এই ভয়ে। সেই মুহূর্তেই আচমকা কেউ একজন তার হাত টেনে ভেতরের দিকে নিয়ে গেল। ঘটনার আকস্মিকতায় সে হতভম্ব প্রশ্ন করার আগেই শব্দগুলো গলায় আটকে গেল।
এক মুহূর্তের মধ্যেই আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরা হলো তাকে। পরিচিত উষ্ণতা, পরিচিত গন্ধ ভয়টা মিলিয়ে গেল বিস্ময়ে।

“ইশ্ মাতারি রে এত সাজ,এত সৌন্দর্য আমি তো এমনিতেই আধ পাগল। এসব দেখে না পুরো পাগল হয়ে যাই!”

ন্যান্সি নড়েচড়ে দাঁড়ায়। ঠোঁট জোড়া আলতো করে ভিজিয়ে নিল। আফরিদের সামনে তার সৌন্দর্য নিতান্তই তুচ্ছ। আফরিদের ফর্সা হাতের সাথে ন্যান্সির হাত দুটো তুলনা করলেই বুঝতে পারা যায় ন্যান্সি কেমন দেখতে! তার সামনে ন্যান্সির ফর্সা রং ফিকে হয়ে আসে। ন্যান্সি মুগ্ধ হয়, যখন দেখে আফরিদ নামক পুরুষ সবচেয়ে সুদর্শন এবং তার স্বামী।

“তো? পাগল হলে হবেন আমার কি তাতে?”

আফরিদ আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ন্যান্সি কে। রহস্যময় হেসে বলে।
“ব্যাপার কি হুঁ? একটু চেঞ্জ লাগছে তোকে।”

ন্যান্সি গলা খাঁকারি দিয়ে নিজেকে যথা সম্ভব স্বাভাবিক রেখে বলল।
“কি আর ব্যাপার? আমি আপনার থেকে ডিভোর্স চাই!”

ডিভোর্সের কথা শুনে শুকনো কাশে আফরিদ। ছেড়ে দিলো ন্যান্সি কে। হাত বাড়িয়ে গ্লাস তুলে পানি খেলো। অতঃপর দৃষ্টি ঘুরিয়ে ফের চাইলো ন্যান্সির মুখ পানে।

“কি চাই?”

ন্যান্সি আগের ন্যায় চট করে বলতে পারলো না,কিয়ৎক্ষণ খামোশ থেকে বলল।

“ডিভোর্স চাই।”

আফরিদ শার্টের হাতা গোটাতে গোটাতে বলল।
“তাই? এত বড় কলিজা? খোদার তো তারিফ করতেই হয় আমার বউয়ের কলিজা মারাত্মক বড় দিয়েছে।”

ন্যান্সি ফাঁকা ঢোক গিলে ওমন কথা শুনে , আফরিদ কথা বলতে বলতেই এগুচ্ছে।
“চল এবার আমিও দেখি কতবড় কলিজা যে তুই ডিভোর্স চাস।”

ন্যান্সি খুক খুক করে কেশে উঠলো। পালাতে চাইল, ওমনি পাকড়াও করলো আফরিদ।

“বেয়াদব ছ্যামড়ি,এত সাহস ডিভোর্স চাওয়ার? খ্রিস্টানের বাচ্চা তোকে তো আমিই!”

ন্যান্সি হড়বড় করে বলে উঠে।
“না না আমার ডিভোর্স চাই না। আমি আপনার সাথেই থাকব।”

আফরিদ গলদেশে মুখ ডুবিয়ে ঘোর লাগা কন্ঠে বলে।
“আমি কি তোর?”

ন্যান্সি কম্পমান কন্ঠে বলে।
“হা.. হাসব্যান্ড।”

“তুই কি আমার?”

“ওয়াইফ।”

আফরিদ আরেকটু নিচু হয়, ন্যান্সি কে নিজের সাথে মিশিয়ে নিল ন্যানো সেকেন্ডের ব্যবধানে।
“তাহলে এবার সংসার করা যায়?”

ন্যান্সির হৃৎপিণ্ড ধড়ফড় করছে। কন্ঠনালি কাঁপছে। ছোট্ট করে জবাব দিলো।
“হুঁ।”

আফরিদ মোটেও প্রস্তুত ছিলো না এই জবাবের ,চট করে মুখ তুলে তাকায় গোল চোখের দিকে। অবিশ্বাস্য চাহনি ফেলে।
“আর ইউ ওকে অ্যাঞ্জু?”

আফরিদ কপালে,গলায় হাত ছুঁইয়ে দেখলো জ্বর আছে কিনা! না একদম সুস্থ!
আফরিদ খৈ হারালো , ন্যান্সি কে সহ সোফায় বসলো।
“আমার সাথে সংসার করতে তুই রাজী?”

ন্যান্সি কষ্টেসৃষ্টে বলে উঠে।
“ডিভোর্স তো দিচ্ছেন না। তাহলে আর কি ক…

বাকি টুকু শেষ করতে দিলো না আফরিদ, ঠোঁট বরাবরই গভীর চুমু খেলো। এরপর কপালে,গালে, নাকে।

“তাহলে চল কিছু করি।”

ন্যান্সি বড়বড় চোখ করে তাকালো,তাকে তো চুমুতেই মেরে ফেলছে লোকটা। নিঃশ্বাস নিতে দিচ্ছে না। বড় কিছু করলে তো খুঁজেই পাওয়া যাবে না।

ন্যান্সি ঠোঁট কামড়ে ধরে, দুষ্টু বুদ্ধি এসে ভীড় জমায় মস্তিষ্কে।
“মিস্টার এহসান,কাল শুক্রবার।কাল থেকে আপনার সাথে না হয় কিছু করব। শুভ দিনে শুভ কাজ।”

আফরিদ এই ন্যান্সি কে চেনে না ,তার বাঘিনী কি এবার সত্যি প্রেমে পড়ল নাকি? ন্যান্সি আফরিদ কে অবাকের চূড়ান্তে পৌঁছে দিয়ে বলে উঠে।
“আপনি ভীষণ সুন্দর, এহসান।”

আফরিদ ঠোঁট কামড়ে তাকালো, কি সব ভয়ঙ্কর কথাবার্তা বলছে এই মেয়ে। তাকে এসব বলে মে রে ফেলার ধান্দা? আশ্চর্য! আশ্চর্য! আশ্চর্য!

আফরিদ চটজলদি ন্যান্সির চোখ দুটো চেপে ধরে। লজ্জা নামক বস্তুত সাথে সে পরিচিত হতে চায়না। এই রমণী তাকে লজ্জা দেওয়ার পাঁয়তারা করছে।

“এই খ্রিস্টানের বাচ্চা সত্যি করে বলতো কি গোল পাকাচ্ছিস?”

ন্যান্সি চমকালো , আফরিদ তাকে খ্রিস্টানের বাচ্চা কেন বলছে?
“এই এই আমি মোটেও খ্রিস্টান নই। পাঁচ কালেমা পারি আমি। নামাজ এবং কুরআন তেলাওয়াত দুটোই পারি। আমি মোটেও খ্রিস্টান নই!”

আফরিদ ন্যান্সি কে নিজের সাথে চেপে রাখা অবস্থায় আওড়াল।
“নিজের নাম দেখ।”

ন্যান্সি বিড়বিড় করে নিজের নাম বলল “ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনা” পরক্ষণেই চোখ পাকিয়ে বলল।
“একদম ঢঙ করবেন না। আমি মুসলিম।”

আফরিদ শব্দ করে হেসে উঠলো। টুপ করে ন্যান্সির গালে চুমু আঁকে।
“মজা করছিলাম,পরাণ। আমার কিউট সুইট খ্রিস্টানের বাচ্চা!”

ন্যান্সির রাগ হচ্ছে। অসভ্য লোক। ,খুব বিশ্রী মজা ছিলো এটা!

🌿
রাত বারোটা ছুঁই ছুঁই..
রুমের অন্ধকারে তন্দ্রা ভাঙতেই ন্যান্সি মন ভর করে ভয় আর অবিশ্বাসের কুয়াশায়। হঠাৎ করেই তার চোখে দৃশ্য ভেসে উঠলো একটা বন্ধ, কুঁচকে থাকা রুম, যেখানে আঙ্গুলের স্পর্শেও নড়ছে না। হৃদয় উঁচু হয়ে ওঠে, গলায় চেপে বসে এক অদ্ভুত শুকনো শ্বাস।
কণ্ঠরোধী, কাঁপা কাঁপা স্বরে বলতে লাগলো।

“কেউ আছো? কোথায় আমি? আফরিদ? আফরিদ কোথায় আপনি? আফরিদ এটা ভালো হচ্ছে না, আপনি আমাকে বের করুন।”

কাঁপতে থাকা এই কথাগুলো যেন বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। ন্যান্সির মনে পড়লো আফরিদের সাথে দুষ্টুমি করেই তো চেঞ্জ করে ঘুমিয়েছিল সে। কিন্তু এখন? এটা কি হচ্ছে তার সাথে?

ন্যান্সি নড়তে চেষ্টার সাথে সাথে হাত পা বাঁধা রয়েছে তা বুঝতেই পারে। প্রতিটি মুহূর্ত যেন তার জীবনের রঙ ফিকে করে দিচ্ছে। নিঃশ্বাস আটকে, চোখ ফেটে যায়, শরীর কেঁপে ওঠে।
“কে আছো আমাকে কেন বেঁধে রেখেছো? আফরিদ? আফরিদ আপনি কোথায়? কেন এমন করছেন? আমার ভয় করছে প্লিজ।”

ঠিক সেই সময় লুকানো একটি পর্দার আড়াল থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসে সে মুখে কালো মাস্ক, হুডি ঢেকে রেখেছে অচেনা রূপ, চোখে ঝলমল করছে অশুভ লোকটাকে দেখে । হ্যাঁ, এটা নিশ্চিত ওই বাঁশ বাগানের আগুন্তক। ধীর পায়ের আওয়াজে সে এগিয়ে আসে, ভেতরে চেপে থাকা ভয় জীবন্ত হয়ে উঠেছে। ন্যান্সির হৃদয় চিৎকার করছে, কিন্তু কণ্ঠ রুদ্ধ, এবং ভয় শুধু ভয় ঘেরা দহন হয়ে শরীরে ছড়িয়ে যাচ্ছে।

“কে তুমি? কেন বেঁধে রেখেছো আমাকে?”

আগুন্তক ভয়ানক একটা হাসি টানে ঠোঁটে। হাসিটা মাস্কের ভেতরেই রয়ে গেল।

রুমের চারিদিকটা হঠাৎ শীতল হয়ে ওঠে, লোকটার হাত তার গলায় ঘেঁষে ধরেছে। লোকটা ফিসফিসিয়ে বললো।

“আমার জিনিস নিতে এসেছি বেইবি গার্ল।”

কপাল বেয়ে ঘাম জমেছে ন্যান্সির। কি নিতে এসেছে এই লোক? মস্তিষ্কে চাপ প্রয়োগ করতেই স্মরণ হলো সেই ঈগলের আংটির কথা।

🌿🌿

“চেনো তাকে?”

ছোট একটা বাচ্চা ছেলে আর একজন ডক্টরেট ছবি। দেখে মনে হবে ওরা বাবা ছেলে ছাড়া আর কেউ না। চোখ দুটো ভীষণ চেনা ন্যান্সির। এই যে নীলাভ মনি জোড়া!

ন্যান্সি কাঁপছে , কম্পিত কন্ঠে বলল।
“কারা ওরা? আর আমাকে কেন দেখাচ্ছো? কে তুমি?”

আগুন্তক হাসে , হাসিটা বড় ভয়ংকর লাগে ন্যান্সির কাছে।

“আমার বাঁধন খুলে দাও বলছি। এখুনি খুলো।”

আগুন্তক আরো একটা এলবাম এগিয়ে দিলো ন্যান্সির দিকে।

“এগুলো তোমার বেইবি গার্ল , এগুলো পড়ো কেমন? আর আমার জিনিস টা দাও।”

ন্যান্সি বুঝলো না এই লোকটা কি চাইছে তার কাছে?
“কী দেব আপনাকে? আমার কাছে কিছু নেই।”

আগুন্তক আঁধারে হাসলো , ধুমধাম পা ফেলে এগিয়ে এসে ন্যান্সির জিন্স পকেট থেকে নিজের কাঙ্ক্ষিত আংটি টা টেনে নিল। ন্যান্সির মনে পড়লো সে ঘুমানোর সময় সেদিন কার জিন্স পরেছিল যেটাতে ওই হুডি পরা লোকটার আংটি আর হুডির অংশ রেখেছিল।

“ডোন্ট বি স্মার্ট বেইবি গার্ল। “

ন্যান্সি ক্ষিপ্ত মেজাজে চেঁচিয়ে উঠলো।
“তোমাকে কিন্তু আফরিদ ছাড়বে না। মে রে ফেলবে!”

লোকটা বোধহয় হাসলো। ন্যান্সির সামনে বসলো। হিসহিসিয়ে বলল।
“মে রে ফেলবে তাই না? কিন্তু আমাকে ধরার আগেই তো আমি পালাবো? আর একটা সিক্রেট কথা বলি? আমিই তোমার পরিবার কে মে রে দিয়েছি।”

ন্যান্সির রক্ত টগবগ করে ফুটছে,সে এই মানুষটাকে চিনে না।তার কন্ঠস্বর অবধি চিনতে পারছে না। কে এই লোক?

“তুমি ভেতরে কি করে এলে? এতটা সাহস কিভাবে হলো?”

লোকটা ফের বলল।
“আমার যে অনুমতি লাগে না বেইবি গার্ল। আমি সব পারি,সব। আমাকে কেউ আটকাতে পারবে না। তোমার সামনে থেকে ধ্বংস দেখাবো। আজকের মতো গুড বায়। তুমি বরং এই এলবাম টা দেখো ওকে? আমি আবার আসবো, লাস্ট বার দেখা করতে। “

কিছু একটা ঘাড়ে বিধঁলো ন্যান্সির। সহসা জ্ঞান হারালো ন্যান্সি।

চলবে……….।🌿✨

(📌 ধর্ম? উঁহু ধর্ম নিয়ে যা আসবে বিস্তারিত ভাবে লিখবো। সামান্য কিছু দেখেই হুলুস্থুল শুরু করবেন না। আর আহামরি কিছু ভেবেও বসবেন না।😒)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply