অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা
[পর্ব ৩৩]
লেখিকাফারহানানিঝুম
(🚫এই গল্পের কোনো দৃশ্য, সংলাপ, প্লট অনুপ্রাণিত হয়ে কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয় এবং প্রাপ্তমনস্কদের জন্য উন্মুক্ত।)
শৌধ নামে একটা নতুন ছেলে এসেছে , ছেলেটা বড় কাজের।
এই দুদিনেই বিষয়টা ধরতে পেরেছে নীলাদ্রির ধূর্ত মস্তিষ্ক।
অফিসের কেবিনে বসে আছে নীলাদ্রি , ডেকে পাঠিয়েছে শৌধ কে।
কেবিনের কাছে এসে দরোজায় টোকা দিয়ে ক্ষীণ স্বরে ডাকলো।
“আসবো?”
নীলাদ্রি ভারিক্কি কন্ঠে বলে।
“এসো।”
শৌধ শান্ত পদক্ষেপ ফেলে ভেতরে প্রবেশ করলো।
“আপনি আমাকে ডেকেছিলেন স্যার?”
রোগা ছেলেটা ,খুব একটা লম্বা নয় আবার খুব একটা খাটো নয়। মুখখানি দেখেই মনে হবে সিধে সাদা , অথচ কতটা চালাক আর ধূর্ত তা বেশ ভালোই বুঝতে পেরেছে নীলাদ্রি। কিন্তু হঠাৎ সে এখানে কেন এলো? আর সেদিন নীলাদ্রি কে কেন সবজির বস্তা সহ ট্রালার থেকে বাঁচালো?
ভাগ্যক্রমে সেদিন আতাউর এর বদলে নীলাদ্রি গিয়েছিল ট্রালার নিয়ে কিন্তু মাঝপথে ব্রেক ফেল করে , আরেকটুর জন্য মরতে ম’রতে বেঁচেছে নীলাদ্রি।
ছেলেটা তাকে বাঁচিয়েছে ঠিকই সাথে সবজির বস্তা গুলো বাঁচিয়েছে। আশ্চর্য হয়েছিল তখনই যখন ছেলেটা মুখ ফসকে বলেছিল অ’স্ত্র গুলোর ক্ষতি হয়নি।
শৌধ নির্বিকার দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নীলাদ্রির দিকে। নীলাদ্রি সন্দিহান কন্ঠে শুধোয়।
“কে তুমি?”
এহেন প্রশ্নে বিচলিত দেখালো শৌধ কে , শুকনো ঢোক গিলে বলল।
“আমি শৌধ স্যার ,কি হয়েছে?”
নীলাদ্রি বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো ,চওড়া কপাল কুঁচকে এলো। আচানক পিস্তল বের করে চেপে ধরে শৌধের কপালে। দাঁতে দাঁত পিষে হিসহিসিয়ে বলে।
“সত্যি করে বল কে তুই?”
শৌধ ঘাবড়ে গেল , দুহাত জোড়া করে একনাগাড়ে আওড়াতে লাগলো।
“সত্যি বলছি স্যার আমি সাধারণ একজন কর্মী!”
নীলাদ্রির বলিষ্ঠ হাতের চাপে ঘাড়ের হাড় বোধহয় ভেঙ্গে যাবে।
“বল বলছি কে তুই? তুই যদি সাধারণ কেউ হোস তাহলে কি করে জানলি সবজির বস্তায় অস্ত্র রয়েছে? বল বলছি।”
শৌধ কাঁপতে কাঁপতে বলল।
“আমি অনেক আগে থেকে এখানে কাজ করতে চাইতাম স্যার ,তাই সব জানতাম। বিশ্বাস করেন আমি আর কিছু জানি না।”
সহসা ঘাড় ছেড়ে দিলো নীলাদ্রি। সে কি বিনা কারণে সন্দেহ করছে?
🌿_🌿 আমার পেইজ লিংক https://www.facebook.com/profile.php?id=100087612087977
লিভিং রুমে বসে কিছু জরুরী কথা বলতে বড় ব্যস্ত আফরিদ আর ঈশান। বরাবরের মতো আজকেও দু আঙ্গুঁজে ভাঁজে সিগারেটের অস্তিত্ব রয়েছে।
ঈশান নিজেদের পরের ডিল গুলোর সব ফাইল আফরিদের নিকটে দিচ্ছে। খবর এসেছে মারকো এখনো হসপিটালে ভর্তি,অবশ্য থাকার কথাই আফরিদ এহসান যে তাকে গু’লি করেছে। ওর ভাগ্য ভালো আফরিদ জানে মা’রেনি।
তাড়াহুড়ো করে নিচে ছুটে এলো ন্যান্সি। এতটা উতলা ভঙ্গিতে আসতে দেখে আফরিদ সতর্ক কন্ঠে বলল।
“আস্তে,পড়লে ব্যথা পাবি!”
ন্যান্সি মুখ ভেংচে, ইদানীং তার এই বাজে স্বভাব লক্ষ্য করছে আফরিদ। কথায় কথায় জিভ বের করে ভেংচি কাটে।
“আপনার কি মনে হয় আমি পড়ে যাবো নাকি?”
ঈশান খিকখিক করে হেসে উঠলো।
“মনে হওয়ার কি আছে ম্যাম? যেটা সত্যি বস সেটাই বলল।”
ন্যান্সি চোখ পাকিয়ে তাকালো,সহসা হাসিটা উবে গেল তার। আফরিদ ভাবলেশহীন ভাবে বলল।
“যখন তখন ব্যথা পাওয়া তোর র’ক্তে বহমান!”
ন্যান্সি বড় তেজি কন্ঠে বলে উঠে।
“জি না। ভুলবেন না আমি কুংফু মাস্টার।”
আফরিদ কিছু বলতে গিয়েও বলল না। না হলে তার বিখ্যাত বাণী বা’লের মাস্টার কথাটাই বেরিয়ে আসতো মুখ থেকে।
আফরিদের মস্তিষ্ক জোড়ে দুষ্টুমি ঘুরপাক খাচ্ছে।
আফরিদ ঈশান কে বলল।
“ঈশান,চল তোর ম্যামের সাথে এক ম্যাচ খেলে নে। তোর ম্যাম দারুণ মাস্টার।”
ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল ঈশান, ভুলবশত আ’ঘাত লাগলে আফরিদ তাকে কবরে পাঠিয়ে দেবে।
ন্যান্সি দমে যাওয়ার মেয়ে মোটেও নয়। সেও নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় বলে।
“আসুন আসুন এক ম্যাচ ফাইট করি।”
ঈশান অসহায় চোখে তাকায় দুজনের দিকে। দু’জন মিলে তাকে কবরে পাঠানোর পাঁয়তারা করছে কেন?
ন্যান্সি বেশ হাত সামনে এনে কুংফু স্টাইলে ধরলো। ঈশানের মনে হচ্ছে এই জীবনে এইটা সবচেয়ে বড় শাস্তি, আফরিদ যে বউ পাগল তা সে জানে। কিছু হলেই তো তার স্থান হবে আলিয়াজের পেটে।
ঈশান আরো একটিবার তাকালো আফরিদের দিকে। আফরিদ চোখের ইশারায় যেতে বলল।
ঈশান হতাশ হলো, আফরিদ দুহাত ভাঁজ করে বুকে গুঁজে দাঁড়ায়।
শুরু হয় ফাইট। ঈশান কোনো রকমে নিজেকে বাঁচিয়ে নিচ্ছে। না সে আঘাত করবে আর না ন্যান্সি কে আঘাত করতে দেবে! আফরিদ দুজনকে চিয়ারআপ করতে বলল।
“কাম অন অ্যাঞ্জেলিনা,কাম অন ঈশান। আমার মান ইজ্জত ডুবিয়ে দিস না!”
কিন্তু শেষ রক্ষা আর হলো না ভুলবশত ন্যান্সির গায়ে আঘা’ত করে বসে। তবে সেই আঘা’ত লাগল আফরিদের পিঠে। বিদ্যুৎ বেগে সামনে চলে এলো আফরিদ। ভয়ার্ত ন্যান্সি পড়তে নিলে আঁকড়ে ধরে তাকে।
ঈশান বিস্ফারিত নয়নে তাকালো,যেমনই আফরিদ অগ্নিদগ্ধ নয়নে ঘুরে তার দিকে তাকালো ওমনি এক দৌড়ে মঞ্জিল থেকে বেরিয়ে গেল ঈশান। এখুনি আফরিদ তাকে কাঁচা খেয়ে ফেলবে!
“আয় হায় আমি জিতলাম তাই না? আপনার লোক পালিয়েছে, আপনি সামনে না এলে হারিয়ে দিতাম।”
আফরিদ চওড়া হাসলো,হাসিটা বড় স্নিগ্ধ। মাথা দুলিয়ে সায় জানালো।
“হুঁ হুঁ তুইই জিততি।”
দৌড়াতে দৌড়াতে মঞ্জিল থেকে অনেকটা দূর চলে এসেছে ঈশান। বেঁচে গেছে সে,যাক বাবা এবারের মতো বেঁচে গেছে।
আফরিদ আনমনা হয়ে কিছু একটা নিয়ে বড় ভাবনায় ছিলো। সেই চিন্তা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে সুশ্রী চেহারায়।
পুরুষের চোখ দু’টো যেনো দূর দিগন্তে আটকে আছে অদৃশ্য কোনো জটিলতায় ডুবে থাকা মন বারবার ভেসে উঠছে তার অবয়বে। কপালের ভাঁজে চিন্তার রেখা খোদাই হয়ে আছে, ঠোঁটের কোণে অচেতন এক নিঃশ্বাস বারবার থেমে যাচ্ছে। চারপাশের কোলাহল কিংবা রঙিন দৃশ্যপট তার দৃষ্টি স্পর্শ করছে না; এক অদ্ভুত বিমর্ষতা তাকে ঘিরে রেখেছে নিঃশব্দে।
ঠিক সেই মুহূর্তে ন্যান্সি নিঃশব্দ পদক্ষেপে রুমে প্রবেশ করল। দরজার ফাঁক গলে আসা আলোয় তার অনুপম মুখমণ্ডল স্পষ্ট হলো। ন্যান্সি দ্রুত ক্লোজডের কাছে গেল। নিজের জন্য একটা ড্রেস বের করে হতাশ দৃষ্টিতে আরো একবার দৃষ্টি বুলিয়ে নিলো ক্লোজডের ভেতরে। এত এত ড্রেস, আফরিদ নিজে আনিয়েছেন শুধু মাত্র তার জন্য। ন্যান্সির আফসোস হয়, শপিং করার অজুহাতেও তো বেরুতে পারে না এখন।
ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে এলো ন্যান্সি,চোখ কুঁচকে এলো তার।
নষ্ট পুরুষের এমন নিমগ্ন অবস্থা দেখে রমণীর চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে উঠল।
তার দৃষ্টিতে কৌতূহল, আবার খানিকটা উৎকণ্ঠাও কেন এভাবে হারিয়ে গেছে আফরিদের? কী এমন বেদনায় এত ভারী হয়ে উঠেছে তার বুলেটের মতো ঠোঁট জোড়ায়?
“উহুম কি ব্যাপার মনে হচ্ছে কিছু নিয়ে চিন্তায় আছেন?”
আফরিদ যেন আগেই টের পেয়েছিল তার আগমনের আভাস দরজার আঙুলে আলতো নাড়া লেগেছিল হৃদয়ের কপাটে। তবু হঠাৎ করেই উচ্চারিত প্রশ্নে তার ভেতরটা কেঁপে উঠল, মুখাবয়বে ফুটে উঠল বিচলিত ভাব।
অদূরে কোণে বসে থাকা কাইট্যান হঠাৎ নরম স্বরে ম্যাও ম্যাও করে কাছে এলো, পায়ের গায়ে গা ঘষে উঠল। ন্যান্সি এক মৃদু হাসি ফুটিয়ে তাকে টুক করে কোলে তুলে নিল। বিড়ালের গলার ঘড়ঘড় শব্দ পরিবেশে এক অদ্ভুত স্থিরতা নামিয়ে আনল।
তবু ন্যান্সির চোখে রয়েছে না বিন্দুমাত্র দোদুল্যমানতা। ঠোঁটের রেখা ছিল নির্বিকার, আর কণ্ঠস্বর বরফ গলাতে সক্ষম , অভ্যন্তরে শীতল। সে আবারো প্রশ্ন ছুড়ে দিল আফরিদের দিকে।
“কি হয়েছে জানতে পারি?”
প্রশ্নের সহজ সরলতা পুরুষকে আরও গভীর ভাবনার ঘেরাটোপে আবদ্ধ করল যেন তার সমস্ত গোপন অস্থিরতা হঠাৎ আলোতে ধরা পড়ে গেল।
আফরিদ নিজেকে খানিকটা ধাতস্থ করে বলল।
“ভাবছি।”
কন্ঠে এক প্রকার উত্তাপ , ন্যান্সি ভড়কালো। কি নিয়ে ভাবছে আফরিদ?
“আচ্ছা? তা ঠিক কি নিয়ে ভাবছেন আমিও শুনি একটু?”
আফরিদ তপ্ত নিঃশ্বাস ছাড়লো ,ঘাড়ে হাত বুলিয়ে নির্মল কন্ঠে বলে।
“খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একটা।”
এবারে রসিকতা ছেড়ে অদ্ভুত ভঙ্গিতে তাকালো ন্যান্সি , জানতে উৎকন্ঠা হয়ে আছে সে। কি এমন ভাবছে আফরিদ এহসান? যার জন্য এতটা অস্থির এতটা ব্যাকুল দেখাচ্ছে তাকে!
“বলবেন তো কি নিয়ে ভাবছেন?”
আফরিদ স্পষ্টভাবে বলে।
“তোর খামখেয়ালি নিয়ে।”
আশ্চর্যের সীমান্তে পৌঁছে গেল ন্যান্সি ,গোল গোল চোখ করে তাকালো নীলাভ মনি জোড়ার মালিকের দিকে। কি বলল সে ন্যান্সি খামখেয়ালি করে?
এক মুঠো ক্ষোভ প্রকাশ করে শুধোয়।
“কোন বিষয়ে আমি খামখেয়ালি করেছি?”
“খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়ে তোর এই খামখেয়ালি পনা আমার মোটেও পছন্দ নয়।”
ন্যান্সির বিচক্ষণ মস্তিষ্ক ধরতে পারলো না ঠিক কোন জায়গায় খামখেয়ালি করেছি
“মানেটা কি? কোন বিষয়টা আমি উপেক্ষা করেছি বলুন?”
আফরিদ বড় বিরক্তিকর কন্ঠে বলল।
“আমার বংশধর নিয়ে তো মস্করা করে চলেছিস। বিয়ে হয়েছে মাসের উপর হতে চলল অথচ এখনো আমার বংশধর আনার প্রসেসিং শুরু করতে পারলাম না!”
ওষ্ঠো জোড়া ফাঁক হয়ে এলো ন্যান্সির। বিস্মিত নয়নে তাকিয়ে আছে নীলাভ চোখের লোকটার দিকে।
এই মূহুর্তে নিজের গালে কষে দু’টো থাপ্পড় বসাতে ইচ্ছে করলো ন্যান্সির। কোন দুঃখে এই বেয়াদব পুরুষের সাথে সে কথা বলতে এসেছিল?
“আপনি না আসলেই অত্যন্ত বেয়াদব একটা পুরুষ।”
একপেশে হেসে ফেলল আফরিদ। দু দ্বারে মাথা দুলিয়ে বলল।
“হুঁ খুব বেয়াদব।”
রাগে ফোঁস ফোঁস করে বেরুতে যাবে আকস্মিক বাহুতে টান পড়লো তার। নিজের প্রশস্ত বক্ষে এনে ফেলল রমণী কে। ঘটনার আকস্মিকতায় তনু মন কম্পিত হলো রমণীর। গায়ে শীত ধরানো হাওয়া এসে চাবুকের ন্যায় আঁচড়ে পড়ে রমণীর বক্ষভাজে।
গায়ে কাঁপুনি ধরিয়ে দেওয়ার ন্যায় আরেক দফা চমকে দিয়ে নির্মল কন্ঠে বলে উঠে তার নষ্ট পুরুষ।
❝ওই জান বাচ্চা তুই কি জানিস আমার এই পাপিষ্ট শরীরে তোর ভালোবাসার বিচরণ!❞
~আফরিদ এহসান।
গোল গোল চোখ দুটো শান্ত হয়ে এলো ন্যান্সির। কপাল ভাঁজ করা রেখা গুলো উবে গেল সপাটে।
তাকে অবাক করে দিয়ে আশ্চর্যের ন্যায় শুধোয়।
“আপনি ভালোবাসতে জানেন?”
আফরিদ আবারো হাসে ,তবে এবারে খানিকটা তাচ্ছিল্যের সহিতে। সেকেন্ডের মধ্যে নিজের ভাবান্তর বদলে জিজ্ঞাসু কন্ঠে শুধোয়।
“আমাকে কখনো ছেড়ে যাস না, মরে যাবো আমি।”
দখিনা হাওয়া এসে কপালে লেপ্টে থাকা ছোট চুল গুলো কে অনায়াসে উড়িয়ে দিচ্ছে রমণীর। বড় ব্যাকুল ,বড় অস্থির দেখালো মাফিয়া কিং আফরিদ এহসান কে। সেও অস্থির হয়? সেও কি ভালোবাসতে জানে? হয়তো জানে যেটা এত দিন ধরে ধরতে পারেনি ন্যান্সি।
তবে আজ কেন ছেড়ে না যাওয়ার কথাটি শুধোয়? সে কি এমন কিছু করবে যার জন্য ন্যান্সি কে আবারো পালাতে হবে?
ন্যান্সি আবদারের সুরে চেয়ে বসলো।
“একটা জিনিস চাইলে দেবেন?”
আফরিদ চোখের ইশারায় চাইতে বলল। ন্যান্সি জড়তা কা’টিয়ে বলে উঠে।
“আমি আম্মু আব্বুর সাথে দেখা করতে চাই। প্লিজ না করবেন না।”
বিরক্ত প্রকাশ করতে গিয়েও করলো না আফরিদ। উল্টো ন্যান্সি কে অবাক করে দিয়ে বলল।
“কখন যেতে চাস?”
বিস্মিত নয়নে তাকালো ন্যান্সি , সত্যি এই জাঁদরেল লোকটা তাকে নিয়ে যাবে?
“সত্যি নিয়ে যাবেন? আপনি জানেন ওরা কোথায় আছে?”
আফরিদ উপর নিচে মাথা দোলায় অর্থাৎ সে জানে।
ন্যান্সি উৎকন্ঠা হয়ে বলল।
“এখুনি যেতে চাই।”
আফরিদ এক বাক্যে বলে উঠে।
“সময় পনেরো মিনিট এর মধ্যে রেডি হয়ে আয়।”
ব্যস এটুকুই ছিলো আদেশ , ন্যান্সি উড়ন্ত পাখির ন্যায় ছুটে গেল ক্লোজডের কাছে দিকে। আবারো পছন্দ মতো ড্রেস টা বের করে নিয়ে দ্রুত ওয়াশ রুমে চলে যায়। কতগুলো দিন পর সে তার আম্মু আব্বু কে চোখের দেখা দেখবে। বোন তন্বীর আপু আপু ডাক। আফিয়া হায়দারের বকাঝকা ,আর বাবা মামুন হায়দারের স্নেহ ভরা মাথায় হাত। কথাগুলো ভাবতেই আবেগে আপ্লুত হয়ে উঠছে তার মন।
নিষ্ঠুর,পাষণ্ড, নষ্ট পুরুষ অবশেষে তার আবদার রাখতে চলেছে। যাক ততটাও মন্দ নয় এই নষ্ট পুরুষ!
🌿_____🌿
রাতের নিস্তব্ধতা ভেদ করে হঠাৎ করেই ভেসে এলো এক অচেনা শব্দের ঢেউ। বাঁশবাগানের ভেতর থেকে যেন পায়ের চাপা আওয়াজ ক্রমশ বাড়তে লাগলো, ঠিক যেনো একদল অদৃশ্য মানুষ ছায়ার ভেতর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। চারদিক ঘিরে আছে গাঢ় অন্ধকার, মাঝে মাঝে দূরের পেঁচার ডাক আরও শীতল করে তুলছে পরিবেশ।
ঘুম ভেঙে উঠে বসেন মামুন হায়দার। কপালে ঘাম জমে উঠেছে, বুকের ভেতর অজানা আশ’ঙ্কার ঢেউ দুলছে। মনে হচ্ছে, অদৃশ্য কারও দৃষ্টি তাঁকে ভেদ করছে, গা শিউরে ওঠা অনুভূতি ক্রমশ গ্রাস করছে তাঁকে।
পাশেই নির্বিঘ্নে ঘুমিয়ে আছে স্ত্রী আফিয়া হায়দার, নির্ভাবনায় ঢলে থাকা মুখখানি আলো আঁধারিতে আরও শান্ত মনে হচ্ছে। অথচ বাইরে যেন ঘনিয়ে আসছে এক রহস্যময় আতঙ্ক, রাতের নীরবতা ভেঙে দিচ্ছে সেই অদ্ভুত পায়ের শব্দগুলো।
আচানক দৃষ্টি গেল জানালার দিকে ,লালচে আলো দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। না না এটা কোনো আলো নয় এ যে আ’গুন!
“আফিয়া! আফিয়া উঠো আফিয়া উঠো।”
স্বামীর ডাকে নিদ্রায় মশগুল আফিয়া হায়দার ধড়ফড়িয়ে উঠে বসলেন।
পাগলের ন্যায় শুধান।
“কি হয়েছে?”
মামুন হায়দার জানালার দিকে ইঙ্গিত করলেন , আফিয়া হায়দার আঁতকে উঠেন। হাঁকডাক ছেড়ে বলে চলেছেন।
“আ’গুন! আগুন।”
মস্তিষ্কে মাথা চাড়া দিলো পাশের রুমে তার মেয়েটা রয়েছে।
“আমার মেয়ে ? আমার মেয়েটা ওই রুমে।”
ধীরে ধীরে আ’গুনের লে’লিহান শিখা যেন র’ক্তপিপাসু দানবের মতো বাড়িটিকে গ্রাস করতে লাগল। কাঠের বিম চিড় ধরে বিকট শব্দে ফেটে উঠছে, জানালার কাঁচ গলে গলগল করে ঝরছে অ’গ্নিলাভার মতো। ঘরের ভেতরে অসহায় হায়দার পরিবার ছটফট করছে, তাদের হাহাকার ভেসে যাচ্ছে দমবন্ধ করা ধোঁয়ায়।
“বাঁচাও , আমাদের কেউ বাঁচাও। আহ্!”
কারো আর্ত’নাদ, কারো কান্না, কারো জীবনভিক্ষার চিৎকার মিলেমিশে তৈরি করেছে এক ভয়ংকর সুর, যা বাইরের পৃথিবীতে পৌঁছায় না। নির্জনতার আঁধারে দাঁড়িয়ে থাকা বাড়িটি যেন পরিত্যক্ত কোন শ্মশান যেখানে আগুনই একমাত্র সাক্ষী, আর মৃত্যু তার অদৃশ্য হাত বাড়িয়ে নিচ্ছে প্রতিটি প্রাণের দিকে।
শিখাগুলো একেকটা জীবন্ত সাপের মতো ঘরের কোণ কোণ বেয়ে ছুটে বেড়াচ্ছে, দরজা জানালা বন্ধ হয়ে যেন পৈশা’চিক ফাঁদে আটকে ফেলেছে তাদের। চিৎকার ধীরে ধীরে ক্ষীণ হয়ে আসছে, কেবল ধোঁয়ার কালো চাদর ছড়িয়ে দিচ্ছে ভয়াল অন্ধকার।
মুহূর্তেই পুরো বাড়িটা পরিণত হলো মৃত্যুকূপে যেখানে আগুন নেচে নাচে সব গিলে খেলো, আর চারপাশে নিস্তব্ধ প্রকৃতি দাঁড়িয়ে রইল ভয়াবহ।
অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ নামে নরপ’শুটি আগুনের লেলিহান নৃত্য উপভোগ করছে এক অমানবিক আনন্দে। তার গায়ে হালকা বাদামি রঙের হুডি, মুখের অর্ধেক ঢাকা। চোখ দু’টো যেন জ্বলন্ত কয়লার মতো দাউ দাউ করছে। ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠেছে এক বিকৃ’ত হাসি, যেন আ’গুনে পুড়তে থাকা মানুষের চিৎকারই তার কানে সঙ্গীত।
“গেইম ইজ ওভার।”
বিড়বিড় করে আওড়ালো আগুন্তক লোকটা।
পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা দুজন সাঙ্গপাঙ্গ অদ্ভুত ঠাণ্ডা নিষ্ঠুরতায় দেখছে দৃশ্যখানি। একজনের হাতে মোটা লাঠি, হাতে ছু’রি কিন্তু প্রয়োজন নেই, কারণ আ’গুনই তাদের হয়ে কাজ করছে। চারপাশের নীরবতা ভেদ করে শুধু ভেসে আসছে ভেতরে আটকে পড়া হায়দার পরিবারের আর্ত’নাদ, যা ধীরে ধীরে আগুনের গর্জনে ডুবে যাচ্ছে।
হুডি ঢাকা নরপশুটি দু’হাত বুকের কাছে গুটিয়ে দাঁড়িয়ে রইল, যেন এক মহাপ্রলয়ের নাট্যমঞ্চের পরিচালক সে-ই। শিখাগুলো যখন ছাদ ভেদ করে আকাশ ছুঁতে লাগল, তখন তার বিকৃত হাসি আরও চওড়া হলো। মৃত্যু আর ধ্বংসই ছিল তার কাম্য, আর সেই ক্ষুধা মিটছে ধীরে ধীরে।
“আমার কাজে বাধা দেওয়া মানুষ গুলো কে এভাবেই সরিয়ে ফেলি।”
চলবে………..।✨
(📌 পাঠকের উদ্দেশ্যে কিছু কথা। আপনারা অনেকেই চাচ্ছেন আফরিদ আর ইলহামের মধ্যে কিছু হোক। হ্যা হবে, অবশ্যই হবে। কিন্তু জোরপূর্বক নয়। এমনিতেই আফরিদ ইলহাম কে জোর করে বিয়ে করেছে যার ফলে ইলহাম কিছুটা ভীতু আফরিদের প্রতি অনূভুতি প্রকাশ করতে। তা ছাড়া আমি নোটিশ করেছি আমার লেখা আগের গল্পে এরকম কিছু হলে পাঠকদের পছন্দ হয় না। সমালোচনা যেখানে হয় সেখানে গিয়ে বলে আমি নাকি জোরজবরদস্তি দেঈ শুধু। তো আমি চাচ্ছিলাম ইলহাম নিজ থেকেই আফরিদের কাছে আসুক। এখন আপনাদের মতামত দিন,যদি চান জোরপূর্বক কিছু তাহলে যেকোনো এক পর্বে ঢুকিয়ে দেব কিছু দৃশ্য। কিন্তু তার ফলে চমৎকার কিছু মিস করে যাবেন। নিজেদের মতামত কমেন্ট করবেন।)
Share On:
TAGS: অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা, ফারহানা নিঝুম
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১১
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৪
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৬
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৭
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৩
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৪(প্রথমাংশ + মধ্যাংশ + শেষাংশ)
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৯
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩০+বোনাস
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪১
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৫(প্রথমাংশ +শেষাংশ)