Golpo romantic golpo অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা

অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২০


অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা

[পর্ব ২০]

লেখিকাফারহানানিঝুম

(🚫এই গল্পের কোনো দৃশ্য, সংলাপ, প্লট অনুপ্রাণিত হয়ে কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)

(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয় এবং প্রাপ্তমনস্কদের জন্য উন্মুক্ত)

বাইরে প্রকৃতি যেনো ক্ষুব্ধ আকাশ থেকে ঝরে পড়ছে ধুমধারাক্কা বৃষ্টি। চারপাশে গাছপালা একটানা ধৈ ধৈ করে কেঁপে উঠছে, বাতাসের ঝাপটায় উঠেছে ঝড়ো হাহাকার। কিন্তু এহসান মঞ্জিলের ভেতরে বাইরের অস্থিরতার বিন্দুমাত্র সাড়া নেই।

রমণীর বুকের ভেতর দুরুদুরু কাঁপন। শ্বাস যেন আটকে আসছে। কোথায় যে তার ওড়নাটা পড়ে গেছে সে নিজেও জানে না। মনে মনে সন্দেহ জন্মায় নিশ্চয়ই বিছানা থেকে দূরে ফেলেছে। নষ্ট পুরুষটি ইচ্ছে করেই ওড়নাটা সরিয়ে একটানে খুলে নিয়েছিল। চোখ তুলে তাকাতে পারে না সে। ওই নীলাভ দৃষ্টি যেন সর্বনা’শের ঘূর্ণি যেখানে ডুবে গেলে আর ফেরার উপায় নেই।

নির্লজ্জ পুরুষটি প্রথমে জোর করে বিয়ে করেছে, আর এখন সেই জোরেই চাইছে বাসরের অধিকার আদায় করতে। রমণীর অন্তরের ভেতর জ্বা’লা ধরেছে। ভয়, লজ্জা, ঘৃণা সব মিলেমিশে মনে মনে কেবল বকুনি দিচ্ছে সে, অথচ মুখে একটিও শব্দ বেরোচ্ছে না।
নরম তুলতুলে বিছানায় ন্যান্সির উপর নিজের সম্পূর্ণ ভার ছেড়ে শুয়ে আছে আফরিদ এহসান। পরণে শুধু কালো রঙের ট্রাউজার প্যান্ট ছাড়া কিছুই নেই। চোখ দুটো শক্ত করে বুজে রেখেছে ন্যান্সি। তাকাবে না মোটেও।
আফরিদ চোখে হাসে ,ভীতু মেয়েটা তার মাথা খারাপ করে দিচ্ছে। ছুঁতেও পারছে না আর না ছুঁয়েও থাকতে পারছে না ‌। ছুঁয়ে দিলে যদি ঝরে পড়ে? তবে কাকে জ্বা’লাবে ?

লালচে গালে নাক ঘষে আফরিদ ,এই মেয়ের সব কিছু তার ভালো লাগে। বিশেষ করে লালচে গাল গুলো। মারাত্মক টানে তাকে। পরপর গালে চুমু খায়। শিউরে উঠে ন্যান্সি , ফাঁকা ঢোক গিলছে একের পর এক।

“গাল লাল কেন?”

ন্যান্সি রিনরিনে গলায় বলল।
“জানি না।”

আফরিদ শুনলো , অতঃপর কিয়ৎক্ষণ চলল নীরবতা। তবে থামেনি আফরিদ এহসান। গালে কুটকুট করে কামড় বসায়। ব্যথায় অস্ফুট স্বরে আওয়াজ করে মেয়েটা। ছটপট করতে ছাড়া পেতে , কিন্তু নষ্ট পুরুষ তাকে ছাড়তে চায় না মোটেও।

“শুন না।”

গলা ভেজায় ন্যান্সি , বরাবরের ন্যায় ফিসফিসিয়ে বললো।
“সরুন আপনি।”

“পরে।”

আফরিদের নির্বাক জবাব।‌ ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়লো ন্যান্সি। আফরিদ ন্যান্সির উদরে স্পর্শ করতে থাকে। জিজ্ঞাসু কন্ঠে শুধোয়।

“আম্মু আব্বু দেশী নাকি বিদেশী?”

“মানে?”

“বা’ল,তোর বাপ মা দেশী মা’ল নাকি বিদেশী মা’ল।”

চমকে উঠে ন্যান্সি , তড়িঘড়ি করে বলল।
“বাংলাদেশের এটা কি জানেন না?”

চোখ পাকিয়ে তাকালো আফরিদ। দৃষ্টি নত হয়ে আসে ন্যান্সির। মেজাজ হারাচ্ছে আফরিদ ,এক কথা বারবার জিজ্ঞেস করতে পারে না সে। বরাবরই অধৈর্য পুরুষ সে , কিন্তু কিভাবে কিভাবে যে বউয়ের বেলায় ধৈর্য্য ধরেছে তা একমাত্র খোদা তায়ালা বলতে পারবেন।

“আমি কি জিজ্ঞেস করছি তোর প্রতিবেশী বাপ মায়ের কথা? আমি তোর বায়োলজিক্যাল ফাদার আর মাদারের কাহিনী জানতে চাইছি।”

চট করে উঠে বসলো আফরিদ , থমথমে মুখ করে তাকালো ন্যান্সির নাজুক মুখ পানে। মূহুর্তের মধ্যে মেজাজ ঠান্ডা হয়ে আসে। নৈঃশব্দ্যে ঠোঁট ফুলিয়ে উঠে বসেছে মেয়েটা। আফরিদ একগাল হেসে বলল।

“বল না!”

“মনে নেই ওদের ,মুখ অস্পষ্ট। “

আফরিদ ভ্রু কুঁচকে নিল। পরক্ষণেই মজার ছলে আওড়াল।
“আমার এখন একটা জিনিস মন চাচ্ছে। জানিস কি?”

প্রশ্নবিদ্ধ নয়নে মুখ তুলে তাকায় ন্যান্সি। আফরিদ লজ্জা লজ্জা ভাব নিয়ে বলল।

“রে*

এক লাফে বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো ন্যান্সি। এই পুরুষ বলে কি? নিজের স্ত্রী কে কেউ এসব বলে?
ন্যান্সি কে ভয় পেতে দেখে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে আফরিদ। তার হাসি যেনো থামতেই চাইছে না। তাকে হাসতে দেখে আরো বেশি ভয় লাগছে। এখুনি বোধহয় মাইমুনা এহসান গদগদ কন্ঠে ডেকে উঠবেন “বেটা হোয়্যাট হ্যাপেন্ড?”

“হুঁশ চুপ করুন , হাসছেন কেন এখুনি সবাই চলে আসবে।”

আফরিদ নিশ্চুপ। ভ্রু বাঁকালো তৎক্ষণাৎ।
“রুম সাউন্ড প্রুফ , কোনো শব্দ যাবে না। এবং কি তোর ম…

ন্যান্সি থাকলো না ,চলে গেল কাইট্যানের কাছে। কোলে তুলে বসে পড়ল ফ্লোরে। কাইট্যান জেগে উঠেছে। তাকে খাওয়ানো প্রয়োজন।
আফরিদ তাকিয়ে আছে নির্নিমেষ ,পলক ফিরছে না একদম। অস’ভ্য দৃষ্টি চলে যাচ্ছে ওড়না বিহিন বক্ষভাজে।
কবে থেকে যে তার চোখ দুটো লুই’চ্চা হইছে সেটাই তো টের পেলো না! কি আশ্চর্য ব্যাপার নিশ্চয়ই এই বউ তাকে কালা জাদু করেছে।

“ওই শা’লী তুই আমারে কালো জাদু করছ কেন?”

ধমকের স্বরে কথাটা শুনে ঘাড় বাঁকিয়ে তাকালো ন্যান্সি। বোঝার চেষ্টা করে নষ্ট পুরুষের অভিব্যক্তি?

“আমি কেন আপনাকে কালো জাদু করতে যাবো?”

আফরিদ গভীর ভাবে চোখ বুলিয়ে ন্যান্সির ঠোঁট পরখ করে। কিভাবে ঠোঁট এলিয়ে কথা বলছে সে? কথা বলার সময় চোখ দুটো গোল হয়ে আসে। আফরিদের মন উড়ু উড়ু করছে। বসা থেকে উঠে এসে ধপাস করে বসে পড়ল ন্যান্সির পাশে।

“একটা কথা বলি?”

ন্যান্সি দু দ্বারে মাথা দোলায়। আফরিদ ওর ঠোঁটে আঙ্গুল ছুঁয়ে বলল।

❝আমার বুকে একটু মাথা রাখো।শুনো হৃদস্পন্দন, মাংসপিণ্ড টা তুমি ছাড়া কিছুই বুঝে না।❞

নিশ্চুপতার ভেতরও এক অদৃশ্য ঢেউ বয়ে চলেছে। নষ্ট পুরুষটির প্রেমময় বাক্য যেন বৃষ্টির টুপটাপ ফোঁটার মতো গিয়ে আছড়ে পড়ছে ন্যান্সির অন্তরে। বুক কেঁপে ওঠে, নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসে। নিষ্পলক নয়নে সে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ সেই দৃষ্টিতে ভয় নেই, আছে অচেনা , অদ্ভুত মাদ’কতা।

আফরিদ এহসানের চোখে এক অদ্ভুত ঘো’র চাহনির গভীরতা ন্যান্সির বুকের ভেতর কাঁপুনি তোলে। ধীরে ধীরে ঝুঁকে আসে সে, ঠোঁটের দিকে এগোতে থাকে নিশ্চুপ , অদ্ভুত ভঙ্গিতে। ঠিক সেই মুহূর্তে পাশের কাইট্যান বিড়ালটি ম্যাও ম্যাও করে ওঠে।

ন্যান্সির ভেতর আ’তঙ্ক আর অজানা শিহরণ জড়িয়ে ধরে। ঠোঁট ছোঁয়ানোর আগে নষ্ট পুরুষটি নির্লিপ্তভাবে ট্যাব চকলেট মুখে পুরে নেয়। চমকে ওঠে ন্যান্সি ,ঘোর কা’টল তার। পালাতে চায়, কিন্তু আর সময় পায় না। আফরিদের উষ্ণ ওষ্ঠ আঁকড়ে ধরা মাত্রই শরীরটা ঝুঁকে পড়ে ফ্লোরে। ন্যান্সির দু’হাত ছটফট করে, হৃদপিণ্ড দ্রুত লাফায়, অথচ প্রতিরোধ যেন অর্ধেকেই হারিয়ে যায়।

পাশেই বসে থাকা বিড়ালটি নির্বিকার ভঙ্গিতে তাকিয়ে থাকে ম্যাও ম্যাও।হাত বাড়িয়ে নখের সাহায্যে টেনে ধরে ন্যান্সির চুল। আফরিদ দিশাহারা , বাঁধনহারা ‌। নিজেকে ছেড়ে দেয় পাগলাটে ঘোড়ার মতো। আশ্লেষে চুষে শুষে নেয় প্রেম সুধা। অবাধ্য হাত দুটো জাপটে ধরে তার ধনুকের ন্যায় তনু।
আকস্মিক আফরিদ কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো ন্যান্সি। হেসে ফেলল আফরিদ।

গা জ্বলে উঠলো ন্যান্সির , তীব্র রাগ নিয়ে আওড়াল।
“সবসময় সুযোগে থাকেন তাই না? এমন করেন কেন কি করেছি আমি?”

ঠোঁট উল্টায় আফরিদ এহসান। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো ন্যান্সির দিকে। ফ্লোর থেকে উঠে দাঁড়ালো , কোঁকড়ানো চুলে হাত বুলাতে বুলাতে বলল।

“তোর শরীরের ডার্টি মার্কা র’ক্ত আমার শিরা উপশিরায় চলমান। তাই প্রতিশোধ নিচ্ছি ,যাতে আর কোনো দিন কাউকে নিজের কারেন্ট ওয়ালা র’ক্ত দিয়ে ভেতরে কারেন্ট জাগাতে না পারে!”

যুক্তিহীন কথায় আবারো বোকা বনে গেল ন্যান্সি। কোন দুঃখে যে এই নষ্ট পুরুষ কে নিজের র’ক্ত দিয়ে বাঁচিয়েছিল? নিজের কপালে নিজেই দুঃখ ডেকে এনেছে সে!
কাইট্যান আবারো ম্যাও ম্যাও করে উঠলো , অসহায় চোখে তাকায় ন্যান্সি। কাইট্যান বোধহয় ন্যান্সির দুঃখ টা বুঝতে পারলো। তাই তো আফরিদ কে গা’লি দিচ্ছে।

“শা’লা লুইচ্চা খালি চুমু খাওয়ার ধা’ন্দা তোর। আর একবার আমার আম্মুর কাছে আইসা দেখ তোরে কাম’ড়াইয়া খাইয়া ফেলমু।”

কিন্তু আফসোস চেয়েও মুখ খুলে বলতে পারলো না কাইট্যান।

বজ্রপাতের শব্দে কেঁপে উঠল চারদিক, যেন আকাশও অস্থিরতার কথা বলে দিচ্ছে। সেই তীব্র শব্দে শিউরে উঠল ন্যান্সির অন্তর। ঘরের ভেতরে দুষ্টু পুরুষ বিছানায় হেলান দিয়ে শুয়ে আছে তাকে কাছে গিয়ে বসার কোনো ইচ্ছে ন্যান্সির নেই। বুকের ভেতর অস্থিরতা জমে উঠছে ঢেউয়ের মতো। কি করবে এখন?

ঠিক তখনই গম্ভীর কণ্ঠে শোনা গেলো আফরিদের গলা।

“দাঁড়িয়ে থাকবি সারা রাত?”

নিরুত্তর ন্যান্সি । তার নীরবতা যেন বিক্ষুব্ধ বাতাসের মতো নিস্তব্ধ ঘরে ভেসে থাকে। ন্যান্সি পায়ের নখ দিয়ে খুঁটতে লাগলো ফ্লোরে। আফরিদ প্রত্যুত্তরে কিছু না শুনতে পেয়ে চোখ তুলে তাকাল, আবারো প্রশ্ন করল, এবার কণ্ঠটা একদম শান্ত।

“কি হলো, আয়?”

ন্যান্সির চোখের পাতা কেঁপে উঠে,ধীরে মাথা তোলে, দ্বিধাগ্রস্ত দৃষ্টিতে এক ঝলক তাকিয়ে মৃদু স্বরে বলে উঠল।
“আপনার কাছে শুলেই আপনি কিছু না কিছু করতে চান।”

ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি ফুটিয়ে তোলে আফরিদ এহসান, চোখে খেলা করা আফরিদের দুষ্টু হাসি চোখ এড়ালো না ন্যান্সির । আফরিদ হাসে ,কিয়ৎক্ষণ তাকিয়ে আছে নির্নিমেষ। শান্ত সুরে আশ্বস্ত করে আফরিদ।

“কিছু করব না, চলে আয়।”

একটু দ্বিধা, তারপর ন্যান্সি পদক্ষেপ ধীরে ধীরে বিছানার দিকে এগোয়। কাছে যেতেই আফরিদ দু’হাতে তাকে টেনে নেয় আপন আলিঙ্গনে, বাহুবন্ধনে বন্দি করে ফেলে অনায়াসে। কানে ফিসফিসিয়ে বলে

“নরম নরম, গরম গরম বান্দি জানকি বাচ্চা।”

কথাগুলো যেন মায়াবী মন্ত্রের মতো ভেসে আসে। মুহূর্তেই চাদরের নিচে ঢেকে যায় তাদের দু’জনের দেহ। কী অদ্ভুত এক জাদুতে ন্যান্সির সমস্ত অস্থিরতা মিলিয়ে যায়। বুক ভরে আসে নিস্তব্ধ শান্তি, আর অল্প পরেই সে ডুবে যায় গভীর ঘুমে, যেন ঝড়ের রাতও তার ক্লান্ত আত্মাকে আর ছুঁতে পারে না। আফরিদ ঘুমন্ত মায়াবীর কপালে চুমু খায়। নেশাতুর কন্ঠে শুধোয়।

“কবে আমার হবি, অ্যাঞ্জেলিনা? তোকে জোর করেও আমার করতে ইচ্ছে করে যদি ব্যথা পাস? ধ্যাত বা’ল বা’ল বা’ল ব্যথাও দিতেও পারব না আবার না ছুঁয়ে থাকতেও পারব না। ইয়া খোদা অ্যাঞ্জেলিনা কে আমার জন্য পাগল করে দাও এরপর লুতুপুতু করার সুযোগ করে দাও। আমি আফরিদ এহসান তোমার নামে মসজিদে গুনে গুনে এক হাজার টাকা দিব।”

🌿___🌿

রুমে ঘুমন্ত অবস্থায় রয়েছে কল্পনা। তার ফোঁস ফোঁস নিঃশ্বাস বলে দিচ্ছে সে গভীর ঘুমে ডুবে আছে। নীলাদ্রি বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। ধূর্ত লোকটা এগিয়ে গেল জানালার দিকে। চুপচাপ কাউকে খুঁজে , আড়ালে দাঁড়িয়ে আছে কেউ একজন। ওই তো দূরে রয়েছে। নীলাদ্রি বাঁকা হাসলো , চুপচাপ আবারো কাবার্ডের কাছে এগিয়ে গেল। কাবার্ড খুলে কালো রঙের ব্যাগ টা বের করে নিয়ে আসে। আবারো জানালার কাছে এগিয়ে গেল। অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটার উদ্দেশ্যে ব্যাগ টা ছুঁড়ে ফেলল।‌ তড়িঘড়ি করে ব্যাগ টা তুলে নিল আগুন্তক। হাতের ইশারায় সালাম জানিয়ে চুপচাপ বেরিয়ে গেল।

নীলাদ্রি শান্ত হলো , তৎক্ষণাৎ কাঁধে হাতের স্পর্শ পেতেই হকচকিয়ে গেল। কল্পনা জেগে গিয়েছে। নীলাদ্রি কে জানালার কাছে দেখে সন্দিহান কন্ঠে শুধোয়।

“তুমি এখানে কি করছো? আর এত রাতে জানালা কেন খুলেছো?”

নীলাদ্রি মেয়েদের বেশি প্রশ্ন করার স্বভাব টা মোটেও পছন্দ করে না।
“আহা কল্পনা দেখছো তো দাঁড়িয়ে আছি , তাহলে জিজ্ঞেস করছো কেন?”

কল্পনা আবারো শুধোয়।
“সেটাই তো জিজ্ঞেস করছি। এত রাতে দাঁড়িয়ে আছো কেন?”

নীলাদ্রি তপ্ত নিঃশ্বাস ছেড়ে আওড়ালো।
“ঘুম আসছিল না তাই।”

কল্পনা নির্লজ্জের মত হাসলো। নীলাদ্রির বুকে হাত বুলাতে বুলাতে বলল।
“তাহলে বিছানায় এসো তোমার ঘুমের ব্যবস্থা না হয় আমিই করে দিচ্ছি।”

নীলাদ্রি বিরক্ত হলো , গায়ে পড়া মেয়ে গুলো দেখলে জুতো পেটা করতে ইচ্ছে করে তার। এগুলো শুধু সারাদিন থাকেই বিছানায় যাওয়ার জন্য। সুযোগ খুঁজতে থাকে সবসময়। যদি কল্পনা তার বউ না হতো তাহলে এখুনি গলা কেটে ফেলতো। মোটেও হাত কাঁপতো না তার। কল্পনা জোরপূর্বক তাকে টেনে নিয়ে গেল বিছানার দিকে। নীলাদ্রির ধূর্ত মস্তিষ্ক চিন্তায় আছে। কাজটা আদতেও কি ঠিকঠাক ভাবে করতে পারবে? নাকি কোনো ঝামেলা হবে? আসলে নীলাদ্রির উচিত ছিলো নিজে গিয়ে কাজটা করা ,এত দুশ্চিন্তা নেওয়া যাচ্ছে না। খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা করতে হবে।

চলবে……….।✨

(📌🥱হালকা করে বাসর দেওয়ার বদলে ধোঁকাদিলাম )

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply