অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা
[পর্ব ১৮](স্পেশাল টু)
লেখিকাফারহানানিঝুম
(🚫এই গল্পের কোনো দৃশ্য, সংলাপ, প্লট অনুপ্রাণিত হয়ে কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয় এবং প্রাপ্তমনস্কদের জন্য উন্মুক্ত)
রিসেপশন পার্টির আয়োজনটা একেবারে গ্র্যান্ড সেলিব্রেশন। আজকে আফরিদ এহসান এবং তার স্ত্রী ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনা এহসানের রিসেপশন পার্টি।
ঝলমলে আলোয় ভরে উঠেছে চারদিক, সোনালি আর নীলের মিশেলে তৈরি ডেকোরেশন। চারপাশে সাজানো টেবিলে ক্রিস্টালের গ্লাস, রঙিন ফুল, সুগন্ধি মোমবাতির সেটআপ সব মিলিয়ে এক স্টাইলিশ পরিবেশ।
গান বাজছে ডিজে ফ্লোরে কখনো হালকা রোমান্টিক টিউন, আবার কখনো নাচের তালে হাই বিটস। অতিথিরা কেউ কেউ নাচে মাতছে, কেউ ছবি তুলতে ব্যস্ত, আর কেউ বা খাবারের টেবিলে মন দিচ্ছে। ড্রিঙ্ক কর্নারে সাজানো রয়েছে নানা ফ্লেভারের মকটেল আর জুস বার চোখ ধাঁধানো রঙে ভরে উঠেছে গ্লাসগুলো।
আজকের পার্টিতে আফরিদ এহসানের বিজনেস পার্টনার থেকে শুরু করে দেশ বিদেশের অনেকেই এসেছে। আসতেই হবে কারণ মাফিয়া কিং যখন ডেকে পাঠিয়েছে তাহলে আসবে না? এই সুযোগে যদি তারাও কোনো ভাবে তার সাথে দু একটা ডিল করে ফেলতে পারে তাহলে মন্দ কি?
খাওয়া দাওয়ার আয়োজনও কম নয় গরম গরম কাবাব, পাস্তা, ফ্রাইড চিকেন থেকে শুরু করে ঐতিহ্যবাহী বিরিয়ানি, শেষে মিষ্টান্নের ডেজার্ট কর্নার। অতিথিরা মুগ্ধ চোখে এক এক করে প্লেট ভরছে।
আফরিদ আজকে পরেছে স্লিম ফিট ব্ল্যাক টাক্সেডো সাথে সাদা ড্রেস শার্ট আর ব্ল্যাক সিল্কের বো টাই। ব্লেজারের একপাশে ছোট্ট সিলভার ব্রোচ ঝিকমিক করছে আলোতে। পায়ে পলিশড লেদার শু, কালো চকচকে।হাতে একটা স্টাইলিশ ওয়াচ সিলভার ডায়াল আর ব্ল্যাক স্ট্র্যাপে তার লুককে করেছে আরও গর্জিয়াস। চুলগুলো সেট করা স্লিক ব্যাক স্টাইলে, হালকা জেল দিয়ে চকচক করছে। আজকে তাকে অন্যদিনের তুলনায় রাফ অ্যান্ড হ্যান্ডসাম লাগছে। পারফিউমের ফ্র্যাগরেন্সে মাতাল করে দিয়েছে আশেপাশের বাতাসে মিশে একাকার।
একে একে সবার সাথেই কথা বলছে আফরিদ। তাদের মধ্যে আব্রাহাম নামে একটা লোক এগিয়ে এলো।
“হেই এহসান। হাউ আর ইউ ব্রো?”
আব্রাহাম কে দেখে ওষ্ঠো বাঁকালো আফরিদ।
“আব্রাহাম , হোয়্যাট’স আপ? কেমন আছো?”
হাতে ড্রিংকের গ্লাস রয়েছে।
“ভালো তো আছি , বাট তুমি এতটা বোরিং হলে কি করে?”
চোখ দুটো সুঁচালো হলো আফরিদের। পাল্টা প্রশ্ন করে বসে।
“যেমন?”
আব্রাহাম নির্লজ্জের মতো হেসে বলল।
“একটু আধটু লাল পরীও তো রাখতে পারতে। আমাদের জন্য না হোক অন্তত নিজের জন্য!”
কথাটা বলে চোখ টিপে আবরাম। আফরিদ ঘাড় বাঁকিয়ে হাসলো ,ঘাড় বাঁকাতেই নজর আটকে গেল সিঁড়ির দিকে। ঠোঁট কামড়ে বলে উঠে।
“ওই যে মেরি লাল পরী।”
আফরিদের দৃষ্টি অনুসরণ করে সিঁড়ির দিকে তাকালো আব্রাহাম।
পার্টির আলো আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে ন্যান্সি কে ঘিরে। মেয়েটার আজকের সাজ একেবারে শোস্টপার লুক লাল রঙের ভেলভেট মারবেল গাউন তার গড়নকে এমনভাবে জড়িয়ে ধরেছে, েনো উপছে পড়ছে তার সৌন্দর্য। গাউনের নিচে লম্বা ফ্লেয়ার হাঁটার সাথে সাথে বুকের ভেতর ধুকপুক ধুকপুক করছে আফরিদের।
পায়ে কালো স্টিলেটো হিল , শব্দ পুরো ফ্লোর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে এক ধরনের ক্লাসি ভাইব।
তার লম্বা চুল কুচকুচে কালো, ঝরনার মতো নেমে এসেছে কাঁধ বেয়ে। আলো পড়লে চুলে এক ধরনের নরম ঝলক খেলা করে যা তাকিয়ে থাকা সবার চোখ আটকে দিচ্ছে। গলায় পড়া হালকা সিলভার নেকপিস মধ্যেখানে রেড ডায়মন্ড আর কানে ছোট্ট স্টাড ইয়াররিংস তাকে করেছে আরও এলিগ্যান্ট।
লাল লিপস্টিক আর হালকা স্মোকি আই মেকআপ তার চোখের দৃষ্টি তীক্ষ্ণ করেছে । এটা সেদিন মলে পছন্দ করেছিল ন্যান্সি কিন্তু বদের হাড্ডি আফরিদ তাকে কথা শুনিয়েছিল বলে নিলোই না। কাল রাতে এটা দেখে বিষম খেয়েছিল।
যেন এক ঝলকেই হৃদয় ভেদ করার মতো আফরিদের , ঠোঁট ভেজায় আফরিদ। উপরের ঠোঁট দ্বারা নিচের ঠোঁট চেপে ধরে আছে সে। নিজেকে শান্ত করার প্রয়াস। কোনো এক দুষ্টু পুরুষ তার প্রেমিকা কে দেখে বলেছিল।
“অ্যা রেড রোজ।” আজকে আফরিদেরও ভীষণ ইচ্ছে করছে বলতে।
“তুমি আমার সদ্য ফোটা লাল গোলাপ, যার কাঁটায় কাঁটায় আমি খুঁজে নেই ভালোবাসার অমৃত স্বাদ।”
(এটা ❝রেড রোজ❞ বইয়ের লাইন)
সিঁড়ির শেষ ধাপে পা রাখতেই হাত বাড়িয়ে দিলো আফরিদ। ন্যান্সি তাকিয়ে আছে নিষ্পলক , হাতে হাত রাখবে কিনা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগছে।
“কাম অন অ্যাঞ্জেলিনা।”
ন্যান্সি কাঁপা কাঁপা হাতটি রাখলো আফরিদের হাতে। আফরিদ ঠোঁট কামড়ে ফিসফিসিয়ে।
“হায় মেরি লাল পারী।”
ভ্রু কুঁচকে নিল ন্যান্সি , গলা উঁচিয়ে বলল আফরিদ।
“মিউজিক প্লিজ।”
AAJa AFAAT MARI GALE
PADI DEMANDEIN AATI BADI BADI
PEE JAATI HAI KHADI KHADI
KYUN MAANG CHHORI LAL PARI
ONE THING I’M SURE BUDDY
DAARU KI MUJHE TUDH CHADHI PEE JAAUNGI KHADI KHADI MAANGWA DO MUJHE LAL PARI
LAL PARI ,LAL PARI ,LAL PARI ,LAL PARI ,LAL PARI ,LAL PARI MAANGWA DO MUJHKO LAL PARI
ড্যান্স ফ্লোরের মাঝখানে আফরিদ জড়িয়ে আছে ন্যান্সি কে , থরথরিয়ে কাঁপছে মেয়েটা। যে যার মতো নাচতে ব্যস্ত। এরকম একটা অশ্লীল গানে নাচতে গিয়েও নাক ছিটকালো ন্যান্সি। বাজে পুরুষ , নষ্ট পুরুষ তাকে ইচ্ছে করে এখানে ড্যান্স ফ্লোরে নিয়ে এলো!
LAL PARI ,LAL PARI ,LAL PARI ,LAL PARI ,LAL PARI ,LAL PARI MAANGWA DO MUJHKO LAL PARI
“আবে আমার গরিবের নিতা আম্বানি। মা’তারি রেএএ তোকে হট লাগছে। কিন্তু তাতে আমার গরম লাগছে কেন?”
কম্পিত ন্যান্সি ফিসফিসিয়ে বলল।
“আমি রুমে যাবো। “
ঠোঁট টিপে হেসে ফেলল আফরিদ , নেশাতুর কন্ঠে বলল।
“গানের অর্থ জানিস? বিশেষ করে PEE JAAUNGI এটার অর্থ?”
পিটপিট চোখ করে তাকালো ন্যান্সি! সে জানে এই শব্দের অর্থ। লোকটা কি অ’শ্লীল!
ঠোঁট উল্টে নেয় ন্যান্সি। হাত পা ছড়িয়ে কেঁদে ফেলবে এই বুঝি। এর আগে কখনোই এরকম পরিস্থিতিতে পড়েনি এরকম পার্টিতে আসেনি সে। আর না এভাবে ড্যান্স ফ্লোরে নেচেছে। সবাই কি অনায়াসে আনন্দ করতে ব্যস্ত। কিন্তু ন্যান্সি? বাজে পুরুষ তাকে আরো বেশী ভয় দেখাচ্ছে। আঁখিদ্বয় ভিজে উঠে তার।
দু’হাতে কোমড় জড়িয়ে ধরে আফরিদ এহসান। কন্ঠ খাদে নামিয়ে বলল।
“তাকা আমার দিকে।”
তাকাতে পারে না ন্যান্সি , ভীষণ ভয় পায় আফরিদ কে। আবারো আদেশ স্বরূপ বলল সে।
“তাকাতে বললাম তো। তাকা আমার দিকে।”
পিটপিট চোখ করে মুখ তুলে তাকায় ন্যান্সি। আফরিদ হাসে , হাসলে চোখ দুটো ছোট হয়ে আসে তার। নীলাভ দৃষ্টিতে আবারো কেঁপে উঠলো ন্যান্সি।
“ওই অ্যাঞ্জেলিনা , আমি আছি না? ভয় কিসের?”
অবাক নেত্রে পল্লব ঝাপটায় ন্যান্সি। তাকেই তো ভয় পায় সে।
“ভয় লাগলে বুকের ভেতর ঢুকে যাবি।”
আফরিদের কথায় আবারো মস্তক নত হয়ে এলো ন্যান্সির। ন্যান্সি কে কিছুটা ফ্রি করতে ওয়াইন কর্ণারে নিয়ে গেল আফরিদ। অহরহ বিদেশী হুইস্কি ,ককটেল,মকটেল,সফট ড্রিংকস সহ অনেক রকমের পানীয় রয়েছে।
একটা হুইস্কির বোতল তুলে ন্যান্সির দিকে এগিয়ে দিলো আফরিদ।
“টেক ইট।”
নাক ছিটকালো ন্যান্সি ,রুষ্ট কন্ঠে বলল।
“আমি এসব খাই না।”
ঠোঁট কামড়ে হাসে আফরিদ।
“ও হ্যাঁ তুই তো ভীষণ পবিত্র।”
নাক বোচা করে তাকালো ন্যান্সি ,আফরিদ ঢকঢক করে পুরো অর্ধেক টা বোতল খেয়ে ফেলল। ওষ্ঠো জোড়া ফাঁক হয়ে এলো ন্যান্সির। কেউ এতটা হুইস্কি কি করে খেতে পারে? আশ্চর্য!
“শুন মাতারি ,রুমে যাবি গিয়ে দেখবি বিছানায় একটা বক্স রাখা আছে। ওটা খুলবি ভেতরে স্পেশাল কিছু আছে।”
কপালে ভাঁজ পড়লো ন্যান্সির।
“বক্স? কিসের বক্স?”
অসন্তুষ্ট হলো আফরিদ , কিড়মিড়িয়ে বলল।
“বান্দি রেএ যা না গিয়ে দেখ।”
হিলের গটগট শব্দ তুলে সিঁড়ি বেয়ে উপরে রুমের দিকে যেতে লাগল ন্যান্সি। আফরিদ হুইস্কি খেতে ব্যস্ত।
কল্পনা আর নীলাদ্রি নিজেদের মধ্যে এনজয় করছিল। আচানক নীলাদ্রি ন্যান্সি কে উপরে রুমের দিকে যেতে দেখল। সে আর অপেক্ষা করলো না , ড্যান্স ফ্লোর থেকে বেরিয়ে গেল। মাইমুনা এহসান আড় চোখে তাকায় ন্যান্সির যাওয়ার দিকে।
ফাহমিদা মা ভাই কাউকেই খুঁজে পাচ্ছে না , কেউ নেই এখানে। কোথায় গেল সবাই?
🌿_🌿
সিঁড়ির প্রতিটি ধাপ যেন ন্যান্সির জন্য কেমন অদ্ভুত হয়ে উঠছে। এক আতঙ্কের চাপা দীর্ঘশ্বাস তার পিঠে লেগে আছে। অর্ধেক যাওয়া মাত্রই মনে হলো কেউ যেন তার নিঃশ্বাসের ফাঁকে ফাঁকে দাঁড়িয়ে আছে, অদৃশ্য উপস্থিতি নিয়ে। পা থেমে গেল, বুক ধড়ফড় করে উঠলো। মনে পড়লো সেই ভয়ংকর রাত ফ্রিজের ভেতর র’ক্তমাখা কা’টা মাথার দৃশ্যটা।
চারপাশটা নিস্তব্ধ। শুধু তার হিলের ঠকঠক শব্দ করিডোরের দীর্ঘ ফাঁকা দেয়ালে প্রতিধ্বনির মতো বাজছে। ন্যান্সির রেড ভেলভেট গাউনটা অন্ধকার আলোয় যেন র’ক্তের ছোপ হয়ে জ্বলজ্বল করছে। নিচে পার্টির গান বাজছে, হাসির রোল ভেসে আসছেকিন্তু এই তলায়, এই করিডোরে শুধু অশ’রীরী নীরবতা।
চোখের কোণে অদৃশ্য নড়াচড়া অনুভব করলো সে। ভয় তার চারপাশে অদৃশ্য জাল বিছিয়ে ফেলেছে, ন্যান্সি নিশ্বাস নিতে গিয়েই যেন গলায় বরফ ঠেসে ধরার অনুভূতি পাচ্ছে। সামনে দরজাগুলো একেকটা অন্ধকার রহস্যের মতো দাঁড়িয়ে, আর পিছনে কে আছে তা না ঘুরে তাকালে বোঝা যাচ্ছে না।
ন্যান্সির ঠোঁট শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। কণ্ঠস্বর কাঁপা কাঁপা হলেও করিডোরের ফাঁকা দেয়ালে প্রতিধ্বনির মতো ছড়িয়ে পড়লো।
“কে ওখানে? বেরিয়ে আসুন বলছি।”
শব্দটা ছুটে গিয়ে অন্ধকারে মিলিয়ে গেল। মুহূর্তেই নীরবতা আরও গাঢ় হলো, এই বাড়িটা নিজেই শ্বাস আটকে রেখেছে।
হঠাৎই করিডোরের একপাশে পর্দা নড়ে উঠলো কোনো বাতাস নেই, তবুও কাপড়টা কারও আঙুলে ঝাঁকুনি খেলো। আচমকা একটা কেউ সরে গেল। এত দ্রুত, চোখ মেলতে না মেলতেই যেন অদৃশ্য হয়ে গেলো সেই উপস্থিতি।
ন্যান্সির বুক ধকধক করতে লাগলো, কপালের ঘাম গড়িয়ে লাল ভেলভেট গাউনে পড়লো। তার শরীর যেন বরফের পাথর চলতে চাইছে, অথচ পা যেন মাটিতে গেঁথে গেছে। করিডোরটা এখন শুধু অন্ধকার নয়, ভয়ানক রুপ ধারণ করেছে।
হঠাৎ পিছন থেকে হালকা ফিসফিস আওয়াজ ভেসে এলো
“র’ক্ত,,,,
🌿
পরিচিত নাম্বার থেকে ফোন আসতেই বেসমেন্টের দিকে এগিয়ে গেল আফরিদ। ফোনের ওপাশে ইদ্রান বলে উঠে।
“হোয়্যাট’স ইউর মাইন্ড?”
তিরিক্ষি মেজাজে বলে উঠে আফরিদ।
“তোর মাথা , কু’ত্তার বাচ্চা। শালা লুই’চ্চা। একদম ফোন করবি না ,না হলে পরের বার আলিয়াজ কে তোর উপর ছেড়ে দেব।”
অট্টহাসিতে ফেটে পরে ফোনের ওপাশে থাকা ইদ্রান নামক পুরুষটি।
“ফা’ক ইউ।”
দাঁত কিড়মিড়িয়ে বলে উঠে আফরিদ।
“ধ্যাত বাল , শাউ’য়্যার নাতি ফা’কিং ইউর সেল্ফ। তোর কি মাইয়ার অভাব পড়ছে গো’লামের পুত।”
আবারো হেসে উঠলো ইদ্রান।
“ওকে গো টু হেল।”
ঠাস করে ফোনটা রেখে দিলো সেই পুরুষ টি। রাগে মস্তিষ্ক ফেটে যাচ্ছে আফরিদের।
আচানক দৃষ্টি বেসমেন্টের তালা বন্ধ রুমের দিকে যেতেই কপাল কুঁচকে এলো আফরিদের।
“শিট শিট শিট।”
ত্রস্ত পায়ে দৌড়ে জায়গা ছাড়লো সে। দ্রুত গতিতে সিঁড়ি বেয়ে উপরে গেল ন্যান্সির কাছে।
দেয়ালের সাথে লেপ্টে আছে ন্যান্সি , ভয়ানক ন’রখাদক আলিয়াজ বেরিয়ে এসেছে। র’ক্তাক্ত চেহারা দেখে চিৎকার করে উঠল ন্যান্সি । অথচ নিচে মিউজিকের শব্দে কেউই তার চিৎকার শুনতে পায় না। ধীরে ধীরে এগুচ্ছে আলিয়াজ। কেঁদে ফেলল ন্যান্সি ,এত ভ’য়ানক মানুষ এর আগে দেখেনি সে। লোকটা ন্যান্সির দিকে হাত বাড়াতেই গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে ন্যান্সি। আলিয়াজ তার গাউন টেনে ধরে ফলস্বরূপ ছিঁড়ে যায় কিছুটা। আরেকটু এগোনোর আগেই শিকল দিয়ে তাকে বেঁধে ফেলল আফরিদ। জ্ঞান হারিয়ে ফ্লোরে লুটিয়ে পড়ে ন্যান্সি।
নিজেকে ছাড়ানোর জন্য ধস্তাধস্তি করছে আলিয়াজ।
“আফরিদ আমি খাবো এই মেয়ে কে। ছাড় আমাকে। ছাড় , আমি সবাই কে খেয়ে ফেলব। ছাড় বলছি।”
সপাটে একটা থাপ্পর বসালো আফরিদ। মুখে পড়িয়ে দিলো মাস্ক। টেনে নিয়ে গেল আবারো বেসমেন্টের দিকে। এবারে আর রিস্ক নিলো না। একেবারে ভেতরে রুমে গেল ,সেই রুমের ভেতরেও রয়েছে আরো একটি বন্ধ রুম। রুমটা সাউন্ড প্রুফ , কেউ শুনতে পাবে না আলিয়াজ নামক ভয়ানক ন’রখাদকের বিভৎস চিৎকার।
🌿__🌿
ফ্লোরে এখনো লুটিয়ে পড়ে আছে ন্যান্সি। তাকে জাগানোর চেষ্টা টুকু করলো না আফরিদ। উল্টো তার ঠোঁটের লিপস্টিক আলগোছে তুলে খানিকটা নিজের গালে ,গলায় লাগিয়ে ফেলল অতঃপর ওষ্ঠো জোড়া আঁকড়ে ধরে তার। বিলিন হতে চায় রমণীর মাঝে। ভাঁজে ভাঁজে নিজের হাতের স্পর্শ ছুঁয়ে দেয়। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হয়েছে ন্যান্সির। পিটপিট করে চোখ মেলে তাকালো ,সহসা দৃষ্টি মিললো নীলাভ মনি জোড়ায়। চমকালো, ভড়কালো ন্যান্সি। বেশ কিছুক্ষণ পরেই তাকে ছেড়ে দিলো আফরিদ। ভয়ানক লোকটার মুখখানি মনে পড়তেই দু’হাতে জড়িয়ে ধরে আফরিদ কে , এবারে আফরিদ দেয়ালের সাথে চেপে গেল।
অস্থির ন্যান্সি এলোমেলো ভাবে বলল।
“আমি দেখেছি ভয়ানক একটা মানুষ , আমাকে ধরছিল। আফরিদ আফরিদ এখানে কিছু একটা আছে। কেউ লুকিয়ে দেখছে আমাকে। র’ক্ত মাংস আমি দেখেছি।”
পিঠে আলতো করে হাত স্পর্শ করালো আফরিদ। অন্য হাতে বুকে গুঁজে রাখা নাজুক মুখশ্রী টেনে বের করে আনে। চোখের পাতা কাঁপছে ন্যান্সির। আফরিদ ওষ্ঠো বাঁকিয়ে হেসে বলে।
“মিথ্যুক মা’তারি,তুই না এতক্ষণ ধরে আমাকে চুমু খেতে ব্যস্ত ছিলি।”
তব্দা খেলো রীতিমতো ন্যান্সি। সে তো স্পষ্ট দেখেছে সেই ভয়ংকর লোকটাকে!
“আপনি মিথ্যে কেন বলছেন? এখুনি তো আপনি এসে ওকে ধরলেন?”
আবারো হাসে আফরিদ ,কোমড় টেনে নিজের সাথে মিশিয়ে নিল ন্যান্সি কে। ছেঁড়া গাউনের নিচে হাত ঢুকিয়ে দিল। স্পর্শ করে তার বক্ষপৃষ্ঠে। চমকে উঠে ন্যান্সি।
“ইশ্ মাতারি রেএএ তোকে যে কি করি? এই দেখ ঠোঁট,গাল ,গলা সব জায়গায় লিপস্টিক লাগিয়ে দিয়েছিস।”
আফরিদের লালচে ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে আরেক দফা চমকে উঠে ন্যান্সি। সে কিস করেছিল আফরিদ কে?
চলবে………..।✨
(🌺গাইস বলো বলো ঐশ্বর্যের উৎসা রেড গাউন পড়েছিল মনে আছে 🥺।)
Share On:
TAGS: অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা, ফারহানা নিঝুম
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৩
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৮
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪০
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৮
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২০
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৪
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৮
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৭
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৫
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৬