অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোকে
লেখিকাসুমিচৌধুরী
সূচনা_পর্ব
নিজের প্রিয় মানুষ মামাতো ভাই শুভ্রের বিয়ের খবরটা শোনার পর থেকেই রিদিকার বুক ফেটে কান্না আসছে। প্রিয় মানুষ বললে হয়তো কমই বলা হবে। যখন থেকে রিদিকা ভালোবাসার মানে বুঝতে শিখেছে তখন থেকেই তার সমস্ত আবেগ আর অনুভূতির কেন্দ্রে কেবল ওই একটা মানুষই বিচরণ করেছে। যদিও তাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্কের দেয়াল নেই। কোনো প্রেমের লেনদেন নেই তবু শুভ্রকে সে মনে-প্রাণে নিজের করে নিয়েছে।।রিদিকার এই পাহাড়সমান ভালোবাসার খবর শুভ্র জানে না। আর জানলেও হয়তো সে রিদিকাকে খুব একটা গুরুত্ব দেবে না। কারণ রিদিকা লক্ষ্য করেছে শুভ্র তাকে সবসময় এড়িয়ে চলে। তাদের মধ্যে কথা হয় না বললেই চলে আর যদি কখনো সামান্য বাক্যালাপ হতোও তবে তা কবে হয়েছে সেটা মনে করার জন্য রিদিকাকে এখন স্মৃতি হাতড়াতে হবে। শুভ্র মানুষটা বড্ড গম্ভীর আর চুপচাপ। ভিড়ের চেয়ে নির্জনতা আর একাকীত্বই তার বেশি পছন্দ। আর শুভ্রের এই মৌনতাটুকুই রিদিকার কাছে সবচেয়ে প্রিয়। কারণ রিদিকা নিজেও শান্ত স্বভাবের মেয়ে। নিজের ভেতরের এই নীরবতা সে শুভ্রের মধ্যেও খুঁজে পায়। এই মিলটাই হয়তো তাকে শুভ্রের প্রতি আরও বেশি আচ্ছন্ন করে ফেলেছে।
শুভ্র যখন ইন্টারমিডিয়েটে পড়তো ঠিক তখন থেকেই সে রিদিকার মনের গহীন কোণে নিজের ঘর তৈরি করে নিয়েছিল। সেই ভালো লাগা থেকেই জন্ম নিয়েছে আজকের এই গভীর অনুরাগ। রিদিকা মনে মনে ভেবেছিল একদিন সব সাহস জমিয়ে নিজের মনের কথাটা শুভ্রকে বলবে। কিন্তু তার আগেই যে সবটা তছনছ হয়ে যাবে শুভ্রর বিয়ে ঠিক হয়ে যাবে তা সে দুঃস্বপ্নেও কল্পনা করেনি। সবচেয়ে বড় যন্ত্রণার জায়গাটা অন্যখানে। যার সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছে তার সাথে শুভ্রর আগে থেকেই পরিচয় ছিল। তাদের মধ্যে কি কোনো গভীর সম্পর্ক ছিল রিদিকা জানে না। তবে মামির মুখে শুনেছে মেয়েটি শুভ্রের খুব পরিচিত।
রিদিকার পুরো নাম তাসনিন রিদিকা। চারপাশের মানুষ তাকে ভালোবেসে ‘রিদি’ বলেই ডাকে। এবার সে ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পা রেখেছে। রিদিকার ছোট এক ভাই আছে নাম তার ইমন যে এখন ক্লাস এইটে পড়ছে। রিদির বাবা ইকবাল এহসান আর মা রাবেয়া এহসান। এই নিয়েই তাদের সাজানো ছোট্ট পরিবার।
আর শুভ্রের পুরো নাম সাইফান শুভ্র চৌধুরী। পড়াশোনা শেষ করার পর সে এখন তাদের পারিবারিক ব্যবসার দায়িত্ব সামলাচ্ছে। অত্যন্ত গম্ভীর আর ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এই যুবকের পৃথিবীটা বেশ ছোট। তার বাবা সোহান চৌধুরী মা সাহেরা চৌধুরী আর আদরের ছোট বোন শুভ্রা চৌধুরী। এই চারজন নিয়েই তাদের ছিমছাম আর সুখী পরিবার।
বিকেলের তপ্ত রোদটা ফিকে হয়ে আসছে রিদি একা ছাদে দাঁড়িয়ে আছে। নিচতলা থেকে বড়দের হাসাহাসি আর শুভ্রের বিয়ের আলোচনার চলছে। সেই শব্দগুলো কানে আসতেই রিদির পুরো শরীরে যেন এক অদ্ভুত অস্বস্তি জেঁকে বসল। মনটা ছটফট করছে বুকটা ফেটে কান্না আসছে তবুও চোখে জল নেই। একরাশ বিরক্তি আর অভিমান নিয়ে অনেকক্ষণ ছাদে কাটিয়ে রিদি খুব ধীর পায়ে নিচে নেমে এল।
বসার ঘরে পা রাখতেই দেখল সোফায় বসে আছে সেই মানুষটা যাকে দেখা মাত্রই রিদির হৃদস্পন্দন আবারও এলোমেলো হয়ে গেল। শুভ্র। সে বরাবরের মতোই চুপচাপ। ফোনের স্ক্রিনে নিবিষ্ট মনে কিছু একটা করছে যেন বাইরের পৃথিবীর সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই। পাশেই রিদির বাবা ইকবাল এহসান এবং মামা সোহান চৌধুরীসহ আত্মীয়-স্বজনরা বিয়ের খুঁটিনাটি নিয়ে প্রাণবন্ত আড্ডায় মেতে আছেন। কিন্তু শুভ্রর সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই সে যেন তার নিজের তৈরি করা এক নিস্তব্ধ গণ্ডির ভেতরে বন্দি হয়ে আছে। ঠিক তখনই রিদির কানের কাছে কেউ একজন ‘বউ’ বলে সজোরে চিৎকার করে উঠল। আচমকা এই শব্দে রিদি একদম আঁতকে উঠল। বুকটা ধক করে উঠল তার। তড়িঘড়ি করে পেছনে তাকিয়ে দেখল শুভ্রা দাঁড়িয়ে আছে। শুভ্রা রিদির চমকে যাওয়া দেখে বেশ মজা পেল। সে দুষ্টুমিভরা হাসিতে ভ্রু নাচিয়ে বলল।
“কিরে এত ভয় পেলি কেন কোন জগতে ছিলি শুনি।”
রিদি নিজের বুকের ওপর হাত রেখে কয়েকটা লম্বা লম্বা শ্বাস নিল। যেন ধকপকানিটা থামানোর চেষ্টা করছে। সে কিছুটা অভিযোগের সুরে বলল।
“উফ পুরো ভয় পাইয়ে দিয়েছিলি আমাকে।”
শুভ্রা বেশ ভাব দেখিয়ে উত্তর দিল। তার চোখেমুখে দুষ্টুমির ছাপ স্পষ্ট।
“আরে আমি তো ভয় দেখানোর জন্যই বলেছি। আমি কি আর তোকে আনন্দ দেওয়ার জন্য বলেছি নাকি। যাই হোক কোথায় ছিলি এতক্ষণ সারা বাড়ি খুঁজেও তোকে পাওয়া যাচ্ছিল না।”
রিদি একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ম্লান গলায় বলল।
“এমনি একটু ছাদে গিয়েছিলাম।”
ঠিক সেই মুহূর্তেই শুভ্র সোফা থেকে উঠে দাঁড়াল। তার চলন-বলন সব কিছুতেই এক ধরনের গাম্ভীর্য মিশে আছে। সে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে উঠতে নিজের মা সাহেরা চৌধুরীর উদ্দেশ্যে বেশ গম্ভীর গলায় বলল।
“আম্মু আমার রুমে এক কাপ কফি পাঠাও তো।”
শুভ্রা গিয়ে আড্ডায় জমে উঠল। বাড়িতে ধীরে ধীরে অতিথিদের আনাগোনা বাড়ছে। আর মাত্র তিনদিন পর বিয়ে তাই তিনদিন আগেই রিদিরা শুভ্রদের বাড়ি চলে এসেছে। সাহেরা চৌধুরী তাড়াহুড়ো করে কফি বানিয়ে সোজা রিদির হাতে ধরিয়ে দিলেন। তারপর ব্যস্ত গলায় বললেন।
“যা তো মা তোর শুভ্র ভাইয়ের রুমে কফিটা দিয়ে আয়। রান্নাঘরে আমি দুধ বসিয়ে এসেছি। বাকিরা যে যার কাজে ব্যস্ত তুই একটু দিয়ে আয় তো। দেরি করিস না নাহলে ছেলেটা আমার এখনই রেগে আগুন হয়ে যাবে।”
কথাটা বলেই সাহেরা চৌধুরী উত্তরের অপেক্ষা না করে সোজা রান্নাঘরের দিকে পা বাড়ালেন। রিদি যেন আকাশ থেকে পড়ল। এখন তাকে শুভ্রের রুমে যেতে হবে। ভাবতেই রিদির হৃদপিণ্ড যেন লাফিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসার উপক্রম হলো। সে কয়েকবার গভীর শ্বাস নিয়ে নিজেকে কিছুটা শান্ত করার চেষ্টা করল। তারপর ট্রের ওপর কফির কাপ নিয়ে খুব সাবধানে ধীরে ধীরে শুভ্রের রুমের সামনে এসে দাঁড়াল। দরজায় মৃদু করাঘাত করে হালকা গলায় বলল।
“ভাইয়া আসব।”
কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়া শব্দ পাওয়া গেল না। রিদি গলাটা একটু চড়িয়ে আবারও বলল।
“ভাইয়া শুনতে পাচ্ছেন আপনার কফি এনেছি।”
তবুও ভেতর থেকে কোনো উত্তর এল না। রিদি এবার দরজার আড়াল থেকে একটু উঁকি দিয়ে দেখল রুমটা একদম ফাঁকা। শুভ্রকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। রিদি আর কিছু না ভেবে ধীর পায়ে ট্রে নিয়ে রুমের ভেতরে প্রবেশ করল। শুভ্রের রুমটা একদম ওর মতোই গোছানো আর শান্ত।
রিদি কফির ট্রে-টা টেবিলের এক কোণে নামিয়ে রেখে দ্রুত রুম থেকে বের হওয়ার উপক্রম করল। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে ভেজা মেঝেতে শব্দ হওয়ায় সে থমকে দাঁড়িয়ে যায়। রিদি আড়চোখে তাকাতেই দেখল ওয়াশরুমের দরজা খুলে শুভ্র বেরিয়ে আসছে।
শুভ্র মাত্রই শাওয়ার নিয়ে বের হয়েছে। তার সুঠাম আর পেশীবহুল শ্যামবর্নের শরীরটা সিক্ত অবস্থায় যেন আরও বেশি পৌরুষদীপ্ত হয়ে উঠেছে। শরীরের ভাঁজে ভাঁজে জমে থাকা পানির কণাগুলো ঘরের আলোয় মুক্তোর মতো ঝিকঝিক করছে। তার সুঠাম বুক আর চওড়া কাঁধ বেয়ে পানির রেখা গড়িয়ে নিচে নেমে যাচ্ছে। জিম করা শরীরের প্রতিটি পেশী যেন পাথরে খোদাই করা ভাস্কর্যের মতো নিখুঁত দেখাচ্ছে। ভিজে যাওয়া চুলগুলো কপালের ওপর লেপ্টে আছে আর সেখান থেকে টপটপ করে পানি চুইয়ে পড়ছে তার তীক্ষ্ণ নাক আর ঠোঁটের ওপর। শুভ্রের এই বুনো আর আকর্ষণীয় রূপ দেখে রিদি যেন নিজের হুঁশ হারিয়ে ফেলল। সে লজ্জাশরমের মাথা খেয়ে অপলক দৃষ্টিতে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে রইল।
শুভ্র খুব শান্ত পায়ে এগিয়ে এসে রিদির ঠিক সামনে এসে দাঁড়াল। রিদির নাকে শুভ্রের গায়ের সাবান আর শ্যাম্পুর একটা মাতাল করা ঘ্রাণ আছড়ে পড়ল। শুভ সরাসরি রিদির সামনে তুড়ি বাজিয়ে শান্ত গলায় বলল।
“আমি মানুষ খাওয়ার কোনো মেনু কার্ড না যে আমার দিকে এভাবে হা করে তাকিয়ে থাকতে হবে। হোয়াট ইজ রং উইথ ইউ।”
রিদিকা একদম থতমত খেয়ে গেল। লজ্জায় তার কান-মুখ ঝাঁঝা করে উঠল। সে তড়িঘড়ি করে মাথা নিচু করে আমতা আমতা করে বলল।
“অই আসলে ভাইয়া আমি আপনার কফিটা দিতে এসেছিলাম।”
শুভ্র টেবিলের দিকে তাকাল। যেখানে কফির কাপ থেকে ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে। তারপর আবার রিদির দিকে তাকিয়ে সরাসরি বলল।
“ঠিক আছে যা।”
রিদি সাথে সাথে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য পা বাড়াল। কিন্তু দুই পা এগোতেই হঠাৎ ওর পা মুচড়ে গেল। রিদি ভারসাম্য হারিয়ে মেঝের দিকে আছাড় খেতে নিতে লাগল। শুভ্র রিদিকে পড়ে যেতে দেখে এগিয়ে এসে মুহূর্তে বিদ্যুতের মতো ছোঁ মেরে ওর কোমর জড়িয়ে ধরল।
রিদি ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলল। শুভ্রর ভেজা চুলের হিমশীতল পানি টপটপ করে রিদির ঠোঁটে আর গালে এসে বিঁধছে। রিদি শিউরে উঠে চোখ খুলল। ও দেখল শুভ্র ওকে খুব শক্ত করে নিজের শরীরের সাথে মিশিয়ে ধরে আছে। শুভ্র কেমন অদ্ভুত এক নেশা ধরানো চোখে ওর দিকে অপলক তাকিয়ে আছে। শুভ্রের ভেজা শরীরের সেই পুরুষালি ঘ্রাণ আর বরফশীতল হাতের স্পর্শে রিদির দম আটকে এল। হঠাৎ শুভ্র রিদিকে এক ঝটকায় সোজা করে দাঁড় করিয়ে কর্কশ গলায় ধমক দিল।
“হোয়াট আর ইউ ডুইং।দিন দুপুরে কি কানা হয়ে যাচ্ছিস। দেখে চলতে পারিস না। ইউ আর সো কেয়ারলেস।”
রিদি অপরাধীর মতো মাথা নিচু করে কাঁপাকাঁপা গলায় বলল।
“আসলে ভাইয়া স।”
রিদিকে কথা শেষ করতে দিল না শুভ্র। আবারো রাগী গলায় ধমক দিয়ে উঠল।
“জাস্ট গেট আউট। বের হো এখান থেকে।”
শুভ্রের রুক্ষ মেজাজ দেখে রিদি আর এক মুহূর্তও দাঁড়ানোর সাহস পেল না। সে প্রায় দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। শুভ্র একটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস ফেলে টেবিলের দিকে এগিয়ে এল। ধোঁয়া ওঠা কফির কাপটা হাতে নিয়ে সবে কয়েক চুমুক দিয়েছে ঠিক তখনই টেবিলে রাখা ফোনটা বিকট শব্দে বেজে উঠল। শুভ্র নির্লিপ্ত মুখে ফোনটা হাতে নিল। স্ক্রিনে ফুটে ওঠা নামটা দেখামাত্রই তার চোয়াল শক্ত হয়ে গেল কপালে ফুটে উঠল বিরক্তির ভাঁজ। সে এক ঝটকায় ফোনটা রিজেক্ট করে ছুড়ে মারার মতো করে টেবিলে রাখল। মেজাজটা যেন মুহূর্তেই তিতকুটে হয়ে গেছে। শুভ্র আর ঘরে থাকল না কফির কাপ হাতে নিয়ে গটগট করে ব্যালকনির দিকে চলে এল। ব্যালকনির রেলিংয়ে শক্ত মুঠোয় হাত রেখে বাইরের দিকে তাকিয়ে সে বিড়বিড় করল।
“হোয়াট আ রাবিশ। এই মেয়েটা কি আমাকে এক মুহূর্ত শান্তিতে থাকতে দেবে না।”
রানিং…!
নোট: আসসালামু আলাইকুম আমার সালাম সকলে নিবেন। আল্লাহর নামে শুরু করছি। এই গল্পটি সম্পূর্ণভাবে আমার নিজস্ব চিন্তা, কল্পনা ও মগজপ্রসূত। কোনো গল্প থেকে কপি করা হয়নি, কাউকে নকলও করা হয়নি। যদি গল্পটি পড়ে কারও মনে হয় কোথাও মিল আছে, তাহলে অনুরোধ যে গল্পের সাথে মিল পেয়েছেন, তার স্পষ্ট প্রমাণসহ স্ক্রিনশট কমেন্ট এ দিয়ে কথা বলবেন অথবা আমাকে ইনবক্সে জানাবেন। প্রমাণ ছাড়া ভিত্তিহীন অভিযোগ, হিংসা বা অহেতুক কপি সমালোচনা করবেন না। দক্ষতা থাকলে প্রমাণ নিয়ে আসবেন, না থাকলে অযথা কথা বলে লেখকের সম্মান নষ্ট করবেন না।
[দ্বিতীয় নোট: এই গল্পটি হবে একেবারেই আলাদা ধাঁচের। নায়ক থাকবে কিছুটা রাগী, চরিত্রে থাকবে গভীরতা, আর গল্পে লুকিয়ে থাকবে রহস্য যা ধীরে ধীরে আপনাদের সামনে উন্মোচিত হবে।]
Share On:
TAGS: অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোকে, সুমি চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৫৮
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৮৭
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৮৬
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৫৬
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৮৫
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৮৪
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬৬
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৭৬
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬৫
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬৪